📘 মনের ওপর লাগাম > 📄 খুশি

📄 খুশি


হঠাৎ খুশি ঝকায় রক্তের উচ্ছ্বসিত হতে হয়। সেটা শরীরের ক্ষতি করতে পারে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে, যদি সেটাকে প্রশমিত না করা হয়। খুশির কোনো কারণ, পেলে সেদিকে ধীরে ধীরে যাওয়া উচিত। ইউসুফ (‘আলাইহিস-সালাম) নবির সাথে যখন তার ভাইদের দেখা হলো, সে তাকে জিজ্ঞেস করল, “তোমার বাবা আছে?” তিনি তখন তার সাথে গদগদি করছিলেন, যাতে হঠাৎ আনন্দের সংবাদে সে চমকে না যায়।
খুশিটাও মাপমতো হতে হবে। ঠিক দুঃখের মতো। সীমাহীন খুশি খাম-খেয়ালিপনায় ডুবে থাকার আলামত। জ্ঞানবুদ্ধিওয়ালা মানুষের জন্য সীমাহীন উল্লাস অযৌক্তিক। আনন্দের জিনিস মনে উল্লাস করে বটে, কিন্তু যখন তার গন্তব্যের কথা মনে পড়ে, দিনশেষে কোথায় যাত্রা ফুরোবে সে কথা মাথায় আসে, তখন তার উল্লাস রং হারায়। খুশির খামখেয়ালীপনা মারাত্মক বেড়ে গেলে মানুষ মহোল্লাসে মাতে। বেপরোয়া হয়ে যায়। এজন্যই আল্লাহ বলেছেন,
“আল্লাহ উল্লাসকারীদের ভালোবাসেন না।” [কাসাস, ২৮:৭৬]
এই অসুখ থেকে মুক্তি পেতে অতীত পাপ আর ভবিষ্যৎ বিপদাপদ নিয়ে গভীরভাবে ভাবুন।
আল-হাসান আল-বাসরী বলেছেন, “মৃত্যু এই দুনিয়ার গোমর ফাঁসি করে দিয়েছে। জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের জন্য এটা আর কোনো খুশির উপকরণ বাকি রাখেনি।”১

টিকাঃ
১ আহমাদ ইবনু হান্বাল, আয-যুহদ, পৃষ্ঠা ৮৬। ইবরাহিম ইবনু ‘ঈসা আল-যাশকারী সূত্রে।

📘 মনের ওপর লাগাম > 📄 আলসেমি

📄 আলসেমি


বেকার বসে থাকা, আরাম ভালো লাগা আর পরে থাকা কাজটার কঠিনতার চিন্তা থেকে আলস্য বাসা বাঁধে। আনাস ইবনু মালিক বলেছেন, নবিজি ﷺ হামেশা দু‘আ করতেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ
আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল-হাযমি, ওয়াল-হুজনি, ওয়াল-’আজমি ওয়াল-কাসাল।
আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কষ্ট, দুশ্চিন্তা, বুড়ো বয়স আর অলসতা থেকে আশ্রয় চাই।১
সক্রিয় বিশ্বাসীদের ব্যাপারে নবিজি ﷺ বলেছেন,
“দুর্বল মু’মিনের চেয়ে শক্তিশালী মু’মিন আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়।”২
সব সময় যাতে ফায়দা হবে তাতে লেগে থাকুন। আল্লাহর সাহায্য চান। হাল ছেড়ে বসে থাকবেন না। মুসিবাতে পড়ে গেলে বলবেন না ‘যদি ওটা করতাম তা হলে এটা হতো না’ বরং বলুন, ‘আল্লাহ এটাই ভাগ্যলিপিতে লিখে রেখেছিলেন। তিনি যা চান তা-ই হয়। ‘যদি’ শব্দটা শয়তানের দিকে যাওয়ার রাস্তা খুলে দেয়।
ইবনু মাস‘ঊদ  বলেছেন, “দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কাজ না করে যে অলস বসে থাকে তাকে আমি প্রচণ্ড ঘৃণা করি।”১ তিনি আরও বলেছেন, “দুনিয়ার শেষ সময়ে কিছু লোকের সেরা কাজ হবে বসে বসে অন্যের নিন্দা করা। এসব লোকের আকার নাম কুঁড়ো।”
ইবনু ‘আব্বাস  বলেছেন, “টিলেমি অলসতাকে বিয়ে করেছে। আর তারা জন্ম দিয়েছে দারিদ্রিক।”
মালিক ইবনু দীনার বলেছেন, “প্রত্যেক ভালো কাজের আগে বিপত্তি থাকে। যে তা সহ্য করবে সে আরাম পাবে। ভয় পেলে ফিরে আসতে হবে।”
সুফয়ান আস-সাওরী বলেছেন, “লোকজন দুর্ভাগামী ঘোড়ায় চড়ে ছেড়ে দিয়েছে। আমরা এখন বসে আছি অলস উটের পিঠে।”

