📄 আল্লাহ’র দিকে মানুষকে আহ্বান করা
আল্লাহ্ তা'আলার দিকে মানুষকে আহ্বান করা সর্বশ্রেষ্ঠ আমল যা অন্যের সত্যিকার ফায়েদায় আসে। আল্লাহ্ তা'আলার তাওহীদের দিকে মানুষকে আহ্বান করা এবং তাঁর দ্বীনের প্রচার ও প্রসারের চিন্তা বহন করার ন্যায় ব্যাপক আমল দুনিয়াতে আর কিছুই নেই। এ জন্যই আল্লাহ্ তা'আলা এ কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন আদম সন্তানদের মধ্যকার সর্বশ্রেষ্ঠ শ্রেণী তথা নবী-রাসূল ও তাঁদের অনুসারীদেরকে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ ﴾ [فصلت: ٣٣] .
"কথায় উত্তম ওই ব্যক্তির চেয়ে আর কে হতে পারে যে মানুষকে আল্লাহ্ তা'আলার দিকে আহ্বান করে এবং নিজেও নেক আমল করে উপরন্তু বলে, নিশ্চয়ই আমি মোসলমান তথা আল্লাহ্ তা'আলার অনুগতদেরই এক জন"। (ফুসিলাত: ৩৩)
ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ্) বলেন: আল্লাহ্ তা'আলার দিকে আহ্বান করা মানে, আল্লাহ্ তা'আলার বান্দাদেরকে তাঁর আনুগত্যের দিকে ডাকা। আর নেক আমল করা মানে, সে নিজেও হিদায়াতপ্রাপ্ত। সে যা মুখে বলে তাই কাজে পরিণত করে। তথা এর ফায়েদা তার উপর সীমিত এবং অন্যদের ব্যাপারে ব্যাপকও বটে। মানে, দু'টোই। সে এমন নয় যে, অন্যকে সে ভালো কাজের আদেশ করে; অথচ সে নিজেই তা পালন করে না। তেমনিভাবে সে এমনও নয় যে, অন্যকে অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে; অথচ সে নিজেই তা করে। বরং সে নিজেও ভালো কাজ করে এবং সে নিজেও খারাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকে। উপরন্তু সে মানুষকে তার স্রষ্টার দিকে ডাকে। অতএব, এ আয়াতটি এমন সবার জন্য যারা অন্যকেও কল্যাণের দিকে ডাকে এবং নিজেও হিদায়াতপ্রাপ্ত। (ইবনু কাসীর/তাফসীর: ৭/১৭৯)
তা হলে বুঝা গেলো, আল্লাহ্ তা'আলার প্রতি আহ্বানকারিগণ এ ব্যাপারে এতটুকুও রাজি নন যে, তাঁরা অন্যকে ডুবন্ত অবস্থায় দেখবেন; অথচ তাঁরা তা থেকে তাদেরকে রক্ষা করবেন না। তাঁরা এতটুকুও রাজি নন যে, মানুষ মনুষ্যত্ব হারিয়ে দিগ্-বিদিক অস্থির হয়ে ঘুরে বেড়াবে আর তাঁরা তাদেরকে সঠিক পথ দেখাবেন না। তাঁরা জ্ঞানকে দাফন করে দেননি কিংবা নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখেননি। বরং তাঁরা সর্বদা তাঁদের সকল আরাম-আয়েশ জলাঞ্জলি দিয়ে এবং সকল অলসতা ঝেড়ে-মুছে নিজেদের জীবন বাজি রেখে মানুষের নিকট ওহীর আলো বহন করে নিয়ে যান। তাঁরা মূর্খকে জ্ঞান দান করেন। আর গাফিলকে সতর্ক করেন। এমনকি তাঁরা আল্লাহ্ তা'আলার তাওফীক ও ইচ্ছায় পথভ্রষ্টকে সঠিক পথ দেখান।
অতএব, অন্যদের ব্যাপক ফায়েদার সর্বশ্রেষ্ঠ দিক হলো, তাদেরকে কুফরি, বিদ্'আত ও গুনাহ্'র অন্ধকার থেকে তাওহীদ, সুন্নাত ও আনুগত্যের আলোর দিকে নিয়ে আসা।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
أَوَمَن كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُورًا يَمْشِي بِهِ فِي النَّاسِ كَمَن مَّثَلُهُ فِي الظُّلُمَاتِ لَيْسَ بِخَارِجَ مِنْهَا كَذَلِكَ زُيِّنَ لِلْكَافِرِينَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ) [الأنعام: ١٢٢] .
