📄 অতিরিক্ত চিন্তা
পঁ ক, ভুলে যাওয়া কিছু মনে করতে কিংবা ভবিষ্যৎ কল্যাণের জন্য চিন্তা তো করতেই হয়। কিন্তু ফলদায়ীন জিনিস নিয়ে চিন্তা করা ক্ষতিকর। আর সেটা যদি বেশি বেশি হয়, তা হলে তা শরীর-মন নষ্ট করে দেয়।
চিকিৎসকেরা বলেন, “শরীর ঠিক রাখার জন্য ‘আলিমদেরকে কখনো কখনো চিন্তাভাবনা থামানো উচিত।” আমার মতে, অর্থোপযোগী কিছু নিয়ে কোনো বুদ্ধিমান লোকের চিন্তাভাবনা থামানো উচিত না। তবে কোনো সাধারণ লোক যদি খালিফাহ হওয়ার চিন্তা করে, আবু হানীয়াহ্ বা আশ-শাফি’ঈর মতো পণ্ডিত হওয়ার ইচ্ছা করে, বিশার আল-হাফি বা মা’রূফ আল-কারখীর মতো দুনিয়ামুখ হওয়ার কল্পনা করে, সাহাবি ‘আব্দুর-রাহ্মান ইবনু ‘আওফের মতো সম্পদের স্বপ্ন দেখে—কিন্তু এগুলো কোনোটা অর্জনের জন্যই কাজ করে না, বসে বসে শুধু চিন্তাই করে, তা হলে তা শরীরের জন্য খারাপ।
আপনার জন্য যা অর্জন বাস্তবিক তা নিয়ে ভাবুন। ভালো ভালো কাজ থেকে কী হাসিল করতে পারবেন সেটা ভাবুন। শয়তানের বিরুদ্ধে অবিরাম লড়াই নিয়েও চিন্তা করতে হবে আপনাকে।
কত পাপী তাদের পরিণام নিয়ে ভেবে ভেবে পরে অনুশোচনা করেছে। কত রাজা-বাদশাহ দুনিয়ার ধোঁকাপূর্ণ জীবনের কথা ভেবে পরকালমুখী হয়েছে।
ভালো চিন্তাভাবনার কিছু নমুনা
ইবনু ‘আববাস رضي الله عنه বলেছেন, “সারা রাত বেখয়ালে সালাত আদায় করার চেয়ে চিন্তাভাবনা মনোযোগসহ দু রাকা‘আত সালাত আদায় ভালো।”[১]
উম্মুদ-দারদা[২]-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, “আব্দুদ-দারদা’র (তাঁর স্বামী) সেরা আমল কী?” তিনি বলেছিলেন, “চিন্তাভাবনা, শিক্ষাপ্রহণ।”
ফজরের সময় পর্যন্ত মালিক ইবনু দীনার দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছেন। এরপর বলেছেন, “শেকল বেঁধে গোলাম লোহার বেড়ি পরিয়ে জাহাানামের মানুষগুলোকে উষা পর্যন্ত আমার সামনে নিয়ে আসা হচ্ছিলো।”
কোনো এক বিজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন, “বারবার চিন্তাভাবনা করলে [মনের] অন্ধত্ব দূর হয়।”
টিকাঃ
[১] ইবনুল-মুবরাক, কিতাবুর-যুহদ, পৃষ্ঠা ৪০৪, মুহাম্মাদ ইবনু নাসর, কিতাবুল-ক্বিয়ামুল-লাইল, পৃষ্ঠা ৩০。
[২] ইবনুল-মুবরাক, কিতাবুর-যুহদ, পৃষ্ঠা ৬০২। ‘আওন ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ সূত্রে আছে উম্মুল-দারদা’কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, “আব্দুল-দারদা’র নিয়মিত কাজ কী?” তিনি বলেছিলেন, “চিন্তাভাবনা।” আবু নু‘আইম তার আল-হিলয়াহ্ বইতে উল্লেখ করেছেন (১/২০৮), তিনি বলেছেন, “চিন্তাভাবনা ও মমত্মব।” অন্য সূত্রে আছে আব্দুল-দারদা’ নিজে বলেছেন, “এক ঘণ্টা গভীর চিন্তাভাবনা করা সারারাত সালাত আদায়ের চেয়ে ভালো।”
📄 অতিরিক্ত দুঃখ
পৃথিবীতে এমন একজন সজ্ঞান মানুষও নেই যার মনে দুঃখ নেই। অতীতের পাপ স্মরণ হলে সে কষ্ট পায়। সে তার আগের বেখেয়ালি অবস্থার কথা চিন্তা করে। জ্ঞানীগুণী মানুষেরা কী বলেছেন সেগুলোকে ভাবে। কেন যে আগে কথাগুলো মাথায় নেয়নি সেজন্য মন দুঃখ করে।
