📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 মসজিদে হারামের সেবার বর্ণনা

📄 মসজিদে হারামের সেবার বর্ণনা


মসজিদে হারামের সেবামূলক কাজ

মসজিদে হারাম দুনিয়ার সর্বোৎকৃষ্ট মসজিদ হওয়ার কারণে তার মধ্যে শুধু নামায পড়াকেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি বরং অন্যান্য নেক কাজেরও সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাছাড়া মসজিদে আগমনকারী হাজী ও যিয়ারতকারীদের নিরাপত্তা আরো বেশী প্রয়োজন। এই সকল বিষয়সমূহকে সামনে রেখে মসজিদে হারামে নিম্নোক্ত কিছু সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

১. তাহফীজুল কুরআন মাদ্রাসা
বর্তমানে বাদশাহ আবদুল আযীয দরজা এবং উম্মে হানী দরজার মধ্যবর্তী স্থানে এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত। বহু ছাত্র এখানে পবিত্র কুরআন মজীদ মুখস্থ করে। মাদ্রাসায় মাইক্রোফোন ব্যবহার করা হয়। বাইরের লোকেরাও ছাত্রদের তেলাওয়াত শুনতে পায়। মসজিদের ১ তলা ও দোতলার মাঝামাঝি স্থানে কয়েকটি কক্ষে মাদ্রাসাটির ক্লাস বসে। এর দরজা ও সিঁড়ি বাইরের দিক থেকে তৈরি করা হয়েছে। নামাযের সময় সেখান থেকেই মসজিদে হারামের জামাতে অংশগ্রহণ করা যায়। এছাড়াও মসাজিদের বিরাট অংশ জুড়ে এর ক্লাশ বসে।

২. মাধ্যমিক মাদ্রাসা
মসজিদে হারামের ভেতর একটি মাধ্যমিক মাদ্রাসা (স্কুল) আছে। সৌদী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিলেবাস অনুযায়ী এখানে ছাত্রদেরকে শিক্ষা দেওয়া হয় এবং পরীক্ষা অনুষ্ঠান ও সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। এতেও অনেক ছাত্র লেখাপড়া করে। এই দুইটি মাদ্রাসার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, এগুলো পবিত্র মসজিদে হারামে অবস্থিত এবং এর শিক্ষকরা এজন্য গর্বিত। তাদের শিক্ষা লক্ষ গুণ সওয়াবের আশায় তাৎপর্যপূর্ণ। মসজিদের বিরাট এলাকা জুড়ে অনুষ্ঠিত ঐসকল ক্লাশে কোন চেয়ার-টেবিল নেই। মেঝেতে কার্পেটের উপর শিক্ষাদান করা হয়।

৩. মসজিদে হারামের নিরাপত্তা বিভাগ
মসজিদে হারামের হাজী, উমরাহ আদায়কারী এবং যিয়ারতকারী তথা মুসল্লীদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সৌদী সরকার মসজিদের ভেতর একটি পুলিশ ফাঁড়ি সৃষ্টি করেন। মসজিদের ভেতরে দায়িত্বপালনকারী পুলিশরা দুই ভাগে বিভক্ত। সশস্ত্র ও নিরস্ত্র। ১ জন সশস্ত্র পুলিশ প্রত্যেক দরজায় বসা আছে। সাথে বেসামরিক দুইজন দারোয়ানও আছে। মসজিদের ভেতরে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশরা নিরস্ত্র। যেমন হাজারে আসওয়াদ, মাতাফ, হিজরে ইসমাইল এবং অন্যান্য স্থানে নিয়োজিত পুলিশ নিরস্ত্র। তবে আযানখানার উপরে রেডিও-টেলিভিশন ইউনিট থাকায় সেখানে সশস্ত্র পুলিশ আছে। বড় বড় ও গুরুত্বপূর্ণ দরজাগুলোতে একাধিক পুলিশ কর্তব্যরত থাকে। মসজিদের ভেতর কোন গোলমাল হলে কিংবা মুসল্লীদের নিরাপত্তার আশংকা দেখা দিলে তারা সাথে সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। হাজারে আসওয়াদের পার্শ্বে ১ হাত উঁচুতে একজন পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকে এবং ভিড়ের সময় প্রয়োজনে হস্তক্ষেপ করে। মসজিদে হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্র কিংবা শিশুদেরকে পুলিশ হেফাজত করে এবং লোকেরা হারানো জিনিস সেখানে গিয়ে তালাশ করে। কেউ কোন জিনিস পেলে তা পুলিশের কাছে জমা দেয়। হারামের কর্তব্যরত পুলিশদের ব্যবহার যথেষ্ট অমায়িক। তারা লোকদের বিভিন্ন সমস্যার ব্যাপারে সহযোগিতা করে। জানাযার নামাযের জন্য মসজিদে লাশ ঢুকাতে হলে পুলিশের উদ্দেশ্যে লেখা হাসপাতালের একটি ছাড়পত্রের কপি দরজায় কর্তব্যরত পুলিশকে দিতে হয়। প্রত্যেক দরজায় নিয়োজিত বেসামরিক দারোয়ানগণ মুসল্লীদের ব্যাগ ও বিভিন্ন কিছু পরীক্ষা করে দেখে। তবে আজকাল মসজিদের ভেতর ব্যাগ বা ভারী কিছু ঢুকাতে দেয়া হয় না। বাবে আবদুল আযীয ও বাবে বেলালের মাঝে পুলিশ অফিস রয়েছে। হারাম শরীফের পুলিশ প্রধান বড় বড় অতিথিদেরকে বাবে আবদুল আযীযে অভ্যর্থনা জানান।

