📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 ২৭) মক্কায় কুরআন খতম করা উত্তম

📄 ২৭) মক্কায় কুরআন খতম করা উত্তম


আমাদের পূর্বসূরী বুজুর্গানে দীন, মক্কায় আগত লোকদের জন্য, কুরআন খতম করাকে উত্তম বলেছেন। বিশেষ করে তওয়াফের মধ্যে যদি তা করা সম্ভব হয়, তাহলে সেটাই সর্বোত্তম। হাদীস শরীফে, যে তিন মসজিদের প্রতি সফর করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে সে সকল মসজিদগুলোর প্রত্যেকটাতেই কুরআন খতম করাকে, তাঁরা উত্তম বলেছেন। সে মসজিদ ৩টি হচ্ছে, মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী এবং মসজিদে আকসা। সাঈদ বিন মনসুর বর্ণনা করেছেন যে, ইবরাহীম নখয়ী বলেছেন, লোকেরা মক্কা শরীফে এসে, পুরো কুরআন খতম করার আগে, নিজ দেশের উদ্দেশ্যে ফিরে যেতেন না দেখে, তাঁরা আশ্চর্য হতেন। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, মক্কায় কুরআন খতম করে দেশে ফেরাকে বুজুর্গানে দীন উত্তম মনে করতেন। তাই তারা কুরআন খতম না করে দেশে ফিরতেন না।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 ২৮) বিদায়ী তওয়াফ

📄 ২৮) বিদায়ী তওয়াফ


মক্কা শরীফ থেকে বিদায় নেয়ার পূর্বে, বিদায়ী তওয়াফ করা জরুরী। হজ্জ ও উমরায় আগত বাইরের লোকদের জন্য বিদায়ী তওয়াফ জরুরী। কিন্তু এছাড়াও, হজ্জ উমরাহ ব্যতীত মক্কার অধিবাসী কিংবা বাইরের কোন লোক-যদি মক্কা থেকে এমন পরিমাণ দুরত্ব অতিক্রম করে সেখানে নামায কসর করতে হয়-তাহলে তাদের জন্যও হারাম শরীফের সম্মানার্থে বিদায়ী তওয়াফ করাকে, দুই মতের মধ্যে, বিশুদ্ধ মত বলা হয়েছে। অপর মতে, তাদের জন্য বিদায়ী তওয়াফ করার প্রয়োজন নেই।
মুসলিম শরীফে, হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে একটি হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হচ্ছে- 'রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: কেউ যেন বিদায়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা না করে যে পর্যন্ত না আল্লাহর ঘরের সাথে তার সর্বশেষ সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়।' অর্থাৎ মক্কা থেকে বের হওয়ার আগে সর্বশেষ কাজ হল আল্লাহর ঘরের তওয়াফ করা এবং এরপর বিদায় যাত্রা শুরু করা। বিদায়ী তওয়াফের মাঝে আর কোন কাজ নেই।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 ২৯) মক্কার প্রতি হৃদয়ের আকর্ষণবোধ

📄 ২৯) মক্কার প্রতি হৃদয়ের আকর্ষণবোধ


আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মক্কার প্রতি মানুষের অন্তরে, ভালবাসা ও বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করেছেন যা আর কোন শহরের প্রতি করেননি। মক্কার কথা শুনলেই মোমেনের মন নেচে উঠে এবং ভক্তি-শ্রদ্ধায় গদগদ হয়ে উঠে। এটা মানুষের মনকে চুম্বকের চাইতেও বেশী আকর্ষণ করে। এজন্যই আল্লাহ এই শহরকে কুরআনে 'বছর পরিক্রমা শেষে মানুষের প্রত্যাবর্তনের স্থান' হিসাবে উল্লেখ করেছেন। মূলতঃ এই শহরের প্রতি মানুষের অন্তরকে আকৃষ্ট করার জন্য হযরত ইবরাহীম (আ) আল্লাহর কাছে যে দোয়া করেছিলেন, তারই বরকতে মানুষ মক্কাকে ভালবাসে এবং মক্কার প্রতি তীব্র আকর্ষণ অনুভব করে। কোন কোন সময় সে আকর্ষণ উন্মাদের উন্মত্ততাকেও ছাড়িয়ে যায় এবং এই ঘরের দেওয়ানা ও আল্লাহর প্রেমে সিক্ত ব্যক্তি, এখানে পৌছার আগে এবং তা দেখা ব্যতীত, অন্তরের জ্বালা নিবারণ করতে পারে না। ভুক্তভোগী ব্যক্তিরাই তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারেন। কতলোক, এই ঘর দেখার জন্য আফসোস করতে করতে কবরে চলে গেছেন! কিন্তু সামর্থের অভাবে এখান পর্যন্ত পৌছতে পারেননি।
এক হাদীসে এসেছে যে, 'আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রত্যেক শা'বান মাসের মাঝামাঝি তারিখের রাত্রে, কা'বা শরীফের প্রতি (বিশেষ) দৃষ্টি দেন।' তখনই এই ঘরের প্রতি মানুষের ভালবাসা ও আকর্ষণ সৃষ্টি হয় এবং তা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 ৩০) মক্কায় মৃত্যুর ফজীলেত

