📘 মনের ওপর লাগাম > 📄 প্রকাশকের কথা

📄 প্রকাশকের কথা


সকল প্রশংসা বিশ্বজাহানের রব আল্লাহর জন্য। শান্তি ও করুণা বর্ষিত হোক রাসুল মুহাম্মাদ ﷺ-এর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবি ও তাঁর হিদায়াতের অনুসারীদের উপর।
মানুষ নিজেকে বদলাতে চায় না। স্বভাবসুলভ কিছু অভ্যাসের উপর জীবনকে ছেড়ে দিয়ে বেমালুম বেহুশ হয়ে আছে। জীবন যেদিকে যাচ্ছে যাক—দেখার কিছু নেই। ঘরবাঁধা কাজকর্ম আর উদ্দেশ্যবিহীন গন্তব্যে আবর্তিত হচ্ছে দিন, মাস, বছর। কোনো নতুনত্ব নেই, কোনো পরিবর্তন নেই।
আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, অধিকাংশ মানুষ প্রিয় মনের ইচ্ছাধীন। অদৃশ্য মনের হুকুমে উঠবোস করছে তারা—নিজেদের উপর বিন্দুমাত্র নিয়ন্ত্রণ নেই। ঠিক এখানেই ব্যর্থ এবং সফল মানুষের মধ্যে পার্থক্য। এ কারণেই অধিকাংশ মানুষ পিছিয়ে থাকে; অল্পসংখ্যক মানুষ অন্যদের চেয়ে অগ্রগামী হয়।
মানুষ যে-সকল মনব ব্যাধিতে আক্রান্ত সেগুলোর সমাধান নিয়েই জগদ্বিখ্যাত মুসলিম মনীষী ইবনুল-জাওযী আল্লাহ্‌ আও-তিব্বুর-রুহানী নামক একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেন।
“লাঠ” শব্দের আভিধানিক অর্থ আস্থা। “আও-তিব্বুর-রুহানী” বলতে আসলে বোঝায় আত্মিক চিকিৎসা। বিষয়বস্তু অনুসারে বাংলা অনুবাদে নাম দেওয়া হয়েছে “মনের উপর লাগام”। এই বইতে মানুষের নেতিবাচক স্বভাবসমূহ চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধান সবিস্তারে আলোকপাত করা হয়েছে। সুন্দর কথামালায় সাজানো তাঁর এই নসিহতগুলো আমাদের সবার জন্য কার্যকর হবে ইনশা’আল্লাহ।
অনুবাদক মাসুদ শরীফ ভাষার ব্যাপারে অতি যত্নবান। তাঁর সরল বাক্যবিন্যাস ও প্রাঞ্জল শব্দচয়ন লেখার মানকে উৎকৃষ্ট করে তুলেছে। আশা করছি পাঠকবৃন্দ রচনার সহজাত স্বাদ তৃপ্তিসহকারে উপভোগ করবেন।
সার্কসম্পাদনার গুরুত্বদাফিয়াত পালন করেছেন প্রিয় ভাই আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। তাঁর অক্লান্ত শ্রম ও মেধা দ্বারা সমুদয় কাজটিকে পূর্ণতা দিয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তাঁর পরামর্শগুলো দুর্লভ নয়।
প্রচ্ছদ, পৃষ্ঠা1সজ্জা, যাচাইকরণ, মুদ্রণসহ প্রতিটি ধাপে অসংখ্য মানুষের সহযোগিতা পেয়েছি। কীভাবে সর্বোত্তম উপায়ে সবাইকে ধন্যবাদ দেওয়া যায় জানা নেই। এই দায়িত্তটি আমি পাঠকদের উপর অর্পণ করলাম। বইটি আপনাদের ব্যক্তিগত জীবনে সামান্যতম উন্নতি আনতে সক্ষম হলেই আমরা সার্থক।
পরিশেষে একটি কথা, গ্রন্থটির অনুবাদ নির্ভুল রাখার জন্য আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটি আপনাদের দৃষ্টিগোচর হয়, আমাদের অবগত করার বিনীত অনুরোধ রইল। পরবর্তী সংস্করণে আমরা শুদ্ধরে নেব ইনশা’আল্লাহ।
আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন এ প্রচেষ্টাটা কবুল করেন। তিনি যেন এ বইটি সকল বিদ্যাধীদের জন্য কল্যাণদায়ক করে দেন। আমীন।