অলসতার ওষুধ
আলসেমির ওষুধ হচ্ছে, নিজেকে তাগাদা দিন: বসে থাকলে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব না। নিশ্চিত হতে হবে। পরে চলে যাওয়া সময় নিয়ে আফসোসদের দহনে পুড়তে হবে নিজেকে। কোনো কর্মঠ লোকের সফলতা যখন চোখে পড়বে তখন এই আফসোস হবে আপনার সবচেয়ে কস্টকর সাজা। জ্ঞানবুদ্ধিওয়ালা মানুষ অলসতার নেতিবাচক পরিণাম নিয়ে ভাবে। বেশিরভাগ সময়ই অলসতার পরিণামে পরে কপাল চাপড়াতে হয়।
যখন দেখবেন আপনার প্রতিবেশী মুনাফা নিয়ে ঘরে ফিরছে আর আপনি বসে বসে অন্ন ধ্বংস করেছেন তখন কি আপনার খারাপ লাগবে না? কিংবা কেউ জ্ঞান অর্জনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে অথচ আপনি কিঞ্চিৎ অলস বসে সময় নষ্ট করেছেন। তখন কি আপনার আফসোস হবে না? এদু’টো কথা একারণেই বললাম যে, আরামে থাকার যে-মজা, ভালো কিছু ছুটে যাওয়া বা ব্যথা তার চেয়ে অনেক বেশি।
আরাম আর আলসেমিতে যে জ্ঞান আহরণ করা যায় না এ ব্যাপারে কোনো সমঝদার মানুষ অমত করবেন না। যে কুঁড়েমির পরিণাম জানে সে তা এড়িয়ে চলবে। কঠোর পরিশ্রমের ফল যে জানে সে তার যাত্রাপথের নানা কষ্ট দাঁত দাঁত চেপে সহ্য করবে। বুঝদার মানুষ জানে অনর্থক তাকে সৃষ্টি করা হয়নি। এই দুনিয়ায় সে একজন ভাড়াটে শ্রমিক বা ব্যবসায়ীর মতো।
দুনিয়াতে ঠিক কী পরিমাণ সময় থাকি আমরা? কিংবা কবরে? পরকালের অন্তহীন জীবনের তুলনায় এর ব্যক্তি এক মুহূর্তের চেয়ে বেশি কিছু না।
আলসেমি অসুস্থ থেকে উদ্ধার পেতে কর্মঠ উদ্যমী মানুষের জীবনী পড়ুন। তাদের কাজকর্ম নিয়ে ভাবনাচিন্তা করুন। বীজ বপনের মৌসুমে যে ঘরে বসে বসে তা দিয়ে ফসলকাটার মৌসুমে ঘরে ফসল তোলার সুসংযোগ নষ্ট করে তাকে দেখে অবাক লাগে আমার।
ফারকাদ বলেছেন,
কাছেজ নামার আগেই আপনি আরামের পোশাক গায়ে চাপিয়ে নিয়েছেন। শ্রমিকেরা কীভাবে কাজ করে সেটা কি খেয়াল করেছেন? ওরা কমদামি একটা পোশাক গায়ে জড়িয়ে কাজ শুরু করে। কাজ শেষ হলে পরে গোসল করে পরিষ্কার দুটো কাপড় পরে নেয়। আর আপনি কাজ করার আগেই আলসেমির পোশাক মুড়ে শুয়ে আছেন।

