📄 অনুবাদকের কথা
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার জন্য যিনি আমাদেরকে নিখাদ তাওহীদের দিশা এবং সুন্নাত ও বিদ'আতের পার্থক্যজ্ঞান দিয়েছেন। অসংখ্য সালাত ও সালাম তাঁর জন্য যিনি আমাদেরকে তা-কিয়ামত সফল জীবন অতিবাহনের সঠিক পথ বাতলিয়েছেন। তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবায়ে কিরামের প্রতিও রইলো অসংখ্য সালাম।
মানুষ বলতেই সে মরেও সর্বদা মানুষের মাঝে অমর হয়ে থাকতে চায়। তা যে হওয়া যায় না কিংবা হওয়া অসম্ভব তাও কিন্তু নয়। বরং দুনিয়ার অনেকেই আজ মরেও অমর হয়ে আছেন। যেমনিভাবে আম্বিয়ায়ে কিরাম ও তাঁদের অনুসারীরা যুগে যুগে আল্লাহ্ তা'আলার আনুগত্য এবং সৎকর্মের প্রচার ও প্রসার করে মানুষের মাঝে আজও অমর হয়ে আছেন। তেমনিভাবে শয়তান ও তার অনুসারীরা আম্বিয়ায়ে কিরাম ও তাঁদের অনুসারীদের বিরোধিতা ও তাঁদেরকে প্রতিরোধ করার ষড়যন্ত্র এমনকি শরীয়ত বিরোধী হরেক রকমের অপকর্মের প্রচার ও প্রসার করে মানুষের মাঝে আজও অমর হয়ে আছে। তা হলে কেউ ভালো কাজ করে অমর। আবার কেউ খারাপ কাজ করেও অমর। তবে আমাদের জানতে হবে যে, কীভাবে এক জন মানুষ মরেও অমর হয়ে থাকলে দুনিয়ার সম্মানের পাশাপাশি আখিরাতের মর্যাদাও পেতে পারে।
তাই এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে নিজে জানা ও অন্যকে জানিয়ে দেয়ার স্বার্থেই বক্ষ্যমাণ পুস্তিকাটি অনুবাদের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। পুস্তিকাটি পড়ে সবাই কিছুটা হলেও দিক নির্দেশনা পেলে আমার শ্রমখানা সার্থক হবে বলে আমি আশা করি।
অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো এই যে, এ পুস্তিকাটিতে রাসূল সম্পর্কিত যতগুলো হাদীস উল্লিখিত হয়েছে সাধ্যমতো এর বিশুদ্ধতার প্রতি সযত্ন দায়িত্বশীল দৃষ্টি রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে অন্ততপক্ষে সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ 'আল্লামাহ্ নাসেরুদ্দীন আল্বানী (রাহিমাহুল্লাহ) এর হাদীস শুদ্ধাশুদ্ধনির্ণয়ন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এতসত্ত্বেও সকল যোগ্য গবেষকদের পুনর্বিবেচনার সুবিধার্থে প্রতিটি হাদীসের সাথে তার প্রাপ্তিস্থাননির্দেশ সংযোজন করা হয়েছে। তবুও সম্পূর্ণরূপে নিরেট নির্ভুল হওয়ার জোর দাবি করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছি না।
শব্দ বিন্যাস ও ভাষাগত কিছু না কিছু ভুল-ভ্রান্তি বিজ্ঞ পাঠকবর্গের চক্ষুগোচরে আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে ভুল গুরুসামান্য যতটুকুই হোক না কেন অনুবাদকের দৃষ্টিগোচর করলে চরম কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ থাকবো। যে কোন কল্যাণকর পরামর্শ দিয়ে দাওয়াতী স্পৃহাকে আরো বর্ধিত করণে সর্বসাধারণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। আল্লাহ্ তা'আলা সবার সহায় হোন।
এ পুস্তিকা প্রকাশে যে কোন জনের যে কোন ধরনের সহযোগিতার জন্য যথার্থ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে এতটুকুও কোতাহী করছি না। ইহপরকালে আল্লাহ্ তা'আলা প্রত্যেককে আকাঙ্ক্ষাতীত কামিয়াব করুন তাই হলো আমার সর্বোচ্চ প্রত্যাশা। আমীন সুম্মা আমীন ইয়া রাব্বাল 'আলামীন।
সর্বশেষে জনাব শায়েখ আব্দুল হামীদ ফায়যী আল-মাদানী সাহেবের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে পারছি না। যিনি অনেক ব্যস্ততার মাঝেও আমার আবেদনক্রমে পাণ্ডুলিপিটি আদ্যপান্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখেছেন এবং তাঁর অতীব মূল্যবান মতামত ব্যক্ত করেছেন। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে এর উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর জন্য এ কাজটিকে জান্নাতে যাওয়ার অসিলা বানিয়ে দিন। উপরন্তু তাঁর জ্ঞান আরো বাড়িয়ে দিন এ আশা রেখে এখানেই শেষ করলাম।
অনুবাদক
📄 লেখকের কথা
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى أَشْرَفِ الْمُرْسَلِينَ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ أَجْمَعِينَ.
