📄 পশুরা কেন এক জন আলিমের জন্য ইস্তিগফার করে?
ক. এটি মূলতঃ এক জন আলিমের জন্য আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে এক ধরনের বিশেষ সম্মান। যেহেতু, তিনি মানুষকে আল্লাহ্ তা'আলার নাযিলকৃত শরীয়তই শিখাচ্ছেন।
খ. এক জন আলিম মূলতঃ পশুদেরও উপকার করেন। কারণ, তিনি মানুষকে পশুর প্রতিও দয়া করতে আদেশ করেন। তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
فَإِذَا قَتَلْتُمْ فَأَحْسِنُوا الْقِتْلَةَ، وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذِّبْحَةَ .
"তোমরা যখন কাউকে হত্যা করো তখন তাকে সুন্দরভাবেই হত্যা করবে। আর যখন তোমরা কোন পশুকে যবাই করো তখন তাকে সুন্দরভাবেই যবাই করবে”। (মুসলিম ১৯৫৫)
মূলতঃ এক জন আলিম নিজ দায়িত্বেই পশু সংক্রান্ত সকল বিধি-বিধান মানুষকে জানিয়ে দেন। আর পশুর প্রতি তাঁদের এ সদাচরণ ও দয়ার দরুনই আল্লাহ্ তা'আলা পশুর অন্তরে তাঁদের জন্য তাঁর নিকট ক্ষমা চাওয়ার মানসিকতা ঢুকিয়ে দেন।
রাসূল এর বাণী:
وَفَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ .
"এক জন আলিমের সম্মান ও মর্যাদা এক জন ইবাদাতকারীর উপর যেমন চাঁদের মর্যাদা অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্রের উপর"। (তিরমিযী ২৬৮২ সা'হী'হুত-তারগীবি ওয়াত-তারহীব: ৭০)
ক্বাযী 'ইয়ায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: রাসূল উক্ত হাদীসে এক জন আলিমকে চাঁদের সাথে আর এক জন ইবাদাতকারীকে অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্রের সাথে তুলনা করেছেন। কারণ, এক জন ইবাদাতকারীর ইবাদাতের পরিপূর্ণতা ও আলো তাকে অতিক্রম করে আর সামনে অগ্রসর হয় না। অথচ এক জন আলিমের আলো তাঁকে অতিক্রম করে আরো দূর বহু দূর চলে যায়। (তুহফাতুল-আহওয়াযী: ৬/৪৮১)
📄 কোনটি উত্তম? ইবাদাত করা না কি প্রয়োজনীয় জ্ঞান শিক্ষা ও শিখানোয় ব্যস্ত থাকা?
'হাফিয ইবনু 'হাজার (রাহিমাহুল্লাহ্) বলেন: ইনসাফপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো এই যে, যে ইবাদাতটি ফরযে 'আইন তথা ব্যক্তিগত পর্যায়ে বাধ্যতামূলক তা তো অবশ্যই করতে হবে। তবে এর বাড়তি কোন কিছু করার ব্যাপারে মানুষ দু' প্রকার: যদি কারোর মাঝে বাড়তি বুঝ ও রচনা শক্তি বিদ্যমান থাকে তা হলে তার সে কাজেই ব্যস্ত হওয়া উচিত তার নফল ইবাদাত নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার চেয়ে। কারণ, তার এ রচনা কর্ম সত্যিই ব্যাপক লাভজনক। আর যে ব্যক্তি নিজের মাঝে ইবাদাতের ক্ষেত্রে প্রচুর ত্রুটি অনুভব করে থাকে তখন তার জন্য ইবাদাত নিয়ে ব্যস্ত থাকাই শ্রেয়। কারণ, তার জন্য উভয় কাজ করা সত্যিই কঠিন।
বস্তুতঃ প্রথম ব্যক্তি যদি জ্ঞানের কাজ ছেড়ে দেয় তা হলে শরীয়তের অনেক বিধি-বিধানই মানুষের অজানা থেকে যাবে। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি যদি শুধু জ্ঞান নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়ে উপরন্তু ইবাদাত ছেড়ে দেয় তা হলে তার কোনটাই হবে না। কারণ, তার দ্বারা তো প্রথমটিই হচ্ছে না। তা হলে তার দ্বারা দ্বিতীয়টি তো হওয়ারই কথা নয়। (ফাত্হুল-বারী: ১৩/২৬৭)
ইমাম নাওয়াওয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: এক জন ই'তিকাফকারীর জন্য নিজে কুর'আন পড়া ও অন্যকে পড়ানো জায়িয। তেমনিভাবে তার জন্য নিজে জ্ঞান শিখা ও অন্যকে শিখানো জায়িয। ই'তিকাফ অবস্থায় তা করা তার জন্য মাকরূহ্ হবে না।
ইমাম শাফি'য়ী (রাহিমাহুল্লাহ) ও তাঁর সাথীগণ বলেন: বরং তার জন্য তা করা নফল নামাযের চেয়েও উত্তম। কারণ, জ্ঞান নিয়ে ব্যস্ত হওয়া ফরযে কিফায়াহ্। তাই তা নফল থেকে উত্তম। উপরন্তু জ্ঞানের মাধ্যমে নামায ও অন্যান্য ইবাদাত বিশুদ্ধভাবে আদায় করা সম্ভবপর হয়। আর এর ফায়েদা তো অন্য মানুষ পর্যন্ত পৌঁছায়ই। এ দিকে এ ব্যাপারে অনকেগুলো হাদীসও রয়েছে যা নফল নামাযে ব্যস্ত হওয়ার চেয়ে জ্ঞান নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) মাঝে মাঝে নফল রোযা না রেখে বলতেন: নফল রোযা রাখলে মানুষের প্রয়োজন মেটানো সত্যিই কষ্টকর হয়।