📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 ২৬) দম্ বা কুরবানীর পশু মক্কায় জবেহ করা জরুরী

📄 ২৬) দম্ বা কুরবানীর পশু মক্কায় জবেহ করা জরুরী


হজ্জের দম বা কোরবানী শুধুমাত্র মক্কায় হারাম সীমানার ভেতরই জবেহ করতে হবে এবং ঐ সকল গোশত হারাম এলাকার ফকির-মিসকিনদের মধ্যে বিলি করতে হবে। যদি হারাম এলাকায় ফকির মিসকিন না থাকে, তাহলে তা বাইরেও বন্টন করা যাবে। যদি ঐ সকল কোরবানীর পশু হারাম এলাকার বাইরে জবেহ করা হয়, তাহলে সকল মাজহাব অনুযায়ী তা না জায়েয। হজ্জে তামাতু ও কেরানসহ অন্যান্য যেসব কারণে হাদী বা দম ওয়াজেব হয়, সে সকল হাদী বা দম, সবগুলোই হারাম সীমানার ভেতর জবেহ করা শর্ত।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 ২৭) মক্কায় কুরআন খতম করা উত্তম

📄 ২৭) মক্কায় কুরআন খতম করা উত্তম


আমাদের পূর্বসূরী বুজুর্গানে দীন, মক্কায় আগত লোকদের জন্য, কুরআন খতম করাকে উত্তম বলেছেন। বিশেষ করে তওয়াফের মধ্যে যদি তা করা সম্ভব হয়, তাহলে সেটাই সর্বোত্তম। হাদীস শরীফে, যে তিন মসজিদের প্রতি সফর করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে সে সকল মসজিদগুলোর প্রত্যেকটাতেই কুরআন খতম করাকে, তাঁরা উত্তম বলেছেন। সে মসজিদ ৩টি হচ্ছে, মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী এবং মসজিদে আকসা। সাঈদ বিন মনসুর বর্ণনা করেছেন যে, ইবরাহীম নখয়ী বলেছেন, লোকেরা মক্কা শরীফে এসে, পুরো কুরআন খতম করার আগে, নিজ দেশের উদ্দেশ্যে ফিরে যেতেন না দেখে, তাঁরা আশ্চর্য হতেন। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, মক্কায় কুরআন খতম করে দেশে ফেরাকে বুজুর্গানে দীন উত্তম মনে করতেন। তাই তারা কুরআন খতম না করে দেশে ফিরতেন না।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 ২৮) বিদায়ী তওয়াফ

📄 ২৮) বিদায়ী তওয়াফ


মক্কা শরীফ থেকে বিদায় নেয়ার পূর্বে, বিদায়ী তওয়াফ করা জরুরী। হজ্জ ও উমরায় আগত বাইরের লোকদের জন্য বিদায়ী তওয়াফ জরুরী। কিন্তু এছাড়াও, হজ্জ উমরাহ ব্যতীত মক্কার অধিবাসী কিংবা বাইরের কোন লোক-যদি মক্কা থেকে এমন পরিমাণ দুরত্ব অতিক্রম করে সেখানে নামায কসর করতে হয়-তাহলে তাদের জন্যও হারাম শরীফের সম্মানার্থে বিদায়ী তওয়াফ করাকে, দুই মতের মধ্যে, বিশুদ্ধ মত বলা হয়েছে। অপর মতে, তাদের জন্য বিদায়ী তওয়াফ করার প্রয়োজন নেই।
মুসলিম শরীফে, হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে একটি হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হচ্ছে- 'রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: কেউ যেন বিদায়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা না করে যে পর্যন্ত না আল্লাহর ঘরের সাথে তার সর্বশেষ সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়।' অর্থাৎ মক্কা থেকে বের হওয়ার আগে সর্বশেষ কাজ হল আল্লাহর ঘরের তওয়াফ করা এবং এরপর বিদায় যাত্রা শুরু করা। বিদায়ী তওয়াফের মাঝে আর কোন কাজ নেই।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 ২৯) মক্কার প্রতি হৃদয়ের আকর্ষণবোধ

📄 ২৯) মক্কার প্রতি হৃদয়ের আকর্ষণবোধ


আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মক্কার প্রতি মানুষের অন্তরে, ভালবাসা ও বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করেছেন যা আর কোন শহরের প্রতি করেননি। মক্কার কথা শুনলেই মোমেনের মন নেচে উঠে এবং ভক্তি-শ্রদ্ধায় গদগদ হয়ে উঠে। এটা মানুষের মনকে চুম্বকের চাইতেও বেশী আকর্ষণ করে। এজন্যই আল্লাহ এই শহরকে কুরআনে 'বছর পরিক্রমা শেষে মানুষের প্রত্যাবর্তনের স্থান' হিসাবে উল্লেখ করেছেন। মূলতঃ এই শহরের প্রতি মানুষের অন্তরকে আকৃষ্ট করার জন্য হযরত ইবরাহীম (আ) আল্লাহর কাছে যে দোয়া করেছিলেন, তারই বরকতে মানুষ মক্কাকে ভালবাসে এবং মক্কার প্রতি তীব্র আকর্ষণ অনুভব করে। কোন কোন সময় সে আকর্ষণ উন্মাদের উন্মত্ততাকেও ছাড়িয়ে যায় এবং এই ঘরের দেওয়ানা ও আল্লাহর প্রেমে সিক্ত ব্যক্তি, এখানে পৌছার আগে এবং তা দেখা ব্যতীত, অন্তরের জ্বালা নিবারণ করতে পারে না। ভুক্তভোগী ব্যক্তিরাই তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারেন। কতলোক, এই ঘর দেখার জন্য আফসোস করতে করতে কবরে চলে গেছেন! কিন্তু সামর্থের অভাবে এখান পর্যন্ত পৌছতে পারেননি।
এক হাদীসে এসেছে যে, 'আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রত্যেক শা'বান মাসের মাঝামাঝি তারিখের রাত্রে, কা'বা শরীফের প্রতি (বিশেষ) দৃষ্টি দেন।' তখনই এই ঘরের প্রতি মানুষের ভালবাসা ও আকর্ষণ সৃষ্টি হয় এবং তা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00