📄 মসজিদে হারামের সাথে মক্কার রাস্তা-ঘাট ও সুড়ঙ্গ পথের সংযোগ
মক্কায় প্রচুর রাস্তা-ঘাট রয়েছে। মক্কাকে, উন্নত রাস্তা-ঘাটের বিচারে পৃথিবীর যে কোন আধুনিক শহরের সাথে তুলনা করা যায়। শহরের সর্বত্র সব অলি-গলির রাস্তাসমূহ পাকা। তবে মক্কার মত পাহাড়ী শহরে রাস্তাঘাট নির্মাণ বহু কঠিন কাজ। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির জোরে উঁচু পাহাড়ের উপরও পাকা রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। গাড়ীর মাধ্যমে সেই সকল উঁচু দুর্গম স্থানে উঠতে হয়। তারপরও পাহাড়ের কারণে অনেক জায়গায় রাস্তা নির্মাণ সম্ভব হয়নি। শহরের কোন কোন অংশ থেকে সরাসরি হারামে আসার পথ ছিল না, দূর দিয়ে ঘুরে আসতে হত।
তাই ১৪০০ হিজরী সনে মক্কার বিভিন্ন উপকণ্ঠ থেকে সরাসরি মসজিদে হারামে আসার জন্য পাহাড়ের ভেতর দিয়ে সুড়ঙ্গ পথ তৈরি করা হয়। এতে করে বর্তমানে শহরের যে কোন এলাকা থেকে হাজী এবং স্থানীয় জনগণ সরাসরি মসজিদে হারামে আসতে পারে।
মসিজেদ হারামের সম্মুখের রাস্তাঘাটে গাড়ী চলাচল বন্ধ করে তা পথচারীদের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছ। এতে করে মুসল্লীরা ভীড় ও যানজট থেকে রক্ষা পাচ্ছে। তাই সাবেক সোকে সগীর এলাকায় মাটির নীচে একটি সুড়ঙ্গ পথ তৈরি করা হয়েছে এবং তাতে গাড়ী চলাচল করছে। সুড়ঙ্গটি শোবেকা থেকে জিয়াদের ১ম রিং রোডের মাথা পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে এবং এটি বাবে আবদুল আযীযের সামনে দিয়েই অতিক্রম করেছে। সুড়ঙ্গের ভেতর গাড়ীর রাস্তায় ফুটপথ রয়েছে। মসজিদে হারামের নূতন সম্প্রসারিত ভবন থেকে ও তায়বিয়া সড়ক এবং সারে' মানসুর অভিমুখী দু'টো অতিরিক্ত সুড়ঙ্গ তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তা বাস্তবায়িত হলে মসজিদে হারামে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে ভিড় আরও হ্রাস পাবে।
১৯৯৩ সালের শেষ নাগাদ পবিত্র মক্কা নগরীতে পাহাড়ের ভেতর দিয়ে সুড়ঙ্গপথ নির্মাণ করা হয়েছে। সুড়ঙ্গ পথগুলোর মোট দৈর্ঘ্য হচ্ছে প্রায় ২৮ কিলোমিটার। সুড়ঙ্গগুলোতে পর্যাপ্ত বাতাস, আবহাওয়া ঠাণ্ডা রাখা এবং আগুন নিভানোসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। কোন্ সুড়ঙ্গপথে গাড়ী এবং কোন্ সুড়ঙ্গপথে লোকেরা পায়ে হেঁটে চলবে তা সুড়ঙ্গপথের মুখে সাইনবোর্ডে লিখে দেয়া হয়েছে।
একমাত্র মিনা ও মোযদালেফার পবিত্র স্থানসমূহেই মোট ২৮টি সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হল, সেখানে হাজীদের চলাচল যেন সহজসাধ্য হয়।
১ম রিং রোড: (চারদিক থেকে মসজিদে হারাম পরিবেষ্টনকারী)
