📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 ১৫) মক্কায় নামাযের অতিরিক্ত সওয়াব

📄 ১৫) মক্কায় নামাযের অতিরিক্ত সওয়াব


মক্কায় নামায পড়লে অন্য জায়গার তুলনায় ১ লাখ গুণ সওয়াব বেশী হয়। এ প্রসঙ্গে বুখারী ও মুসলিম শরীফে হযরত আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত হাদীসটি হচ্ছে এরূপঃ
إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : صَلَاةٌ فِي مَسْجِدِيي خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ مِنَ الْمَسَاجِدِ إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ -
অর্থ: 'রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, আমার মসজিদে (নববীতে) নামায পড়া অন্য মসজিদের তুলনায় এক হাজার গুণ সওয়াব বেশী, তবে মসজিদে হারাম এর চাইতে ব্যতিক্রম।' আহমদ এবং বাজ্জার তাঁদের মুসনাদে, মসজিদে নববীর চাইতে মসজিদে হারামে নামায পড়াকে অনুরূপ বেশী সওয়াবের কারণ বলেছেন।
ইবনে হিববান তাঁর হাদীস গ্রন্থে হাম্মাদ বিন যায়েদ-হাবিব আল-মোয়াল্লেম-আতা বিন আবি রেবাহ-আবদুল্লাহ বিন যোবায়েরের সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন যে,
قَالَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : صَلَاةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا أَفْضَلُ مِّنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِي غَيْرِهِ مِنَ الْمَسَاجِدِ إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ وَصَلَاةٌ فِي المسجدِ الْحَرَامِ أَفْضَلُ مِنَ الصَّلاة في مسجدي هذا بمائة صلاة .
অর্থ: "নবী করীম (সা) বলেছেন: আমার মসজিদের নামায অন্য মসজিদের চাইতে ১ হাজার গুণ উত্তম। তবে মসজিদে হারাম এর ব্যতিক্রম। মসজিদে হারামের নামায আমার মসজিদের চাইতে ১০০ গুণ উত্তম।” এর অর্থ দাঁড়ায় মসজিদে হারামের নামায, অন্য মসজিদের চাইতে ১ লাখ গুণ এবং মসজিদে নববীর চাইতে ১০০ গুণ উত্তম।
ইবনে মাজা, ইসমাঈল বিন রাশেদ-যাকারিয়া বিন আদী-আবদুল্লাহ বিন আমর আবদুল করীম-আতা-জাবের এই সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন-
صَلَاةٌ فِي مَسْجِدِى هَذَا أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلَاةِ فِيمَا سِوَاهُ إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ وَصَلَاةٌ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَفْضَلُ مِنْ مَّائَةِ أَلْفِ فِيمَا سِوَاهُ -
অর্থ: 'আমার মসজিদের নামায, মসজিদে হারাম ব্যতীত, অন্য যে কোন মসজিদের নামাযের চাইতে এক হাজার গুণ উত্তম, আর মসজিদে হারামের নামায অন্য মসজিদের চাইতে ১ লাখ গুণ বেশী উত্তম।' এর ফলে মসজিদে হারামের এক ওয়াক্ত নামায এক ব্যক্তির ৫৫ বছর ৬ মাস ২০ রাতের নামাযের সমান হয় এবং মসজিদে হারামের একদিন ও রাত্রের নামায তথা ৫ ওয়াক্ত নামায এক ব্যক্তির ২৭৭ বছর ৯ মাস ১০ রাত্রির নামাযের সমান।
বাযযার তাঁর মুসনাদে ইবরাহীম বিন হোমাইদ-মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ বিন শাদ্দাদ-সাঈ বিন সালেহ আল কাদ্দাহ-সাঈদ বিন বশির-ইসমাঈল বিন ওবায়দুল্লাহ-উন্মুদ দারদা-আবুদ দারদার সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে বর্ণনা করেছেন-
فَضْلُ الصَّلاةِ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ عَلَى غَيْرِهِ بِمَائَةِ أَلْفِ صَلَاةٍ ، وَفِي مَسْجِدِى أَلْفُ صَلاةٍ - وَفِي مَسْجِدِ بَيْتِ الْمَقْدِسِ خَمْسُمِائَةِ صَلَاةٍ .