টিকাঃ
১ বুখারি ۸/۱۸, মুসলিম পৃষ্ঠা ২০৭۹, ۲۰۸۰, ২০৮۱。
২ মুসলিম, কিতাবুল-কাদর ৬৪।
১ আবূ নু‘আইম, আল-হিলয়াহ্, ১/১৬০। ইয়াহ্ইয়া ইবনু ওয়াসাদ্ সূত্রে।
২। হিলয়াতুল-আওলিয়া’ ৬/৪৭। ইবনু শাওসাব সূত্রে।

📘 মনের ওপর লাগাম > 📄 নিজের দোষ শনাক্ত করা

📄 নিজের দোষ শনাক্ত করা


মানুষ নিজেকে নিজে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। ভালোবাসার মানুষের খুঁত কি আর চোখে পড়ে? তবে কিছু কিছু লোক তাদের আত্মশুদ্ধির সংগ্রামে এতটাই দৃঢ়চেতা, তারা নিজেদেরকেই নিজেদের সবচেয়ে বড় শত্রু ভাবেন। যেকারণে তারা নিজেদের দোষ ত্রুটি দেখতে পান।
ইয়াস ইবনু মু’আওয়াইয়াহ বলেছেন, “যে নিজে তার দোষ জানে না সে বোকা।” তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, “আপনার দোষ কী?” তিনি বললেন, “বেশি কথা বলা।”
তবে ইবনু মু’আওয়াইয়াহ মতো নিজে নিজের খুঁত খুঁজে পাওয়াটা বেশ বিরল। মানুষ সাধারণত তাদের নিজেদের খুঁত গোপন করে রাখে। তবে অনেকেই আছেন যারা নিজেদের ভুলত্রুটি সম্পর্কে সজাগ। বুদ্ধিমান মানুষ নিজের সমস্যা নিজেই ধরতে পারেন। তবে গুপ্ত খুঁতগুলো ভয়ংকর। এগুলো শরীরের ভেতরে ভেতরে গোপনে বাসা-বাঁধা অসুখের মতো। ডাক্তার এগুলো ধরতে পারে না। সেজন্য ওষুধও দিতে পারে না। রোগের কোনো লক্ষণই যে তারা খুঁজে পান না, ওষুধ দেবেন কীভাবে? তাছাড়া মানুষের নিজের প্রতি ভালোবাসাও তার ভুলগুলোকেই ভুল হিসেবে দেখায় না।
একজন কবি লিখেছেন,
তুষ্টি চোখ ভুল দেখে না ভুল দেখে রুষ্ট চোখ
দুজন লোক হেঁটে হেঁটে আলাপ করছিলেন। যাবার সময় একজন আরেকজনকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমার ভুলত্রুটির কথা বলুন তো ভাই।” অন্যজন জবাবে বললেন, “আমাকে বাদে আরেকজনকে জিজ্ঞেস করুন। আমি আপনাকে সর্বদাই চোখে দেখেছি।”
জিজ্ঞেস করতে পারেন, খুঁত যদি গোপন থাকে, আর মানুষ সেটাকে খুঁত হিসেবে না-ই দেখে, তা হলে শনাক্ত করব কীভাবে? এর সাতটি উপায় আছে।
