📘 মনের ওপর লাগাম > 📄 লেখকের জীবনী

📄 লেখকের জীবনী


আবুল-ফারাজ জামালুদ্দিন ইবনু ‘আলী ইবনুল-জাওযীর জন্ম ৫০৮ বা ৫১০ হিজরি সনে। ইংরেজি সালের হিসেবে সেটা ১১১৩ সালের দিকে। আমাদের কাছে তিনি ইবনুল-জাওযী নামেই পরিচিত। খালীফাহ আবু বকর আস-সিদ্দীকের ছেলে মুহাম্মাদের বংশধর তিনি। জন্ম ইরাকের বাগদাদে। তিনি ছিলেন হানবালী মাযহাবের অনুসারী।[১]
পড়াশোনার প্রথম পাঠ শাইখ ইবনু নাসিরের কাছে। কিশোর বয়সে তার খালা তাকে উনার কাছে নিয়ে যান। ইসলামের নানা বিষয়ে তার কাছেই হাতেখড়ি। দিন-প্রচারে তখন থেকেই দুর্বার আকর্ষণ খুঁজে পান এই মহতি মনীষী। ছোটো ছোটো খুতবা দিতে শুরু করেন এখানে ওখানে।
মাত্র তিন বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছেন। এরপর ফুকুর কাছে বেড়ে ওঠেন। তার আত্মীয়স্বজনেরা ছিলেন তামা ব্যবসায়ী। এজন্য কখনো কখনো হাদিসের মজলিসে তার নাম লিখতেন ‘আবদুর-রাহমান ইবনু ‘আলী আস-সাফফার’। সাফফার মানে ভাস্কর।
আয-যাহাবী বলেছেন, ১১৩০ সালের দিকে তিনি প্রথম হাদিসের মজলিসে হাদিস শেখানো শুরু করেন।[২]
অল্প বয়সেই ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার নামডাক ছড়িয়ে পড়ে। অবসরের সময় মানুষের সাথে অযথা সময় নষ্ট করতেন না। খাধারের উস্ন সন্দেহজনক উপার্জন থেকে হলো খেতেন না। কেবল সালাতের সময় ঘর থেকে বের হোন। সময়বাপীদের সাথে খেলতে যেতেন না একেবারেই। চোয়ালবদ্ধ সংকল্পের অধিকারী, উচ্চাকাঙ্খী এক মানুষ ছিলেন ইবনুল-জাওযী। সারাটা জীবন বিনিযোগ করেছেন জ্ঞান অন্বেষণ, প্রচার আর লিখনিতে।[১]

তার শিক্ষকেরা
নিজের শিক্ষকদের নিয়ে ‘মাশখায়াতু ইবনুল-জাওযী’ নামে বই লিখেছেন তিনি। সেখানে তার অনেক শিক্ষকের কথা বলেছেন। হাদিস-শাস্ত্রে তার উস্তায ছিলেন ইবনু নাসির। কুর'আন ও আদব বিষয়ে সিবতূল-ফিয়াত ও ইবনুল- জাওয়ালীকী। আদ-দিনাওয়াওরি এবং আল-মুতাওয়াক্কিলি থেকে সর্বশেষ হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন তিনি।[২]

তার ছাত্ররা
তার কাছে থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে আছেন তার ছেলে বিখ্যাত ‘আলিম মুফতিউ-দিন ইউসুফ আল-মুতা‘সিম বিল্লাহ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ছিলেন তিনি। এছাড়া আছেন তার বড় ছেলে ‘আলী আল-নাসিহ, তার নাতি দা‘ঈ শামসুদ-দিন ইউসুফ ফরগালী আল-হানফী —মির‘আহ-যামান একটি বই আছে তার। এছাড়া আছেন আল-হাফিম ‘আবদুল-গানী, শাইখ মুওয়াফফাকুদ্-দিন ইবনু কুদামা, ইবনুদ-দুবায়সী, ইবনুল-নাজ্জার এবং আবদ- দিয়া।[৩]