সকল প্রশংসা আল্লাহ্ তা'আলার জন্য যিনি সর্ব জাহানের প্রতিপালক। তেমনিভাবে সকল সালাত ও সালাম সর্ব শ্রেষ্ঠ রাসূল আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ এর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবায়ে কিরামের উপর।
নিশ্চয়ই সর্ব শ্রেষ্ঠ আমল যা করলে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট বেশি সাওয়াব পাওয়া যায় এবং মহান আল্লাহ্ তা'আলাও বেশি খুশি হন তা হলো যে আমলের ফায়েদা অন্য ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছায়। আর তা এ জন্য যে, তার লাভ, পুণ্য ও সাওয়াব শুধু আমলকারীর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং তা অন্য মানুষ পর্যন্তও পৌঁছায় এমনকি পশু পর্যন্তও। যার ফলে এর ফায়েদা ব্যাপকরূপ ধারণ করে।
মানুষের নেক আমলের মাঝে যা বেশি লাভজনক তা হলো যার সাওয়াব আপনি পেতে থাকবেন; অথচ আপনি নিজ কবরে একা ও নির্জনে শায়িত। তাই এক জন মোসলমানের উচিত হবে তার মৃত্যুর পূর্বে এ দুনিয়াতে এমন কিছু আমল রেখে যাওয়ার সর্বাধিক চেষ্টা করা যা কর্তৃক মানুষ তার মৃত্যুর পরও লাভবান হবে এমনকি সে নিজেও লাভবান হবে তার কবরে ও আখিরাতে। আল্লাহ্ তা'আলা সত্যই বলেছেন। তিনি বলেন:
وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ اللَّهِ هُوَ خَيْرًا وَأَعْظَمَ أَجْرًا ) [المزمل: ٢٠] .
“তোমরা যা কিছু কল্যাণ নিজেদের জন্য অগ্রিম পাঠাবে তা আল্লাহ্ তা'আলার নিকট আরো উত্তম ও বড় পুরস্কার আকারে অবশ্যই পাবে”। (আল-মুয্যাম্মিল: ২০)
জনৈক কবি বলেন:
وَكُنْ رَجُلاً إِنْ أَتَوْا بَعْدَهُ يَقُوْلُوْنَ مَرَّ وَهَذَا الْأَثَرُ .
“তুমি এমন হওয়ার চেষ্টা করো যার মৃত্যুর পর অন্যরা বলবে: লোকটি চলে গেছে ঠিকই। তবে তার এ অবদানটুকু তাকে অবশ্যই অমর করে রেখেছে”।
আমি এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির অনেকগুলো দিক উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি। উপরন্তু আল্লাহ্ তা'আলার নিকট তাওফীক ও সঠিকতা কামনা করছি।
মুহাম্মাদ স্বালিহ আল-মুনাজ্জিদ
📄 ব্যাপক ফায়েদার সাওয়াব যে বেশি কুর’আন ও হাদীস থেকে তার প্রমাণ
১. আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: وَالْعَصْرِ إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ إِلَّا الَّذِينَ ءَامَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ ﴾ [العصر: ١ - ٣]
"সময়ের কসম! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তবে যারা ঈমান আনে, সৎকর্ম করে, পরস্পরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়”। (আল-'আস্ত্র: ১-৩)
আল্লামাহ্ সাদি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা সময়ের কসম খেয়েছেন। যা মূলতঃ দিন ও রাতের সমষ্টি। যা মানুষের সকল কর্মকাণ্ডের আধারও বটে। তিনি সময়ের কসম খেয়ে বলেছেন: নিশ্চয়ই সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তবে যার মাঝে নিচের চারটি গুণাবলী পাওয়া যাবে সে নয়। যা নিম্নরূপ:
ক. আল্লাহ্ তা'আলা যে বিষয়ে ঈমান আনতে বলেছেন সে বিষয়ে ঈমান আনা।
খ. নেক আমল করা। এটি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল কল্যাণকর কাজকর্মকেই শামিল করে। যার সম্পর্ক মূলতঃ আল্লাহ্ তা'আলা ও তাঁর বান্দাহদের সাথে। তা ওয়াজিব হোক কিংবা মুস্তাহাব।
গ. পরস্পরকে সত্য তথা ঈমান ও নেক আমলের উপদেশ দেয়া। মানে, একে অপরকে এ ব্যাপারে উপদেশ দিবে, উৎসাহিত করবে ও সাহস জোগাবে।
ঘ. আল্লাহ্ তা'আলার আনুগত্য, তাঁর অবাধ্য হওয়া থেকে দূরে থাকা ও তাঁর কষ্টদায়ক ফায়সালার উপর ধৈর্য ধারণ করার ব্যাপারে একে অপরকে উপদেশ দেয়া।