📘 মনের ওপর লাগাম > 📄 লেখকের কথা

📄 লেখকের কথা


পাঠক, মানুষের জন্য আল্লাহ যা কিছু বরাদ্দ রেখেছেন তার সবাই তাদের মঙ্গলের জন্য। হয় কোনো উপকারের জন্য—যেমন ক্ষুধা— অথবা কোনো ক্ষতিরোধের জন্য—যেমন রাগ। কিন্তু ক্ষুধা যদি বেশি বেড়ে যায় তা হলে সেটা অতিভোজনে রূপ নেয়। তখন কিন্তু সেটা ক্ষতিকর। আবার রাগ যদি বেসামাল হয়, মানুষ তখন অশান্তি সৃষ্টি করে।
বেশ কয়েকটি উদ্দেশ্য মাথায় রেখে আমি এই বইটি লিখেছি: * মনে সঠিক সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণ * খায়েশের মুখে লাগাম পরানো * অসুস্থ ইচ্ছার চিকিৎসা পরবর্তী ৩০টি অধ্যায়ে এ বিষয়গুলো আমি ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করেছি।

📘 মনের ওপর লাগাম > 📄 বিবেকের গুণ

📄 বিবেকের গুণ


বিবেক কী, এর অবস্থানই-বা কোথায়—এ নিয়ে মানুষের অনেক কথা। বিস্তর আলোচনা। বিবেকের গুণাগুণ নিয়ে হাদীসও কম নয়। এর কিছু কিছু আমি আমার ফাযলুল-হাওয়া (খায়েশের সমালোচনা) বইতে উল্লেখ করেছি। সেজন্য এখানে আবার সেগুলো উল্লেখ করছি না; বরং সেখান থেকে একটা অংশ তুলে দিচ্ছি।
কোনো জিনিসের গুণাগুণ তার ফলাফল থেকে বোঝা যায়। মন যদি তার সঠিককে চিনতে পারে সেটাই তার সেরা সাফল্য। এই মন স্রষ্টার অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তাভাবনা করে একসময় তাকে চিনতে পেরেছে। নবিদের সত্যবাদিতা নিয়ে ভেবে ভেবে একসময় তা বুঝতে পেরেছে। সে তখন আল্লাহ ও তাঁর বার্তাবাহক রাসূলুল্লাহকে অনুসরণের উৎসাহ দিয়েছে।
কঠিন জিনিস হাসিল করতে মন নানা পরিকল্পনা করে। এই যেমন মন তার কৌশল খাটিয়ে অবার্থ পশুকে বশ মানিয়েছে। সাগরের বিশাল জলরাশি পেরিয়ে যেখানে পা ফেলা মানুষের জন্য এককালে অসাধ্য ছিল, জাহাজ বানিয়ে তাকে সেখানে যাওয়ার উপায় শিখিয়েছে। শিখিয়েছে কীভাবে উড়ন্ত পাখিকে শিকার করতে হয়। এর সবই মানুষ করেছে তার প্রয়োজনে। নিরাপদে থাকার খাতিরে।
বিবেক মানুষকে শিখিয়েছে কেন পরকালের জন্য দুনিয়ার মোহ ছাড়তে হবে। এটা আছে বলেই পশুপ্রাণীর উপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব। মানুষ তাই আল্লাহর কথা ও অনুশাসন শোনার যোগ্যতা অর্জন করেছে। জ্ঞানে ও কাজে অর্জন করতে পেরেছে দুনিয়া-আখিরাতের সর্বাধিক কল্যাণ। তার শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এগুলোই যথেষ্ট।