তার ছেলেমেয়ে
বেশিভাগ জীবনী-লেখকেরা বলেছেন তার ছেলে ছিল তিনজন।
* বড় ছেলের নাম আবু বকর ‘আবদুল-‘আযীয’। তিনি হাম্বালী মাযহাবের ফাকীহ ছিলেন। ফাকীহ মানে ইসলামী আইনজ্ঞ। আবুল-ওরাক্ব, ইবনু নাসির, আল-আরমাউতসহ বাবার অনেক শিক্ষকের কাছে তিনি পড়াশোনা করেছেন। একটা সময় তিনি বর্তমান ইরাকের মসুল নগরীতে দীনের প্রচার-প্রসারের কাজ করেছেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন সময় নানা বিষয়ে ফাতওয়া দিতেন। স্থানীয় লোকজনের কাছে তার বেশ কদর ছিল। লোকে বলাবলি করে, আল-যাহরাউয়ী পরিবারের লোকজন তাকে হিংসা করতো। এরা চক্রান্ত করে কাউকে দিয়ে তার পানির মধ্যে বিষ মিশিয়ে তাকে মেরে ফেলো। সেই বিষের ক্রিয়াতেই ১১৬০ সালে তার মৃত্যু হয়।১ বাবা ইবনুল-জাওযী তখনো বেঁচে।
* মেঝো ছেলের নাম আবুল-কাসিম বাদ্রুদ্দীন ‘আলী আন-নাসিহা’। তার ব্যাপারে বলার মতো তেমন কিছু নেই।
* ছোট ছেলের নাম আবু মুহাম্মাদ ইউসুফ মুহিউদ-দীন।২ জন্ম ১১৮৮ সালে। ছেলেদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে মেধাবী ছিলেন। একাধারে তিনি ছিলেন ‘আলিম, দা’ঈ, খাতিব। বাবার মৃত্যুর পর বাবার জায়গায় তিনি ফাতওয়া দিতে শুরু করেন। আর তাতে ছাড়েও যান সবাইকে।৩ সমকালীন ‘আলিমরা তার নামডাকের কারণে তার সাথে দেখাসাক্ষাৎ করতে আসতেন। একসময় তাকে দেওয়া হয় বাগদাদের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব। পরে খালিফাদের চিঠি বিভিন্ন অঞ্চলের রাজাদের কাছে নিয়ে যাওয়ার নতুন দায়িত্ব পান। ১২৪৬ সালে খালিফাহ আল- মুসতা‘সিমের প্রতিদ্বন্দ্বে তিনি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর অল্প সেই কলমময়। হানাক্ব খান বাগদাদ দখল করে পুরো শহর ধ্বংস করে ফেলল। অসাধারণ এই ‘আলিমকে জেলে বন্দী করল অত্যাচারী হালাক্ব খান। জেলবন্দী অবস্থাতেই ১২৫৮ সালে তাকে হত্যা করা হয়। তার তিন ছেলে জামালুদ্-দীন, শারাকুদ্-দীন ও তাজুদ-দীনকেও একসাথে মেরে ফেলা ওরা। অসংখ্য বইপত্রও লিখেছেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাজি‘আনিনুল-আবরারি ফি তাফক্বিফুল-ক্বাতলুন-‘আলীযি ও মাযহাবুল-আহমাদ ফি মাযহাবুল আহমাদা। মেঝা ভাই আবুল-কাসিমের মতো অবাছা ছিলেন না তিনি। বাবাকে ভীষণ শ্রদ্ধা করতেন।
ইবনুল-জাওযীর জীবনীকারদের মধ্যে একজন ছিলেন তার নাতি আবুল-মুযাফ্ফির। তিনি বলেছেন তার বেশ কয়েকজন কন্যা ছিল। তারা হলেন রাফি‘আ, শারাকুন-নিসা’, যায়নাব, জাওহারাহা, সিত্তুল-‘উলামা আস-সুগরা এবং সিত্তুল-‘উলামা আল-কুবরা’৬।

