📄 পানি কল্যাণ প্রকল্প
বাদশাহ ফাহাদ পানি কল্যাণ প্রকল্প
১৪০৪ হিজরীতে বাদশাহ ফাহাদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত খরচে মক্কার অদূরে রাহজান উপত্যকায় বাদশাহ ফাহাদ পানি কল্যাণ প্রকল্প চালু হয়। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল হাজী ও মসজিদে হারামের যিয়ারতকারীদের মধ্যে বিশুদ্ধ ঠাণ্ডা পানি সরবরাহ করা। এই উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সুবিধেজনক স্থানে ১২০টি কুলার বসানো হয়েছে। এই প্রকল্পের ৩টি বিভাগ রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, ১. উৎপাদন ২. সংরক্ষণ ও ৩. সুষ্ঠু বিতরণ।
বিভিন্ন কূপ থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পাম্পিং করে পানি তুলে তা মূল প্লান্টে নেয়া হয়। তারপর অতিবেগুনি আলো দ্বারা পানি পরিশুদ্ধ করা হয়। ৪টি মেশিনের সাহায্যে এতে ঘন্টায় ১ লিটার বিশিষ্ট ১৪ হাজার ৪শ' প্যাকেট তৈরি করা হয়। জমুম উপত্যকার ৪টি বিশাল রিজার্ভারে এবং মিনায় ৬৪টি রিজার্ভারে উক্ত পানি সংরক্ষণ করা হয়।
পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের পানি সরবরাহ বিভাগ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব হাতে নিয়ে রমযান ও হজ্জ মওসুমে হাজীদেরকে ঠাণ্ডা পানি সরবরাহ করছে। ১৪১০ হিজরীতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৭০ মিলিয়ন লিটার ঠাণ্ডা পানির প্যাকেট বিতরণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি শুরুর পর থেকে ক্রমান্বয়ে প্রতিবছর এর উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। মসজিদে হারামের চারপার্শ্বে মিনা, মোযদালেফা, আরাফাত, এবং মক্কার বিভিন্ন প্রবেশ পথে এই ঠান্ডা পানি বিতরণ করা হয়। এজন্য শতশত এয়ারকন্ডিশন্ড গাড়ী ব্যবহার করা হয় যেন পানি ঠাণ্ডা থাকে।
📄 মসজিদে হারামের প্রশাসন
আগে, মক্কার গভর্নর ও শাসকরাই মসজিদে হারামের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতেন। খেলাফতে রাশেদা, উমাইয়া, আব্বাসী এবং সারাকেশা শাসনামলে মক্কার গভর্ণর এবং শাসকরাই সরাসরি মসজিদে হারামের সেবার ত্রুটির জন্য খলীফা, বাদশাহ ও সুলতানদের কাছে জবাবদিহী করতেন।
কিন্তু তুরস্কের উসমানী খেলাফতের সময় থেকে মক্কার শাসক বা গভর্নরকে 'শেখুল হারাম' এই বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং তাঁর একজন সহকারী নিয়োগ করা হয়। মূলতঃ এই সহকারীই সরাসরি মুয়াজ্জিন, পিয়ন, ঝাড়ুদার, দারোয়ানসহ অন্যান্য সকল বিভাগের কাজের তদারক করতেন। তারপর তুর্কী সুলতানরা ওয়াকফ বিভাগ প্রতিষ্ঠা করে এবং এই বিভাগের প্রধানকে 'ওয়াকফ বিভাগের পরিচালক' উপাধিতে ভূষিত করে। এই বিভাগের কাজ হচ্ছে, মসজিদে হারামের নামে সকল ওয়াকফ সম্পত্তির দেখাশুনা ও তত্ত্বাবধান করা, মসজিদে হারামের সকল কর্মচারীর বেতন দেয়া এবং বিদেশ থেকে আগত