প্রথম উপায়: নিজের বন্ধুবান্ধব বা চেনাজানাদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানীগুণী ও বিচক্ষণ লোককে নিজের দোষগুণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন। তাকে জানান এটা আপনার জানার জন্যই। এরপর সে যখন আপনাকে একে একে তার দোষত্রুটিগুলো বলবে, তখন তাতে মন কালো করা যাবে না। কষ্ট পাওয়া যাবে না। তা নাহলে সে আপনার ভুলত্রুটি বলা বন্ধ করে দেবে। তাকে বলে দিতে হবে, “তুমি যদি আমার কিছু গুণও তা হলে ভাবো তুমি ধোঁকাবাজ।”
দ্বিতীয় উপায়: প্রতিবেশী, ভাইবেরাদার, যাদের সাথে নিয়মিত দেখাসাক্ষাৎ হয় তাদের থেকে নিজের নিজের দোষ জেনে নিন।
তৃতীয় উপায়: নিজের ব্যাপারে শত্রুদের মনোভাব জানাটাও বেশ কাজের হবে। শত্রু সব সময় আপনার ছিদ্র খোঁজে। এগুলো আমলে নিলে বন্ধুর চেয়ে বরং শত্রুর থেকেই বেশি লাভবান হবেন। শত্রু খুঁজে খুঁজে দোষ বের করবে। আর বন্ধুরা তা লুকিয়ে রাখে।
চতুর্থ উপায়: নিজেকে অন্যের চোখে দেখুন। সেই চোখে যেটা ভালো লাগছে সেটা রেখে দেবেন। আর যেটা ভালো লাগছে না সেটা ছেড়ে দেবেন।
পঞ্চম উপায়: ভালো ও মন্দ চরিত্রের ফল আর পরিণাম নিয়ে ভাবুন। তা হলে ভালো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ফলে যে-ভালো ফল আসে সেটা যেমন জানবেন, তেমনি খারাপ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের পরিণাম কী হবে সেটাও তার ধারণা হবে। নিজের ব্যাপারে এটি ভাবনা বেশ শক্তিশালী।
ষষ্ঠ উপায়: শারি’আর পাল্লায় নিজের সব কাজগুলোকে মাপুন। আত্মজিজ্ঞাসাসম্পন্ন মানুষদের থেকে আপনার বিভিন্ন কার্যকলাপের ব্যাপারে মন্তব্য নিন। সুচিন্তাদের পাল্লায় ওজন করুন। তা হলেই খারাপ আর ভালোর পার্থক্য চোখে পড়বে আপনার।
সপ্তম উপায়: যারা তাদের জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করেছেন সেসব মানুষের কাহিনি পড়ুন। তারপর তাদের কাজের সাথে নিজের কাজকর্মের তুলনা করুন। এতে করে খারাপ কাজ তো পরের কথা, নিজের ছোটখাটো অসংগতিগুলোকেই ভুল মনে হবে।

