📘 মরেও অমর হওয়ার চেষ্টা > 📄 উত্তম ঋণ ও সঙ্কটে পড়া ব্যক্তিকে কিছু সময় আরো বাড়িয়ে দেয়া

📄 উত্তম ঋণ ও সঙ্কটে পড়া ব্যক্তিকে কিছু সময় আরো বাড়িয়ে দেয়া


'আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্‌ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُقْرِضُ مُسْلِمًا قَرْضًا مَرَّتَيْنِ إِلَّا كَانَ كَصَدَقَتِهَا مَرَّةً
"কোন মোসলমান অন্য কোন মোসলমানকে দু' বার ঋণ দিলে তা এক বার সাদাকা করার ন্যায়"। (ইবনু মাজাহ্ ২৪৩০ স্বাহী'হুত-তারগীবি ওয়াত-তারহীব ৯০১)
'হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
تَلَقَّتِ الْمَلَائِكَةُ رُوْحَ رَجُلٍ مِّمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَقَالُوا : أَعَمِلْتَ مِنَ الْخَيْرِ شَيْئًا ؟ قَالَ : لا ، قَالُوا : تَذَكَّرْ، قَالَ : كُنْتُ أُدَايِنُ النَّاسَ فَآمُرُ فِتْيَانِي أَنْ يُنْظِرُوا الْمُعْسِرَ وَيَتَجَوَّزُوْا عَنِ الْمُوْسِرِ، قَالَ : قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ : تَجَوَّزُوْا عَنْهُ .
"ফিরিস্তাগণ পূর্ববর্তী উম্মতের জনৈক ব্যক্তির রূহ্ গ্রহণ করার পর তাকে বললো: তুমি কি ইতিপূর্বে কোন কল্যাণের কাজ করেছো? সে বললো: না। ফিরিস্তাগণ বললেন: আরেকটু স্মরণ করো। সে বললো: আমি মানুষকে ঋণ দিতাম। আর আমার কর্মচারীদেরকে বলতাম: সঙ্কটে পড়া লোককে সময় বাড়িয়ে দিবে। আর সচ্ছল ব্যক্তির সাথে সহজ আচরণ করবে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা ফিরিস্তাগণকে বলেন: তোমরাও তার সাথে সহজ আচরণ করো”। (মুসলিম ১৫৬০)