মালিক ইবনু দীনার বলেছেন, “কোনো হৃদয়ে যদি দুঃখ না থাকে, তা হলে সে হৃদয় নিঃসত্ত্ব। ঠিক যেমন কোনো বাড়িতে কেউ না থাকলে সেটা জনশূন্য।”[১]
ইবরাহীম ইবনু ‘ঈসা[২] বলেছেন, “আল-হাসানের চেয়ে দুঃখী মানুষ আমি দেখিনি। যখনই আমি তাকে দেখতাম, মনে হতো এই মাত্র যেন কোনো কষ্টে পড়েছেন।”
মালিক ইবনু দীনার অন্য আরেক জায়গায় বলেছেন, “দুনিয়ার জন্য যত আফসোস করবেন, বিচারদিনের ভয় মন থেকে ততটাই চলে যাবে।”
মনীষীদের কথা থেকে বুঝতে পারি দুঃখ বিষয়তা ধার্মিকদের মধ্যেও থাকে। তবে অতিরিক্ত দুঃখকাতরতা এড়িয়ে চলতে হবে। ভালো যা কিছু ছুটে গিয়েছে তা নিয়ে আফসোস করতে হবে। এর প্রতিকারের উপায় আগের অধ্যায়ে বলেছি।
হাদিসে বলা আছে, “মু’মিনের বাকি জীবনটা খুব দামি। যা ছুটে গেছে সে তা শুধরাতে পারে।” যা শোধরানো যাবে না সেটা নিয়ে দুঃখ করে কোনো লাভ নেই। যদি ধর্মীয় বিষয় হয়, তা হলে আল্লাহর দয়া ও করুণার আশা রেখে তা পূরণ করে নিন। কিন্তু যদি বিষয়টা দুনিয়াবি হয়, তা হলে তা নিয়ে আফসোস করলে ক্ষতি ছাড়া আর কিছু বাড়বে না। বুদ্ধিমান মানুষ হিসেবে এসব চিন্তা আপনার ছেড়ে দেওয়া উচিত।
দেখুন, যা চলে গেছে তা কি দুঃখ করলে ফিরে পাবেন? বরং এভাবে তো এক কষ্টের উপর আরেক কষ্ট চাপিয়েছেন। নিজেকে এভাবে কঠোর পাহাড়তলে পিষে ফেলার কোনো মানে হয় না; বরং এই কষ্টগুলো একে একে কমিয়ে ঠেলে ফেলে দিতে হবে।
ইবনু ‘আমর বলেছেন, “আল্লাহ্ যদি আপনার কাছ থেকে কিছু ‘ফেরত’ নেন, তা হলে এমন কিছু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ুন যা আপনাকে আর ওটার কথা মনে করাবে না!” “তাহা ছাড়া আল্লাহ্ যা ফেরত নেন, তার বদলে যা দেন তাতেও বিষয়টা সহজ হয়ে যায়। তবে যদি এমন কিছু না হয় যাতে অবস্থাটা সহজ হচ্ছে, তা হলে মন থেকে কষ্ট দূর করার জন্য নিজেকেই একটি খাটতে হবে।
আরেকটা ব্যাপারে। যে জিনিসটা বারবার মনে দুঃখ উথলে দেয় সেটা হলো আবেগ। বোধশক্তি কখনো এমন কিছুর স্থান দেয় না যা অদরকারী। কষ্টটা একসময় এমনিতেই সহজ হয়ে যাবে। পরে যেটা আসবে সেইটার দিকে নিজে থেকে আগেভাগে এগিয়ে যাওয়া ভালো না? এগিয়ে গেলে দেখবেন মন পুরোপুরি শান্ত হওয়ার আগে কঠোর সময়টাতেও স্বস্তি পাচ্ছেন।
দুঃখ-কষ্ট করার কোনো অর্থ নেই। বরং কষ্টের পুরস্কার নিয়ে ভাবুন। যারা আপনর চেয়ে আরও নিদারুণ কষ্টে আছেন তাদের কথা চিন্তা করুন। দেখবেন দুঃখ কষ্ট কোথায় হারিয়ে গেছে।
টিকাঃ
[১] আবু নু‘আইম, আল-হিলয়াহ্, ২/৫৫৩。
[২] ঐ, ১০/৩৫৩। আবু নু‘আইম বলেছেন, “দুনিয়ামুখ ইবরাহীম ইবনু ঈসা ছিলেন মা’রূফ আল-কারখীর সঙ্গী। তিনি আবু দাউদ আত-তায়ালিসী ও মুহাম্মাদ ইবনু আল-মুব্বারাক’র মজলিসে বসতেন।
📄 দুশ্চিন্তা উদ্বেগ উৎকণ্ঠা
