📘 মনের ওপর লাগাম > 📄 সন্তান শাসন

📄 সন্তান শাসন


কাঁচা বয়সের শাসন সেরা শাসন। ছেলেমেয়েদের যদি নিজেদের উপর ছেড়ে দেন, আর তখন ওরাও যদি একবার আজেবাজে স্বভাব নিয়ে বড় হয়, তখন ওদের ঠিক করা খুব কঠিন হবে।
এক কবি বলেছেন, বাড়ন্ত শাখাকে চাইলে সোজা করলে সোজা হবে কিন্তু কাণ্ডকে সোজা করা যায় না সন্তানকে ধীরে ধীরে শাসন করলে তা কাজ দেয় বয়স হয়ে গেলে তা আর কাজে দেয় না
শৃঙ্খলার জন্য লেগে থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ নীতি। বিশেষ করে বাচ্চাদের বেলায়। ওদের ভালো স্বভাবটা এভাবে অভ্যাসে পরিণত হয়।
অন্য এক কবি বলেছেন, বাচ্চাকে নিয়মানুবর্তিতা শেখানোকে হেলা করবেন না যদিও সে কঠোর ব্যাপারে নালিশ করে
দেখুন, ডাক্তাররা যখন রোগীর চিকিৎসা করেন, তারা তখন তার বয়স, সে কোথায় থাকে, সময় এসব বিবেচনা করে। এরপর ওষুধ দেয়। সেরকম বাচ্চাদের শেখানোর বিষয়টাও তাদের উপযোগী হতে হবে। সেটা কাজে লাগছে কি না তা অল্প বয়স থেকেই বোঝা যায়। চালাক ছেলেমেয়েরা উপদেশে সাড়া দেয়। কিন্তু যারা সাড়া দেয় না, উপদেশে তাদের কোনো কাজে লাগে না। ঠিক যেমন খেলোধুলা চর্বি করলেই কোনো উচ্চলক বুদ্ধিমান হয়ে যায় না।
এক লোক একবার সুফিয়ান আস-সাওরীকে বলেছিলেন, “সালাত আদায় করে না বলে আমি আমার ছেলেমেয়েকে মারি।”
তিনি বললেন, “আপনি বরং ওদেরকে [সাওয়াবের] সুখবর দিন।”
যুহাইদ আল-যায়ীদ তার ছেলেদের বলতেন, “যে সালাত আদায় করবে আমি তাকে পাঁচটা আখরোট দেব।”
ইবরাহীম ইবনু আদহাম বলতেন, “বাবা! হাদীস শেখো। একটা করে হাদীস শিখলে আমি তোমাকে এক দিরহাম করে দেবো।” তো তারপর তার ছেলে হাদীসের জ্ঞান অন্বেষণে লেগে পড়ে।

আমানাতের দেখভাল
আপনার ছেলেরে আপনার আমানাত। আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে সে যেন অল্প বয়স থেকেই খারাপ বস্তুরব্যাপারে এড়িয়ে চলে। তাকে ভালো ভালো কাজ আচরণ শেখাবেন। বাচ্চাকাচ্চারা শূন্য কলসির মতো। এখন যা দেবেন, তা-ই নেবে। তাকে লাজুক স্বভাব, দানশীলতা ভালোবাসতে শেখাবেন। ছেলে হলে তাকে সাদা পোশাক পরতে বলবেন। রঙচঙা পোশাক পরতে চাইলে বলবেন ওগুলো মেয়েদের পোশাক। মেয়েলি স্বভাবের নিশানা।
ওদেরকে আপনি ধার্মিক মানুষদের কাহিনি শোনাবেন। অর্থহীন কবিতা থেকে দূরে রাখবেন। এগুলো মনের ভেতরে বিষের বীজ রোপণ করে। দানশীলতা সাহসিকতার মতো সদ্‌গুণকে উদ্দীপিত করে এমন-সব কবিতা পড়াবেন। যাতে তার মধ্যে এসব স্বভাব গড়ে ওঠে। সে সাহসী হয়।
ভুল করলে ওদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করবেন না। বাচ্চার শিক্ষক কখনো যেন তাদের গোপনীয়তা ভুলত্রুটি অন্যদের বলে না বেড়ায়। বাবা-মা হিসাবে আপনি কখনো লোকজনের সামনে বকাঝকা মারধর করবেন না। অতিরিক্ত দাওয়াদাওয়া ঘুম থেকে ওদের খারাপ করবেন। সাধারণ খাবারদাবার, অল্প ঘুমে অভ্যস্ত করাবেন। এটা বেশি স্বাস্থ্যকর।
ছোটাচোটা দৌড়ের মতো শরীরচর্চা করতে বলবেন। অন্যের দিকে পিঠ ফেরানোর মতো ভদ্রতাও থেকে শাসন করবেন। মানুষের সামনে মুখ না ঢেকে ছাই তোলা হাতি দেওয়া থেকে নিষেধ করবেন।
কোনো খারাপ কাজ যদি তার মধ্যে চলে আসে, তা হলে সেটা যাতে কোনোভাবেই তার অভ্যাসে পরিণত না হয় সেজন্যে সাধারণত চেষ্টা করবেন। কোমল আচরণে কাজ না হলে অপ্রাপ্তবয়স্তর শাসন করবেন।
লুকমান তার ছেলেকে বলেছিলেন, “সন্তানকে শাসন করাটা বীজ রোপণে সারের মতো কাজ করে।”
সন্তানের মাঝে যদি দুষ্টা’মী মনোভাব দেখেন তা হলে কোমল আচরণ করুন। ইবনু ‘আব্বাস বলেছেন, “ছেলেদের মধ্যে দুষ্টা’মী-স্বভাব বাচ্চার বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়।”

