📘 মরেও অমর হওয়ার চেষ্টা > 📄 মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করা

📄 মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করা


আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
لَّا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِّن نَّجْوَتَهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحِ بَيْنَ النَّاسِ وَمَن يَفْعَلْ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا ﴾ [النساء: ١١٤] .
"তাদের অধিকাংশ গোপন সলা-পরামর্শে কোন কল্যাণ নেই। তবে যে ব্যক্তি দান-খয়রাত, ভালো কাজ ও মানুষের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির আদেশ করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য এ কাজগুলো করবে আমি তাকে অচিরেই মহা পুরস্কারে ভূষিত করবো”। (নিসা': ১১৪)
'আল্লামাহ্ সা'দি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: মানুষের অধিকাংশ সলা-পরামর্শ ও আলোচনায় কোন কল্যাণ নেই। যখন তাতে কোন ফায়েদাই নেই তখন তা হয়তো বা জায়িয কোন অযথা কথা হবে কিংবা ক্ষতিকর যে কোন হারাম কথা হবে।
এরপর আল্লাহ্ তা'আলা এ ব্যাপকতা থেকে কিছু জিনিস বাইরে রেখে দেন। তিনি বলেন: তবে যে ব্যক্তি কাউকে সাদাকা-খায়রাত তথা সম্পদ, জ্ঞান ও যে কোন ফায়েদা দেয়ার আদেশ করে। এমনকি এ সাদাকার অধীনে সীমিত ইবাদাতও রয়েছে। যেমন: “সুব্‌হানাল্লাহ্”, "আল্'হামদুলিল্লাহ্” ইত্যাদির যিকির।
নবী ইরশাদ করেন:
إِنَّ بِكُلِّ تَسْبِيحَةٍ صَدَقَةً، وَكُلُّ تَكْبِيرَةٍ صَدَقَةً، وَكُلُّ تَحْمِيْدَةٍ صَدَقَةً، وَكُلِّ تَهْلِيلَةٍ صَدَقَةٌ، وَأَمْرٌ بِالْمَعْرُوْفِ صَدَقَةٌ، وَنَهْيٌّ عَنِ الْمُنْكَرِ صَدَقَةٌ، وَفِي بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ .
"প্রত্যেক তাস্বীহ্ তথা "সুব্‌হানাল্লাহ্” বলা সাদাকাহ্। প্রত্যেক তাব্বীর তথা “আল্লাহু আকবার" বলা সাদাকাহ্। প্রত্যেক তাহমীদ্ তথা "আল্হাম্মদুলিল্লাহ্” বলা সাদাকাহ্। প্রত্যেক তাহ্হ্লীল তথা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” বলা সাদাকাহ্। কাউকে ভালো কাজের আদেশ করা সাদাকাহ্। কাউকে অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা সাদাকাহ্। এমনকি প্রত্যেক যৌন সম্ভোগ তথা স্ত্রী সহবাস সাদাকাহ্। (মুসলিম ২৩৭৬)
উক্ত আয়াতে أَوْ مَعْرُوفٍ বলতে কারো প্রতি দয়া ও আল্লাহ্ তাআলার আনুগত্যকে বুঝানো হয়েছে। এমনকি শরীয়ত ও বিবেকের দৃষ্টিতে যা সুন্দর তাকেও বুঝানো হয়েছে। যখন الْأَمْرُ بِالْمَعْرُوْفِ তথা সৎ কাজের আদেশের ব্যাপারটি النَّهْيُّ عَنِ الْمُنْكَرِ তথা অসৎ কাজ থেকে নিষেধের ব্যাপারটির সাথে সম্পৃক্ত করা না হয় তখন সৎ কাজের আদেশ বলতে অসৎ কাজ থেকে নিষেধের ব্যাপারটিকেও বুঝানো হয়। কারণ, কাউকে অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করাও একটি ভালো কাজ। উপরন্তু খারাপ কাজগুলো সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা ছাড়া কোনভাবেই ভালো কাজের পরিপূর্ণতা আসে না। আর যদি উভয় বিষয়টি একই সাথে উল্লেখ করা হয় তখন মা'রূফ তথা ভালো কাজ বলতে আদিষ্ট কাজ ও মুন্কার বলতে নিষিদ্ধ কাজ পরিত্যাগ করাকেই বুঝানো হয়।
أَوْ إِصْلَاحِ بَيْنَ النَّاسِ ) এর মধ্যকার বিরোধ মিটানোর উক্ত আয়াতের ব্যাপারটি দু' জন দ্বন্দ্বকারী ও বিরোধী ছাড়া হয় না। আর ঝগড়া, বিবাদ ও রাগারাগি এমন সকল অনিষ্ট ও বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে যা কখনো বলে শেষ করা যাবে না। এ জন্যই বিধানকর্তা মানুষের রক্ত, সম্পদ, ইজ্জত ও ধর্ম সংক্রান্ত বিরোধ সমূহ দ্রুত মিটানোর প্রতি তাদেরকে উৎসাহিত করেছেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ) [آل عمران : ١٠٣] .
"তোমরা সবাই আল্লাহ্'র রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো। কখনো পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না"। (আলি-'ইমরান: ১০৩)
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন:
وَإِن طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا فَإِن بَغَتْ إِحْدَتْهُمَا عَلَى الْأُخْرَى فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللَّهِ فَإِن فَاءَتْ فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ ﴾ [الحجرات: ٩] .
"মু'মিনদের দু'টি দল লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়লে তাদের মাঝে মীমাংসা করে দাও। এরপরও একটি দল অপরটির উপর চড়াও হলে যে দলটি চড়াও হয় তার বিরুদ্ধে তোমরা লড়াই করো যতক্ষণ না চড়াও হওয়া দলটি আল্লাহ্'র নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি দলটি ফিরে আসে তা হলে তাদের মাঝে ইনসাফের ফায়সালা করো। তাদের উপর সুবিচার করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা সুবিচারকারীদেরকে ভালোবাসেন”। ('হুজুরাত: ৯)
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন:
وَالصُّلْحُ خَيْرٌ ﴾ [النساء: ١٢٨] .