📘 মনের ওপর লাগাম > 📄 কামনার সমালোচনা

📄 কামনার সমালোচনা


ন যখন যা চায়, তা-ই পেতে চাওয়ার নাম ‘হাওয়া’ বা কামনা। সে- চাওয়া যদি বৈধ হয়, তা হলে তো সমালোচনার কিছু নেই। তবে তারপরও খুব বেশি নিজের কামনার পিছে ছোটা যাবে না। কামনার অনুসরণ মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে অবশ্যই সমালোচনা করতে হবে। আর যদি অবৈধ বা অনুমতিহীন কিছু হয় তখন তো নিন্দা করতেই হবে। আবার অনুমতি থাকলেই লাগামহীনভাবে তাতে জড়িয়ে পড়া যাবে না।
মনের একটা অংশ বুদ্ধিদত্ত। এর গুণ প্রজ্ঞা; দোষ অজ্ঞতা। এর কিছু অংশে থাকে রাগ। এর গুণ তেজ; আর দোষ কাপুরুষতা। এর কিছু অংশে আছে লিপ্সা। এর গুণ সংযম; আর দোষ লাগামহীন লালসা।
বিপদের মুখে ধৈর্য ধরা মনের একটা বিশাল গুণ। এর মাধ্যমেই মানুষ ভালোখারাপ সহয করে। যার ধৈর্য নেই, কামনার উপর লাগাম নেই, সে কাতারের সামনে না থেকে চলে গেছে পেছনে। সে যেন প্রজাকে বানিয়েছে তার নেতা। যা থেকে সে মনে করে উপকার পাবে সেটা তার ক্ষতি করে। যা থেকে সে মনে করে সুখ পাবে সেটা তাকে দুঃখ দেয়।
বিবেক আছে বলেই মানুষ পশুপাখি থেকে আলাদা। বিবেকের কাজ খায়েশের পিছু পিছ্ যাওয়া থেকে বারণ করা। আপনি যদি বিবেককে পায়ে ঠেলে খায়েশের গোলামি করেন, আপনি তখন জন্তু-জানোয়ারের চেয়েও নিকৃষ্ট হবেন। শিকারি কুকুর আর রাস্তাঘাটে ঘোরাঘুরি করা কুকুর দেখলে বিষয়টা বুঝবেন। শিকারি কুকুরের আলাদা সম্মান আছে। দাম আছে। কারণ, ইচ্ছার উপর লাগাম টানার ক্ষমতা আছে তারা। শাস্তির ভয় কিংবা মনিবের কৃতজ্ঞতারূপ তারা মনিবের শিকার নিজের কাছে নিরাপদে রাখে।
নাবিকহীন জাহাজ যেমন স্রোতের টানে উদ্দেশ্যহীন ভেসে যায়, খায়েশ ঠিক সেরকম মানুষের স্বভাবকে ইচ্ছেমতো নাছারা। সদানবদার মানুষ হিসেবে বলুন তো: খায়েশের লজ একে একবার চালুর জন্য কত খারাপ ফল, উপায়ে এ যে খারাপ পরিণام হচ্ছে সে কি সহজ? নাকি শুরুতেই খায়েশ চেপে ধরার কষ্ট সহজ?
খায়েশের অনুসরণ সবচেয়ে প্রকট পরিণাম হচ্ছে মানুষ সেই খারাপ কাজটি করতে একসময় আর কোনো মজা পায় না। কিন্তু অভ্যাসগত করে যায়। নিজেকে সেখান থেকে উদ্ধার করতে পারে না। এ ধরনের খারাপ কিছুতে অভ্যস্ত হলে তা আসক্তিতে রূপ নেয়। মদপান কিংবা অবাধ যৌনসম্পর্কে যারা আসক্ত তাদের অবস্থা এমনই।
খায়েশের মুখে লাগাম আটবেন কীভাবে? এর খারাপ দিকগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করলে সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। নিজেকে নিয়ে ভাবলে পুরে বুঝবেন, খায়েশের গোলামির জন্য আপনার জন্ম হয়নি। ৬৯ আপনার চেয়ে বেশি খায়েশ আপনি আপনার চেয়ে সহজভাবে বেশি করে। জানোয়ারদের কামনা লাগামহীন। কিন্তু ওদের হৃদয় আসে না।
মানুষের পিপাসা যখন কমে যায়, বার্ধক্য পৌঁছায় তখন তার উপলব্ধি হয় কামনার পেছনে ছোটার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়নি।
যেসব কামনা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গেছে সেগুলো নিন্দিত। বিবেকবুদ্ধি এগুলোকে মন্দ বলে জানে। অন্যায়াদি আত্ম-উন্নয়নের ইচ্ছেগুলো প্রশংসিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00