📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 জু-তওয়া : রাসূলুল্লাহর (সা) মক্কা প্রবেশের অবতরণস্থল

📄 জু-তওয়া : রাসূলুল্লাহর (সা) মক্কা প্রবেশের অবতরণস্থল


জু-তওয়া মক্কার প্রসিদ্ধ কূপসমূহের অন্যতম। এটি জারওয়ালের বর্তমান ম্যাটারনিটি ও চিলড্রেন হসপিটালের সামনে অবস্থিত। হাদীসে এ কূপের আলোচনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (সা) সেখানে অবতরণ করে গোসল করেছেন এবং রাত্রি যাপন করেছেন। হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর (রা) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা) মদীনা থেকে মক্কায় আসার সময় প্রথমে জু-তওয়ায় অবতরণ করেন এবং সেখানে ফজরের নামায পড়া পর্যন্ত রাত কাটান। সেখানে রাসূলুল্লাহ (সা) এর নামাযের স্থান হচ্ছে বর্তমান মসজিদের আরো পরে এবং নীচে। হযরত ইবনে উমরের বর্ণনায় আরো এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা) জু-তওয়ায় রাত্রিযাপন, ফজরের নামায পড়া এবং সেখানে থেকে গোসল করা ব্যতীত দিনে ছাড়া কখনো মক্কায় প্রবেশ করতেন না। (আবু দাউদ ও নাসাঈ) আবুজর আরো একটু অতিরিক্ত যোগ করে বলেছেন, 'রাসূলুল্লাহ (সা) রাত্রে মক্কায় প্রবেশ করা অপছন্দ করতেন।
উরওয়া থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা) জু-তওয়ায় রাত্রি যাপন করেন ও ফজরের নামায পড়েন। তারপর গোসল করেন এবং মক্কায় প্রবেশ করেন। (মোআত্তা মালেক)
হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি মসজিদে হারামে প্রবেশের আগে, মক্কার নিজ বাড়ীতে গোসল করতেন। হযরত আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি মক্কায় প্রবেশের আগে, জু-তওয়ায় গোসল করতেন। )اخرجه الشافعی
ইমাম মালেক উল্লেখ করেছেন, ইবনে উমর হজ্জ ও উমরাহ করার উদ্দেশ্যে বের হলে নিজে গোসল করা এবং সাথীদেরকে গোসলের আদেশ ব্যতীত মক্কায় প্রবেশ করতেন না। হযরত ইবনে উমর থেকে আরেক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা) মক্কায় প্রবেশের আগে ফাখ নামক জায়গায় গোসল করেছেন। (দারে কুতনী) হাফেজ মুহিববুদ্দিন তাবারী বলেছেন, উলামায়ে কেরামের মতে, মক্কায় প্রবেশের আগে গোসল করা মোস্তাহাব।
জু-তওয়া হচ্ছে, উত্তর দিক থেকে আগত যাত্রীদের মক্কায় প্রবেশের সাবেক প্রবেশ পথ। এটি মসজিদে হারাম থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বর্তমানে মক্কা শহর সম্প্রসারিত হয়ে অনেক বড় হয়েছে এবং জু-তওয়া শহরের মাঝখানে অবস্থান করছে। অথচ আগে মক্কা শহর ঐ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল।
অপরদিকে, ফাখ হচ্ছে বর্তমানে যাহের, শোহাদা ও উম্মুল জুদ নামে পরিচিত এলাকার নাম। ফাখ হচ্ছে, মক্কার ২য় বৃহত্তম উপত্যকা। এটি মূলতঃ সানিয়াতুল বায়দা পাহাড়ের ঢালু থেকে শুরু হয়েছে। এটি জেদ্দাগামী লোকদের জন্য জু-তওয়ার বামে থাকে। রাসূলুল্লাহ (সা) বিদায় হজ্জের সময় যখন মক্কায় আসেন তখন জু-তওয়ায় অবতরণ করে গোসল করেন। তবে বিদায় হজ্জ ছাড়া অন্য কোন সফরে তিনি ফাখ এলাকায় অবতরণ করেন এবং গোসল করেন। বর্তমানে এর কাছে একটি মসজিদ নির্মিত হয়েছে।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 ওয়াদী সারেফ : উম্মুল মোমেনীন হযরত মায়মুনার বিয়ে ও কবর