"মানুষের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসা একটি উত্তম কাজ"। (নিসা': ১২৮)
যিনি মানুষের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসা করতে চেষ্টা করেন তিনি রাতভর নামায পড়ুয়া, দিনভর রোযা রাখা ও সর্বদা সাদাকাকারীর চেয়েও উত্তম। এক জন বিরোধ মীমাংসাকারীর আমল ও প্রচেষ্টাকে আল্লাহ্ তা'আলা অবশ্যই সুন্দর, সঠিক ও সার্থক করবেন। ঠিক এরই বিপরীতে আল্লাহ্ তা'আলা এক জন ফাসাদ সৃষ্টির চেষ্টাকারীর আমলকে বেঠিক ও ব্যর্থ করবেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
إِنَّ اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ ﴾ [يونس: ۸۱] .
“নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কাজকর্মকে সুন্দর ও সার্থক করেন না”। (ইউনুস: ৮১)
এ কাজগুলো (সাদাকা, নেকির কাজ ও মানুষের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসা) যখন করা হবে তা অবশ্যই মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে। যা আয়াতের ব্যাপকতাকে বিশেষিত করার দ্বারাই বুঝা যায়। কারণ, তাতে মানুষের ব্যাপক ফায়েদা রয়েছে। তবে সাওয়াবের পরিপূর্ণতা নিয়্যাত ও নিষ্ঠার উপরই নির্ভরশীল। এ জন্যই আল্লাহ্ তা'আলা আয়াতের শেষে বলেন:
وَمَن يَفْعَلْ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا ﴾ [النساء: ١١٤]
"যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য এ কাজগুলো করবে আমি তাকে অচিরেই মহা পুরস্কারে ভূষিত করবো"। [(নিসা': ১১৪) (তাইসীরুল-কারীমির-রাহমান: ২০২)]
'আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ أَفْضَلَ الصَّدَقَةِ إِصْلَاحُ ذَاتِ الْبَيْنِ .
“সর্বশ্রেষ্ঠ সাদাকাহ্ হলো মানুষের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসা করা”। ('আব্দুবন্ধু 'হুমাইদ ৩৩৫ সিলসিলাতুল-'আ'হাদীসিস্ব-স্বা'হী'হাহ্ ২৬৩৯)
আবৃদ্দারদা' থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরشাদ করেন:
أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَفْضَلَ مِنْ دَرَجَةِ الصِّيَامِ وَالصَّلَاةِ وَالصَّدَقَةِ؟ قَالُوا: بَلَى يَا رَسُوْلَ الله ! قَالَ : إِصْلَاحُ ذَاتِ الْبَيْنِ .
"আমি কি তোমাদেরকে রোযা, নামায ও সাদাকার চেয়ে আরো শ্রেষ্ঠ কিছুর সংবাদ দেবো না? সাহাবায়ে কিরাম বললেন: অবশ্যই বলবেন, হে আল্লাহ্'র রাসূল! তিনি বললেন: মানুষের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসা করা”। (আবু দাউদ ৪৯১৯ তিরমিযী ২৫০৯ স্বা'হী'হুল-জামি' ২৫৯৫)
এ ব্যাপারে কারোর কোন সন্দেহ নেই যে, নামায ও রোযার মর্যাদা ইসলামে অনেক বেশি। কারণ, এ দু'টি ইসলামের দু'টি রুকন বা স্তম্ভ। তবে উক্ত হাদীসে নামায ও রোযা বলতে নফল নামায ও রোযাকেই বুঝানো হয়েছে। তা হলে হাদীসের মর্ম এ দাঁড়ালো যে, মানুষের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসা نفل নামায ও نفل রোযার চেয়েও উত্তম। কারণ, এ দু'টির সাওয়াব ব্যক্তির উপরই সীমিত। পক্ষান্তরে মানুষের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসার ফায়েদা অন্যকেও শামিল করে।
সুতরাং যে ব্যক্তি মানুষের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসার জন্য নিজের সময়টুকু ব্যয় করে সে ব্যক্তি ওর চেয়েও উত্তম যে নিজের সময়টুকু নফল নামায ও নফল রোযায় ব্যয় করে।

📘 মরেও অমর হওয়ার চেষ্টা > 📄 কারো জন্য সুপারিশ ও মঙ্গলময় সহযোগিতা করা

📄 কারো জন্য সুপারিশ ও মঙ্গলময় সহযোগিতা করা


এক জন মোসলমানের উচিত তার অন্য কোন মোসলমান ভাইয়ের লাভ করা কিংবা তাকে কোন ক্ষতি থেকে বাঁচানোর ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করা। আর এটি হলো নিজের সামাজিক মর্যাদাকে অন্য মোসলমানের কাজে লাগানো।
আবূ মূসা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: যখন রাসূল এর নিকট কোন ভিক্ষুক কিংবা কেউ কোন প্রয়োজন নিয়ে আসতো তখন তিনি বলতেন:
اشْفَعُوا تُؤْجَرُوا وَيَقْضِي اللَّهُ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ مَا شَاءَ .