"যে ব্যক্তি একদা মৃত ছিলো অতঃপর আমি তাকে জীবিত করে তার জন্য আলোর ব্যবস্থা করলাম। যার সাহায্যে সে মানুষের মাঝে বিচরণ করতে পারছে সে কি ওই ব্যক্তির ন্যায় যে মূলতঃ অন্ধকারে নিমজ্জিত। যেখান থেকে সে আর কখনো বেরিয়ে আসতে পারবে না। আর এভাবেই কাফিরদের জন্য তাদের কর্মকাণ্ড চাকচিক্যময় করে দেয়া হয়েছে”। (আল-আন'আম: ১২২)
📄 আল্লাহ’র পথে জিহাদ করা
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে একদা জিজ্ঞাসা করা হলো। আল্লাহ্ তা'আলার পথে জিহাদ করার সমপর্যায়ের আর কোন্ আমলটি হতে পারে? তিনি বললেন: তোমরা তা করতে পারবে না। বর্ণনাকারী বলেন: সাহাবায়ে কিরাম উক্ত প্রশ্নটি দু'বার কিংবা তিন বার করেছেন। প্রত্যেক বারই রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তোমরা তা করতে পারবে না। তবে তিনি তৃতীয়বার বললেন:
مَثَلُ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيْلِ اللَّهِ كَمَثَلِ الصَّائِمِ الْقَائِمِ الْقَانِتِ بِآيَاتِ اللَّهِ لَا يَفْتُرُ مِنْ صَلَاةٍ وَلَا صِيَامٍ حَتَّى يَرْجِعَ الْمُجَاهِدُ إِلَى أَهْلِهِ .
“আল্লাহ্ তা'আলার পথে এক জন জিহাদকারীর দৃষ্টান্ত হলো এক জন রোযাদার ও রাত জেগে নামায পড়ুয়ার সাথে। যে পুরো রাত আল্লাহ্'র কুর'আনের আয়াতগুলো নিয়ে বিনয়ের সাথে নামাযে দাঁড়িয়ে থাকে। এমনকি সে এক জন মুজাহিদ তার পরিবারের নিকট ফিরে আসা পর্যন্ত তার নামায ও রোযায় কোন ধরনের ত্রুটি ও অলসতা দেখায় না”। (বুখারী ২৬৩৫ মুসলিম ১৮৭৮)
আবূ সা'ঈদ খুদ্রী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহ্'র রাসূল! কোন্ মানুষটি সর্বশ্রেষ্ঠ? তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন:
مُؤْمِنٌ يُجَاهِدُ فِي سَبِيْلِ اللهِ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ، قَالُوْا: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: مُؤْمِنٌ فِي شِعْبٍ مِنَ الشَّعَابِ يَتَّقِي اللَّهَ وَيَدَعُ النَّاسَ مِنْ شَرِّهِ .
"যে ঈমানদার আল্লাহ্ তা'আলার পথে নিজের জীবন ও সম্পদ নিয়ে জিহাদে অবতীর্ণ হয়। তাঁরা বললেন: এরপর কে? তিনি বললেন: যে ঈমানদার আল্লাহভীতিকে অন্তরে পুরোপুরি ধারণ করে কোন গিরি উপত্যকায় অবস্থান করে এবং মানুষকে নিজের অনিষ্ট থেকে বাঁচিয়ে রাখে”। (বুখারী ২৬৩৪ মুসলিম ১৮৮৮)
মানুষ থেকে দূরে অবস্থানকারী এক জন মু'মিনের চেয়ে এক জন মুজাহিদ শ্রেষ্ঠ। কারণ, সে তো প্রথমতঃ তার জীবন ও সম্পদটুকু আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় বিলিয়ে দিয়েছে। উপরন্তু তার জিহাদে ব্যাপক ফায়েদাও রয়েছে। কারণ, জিহাদের দরুন প্রচুর মানুষ দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করবে। এর মাধ্যমে কুফর ও কাফির লাঞ্ছিত হবে। ধর্মের গণ্ডীকে রক্ষা করা যাবে। এমনকি মোসলমানদের ইজ্জতও রক্ষা পাবে। এ ছাড়াও জিহাদের আরো অন্যান্য ফায়েদা রয়েছে।
আর এ জন্যই অন্য উম্মতের উপর এ উম্মতের শ্রেষ্ঠত্বের একটি বিশেষ কারণ হলো এ উম্মত অন্য উম্মতের জন্য সব চেয়ে বেশি লাভজনক। কারণ, এ উম্মত তো অন্য উম্মতের সব চেয়ে বেশি লাভজনক কাজটিই করে থাকে। আর তা হলো অন্যকে ইসলামের পথে নিয়ে আসার বিশেষ প্রচেষ্টা। যার পরিণতিতে তারা একদা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি একদা আল্লাহ্ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণীর ব্যাখ্যায় বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ ) [آل عمران: ۱۱۰] .