অর্থ: 'অন্য মসজিদের নামাযের চাইতে মসজিদে হারামের নামাযের মর্যাদা হচ্ছে ১ লাখ, আমার মসজিদের নামায এক হাজার এবং বায়তুল মাকদেসের মসজিদের নামায পাঁচশতগুণ বেশী।'
ইবনে মাজা হযরত আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন:
صلاةَ الرَّجُلِ فِي بَيْتِهِ بِصَلَاةِ - وَصَلَاتُهُ فِي مَسْجِدِ الْقَبَائِلِ بِخَمْسِ وعِشْرِينَ صَلَاةً ، وَصَلَاتُهُ فِي الْمَسْجِدِ الَّذِي يَجْمَعُ فِيهِ بَخَمْسِمِائَةِ صلاة - وَصَلَاةٌ فِي الْمَسْجِدِ الْأَقْطَى وَمَسْجِدِ الْمَدِينَةِ بِخَمْسِينَ أَلْفَ صَلَاةِ - وَصَلَاةٌ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ بِمِائَةِ أَلْفِ صَلَاةٍ .
অর্থ: 'কেউ ঘরে নামায পড়লে ১ গুণ, মহল্লার মসজিদে পড়লে ২৫ গুণ, জামে মসজিদে পড়লে ৫শ' গুণ, মসজিদে আকসা ও মদীনার মসজিদে (নববীতে) পড়লে ৫০ হাজার গুণ এবং মসজিদে হারামে পড়লে ১ লাখ গুণ বেশী সওয়াব পাবে।'
ইবনে ওয়াদ্দাহ-হামেদ বিন ইয়াহইয়া আলবালখী-ইবনে উয়াইনা-যিয়াদ-সোলায়মান বিন আতীক-আবদুল্লাহ বিন যোবায়েরের সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ বিন যোবায়ের হযরত উমর বিন খাত্তাবকে বলতে শুনেছেন: صَلاةٌ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَفْضَلُ مِنْ مَّائَةِ أَلْفِ صَلَاةٍ فِي مَسْجِدِ النَّبِيِّ صَلَّ اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ .
অর্থ: 'মসজিদে হারামের নামায, মসজিদে নববীর নামাযের চাইতে ১ লাখ গুণ বেশী উত্তম।' ইবনে হাযম বলেছেন, এর বর্ণনাকারীদের সূত্র সূর্যের মত পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ। সাহাবায়ে কেরামদের এই ব্যাপারে ইজমা ছিল যে, মসজিদে নববীর নামাযের চাইতে মসজিদে হারামের নামাযের মর্যাদা ১ লাখ গুণ বেশী। কোন সাহাবী এই মতের বিরোধিতা করেননি।
যাই হোক, তিন মসজিদে অতিরিক্ত ফজীলতের যে বর্ণনা এসেছে তা শুধু ফরজ নামাযের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সকল নফল ও সুন্নাত নামায এবং অন্য সকল এবাদতের বেলায়ও প্রযোজ্য।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 ১৬) অতিরিক্ত সওয়াব শুধু নামাযের মধ্যেই সীমিত নয়

📄 ১৬) অতিরিক্ত সওয়াব শুধু নামাযের মধ্যেই সীমিত নয়


অতিরিক্ত সওয়াব শুধু নামাযের মধ্যেই সীমিত নয়, বরং অন্যান্য সকল এবাদতের বেলায়ও প্রযোজ্য। নামাযের ফজীলত এবং কা'বা শরীফের দিকে নজর করার সওয়াবের উপর কেয়াস করে অন্যান্য সকল এবাদতেও এই অতিরিক্ত সওয়াব প্রযোজ্য বলে হুকুম দেয়া হয়েছে।
হযরত হাসান বসরী (রহঃ) বলেছেন: মক্কার একদিনের রোযা, ১ লাখ রোযা এক দেরহাম সদকা এক লাখ দেরহাম এবং সকল নেক কাজ ১ লাখ গুণ বেশী। ইবনে মাজা হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: مَنْ أَدْرَكَ شَهْرَ رَمَضَانَ بِمَكَّةَ فَصَامَهُ وَقَامَ مِنْهُ مَا تَيَسَّرَ كُتِبَ لَهُ مِائَةُ الْفِ شَهْرَ رَمَضَانَ فِيْمَا سِوَاهُ وَكُتِبَ بِكُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ عِشْقُ رَقَبَةٍ وَفِي كُلُّ يَوْمٍ حَمْلُ فَرَسَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَفِي كُلِّ لَيْلَةٍ حَسَنَةٌ .