এগুলোর প্রথম দু'টির মাধ্যমে মানুষ নিজকে পরিপূর্ণ করে এবং অপর দু'টির মাধ্যমে সে অন্যকে পরিপূর্ণ করে। আর এ চারের পরিপূর্ণতার মাধ্যমেই সে ক্ষতিগ্রস্ততা থেকে বেঁচে মহান সফলতার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়। (তাইসীরুল-কারীমির-রাহমান: ৯৩৪)
তা হলে বুঝা গেলো, মানুষের সার্বিক ক্ষতিগ্রস্ততা থেকে বাঁচা অন্যের ফায়েদা করা তথা তাকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়ার প্রচেষ্টার মধ্যেই নিহিত।
২. নবী এ ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন যে, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হলো যে অন্যের ফায়েদায় আসে।
জাবির বিন্ আব্দুল্লাহ্ আল-আন্সারী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْمُؤْمِنُ يَأْلَفُ وَيُؤْلَفُ، وَلاَ خَيْرَ فِيمَنْ لَا يَأْلَفُ وَلَا يُؤْلَفُ، وَخَيْرُ النَّاسِ أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ
"এক জন মু'মিন সে নিজেও অন্যদের সাথে মিলেমিশে চলবে এবং অন্যরাও তার সাথে মিলেমিশে চলবে। তার মধ্যে সত্যিই কোন কল্যাণ নেই যে নিজেও অন্যদের সাথে মিলেমিশে চলে না এবং অন্যরাও তার সাথে মিলেমিশে চলে না। আর মানুষের মধ্যকার সর্বোৎৃষ্ট ব্যক্তি হলো সে যে অন্যের ফায়েদায় আসে"। (ত্বাবারানী/আওসাত্ব ৫৯৪৯ সিলসিলাতুল-আ'হাদীসিস্ব-স্বা'হী'হাহ্: ৪২৬)
হাদীস ব্যাখ্যাকার 'আল্লামাহ্ মুনাওয়ী (রাহিমাহুল্লাহ্) বলেন:
خَيْرُ النَّاسِ أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ .
মানে, যে মানুষকে নিজ সম্পদ ও প্রতিপত্তির মাধ্যমে উপকৃত করবে। আর তারাই হলো সত্যিকারার্থে আল্লাহ্ তা'আলার বান্দাহ্। তেমনিভাবে মানুষের মধ্যকার সবচেয়ে আল্লাহ্ তা'আলার প্রিয় বান্দাহ্ হলো যে মানুষের সর্বাধিক ফায়েদায় আসে। সে মানুষের দ্বীন ও দুনিয়ার যে কোন উপকার করে কিংবা তাদের উপর থেকে যে কোন বিপদ দূর করে। তবে ধর্মীয় লাভ সবচেয়ে সম্মানজনক ও স্থায়ী। (ফাইযুল-ক্বাদীর: ৩/৪৮১)
ইমাম ইবনুল-ক্বায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: মানুষের বুদ্ধি, ধর্ম, স্বভাব এমনকি তাদের সকল ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে দুনিয়ার সমূহ জাতির অভিজ্ঞতাও এ কথা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ্ তা'আলার নৈকট্য ও তাঁর সৃষ্টির প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ সমুদয় কল্যাণের আধার। আর এর বিপরীতটি সমুদয় অনিষ্টের আধারই বটে। মূলতঃ আল্লাহ্ তা'আলার কোন নিয়ামত কিংবা তাঁর কোন আযাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়নি তাঁর আনুগত্য ও তাঁর সৃষ্টির প্রতি দয়ার ন্যায় অন্য কোন জিনিসের মাধ্যমে। (আল-জাওয়াবুল-কাফী: ৯)
৩. আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
أَحَبُّ النَّاسِ إِلَى اللَّهِ أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ، وَأَحَبُّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ سُرُورٌ تُدْخِلُهُ عَلَى مُسْلِمٍ، أَوْ تَكْشِفُ عَنْهُ كُرْبَةً، أَوْ تَقْضِيْ عَنْهُ دَيْنًا، أَوْ تَطْرُدُ عَنْهُ جُوعًا، وَلَأَنْ أَمْشِيَ مَعَ أَخْ لِي فِي حَاجَةٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَعْتَكِفَ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ يَعْنِي مَسْجِدَ الْمَدِينَةِ شَهْرًا، وَمَنْ كَفَّ غَضَبَهُ سَتَرَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ، وَمَنْ كَظَمَ غَيْظَهُ وَلَوْ شَاءَ أَنْ يُمْضِيَهُ أَمْضَاهُ مَلَأَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ قَلْبَهُ أَمْنًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ مَشَى مَعَ أَخِيهِ فِي حَاجَةٍ حَتذَى أَثْبَتَهَا لَهُ أَثْبَتَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ قَدَمَهُ عَلَى الصِّرَاطِ يَوْمَ تَزِلُّ فِيْهِ الْأَقْدَامُ .