📄 ৩০) মক্কায় মৃত্যুর ফজীলেত


হযরত আয়িশা (রা) বর্ণনা করেছেন: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ مَّاتَ فِي هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَاجَ أَوْ مُعْتَمِرٍ لَمْ يُعْرَضُ وَلَمْ يُحَاسَبُ وَقِيلَ لَهُ : ادْخُلِ الْجَنَّةَ .
অর্থ: 'রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, কোন হাজী ও উমরাহ আদায়কারী যদি এখানে মারা যায়, তাহলে, তার কোন প্রশ্ন ও হিসাব হবে না। তাকে বলা যাবে, তুমি বেহেশতে প্রবেশ কর।'
আল্লামা ইবনুল জাওযী, এটাকে 'মিথ্যা হাদীসের' অন্তর্ভুক্ত বলে আখ্যায়িত করেছেন। অবশ্য আল্লামা সুয়ূতী বলেছেন, ইমাম বায়হাকীসহ আবু নাঈম তাঁর حلية গ্রন্থে এই হাদীসটির উল্লেখ করেছেন এবং তাঁরা এটাকে মিথ্যা হাদীস বলে অভিহিত করেননি। অবশ্য হযরত আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা) এর একটি হাদীসে বলা হয়েছে যে, مَنْ خَرَجَ حَاجًا أَوْ مُعْتَمِراً أَوْ غَازِيًا ثُمَّ مَاتَ فِي طَرِيقِهِ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ أَجْرَ الْغَازِي وَالْحَاجِّ وَالْمُعْتَمِرِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ .
অর্থঃ "যে ব্যক্তি হজ্জ, কিংবা উমরাহ অথবা জিহাদে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে বের হয় এবং পথে মারা যায়, আল্লাহ তাকে কিয়ামত পর্যন্ত যোদ্ধা, হাজী ও উমরাহকারীর সওয়াব দান করবেন।"

হযরত যাবের (রা) বর্ণনা করেছেন যে, قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ مَاتَ فِي طَرِيقِ مَكَّةَ لَمْ يَعْرِضُهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَمْ يُحَاسِبْهُ .
অর্থ: 'রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি মক্কার পথে মারা যাবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে কোন প্রশ্ন করবেন না এবং তাঁর কাছে হিসাব চাইবেন না।'
আল্লামা ইবনুল জাওযী এই হাদীসটিকেও মিথ্যা বলেছেন। কিন্তু আল্লামা সুয়ূতী অন্য আরেকটি সনদে সামান্য শব্দের পার্থক্যসহ এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, হাদীসের মূল বিষয়বস্তু ঠিক আছে।

সালমান (রা) রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে বর্ণনা করেছেন,
قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ مَاتَ بِأَحَدِ الْحَرَمَيْنِ اسْتُوْجِبَ شَفَاعَتِي وَجَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنَ الْآمِنِيْنِ ، اخرجه ابن عدى .
অর্থ: 'রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: কেউ যদি দুই হারামের কোন এক হারাম শরীফে মারা যায়, তার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব হবে এবং কিয়ামতের দিন সে নিরাপদ ব্যক্তিদের মধ্যে পরিগণিত হবে।

আবু যোবায়ের নবী করীম (সা) থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। সেটি হচ্ছে- قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ مَاتَ فِي أَحَدِ الْحَرَمَيْنِ مَكَّةَ أَوِ الْمَدِينَةَ بُعِثَ آمِنًا - اخرجه ابن عدى .
অর্থ: 'রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: যে ব্যক্তি মক্কা ও মদীনার দুই হারামের কোন এক হারামে মারা যায় সে কিয়ামতের দিন নিরাপদভাবে উঠবে।' ইবনুল জাওযী বর্ণিত হাদীস দুটোকে 'মিথ্যা হাদীসের' অন্তর্ভূক্ত করেছেন। আল্লামা সুযুতী বলেছেন, ইবনুল জাওযী হাদীস দুটোকে মিথ্যা বলে বাড়াবাড়ি করেছেন। কেননা, ইমাম বায়হাকী তাঁর شعب الایمان গ্রন্থে এই হাদীস দুটো উল্লেখ করে বলেছেন যে, এগুলোর সনদ দুর্বল।

হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর (রা) থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: مَنْ مَاتَ بَيْنَ الْحَرَمَيْنِ حَاجًا أَوْ مُعْتَمِرًا بَعَثَهُ اللَّهُ بِلأَحِسَابِ عَلَيْهِ ولا عذاب - (الحاكم)
অর্থঃ 'যে ব্যক্তি দুই হারামে, হজ্জ কিংবা উমরাহ আদায় করা অবস্থায় মারা যাবে আল্লাহ তার কোন হিসাব নেবেন না এবং তাকে কোন আযাব দেবেন না।' আল্লামা ইবনুল জাওযী এই হাদীসটিকে মিথ্যা বলেছেন।

আল্লামা আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نِعْمَ الْمَقْبَرَةُ هَذِهِ .
অর্থ: 'এই কবরস্থানটি কতইনা উত্তম।' ইবনে জোরাইজ বলেছেন, এই কবরস্থান বলতে, মক্কার কবরস্থানকে বুঝানো হয়েছে।

আবদুল্লাহ বিন উমর, রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে,
مَنْ مَاتَ بِمَكَّةَ فَإِنَّمَا مَاتَ فِي سَمَاءِ الدُّنْيَا
অর্থ: 'যে ব্যক্তি মক্কায় মারা যায়, সে যেন প্রথম আসমানে মারা গেল।' আল্লামা ফাসী বলেছেন, হাদীসটির সনদ দুর্বল। তিনি বলেছেন যে, হাসান বসরীর প্রসিদ্ধ 'রেসালা' বইতেও এ হাদীসটির উল্লেখ আছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00