অতীতের কোনো দুর্ঘটনা থেকে দুশ্চিন্তা হয়। ভবিষ্যতের বিপদের চিন্তায় মানুষ উদ্বিগ্ন থাকে। অতীতের পাপ নিয়ে যদি দুশ্চিন্তা করেন, তা হলে সেটায় ফায়দা আছে। এর জন্য আপনি পুরস্কার পাবেন। আগামীতে করবেন এমন কোনো ভালো কাজ নিয়ে যদি উৎকণ্ঠিত থাকেন তাতেও কল্যাণ আছে। কিন্তু দুনিয়াবি কোনো হারানো জিনিস নিয়ে যদি দুশ্চিন্তা করেন, সেটা কি কখনো আর ফিরে আসবে? এই দুশ্চিন্তা কাজের কিছু না। এতে করে আপনি বরং কষ্টের উপর আরও কষ্ট চাপাচ্ছেন। এনিয়ে আগের অধ্যায়ে একবার বলেছি।
বিজ্ঞ হিসেবে আপনার উচিত হবে যা কিছু দুশ্চিন্তার কারণ, সেগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করা। খুব প্রিয় কিছু হারালে তা নিয়ে মন খরচ করে। যার ভালোবাসার জিনিস বেশি তার দুশ্চিন্তাও সে অনুপাতে বেশি। যার কম তার দুশ্চিন্তাও সে-অনুপাতে কম।
কেউ কেউ বলতে পারেন, আমার তো এরকম ভালোবাসার কিছু নেই, তবুও তো কষ্ট হয়।
আপনি ঠিক বলেছেন। কিন্তু যে তার ভালোবাসার কিছু হারিয়েছে তার কষ্টের তুলনায় আপনার কষ্ট দশ ভাগের এক ভাগও না। আপনার যদি বাচ্চাকাচ্চা না হয়, এজন্য নিঃসন্দেহে আপনার মনে একটা দীর্ঘশ্বাস আছে। একটা কষ্ট আছে। কিন্তু এক মুহূর্ত চিন্তা করে দেখুন তো, যার কোনো সন্তান মারা গেছে আপনার শোক কি তার চেয়েও বেশি?
মানুষ যখন প্রিয় কোনো কিছুতে খুব অভ্যস্ত হয়ে যায়, বহুদিন সেটা কাছে পায় বা ব্যবহার করে, এরপর একদিন যখন তা হারায়, তখন বুকে যন্ত্রণার তীব্রতা খুব বেশি হয়। সারাজীবনের সব সুখ তিক্ততা লাগে তখন।
ভালোবাসার জিনিসটা কিংবা মানুষটা নিজের অস্তিত্বের একটা অংশ হয়ে ওঠে। সুস্বাস্থ্যের মতোই যেন তা অপরিহার্য। এক দণ্ড এটা ছাড়া ভালো লাগে না। পাশে না থাকলে মন পোড়ে। কাছে থাকলে যত আনন্দ, দূরে গেলে তার চেয়েও বেশি কষ্ট। কারণ, মন ভাবে এর অধিকার কেবল তার।
বিজ্ঞ হিসেবে আপনার প্রথম কাজ হবে নিজের আর ভালোবাসার মধ্যকার নৈকট্য খেয়াল করুন। বেমালুম ভুলে যাবেন না। হারানো জিনিসটা যদি আসলেই দরকারি কিছু হয়, তা হলে আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীরে আস্থা রাখুন। আল্লাহ যা ঠিক করে রেখেছেন তা তো ঘটবেই।
আসলে এই জীবনটাতেই তো একদিক থেকে বলতে গেলে বেদনাময়। সব দলান একদম সময় ভেঙে পড়বে। আনন্দ-আড্ডা শেষ হয়ে যাবে। অস্থায়ী কিছুকে চিরস্থায়ীভাবে পেতে চাওয়া মানে যার অস্তিত্ব নেই, তাকে খোঁজা। কাজেই জীবনের কাছে এমন দাবি অনুচিত।
এক কবি বলেছেন: বেদনাময় ভরা যে জীবন তুমি সে জীবনে মুক্তি পেতে চাও কষ্ট আর বেদনা থেকে।
কষ্টটাকে দ্বিগুণ ভাবলে পরে হালকা লাগবে। চালাকচতুর কুলিরা যা বহন করে তার উপর ভারি কিছু রাখে। এরপর কয়েক কদম আগানোর পরে সেটা ফেলে দেয়। তখন যা তারা বহন করে সেটা হালকা লাগে।