"আল্লাহ্ তা'আলার নিকট মানুষের মধ্যকার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি হলো যে অন্য মানুষের ফায়েদায় আসে। তেমনিভাবে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট সর্বপ্রিয় আমল হলো কোন মুসলিমকে খুশি করা, তাকে কোন বিপদ থেকে উদ্ধার করা, তার কোন ঋণ পরিশোধ করা এবং তার খিদা দূর করা। আমার কোন ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণের জন্য তার সাথে এতটুকু হাঁটা আমার নিকট অনেক প্রিয় এ মদীনার মসজিদে এক মাস ই'তিকাফ থাকার চেয়েও। যে ব্যক্তি নিজ রাগকে দমন করতে পেরেছে আল্লাহ্ তা'আলা তার দোষকে ঢেকে রাখবেন। আর যে ব্যক্তি নিজ রাগকে গিলে ফেলেছে; অথচ সে চাইলে তা প্রয়োগ করতে পারতো তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা তার অন্তরকে কিয়ামতের দিন নিরাপত্তা দিয়ে ভরে দিবেন। তেমনিভাবে যে ব্যক্তি নিজ ভাইয়ের কোন প্রয়োজন মেটানো পর্যন্ত তার সাথে হেঁটেছে আল্লাহ্ তা'আলা তার পা-কে পুল- স্বিরাতের উপর স্থির করে দিবেন যে দিন সকল পা পিছলে যাবে"। (ইবনু আবিদ্দুনয়া/ক্বাযাউল-'হাওয়ায়িজ ৩৬ আত-তারগীব ২৬২৩)
রাসূল এর বাণী:
وَلَأَنْ أَمْشِيَ مَعَ أَخْ لِي فِي حَاجَةٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَعْتَكِفَ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ يَعْنِي مَسْجِدَ الْمَدِينَةِ شَهْرًا .
"আমার কোন ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণের জন্য তার সাথে এতটুকু হাঁটা আমার নিকট অনেক প্রিয় এ মদীনার মসজিদে এক মাস ই'তিকাফ থাকার চেয়েও"। কারণ, ই'তিকাফের ফায়েদা নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর মানুষের প্রয়োজন পূরণে হাঁটার ফায়েদা অন্য ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছায়। যা মানুষের জন্য অবশ্যই লাভজনক।
শাইখ মু'হাম্মাদ বিন স্বালিহ্ আল-'উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ্) কে একদা জিজ্ঞাসা করা হলো, এক জন ই'তিকাফকারীর জন্য মোসলমানদের প্রয়োজন পূরণার্থে কারোর সাথে টেলিফোন আলাপ করা কি জায়িয?
উত্তরে তিনি বললেন: হ্যাঁ। এক জন ই'তিকাফকারীর জন্য মোসলমানদের যে কোন প্রয়োজন পূরণার্থে টেলিফোনে আলাপ করা জায়িয। যদি টেলিফোন কিংবা মোবাইল সেটটি মসজিদের ভেতরেই থাকে। কারণ, সে তো মসজিদ থেকে বের হচ্ছে না। আর যদি টেলিফোন সেটটি মসজিদের বাইরে থাকে তা হলে সে মসজিদ থেকে বের হবে না। আর যদি ব্যাপারটি এমন হয় যে, তাকে দিয়েই মোসলমানদের প্রয়োজনগুলো পূরণ করা হয় তা হলে তার জন্য ই'তিকাফে বসা উচিৎ হবে না। কারণ, মোসলমানদের প্রয়োজন পূরণ করা ই'তিকাফের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু, এর ফায়েদা সত্যিই ব্যাপক। আর ব্যাপক ফায়েদা সীমিত ফায়েদার চেয়ে অনেক উত্তম। যতক্ষণ না সীমিত ফায়েদাটি ইসলামের কোন বিশেষ কিংবা ওয়াজিব কাজ হয়। (মাজমূ'উ ফাতাওয়া ইব্নি 'উসাইমীন: ২০/১২৬)
৪. জাবির বিন্ আব্দুল্লাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لَا يَغْرِسُ الْمُسْلِمُ غَرْسًا فَيَأْكُلَ مِنْهُ إِنْسَانٌ وَلَا دَابَّةٌ وَلَا طَيْرٌ إِلَّا كَانَ لَهُ صَدَقَةً إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ .
"এক জন মোসলমান কোন কিছু রোপণ করলে তা থেকে যদি কোন মানুষ, পশু কিংবা পাখি খায় তা হলে তা তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত সাদাকা হয়ে থাকবে”। (মুসলিম ১৫৫৩)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে,
مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَغْرِسُ غَرْسًا إِلَّا كَانَ مَا أُكِلَ مِنْهُ لَهُ صَدَقَةٌ، وَمَا سُرِقَ مِنْهُ لَهُ صَدَقَةٌ، وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ مِنْهُ فَهُوَ لَهُ صَدَقَةٌ، وَمَا أَكَلَتِ الطَّيْرُ فَهُوَ لَهُ صَدَقَةٌ، وَلَا يَرْزَؤُهُ أَحَدٌ إِلَّا كَانَ لَهُ صَدَقَةً .
"কোন মোসলমান কোন কিছু রোপণ করলে তা থেকে যা খাওয়া হবে তা তার জন্য সাদাকা হবে। তা থেকে যা চুরি করে নেয়া হবে তাও তার জন্য সাদাকা হবে। উপরন্তু তা থেকে কোন হিংস্র পশু খেলেও তা তার জন্য সাদাকা হবে। তেমনিভাবে কোন পাখি খেলেও তা তার জন্য সাদাকা হবে। এমনকি কেউ কোনভাবে তা কমিয়ে দিলে কিংবা নিয়ে নিলেও তা তার জন্য সাদাকা হবে"। (মুসলিম ১৫৫২)
আবৃদ্দারদা' থেকে বর্ণিত তিনি একদা দামেশক এলাকায় কোন কিছু রোপণ করছিলেন। আর এমতাবস্থায় তাঁর কাছ দিয়ে জনৈক ব্যক্তি যাওয়ার সময় তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললো: আপনিও কি এ জাতীয় কাজ করছেন; অথচ আপনি রাসূল এর এক জন বিশিষ্ট সাহাবী। তখন তিনি তাকে বললেন: আরে, থামো। একটি কথা শুনো। আমি রাসূল কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন:
مَنْ غَرَسَ غَرْسًا لَمْ يَأْكُلْ مِنْهُ آدَمِيٌّ وَلَا خَلْقٌ مِنْ خَلْقِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا كَانَ لَهُ صَدَقَةٌ .
"যে ব্যক্তি কোন কিছু রোপণ করলো। আর তা থেকে কোন মানুষ কিংবা আল্লাহ্ তা'আলার যে কোন সৃষ্টি খেলো তা হলে তা তার জন্য সত্যিই সাদাকা হয়ে যাবে"। (আহমাদ্ ২৭৫৪৬ সা'হী'হুত-তারগীবি ওয়াত-তারহীব ২৬০০)
ইমাম নাওয়াওয়ী (রাহিমাহুল্লাহ্) বলেন: উক্ত হাদীসগুলোতে কোন কিছু রোপণ ও ফসল ফলানোর ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। আর যারা এ কাজ করবে তাদের সাওয়াবও চালু থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত উক্ত গাছ ও ফসল বিদ্যমান থাকবে। এমনকি কিয়ামত পর্যন্ত যদি এ থেকে কোন কিছু জন্ম নেয় তার সাওয়াবও তার আমলনামায় পৌঁছাবে।
উক্ত হাদীসে আরো বলা হয়েছে, এক জন মানুষকে তার চুরি হয়ে যাওয়া কিংবা পশু ও পাখি কর্তৃক বিনষ্ট হয়ে যাওয়া সম্পদের জন্যও সাওয়াব দেয়া হবে।
এ জন্যই ইমাম নাওয়াওয়ী সহ আরো কিছু কিছু আলিম ব্যবসা ও শিল্প কারখানার উপর চাষাবাদকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। কারণ, এর ফায়েদা অনেক বেশি। এর ফায়েদা মানুষ, পশু, পাখি এবং কীটপতঙ্গকেও শামিল করে। (ইমাম নাওয়াওয়ীর মুসলিমের ব্যাখ্যা গ্রন্থ: ৫/৩৯৬)
৫. মানুষের যে কোন কল্যাণই করা হোক না কেন তা সবই সাদাকাহ্:
জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
كُلُّ مَعْرُوفٍ صَدَقَةٌ .