দ্বীন প্রচারক হিসেবে তার অনন্যতা
আয়-যাহাবি তার দা‘ওয়াহ-কার্যক্রম নিয়ে চমৎকার কিছু কথা বলেছেন: মানুষকে দীনের বিষয়-আশাগুলো স্মরণ করিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে তিনি ছিলেন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। তার মতো করে খুব কম মানুষই কথা বলতে পারতেন। কখনো তিনি মনোমুগ্ধকর কবিতা আবৃত্তি করতেন, কখনো-বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরলসিধা কথাগুলো দিয়ে সাজাতেন নাসীহার পঞ্জিগুলো। সুন্দর শব্দচয়নে মানুষের মনকে নাড়িয়ে দিতে পারতেন। এর অজস্র উদাহরণ আছে তার সোনালি জীবনে। তার আগে এমন কেউ ছিল না; তার পরেও না। যতভাবে মানুষকে নাসীহাহ দেওয়া যায় তিনি ছিলেন তার জীবন্ত প্রমাণ। তার পোশাক-আশাক ছিল দৃষ্টিসুখকর। গলার স্বর শুনে কান আরাম পেত। তার কথা মানুষের মনে প্রভাব ফেলত। জীবনযাপন পদ্ধতি ছিল সুন্দর।৭ আমার বিশ্বাস তার মতো অন্য কেউ আর হবে না।৮
ইবনু রাজাব বলেছেন, তার নাসীহার বৈঠকগুলো ছিল একেবারেই অন্যরকম। আগে কেউ এমনটা শোনেনি। অনেক ফায়দা হতো এসবররররররররর মজলিসে। বেখেয়ালি মানুষের টনক নড়ত। বেখবর মানুষ জানতে পারত। অপরাধীরা অনুশোচনা করত। আর বদ্ধহৃদয়পূজারীরা মুসলিম হতো।৯
‘আল-আয়উল ইবনুল-মিসরিয়্যাহ’ বইতে শাইখুল-ইসলাম ইবনু তায়মিয়্যাহ বলেছেন, বিভিন্ন শাস্ত্রে শাইখ আবুল-ফাররাজের দক্ষতা ছিল দেখার মতো। এসব বিষয়ে তিনি প্রচুর বই লিখেছেন। শুনে দেখেছি তার বইয়ের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে। পরে অবশ্য আমি তার অন্যান্য কাজেও সন্ধান পেয়েছি।১০
তার কিছু বইপত্রের কথা উল্লেখ করার পর আম-যাহাবী অন্য এক জায়গায় বলেছেন, “উনি যা লিখেছেন তা আর কেউ লেখেননি বলে আমি জানি না।”১১ সুধী শিক্ষক ‘আবদুল-হামিদ আল-‘আলূহী তার বিভিন্ন কাজ নিয়ে একটা বই লিখেছেন। ১৯৬৫ সালে এটি বাগদাদে প্রকাশিত হয়। এই বইতে তিনি তার বইগুলোর প্রকাশিত-অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপির অনুসন্ধান চালিয়েছেন। সবগুলোকে তিনি বর্ণমালাক্রম বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছেন। যারা তার বইগুলোর ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চান তারা এই বইটি দেখতে পারেন। এখানে উল্লেখ করা বেশিরভাগ বই-ই ছাপা হয়েছে।
ইমাম ইবনুল-জাওযী রাহিমাহুল্লাহ প্রায় ৩০০ বই রচনা করেছেন। হাপরা বইগুলো হলো যার মধ্যে আছে:
* তালাফকি খুসম যাহিলিল-আসার ফি মুযতাসারিদ-সিয়ারী ওয়াল-আকবার১। [একটি অংশ ছাপা হয়েছে]
* আল-আসফিয়া’ ওয়া আকাবরাহমা’২ [প্রকাশিত]
* মানাকিব ‘উমার ইবনু ‘আবদুল-আযীয’৩ [প্রকাশিত]
* রাওদুল-আওয়ার৪ [প্রকাশিত]
* ওযফুল-‘উক্বদ ফি তারিখুল-‘উক্বদ’৫ [পাণ্ডুলিপি]
* যাদুল-মাসির ফি ইলমুত্ব-তাফসীর’৬ [প্রকাশিত]
* আল-মুনতাজাম ফি তারিখুল-মুলুক্ব ওয়াল-উমাম’৭ [শুধু ৬ খণ্ড প্রকাশিত]
* আয-যাবুল-মাসরুক্ব ফি সিয়াগিল-মুলুক্ব’৮ [পাণ্ডুলিপি]
* আল-হামক্বা ওয়াল-মুগাফফালিন’৯ [প্রকাশিত]
* আল-ওয়াফা ফি ফাদ্বাইলিল-মুসতফা’১০ [প্রকাশিত]
* মানাকিব ‘উমার ইবনুল-খাত্তাব’১১ [প্রকাশিত]
* মানাকিব আহমাদ ইবনু হানবাল’১২ [প্রকাশিত]
* গাইরুল-হাদীস’১৩ [প্রকাশিত]
* আত-জাক্বীকা’১৪ [শুধু প্রথম খণ্ড প্রকাশিত] এগুলো ছাড়াও অন্যান্য আরও অনেক বিষয়েও তিনি বই লিখেছেন। ১২০১ সালের ১২ই রামাদান শুক্রবার ইবনুল-জাওযী মারা যান। বাবা হার্ব কবরস্থানে ইমাম আহমাদ ইবনু হানবালের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