অর্থ: 'কেউ মক্কায় রমযান মাস পেয়ে সেখানে রোযা রাখলে এবং সাধ্যমত তারাবীহর নামায পড়লে, অন্য জায়গার তুলনায় তাকে ১ লাখ রমযান মাসের সওয়াব দেয়া হবে। তদুপরি, প্রত্যেক দিন ও রাত্রের জন্য একটি গোলাম আযাদ করার সওয়াব, প্রত্যেক দিনের জন্য আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে দুটো ঘোড়া দানের সওয়াব এবং প্রত্যেক রাত্রির জন্য একটি করে নেক দান করা হবে। বাযযার তাঁর মুসনাদে হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন:
رَمَضَانُ بِمَكَّةَ أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ رَمَضَانَ بِغَيْرِ مَكَّةَ
'অন্য জায়গার তুলনায় মক্কার রমযান এক হাজার গুণ উত্তম।' হাকেম মোসতাদরাকে হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাসের একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। এতে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন-
مَنْ حَجَّ مِنْ مَكَّةَ مَاشِيَا حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْهَا كُتِبَ لَهُ بِكُلِّ خَطْوَةٍ سَبْعُمِائَةِ حَسَنَةٍ مِّنْ حَسَنَاتِ الْحَرَمِ - وَحَسَنَاتُ الْحَرَمِ - الْحَسَنَةُ بمائَةِ أَلْفِ حَسَنَةٍ -
অর্থঃ 'যে মক্কা থেকে পায়ে হেঁটে (মীনা-মোযদালাফা ও আরাফাতে) হজ্জ করে পুনরায় মক্কা ফিরে আসে, তার প্রতি কদমে হারামের ৭ শত নেক লেখা হয়, হারামের প্রতিটি নেক হচ্ছে ১ লাখ গুণ। হাকেম বলেছেন, এই হাদীসটির সনদ বিশুদ্ধ।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 ১৭) মক্কায় গুনাহ অতিরিক্ত

📄 ১৭) মক্কায় গুনাহ অতিরিক্ত


একদল আলেম বলেছেন, মক্কায় সওয়াব যেমন অতিরিক্ত হয়, ঠিক তেমনি গুনাহও অতিরিক্ত হয়। হযরত ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসউদ, আহমদ বিন হাম্বল এবং মুজাহিদের এই মত।
যারাকশী বলেছেন, হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাসকে তাঁর মক্কার বাইরে বাস করার কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জবাব দেন-
مَالِي وَلِبَلَدٍ تُضَاعَفُ فِيْهِ السَّيِّئَاتُ كَمَا تُضَاعَفُ فِيْهِ الْحَسَنَاتُ .