"প্রত্যেক ভালো কাজই সাদাকাহ্”। (বুখারী ৫৬৭৫)
আবু যর গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
عَلَى كُلِّ نَفْسٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ طَلَعَتْ فِيْهِ الشَّمْسُ صَدَقَةٌ مِنْهُ عَلَى نَفْسِهِ، قُلْتُ: يَا رَسُوْلَ اللهِ! مِنْ أَيْنَ أَتَصَدَّقُ وَلَيْسَ لَنَا أَمْوَالُ؟ قَالَ: إِنَّ مِنْ أَبْوَابِ الصَّدَقَةِ التَّكْبِيرُ، وَسُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ للهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَتَأْمُرُ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ، وَتَعْزِلُ الشَّوْكَةَ عَنْ طَرِيْقِ النَّاسِ وَالْعَظْمَ وَالْحَجَرَ، وَتَهْدِي الْأَعْمَى، وَتُسْمِعُ الْأَصَمَّ وَالْأَبْكَمَ حَتَّى يَفْقَهَ، وَتُدِلُّ الْمُسْتَدِلَّ عَلَى حَاجَةٍ لَهُ قَدْ عَمِلْتَ مَكَانَهَا، وَتَسْعَى بِشِدَّةِ سَاقَيْكَ إِلَى اللَّهْفَانِ الْمُسْتَغِيْثِ، وَتَرْفَعُ بِشِدَّةِ ذِرَاعَيْكَ مَعَ الضَّعِيْفِ، كُلُّ ذَلِكَ مِنْ أَبْوَابِ الصَّدَقَةِ مِنْكَ عَلَى نَفْسِكَ، وَلَكَ فِي جَمَاعِكَ زَوْجَتَكَ أَجْرٌ، قَالَ أَبُوْ ذَرِّ : كَيْفَ يَكُوْنُ لِي أَجْرٌ فِي شَهْوَنِي؟ فَقَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ: أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ لَكَ وَلَدٌ فَأَدْرَكَ وَرَجَوْتَ خَيْرَهُ فَمَاتَ أَكُنْتَ تَحْتَسِبُ بِهِ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: فَأَنْتَ خَلَقْتَهُ؟ قَالَ: بَلِ اللَّهُ خَلَقَهُ، قَالَ: فَأَنْتَ هَدَيْتَهُ؟ قَالَ: بَلِ اللَّهُ هَدَاهُ، قَالَ: فَأَنْتَ تَرْزُقُهُ؟ قَالَ: بَلِ اللَّهُ كَانَ يَرْزُقُهُ، قَالَ: كَذَلِكَ فَضَعْهُ فِي حَلَالِهِ وَجَنِّبْهُ حَرَامَهُ فَإِنْ شَاءَ أَحْيَاهُ وَإِنْ شَاءَ أَمَاتَهُ وَلَكَ أَجْرٌ .
“প্রতিটি মানুষকেই প্রতি দিন অবশ্যই সাদাকাহ্ দিতে হবে। আমি বললাম: হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমি কোত্থেকে সাদাকাহ্ দেবো? আমাদের কাছে তো কোন সম্পদ নেই। তিনি বললেন: বস্তুতঃ সাদাকাহ্'র কয়েকটি পন্থা রয়েছে। তাকবীর বা আল্লাহু আকবার তথা আল্লাহ্ তা'আলার মহত্ত্ব বর্ণনা করা সাদাকাহ্। "সুব্হানাল্লাহ্” তথা আল্লাহ্ তা'আলার পবিত্রতা বর্ণনা করা আরেকটি সাদাকাহ্। "আল্ হাম্দুলিল্লাহ্” তথা আল্লাহ্ তা'আলার প্রশংসা করা আরেকটি সাদাকাহ্। "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” তথা আল্লাহ্ তা'আলার তাও'হীদের ঘোষণা দেয়া আরেকটি সাদাকাহ্। "আস্তাগফিরুল্লাহ্” তথা আল্লাহ্ তা'আলার নিকট ক্ষমা চাওয়া আরেকটি সাদাকাহ্। কাউকে ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা আরেকটি সাদাকাহ্। মানুষের চলার পথ থেকে কাঁটা, হাড় ও পাথর সরিয়ে দেয়া আরেকটি সাদাকাহ্। অন্ধকে পথ দেখানো এবং বধির ও বোবাকে কোন কিছু বুঝানোর জন্য উচ্চস্বরে শুনিয়ে বলা আরেকটি সাদাকাহ্। কোন প্রয়োজন পূরণের পথ অনুসন্ধানীকে তোমার জানা মতো সঠিক পথটি দেখিয়ে দেয়া আরেকটি সাদাকাহ্। কোন বিপদে পড়া আর্তনাদকারীর সহযোগিতার জন্য নিজের দু' পায়ের শক্তি দিয়ে দৌড়ে যাওয়া আরেকটি সাদাকাহ্। তেমনিভাবে তোমার দু' হাতের শক্তি দিয়ে কোন দুর্বলের বোঝা উঠিয়ে দেয়া আরেকটি সাদাকাহ্। এ সবগুলো তোমার পক্ষ থেকে সাদাকাহ্ করার কয়েকটি পন্থা।