সাহায্য সামগ্রী, পূর্ব নির্ধারিত শর্ত মোতাবেক বিলি-বন্টন করা। এই বিভাগ মসজিদে হারামের ইমাম ও মুয়াজ্জিন থেকে শুরু করে, সকল কর্মচারীর নাম একটি দফতরে লিপিবদ্ধ করে এবং কা'বার সেবক ও চাবি রক্ষকসহ অধীনস্থ কর্মচারীদের নামও লিপিবদ্ধ করে। কা'বার সেবককে কা'বা ধৌতকরণ এবং সুগন্ধিজাত দ্রব্যাদির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ করে। ওয়াকফ বিভাগ 'শেখুল হারাম' তথা মক্কার গভর্নরের অধীন কাজ পরিচালনা এবং অর্থনৈতিক ব্যাপারে সরাসরি কনস্টান্টিনোপলের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে কার্যক্রম পরিচালনা করে। তুর্কী সুলতান ১ম সেলিম খানের আমল পর্যন্ত এইভাবেই মসজিদে হারামের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
১৩৩৪ হিজরীর ৯ই শাবান, বাদশাহ শরীফ হোসাইন বিন আলী, হেজাযের স্বাধীনতা ঘোষণা করে নিজে যখন এর বাদশাহ হন, তখনও তিনি এই পদ্ধতিতেই মসজিদে হারামের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তবে তিনি একটি পুলিশ বিভাগ সৃষ্টি করেন। পুলিশ বিভাগের কাজ হল চোর ও ফেতনা সৃষ্টিকারীদের দমন করা এবং মসজিদে হারামে হারিয়ে যাওয়া জিনিস কুড়িয়ে তা প্রকৃত মালিকের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করা।
তারপর বাদশাহ আবদুল আযীয, হেজাজের ক্ষমতা লাভ করার পর 'হারাম প্রশাসনিক পরিষদ' গঠন করেন এবং এর উপর মসজিদে হারামের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও অন্যান্য সকল সেবার দায়িত্ব অর্পণ করেন। উসমানী খেলাফতের সময় মুসলিম বিশ্বের শাসকদের পক্ষ থেকে আসা উপহার, দান ও ওয়াকফ সম্পত্তির আয় থেকে মসজিদে হারামের কর্মচারীদের বেতন ভাতা দেয়া হত। কিন্তু পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সৌদী সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে হারাম শরীফের সকল কর্মচারীদের বেতন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং তুর্কী আমলের চেয়ে কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হয়।
পরবর্তীতে হারাম প্রশাসনিক পরিষদের নাম পরিবর্তন করে এর নামকরণ করা الرِّئَاسَةُ العَامَّةُ لِسُتُونِ الْحَرَمَيْنِ الشَّرِيفَيْنِ - অর্থাৎ হারামাইন শরীফাইন সংক্রান্ত সাধারণ প্রেসিডেন্সী। এই সংস্থার উপর মক্কার মসজিদে হারাম এবং মদীনার মসজিদে নববীর প্রশাসনিক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
হারামাইন প্রশাসনের বিল্ডিং
এতে একজন প্রেসিডেন্ট এবং দুই হারাম সম্পর্কে দু'জন ভাইস প্রেসিডেন্ট রয়েছে। সৌদী বাদশাহ সরাসরি প্রেসেডেন্ট নিযুক্ত করেন। এই সংস্থা মসজিদে হারাম এবং মসজিদে নববীর সকল সমস্যার সমাধান, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং বিভিন্নমুখী সেবা প্রদানের দায়িত্ব আঞ্জাম দিচ্ছে। মারওয়ার উত্তর-পশ্চিম দিকে সাধারণ প্রেসিডেন্সীর বহুতল বিশিষ্ট ভবনটি অবস্থিত। এতে মোট ১৪টি বিভাগ আছে।