টিকাঃ
[১] সাইদুর-রাউলাহাইন, পৃষ্ঠা ২১, আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ, পৃষ্ঠা ১৫/২৬
[২] সাইদুর-রাউলাহাইন, পৃষ্ঠা ২১, সাইদা'আলা তাবাকাতুল-হানাবিলা, ১/৪০১, শাজারাতুল-যাহাব, ৪/৩০০
[১] আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ, ১৫/২৬, সাইদুল-ফাতির, ২৬৮。
[২] সিয়াকুল-আ'লামুন-নুবলা’, ২১/৬৬৬, ৬৬৭。
[৩] সিয়াকুল-আ'লামুন-নুবলা’, ২১/৬৬৭。
১| সহীহ তাবাকাতুল-হানাবিলা, ১/৪৫০, ৪৪১。
২| দেখুন, সিয়াক্বুল-আ‘লামুন-নুবালা’, ২৬/৬৭২, আল-‘ইবার, ৫/২৫৭, দূরাদুল-ইসলাম, ২/১১২, আল-বিদায়াহ ওয়াান-নিহায়াহ, ১৫/১০৬, সাইদুল তাবাকাতুল-হানাবিলা, ২/২২৪৯-২৯১, আল-‘উসজুন-মাসবুক্ব, ৫৬৯, সায়রাতুল-সাদাব, ৫/২৮৬, ২৮৭, ইবনু শাতী: মুশতাসার তাবাকাতুল-হানাবিলা, পৃষ্ঠা ৫৭。
৬| মিরা’আতুল-যামান, ৮/৫০৩, আবু শায়মা: সাইদুল-রাউতালাইনে, ২৯১。
৭| সিয়াক্বুল-আ‘লামুন-নুবালা’, ২১/৬৬৭。
৮| ঐ, ২১/৬৬৪。
৯| সাইদুল তাবাকাতুল-হানাবিলা, ১/৪১০。
১০| ঐ, ১/৪১৫, আত-তালু-মুকালাল, ৭০১。
১১| তাযকিরাতুল-হুফফায, ১৩৪৮。
১| নবিজি ও সাহাবিদের নিয়ে ঐতিহাসিক ঘটনার সংগ্রহ。
২| বুদ্ধিমান বিভিন্ন লোকের বিভিন্ন ঘটনা সংগ্রহ。
৩| খলিফাহ ‘উমার ইবনু ‘আবদুল-আযীযের গুণাবলি নিয়ে。
৪| আরও ও আখিরাতের বিবরণ。
৫| তারিখুল-মুলুক্ব ওয়াল-উমাম বইয়ের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ。
৬| তাফসীর শাস্ত্রের ওপর。
৭| নানা জাতি ও বাদশাহদের কাহিনি।
৮| ইতিহাসজুড়ে নানা নেতা ও বাদশাহদের নিয়ে。
৯| বেখেয়ালি নির্বোধ লোকের কাহিনি。
১০| নবিজির গুণাবলি নিয়ে。
১১| ‘উমার ইবনুল-খাত্তাবের গুণাবলি নিয়ে。
১২| ইমাম আহমাদ ইবনু হানবালের গুণাবলি নিয়ে。
১৩| হাদীসশাস্ত্রের গরীব হাদীস বিষয়ে。
১৪| বইটা আল-ক্বাদি আবু যা‘লা রচিত আত-তাজ্বদিক্বুল-ক্বাবির বইয়ের বর্ণনাগুলো যাচাই নিয়ে এবং কীভাবে হাদীসের মান যাচাই ‘আলিমদের দৃষ্টিতে প্রভাব ফেলেছে।