সন্তানের ভবিষ্যৎ
জ্ঞানী লোকেরা বলতেন, “প্রথম সাত বছর সন্তান আপনার ফুল। পরের সাত বছর আপনার সেবক। চৌদ্দ বছরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে তার সাথে যদি ভালো থাকেন তা হলে সে হবে আপনার সঙ্গী। তার সাথে দুর্ব্যবহার করলে সে হবে আপনার শত্রু।”
সাবালক হওয়ার পর সন্তানকে মারধোর গালিগালাজ করবেন না। তা হলে তারা নিজেরা নিজেদের ক্ষতি করার জন্য বাবা-মা’র কাছ থেকে দূরে চলে যেতে চাইবে। বিশ বছর সৌদ্ধার পরও কেউ যদি ধার্মিক না হয়, তা হলে তার জন্য ধার্মিকতা সৌদ্ধা খুব কঠিন হবে। সে যাহোক, সবার সাথেই কোমল আচরণ করবেন।

📘 মনের ওপর লাগাম > 📄 স্ত্রী

📄 স্ত্রী


এ অধ্যায়টা একটু ভালো করে পড়তে হবে। একজন পুরুষের জন্য সবচেয়ে সৎ কুমারী মেয়েকে বিয়ে করা। যে এর আগে কোনো পুরুষকে চেনেনি।
জুনানীরা বলেছেন, “কুমারী মেয়েরা তোমাদের জন্য। অকুমারীবা তোমাদের বিরুদ্ধে।” কিন্তু বয়স্ক লোকের অল্প বয়সী মেয়েকে বিয়ে করা খুব বড় ভুল। কারণ, সে তার সব চাহিদা পূরণ করতে পারবে না। আর একারণে বয়স্ক স্বামীর প্রতি সেই স্ত্রীর মনও অরুচি ধরবে। অল্প বয়সী কোনো স্ত্রীর সাথে বিয়ের পর এমন অবস্থা তৈরি হলে, ভালো আচরণ, সহনশীলতা আর তার সোহনে অচেলে টাকাপয়সা খরচ করে তার মনের অরুচি দূর করার চেষ্টা করতে হবে। আমি আমার জাশ-শাইহ (পাকা চুল) বইতেও এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত বলেছিলাম।
স্ত্রীর সামনে নিজেকে সুন্দর করে তুলে ধরতে হবে। ঠিক যেমন আপনি চান আপনার স্ত্রী আপনার সামনে সৌন্দর্যের পসরা মেলে ধরুক। শরীরীর যা দেখতে স্ত্রী পছন্দ করে না তার সামনে সে অংশ অনাবৃত রাখবেন না। স্ত্রীরও সেরকম করা উচিত।

যেসব কারণে স্ত্রী বিপথে যায়
স্ত্রীর সাথে খুব বেশি কৌতুক করবেন না। তাতে একসময় স্ত্রী আপনাকে হাসিতামাশার পাত্র মনে করবে। অবাধ্যা হবে। রোজগারের সব টাকা স্ত্রীর হাতে তুলে দেবেন না। যাতে আপনি তার অধীনে না থাকেন। টাকা পেয়ে সে আপনাকে ছেড়ে যেতে পারে। সুবহান আল্লাহ বলেছেন,
“আল্লাহ যা দিয়ে তোমাদের আয়রোজগারের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, সেই টাকা দুর্বলমনের মানুষদের হাতে তুলে দিও না। [আন-নিসা', ৪:৬৫]
হাসিঠাট্টা করবেন, তবে নিজের মর্যাদা ঠিক রেখে।