৪. মহিলাদের জন্য সেবা
মসজিদের প্রধান দরজাসমূহে মহিলা দারোয়ান থাকে। তারা মহিলাদের ব্যাগ চেক করে। মসজিদে সাধারণত কোন খাবার নিতে দেয়া হয় না। মহিলাদের নামাযের স্থান পুরুষদের থেকে পৃথক। তওয়াফে পুরুষদেরকে কাবার নিকটবর্তী অংশে এবং মহিলাদেরকে এর পরবর্তী অংশে স্থান করে দেয়া এবং নারী-পুরুষকে পৃথক লাইনে রাখার জন্য কিছুকর্মী স্থায়ীভাবে পথ দেখান। এ ছাড়াও যমযমে মহিলাদের জন্য তৈরি পৃথক কক্ষে যেন কোন পুরুষ প্রবেশ করতে না পারে, এবং টয়লেটগুলোতেও পুরুষরা যেন মহিলাদের নির্ধারিত টয়লেটে না যেতে পারে সেজন্য সে সকল জায়গায় দারোয়ান নিযুক্ত করা হয়েছে। হিজরে ইসমাইল, কাবার নিকটবর্তী অংশে পুরুষ এবং পরবর্তী অংশে মহিলাদের নামায পড়ার পৃথকীকরণের জন্যও তদারককারী রয়েছে। মহিলাদের নির্ধারিত নামাযের স্থানে এবং হিজরে ইসমাঈলে মহিলা তদারককারিণী রয়েছেন। মাকামে ইবরাহীমের পেছনেও পুরুষদেরকে মহিলাদের থেকে পৃথক করার জন্য কর্তব্যরত লোকেরা দায়িত্ব পালন করেন।

৫. অক্ষম লোকদের জন্য সেবা
তওয়াফ এবং সাঈ করার ক্ষেত্রে অক্ষম, পঙ্গু, বুড়ো ও অসুস্থ লোকদের জন্য কিছু ব্যবস্থা রয়েছে। তওয়াফের জন্য রয়েছে খাটিয়া। নির্ধারিত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে শ্রমিকরা অক্ষম লোককে খাটিয়ার উপর রেখে মাথায় করে ঘুরে ঘুরে তওয়াফ করায়। সাঈর ক্ষেত্রে রয়েছে হুইল গাড়ী। এখানেও নির্ধারিত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সাঈ করানো হয়। তবে বিন লাদীন কোম্পানীর বাবুস সাফার কাছে অবস্থিত অফিস থেকে বিনা-পয়সায়ও এক ধরনের হুইল গাড়ী পওয়া যায়। সেখানে পরিচয়পত্র কিংবা পাসপোর্ট জমা দিয়ে তা আনতে হয় এবং কাজ শেষে তা ফেরত দিয়ে নিজের পরিচয়পত্র ফেরত আনতে হয়। ভাড়ার জন্য নির্ধারিত হুইল গাড়ীর সংখ্যা প্রায় ৫০টি এবং খাটিয়ার সংখ্যা ২৫টি হবে। তবে বিনা পারিশ্রমিকের হুইল গাড়ীর সংখ্যা প্রায় ১০০০টি।

৬. খাবার বিতরণ
কিছু বেসরকারী প্রতিষ্ঠান মসজিদে হারামের সামনে রুটি খাবার বিতরণ করে। রুটি সাধারণত সকাল ও সন্ধ্যায় বিলি করা হয়। বিয়ে, আকীকা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের উদ্বৃত্ত খাবার মসজিদের মুসল্লীদের মধ্যে বিরতণ করা হয়। বর্তমানে মসজিদের পশ্চিমে প্রধান সড়কে রুটি কোম্পানীর গাড়ীগুলো থেকে রুটি বিতরণ করা হয়।

'মক্কা কল্যাণ সংস্থা' এক্ষেত্রে উত্তম নজীর স্থাপন করেছে। সম্প্রতি গঠিত এই বেসরকারী জনকল্যাণ সংস্থাটি বহুমুখী লক্ষ্য হাসিলের উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে মক্কার রোসাইফায় শাহজাদা আহমদ হাউজিং সোসাইটিতে এর সদর দফতর অবস্থিত। জনগণের দানের উপর ভিত্তি করে এই প্রতিষ্ঠানটির তৎপরতা চলছে।