"তোমরা হলে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত যাদের সৃষ্টিই হলো মানব জাতির কল্যাণের জন্য। তোমরা অন্যকে ভালো কাজের আদেশ করবে। আর অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে"। (আলি-ইমরান: ১১০)
আবূ হুরাইরাহ্ উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: তোমরা সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। মানুষের কল্যাণেই তোমাদের সৃষ্টি। তোমরা তাদেরকে গলায় শিকল বেঁধে নিয়ে আসবে। যাতে তারা ইসলামে প্রবেশ করে। (বুখারী ৪২৮১)
ইবনু 'হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: মোসলমানরা মানুষের জন্য সব চেয়ে বেশি লাভজনক। আর এর কারণ হলো, বস্তুতঃ তাদের দরুনই তো মানুষ ইসলামে প্রবেশ করবে। (ফাত্হুল-বারী: ৮/২২৫)
ইবনু 'হাজার (রাহিমাহুল্লাহ্) ইনুল-জাউযী (রাহিমাহুল্লাহ্) থেকে বর্ণনা করেন: তিনি বলেন: উক্ত আয়াতের অর্থ হলো, কাফিরদেরকে প্রথমতঃ শিকলবদ্ধ করে নিয়ে আসা হবে। পরবর্তীতে যখন তারা ইসলামের বিশুদ্ধতা বুঝবে তখন তারা নিজেরাই মোসলমান হয়ে যাবে। যার পরিণতিতে তারা একদা জান্নাতে প্রবেশ করবে। (ফাত্হুল-বারী: ৬/১৪৫)
📄 আল্লাহ’র রাস্তায় পাহারাদারি করা
ব্যাপক লাভজনক আরেকটি দিক হলো আল্লাহ্'র রাস্তায় পাহারাদারি করা।
'আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِلَيْلَةٍ أَفْضَلَ مِنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ؟ حَارِسٌ حَرَسَ فِي أَرْضِ خَوْفٍ لَعَلَّهُ أَنْ لَا يَرْجِعَ إِلَى أَهْلِهِ .
"আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি রাতের সংবাদ দেবো না যা ক্বদরের রাতের চেয়েও উত্তম? কোন পাহারাদার যদি আতঙ্কগ্রস্ত কোন এলাকায় পাহারাদারির কাজ করে। হয়তো বা সে আর নিজ পরিবারের নিকট ফিরে আসতে পারবে না"। ('হাকিম ২৪২৪)
'আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি একদা রাসূল কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন:
عَيْنَانِ لَا تَمَسُّهُمَا النَّارُ : عَيْنٌ بَكَتْ مِنْ خَشْيَةِ اللهِ، وَعَيْنٌ بَاتَتْ تَحْرُسُ فِي سَبِيلِ الله .