📄 মসজিদে হারামের পারিপার্শ্বিক উন্নয়ন
মসজিদে হারামের ব্যাপক উন্নয়নের অংশ হিসেবে এর পারিপার্শ্বিক উন্নয়নও জরুরী। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে, বেশী সংখ্যক হাজী ও উমরাহকারী লোকদের আগমনের সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের থাকা-খাওয়ার সুযোগ-সুবিধাও বাড়াতে হবে। তাই খাদেমুল হারামাইন আশ-শরীফাইন বাদশাহ ফাহাদ বিন আব্দুল আযীযের আমলে, বেসরকারী উদ্যোগে 'মক্কা উন্নয়ন ও পুনর্গঠন কোম্পানী' গঠিত হয় এবং তারা মসজিদে হারামের বাইরের নিকটবর্তী এলাকাসমূহের উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করে।
কোম্পানীর প্রকল্পগুলো মেসফালামুখী হিজরাহ সড়ক এলাকায় অবস্থিত। এখানকার সবগুলো ঘর-বাড়ী ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে এবং মালিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পে, ৬৪,৭২২ বর্গ-মিটার এলাকা জুড়ে ৩২ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
এতে ৬৪৪টি ফ্লাট এবং ৬৫০ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণ করা হয়েছে। হোটেলটির আয়তন হচ্ছে ৩২,৭৫৭ বর্গমিটার। এ ছাড়াও ৪,১০০ বর্গমিটার এলাকায় অফিস ও চিকিৎসাকেন্দ্র, ২৩,৭৯০ বর্গমিটার এলাকায় নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক পৃথক নামাযের স্থান নির্মাণ করা হয়েছে। এতে গাড়ীর পার্ক এবং রাস্তাও তৈরি করা হয়েছে।
📄 মসজিদে হারামের সাথে মক্কার রাস্তা-ঘাট ও সুড়ঙ্গ পথের সংযোগ
মক্কায় প্রচুর রাস্তা-ঘাট রয়েছে। মক্কাকে, উন্নত রাস্তা-ঘাটের বিচারে পৃথিবীর যে কোন আধুনিক শহরের সাথে তুলনা করা যায়। শহরের সর্বত্র সব অলি-গলির রাস্তাসমূহ পাকা। তবে মক্কার মত পাহাড়ী শহরে রাস্তাঘাট নির্মাণ বহু কঠিন কাজ। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির জোরে উঁচু পাহাড়ের উপরও পাকা রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। গাড়ীর মাধ্যমে সেই সকল উঁচু দুর্গম স্থানে উঠতে হয়। তারপরও পাহাড়ের কারণে অনেক জায়গায় রাস্তা নির্মাণ সম্ভব হয়নি। শহরের কোন কোন অংশ থেকে সরাসরি হারামে আসার পথ ছিল না, দূর দিয়ে ঘুরে আসতে হত।
তাই ১৪০০ হিজরী সনে মক্কার বিভিন্ন উপকণ্ঠ থেকে সরাসরি মসজিদে হারামে আসার জন্য পাহাড়ের ভেতর দিয়ে সুড়ঙ্গ পথ তৈরি করা হয়। এতে করে বর্তমানে শহরের যে কোন এলাকা থেকে হাজী এবং স্থানীয় জনগণ সরাসরি মসজিদে হারামে আসতে পারে।