📄 ওয়াদী সারেফ : উম্মুল মোমেনীন হযরত মায়মুনার বিয়ে ও কবর


মসজিদে হারাম থেকে সারেফ উপত্যকার (ওয়াদী সারেফ) দূরত্ব হচ্ছে ৬ মাইল। কারো কারো মতে, ৭ মাইল, ৯ মাইল এবং ১২ মাইল। এই উপত্যকাটি ওয়াদী ফাতেমা এবং মক্কার মাঝে অবস্থিত অর্থাৎ এটি জমুম (ওয়াদী ফাতেমা) ও তানঈমের মাঝে অবস্থিত। এর বর্তমান নাম হচ্ছে حَى النوارية বা নাওয়ারিয়া এলাকা। এলাকাটি উত্তর মক্কার প্রবেশদ্বারে হিজরাহ সড়কের উপর এবং সড়কটি বর্তমানে এক্সপ্রেস রোড হিসাবে পরিচিত।
এই উপত্যকায় হযরত মায়মুনা বিনতে হারেস হেলালীর সাথে রাসূলুল্লাহ (সা) এর বিয়ে হয়। রাসূলুল্লাহ (সা) ৬ষ্ঠ হিজরীতে, হোদায়বিয়ার সন্ধির পর উমরাহ না করে ফিরে যান এবং পরের বছর ৭ই হিজরীর জিলকদ মাসে মক্কায় কাজা উমরাহ আদায়ের সময় সারেফ উপত্যকায় হযরত মায়মুনার সাথে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁর নাম ছিল বোররাহ। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর নাম রাখেন মায়মুনা। হযরত মায়মুনা (রা) নিজেকে রাসূলুল্লাহ (সা) এর জন্য ওয়াকফ করেন। কাতাদাহ উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর শানেই নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়-
وامْرَأَةً مُّؤْمِنَةٌ إِنْ وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِيِّ - অর্থ : 'একজন মোমেন মহিলা যখন নিজেকে নবীর জন্য দান করল।'
উমরাহ বিনতে আবদুর রহমান বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁকে ৫শ' দেরহাম দেনমোহরের বিনিময়ে বিয়ে করেন। ইবনে সাইয়েদুন নাস তাঁর সীরাত গ্রন্থে লিখেছেন, মায়মুনা (রা) সওয়ারীর উপর থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ফলে, মায়মুনা সওয়ারী থেকে নেমে নিজেকে রাসূলুল্লাহ এর খেদমতে পেশ করে বলেন, উট এবং উটের পিঠের সওয়ারীকে রাসূলুল্লাহর জন্য ওয়াকফ করলাম।
ইবনে সা’দ হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন,
اَلْاَخَوَاتُ الْمُؤْمِنَاتُ مَيْمُوْنَةُ وَأُمُّ الْفَضْلِ وَأَسْمَاءُ -
অর্থঃ মায়মুনা, উম্মে ফজল এবং আসমা হচ্ছে মোমেন বোন। হযরত আয়েশা (রা) তাঁর সম্পর্কে বলেন, মায়মুনা আমাদের মধ্যে বেশী খোদাভীরু ও আত্মীয়তার হক আদায়কারিণী। তাঁর বক্তব্যটি হচ্ছে এই যে,
اَمَا اِنَّهَا كَانَتْ اَتْقَانَا لِلَّهِ وَاَوْصَلَنَا لِلرَّحِمِ -
রাসূলুল্লাহ (সা) কাজা উমরাহ আদায়ের জন্য মক্কার উদ্দেশ্যে আসার সময় সারেফ উপত্যকায় হযরত মায়মুনার সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। উমরাহ শেষে মদীনা ফেরার পথে তিনি সারেফ উপত্যকায় অবতরণ করেন এবং হযরত মায়মুনা (রা) এর সাথে বাসর যাপন করেন। পরে, হযরত মায়মুনা (রা) একই জায়গায় ইতিকাল করেন এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়। সেই জায়গাটি রাস্তার পাশেই অবস্থিত।
সারেফ উপত্যকায় তাঁর কবরের উপর একটি গম্বুজ এবং পার্শ্বে একটি মসজিদ ছিল। পরবর্তীতে গম্বুজটি ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং মসজিদ অবশিষ্ট থাকে। কিন্তু ১৩৭২ হিজরীতে সেই মসজিদটিও ভেঙ্গে দেওয়া হয়।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 হেরা গুহা