"দু'টি চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। সেগুলোর একটি হলো যে চোখ আল্লাহ্ তা'আলার ভয়ে কাঁদে। আরেকটি হলো যে চোখ আল্লাহ্ তা'আলার পথে পাহারাদারি করে তার পুরো রাতটিই পার করে দেয়”। (তিরমিযী ১৬৩৯)
চোখকে আগুন স্পর্শ করবে না মানে, চোখওয়ালাকে আগুন স্পর্শ করবে না। মূলতঃ এখানে শরীরের একটি অংশ উল্লেখ করে পুরো শরীরকেই বুঝানো হয়েছে।
📄 মুসলমানদের পাহারাদারি করতে গিয়ে ‘আকরাদ বিন বিশর (রা)’ এবং একটি চমৎকার ঘটনা
জাবির বিন্ আব্দুল্লাহ্ আল্সারী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমরা একদা রাসূল এর সাথে নাজদ এলাকার দিকে বের হলাম। পথিমধ্যে আমরা এক মুর্শিকদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের এক জনের স্ত্রীকে আমরা হত্যা করলাম। রাসূল আবার এ পথেই ফিরে আসছিলেন। আর ইতিমধ্যে মহিলাটির স্বামী দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর ঘরে ফিরে আসলে তার স্ত্রীর ব্যাপারটি তাকে জানানো হলো। তখন সে এ ব্যাপারে কসম খেলো যে, সে কখনো এখান থেকে ফিরে যাবে না যতক্ষণ না সে রাসূল এর কোন সাহাবীর রক্ত প্রবাহিত করে। আর এ দিকে রাসূল পথিমধ্যে এক গিরি উপত্যকায় অবতরণ করে বললেন: এমন দু' জন কে আছে যারা এ রাতে আমাদেরকে শত্রুর আক্রমণ থেকে পাহারা দিবে? তখন জনৈক মুহাজির ও জনৈক আন্সারী বললেন: আমরা আপনার পাহারাদারি করবো হে আল্লাহ্'র রাসূল ! এরপর তাঁরা সেনাদের পেছনের এক গিরিমুখে অবস্থান নিলেন। অতঃপর আন্সারী সাহাবী মুহাজির সাহাবীকে বললেন: প্রথম রাতে তুমি পাহারা দিবে আর আমি শেষ রাতে, না হয় আমি প্রথম রাতে পাহারা দেবো আর তুমি শেষ রাতে। তুমি কোন্টি গ্রহণ করবে? তখন মুহাজির সাহাবী বললেন: তুমি প্রথম রাতে পাহারা দাও আর আমি শেষ রাতে। এ কথা বলে মুহাজির সাহাবী ঘুমিয়ে পড়লেন আর আন্সারী সাহাবী নামায পড়তে শুরু করলেন।
যখন তিনি নামাযে একটি দীর্ঘ সূরা পড়তে শুরু করলেন তখন মহিলাটির স্বামী এসে উপস্থিত। লোকটি সাহাবীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বুঝলো যে, ইনিই হলেন মূলতঃ সবার পাহারাদার। তাই লোকটি তাঁকে একটি তীর নিক্ষেপ করলো। অথচ সাহাবী তীরটি নিজ শরীর থেকে খুলে কোন রকম নড়াচড়া না করেই উক্ত সূরাটি পড়ছিলেন। তা পড়া বন্ধ করা তিনি মোটেই পছন্দ করেননি। এরপর লোকটি সাহাবীকে আরেকটি তীর নিক্ষেপ করলো। অথচ সাহাবী তীরটি নিজ শরীর থেকে খুলে কোন রকম নড়াচড়া না করেই উক্ত সূরাটি পড়ছিলেন। তা পড়া বন্ধ করা তিনি মোটেই পছন্দ করেননি। এরপর লোকটি আরেকটি তীর নিক্ষেপ করলো। আর সাহাবী তীরটি নিজ শরীর থেকে খুলে রুকু' ও সাজদাহ্ করলেন। এরপর তিনি তাঁর সাথীকে বললেন: উঠো, তোমার সময় হয়ে গেছে। তখন মুহাজির সাহাবীও ঘুম থেকে উঠলে মহিলাটির স্বামী তাঁদের উভয়কে দেখে পালিয়ে গেলো। সে বুঝতে পারলো যে, তার মানতটি পুরা হলো। এ দিকে আন্সারী সাহাবীর শরীর থেকে তীরের আঘাতের কারণে স্রোতের ন্যায় রক্ত বেরুচ্ছে। তখন তাঁর সাথী মুহাজির সাহাবী তাঁকে বললেন: আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে ক্ষমা করুন! প্রথম আঘাতেই তুমি আমাকে জাগালে না কেন। তিনি বললেন: আমি একটি সূরা শুরু করেছিলাম যা পড়া বন্ধ করা আমি মোটেই পছন্দ করিনি। আল্লাহ্ তা'আলার কসম খেয়ে বলছি, আমার যদি এ ভয় না হতো যে, রাসূল আমাকে যে ঘাঁটির পাহারা দিতে বলেছেন তা আমি নষ্ট করতে বসেছি তা হলে সে আমাকে হত্যা করতো আমি তাকে হত্যা করার পূর্বে”। (আহমাদ ১৪৪৫১ আবূ দাউদ ১৯৩)