📘 মরেও অমর হওয়ার চেষ্টা > 📄 কাউকে খানা খাওয়ানো

📄 কাউকে খানা খাওয়ানো


'আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা জনৈক ব্যক্তি নবী কে জিজ্ঞাসা করলো, ইসলামের কোন্ কাজটি সবচেয়ে ভালো? তিনি বললেন:
تُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَتَقْرَأُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ .
“মানুষকে খানা খাওয়াবে। আর পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দিবে”। (বুখারী ১২ মুসলিম ৩৯)
'আব্দুল্লাহ্ বিন্ সালাম থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: যখন রাসূল মদীনায় আসলেন তখন মানুষজন তাঁর দিকে দৌড়ে গেলো। বলা হলো: রাসূল এসেছেন, রাসূল এসেছেন, রাসূল এসেছেন। তখন আমিও মানুষের সাথে আসলাম তাঁকে এক নজর দেখার জন্য। যখন আমি রাসূল এর চেহারা ভালোভাবে দেখলাম তখন আমার মনে হলো, তাঁর চেহারা কখনো এক জন মিথ্যুকের চেহারা হতে পারে না। তিনি সর্ব প্রথম যে কথাটি বললেন তা হলো,
أَيُّهَا النَّاسُ! أَفْشُوْا السَّلَامَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَصَلُّوا وَالنَّاسُ نِيَامُ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ .
“হে মানুষ! তোমরা সালামের প্রচার ও প্রসার করো। মানুষকে খানা খাওয়াও। আর মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন তোমরা নামায পড়ো তা হলে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে ঢুকতে পারবে”। (তিরমিযী ২৪৮৫ স্বা'হী'হুত-তারগীবি ওয়াত-তারহীব ৯৪৯)
আবূ মূসা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
فُكُوْا الْعَانِيَ يَعْنِي الْأَسِيْرَ، وَأَطْعِمُوا الْجَائِعَ، وَعُوْدُوا الْمَرِيْضَ .
"তোমরা বন্দীকে ছেড়ে দাও। ক্ষুধার্তকে খানা খাওয়াও। আর সময়ে সময়ে রোগীর খবরাখবর নাও”। (বুখারী ২৮৮১)
আবূ মূসা থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
إِنَّ الْأَشْعَرِيِّيْنَ إِذَا أَرْمَلُوْا فِي الْغَزْوِ أَوْ قَلَّ طَعَامُ عِيَالِهِمْ بِالْمَدِينَةِ جَمَعُوْا مَا كَانَ عِنْدَهُمْ فِي ثَوْبِ وَاحِدٍ ثُمَّ اقْتَسَمُوْهُ بَيْنَهُمْ فِي إِنَاءٍ وَاحِدٍ بِالسَوِيَّةِ فَهُمْ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُمْ .
“যুদ্ধ ক্ষেত্রে যখন আশ্'আরীদের খাদ্য শেষ হয়ে যেতো অথবা মদীনায় তাদের পরিবারগুলোর খাদ্য কমে যেতো তখন তারা নিজেদের কাছে থাকা সকল খাদ্য একটি কাপড়ে একত্রিত করে একটি পানপাত্র দিয়ে নিজেদের মাঝে তা সমানভাবে বন্টন করে নিতো। তারা আমার, আমিও তাদের"। (বুখারী ২৩৫৪)
إِذَا أَرْمَلُوْا মানে, তাদের খাদ্য শেষ হয়ে যেতো। তা رَمَلٌ শব্দ থেকে নির্গত। যেন তাদের খাদ্যের স্বল্পতার দরুন তাদের শরীরগুলো বালির সাথে লেগে গিয়েছে।
উক্ত হাদীসে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া ও তাকে নিজের উপর অগ্রাধিকার দেয়ার ফযীলত এবং সফরে ও নিজ এলাকায় থাকাবস্থায় খাদ্যের স্বল্পতার দরুন পরস্পরের খাদ্যদ্রব্য একত্রিত ও মিশ্রিত করা মুস্তাহাব হওয়াই প্রমাণ করে। (ফাত্হুল-বারী: ৫/১৩০)