📘 মনের ওপর লাগাম > 📄 শার‘ঈ সম্পাদক পরিচিতি

📄 শার‘ঈ সম্পাদক পরিচিতি


এই পৃথিবীতে চোখ মেলেছেন ১৯৮২ সাল ১৬ জানুয়ারি। জন্মস্থান নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়িও কেশারখিল গ্রামে। তিনি কুর’আনের হাফিয। হাজী নূর মুহাম্মাদ তার গর্বিত পিতা। গর্বধারিণী মা তাজ নাহার।
মক্তব গমনের মধ্য দিয়ে তার পড়াশোনার হাতেখড়ি। এরপর কওছর নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা। তারপর ঢাকার টিকাটুলি জামে মসজিদে অবস্থিত ‘তাহফীযুল কুরআন মাদরাসা’য় ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই হিফয সমাপন করেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকার বিখ্যাত ধর্মীয় বিদ্যাপীঠ যাত্রাবাড়ি বড় মাদরাসায়। সেখান থেকেই অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে তাকমীলে হাদীস সমাপন করেন এবং মাদরাসাগুলোর সম্মিলিত শিক্ষাবোর্ড ‘আল-হাইআতুল-‘উলইয়া’- এর কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ১২তম স্থান অর্জন করেন। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানেই উচ্চতর হাদীস গবেষণা বিভাগে অধ্যয়নরত আছেন।
ছাত্র জীবনেই সাহিত্যের আসরে তার আনাগোনা। তাঁর নেশা বইপাঠ। লেখালেখি করছেন অনেকদিন ধরে। প্রবন্ধ ও গবেষণাধর্মী মৌলিক রচনায় বেশি মনোযোগী। অনুবাদেও পিছিয়ে নেই। তার প্রথম মৌলিকগ্রন্থ ‘নাস্তিকতার স্বরূপ সন্ধান’ ইতোমধ্যে পাঠকদের দৃষ্টিআকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। অনূদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: হে যুবক তোমাকে বলছি, কী পড়বেন কীভাবে পড়বেন, ছাত্রদের বলছি, উষ্মার প্রতি ঐক্যের আহ্বান, রাগ করবেন না, সালাফদের ইলমী শ্রেষ্ঠত্ব ইত্যাদি।
জেনারেল শিক্ষিত মানুষের মধ্যে দাওয়াতী কাজ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণে তিনি আগ্রহী। প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে দাওয়াহ্ কার্যক্রমের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করেন। লেখালেখির মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের খেদমতে তিনি বদ্ধপরিকর।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00