📄 হেরা গুহা


হেরা গুহা যে পাহাড়ে অবস্থিত সে পাহাড়টির নাম হচ্ছে হেরা পাহাড় কিংবা নূর পাহাড়। এটি মক্কার উত্তর দিকে অবস্থিত। নগর অভিধান প্রণেতা ইয়াকুব হামাভী লিখেছেন, মসজিদে হারাম থেকে এর দূরত্ব ৩ মাইল। বর্তমানে আবাদী হেরা পাহাড়কেও ছাড়িয়ে গেছে। মসজিদে হারাম থেকে নূর পাহাড়ের দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। এটি একটি খাড়া পাহাড়। এর উচ্চতা হচ্ছে ২শ’ মিটার এবং এর চূড়ায় পৌঁছতে প্রায় আধ ঘন্টা সময় লাগে।
গুহাটি পাহাড়ের চূড়া থেকে ৪০ মিটার দূরে। মানুষ গুহায় পৌঁছার জন্য চূড়া থেকে নীচের দিকে যায়। পাহাড়ে উঠা ও গুহায় নামার জন্য কোন সুষ্ঠু সিঁড়ি নেই। পাহাড়ের গায়ে চড়ে উঠানামা করতে হয়। বর্তমানে, পথ হারানো থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে পথের দুই পার্শ্বে সাদা পিলার বসানো হয়েছে। গর্ভের প্রবেশ পথ উত্তরমুখী। এর উচ্চতা হচ্ছে মধ্যম আকৃতির মানুষের উচ্চতার সমান। এতে একসাথে ৫ জন লোক বসতে পারে।
এই গুহার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, আল্লাহ এতে নবী করীম (সা) এর উপর ওহী নাযিল করেছেন। নবুওয়াত লাভের পূর্বে, রাসূলুল্লাহ (সা) এই গর্তে বসে সাধনা করেছেন এবং একাধারে অনেকদিন পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতেন। বুখারী শরীফের ভাষ্য অনুযায়ী সেখানেই, হযরত জিবরাইল (আ) সর্বপ্রথম ওহী নিয়ে হাজির হন।
সেই গুহাটি থেকে আগে কা'বা শরীফ পরিষ্কার দেখা যেত। কিন্তু মক্কা শহরে আজকাল সুউচ্চ ইমারত নির্মাণের কারণে, সেখান থেকে কা'বা দৃষ্টিগোচর হয় না। হেরা পাহাড় মক্কার সর্বোচ্চ পাহাড়। মক্কা শহরের চতুর্দিক থেকে হেরা পাহাড়ের উঁচু শৃঙ্গটি দৃষ্টিগোচর হয়। হযরত জিবরাইল (আ) তাঁর কাছে এসে প্রথমে বলেন, পড়। তিনি বলেন, আমি নিরক্ষর, পড়তে পারি না। জিবরাইল তাঁকে জোরে জড়িয়ে ধরে দ্বিতীয়বারও সেই একই কথা বললে নবী করীম (সা) একই উত্তর দেন। জিবরাইল পুনরায় তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। ৩য় বার জিবরাইল সূরা আ'লাকের প্রথম ৫টি আয়াত পড়ে শুনান। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) ও ঐ আয়াতগুলো সাথে সাথে পড়েন। সেই আয়াতগুলো হচ্ছে: اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ - خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ - اقْرَأْ وَرَبُّكَ الأَكْرَمُ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ - عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ .
অর্থ: 'পড় (হে নবী)! তোমার রবের নাম সহকারে যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে জমাট রক্তের এক পিন্ড থেকে সৃষ্টি করেছেন। পড়, তোমার রব অনুগ্রহশীল, যিনি কলমের সাহায্যে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে এমন জ্ঞান দিয়েছেন যা মানুষ জানত না।'
হেরা পাহাড় মানুষের হেদায়াতের প্রথম আলো বিতরণকারী পাহাড় হিসেবে মুসলমানদের অন্তরে সম্মানের আসন গেঁড়ে আছে। তাই এর অপর নাম হচ্ছে 'নূর পাহাড়' বা আলোর পাহাড়।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 সাওর গুহা