সমুদীয় সময় যেকোনো দুর্ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকবেন। তা হলে পরে যদি কিছু ঘটে যায়, তখন যা হারিয়েছেন তার চেয়ে যা রয়ে গেছে সেটা নিয়ে ভাবলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হবে। যেমন ধরুন, যদি টাকাপয়সা বোঝা যায়, তা হলে যা বাকি আছে সেটার কথা ভাবলে ভালো লাগবে। চোখ উঠলে যদি ভাবেন, আমি তো অফিও হতে পারতাম, তা হলে এই অসুখ সহ্য করা সহজ হবে। বাকি সব দুঃখ-কষ্ট সহজে পার করার জন্য একই কথা খাটে।
কবি বলেছেন,
দূরদর্শীজন ভেবে রাখে দুঃখ-কষ্টের কথা সেটা তার উপর পড়ার আগেই যদি তা হঠাৎ পড়ে যায় সে চমকে ওঠে না সে তো আগে থেকেই তা ভেবে রেখেছিল অবোধজন ভবিষ্যৎ বিশ্বাস করে ভুলে যায় তার আগে চলে যাওয়ার কথা যখন কোনো দুর্ঘটনা পড়ে তখন সে ধাক্কা খায় যদি সে আগে থেকেই ভেবে রাখত তা হলে ধৈর্য তাকে সাহসী হতে শেখাত
পূর্ববর্তী সংলোকদের একজন বলেছেন, “এক নারীকে দেখলাম। তার তাকুয়া দেখে অবাক হলাম। বললাম, ‘এই মুখ কখনো কোনো দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেনি।”
সে বলল, “আপনার কথা ঠিক না। আমি যা ভোগ করেছি তা আর কারও হয়েছে বলে জানি না।
“আমার স্বামী একবার একটা ভেড়া জবাহি করেছিলেন। আমার দুটো ছেলে ছিল। বড়টা ছোটটাকে বলল, ‘চল তোকে দেখাই বাবা কীভাবে ভেড়াটাকে জবাই করেছে!’ সে তখন তার ছোট ভাইকে জবাহি করে।
“আমরা যখন তাকে দেখতে পেলাম সে তখন পালিয়ে গেল। আমার স্বামী তাকে খুঁজতে খুঁজতে মারা যায়।”
আমি বললাম, ‘আপনি কীভাবে সেই কষ্ট সামাল দিলেন?’
সে বলল, “দুঃখের মাঝে যদি কোনো সহায় খুঁজে পেতাম, তা হলে তা কাজে লাগাতাম।”
শোকচিন্তা বেশি হলে পরে দুঃখ কষ্ট হয়। যা করলে শোক কাটিয়ে ওঠা যাবে সেটাকে এক এক তাড়িয়ে দিতে হবে। এই যেমন হালাল কোনো আনন্দ।
দুঃখ রক্তকে জমিয়ে ফেলে। আনন্দ একে উষ্ণ করে। মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে আনন্দ বেদনা দুটোই ক্ষতিকর হতে পারে। মৃত্যুও হতে পারে যদি সীমা ছাড়িয়ে যায়।
📄 অতিরিক্ত ভয়, মৃত্যু ভয়
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের মাঝে ভয় হয়। অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনার জন্য আগেভাগে যে প্রস্তুতি নিয়ে রাখে সে-ই তো বুদ্ধিমান মানুষ। যা ঘটা অনিবার্য তা নিয়ে অহেতুক চিন্তা তারা করে না। কারণ, এ ধরণের চিন্তায় কোনো ফায়দা নেই।
অনেক ধার্মিকদের মনে আল্লাহর ভয় খুব বেড়ে গিয়েছিল। এতটাই যে আল্লাহর কাছে দু'আ করতে হয়েছে তা কমিয়ে দেওয়ার জন্য। ভয় ব্যাপারটা চাবুকের মতো। একটা উটকে যদি লাগাতার চাবুকপেটা করতেই থাকেন, ওটা তা হলে মানসিক অশান্তিতে থাকবে। সময়ে সময়ে অলসতা দেখা দিলে তখন চাবুক করতে চাবুক ওঠাতে হয়।
সুফিয়ান আস-সাওরী১ সঙ্গে একবার এক যুবক কথা বলছিল। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি আল্লাহকে একদম পুরোপুরি ভয় করতে চাও?”
“হ্যাঁ!”