মসজিদে হারামের চারদিক থেকে মুসল্লীদের হারাম শরীফে আসার উদ্দেশ্যে হারামের পাশ ঘেঁষে ১ম রিং রোড তৈরি করা হয়েছিল। এখন শুধু বাবে আবদুল আযীযের সামনে মাটির নীচ দিয়ে এবং বাবে উমার থেকে বাবে ফাত্হ বরাবর মারওয়ার সামনের রিং রোডের অংশটুকু বাকী আছে। বাবে আবদুল আযীয থেকে কাসাসিয়া হয়ে গাজ্জা অভিমুখী অংশটুকু আবু কোবায়েস পাহাড়ে রাজপ্রাসাদের নিরাপত্তা এবং সাফা থেকে মারওয়া পর্যন্ত অংশটুকু আঙ্গিনা সম্প্রসারণের কারণে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। লোহার তৈরি ওভারব্রীজের মাধ্যমে ঐ দুই স্থানে রিং রোড তৈরি করা হয়েছিল।
আভ্যন্তরীণ ২য় রিং রোড
দীর্ঘদিন যাবত ১ম রিং রোডের মাধ্যমে যানজট ও ভীড় কমানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকে। কিন্তু সৌদী আরবের ব্যাপক উন্নয়ন, গাড়ীর সংখ্যা ও হাজীর সংখ্যা বাড়ার কারণে উক্ত ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়। তাই মসজিদে হারামের প্রায় ১ কিলোমিটার দূর দিয়ে চতুর্দিকে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ২য় রিং রোড নির্মাণ করা হয়। এই রিং রোড তৈরিতে ৬টি প্রধান দ্বিমুখী সুড়ঙ্গ, ৪টি পার্শ্ব সুড়ঙ্গ, ৭টি ক্রসিং এবং কয়েকটি ওভারব্রীজ তৈরি করতে হয়েছে। এর মধ্যে মেসফালার সাথে তানদুবাঈ এবং সোলায়মানিয়া থেকে শো'বাতুল মাগরেবা পর্যন্ত দীর্ঘ ২,১৬১ মিটার লম্বা দু'টো দ্বিমুখী সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছে। শে'বে আমের থেকে জিয়াদ পর্যন্ত ৩,০৭৭ মিটার দীর্ঘ আরেকটি সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছে।
জিয়াদের রাই বখশ এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১,৮২৪ মিটার দীর্ঘ আরও ৩টি প্রধান সুড়ঙ্গ পথ এবং ৪টি পার্শ্বসুড়ঙ্গ নির্মাণ করা হয়েছে। এর পরবর্তী পর্যায়ে, ৬,৭০০ মিটার দীর্ঘ ওভারব্রীজসহ ৭টি ক্রসিং তৈরি করা হয়েছে।
২য় রিং রোডের আওতায়, মসজিদে হারামের বাবে আবদুল আযীয থেকে মেসফালার বিরকা এলাকা পর্যন্ত ৭শ' মিটার লম্বা একটি সুড়ঙ্গ পথ এবং কুদাই পর্যন্ত ১৮০০ মিটার লম্বা আরেকটি সুড়ঙ্গ পথ নির্মাণ করা হয়েছে। দুই সুড়ঙ্গের মাঝে ১শ' মিটার খালি জায়গা রয়েছে।
শে'বে আলী থেকে আজইয়াদ সাদ এবং সেখান থেকে মিনা অভিমুখে মাহবাসুল জিন পর্যন্ত দু'টো দ্বিমুখী সুড়ঙ্গ পথ তৈরি করা হয়েছে। হাজীরা এ সুড়ঙ্গপথে মিনায় আসা-যাওয়া করে। এ সুড়ঙ্গ পথটি সংক্ষিপ্ত হওয়ায় মক্কা থেকে মিনার দূরত্ব অনেক কমে গেছে।