📘 মনের ওপর লাগাম > 📄 আমাকে দিয়ে হবে না

📄 আমাকে দিয়ে হবে না


মনের ভেতর এ ধরনের চিন্তা যদি আপনার জন্মগত হয়, তা হলে এর কোনো প্রতিকার নেই। যদি আশপাশের মানুষের সাথে থেকে থেকে এ ধরনের চিন্তা মনে ঠাঁই দিয়ে থাকেন, কিংবা একটা ভাবতে ভাবতে একসময় নিজেকে এভাবেই ধরে নেন, তা হলে এর অসুখ সারানোর অনেক উপায় আছে। এই যেমন:
* হীনমন্য লোকদের এড়িয়ে চলুন * তাদের ঘৃণা করুন * উদ্যামী লোকদের সাথে থাকুন * হীনমন্যতার পরিণাম, এ ধরনের লোকদের পরিণতি নিয়ে ভাবুন * কর্মঠ, উদ্যামী লোকদের সফলতা নিয়ে ভাবুন
আব্দুস-সামাদ বলেছেন, “কঠোর পরিশ্রমের জন্য পরিচিত একজন লোক যখন মারা গেলেন, লোকজন তখন বলাবলি করছিল, ‘লোকটা আজকে মরেছে, কিন্তু চিরকাল বেঁচে থাকবে।’ এ কথাটা আমাকে জাগিয়ে দিয়েছে।”
দেখুন উদ্যামী লোকেরা আপনার মতোই। মাটির উপাদান থেকে তাদের সৃষ্টি। তারাও মানুষ। নিষ্কর্ম লোকদের সাথে তাদের মূল ফারাক তারা আরামপ্রিয় নন। অলসতা তাদের পায়ে শেকল পরিয়ে বসিয়ে রাখেনি। হীনমন্য লোক ঘরে বসে থাকে। আর কর্মঠ লোকেরা কাজে নেমে পড়ে। ক্ষুদ্রচিন্তার এসব মানুষও যদি গা মারা দিয়ে বাহিরে পা ফেলে তা হলে সফলতার অবস্থানে তারাও একদিন পৌঁছে যাবে।
এক কবি বলেছেন, “কারও কোনো বৈশিষ্ট্য ভালো লাগলে তা অনুকরণ করুন। সেটা আপনারও হবে। দয়া ভালো আচরণের মতো বৈশিষ্ট্যগুলোর সংস্পর্শে এলে যে কেউ তা পেতে পারেন। এগুলোর মাঝে কোনো পর্দা নেই।”
আগেকার ধার্মিক লোকদের জীবনই পড়লে, তাদের সম্পর্কে জানতে দেখবেন, বেশিরভাগ আইনজ্ঞ, ‘আলিম-বিজ্ঞান ছিলেন দাস। সমাজে তারা ছিলেন দুর্বল। ছোটখাটো কাজ করে জীবন চালাতেন। কিন্তু উঁচু স্বপ্ন তাদেরকে ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।
নিজেকে যারা অকেজো মনে করেন—এমন মনোভাবের পরিত্রাণ নিয়ে ভাবলে বুঝবেন অলসতা আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু। কিন্তু এই শত্রুকে আলসেমিকে আপনি লাই দিচ্ছেন। আরাম আলসেমিকে আপনি করে নিয়েছেন। দুঃখ দুর্দশা তো পিছু নেবেই, সেই সাথে সুযোগ হারানোর আফসোস, মানুষের অশ্রদ্ধা অপমানের জ্বালাও তার চেয়ে কম হবে না।
অন্যদিকে, কর্মকুশল লোকেরা অন্যদের থেকে সম্মান পায়। পরকালের আগে দুনিয়াতেই তাদের মর্যাদা আকাশ ছোঁয়া। মুছে যায় তাদের কষ্টের তিক্ততা। যে কষ্ট সহ্য করে তাকে দেখলে মনে হয় সে যেন কখনো আরাম করতে জানে না। আর যে আরাম করে তাকে দেখলে মনে হয় সে যেন কখনো কষ্ট সহ্য করার কথা চিন্তাও করতে পারে না।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাজ থেকে অন্যান্য ইবন মালিক বর্ণনা করেছেন,
এক লোককে, যে পৃথিবীতে সবর ও ধৈর্য সুখ ভোগ করেছে, বিচারদিনে তাকে জাহান্নামে চাবানো হবে। তারপর আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন, ‘আদম সন্তান, জীবনে কখনো ভালো কিছু দেখেছ? কখনো কোনো সুখ পেয়েছ?’ সে বলবে, ‘আল্লাহর কসম, না। কক্ষনো না’।"
এরপর যারা আতিথ্যে এজনকে, যে পৃথিবীতে সবশেষে কষ্টের জীবন পার করেছে, বিচারদিনে তাকে এনে জান্নাতে অবস্থান করানো হবে। এরপর আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, ‘আদম-সন্তান, জীবনে কখনো কষ্ট দেখেছ? কখনো দুর্দশায় ছিলে?’ সে বলবে, ‘আল্লাহর কসম, না। কক্ষনো না!’
এই হাদিসের মানে হচ্ছে, কষ্টযাতনা পরিব্যাপ্তি একদিন তো ফুরাবেই! থাকবে শুধু স্বস্তি। অন্যদিকে আরাম আয়েশ শেষ হয়ে যাবে। থাকবে শুধু অনুশোচনা। জীবন তো একটা মৌসুমের মতো। মৃত্যু ধেয়ে আসছে। ফসল এখনই ঘরে তুলতে হবে। এসব চিন্তার ছিটকেছিটকি কুঁড়ে লোকের গা ঝাঁড়া দিয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00