“বোকা! তুমি যদি তাঁকে একদম পুরোপুরি ভয় করো তা হলে ফার্দ (ফরজ) কাজও ঠিকঠাকভাবে আদায় করতে পারবে না!!”১
অতিরিক্ত ভয়
বুদ্ধিমান লোক কখনো অশেষ ভোগা নিয়ে অতিরিক্ত ভয় পাবে না। কারণ, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে অসুবিধাবশত তো হবেই। যা ঘটবে তা নিয়ে ভয় করতে শুধু কষ্টই বাড়ে।
মৃত্যুভয় আর এ নিয়ে দুশ্চিন্তা— এ দুটো মন থেকে তাড়ানো সহজ নয়। তবে যা করলে কিছুটা সহজ হতে পারে তার কিছু উপায় বাতলে দিচ্ছি। মৃত্যু তো হবেই। ভয় করে কোনো লাভ হবে না। ভয় করলে শুধু ভয়ই বাড়ে। কেউ যখন মৃত্যুর কথা ভাবে তখন সেটা তার মনের আবেগাকে ভীষণ আলোড়িত করে। এজন্য মনের ভেতর এর ছবি চিন্তা করা যাবে না। ঘৃণা করলেও মরলে তো একবারেই মরবেন, বারবার না। তাই অহেতুক এর চিন্তা বাদ দিলে সহজ হবে।
দেখুন, আল্লাহ চাইলেই এটা আপনার জন্য সহজ করে দিতে পারেন। তাছাড়া মৃত্যু চেয়ে বড় মৃত্যুভয় প্রায় যা হবে তা আরও বেশি রক্ত হিম করে দেয়। মৃত্যু আমাদের চিরকালীন নিবাসের সদর দরজা। এজন্য শুধু ভয়ের জন্য মৃত্যুভয় না, মৃত্যুর জন্য কাজ করা উচিত আমাদের।
এই সবুজ-শ্যামল দুনিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবলে অনেকের আফসোস হয়। সত্যি কথা বলতে এই দুনিয়া কোনো তৃপ্তির জায়গা না। বরং এটা ছেড়ে যাওয়াতেই আনন্দ তৃপ্তি। এটা পাওয়ার জন্য কারও কান্না দেওয়া ঠিক না। বুদ্ধিমান মানুষ দুনিয়া ছেড়ে যেতে কেন কষ্ট পায় জানেন? আর এটা দিন সে ভালো ভালো কাজ করে যেতে পারল না বলে। আমাদের আগেকার সলফেকাও শুধু একারণেই মৃত্যুভয় করে পেতেন।
মৃত্যুশয্যায় সাহাবি মু‘আয ইবনু জাবাল ﷺ বলেছিলেন, আল্লাহ, আপনি জানেন আমি এই দুনিয়ায় থাকতে ভালোবাসি না। এর প্রবহমান নদীর সৌন্দর্য কিংবা গাছগাছালির অরণ্যের টানে বেশিদিন বাঁচার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। বরং এই ভালোবাসা ছিল দাবাদাবের দিনগুলোতে সিয়াম পালন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ‘যিবাদের কাজগুলো সেবে যেতো। আপনার স্মরণে ‘আলিমদের মাজলিসগুলোতে শরীক হতাম।
মৃত্যুর সময়ে শয়তানের টোপ
মৃত্যু সময়টা খুব যন্ত্রণাদায়ক। প্রচণ্ড কষ্টের। একদিকে ভালোবাসার সব জিনিস, প্রিয় মানুষ ছেড়ে যাওয়ার ব্যথা, অন্যদিকে মৃত্যুর বিভীষিকা, সম্পদের মায়া। শয়তান তাই এই সুযোগটার পূর্ণ ‘সদ্ব্যবহার’ করে।
সে কানপড়া দিতে শুরু করে: ‘কী অবস্থা তোমারা! কেন মারা যাচ্ছ? খুব কষ্ট লাগছে? তোমার স্ত্রী-সন্তান ছেড়ে কোথাকার কোন মাটির নিচে জায়গা হবে তোমার!’
এগুলো বলে বলে সে মানুষকে তার প্রভুর প্রতি বিদ্বেষী করার টোপ ফেলো। আল্লাহর নির্ধারিত নিয়তির প্রতি ঘৃণা জাগাতে চায়। তাকে দিয়ে আপত্তিকর কথাবার্তা বলায়। কিংবা উইল করার সময় দেখা যায় তাকে দিয়ে অন্যায় পক্ষপাত করাচ্ছে। নশ্বরদের একজনের চেয়ে অন্যকে হিস্সার চেয়ে বেশি দিয়ে দিচ্ছে। এরকম আরও বহু বেইনসাফি কাজ করায়। এজন্য শয়তানের এই টোপ এড়ানোর উপায়, নিজেদের শুদ্ধ করার পন্থা জানা খুব খুব জরুরি।
আবূ আল-উদ্দুর বলেছেন নবিজি ﷺ একটা দু‘আ প্রায়ই করতেন: أَعُوْذُ بِكَ أَنْ يَتَخَبَّطَنِي الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ আ‘উযু বিকা আন ইয়াতাখাব্বাত্বানিশ্-শাইতানু ‘ইন্দাল-মাওত। (আল্লাহ) আপনার কাছে আমি মৃত্যুর সময় শয়তানের ধোঁকা থেকে আশ্রয় চাই।
অগ্রিম সেই সময়ে শয়তান তার অনুচরদের বলে, “এই মরণের সময় যদি ওকে ভুল পথে নিতে না পারো, তা হলে আর জীবনেও পারবে না!”