মসিজেদ হারামের সম্মুখের রাস্তাঘাটে গাড়ী চলাচল বন্ধ করে তা পথচারীদের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছ। এতে করে মুসল্লীরা ভীড় ও যানজট থেকে রক্ষা পাচ্ছে। তাই সাবেক সোকে সগীর এলাকায় মাটির নীচে একটি সুড়ঙ্গ পথ তৈরি করা হয়েছে এবং তাতে গাড়ী চলাচল করছে। সুড়ঙ্গটি শোবেকা থেকে জিয়াদের ১ম রিং রোডের মাথা পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে এবং এটি বাবে আবদুল আযীযের সামনে দিয়েই অতিক্রম করেছে। সুড়ঙ্গের ভেতর গাড়ীর রাস্তায় ফুটপথ রয়েছে। মসজিদে হারামের নূতন সম্প্রসারিত ভবন থেকে ও তায়বিয়া সড়ক এবং সারে' মানসুর অভিমুখী দু'টো অতিরিক্ত সুড়ঙ্গ তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তা বাস্তবায়িত হলে মসজিদে হারামে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে ভিড় আরও হ্রাস পাবে।
১৯৯৩ সালের শেষ নাগাদ পবিত্র মক্কা নগরীতে পাহাড়ের ভেতর দিয়ে সুড়ঙ্গপথ নির্মাণ করা হয়েছে। সুড়ঙ্গ পথগুলোর মোট দৈর্ঘ্য হচ্ছে প্রায় ২৮ কিলোমিটার। সুড়ঙ্গগুলোতে পর্যাপ্ত বাতাস, আবহাওয়া ঠাণ্ডা রাখা এবং আগুন নিভানোসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। কোন্ সুড়ঙ্গপথে গাড়ী এবং কোন্ সুড়ঙ্গপথে লোকেরা পায়ে হেঁটে চলবে তা সুড়ঙ্গপথের মুখে সাইনবোর্ডে লিখে দেয়া হয়েছে।
একমাত্র মিনা ও মোযদালেফার পবিত্র স্থানসমূহেই মোট ২৮টি সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হল, সেখানে হাজীদের চলাচল যেন সহজসাধ্য হয়।
১ম রিং রোড: (চারদিক থেকে মসজিদে হারাম পরিবেষ্টনকারী)
মসজিদে হারামের চারদিক থেকে মুসল্লীদের হারাম শরীফে আসার উদ্দেশ্যে হারামের পাশ ঘেঁষে ১ম রিং রোড তৈরি করা হয়েছিল। এখন শুধু বাবে আবদুল আযীযের সামনে মাটির নীচ দিয়ে এবং বাবে উমার থেকে বাবে ফাত্হ বরাবর মারওয়ার সামনের রিং রোডের অংশটুকু বাকী আছে। বাবে আবদুল আযীয থেকে কাসাসিয়া হয়ে গাজ্জা অভিমুখী অংশটুকু আবু কোবায়েস পাহাড়ে রাজপ্রাসাদের নিরাপত্তা এবং সাফা থেকে মারওয়া পর্যন্ত অংশটুকু আঙ্গিনা সম্প্রসারণের কারণে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। লোহার তৈরি ওভারব্রীজের মাধ্যমে ঐ দুই স্থানে রিং রোড তৈরি করা হয়েছিল।
আভ্যন্তরীণ ২য় রিং রোড
দীর্ঘদিন যাবত ১ম রিং রোডের মাধ্যমে যানজট ও ভীড় কমানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকে। কিন্তু সৌদী আরবের ব্যাপক উন্নয়ন, গাড়ীর সংখ্যা ও হাজীর সংখ্যা বাড়ার কারণে উক্ত ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়। তাই মসজিদে হারামের প্রায় ১ কিলোমিটার দূর দিয়ে চতুর্দিকে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ২য় রিং রোড নির্মাণ করা হয়। এই রিং রোড তৈরিতে ৬টি প্রধান দ্বিমুখী সুড়ঙ্গ, ৪টি পার্শ্ব সুড়ঙ্গ, ৭টি ক্রসিং এবং কয়েকটি ওভারব্রীজ তৈরি করতে হয়েছে। এর মধ্যে মেসফালার সাথে তানদুবাঈ এবং সোলায়মানিয়া থেকে শো'বাতুল মাগরেবা পর্যন্ত দীর্ঘ ২,১৬১ মিটার লম্বা দু'টো দ্বিমুখী সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছে। শে'বে আমের থেকে জিয়াদ পর্যন্ত ৩,০৭৭ মিটার দীর্ঘ আরেকটি সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছে।