বাবুল মালেক আবদুল আযীয থেকে কুদাই পর্যন্ত এবং একই সুড়ঙ্গ পথের মাঝখান থেকে মেসফালা অভিমুখী আরেকটি সুড়ঙ্গপথ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া আজইয়াদ কবীর থেকে জাবালে সাওর অভিমুখী আরেকটি দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ নির্মাণ করা হয়েছে। মেসফালা থেকে সারে' মনসুর, সোলায়মানিয়া থেকে জারওয়াল এবং শে'বে আমের থেকে মালাওয়ী পর্যন্ত দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ তৈরি করা হয়েছে।
মধ্যবর্তী রিং রোড বা ৩য় রিং রোড
মক্কা শহরের সাথে মসজিদে হারামের যোগাযোগকে আরো বেশী সুষ্ঠু ও নিশ্চিত করার স্বার্থে ৩য় রিং রোড নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মসজিদে হারাম থেকে ৪ কিলোমিটার দূরত্ব দিয়ে ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং দুই ভাগে বিভক্ত উক্ত রিং রোডের প্রতিভাগে গাড়ী চলাচলের জন্য ৩টি করে ট্রাক থাকবে। এতেও কিছুসংখ্যক সুড়ঙ্গ এবং ক্রসিং নির্মাণ করা হবে। মিনার একটি সড়ক এই রিং রোডের সাথে এসে মিলিত হবে এবং মসজিদে হারামগামী প্রতিটি রাস্তা এর সাথে সংযুক্ত হবে।
মক্কা শহরের বাইরের রিং রোড বা ৪র্থ রিং রোড
সুষ্ঠু যোগাযোগের জন্য মক্কা শহরের বাইরে একটি রিং রোড নির্মাণ করা হয়েছে। এই রোডটি অন্যান্য শহর যেমন, জেদ্দা, তায়েফ ও মদীনার রাস্তাগুলোর সাথে সংযুক্ত। শুধু তাই নয়, মক্কার সাথে পবিত্র স্থানসমূহের যোগাযোগ উন্নয়নের ব্যাপারেও চিন্তা-ভাবনা চলছে। বর্তমানে মক্কা থেকে, মিনা, মোযদালেফা এবং আরাফাত পর্যন্ত রেলগাড়ী চালুর ব্যাপারে গবেষণা চলছে। অনুরূপভাবে জেদ্দা থেকেও মক্কা পর্যন্ত ব্যাপক যোগাযোগ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, লক্ষ লক্ষ হাজীর ব্যাপক ও সুষ্ঠু যোগাযোগের জন্য রেল যোগাযোগ বেশী উপকারী হবে।
মোট কথা, মক্কা শহরের দুর্গম যোগাযোগকে সৌদী শাসনামলে সুগম করার ব্যাপক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
📄 মক্কার সাথে আন্তঃশহর যোগাযোগ এবং মক্কা গেট
মক্কা শহরে পাহাড়-পর্বতের কারণে আগে হারাম শরীফে আসতে অনেক ঘুরে আসতে হত। কিন্তু, পরবর্তীতে পাহাড় কেটে ভেতর দিয়ে সুড়ঙ্গ করাতে এখন আর দূর দিয়ে ঘুরে আসার প্রয়োজন হয় না। বরং বলা যায় যে, মক্কার সব এলাকার সাথে সমজিদে হারামের দূরত্ব কমে এসেছে। এই হচ্ছে শহরের ভেতর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা।
কিন্তু শহরের বাইরে, আন্তঃশহর যোগাযোগের জন্য রয়েছে বিরাট বিরাট প্রশস্ত সড়কসমূহ। চারদিক থেকে ঐসব সড়ক এসে মক্কার সাথে মিলিত হয়েছে। ঐ বিরাট সড়কগুলো আধুনিক যুগের সর্বোত্তম সড়ক।