কঠিন এই পরীক্ষায় উত্তরানোর উপায় হচ্ছে সুস্থ অবস্থায় আল্লাহর ব্যাপারে সচেতন থাকুন। তা হলে কঠিন সময়ে আল্লাহ ‘নিজে’ আপনাকে হেফাজত করবেন। আপনার চিন্তাভাবনায় যদি সব সময় আল্লাহকে স্থান দেন, তা হলে তিনি আপনার অপ্রত্যাশিত আজেবাজে কাজে জড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করবেন। এই প্রসঙ্গেই নবিজি ﷺ বলেছেন, আল্লাহকে স্মরণ রাখো। তিনি তোমাকে রক্ষা করবেন। আল্লাহকে স্মরণ রাখো, তোমার সামনে তাকে খুঁজে পাবে। ভালো সময়ে যদি তাঁকে চেনো, তা হলে তোমার কষ্টের সময়েও তিনি তোমাকে চিনবেন।১/
ইউনূস নবির কাহিনিতে আপনার অনেকের মনে থাকার কথা। আল্লাহর শাস্তি ধারুক তার উপর। দুঃসহনীয় কষ্ট থেকে শুধু ভালো কাজের বদৌলতে তিনি উদ্ধার পেয়েছিলেন। সেই ঘটনার প্রসঙ্গে ক্বুর‘আনে আল্লাহ বলেছেন, “সে যদি আল্লাহর গুণগানকারী দাস না হতো, তা হলে কিয়ামতোর দিন পর্যন্ত ওভাবে (মাছের) পেট থেকে যেত। [আল-সাফফাত, ৩৭:১৪৬-১৪৪]
অন্যাদিকে ফিরআউন যখন অথৈ পানিতে ডুবে মরছিল, কোনো ভালো কাজ তার ঝুলিতে ছিল না। যার বিনিময়ে সে উদ্ধার পেতে পারতো। তাকে তখন বলা হয়েছিল:
“এখন বিশ্বাস করলে! অথচ আগে মুখ ফিরিয়ে ছিলে! তখন তো ছিল দুষ্কৃতকারী!” [হূদ, ১০:৫১]
দুনিয়াবিমুখ মনীষী ‘আব্দুস-সামাদ মৃত্যুশয্যায় বলেছিলেন, “মালিক। এই মুহূর্তটির জন্যই আপনাকে দয়া করে রেখেছিলাম। সুস্বাস্থ্যের সময় যে বেখবর থাকবে, অসুস্থ সময়ে তাকে পাওয়া দেওয়া হবে না।”
বর্ণিত আছে কোনো এক সাহাবি এক বৃদ্ধ লোককে ভিক্ষা করতে দেখে বলেছিলেন, “যুবক বয়সে আল্লাহর হুকুমে ব্যাপারে সে বেখবর ছিল। এজন্য আজ বৃদ্ধ বয়সে আল্লাহ তাকে উপেক্ষা করছেন!”
মৃত্যুযন্ত্রণার কঠিন সময়টা পার করতে নিজেকে উৎসাহ দিয়ে যান। এই যন্ত্রণা শিগগিরই এর অবসান ঘটবে। এরপর পূর্ণ শান্তি। নবিজি ﷺ বলেছেন, “আজকের পর থেকে তোমার বাবার আর কোনো যন্ত্রণা ছুঁতে পারবে না!”১/
আবূ বাকর ইবনু ‘আইয়াশ মৃত্যুর সময়ে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেছেন, “আশিটি রমাদান যার জন্য সিয়াম পালন করেছি, আজ এই সময়ে আমি কি তাঁর কাছে প্রত্যাশা রাখব না!”
আল-মু‘তামির ইবনু সুলাইমান বলেছেন, “[মৃত্যুর সময়] আমার বাবা আমাকে বলেছেন, ‘বাবা, আমাকে এরকম কিছু হাদীস শোনাও যেথাানে আল্লাহর হাড়ের কথা আছে। আমি চাই যখন আল্লাহর সাথে দেখা হবে তখন যেন ভালো আশা নিয়ে দেখা করতে পারি।’
একজন বিশ্বাসী তাই ভয়কে রেটিয়ে বিদায় করবে। ঠিক যেমন একজন উচ্চপদস্থ মরহুম দমি পথি পাতি দিতে তার উচ্চ শোধায়: তোমার জন্য সুসংবাদ!