এমনকি তোমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করার মধ্যেও তোমার সাওয়াব রয়েছে। আবু যর (রাঃ) বললেন: আমার চাহিদা পূরণ করছি এরপরও তাতে সাওয়াব কিসের? রাসূল (ﷺ) বললেন: তোমার কী মনে হয় বলো তো, তোমার যদি কোন সন্তান থাকে। আর সে বড় হওয়ার পর তুমি তার কাছ থেকে কল্যাণের আশা করছো। এমতাবস্থায় তার মৃত্যু হলে তুমি কি তাতে কোন সাওয়াবের আশা করো? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তুমি কি তাকে সৃষ্টি করেছো? বরং আল্লাহ্ তা'আলাই তাকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি বললেন: তুমি কি তাকে সঠিক পথ দেখিয়েছো? বরং আল্লাহ্ তা'আলাই তো তাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন। তিনি বললেন: তুমি কি তাকে রিযিক দিয়েছো? বরং আল্লাহ্ তাআলাই তো তাকে রিযিক দিয়েছেন। তিনি বললেন: তেমনিভাবে তুমি তোমার বীর্যকে হারাম জায়গায় না রেখে হালাল জায়গায় রাখো। আল্লাহ্ তা'আলা চাইলে তাতে জীবন দিবেন না হয় মৃত্যু দিবেন। আর তাতে তোমার সাওয়াব হয়ে যাবে"। (ইবনু 'হিব্বান ৩৩৭৭ আহমাদ ২১৫২২ সিলসিলাতুল-আ'হাদীসিস্ব-স্বা'হী'হাহ্ ৫৭৫)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন:
كُلُّ سُلَامَى مِنَ النَّاسِ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ، كُلَّ يَوْمٍ تَطْلُعُ فِيْهِ الشَّمْسُ، يَعْدِلُ بَيْنَ الاثْنَيْنِ صَدَقَةٌ، وَيُعِيْنُ الرَّجُلَ عَلَى دَابَّتِهِ فَيَحْمِلُ عَلَيْهَا أَوْ يَرْفَعُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ صَدَقَةٌ، وَالْكَلِمَةُ الطَّيِّبَةُ صَدَقَةٌ، وَكُلُّ خُطْوَةٍ يَخْطُوهَا إِلَى الصَّلَاةِ صَدَقَةٌ، وَيُمِيْطُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ .
"মানুষের শরীরের প্রতিটি জোড়ার বিপরীতে তাকে অবশ্যই প্রতি দিন সাদাকাহ্ দিতে হবে। দু' জনের মাঝে ইনসাফ ভিত্তিক ফায়সালা করা সাদাকাহ। কাউকে তার উটের পিঠে আরোহণ করিয়ে দেয়া কিংবা তার আসবাবপত্র তার উঠের পিঠে উঠিয়ে দেয়ার ব্যাপারে তাকে সহযোগিতা করাও সাদাকাহ্। ভালো ও নেকির কথা বলা সাদাকাহ্। নামাযের জন্য মসজিদে যাওয়ার সময় প্রতিটি কদম নিক্ষেপ করাও সাদাকাহ। এমনকি রাস্তা থেকে কোন কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেয়াও সাদাকাহ"। (বুখারী ২৮২৭)
৬. মানুষের ফায়েদা করার চেষ্টা করা জান্নাতে যাওয়া ও জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি বিশেষ মাধ্যম:
আবু যর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি একদা নবী কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, কোন্ আমলটি সর্বোত্তম? তখন তিনি বললেন:
إِيمَانُ بِاللَّهِ وَجِهَادٌ فِي سَبِيْلِهِ، قُلْتُ: فَأَيُّ الرِّقَابِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: أَغْلَاهَا ثَمَنًا وَأَنْفَسُهَا عِنْدَ أَهْلِهَا، قُلْتُ: فَإِنْ لَمْ أَفْعَلْ ؟ قَالَ: تُعِينُ صَانِعًا أَوْ تَصْنَعُ لِأَخْرَقَ، قُلْتُ: فَإِنْ لَمْ أَفْعَلْ ؟ قَالَ: تَدَعُ النَّاسَ مِنَ الشَّرِّ فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ تَصَدَّقُ بِهَا عَلَى نَفْسِكَ .