মক্কার সাথে তায়েফের দুটো সড়ক আছে। একটি হচ্ছে পুরাতন সড়ক। অর্থাৎ মক্কা-সায়েল-তায়েফ সড়ক। সেটির দৈর্ঘ্য হচ্ছে ১২৫ কিলোমিটার; অন্যটি হচ্ছে মক্কা-হাদা-তায়েফ রিং রোড। এর দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৭৫ কিলোমিটার। পাহাড়ের ভেতর দিয়ে রাস্তা কেটে ও সমতল করে ঐ রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। আসা ও যাওয়ার জন্য সবগুলো সড়কই দুই ভাগে বিভক্ত। পুরাতন তায়েফ রোডে ২টি এবং রিং রোডে ৪টি করে ট্র্যাক আছে। প্রত্যেক ট্র্যাকে একটি করে গাড়ী চলতে পারে।
মক্কা গেট
অপরদিকে, মক্কা থেকে মদীনাগামী দুইভাগে বিভক্ত রাস্তার প্রতিটিতে ৪টি করে ট্র্যাক আছে। সেটি পরে জেদ্দা-মদীনা হাইওয়েতে গিয়ে মিশেছে এবং মসজিদে কুবার পাশ দিয়ে মদীনায় গিয়ে লেগেছে। মক্কা থেকে মদীনার দূরত্ব ৪৩০ কিলোমিটার।
মক্কা থেকে জেদ্দাগামী দুটো সড়ক আছে। পুরাতন সড়কটির প্রতিভাগে ২টি করে ট্র্যাক আছে। অপরদিকে নতুন সড়কটির প্রতিভাগে ৪টি করে ট্র্যাক আছে। এটি মক্কা থেকে জেদ্দা পর্যন্ত সর্বত্র বৈদ্যুতিক আলো দ্বারা সজ্জিত। এর দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৭৩ কিলোমিটার। মক্কা থেকে ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে, এক্সপ্রেস রোডের উপর কুরআনের স্ট্যাণ্ড এর আকৃতিতে মক্কা গেট নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ৪৮ মিলিয়ন রিয়াল খরচ হয়েছে। লীচ এবং জীযানের সাথে যোগাযোগের জন্য আরেকটি এক্সপ্রেস রোড নির্মিত হয়েছে। আসা-যাওয়ার পথে প্রতিটিতে একাধিক ট্র্যাক আছে। পুরাতন জীযান সড়কটি এখন অকেজো। সম্প্রতি আরও ৪টি আন্তঃশহর সড়কে ৪টি গেট নির্মিত হয়েছে। সেগুলো হল: ১. পুরাতন মক্কা-জেদ্দা রোড ২. মক্কা-লীচ রোড ৩. মক্কা-মদীনা সড়ক এবং ৪. মক্কা-সায়েল-তায়েফ সড়ক।
📄 মসজিদে হারামের লাইব্রেরী
ইসলাম জ্ঞান শিক্ষাকে ফরয ঘোষণা করেছে। লাইব্রেরী হচ্ছে জ্ঞানসমুদ্র বা জ্ঞান সংগ্রহের চৌরাস্তা। তাই লাইব্রেরীর গুরুত্ব ইসলামে সর্বাধিক।
দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজ্জ ও উমরাহর জন্য যারা মক্কায় ছুটে আসে, তারা এখানে কিছু সময় কাটায় এবং অবসর থাকে। এছাড়াও মুসলিম গবেষকদের জ্ঞান গবেষণার জন্যও এখানে একটি লাইব্রেরী প্রয়োজন। তাই মসজিদে হারামের জেনারেল প্রেসিডেন্সী একটি লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করেন।
মক্কার সম্মান ও মর্যাদার কারণে, বিভিন্ন যুগে মুসলিম খলীফা ও বাদশাহগণ মসজিদে হারামের লাইব্রেরীর জন্য বহু কিতাব এবং পুস্তক উপহার দিয়েছেন। তাই মসজিদে হারামের ভাণ্ডারে হিজরী ৫ শতাব্দীতে অসংখ্য কিতাব এসে জমা হয়। কোন কোন ইতিহাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঐসব বই হিজরী ৫ শতাব্দীরও আগে এসে জড়ো হয়। এটাই মসজিদে হারামের লাইব্রেরীর সূচনার জন্য দায়ী। তবে মসজিদে হারামের লাইব্রেরীর সুনির্দিষ্ট কোন তারিখ জানা যায় না। সম্ভবতঃ ৪শ' হিঃ থেকে এর সূচনা হয়।