কাল তুমি দেখতে পাবে ঘন অরণ্য আর পর্বত
নবিজি ﷺ বলেছেন, “আল্লাহ বলেছেন, “আমার দাস আমাকে যেমন ভাবে তেমনি।”১/
জাবির বলেছেন, “আল্লাহর রাসুল ﷺ মৃত্যুর দিন দিন আগে বলতে শুনেছি, “আল্লাহ প্রতি সুধারণা না রেখে মৃত্যুবরণ করো না!”২/
আল-ফুযাইল ইবনু ‘ইযাদ বলেছেন, “এমনিতে তো ভয় আশার চেয়ে ভালো। কিন্তু মৃত্যুর সময় আশা রাখাটা ভালো।”
তিনি ঠিকই বলেছেন। ভয় অলস মানুষকে চাবুকের মতো তাড়া করে ফেরে। উট কাহিল হয়ে পড়লে আমরাও কিছুটা ছাড় দিতে হবে।
কেউ যদি জিজ্ঞেস করে মৃত্যুর সময় খালীফাহ ‘উমার ইবনু ‘আবদুল-আযীযের ভয় কেন অত ভীষণ ছিল, তা হলে বলব, দায়িত্বের প্রতি পরম নিষ্ঠা থেকে তার মনে এই ভয় এসেছিল। মনের গভীরে মানুষের অধিকার পূরণে সারাক্ষণ একটা তাগাদা ছিল তার। তিনি বলতেন, “এই নেতৃত্বে আমার বড় ভয়!” তিনি তার কথাকাজকে সহ ছিলেন।
ইবনু ‘আব্বাস তাকে যখন বললেন, “আমীরুল-মু‘মিনীন, সুখবর নিন। আপনাকে নেতৃত্বের ভার দেওয়া হয়েছিল। আপনি তা ঠিকঠাক পালন করেছেন। শহীদ হিসেবেও মৃত্যুবরণ করবেন।”
তিনি তখন তাকে বলেছিলেন, “ইবনু ‘আব্বাস! আল্লাহর সামনে এই সাক্ষী দেবেন তো?”৩/
তীব্র কষ্ট
অসুস্থ রোগীর যদি কষ্ট খুব বাড়ে, তা হলে সেটা পুরস্কার সাওয়াব হিসেবে দেখা উচিত। আমাদের আলেমগণ সৎ লোকদের অসুস্থ লোকের কষ্টের তীব্রতাকে পছন্দ করতেন। কারণ, এটা পাপ মুছে দেয়।
বর্লিত আবু ইবরাহিম বলেছেন, "মৃত্যুর সময়ে প্রচণ্ড যন্ত্রণাকে তারা পছন্দ করতেন।"
'উমার ইবনু ‘আবদুল-’আযীয বলেছিলেন, “আমি চাই না মৃত্যুর ভীষণ কষ্ট আমার কমে যাক। একজন মুসলিমের পাপ মোচনের এটাই তো শেষ সুযোগ।”
তাওবাহ
যতক্ষণ হুঁশ থাকে অসুস্থ রোগীকে ততক্ষণ তাওবাহ করে যেতে হবে। তা হলে সে আল্লাহর কাছে পরিশুদ্ধ অবস্থায় যেতে পারবে। ওসিয়াতনামাও লিখে যেতে হবে। স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানকে আল্লাহর ভরসায় রেখে যেতে হবে। কারণ, যারা ধার্মিক আল্লাহ তাদের সহায়তা করেন। হেফাজত করেন।
আশা রাখা
মৃত্যুপথযাত্রীকে শয়তান যদি খুব বেশি জ্বালাতন করে, মরে গেলে কী হবে কী হবে এসব মনে করিয়ে তাকে উদ্ব্যক্ত করতে থাকে, তা হলে তার জেনে রাখা উচিত জাহাজের সফরকারীরা নেমে গেলে জাহাজ পরিত্যক্ত হয়। মানুষ না। শারী‘আহ বলেছে মৃত্যুর পর একজন বিশ্বাসী চিরআনন্দে বসবাস করবে। কাজেই যার বিশ্বাস ঈমান পোক্ত তার তো ভয় পাওয়ার কথা না। তার গন্তব্য তো ভালো জায়গায়। এখন যদি ঈমান শক্ত না থাকে তা হলে সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার অবশ্যই অনেক কারণ আছে।
নবিজি ﷺ বলেছেন,
“মুসলিমদের আত্মা তো পাখির মতো। যতক্ষণ না আল্লাহ ওটাকে কোনো মুসলিমের শরীরে ফেরত পাঠান ততক্ষণ জামাতের গাছে তা ঝুলে থাকে!”২
মৃত্যু নিয়ে এগুলো কথার মূল কারণ ছিল আমরা যেন মৃত্যুকে ভয় করতে গিয়ে টালমাটাল হয়ে না পড়ি। তা না হলে শরীর নিঃশেষ হয়ে যাবে। আবার একেবারে ভয়ডরহীন হলেও চলবে না। মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য কাজ করে যেতে হবে।
টিকাঃ
১। তিনি ইসলামের অন্যতম মহান এক ইমাম। তাকে হাদীস শাস্ত্রের গুরু নাম এক নামে চিনত সবাই। অসীম জ্ঞানের ও অসাধারণ দখল ছিল। ইমাম মালিক-সহ আরও অনেকের শিক্ষক ছিলেন তিনি। তিনি ৭৭৮ সালে মারা যান।
১/ আবূ দাউদ ১১২৪-১২৫৬। আন-নাসাই (১/২৭০) আবু ‘আযারের মুক্ত দাস-সূত্রে আব্দুল-উদ্দুর থেকে বলেছেন, নবিজি ﷺ এই বলে দু‘আ করতেন, “আল্লাহ, আমি আপনার কাছে ভূমিকম্প থেকে মরা থেকে, ডুবে মরা থেকে, আগুনে পুড়ে মরা থেকে, জরাজীর্ণ হয়ে মরা থেকে আশ্রয় চাই। মৃত্যুর সময় শয়তানের ফন্দি থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। জিহ্বাতন্দ্র অবস্থায় গালিয়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই। বিষের হুলে মরে যাওয়া থেকেও আশ্রয় চাই!”