"আল্লাহ্ তা'আলার উপর ঈমান আনা ও তাঁর পথে জিহাদ করা। আমি বললাম: কোন্ গোলামটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: যার মূল্য বেশি ও তার মালিকের নিকট যে গোলামটি অত্যধিক প্রিয়। আমি বললাম: আমি যদি তা না পারি? তিনি বললেন: কোন পেশাধারীর সহযোগিতা করবে কিংবা কোন পেশাহীন ব্যক্তির কামাইয়ের ব্যবস্থা করে দিবে। আমি বললাম: আমি যদি তা না পারি? তিনি বললেন: অন্ততপক্ষে মানুষকে তোমার অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবে তা হলে এটাও তোমার জন্য সাদাকাহ্ হবে”। (বুখারী ২৩৮২)
আবু যর থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহ্'র রাসূল! কোন্ বস্তুটি বান্দাহকে জাহান্নام থেকে মুক্তি দিবে? তিনি বললেন: আল্লাহ্ তা'আলার প্রতি ঈমান। আমি বললাম: হে আল্লাহ্'র রাসূল! ঈমানের সাথে কোন আমলও আছে কি? তিনি বললেন: আল্লাহ্'র দেয়া রিযিক থেকে সে মানুষকে কিছু দান করবে।
আমি বললাম: হে আল্লাহ্'র রাসূল ﷺ! যদি লোকটি দরিদ্র হয়। তার কাছে দান করার মতো কোন কিছুই না থাকে? তিনি বললেন: সে অন্যকে ভালো কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আমি বললাম: হে আল্লাহ্'র রাসূল ﷺ! সে যদি অজ্ঞ কিংবা অক্ষম হয়। সে অন্যকে ভালো কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতে না পারে? তিনি বললেন: সে কোন পেশাহীন মূর্খের কামাইয়ের ব্যবস্থা করবে। আমি বললাম: সে যদি নিজেও মূর্খ হয় কোন পেশাই তার জানা না থাকে? তিনি বললেন: তা হলে সে কোন মাযলুমকে সহযোগিতা করবে। আমি বললাম: সে যদি দুর্বল হয় কোন মাযলুমকেও সহযোগিতা করতে না পারে? তিনি বললেন: বস্তুতঃ তুমি তোমার সাথীর মাঝে কোন কল্যাণই রাখতে চাও না। তা হলে সে মানুষকে কষ্ট দিবে না। আমি বললাম: হে আল্লাহ্'র রাসূল ﷺ! সে এ কাজটি করলে কি জান্নাতে যেতে পারবে? তিনি বললেন: কোন মোসলমান এ কাজগুলোর কোনটি করলে সে কাজটি তার হাত ধরে তাকে জান্নাতে ঢুকিয়ে দিবে। (ত্বাবারানী/আওসাত্ব ৫০৮১ স্বা'হী'হুত-তারগীবি ওয়াত-তারহীব ৮৭৬)
'উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ﷺ কে একদা জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন্ আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন:
إِدْخَالُكَ السُّرُوْرَ عَلَى مُؤْمِنٍ، أَشْبَعْتَ جَوْعَتَهُ، أَوْ كَسَوْتَ عُرْيَهُ، أَوْ قَضَيْتَ لَهُ حَاجَةً .
"যে কোন মু'মিনকে খুশি করা। তার খিদে মিটিয়ে দিবে, তাকে কাপড় পরিয়ে দিয়ে উলঙ্গতা থেকে রক্ষা করবে, অথবা তার কোন প্রয়োজন পূরণ করবে”। (ত্বাবারানী/আওসাত্ব ৫০৮১ স্বা'হী'হুত-তারগীবি ওয়াত-তারহীব ২৬২১)
তেমনিভাবে নবী ﷺ আদেশ করেছেন যে, তোমাদের কেউ তার কোন মোসলমান ভাইয়ের যে কোনভাবে ফায়েদা করতে পারলে সে যেন তাই করে। রাসূল ﷺ বলেন:
مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَنْفَعَ أَخَاهُ فَلْيَفْعَلْ .
"তোমাদের কেউ তার কোন মোসলমান ভাইয়ের কোন ফায়েদা করতে পারলে সে যেন তাই করে"। (মুসলিম ২১৯৯)
ফায়েদার দিক তো দুনিয়াতে অনেকগুলোই। তবে যে আমল মানুষের জন্য যতো বেশি লাভজনক হবে তা আল্লাহ্ তা'আলার নিকট ততো বেশি শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত হবে। তাই প্রতিটি মু'মিনের উচিৎ হবে এমন আমলের প্রতি উৎসাহিত হওয়া যার লাভ সবচেয়ে বেশি ও ব্যাপক।
📄 ইসলামের ফায়েদার জন্য ওয়াকফ
দুনিয়া ও আখিরাতে নেক আমল ও সাওয়াবের বৃদ্ধির জন্য ওয়াক্ফ একটি বিশেষ মাধ্যম।
ওয়াক্ফ মানে, কোন বস্তুর মূল নিজের আওতাধীন রেখে তার ফায়েদা জনগণের মাঝে বিলিয়ে দেয়া। (আল-কাফি: ২/২৫০)
কোন জিনিসের মূল বলতে যা টিকিয়ে রেখে তা কর্তৃক লাভবান হওয়া সম্ভব এমন সব কিছুকেই বুঝানো হয়। যেমন: ঘর, দোকান, বাগান ইত্যাদি।
ওয়াফ্ফের উক্ত সংজ্ঞা হাদীস সমর্থিত। নবী (ﷺ)একদা 'উমর (রাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন:
فَاحْبِسْ أَصْلَهَا وَسَبِّلِ الثَّمَرَةَ .
"মুলটা আটকে রেখে তার ফলগুলো মানুষের মাঝে বিলিয়ে দাও”। (নাসায়ী ৩৬০৪)