১২৬২ হিজরীতে লাইব্রেরীটিকে 'সোলায়মানিয়া লাইব্রেরী' কিংবা 'মজিদিয়া লাইব্রেরী' বলা হত। তুর্কী সুলতান সোলায়মান এবং আবদুল মজীদের নামানুসারে ঐ নামকরণ করা হয়। পূর্বে এর নাম ছিল কুতুবখানা। তারাই মক্কার বিভিন্ন ওয়াকফ থেকে ঐসব কিতাব সংগ্রহ করে লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর এতে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের নিজস্ব লাইব্রেরী এসে যোগ হওয়ায় ক্রমান্বয়ে লাইব্রেরীর উন্নতি হতে থাকে।
১৩৫৭ হিজরীতে বাদশাহ আবদুল আযীয মক্কার উলামায়ে কেরামকে নিয়ে লাইব্রেরীর অবস্থা সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রদানের জন্য কমিটি গঠন করেন। তারপর এতে বাদশাহ আবদুল আযীযের নিজস্ব লাইব্রেরীও যোগ করেন। ফলে, লাইব্রেরীর কিতাব সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পায়। এরপর লাইব্রেরীটির নামকরণ করা হয় 'মাকতাবাতুল হারাম আল-মক্কী আশ শরীফ'। এরপর এসে সৌদী আরবের বিভিন্ন আলেম ও মাশায়েখের বড় বড় নিজস্ব লাইব্রেরীসমূহ যোগ হয়। ইতিপূর্বে লাইব্রেরীটি জারওয়ালে অবস্থিত ছিল। বর্তমানে তা শারে' মনসুরে অবস্থিত। এতে বর্তমানে ১৫টি বিভাগ আছে। বক্তৃতা অনুষ্ঠানের হলে প্রত্যেক বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক বক্তৃতা হয়।
লাইব্রেরীতে বর্তমানে বই-এর সংখ্যা ২ লাখেরও বেশী। এছাড়াও এতে দুষ্প্রাপ্য ৬৯১৮টি মূল পাণ্ডুলিপি, ৩ হাজার মাইক্রো ফিল্ম, ৬শ' খণ্ডের ফটোকপি এবং সাড়ে ৬ হাজারেরও বেশী সাময়িকী ও পত্র-পত্রিকা রয়েছে। নারী পুরুষের লেখা-পড়ার জন্য পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও এতে বিভিন্ন বিষয়ের উপর ৬ হাজার ক্যাসেট রয়েছে।
বর্তমানে, লাইব্রেরীর বই-এর তালিকা তৈরিতে কম্পিউটারের ব্যবহার, বই এর হেফাজতের ব্যাপারে টেলিভিশন ক্যামেরার দ্বারা পর্দায় পাঠকদের গতি-বিধি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্রেইল পদ্ধতির মাধ্যমে অন্ধ পাঠকদের সুবিধা দানের ব্যাপারে লাইব্রেরী কর্তৃপক্ষ চিন্তা ভাবনা করছেন।
📄 পাবলিক লাইব্রেরী
মক্কা পৌরসভা মসজিদে হারামের পূর্ব পার্শ্বে কাসাসিয়ায় ৮শ' বর্গমিটার এলাকার উপর হারাম শরীফের যেয়ারতকারীসহ ছাত্রদের জ্ঞান-গবেষণার জন্য একটি পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করবে। কাসাসিয়া হচ্ছে, বর্তমান মসজিদে হারামের বাবে আলী ও বাবুস সালাম বরাবর হারাম শরীফের সম্প্রসারিত আঙ্গিনা সংলগ্ন।