আল-খাওয়াযী বলেছেন, “মৃত্যুর সময় শয়তানের ধোঁকা তিনি একারণে আশ্রয় চাইতেন, যাতে দুনিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় শয়তান তাকে পাকড়াও করতে না পারে। তাওয়াহ করা থেকে বাধা দিতে না পারে। নিজের কাজকর্ম সংশোধন করতে বাধা দিতে না পারে। আল্লাহর দয়া থেকে নিরাশ না করতে পারে। মৃত্যুকে ঘৃণা করতে না পারে। এই দুনিয়ার জন্য আফসোস না করায়। নবির বরকতের পথযাত্রায় তিনি আল্লাহর বিধিতে অসন্তুষ্ট হয়ে পড়তেন। তার শেষ পরিণতি হতে অসন্তপ্ত। আল্লাহর উপর নাখোশ অবস্থায় তিনি তাঁর সামনে দাঁড়াবেন।
“ভয় মৃত্যু সময় শয়তান সবতোজে কঠিন চাপটা চল। সে তার অনুচরদের বলে, ‘ধরো! একে! আজ যদি না পারো আর কখনো একে ধরতে পারবে না।”
“আমরা আল্লাহর কাছে শয়তানের খারাপি থেকে আশ্রয় চাই। তাঁর কাছে মৃত্যুর সময় করুণা চাই। শুভপরিণতি চাই।”
১/ আবূ তিরমিযী ১২৬১। হাদীসটি তার মতে হাসান সহীহ। আরও বর্ণনা করেছেন আহমদ ১/৩০৭-৩০৮। আল-বায়হাকী, শু‘আব-উল-ইমান এর আল-আসমা‘ ওয়াস-সিফাত পৃষ্ঠা ৭৬। আরও দেখুন দুরাবুল-মানসুর ১/৬৬। তাফসীর ইবনু কাসীর ৭/২১।
১/ ইবনু মাজাহ ১৫২৫।
১/ বুখারি, মুসলিম
২/ মুসলিম
৩/ আবূ সঠিক দিকনির্দেশিত খালীফাহ ‘উমার ইবনু ‘আব্দুল-আযীয যখন মৃত্যুমুখে হয়, মৃত্যুশয্যায় ইবনু ‘আব্বাস তখন তার ঘরে এলেন। তাকে বললেন, “সুখবর নিন আমীরুল-মু‘মিনীন। লোকজন যখন অবিশ্বাস করছিল আপনি তখন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। অন্যরা যখন নবিজিকে ﷺ ছেড়ে গিয়েছিল আপনি তখন তার পাশে থেকে লড়াই করেছেন। আপনার উপর খুশি থেকে তিনি মারা গেছেন। আপনার খিলাফতের সময় লোকেরা হিম্মত করেনি। শহীদ হিসেবে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে যাচ্ছেন আপনি।”
তিনি বলতেন, “যা বলবেন আবার বলুন তো!”
আমি আবার বললাম।
তিনি বললেন, “একমাত্র সত্য উপাস্য আল্লাহর কসম, পৃথিবীর সোনাকপুর সব যদি থাকত, তার বিনিময়ে আমি বিচারদিনের বিভীষিকা থেকে নিস্তার পেতে চাইতাম।” [মুসনাদ আহমাদ ১/৪৪, আল-বায়হাকী, ইসরাহ্ ‘আসাদ্দুল-কাফ্র]
২ বুখারি, আত-তারীখুল-কাবীর ৫/৩০৬, আল-মুনযিরী ১/৭৬, আত-তাবরানী, আল-কাবীর ১৯/৬৪১