📘 মরেও অমর হওয়ার চেষ্টা > 📄 এতীমদের প্রতি দয়া করা

📄 এতীমদের প্রতি দয়া করা


আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
﴿وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ﴾ [النساء: ٣٦].
"তোমরা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই ইবাদাত করো। তাঁর সাথে কখনো কোন কিছুকে শরীক করো না। উপরন্তু তোমরা নিজেদের মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন, এতীম ও অভাবগ্রস্তদের সাথে ভালো ব্যবহার করো”। (নিসা': ৩৬)
এতীমের লালন-পালনকারী ও নবী একই সাথে জান্নাতে থাকবেন:
সাহল বিন্ সা'দ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
أَنَا وَكَافِلُ الْيَتِيمِ فِي الْجَنَّةِ هَكَذَا وَقَالَ بِإِصْبَعَيْهِ السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى.
"আমি ও এতীমের লালন-পালনকারী জান্নাতে এভাবে থাকবো। এ কথা বলার সময় তিনি নিজ শাহাদাত ও মধ্যমাঙ্গুলি একত্রিত করে সবাইকে দেখালেন”। (বুখারী ৪৯৯৮)
ইব্‌দু বাত্ত্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: প্রতিটি মু'মিনের উচিত, যে উক্ত হাদীসটি শুনেছে তার উপর আমল করায় উৎসাহী হওয়া যাতে সে জান্নাতে আমাদের নবী এবং অন্যান্য নবী ও রাসূলগণের সাথী হতে পারে। (বুখারী শরীফের ব্যাখ্যা/ইবনু বাত্ত্বাল: ৯/২১৭)
আল্লাহ্ তা'আলা একদা এতীমদের সাথে ভালো ব্যবহারের ব্যাপারে বানী ইসরাঈল তথা ইহুদি-খ্রিস্টানদের থেকেও শপথ গ্রহণ করেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
﴿وَإِذْ أَخَذْنَا مِيْثَاقَ بَنِي إِسْرَاءِيلَ لَا تَعْبُدُوْنَ إِلَّا اللَّهَ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ ﴾ [البقرة: ٨٣].
“আর স্মরণ করো তখনকার কথা যখন আমি বানী ইসরাঈলদের থেকে এ মর্মে শপথ নিয়েছিলাম যে, তোমরা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া আর কারোর ইবাদাত করো না। উপরন্তু তোমরা নিজেদের মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন, এতীম ও অভাবগ্রস্তদের সাথে ভালো ব্যবহার করো”। (বাক্বারাহ্: ৮৩)
আর আমরা তো তাদের চেয়েও এ বৈশিষ্ট্যের বেশি হকদার।
যে ব্যক্তি নিজের অন্তরকে নরম ও তার সকল প্রয়োজন পূরণ হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে সে যেন এতীমের উপর দয়া করে, তার মাথা মুছে দেয় এবং তাকে নিজ খাদ্য থেকে খাওয়ায়।
আবুদ্দারদা' থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা নবী এর নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে তার অন্তরের কাঠিন্যের কথা জানালে তিনি তাকে বললেন:
أَتُحِبُّ أَنْ يَلِيْنَ قَلْبُكَ، وَتُدْرِكَ حَاجَتَكَ، ارْحَمِ الْيَتِيمَ وَامْسَحْ رَأْسَهُ وَأَطْعِمْهُ مِنْ طَعَامِكَ، يَلِيْنُ قَلْبُكَ وَتُدْرِكُ حَاجَتَكَ .
"তুমি কি চাও তোমার অন্তর নরম হোক এবং তোমার প্রয়োজনগুলো পূরণ হোক তা হলে এতীমকে দয়া করো, তার মাথা মুছে দাও এবং তাকে নিজ খাবার থেকে কিছু খাওয়াও। তখন তোমার অন্তর নরম হবে এবং তোমার প্রয়োজনগুলোও পূরণ হবে"। (আব্দুর-রায্যাক: ১১/৯৭ স্বা'হী'হুত-তারগীবি ওয়াত-তারহীব ২৫৪৪)
জনৈক সালাফে সালিহ্ বলেন: আমি শুরুতে পাপ ও মদ পানে ডুবা ছিলাম। একদা আমি জনৈক দরিদ্র এতীম বাচ্চাকে পেয়ে তাকে আমার সাথে নিয়ে গিয়ে তার উপর বিশেষভাবে দয়া করলাম। তাকে খাওয়ালাম ও কাপড় পরালাম এবং তাকে গোসলখানায় ঢুকিয়ে তার শরীরের ময়লাগুলো পরিষ্কার করে দিলাম। তাকে সেভাবেই স্নেহ করলাম যেভাবে এক জন পিতা তার সন্তানকে স্নেহ করে। বরং তার চেয়েও বেশি। এরপর আমি রাত্রি বেলায় স্বপ্নে দেখলাম, কিয়ামত কায়িম হয়ে গেলো। আমাকে হিসাবের জন্য ডাকা হলো। অতঃপর আমাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়ার আদেশ করা হলো। কারণ, আমি তো ছিলাম এক জন পাপী। তাই জাহান্নামের ফিরিস্তাগণ আমাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য টানতে শুরু করলেন। আর আমি তো তাঁদের হাতে এক জন হীন ও লাঞ্ছিত মানুষ। তাঁরা আমাকে টেনে-হেঁচড়ে জাহান্নামের দিকে নিয়ে চললেন। হঠাৎ দেখলাম, এতীম ছেলেটি আমাদের পথে দাঁড়িয়ে গেলো। সে বললো: হে আমার প্রভুর ফিরিস্তাগণ! আপনারা তাকে ছেড়ে দিন। আমি তার জন্য আমার প্রভুর নিকট সুপারিশ করবো। সে আমাকে একদা দয়া ও সম্মানিত করেছে। ফিরিস্তাগণ বললেন: আমাদেরকে এ ব্যাপারে ইতিপূর্বে কোন নির্দেশ দেয়া হয়নি। আর ইতিমধ্যে আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে ডাক এলো। তিনি বললেন: তাকে ছেড়ে দাও। আমি এ এতীমের সুপারিশ ও তার প্রতি দয়ার দরুন তার সকল গুনাহ্ ক্ষমা করে দিলাম। অতঃপর আমি ঘুম থেকে উঠে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট তাওবা করলাম এবং এতীমদেরকে দয়া করার যথাসাধ্য চেষ্টা করলাম। (আল-কাবায়ির: ৬৫)