অর্থ: 'আমার ঐ শহর সম্পর্কে কিইবা বলার আছে যেখানে নেক কাজের মত পাপ কাজেরও অতিরিক্ত গুনাহ হয়।' )اعلام المساجد( )১২৮ পৃঃ(
মুজাহিদ বলেছেন, 'মক্কায় নেক কাজের মত পাপ কাজেরও অতিরিক্ত গুনাহ হয়।'
ইমাম আহমদ বিন হাম্বলকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, পাপ কি একাধিক গুণ হয়? তিনি জবাব দিয়েছেন, না, তবে মক্কার সম্মানের কারণে সেখানে পাপ বেশী হয়।
কিন্তু অপর একদল আলেম বলেছেন, মক্কায় পাপ বেশী হবে না, অন্য জায়গার মতই একটা পাপের একটাই গুনাহ হবে। তাঁরা বলেন, এ ক্ষেত্রে কুরআনে বর্ণিত আয়াতটিই সব জায়গার জন্য প্রযোজ্য। সেটি হচ্ছে:
وَمَنْ جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَى إِلا مِثْلُهَا - (الانعام : ١٦)
অর্থ: 'যে গুনাহর কাজ করে তাকে সেই গুনাহর সমপরিমাণ শাস্তিই দান করা হবে।' অর্থাৎ একটা গুনাহ করলে একটি শাস্তিই দেয়া হবে, একাধিক নয়।
তাদের আরেকটি দলীল হচ্ছে মুসলিম শরীফে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা) এর একটি হাদীস। তিনি এরশাদ করেছেন: مَنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ وَعَمِلَهَا كُتِبَتْ لَهُ سَيِّئَةٌ وَاحِدَةٌ . অর্থ: 'যে একটি গুনাহর কাজ করার ইচ্ছা করে এবং পরে তা করে তার একটি গুনাহই লেখা হবে।'
মূলতঃ হারাম শরীফের মর্যাদার কারণে এখানকার গুনাহ ও কঠোরতর হওয়ার কথা। কেননা, আল্লাহ কুরআনে বলেছেন:
وَمَنْ يُرِدْ فِيْهِ بِالْحَادِ بِظُلْمٍ نُذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ - (الحج : ٢٥)
অর্থ: 'কেউ যদি এই হারামে সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্যায়ভাবে কুফর করার ইচ্ছা করে আমরা তাকে কষ্টদায়ক আযাব দেব।' এই আয়াত দ্বারাও কঠোর শাস্তির প্রতি ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
এই ব্যাপারে এই ব্যাখ্যাও প্রযোজ্য যে, হারামে গুনাহর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে না, তবে তা কঠোর ও ভয়াবহ গুনাহ হিসেবে বিবেচিত হবে।
মুজাহিদ বলেছেন, আমি আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আল আসকে আরাফাতে দেখেছি; অথচ তার থাকার জায়গা হচ্ছে হারাম এলাকার বাইরে এবং জায়নামায হচ্ছে মসজিদে হারামে। তাঁকে এ রকম করার কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দেন, 'এখানে নেক আমল উত্তম, আর পাপ কাজ জঘন্য।
(مصنف عبد الرزاق)
আবদুর রাজ্জাক হযরত উমর বিন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: 'আমি রাকবা নামক স্থানে ৭০ গুনাহ করাকে হারামে এক গুনাহ করার চাইতে উত্তম মনে করি।' রাকবা হচ্ছে তায়েফের একটি জায়গার নাম। উম্মে হানি বিনতে আমি তালেব কর্তৃক বর্ণিত হাদীস দ্বারা মক্কায় অতিরিক্ত গুনাহর প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন:
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنْ أُمَّتِي لَمْ يَخْزُوا مَا أَقَامُوا شَهْرَ رَمَضَانَ - قِيْلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ وَمَا خِزْبُهُمْ فِي إِضَاعَةِ شَهْرِ رَمَضَانَ ؟ قَالَ : انْتِهَاكُ الْمَحَارِمِ فِيْهِ مَنْ زَنَافِيْهِ أَوْشَرِبَ خَمْرًا لَعَنَهُ اللَّهُ وَمَن في السَّمَوَاتِ إِلَى مِثْلِهِ مَنْ الْحَوْلَ - فَإِنْ مَاتَ قَبْلَ أَنْ يُدْرِكَهُ رَمَضَانُ فَلَيْسَتْ لَهُ عِنْدَ اللهَ حَسَنَنَةٌ يَتَّقِى بِهَا النَّارَ - فَاتَّقُوا شَهْرَ رَمَضَانَ فَإِنَّ الْحَسَنَةَ تُضَاعَفُ فِيْهِ مَا لَا تُضَاعَفُ فِيْمَا سِوَاهُ وَكَذَلِكَ السَّيِّئَةُ . (الصغير للطبراني وكذلك في الأوسط)