"তোমরা অন্যের জন্য সুপারিশ করো তা হলে তোমাদেরকে সাওয়াব দেয়া হবে। আর আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নবীর মুখ দিয়ে যাই চান তাই ফায়সালা করবেন"। (বুখারী ১৪৩২ মুসলিম ২৬২৭)
ইমাম নাওয়াওয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন: উক্ত হাদীস থেকে বুঝা যায়, কোন মোসলমানের জায়িয প্রয়োজন পূরণার্থে কারোর নিকট তার জন্য সুপারিশ করা মুস্তাহাব। চাই সে সুপারিশ রাষ্ট্রপতি, গভর্ণর কিংবা যে কোন পদাধিকারী ব্যক্তির নিকট হোক না কেন। চাই সে সুপারিশ কারোর উপর থেকে কোন যুলুম প্রতিরোধ, কোন আদবমূলক শাস্তি মওকুফ কিংবা কোন দরিদ্রের দান-অনুদান ছাড়িয়ে নেয়ার ক্ষেত্রেই হোক না কেন। তবে কারোর ব্যাপারে শরীয়তের কোন দণ্ডবিধি রহিত করার জন্য সুপারিশ করা হারাম। তেমনিভাবে কোন বাতিলের পরিপূর্ণতা কিংবা কোন সত্যের প্রতিরোধ ইত্যাদির ক্ষেত্রেও সুপারিশ করা হারাম। (মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যা/নাওয়াওয়ী: ১৬/১৭৭)
উক্ত হাদীস এটাও প্রমাণ করে যে, কারোর উপকারের প্রচেষ্টাকারী সে সর্ববস্থায়ই সাওয়াব পাবে। যদিও তার চেষ্টা ব্যর্থ ও নিষ্ফল হোক না কেন। (বুখারী শরীফের ব্যাখ্যা/ইবনু বাত্তাল: ৩/৪৩৪)
নবী নিজেও নিজের অপূর্ব সম্মানটুকু মানুষের ফায়েদা হাসিলের ক্ষেত্রে অকাতরে ব্যয় করতেন। এমনকি তিনি তাদের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপারেও সুপারিশ করতেন।
বারীরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) যখন স্বাধীন হয়ে গেলেন আর তাঁর স্বামী গোলাম ছিলেন তখন তিনি নিজের জন্য তাঁর স্বামীর কাছ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদই পছন্দ করলেন। এ দিকে তাঁর স্বামী এ জন্য খুবই মর্মাহত হলেন। তিনি সত্যিই তাঁর স্ত্রী বারীরাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কে খুবই ভালোবাসতেন। এমনকি তিনি মদীনার অলি-গলিতে বারীরাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এর পেছনে কাঁদতে কাঁদতে ঘুরে বেড়াতেন। পরিশেষে তিনি এ ব্যাপারে নবী এর সুপারিশও কামনা করেছিলেন। যেন তিনি তাঁর স্ত্রীকেও আবারো নিজের কাছে ফিরে পান। তখন নবী বারীরাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কে বললেন:
لَوْ رَاجَعْتِيْهِ فَإِنَّهُ أَبُوْ وَلَدِكَ .
"তুমি যদি আবারো তার কাছে ফিরে যেতে। সে তো তোমার সন্ত ানেরই পিতা"।
তখন বারীরাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) রাসূল কে উদ্দেশ্য করে বললেন: আপনি কি আমাকে তাঁর নিকট ফিরে যাওয়ার আদেশ করছেন হে আল্লাহ্'র রাসূল! তিনি বললেন: না, আমি কেবল এক জন সুপারিশকারী মাত্র। তখন বারীরাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন: তা হলে তার নিকট ফিরে যাওয়ার আমার কোন প্রয়োজনই নেই। (বুখারী ৪৯৭৯)

📘 মরেও অমর হওয়ার চেষ্টা > 📄 মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা, তাদের কাজগুলো করে দেয়া ও বিপদের সময় তাদের সহযোগিতা করা

📄 মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা, তাদের কাজগুলো করে দেয়া ও বিপদের সময় তাদের সহযোগিতা করা


মানুষের খিদমাত করা ও দুর্বলদের পাশে দাঁড়ানো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অন্তরের পরিচ্ছন্নতা ও ভালো বংশের পরিচয় বহন করে। মূলতঃ আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যকার দয়ালুদেরকেই দয়া করে থাকেন। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর কিছু বান্দাহকে বিশেষভাবে নিয়ামত দিয়ে থাকেন অন্য মানুষের ফায়েদা করার জন্যই। যার পরিণতিতে আল্লাহ্ তা'আলা তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের সকল বিপদাপদ দূর করে দেন।
'আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
الْمُسْلِمُ أَخُوْ الْمُسْلِمِ، لَا يَظْلِمُهُ، وَلَا يُسْلِمُهُ، مَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيْهِ كَانَ اللَّهُ فِي حَاجَتِهِ، وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ بِهَا كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ .
"এক জন মোসলমান অন্য মোসলমানের ভাই। তাই সে কখনো তার উপর যুলুম করবে না। তাকে কখনো কোন অনিষ্টের প্রতি ন্যস্ত করবে না। যে ব্যক্তি তার কোন মোসলমান ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করলো আল্লাহ্ তা'আলা তার প্রয়োজনও পূরণ করবেন। যে ব্যক্তি তার কোন মোসলমান ভাইকে দুনিয়ার কোন বিপদ থেকে রক্ষা করলো আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাকেও সমূহ বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। যে ব্যক্তি তার কোন মোসলমান ভাইয়ের দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখলো আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার দোষ-ত্রুটিও লুকিয়ে রাখবেন”। (বুখারী ২৪৪২ মুসলিম ২৩১০)
আবূ হুরাইরাহ্ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন:
مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرٍ يَسَّرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَاللهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ، وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيْهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الجَنَّةِ .