📘 মরেও অমর হওয়ার চেষ্টা > 📄 বিধবা ও দরিদ্রদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা

📄 বিধবা ও দরিদ্রদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা


আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
السَّاعِيْ عَلَى الْأَرْمِلَةِ وَالْمِسْكِيْنِ كَالْمُجَاهِدِ فِي سَبِيْلِ اللَّهِ أَوِ الْقَائِمِ اللَّيْلَ الصَّائِمِ النَّهَارَ .
"বিধবা ও মিসকীনদের ভরণপোষণকারী আল্লাহ্ তা'আলার পথে জিহাদকারী অথবা পুরো রাত নামায পড়ুয়া ও দিনের বেলায় রোযাদারের ন্যায়”। (বুখারী ৫০৩৮)
السَّاعِيُّ عَلَى الْأَرْمِلَةِ এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ইমাম নাওয়াওয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: السَّاعِي মানে, তাদের ভরণপোষণের জন্য যে ব্যক্তি নিরলস কামাই ও কাজ করে যাচ্ছে। الْأَرْمِلَةِ মানে, যার স্বামী নেই। ইতিপূর্বে তার বিবাহ্ হোক বা নাই হোক। কারো কারোর মতে, যে মহিলাকে তার স্বামী পরিত্যাগ করেছে।
ইনু কুতাইবাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: এ জাতীয় মহিলাদেরকে أَرْمِلَةٌ বলা হয়। কারণ, তাদের স্বামী না থাকার দরুন একদা তাদেরকে إِرْمَالُ তথা দারিদ্র ও সম্বলহীনতা পেয়ে বসে।
وَالْمِسْكِيْنِ মানে, যার নিকট জীবন পরিচালনার জন্য কোন কিছুই নেই। কারো কারোর মতে, যার নিকট জীবন পরিচালনার জন্য সামান্য কিছু রয়েছে। কখনো কখনো দুর্বলকেও মিসকীন বলা হয়। এ দিকে ফকীর শব্দটিও একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে কারো কারোর নিকট ফকীর মানে, যার নিকট কিছু রয়েছে।
كَالْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ মানে, যে তাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবে, তাদের খরচাদি চালাবে ও তাদের সকল বিষয়াদি দেখবে তার সাওয়াব এক জন আল্লাহ্ তা'আলার পথে জিহাদকারীর সমান। কারণ, মাল তো জানের সহোদর। তাই সম্পদ ব্যয়ে মনের বিরোধিতা ও আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টি পাওয়া যায়। (মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যা/নাওয়াওয়ী: ১৮/১১২)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00