জীবনসঙ্গীকে শৃঙ্খলা শেখাবেন কীভাবে
স্ত্রীকে শৃঙ্খলা শেখানোর সেরা উপায় হচ্ছে, অধার্মিক আজেবাজে নারীদের সাথে কথা বলতে দেবেন না। বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে দেবেন না। বয়স্ক জ্ঞানী মহিলাকে দায়িত্ব দেবেন তাকে শেখাতে। তিনি তাকে শেখাবেন কীভাবে স্বামীকে শ্রদ্ধা করতে হবে, স্বামীর অধিকার আর যারা রয়েসয়ে খরচ করে তাদেরকে মর্যাদার চোখে দেখাতো। তিনি তার তত্ত্বাবধানী হিসেবে কাজ করবে।
যৌবনের উন্মত্ততা খুব ভয়ঙ্কর।

সমবয়সী বিয়ে করা
বয়স্ক ব্যক্তি এমন নারীকে বিয়ে করবেন যে কিশোর পার করেছে, কিন্তু প্রৌঢ় নয়া। এতে সংসার জীবন সবচেয়ে উপযোগী হবে। এমন স্ত্রীর স্বামীর উপর কর্তৃত্ব ফলানয়; বরং তার প্রতি অনেক বেশি শ্রদ্ধাশীল থাকে।

স্ত্রীকে নিয়ে তুষ্ট থাকা
ঠিক যেমনটা চেয়েছিলেন যদি অনেকটা সেরকম স্ত্রী পেয়ে থাকেন, তাহলে কী পাননি সেগুলো নিয়ে আর আফসোস করবেন না। যা পেয়েছেন তা মাথায় রেখে যা পাননি তা ভুলে যান। শেকড়বাকড় কাণ্ড ঠিক থাকলে শাখাপ্রশাখা কিছু না থাকলে সেগুলো কল্যাণ উল্লেখ করে? তাছাড়াও অসুস্থ হয়ে একাধিক বিয়ে করলে সমানুপাতিক হারে দায়িত্বও বাড়ে। সেই দায়িত্বের মধ্যে সবচেয়ে কমটা ও অনেক। তাদের ঠিকমতো খেয়াল করা।

📘 মনের ওপর লাগাম > 📄 পরিবার, কাজের লোক

📄 পরিবার, কাজের লোক


পরিবারের লোকজন যদি দেখে টাকাপয়সায় মর্যাদায় আপনি তাদের ছাড়িয়ে গেছেন, তারা তখন আপনাকে হিংসের করতে পারে। কিন্তু তাদের সাথে যেহেতু সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না, সেজন্য তাদেরকে কৌশলে সামলাতে হবে। বিষয়টা বেশ জটিল নিঃসন্দেহে। তারা আপনার ব্যাপারে যা জানে না, সেটা তাদেরকে না জানতে দিয়ে ভালো সহৃদয় আচরণ করবেন।
পরিবারের কাউকে অন্যের চেয়ে প্রাধান্য দিলে সবচেয়ে খারাপ ভুলটা করবেন। যদি কোনো কারণে করতে হয়, তা হলে সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন অন্যদের থেকে তা গোপন রাখতো। না হলে এর কারণে অন্যরা তাকে ঘৃণা করবে।
দাসদাসী (কাজের লোকেরা) সত্যি বলতে তাদের মনিব মালিক। খানাপিনার দায়িত্ব তারাই দেখে। এজন্য তাদের সাথে আপনাকে সদয় হতে হবে যাতে তাদের হাতে আপনি মারা না পড়েন [খাবার বা পানিতে বিষ মেশানোর ফলে]। বিষুর জামহুর বলেছেন, আমরা আমাদের লোকদের রাজা। আর আমাদের রাজা আমাদের কাজের লোকেরা। তাদের ব্যাপারে পুরোপুরি সতর্ক হওয়া সম্ভব না। এজন্য ওদের সঙ্গে জ্ঞানবুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করি।
একজন রাজাকে ওদের সাথে মর্যাদা রেখে চলতে হবে। কোমল আচরণ করতে হবে। যারা তার খানাপিনার দায়িত্বে তাদের সাথে আরও বেশি কোমল হতে হবে।
আপনার কাজের লোক দাসদাসী যদি চতুর হয়, তাহলে আপনার কাছ থেকে কোনো কিছু লুকিয়ে ধোঁকা দিতে পারে। আবার বোকা-সোকা হলে তাদের থেকে কোনো উপকারই পাবেন না। কারণ, তারা বুঝবেই না আপনি কী চান। সেজন্য তা পূরণও করতে পারবে না।
সঠিক উপায় হচ্ছে বোকা-সোকা লোক ঘরের ভেতর রাখবেন। আর চালাকচতুর লোককে বাইরের কাজে রাখবেন। তাহলে আপনার সব ধরনের চাহিদা নিরাপদে পূরণ হবে।