অর্থ : 'রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, আমার উম্মত যে পর্যন্ত রমযান মাসকে কায়েম রাখবে, সে পর্যন্ত তারা অপমানিত হবে না। প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! রমযান মাসকে নষ্ট করার মধ্যো কি অপমান রয়েছে? তিনি জবাবে বলেন, নিষিদ্ধ কাজের লংঘন করা হলে, যেমন, কেউ যদি এ মাসে জ্বেনা করে কিংবা মদ পান করে, তাহলে আল্লাহ এবং আসমানের অধিবাসীরাসহ এর চতুষ্পার্শ্বের অন্যান্যরা সবাই লা'নত বা অভিশাপ দেয়। যদি রমযান আসার আগে সে ব্যক্তি মারা যায়, তাহলে দোজখ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে তার কোন নেক অবশিষ্ট থাকবে না। তোমরা রমযান মাসকে ভয় কর' এই মাসে, অন্য মাসের চাইতে নেক বেশী গুণ দেয়া হয়, অনুরূপভাবে গুনাহও বেশী দেয়া হয়।'
এই হাদীস দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, বিশেষ সময় ও মাসে, যেমন রমযানে সওয়াব ও পাপ বেশী দেয়া হয়। তাহলে বিশেষ ও পবিত্র স্থানেও পাপ বেশী হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। পাপের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 ১৮) মক্কায় পাপ কাজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও শাস্তি হবে

📄 ১৮) মক্কায় পাপ কাজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও শাস্তি হবে


একদল আলেম বলেছেন, কেউ মক্কার হারামে পাপ কাজ করার নিয়ত করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। সেই পাপ কাজটি না করলেও তার শাস্তি হবে। এ ব্যাপারে তাঁরা সূরা হজ্জের ২৫ নং আয়াতটিকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন। আয়াতটি হচ্ছে: مَنْ يُرِدْ فِيْهِ بِالْحَادٍ بِظُلْمٍ نُذِقَهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ .
অর্থ : 'কেউ যদি এই হারামে সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্যায়ভাবে কুফরী ও শিরক করার ইচ্ছা করে, আমরা তাকে কষ্টদায়ক আযাব দেবো।' যারাকশী বলেছেন, আই আয়াতে, يُرد 'এরাদা' শব্দের পর بِالْحَاد এর মধ্যে (ب) ব্যবহৃত হয়েছে। যখন اَرَادَة শব্দ দ্বারা هُمّ বা কোন 'কাজ করার ইচ্ছা' বুঝানো হয় তখন (ب) ব্যবহার করে এটাকে مُتَعَدّی বানানো হয়। সাধারণতঃ أَرَدْتُ بِكَذَا এরকম বলা হয় না। কিন্তু যখন 'কোন কাজ করার ইচ্ছা' বুঝানো হয় তখন (ب) ব্যবহার করে এরকম বলতে হয়। যেমন বলা হয় هَمَمْتُ بِكَذَا 'আমি কাজ করার ইচ্ছা করেছি।'
দাহ্হাক ও ইবনে যায়েদ এই মত ব্যক্ত করেছেন। আল্লামা কুরতবী তাঁর তাফসীরে এবং ইবনে কাসীর ও তাঁর তাফসীরে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, আবদুল্লাহ বিন মাসউদ এবং আবদুল্লাহ বিন উমরেরও এই একই মত। তাঁরা বলেছেন, "(দক্ষিণ ইয়েমেনের) এডেনে বসবাসকারী কোন লোক যদি মক্কায় কোন লোককে হত্যা করার নিয়ত করে, তাহলেও আল্লাহ তাকে এ কারণে শাস্তি দিবেন।"
এর একজন বর্ণনাকারী শো'বা বলেছেন, এটি সহীহ এবং ইবনে মাসউদ একথা বলেছেন। কিন্তু ইমাম আহমদ ইয়াজিদ বিন হারুন থেকে এই হাদীসটি বর্ণনা করে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে এই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। ইবনে কাসীর বলেছেন, ইমাম বুখারীর শর্তানুযায়ী এটি সহীহ, তবে এটিকে রাসূলুল্লাহর হাদীস না বলে সাহাবীদের বর্ণনা বলাই উত্তম।
আল্লামা কুরতবী, এ প্রসঙ্গে সূরা 'কালাম' এ বাগানওয়ালাদের কাহিনীতে বর্ণিত একটি আয়াত উল্লেখ করেছেন।
আয়াতটি হচ্ছে: إِنَّا بَلَوْنَاهُمْ كَمَابَلُونَا أَصْحَابَ الْجَنَّةِ إِذْ أَقْسَمُوا لَيُصْرِمُنَّهَا مُصْبِحِيْنَ .