জিয়াদের রাই বখশ এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১,৮২৪ মিটার দীর্ঘ আরও ৩টি প্রধান সুড়ঙ্গ পথ এবং ৪টি পার্শ্বসুড়ঙ্গ নির্মাণ করা হয়েছে। এর পরবর্তী পর্যায়ে, ৬,৭০০ মিটার দীর্ঘ ওভারব্রীজসহ ৭টি ক্রসিং তৈরি করা হয়েছে।
২য় রিং রোডের আওতায়, মসজিদে হারামের বাবে আবদুল আযীয থেকে মেসফালার বিরকা এলাকা পর্যন্ত ৭শ' মিটার লম্বা একটি সুড়ঙ্গ পথ এবং কুদাই পর্যন্ত ১৮০০ মিটার লম্বা আরেকটি সুড়ঙ্গ পথ নির্মাণ করা হয়েছে। দুই সুড়ঙ্গের মাঝে ১শ' মিটার খালি জায়গা রয়েছে।
শে'বে আলী থেকে আজইয়াদ সাদ এবং সেখান থেকে মিনা অভিমুখে মাহবাসুল জিন পর্যন্ত দু'টো দ্বিমুখী সুড়ঙ্গ পথ তৈরি করা হয়েছে। হাজীরা এ সুড়ঙ্গপথে মিনায় আসা-যাওয়া করে। এ সুড়ঙ্গ পথটি সংক্ষিপ্ত হওয়ায় মক্কা থেকে মিনার দূরত্ব অনেক কমে গেছে।
বাবুল মালেক আবদুল আযীয থেকে কুদাই পর্যন্ত এবং একই সুড়ঙ্গ পথের মাঝখান থেকে মেসফালা অভিমুখী আরেকটি সুড়ঙ্গপথ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া আজইয়াদ কবীর থেকে জাবালে সাওর অভিমুখী আরেকটি দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ নির্মাণ করা হয়েছে। মেসফালা থেকে সারে' মনসুর, সোলায়মানিয়া থেকে জারওয়াল এবং শে'বে আমের থেকে মালাওয়ী পর্যন্ত দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ তৈরি করা হয়েছে।
মধ্যবর্তী রিং রোড বা ৩য় রিং রোড
মক্কা শহরের সাথে মসজিদে হারামের যোগাযোগকে আরো বেশী সুষ্ঠু ও নিশ্চিত করার স্বার্থে ৩য় রিং রোড নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মসজিদে হারাম থেকে ৪ কিলোমিটার দূরত্ব দিয়ে ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং দুই ভাগে বিভক্ত উক্ত রিং রোডের প্রতিভাগে গাড়ী চলাচলের জন্য ৩টি করে ট্রাক থাকবে। এতেও কিছুসংখ্যক সুড়ঙ্গ এবং ক্রসিং নির্মাণ করা হবে। মিনার একটি সড়ক এই রিং রোডের সাথে এসে মিলিত হবে এবং মসজিদে হারামগামী প্রতিটি রাস্তা এর সাথে সংযুক্ত হবে।
মক্কা শহরের বাইরের রিং রোড বা ৪র্থ রিং রোড
সুষ্ঠু যোগাযোগের জন্য মক্কা শহরের বাইরে একটি রিং রোড নির্মাণ করা হয়েছে। এই রোডটি অন্যান্য শহর যেমন, জেদ্দা, তায়েফ ও মদীনার রাস্তাগুলোর সাথে সংযুক্ত। শুধু তাই নয়, মক্কার সাথে পবিত্র স্থানসমূহের যোগাযোগ উন্নয়নের ব্যাপারেও চিন্তা-ভাবনা চলছে। বর্তমানে মক্কা থেকে, মিনা, মোযদালেফা এবং আরাফাত পর্যন্ত রেলগাড়ী চালুর ব্যাপারে গবেষণা চলছে। অনুরূপভাবে জেদ্দা থেকেও মক্কা পর্যন্ত ব্যাপক যোগাযোগ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, লক্ষ লক্ষ হাজীর ব্যাপক ও সুষ্ঠু যোগাযোগের জন্য রেল যোগাযোগ বেশী উপকারী হবে।
মোট কথা, মক্কা শহরের দুর্গম যোগাযোগকে সৌদী শাসনামলে সুগম করার ব্যাপক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।