"যে ব্যক্তি কোন মু'মিনের দুনিয়ার কোন বিপদ দূর করে দিলো আল্লাহ্ তা'আলা তার কিয়ামতের দিনের বিপদগুলো দূর করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোন সমস্যায় পড়া লোকের সমস্যাটুকু সহজ করে দিলো আল্লাহ্ তা'আলা তার দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্যাগুলো সহজ করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোন মোসলমান ভাইয়ের দোষ-ত্রুটিগুলো লুকিয়ে রাখলো আল্লাহ্ তা'আলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটিগুলো লুকিয়ে রাখবেন। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাহ্'র সহযোগিতায় থাকেন যতক্ষণ সে তার অন্য ভাইয়ের সহযোগিতায় থাকে। যে ব্যক্তি জ্ঞান আহরণের জন্য কোন পথ পাড়ি দিলো আল্লাহ্ তা'আলা তার বিনিময়ে তার জন্য তার জান্নাতের পথটুকু সহজ করে দিবেন"। (মুসলিম ২৬৯৯)
ইমাম নাওয়াওয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: উক্ত হাদীসটি এমন একটি মহান হাদীস যা অনেক ধরনের জ্ঞান, সূত্র ও আদবকে শামিল করে। তেমনিভাবে তাতে রয়েছে মোসলমানদের প্রয়োজনসমূহ পূরণ করা এবং তাদেরকে যথা সম্ভব জ্ঞান, সম্পদ ও যে কোন ধরনের সহযোগিতা দেয়া কিংবা তাদেরকে যে কোন ধরনের কল্যাণের পরামর্শ ও নসীহত ইত্যাদির মাধ্যমে লাভবান করা। (মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যা/নাওয়াওয়ী: ১৭/২১)
মানুষের প্রতি দয়া ও কল্যাণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিণতি ভালো হয় এবং সে খারাপ মৃত্যু থেকে রক্ষা পায়।
উম্মু সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
صَنَائِعُ الْمَعْرُوْفِ تَقِي مَصَارِعَ السُّوْءِ، وَصَدَقَةُ السِّرِّ تُطْفِئُ غَضَبَ الرَّبِّ، وَصِلَةُ الرَّحِمِ تَزِيدُ فِي الْعُمُرِ .
"ভালো কাজকর্ম মানুষকে খারাপ পরিণতি থেকে রক্ষা করে। আর লুক্কায়িত সাদাকাহ্ প্রভুর রোষানলকে নিভিয়ে দেয়। উপরন্তু আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা মানুষের বয়স বাড়িয়ে দেয়”। (ত্বাবারানী/আওসাত্ব: ৬/১৬৩ স্বা'হী'হুত-তারগীবি ওয়াত-তারহীব ৮৯০)
আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাহকে প্রচুর নিয়ামত দিয়ে থাকেন যখন সে তার মোসলমান ভাইয়ের স্বার্থ ও প্রয়োজন পূরণ করে। আর যদি সে তা না করে তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নিয়ামতগুলো তার থেকে ছিনিয়ে নেন।
ইবনু 'উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ لِلَّهِ عِبَادًا اخْتَصَّهُمْ بِالنَّعَمِ لِمَنَافِعِ الْعِبَادِ، يُقِرُّهُمْ فِيهَا مَا بَذَلُوْهَا، فَإِذَا مَنَعُوْهَا نَزَعَهَا مِنْهُمْ، فَحَوَّلَهَا إِلَى غَيْرِهِمْ .
"আল্লাহ্ তা'আলার এমন কিছু বান্দাহ্ রয়েছে যাদেরকে তিনি মানুষের ফায়েদার জন্যই বিশেষ কিছু নিয়ামতে ভূষিত করেছেন। সে নিয়ামত তাদের মাঝে ততক্ষণই বিদ্যমান থাকবে যতক্ষণ তারা তা মানুষের ফায়েদায় বিলিয়ে দিবে। আর যখন তারা তা নিজের হাতেই ধরে রাখতে চাইবে; কাউকে তা এতটুকুও দিতে চাইবে না তখন আল্লাহ্ তা'আলা তা তাদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে অন্যদের নিকট স্থানান্তর করবেন”। (ত্বাবারানী/আওসাত্ব: ৫/২২৮ স্বা'হী'হুত-তারগীবি ওয়াত-তারহীব ২৬১৭)
ইবনু 'আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন:
مَنْ مَشَى بِحَقِّ أَخِيهِ لِيَقْضِيَهُ فَلَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ صَدَقَةٌ .
"যে ব্যক্তি কারোর অধিকার আদায়ের জন্য কিছুক্ষণ হলেও পায়ে হেঁটেছে তাকে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে একটি করে সাদাকাহ্'র সাওয়াব দেয়া হবে"। (কিতাবুল-বিরি ওয়াস্ব-স্বিলাহ/মাওয়াযী: ১৬৩)
সালাফে সালি'হীন কারোর প্রয়োজন পূরণ করার ব্যাপারটিকে কখনো নিজেদের কৃতিত্ব বলে মনে করতেন না। বরং তারা এটাকে ঠেকায় পড়া লোকের কৃতিত্ব বলেই মনে করতেন। কারণ, সেই তো তাঁদেরকে তা পূরণের সুযোগ করে দিয়েছে। তাই ঠেকায় পড়া লোকটি যেন তাঁদের উপর সত্যিকারার্থে দয়াই করেছে।
ইবনু 'আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) আরো বলেন: তিন জাতীয় লোকের প্রতিদান দিয়ে কখনোই আমি সারতে পারবো না: যে আমাকে প্রথমেই সালাম দিয়েছে। যে আমাকে কোন মজলিসে বসার জন্য জায়গা করে দিয়েছে। যে আমাকে সালাম দেয়ার জন্য নিজের পা দু'টিকে ধুলায় ধুলাচ্ছন্ন করেছে। আর চতুর্থ ব্যক্তির প্রতিদান আমার পক্ষ থেকে আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া আর কেউই দিতে পারবে না। জিজ্ঞাসা করা হলো, লোকটি কে? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি কোন বিপদে পড়ে রাতভর এ ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তা করেছে যে, কাল ভোর হতেই সে কার কাছে গিয়ে তার এ বিপদটির কথা বলবে। অতঃপর সে আমাকেই তার প্রয়োজনটুকু পূরণের উপযুক্ত মনে করে তা আমাকেই বললো। (বায়হাক্বী/শু'আব: ৭/৪৩৬)