অর্থঃ "আমরা তাদেরকে সেই বাগান ওয়ালাদের মত পরীক্ষা করেছি যারা অতি ভোরে ফসল কাটার শপথ করেছিল"।
এই আয়াত দ্বারা যে কথার প্রমাণ পেশ করা হয়েছে সেটি হচ্ছে, বাগানওয়ালাদের ফসল কাটার কাজটি বাস্তবে সংঘটিত হয়নি। তবে তাদের অতি ভোরে ফকির মিসকীনদের বের হওয়ার পূর্বে ফসল তোলার ইচ্ছাটি ব্যক্ত হয়েছিল যেন গরীবদেরকে দান করা না লাগে। আল্লাহ তাদেরকে এই ব্যক্ত ইচ্ছার বিরুদ্ধে শাস্তি দিয়েছেন এবং তারা ঘুমে থাকা অবস্থায়- তাদের ফসল ধ্বংস করে দিয়েছেন। তারা ভোরে গিয়ে দেখল যে, তাদের ফসল জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তাদের ফসল তোলার আগেই তাদেরকে শাস্তি দেন।
রাসূলুল্লাহ (সা) এর একটি হাদীসও এই মতের সমর্থন করে। হাদীসটি হচ্ছেঃ إِذا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَالْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هُذَا الْقَاتِلُ فَمَابَالُ الْمَقْتُولِ ؟ قَالَ إِنَّهُ كَانَ حَرِيضًا عَلَى قَتْلِ صَاحِبِهِ ۔ (বুখারী)
অর্থঃ 'দুই মুসলমান, যখন তাদের তলোয়ার নিয়ে পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন হত্যাকরী ও নিহত ব্যক্তি দু'জনই জাহান্নামী হয়। রাসূলুল্লাহ (সা) কে প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! হত্যাকারীর হুকুম তো ঠিক আছে, কিন্তু নিহত ব্যক্তির হুকুম এরকম কেন? রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, কেননা, সে তার সাথীকে হত্যা করতে আগ্রহী ও ইচ্ছুক ছিল।' এই হাদীসেও নিহত ব্যক্তির হত্যার 'আগ্রহ বা ইচ্ছার' বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে বর্ণিত অপর একটি হাদীসও এই মতের সমর্থনে পেশ করা হয়। সেটি হচ্ছে:
إِنَّمَا الدُّنْيَا لِأَرْبَعَةِ نَفَرٍ : رَجُلٌ أَعْطَاهُ اللَّهُ مَالاً وَعِلْمًا فَهُوَ يَتَّقِى فِيْهِ رَبَّهُ وَيَصِلُ فِيْهِ رَحِمَهُ وَيَعْلَمُ لِلَّهِ فِيْهِ حَقًّا فَهُذَا بِأَفْضَلِ الْمَنَازِلِ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ عِلْمًا وَلَمْ يُؤْتِهِ مَالاً فَهُوَ صَادِقُ النِّيَّةِ يَقُولُ : لَوْ أَنَّ لِي مَالاً لَعَمِلْتُ فِيْهِ بِعَمَلٍ فُلانٍ فَهُو بِنِيَّتِهِ فَأَجْرُهُمَا سَوَاءٌ - وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مالاً وَلَمْ يُؤْتِهِ عِلْمًا فَهُوَ يَخْبَطُ فِي مَالِهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ لَا يَتَّقِي فِيهِ رَبَّهُ وَلَا يَصِلُ بِهِ رَحِمَهُ وَلَا يَعْلَمُ لِلَّهِ فِيهِ حَقًّا فَهُذَا بِأَخْبَتْ الْمَنَازِلِ وَرَجُلٌ لَمْ يُؤْتِهِ اللَّهُ مَالاً وَلَا عِلْمًا فَهُوَ يَقُولُ : لَوَأَنَّ لِي مَالاً لَعَمِلْتُ فِيْهِ بِعَمَلٍ فُلانٍ فَهُوَ بَنِيَّتِهِ - (الترمذي)