সতর্ক থাকা
তরুণ বয়সী কাজের ছেলেকে ঘরের ভেতরের কাজে রাখলে খুব ভুল করবেন। বিশেষ করে দেখতে-শুনতে যদি ভালো হয় তাহলে তো বিপদ আরও বেশি। ঘরে মেয়েরা থাকলে তারা এই ছেলের প্রতি দুর্বল না হলেও সে তাদের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। আবার সাবালক ছেলেকে দাসীদের মাঝে ছেড়ে দিলে অন্য বিপদ। শারীরিক চাহিদার তীব্রতা আর এ বয়সের উদ্বুদ্ধ মন অবৈধ শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর মতো ভয়াবহ হারামকেও ভুলিয়ে দেয়।
সঠিক ওষুধ প্রয়োগ করে এগুলোর প্রতিকার করতে হবে। খারাপ কোনো ঘটনা ঘটে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাবে না।

📘 মনের ওপর লাগাম > 📄 মানুষের সাথে মেলামেশা

📄 মানুষের সাথে মেলামেশা


মানুষের প্রকৃতি যেমন বৈচিত্র্যময় তেমনি নানামুখী। সবার সাথে মিলেমিশে চলা কঠিন। বুদ্ধিমান মানুষের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে নিজেকে আলাদা রাখা। নিজেকে নিজের হাওয়ায় রাখা। এতেই স্বস্তি, প্রশান্তি।
তবে চলতে ফিরতে মানুষজনের সাথে যেহেতু মিশতে হয়, সেক্ষেত্রে সদয়ভাবে সেটা করতে হবে। কোমল আচরণ করতে হবে। নিজের অধিকার ভুলে তাদের অধিকার ঠিক রাখতে হবে। নির্বোধ লোককদের সাথে ধৈর্য ধরতে হবে। অন্যায়কারীদের ক্ষমা করতে হবে। অহংকারী লোককদেরকে মজলিসের ভালো আসনে জায়গা করে দিতে হবে। তাদের ভালোবাসা পাওয়ার সেরা উপায় ক্ষমা আর দান। তাছাড়া তাদেরকে চালানো দুষ্কর। অনুচরের মাধ্যমে আপনি তাদেরকে অধীনে রাখতে পারবেনা। হাদিসে উল্লেখ আছে, “লোকদের সাথে সুবুয়েসুরে চলা এক প্রকারের দান।”

সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা
'আলিমকে অনেক সময়ে একদম সাধারণ মানুষের সাথে মিশতে হয়। তাদের সাথে উঠাবসা করার বেলায় খুব সতর্ক থাকতে হবে। তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য 'আলিমদের মতো না। কেউ কোনো একটা নিয়ে খুশি তো অন্যজন সেটা নিয়েই অসুখি। আবার কাউকে কাউকে শুদ্ধের দিলে সে রেগে যায়। তারা সবিকটাকে ভুল মনে করে। নিজে জানে না, তারপরও 'আলিমরা যা বলে তা তারা তা মেনে নেয় না।
আপনি 'আলিম হলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যতটা সম্ভব ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলবেন। খুব বেশি মেলামেশা অসম্মান নিয়ে আসবে। তাদের চোখে আপনি ছোট্ট হয়ে যাবেন। আপনার জ্ঞানের অবমূল্যায়ন করবে তারা।
পাপী লোকেরা 'আলিমকে হাসতে দেখে বা তার বিষয়াদির কথা শুনলে তার ব্যাপারে খারাপ ধারণা নেয় [তারা ভাবে এই লোকও দুনিয়াবি সুখ খুঁজছে, পরকালীন না]। এজন্য এদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখবেন। বনি ইসরাঈলের সময়ে এসব সাধারণ মানুষরাই ছিল নবিদের হত্যাকারী।
সামাজিক যোগাযোগের খাতিরে কথাবার্তা বলতে গেলে খুব বেশি কথা বলবেন না। এমনভাবে কথা বলতে যাবেন না, যাতে তারা ক্ষমতা নিতে পারে। বা তাদের সাথে যেসব বিষয়ে কথা বলা আপনার জন্য শোভন না সেসব বিষয়ে কথা বলবে না। এভাবে চললে তাদের থেকে নিরাপদে থাকতে পারবেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00