ফুযাইল বিন্ 'ইয়ায (রাহিমাহুল্লাহ্) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: লোকেরা আমাকে বললো: জনৈক ব্যক্তি একদা তার কোন প্রয়োজন নিয়ে অন্যের কাছে আসলে সে তাকে বললো: তুমি নিজ প্রয়োজন পূরণের জন্য আমাকেই পছন্দ করলে। আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তোমার কাজের কৃতজ্ঞতা আদায় করুন।
সাহিত্যালঙ্কারবিদ আবূ 'আক্বীলকে একদা বলা হলো, আপনি মারওয়ান বিন্ 'হাকামকে কেউ তাঁর নিকট কোন কিছু চাইলে তাঁকে কেমন দেখতেন? তিনি বললেন: তিনি কারোর কৃতজ্ঞতা পাওয়ার চেয়ে কাউকে কিছু দিতে বেশি উৎসাহ বোধ করতেন। তিনি ঠেকায় পড়া লোকের চেয়েও তার প্রয়োজন পূরণে বেশি উৎসাহ অনুভব করতেন।
ইনুল-ক্বায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ্) ইবনু তাইমিয়্যাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ্) এর গুণাবলী বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: শাইখুল-ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) মানুষের প্রয়োজন পূরণে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করতেন।
বস্তুতঃ হিম্মতওয়ালাদের নিকট একটি বিপদের বিষয় এও যে, ঠেকায় পড়া কোন লোক নিজ প্রয়োজন পূরণার্থে তাদের নিকট না আসা।
'হাকিম বিন্ 'হিযাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমি সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে আমার ঘরের দরজায় ঠেকায় পড়া কোন লোককে দেখতে না পেলে আমি তা একটি মহা বিপদ বলেই মনে করি। (সিয়ারু আ'লামিন-নুবালা': ৩/৫১)
আল্লাহ্ তা'আলা কাউকে মানুষের প্রয়োজন মেটানোর সুবিধা ও ক্ষমতা দেয়ার পরও তা না করার শাস্তি: 'আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَا مِنْ عَبْدٍ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ نِعْمَةً فَأَسْبَغَهَا عَلَيْهِ ثُمَّ جَعَلَ مِنْ حَوَائِجِ النَّاسِ إِلَيْهِ فَتَبَرَّمَ، فَقَدْ عَرَّضَ تِلْكَ النِّعْمَةَ لِلزَّوَالِ .
"আল্লাহ্ তা'আলা কাউকে তাঁর কোন নিয়ামত যথেষ্ট পরিমাণে দিয়ে মানুষকে তাদের প্রয়োজন পূরণার্থে তার দিকে ধাবিত করলে সে যদি তা করতে অনীহা প্রকাশ করে তখন আল্লাহ্ তা'আলা তার থেকে সে নিয়ামত ছিনিয়ে নেন"। (ত্বাবারানী/আওসাত্ব: ৫/২২৮ স্বা'হী'হুত-তারগীবি ওয়াত-তারহীব ২৬১৭)
হাদীসে বর্ণিত مُتَبَرِّمٌ শব্দের মানে, সে ব্যাপারটিকে বিরক্তিকর বলে মনে করলো। (মুর্খারুস্ব-স্বি'হাহ্: ১/২৭)
তা হলে مُتَبَرِّمٌ শব্দের অর্থ দাঁড়ায়, কোন কিছুর প্রতি বিরক্তি, সঙ্কীর্ণতা ও ভীষণ অস্থিরতা দেখানো।
আর হাদীসের মর্মে নিহিত مُتَبَرِّمٌ ব্যক্তি বলতে এমন সকল নিয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বুঝানো হয় যে নিয়ামতের দরুন মানুষ তার দিকে ধাবিত হয়। যেমন: আলিম, মুফতী, দা'য়ী, মুরুব্বী, গভর্ণর, বিচারক, দায়িত্বশীল, ডাক্তার, আইনজীবি, ব্যবসায়ী, ধনী ও সমাজের অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তি। যাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলা এমন নিয়ামত দিয়েছেন যার দরুন মানুষের মাঝে তাদের বিশেষ অবস্থান ও ক্ষমতা রয়েছে কিংবা যার দরুন তারা অন্যের ফায়েদা করতে পারে।
এরা যদি মানুষের প্রয়োজন পূরণের দায়িত্ব পাওয়ার পরও তাদের প্রতি বিরক্তি ও সঙ্কীর্ণতা দেখায়, এমনকি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অহঙ্কার করে কিংবা বিষাদ ও বিষণ্ণতা দেখায়। উপরন্তু সে জন্য ভীষণ চিন্তিত ও অস্থির হয়ে পড়ে তা হলে তারা অচিরেই এ নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কবলে পড়ে। যা উক্ত হাদীসেরই ভাষ্য।
উক্ত হাদীসের সতর্কতা নিম্নোক্ত আয়াতগুলো থেকেও বুঝা যায়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
ذلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ لَمْ يَكُ مُغَيِّرًا نِعْمَةً أَنْعَمَهَا عَلَى قَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنفُسِهِمْ وَأَنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴾ [الأنفال: ٥٣] .
"আর এটা এ জন্য যে, আল্লাহ্ তা'আলা কোন সম্প্রদায়কে দেয়া তাঁর নিয়ামত পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরাই নিজেদের কর্মের মাধ্যমে তা পরিবর্তন করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ”। (আনফাল: ৫৩)
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন:
إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنفُسِهِمْ وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلَا مَرَدَّ لَهُ وَمَا لَهُم مِّن دُونِهِ مِن وَال ) [الرعد: ١١] .