অর্থ : 'দুনিয়ায় চার ধরনের লোক আছে। এক ধরনের লোক হল, আল্লাহ যাকে সম্পদ ও জ্ঞান দান করেছেন, সে এগুলোর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে, আত্মীয়তার হক আদায় করে এবং একথাও জানে যে, এতে আল্লাহর অধিকার রয়েছে; সেই ব্যক্তির মর্যাদা হচ্ছে শ্রেষ্ঠ। আরেক ধরনের লোক হল, আল্লাহ তাকে জ্ঞান দান করেছেন কিন্তু সম্পদ দেননি, অথচ তার রয়েছে সঠিক নিয়ত। সে বলেঃ যদি আমার কাছে সম্পদ থাকত, তাহলে আমি উমুক কাজ করতাম এবং সে এই নিয়তের উপর স্থির আছে। এই দুই ব্যক্তির মর্যাদা সমান এবং শেষোক্ত ব্যক্তি প্রথম ব্যক্তির মতই শ্রেষ্ঠ। অপর ধরনের লোক হল, আল্লাহ যাকে সম্পদ দিয়েছেন, জ্ঞান দেননি, সে জ্ঞান ব্যতীত শুধু সম্পদের মধ্যেই বিভ্রান্তভাবে ডুবে আছে, এতে সে আল্লাহকে ভয় করে না, আত্মীয়ের হক আদায় করে না এবং এতে আল্লাহর অধিকার সম্পর্কে জানে না, সেই ব্যক্তি হচ্ছে সর্বাধিক নিকৃষ্ট। অন্য এক ধরনের লোক হচ্ছে, আল্লাহ যাকে সম্পদ ও জ্ঞান কোনটাই দেননি। সে বলেঃ যদি আমার সম্পদ থাকত, তাহলে আমি উমুক কাজ করতাম। সে তার নিয়তের মধ্যেই থাকবে।' এই হাদীসে সঠিক নিয়তের ভিত্তিতে সওয়াব ও মর্যাদা লাভের কথা উল্লেখ রয়েছে।
কারুর মতে, আল্লামা কুরতুবী এ ক্ষেত্রে যে সকল যুক্তিপ্রমাণ পেশ করেছেন, তা মূল বিষয় বস্তুর বাইরে। কেননা, শুধুমাত্র গুনাহর কল্পনা করলেই মানুষকে শাস্তি দেয়া হবে না। যদি প্রমাণগুলো দ্বারা এটা বুঝায়ও তবুও তাকে হারামে মক্কীর সাথে সীমিত করার কোন কারণ নেই। কেননা, এটা সাধারণভাবে সব জায়গার জন্যই প্রযোজ্য।
আসল কথা হল, কোন পাপ কাজের ইচ্ছা যদি বারবার করা হয় এবং পাপ কাজটি করার জন্য দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, শেষ পর্যন্ত পাপ কাজটি না করলেও তার গুনাহ হবে। এই কথাটিই নিম্নোক্ত আয়াতে বলা হয়েছে। আল্লাহ সূরা আলে ইমরানের ১৩৫নং আয়াতে বলেছেন,
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهَ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ .
অর্থ: 'যারা অশ্লীল কাজ করে এবং নিজের উপর যুলুম করে, তারপর আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের গুনাহ মাফ চায়; আল্লাহ ছাড়া তাদের গুনাহ কে মাফ করতে পারে? তারা জেনে শুনে, বার বার গুনাহর কাজ করে না।' এই আয়াতে لم يصروا 'বারবার না করা' এই শব্দটি এই কথার প্রকাশ্য প্রমাণ যে, মানুষকে পাপ কর্মের ব্যাপারে নেয়া 'দৃঢ় সিদ্ধান্তের' বিরুদ্ধেই পাকড়াও করা হবে। এটাই অতীতের ফেকাহবিদ', মোহাদ্দেস এবং মুসলিম মনীষীদের মত। আল্লামা কুরতবী তাঁর তাফসীরে এই মতের কথা উল্লেখ করেছেন।
পাপের ব্যাপারে দৃঢ় সিদ্ধান্তের উপর শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে কারুর দ্বিমত নেই। চাই সেটা মক্কাতেই হউক বা মক্কার বাইরে অন্য জায়গায়ই হউক।
যদি তা বারবার চিন্তার মাধ্যমে মজবুত সিদ্ধান্তে পৌছার স্তর পর্যন্ত না পৌছে তাহলে আল্লাহ শাস্তি দেবেন না। কেননা এ প্রসঙ্গে বুখারী শরীফে রাসূলুল্লাহ (সা) এর নিম্নোক্ত প্রকাশ্য বক্তব্য রয়েছে। তিনি বলেছেন:
مَنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا لَمْ تُكْتَبْ عَلَيْهِ فَإِنْ عَمِلَهَا كُتِبَتْ سَيِّئَةٌ وَاحِدَةٌ . (بخاری)
অর্থঃ 'যে অন্যায় করার ইচ্ছা করে কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা করেনি, তার গুনাহ লেখা হবে না। হাঁ, যদি গুনাহটি করেই ফেলে, তাহলে তার একটি গুনাহ লেখা হবে।'
মূলতঃ বেশী যুক্তসংগত কথা হল, যদি বারবার চিন্তা ও ইচ্ছার মাধ্যমে মক্কায় কোন পাপ কাজের মজবুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাহলে তার শাস্তি অতিরিক্ত হবে যেমনটি ঐ পাপ কাজ সংঘটিত করলেও হওয়ার কথা। তবে যদি অনুরূপ মজবুত সিদ্ধান্ত না নেয় তাহলে শুধুমাত্র ধ্যান-ধারণা ও কল্পনার বিরুদ্ধে কোন গুনাহ বা শাস্তি হবে না। আসলে আলেমরা পাপের মজবুত সিদ্ধান্তকে 'সংঘটিত পাপের' সমমর্যাদা সম্পন্ন মনে করেন। এই দৃষ্টিভঙ্গীর আলোকে মক্কায় পাপ করলে যেমন অতিরিক্ত গুনাহ হয়, পাপের মজবুত সিদ্ধান্ত নিলেও সে রকম অতিরিক্ত গুনাহই হবে। শুধুমাত্র কল্পনার বিরুদ্ধে আল্লাহ শাস্তি দেবেন না।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরা বাকারায় এরশাদ করেছেন-
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ۚ (بقره : ٢٨৬)
অর্থ: 'আল্লাহ মানুষের সাধ্যের বাইরে কাউকে কোন কাজের হুকুম দেননা, মানুষ যে নেক কাজ করে তার ফল সে পাবে, আর যদি পাপ কাজ করে তাহলে এর বোঝাও তাকে বহন করতে হবে।' গুনাহ সম্পর্কিত কল্পনা থেকে বিরত থাকা মানুষের সাধ্যের বাইরে। তাই এ ব্যাপারে আল্লাহর পাকড়াও না করারই কথা। কেননা, কল্পনার ঘোড়া বহু বিষয়ে এবং বহু সাম্রাজ্যে বিচরণ করে। কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেয়া না দেয়ার ব্যাপারে মানুষের দায়িত্বের প্রশ্ন জড়িত। এছাড়াও আল্লাহ নিম্নোক্ত আয়াতে বলেছেন: وَمَنْ يُرِدْ فِيهِ بِإِلْحَادٍ بِظُلْمٍ ۙ - (الحج : ٢٥)
'যে এই হারামে সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে 'অন্যায়ভাবে' কুফরী ও শিরক করার ইচ্ছা করে, এতে بِظُلْم বা 'অন্যায়ভাবে' শব্দের উল্লেখ করেও পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন যে, শুধু কল্পনার উপর তিনি কোন শান্তি দেবেন না।
কেউ কেউ হারাম এলাকায় পাপের কল্পনা-ইচ্ছার বিরুদ্ধে শাস্তি দান সম্পর্কিত বিভিন্ন ইমামদের বক্তব্যের এই ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, হারাম এলাকায় কোন অন্যায় ও পাপ না করার ব্যাপারে এটা হচ্ছে তাদের অতিমাত্রায় সতর্কীকরণের উপর গুরুত্ব প্রদান অথবা, এখানে তারা 'কল্পনা' বা (هم) বলতে (عزم) বা 'দৃঢ় সিদ্ধান্ত' বুঝিয়েছেন।
যা হোক, হারামে মক্কীতে কল্পনা ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে শাস্তি এবং অতিরিক্ত পাপের প্রশ্নে, অতীতের বুজুর্গদের একটি দল মক্কায় বাস করাকে অপসন্দ করেছেন। আমরা এখন এ বিষয়ে কিছুটা আলোকপাত করবো, ইনশাআল্লাহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00