📄 সাওর গুহা


এই গুহাটি সাওর পাহাড়ে মসজিদে হারামের ৬ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। এটি হেরা পাহাড় থেকে বড় পাহাড় এবং মসজিদে হারাম থেকে অপেক্ষাকৃত দূরে। সাওর বিন মানাতের নামানুসারে এটিক নামকরণ করা হয়েছে। এই পাহাড়ে উঠতে প্রায় দেড় ঘন্টা সময় লাগে। ৩টি সংযুক্ত পাহাড়ের সমষ্টিকে সাওর পাহাড় বলা হয় এবং দুই পাহাড় অতিক্রম করার পর ৩য় পাহাড়ে ঐ গুহাটি অবস্থিত। পাহাড়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৫৪টি উঁচু নীচু মোড় আছে। পাহাড়ে আরোহণকারী ব্যক্তি ঐ সকল মোড় দিয়ে একবার উপরে উঠে, আবার নীচে নামে। এইভাবে তাকে চূড়ায় অবস্থিত গুহায় পৌঁছতে হয়। পাহাড়ের চূড়ায় গর্তটি একটি ছোট নৌকার মত দেখায় এবং এর পিঠ হচ্ছে উপরের দিকে। এর সামনে ও পেছনে দুটো ছিদ্র আছে। গুহাটি মাটি থেকে ৫শ' মিটার উপরে।
গুহার দৈর্ঘ্য ১৮ বিঘত এবং সংকীর্ণ মুখের দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৫ বিঘত। যমীন থেকে এর মুখের উচ্চতা ১ বিঘত এবং অন্য দুই দিক থেকে উচ্চতা হচ্ছে এক বিঘতের দুই তৃতীয়াংশ। এর প্রবেশমুখের ২য় দরজার প্রশস্ততা হচ্ছে ১৫ বিঘত। এই গুহার মধ্যেই কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল হয়:
ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْهُمَا فِي الْغَارِ - (التوبه : ٤٠)
অর্থ: 'তারা দু'জন যখন সেই গর্তে ছিল, তখন দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল।'
ঐ গুহায় রাসূলুল্লাহ (সা) এবং তাঁর প্রিয় সাথী হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা) আশ্রয় নিয়েছিলেন। মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার সময় রাসূলুল্লাহ (সা) হযরত আবু বকরকে নিয়ে ৩ দিন ঐ পাহাড়ের গর্তটিতে আত্মগোপন করেন। উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের ব্যাপারে কোরাইশ কাফেরদের তল্লাশী থেমে যাবে। তাঁদের খাবার ছিল খেজুর। হযরত আবু বকরের মেয়ে আসমা (রা) মক্কা থেকে তাঁদের জন্য রাত্রে খাবার নিয়ে আসতেন। কোরাইশরা তাঁদের দু'জনকে তালাশ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সাওর গুহায় গিয়ে পৌঁছে এবং গুহার মুখে মাকড়সার জাল দেখে ফিরে আসে। কেননা, কেউ ভেতরে ঢুকলে গুহার মুখে মাকড়সার জাল থাকতে পারে না। আল্লাহর কত অসীম কুদরত যে সামান্য মাকড়সার জাল দিয়ে তিনি তাঁর নবী, দীন ও শরীয়তের হেফাজত করেন।
কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, আল্লাহ দুটো বন্য কবুতরকে আদেশ করেছেন তারা যেন গর্তের প্রতিরক্ষার কাজ করে। সে অনুযায়ী কবুতর দুটো মাকড়সার জাল ও গাছের মাঝখানে বসে থেকে গুহার হেফাজত করে। কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতটি কতই না তাৎপর্যপূর্ণ!
وَاللَّهُ جُنُودُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ - (الفاتح - 8)
অর্থ: 'আল্লাহর জন্যই আসমান এবং যমীনের সৈন্য-সামন্ত নিয়োজিত।'
কাফেরগণ রাসূলুল্লাহ (সা) এর পেছনে পেছনে গুহা পর্যন্ত গেল। কিন্তু গুহার মুখে মাকড়সার জাল দেখে তারা সন্দেহের মধ্যে পড়ে গেল। এইভাবে, আল্লাহ তাঁর বান্দাহদ্বয়কে হেফাজত করেন। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ কুরআনে বলেন:
فَأَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُ بِجُنُودٍ لَمْ تَرَوْهَا - (التوبه : ٤٠ )
অর্থ: আল্লাহ তাঁর (নবীর) উপর প্রশান্তি নাযিল করেন এবং অদৃশ্য সেনা দিয়ে তাঁকে সাহায্য করেন।' হযরত আবু বকর বলেন, তারা পা উঠালেই আমাদেরকে দেখতে পাবে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন: পেরেশান হয়ো না, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00