"আল্লাহ্ তা'আলা কোন সম্প্রদায়ের অবস্থার পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরাই নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করে। আর আল্লাহ্ তা'আলা যদি কোন সম্প্রদায়ের অকল্যাণ করতে চান তা হলে তা প্রতিরোধ করার আর কেউ নেই। উপরন্তু তিনি ছাড়া তাদের কোন অভিভাবকও নেই”। (আর-রা'দ: ১১)
ইমাম বাগাওয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) প্রথম আয়াতের তাফসীরে বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা কোন জাতিকে দেয়া নিয়ামত পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা কুফরি ও অকৃতজ্ঞতার মাধ্যমে তা পরিবর্তন করে। যখন তারা এমন করে তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে দেয়া নিয়ামতটুকু তাদের নিকট থেকে ছিনিয়ে নেন”। (বাগাওয়ী: ৩/৩৬৮)
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন:
وَإِن تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ ثُمَّ لَا يَكُونُوا أَمْثَلَكُم ﴾ [محمد : ۳۸] .
"আর তোমরা যদি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও তা হলে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য কোন জাতিকে নিয়ে আসবেন। তখন তারা তোমাদের মতো হবে না"। (মু'হাম্মাদ: ৩৮)
ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ্) বলেন: উক্ত আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা সে সকল মানুষদেরকে ভয় দেখাচ্ছেন যাদের হাতে রয়েছে রাজ্য, প্রশাসন ও নেতৃত্ব। অথচ তারা নিজ প্রজাদের মাঝে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেনি। তেমনিভাবে তা সে আলিমের জন্যও ভীতি প্রদর্শন স্বরূপ যিনি তার জ্ঞান অনুযায়ী আমল করেন না। উপরন্তু তিনি মানুষকে কল্যাণের উপদেশও দেন না। এমন করলে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর পরিবর্তে আরেক জনকে নিয়ে আসবেন। যিনি তাঁর মতো হবেন না। মূলতঃ আল্লাহ্ তা'আলা সবই করতে সক্ষম। (কুরতুবি: ৫/৪০৯)
বস্তুতঃ উক্ত হাদীসটি তার সকল বর্ণনা সহ সে সকল মানুষের জন্য উপদেশ ও সতর্ক সংকেত যাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলা বৈষয়িক ও অবৈষয়িক প্রচুর নিয়ামত দিয়েছেন। যার দরুন তারা অন্যের প্রয়োজন পূরণ করতে সক্ষম। অথচ তারা তা আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টি মাফিক করেনি।
এ জন্যই এ জাতীয় মানুষকে অবশ্যই তিনটি জিনিস জানতে হবে। যা নিম্নরূপ:
ক. তাকে অবশ্যই এ কথা জানতে হবে যে, এ নিয়ামত, পদ, জ্ঞান ও মর্যাদা যা আল্লাহ্ তা'আলা তাকে দিয়েছেন তা মূলতঃ তাঁর পক্ষ থেকে পরীক্ষা স্বরূপ। তিনি দেখেন, সে এগুলো পেয়ে সত্যিই কী করে। কারণ, দুনিয়া হলো মূলতঃ পরীক্ষার জায়গা।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن نُّطْفَةٍ أَمْشَاجِ نَبْتَلِيهِ فَجَعَلْتَهُ سَمِيعًا بَصِيرًا إِنَّا هَدَيْنَهُ السَّبِيلَ إِمَّا شَاكِرًا وَإِمَّا كَفُورًا [الإنسان: ٢ - ٣] .
"আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সংমিশ্রিত শুক্রবিন্দু থেকে তাকে পরীক্ষা করার জন্য। আর এ জন্যই আমি তাকে শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির অধিকারী বানিয়েছি। এরপর আমি তাকে সঠিক পথ দেখিয়ে দিয়েছে। ফলে, সে হবে হয় কৃতজ্ঞ না হয় অকৃতজ্ঞ”। (আল-ইন্সান/আদ-দার: ২-৩)
এরপর সে আল্লাহ্ তা'আলার কৃতজ্ঞতা আদায় করবে। না হয় তাঁর সাথে কুফরি করবে ও তাঁর নিয়ামতকে অস্বীকার করবে।
খ. মানুষ যতই বড় হোক না কেন সে মূলতঃ একাই। তবে সে নিজ মোসলমান ভাইদেরকে নিয়ে অবশ্যই বেশি। সে যদি নিজ সমাজের লোকদের প্রতি সত্যিই বিরক্তি প্রকাশ করে তা হলে তা তাদের সাথে তার সুসম্পর্ক বিনাশের কারণ হবে। এমন কর্মকাণ্ড তাদেরকে তার প্রতি বিদ্বেষী করে তুলবে। যার নগদ ও বাকি ক্ষতি কারোরই অজানা নয়। উপরন্তু তা একই সময়ে এমন এক কুপ্রভাব ও প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করবে যার দরুন তার নিয়ামতটুকু চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। পরিশেষে তার শত্রুরা তা দেখে খুশি হবে।
গ. কিয়ামতের দিনের সাওয়াবের আশা করা: নবী যেভাবে আমাদেরকে অবহেলার দরুন নিয়ামতগুলো চলে যাওয়ার ভয় দেখিয়েছেন তেমনিভাবে তিনি মানুষের প্রয়োজন পূরণের সর্বদা যথাসাধ্য চেষ্টা করার ফযীলতও বলেছেন।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
مَنْ نَفْسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرٍ يَسَّرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَاللهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ .
"যে ব্যক্তি কোন মু'মিনের দুনিয়ার কোন বিপদ দূর করে দিলো আল্লাহ্ তা'আলা তার কিয়ামতের দিনের কিছু বিপদ দূর করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোন সমস্যায় পড়া লোকের সমস্যাটুকু সহজ করে দিলো আল্লাহ্ তা'আলা তার দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্যাগুলো সহজ করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোন মোসলমান ভাইয়ের দোষ-ত্রুটিগুলো লুকিয়ে রাখলো আল্লাহ্ তা'আলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটিগুলো লুকিয়ে রাখবেন। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাহ্'র সহযোগিতায় থাকেন যতক্ষণ সে তার অন্য ভাইয়ের সহযোগিতায় থাকে”। (মুসলিম ২৬৯৯)
জনৈক কবি বলেন:
وَأَفْضَلُ النَّاسِ مَا بَيْنَ الْوَرَى رَجُلٌ تُقْضَى عَلَى يَدِهِ لِلنَّاسِ حَاجَاتُ مَا دُمْتَ مُقْتَدِرًا فَالسَّعْدُ تَارَاتُ لا تَمْنَعَنَّ يَدَ الْمَعْرُوْفِ عَنْ أَحَدٍ وَاشْكُرْ فَضَائِلَ صُنْعِ اللَّهِ إِذَا جُعِلَتْ إِلَيْكَ لَا لَكَ عِنْدَ النَّاسِ حَاجَاتُ قَدْ مَاتَ قَوْمٌ وَمَا مَاتَتْ مَكَارِمُهُمْ وَعَاشَ قَوْمٌ وَهُمْ فِي النَّاسِ أَمْوَاتُ
“সৃষ্টির মধ্যকার সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হলো সে যার হাতের উপর দিয়েই মানুষের প্রয়োজনগুলো মেটানো হয়।
তুমি যথাসম্ভব কারোর কাছ থেকে নিজের কল্যাণের হাত গুটিয়ে নিও না। মনে করতে হবে, ভাগ্য তোমার হাতে বার বার ধরা দিচ্ছে।
তুমি এ জন্য আল্লাহ্ তা'আলার কৃতজ্ঞতা আদায় করো যে, মানুষের প্রয়োজনগুলো তোমার কাছেই নিয়ে আসা হচ্ছে; অথচ কারোর নিকট তোমার কোন প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে না।
দুনিয়ায় এমন কিছু সম্প্রদায় আছে যারা মারা গিয়েছে ঠিকই তবে তাদের গুণাবলী ও অবদান সমূহ এখনো নিঃশেষ হয়ে যায়নি। আর কিছু সম্প্রদায় এখনো বেঁচে আছে ঠিকই তবে তারা মানুষের মাঝে মৃতের ন্যায়।
এক জন বান্দাহ্'র জন্য আল্লাহ্ তা'আলার নিয়ামতের প্রতি বিরক্তি প্রদর্শন ছাড়া ভয়ঙ্কর আর কিছু নেই। তাকে দেয়া নিয়ামতকে সে কোন নিয়ামতই মনে করছে না। না সে তার দরুন আল্লাহ্ তা'আলার কোন কৃতজ্ঞতা আদায় করছে। না সে তার প্রতি কোন খুশি প্রকাশ করছে। বরং সে তাকে দেয়া নিয়ামতকে ঘৃণা করছে। তার বদনাম করছে ও তাকে বিপদ বলেই ভাবছে। অথচ তাকে যে নিয়ামত দেয়া হয়েছে তা আল্লাহ্ তা'আলার একটি মহান নিয়ামত।
তাই বলতে হয়, অধিকাংশ মানুষ আল্লাহ্'র দেয়া নিয়ামতের শত্রু। তারা জানে না যে, এগুলো আল্লাহ্'র দেয়া নিয়ামত। বরং তারা নিজেদের মূর্খতাবশত সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান কিংবা প্রতিরোধ করতে চায়। সুতরাং কতো নিয়ামত যে কারো কারোর নিকট পৌঁছাতে চায়; অথচ সে তা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। তেমনিভাবে কতো নিয়ামত যে তার নিকট ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছে; অথচ সে মূর্খতাবশত তা দূর ও প্রতিহত করতে চায়। অতএব, নিয়ামতের বড় শত্রু মানুষ নিজেই। সে মূলতঃ নিজ শত্রুকে নিয়ে নিজের বিরুদ্ধেই নিজেই অবস্থান নিয়েছে। শত্রু তাকে দেয়া নিয়ামতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। আর সে তাতে ফুঁ দিচ্ছে। তাই সে শত্রুকে প্রথমতঃ আগুন জ্বালানোর সুযোগ দিয়েছে। অতঃপর সে তাতে ফুঁ দিয়ে তার সহযোগিতা করছে। অথচ যখন সেই আগুন জোরে প্রজ্বলিত হয় তখন সে তা থেকে বাঁচার চেষ্টা করে। পরিশেষে সে তা থেকে বাঁচতে না পারলে নিজ ভাগ্যকেই দোষারোপ করে।
وَعَاجِزُ الرَّأْيِ مِضْيَاعٌ لِفُرْصَتِهِ حَتَّى إِذَا فَاتَ أَمْرٌ عَاتَبَ الْقَدَرَ
“কোন কাজে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম ব্যক্তি সুযোগ পেয়েও তা হারিয়ে বসে। অতঃপর যখন ব্যাপারটি একেবারেই হাত ছাড়া হয়ে যায় তখন সে তাক্বদীরকেই তিরস্কার করে। (‘উয়ূনুল-আখবার/ইন্ধু কুতাইবাহ্: ১/১৪)
আমরা আল্লাহ্ তা'আলা নিকট কামনা করছি যে, তিনি যেন আমাদের সবাইকে ভালোর পর খারাপ থেকে এবং পূর্ণতার পর ঘাটতি থেকে রক্ষা করেন।
এ জন্য আমাদের সবাইকে সময় থাকতেই নিয়ামতের পরিচর্যা করতে হবে। আল্লাহ্ তা'আলার ভয়, নেক আমল ও মানুষের খিদমতের দিকে আমাদেরকে দ্রুত ধাবিত হতে হবে। ইতিপূর্বে ভুলবশত আল্লাহ্ তা'আলা, সাধারণ মানুষ, নিজ পরিবার ও মুসলিম ভাইদের অধিকারের প্রতি যে অবহেলা দেখানো হয়েছে তা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে। সর্বদা মানুষের প্রতি অনীহা এবং অহংকার যা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার সাথেই মানায় তা থেকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।
একটি হাদীসে কুদ্‌সীতে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
الْكِبْرِيَاءُ رِدَائِي، وَالْعَظَمَةُ إِزَارِي، فَمَنْ نَازَعَنِي وَاحِدًا مِنْهُمَا قَذَفْتُهُ فِي النَّارِ .
“বড়ত্ব আমার চাদর। মহত্ত্ব আমার নিম্ন ভূষণ। যে ব্যক্তি এ দু'টির কোনটি নিয়ে আমার সাথে দ্বন্দ্ব করবে আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো”। (আবূ দাউদ ৪০৯০ সিলসিলাতুল-আ'হাদীসিস্ব-স্বাহী'হাহ্ ৫৪১)
নিশ্চয়ই সর্বদা একই অবস্থায় থাকা অসম্ভব। তবে উত্থান-পতনের মাঝে পার্থক্য অবশ্যই রয়েছে। তাই এ দু'টির দ্বিতীয়টির ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। আর দ্বিতীয়টি নিজের গুনাহ্'র দরুনই ঘটে থাকে। আল্লাহ্ তা'আলা কখনোই বান্দাহ্'র প্রতি যুলুম করেন না। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَمَا أَصَبَكُم مِّن مُّصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُوا عَن كَثِيرٍ . [الشورى: ۳۰] .
"তোমাদের উপর যে বিপদই আসুক না কেন তা অবশ্যই তোমাদের হাতেরই কামাই। বস্তুতঃ আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের অনেক অপরাধই ক্ষমা করে দেন"। (আশ-শূরা: ৩০)
আরবরা বলে থাকে,
الدَّهْرُ يَوْمَانِ : يَوْمٌ لَكَ وَيَوْمٌ عَلَيْكَ .
"যুগ বলতেই তা মূলতঃ দু' দিনেরই সমষ্টি: এক দিন আপনার অনুকূলে। আরেক দিন আপনার প্রতিকূলে"।
এর মানে হলো, পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলারই নিয়ম হচ্ছে, কারোর জীবন কখনোই এক ধাঁচে চলতে পারে না।
জনৈক কবি বলেন:
مَا بَيْنَ غَفْوَةِ عَيْنٍ وَانْتِبَاهَتِهَا يُغَيِّرُ اللَّهُ مِنْ حَالٍ إِلَى حَالٍ
"এক নিমিষেই তথা চোখের পাতা বন্ধ করতে ও খুলতে যতটুকু সময় লাগে এর মধ্যেই আল্লাহ্ তা'আলা মানুষকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন করেন"।
আরেক কবি বলেন:
هَكَذَا الدَّهْرُ حَالَةٌ ثُمَّ ضِدُّ مَا لِحَالٍ مَعَ الزَّمَانِ بَقَاءُ
"যুগটা এভাবেই চলছে। কখনো এক অবস্থা। এরপর আবার এর বিপরীত অবস্থা। সময়ের তালে তালে কোন অবস্থাই স্থায়ী হয় না"।
এ জন্য প্রত্যেকেরই দো'আ করা উচিত, আল্লাহ্ তা'আলা যেন তাকে তাঁর ফায়সালার অনিষ্ট এবং ভালো অবস্থা থেকে খারাপ অবস্থার দিকে পরিবর্তন থেকে রক্ষা করেন।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী এর সার্বক্ষণিক দো'আর মধ্যে এটাও ছিলো যে, তিনি বলতেন,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ، وَتَحْوِيْلِ عَافِيَتِكَ، وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ، وَجَمِيعِ سَخَطِكَ .
"হে আল্লাহ্! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট আপনার দেয়া নিয়ামত দূরীভূত হওয়া, আপনার দেয়া সুস্থতার পরিবর্তন, আকস্মিক শাস্তি ও আপনার সকল অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় কামনা করছি”। (মুসলিম ২৭৩৯)

📘 মরেও অমর হওয়ার চেষ্টা > 📄 উত্তম ঋণ ও সঙ্কটে পড়া ব্যক্তিকে কিছু সময় আরো বাড়িয়ে দেয়া

📄 উত্তম ঋণ ও সঙ্কটে পড়া ব্যক্তিকে কিছু সময় আরো বাড়িয়ে দেয়া


'আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্‌ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُقْرِضُ مُسْلِمًا قَرْضًا مَرَّتَيْنِ إِلَّا كَانَ كَصَدَقَتِهَا مَرَّةً
"কোন মোসলমান অন্য কোন মোসলমানকে দু' বার ঋণ দিলে তা এক বার সাদাকা করার ন্যায়"। (ইবনু মাজাহ্ ২৪৩০ স্বাহী'হুত-তারগীবি ওয়াত-তারহীব ৯০১)
'হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
تَلَقَّتِ الْمَلَائِكَةُ رُوْحَ رَجُلٍ مِّمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَقَالُوا : أَعَمِلْتَ مِنَ الْخَيْرِ شَيْئًا ؟ قَالَ : لا ، قَالُوا : تَذَكَّرْ، قَالَ : كُنْتُ أُدَايِنُ النَّاسَ فَآمُرُ فِتْيَانِي أَنْ يُنْظِرُوا الْمُعْسِرَ وَيَتَجَوَّزُوْا عَنِ الْمُوْسِرِ، قَالَ : قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ : تَجَوَّزُوْا عَنْهُ .
"ফিরিস্তাগণ পূর্ববর্তী উম্মতের জনৈক ব্যক্তির রূহ্ গ্রহণ করার পর তাকে বললো: তুমি কি ইতিপূর্বে কোন কল্যাণের কাজ করেছো? সে বললো: না। ফিরিস্তাগণ বললেন: আরেকটু স্মরণ করো। সে বললো: আমি মানুষকে ঋণ দিতাম। আর আমার কর্মচারীদেরকে বলতাম: সঙ্কটে পড়া লোককে সময় বাড়িয়ে দিবে। আর সচ্ছল ব্যক্তির সাথে সহজ আচরণ করবে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা ফিরিস্তাগণকে বলেন: তোমরাও তার সাথে সহজ আচরণ করো”। (মুসলিম ১৫৬০)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00