বিয়ে, আকীকা ও অন্যান্য আনন্দ-উৎসবে উদ্বৃত্ত খাদ্য মক্কা ও মসজিদে হারামের গরীব লোকদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য এই সংস্থা বিভিন্ন হল ও হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ঐ সকল খাবার সংগ্রহ করে। পরে ঐ খাবারকে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রস্তুত করে বিলি করা হয়। ১৯৭০ এর দশকে সৌদী আরবে তেলের প্রাচুর্যের কারণে, দেশের আয় অবিশ্বাস্য রকম বেড়ে যায়। ফলে, 'অর্থই সব অনর্থের মূল' এই প্রবাদের কার্যকারিতা দেখা দেয়। যে কোন অনুষ্ঠানে খাবারের ব্যাপারে অকল্পনীয় অপচয় শুরু হয়। অপচয় যেন একটা আনন্দের বিষয় হয়ে দাঁড়ায় এবং এক্ষেত্রে কে কতবেশী অপচয় করতে পারে সে ব্যাপারে অঘোষিত প্রতিযোগিতা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত একশ' ব্যক্তির জন্য যে খাবার তৈরি করা হয় তা অনায়াসে ৫/১০ গুণ বেশী লোকে খেতে পারে। যাই হোক কল্যাণ সংস্থা সে সকল উদ্বৃত্ত খাবার সংগ্রহ করে তার সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এর আগে উদ্বৃত্ত খাবারগুলো ডাষ্টবিনে ফেলে দেয়া হত। অবশ্য বর্তমানে মাত্র ২০ বছরের ব্যবধানে, তেলমূল্য কমে যাওয়ায় সৌদী আরবে অর্থের প্রাচুর্য কমে এসেছে। তাই এখন অপচয়ের মাত্রাও ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। সম্পদের অপচয় আল্লাহ বরদাশত করেন না। সৌদী ওলামা সমাজ অপচয়ের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করেছেন।

মক্কা কল্যাণ সংস্থা মক্কা শহরের বিভিন্ন স্থানে হাজীদের সেবা আঞ্জাম দিচ্ছে। হজ্জ ও রমযানের সময় মক্কা শহরের প্রবেশপথে ছোট গাড়ীর বাধ্যতামূলক পার্কিং এলাকায়, বহিরাগত যিয়ারতকারীদের মধ্যে ইফতার ও সেহরী বিতরণ করে। তাছাড়াও রমযান মাসে মসজিদে হারামের মুসল্লীদের মধ্যে ইফতার ও সেহরী বন্টন করে। হজ্জের সময় হাজীদের মধ্যে প্রস্তুত খাবার, ঠাণ্ডা পানি ও বরফ বিতরণ করে। বিশেষ করে মিনা ও আরাফাতে এই সেবাকে আরো বেশী জোরদার করে। সংস্থা ১৪০৯ হিজরীর হজ্জে হাজীদের জন্য ৭০টি শিবির কায়েম করে। এর মধ্যে একটি মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। প্রত্যেক শিবিরে ২ হাজার হাজীর সংকুলানের ব্যবস্থা করা হয়। গরম থেকে বাঁচার জন্য হাজীদের মধ্যে ছাতা বিতরণ করা হয়। এছাড়াও সংস্থা ঠাণ্ডা পানি সম্বলিত অনেক থার্মস হাজীদের মধ্যে বিতরণ করে এবং দাতাদের কাছ থেকে পোষাক ও কাপড় চোপড় সংগ্রহ করে গরীবদের মধ্যে বিতরণ করে। গরীব ও দুঃস্থ পরিবারের কেউ মারা গেলে কিংবা দুর্ঘটনার শিকার হলে, সংস্থা সে সকল পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করে। ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক মিনার কোরবানীর পশুর গোশত বিতরণ প্রকল্প থেকে এই সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কোরবানীর পশুর গোশত সরবরাহ করে। ব্যাংক বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ৭০টি ছাগল-দুম্বা ও ভেড়া সরবরাহ করছে এবং হজ্জ ও রমযানে আরো অনেক বেশী গোশত সরবরাহ করে। পশ্চিমাঞ্চলীয় পানি সরবরাহ বিভাগ 'বাদশাহ ফাহাদ পানি প্রকল্প' থেকে সংস্থাকে বিশুদ্ধ ও ঠাণ্ডা পানি সরবরাহ করছে।

রান্না-বাড়ার জন্য সংস্থার নিজস্ব ভবনের নীচতলা নির্ধারিত রয়েছে। খাবার সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বড় ফ্রিজও রয়েছে।

কল্যাণ সংস্থা ভবিষ্যতে আরো কিছু নতুন প্রকল্প হাতে নেয়ার চিন্তা করছে। তার মধ্যে মসজিদ সংস্কার, এবং উদ্বৃত্ত ওষুধ সংরক্ষণ ও বন্টনের জন্য একটি দাতব্য ফার্মেসী প্রতিষ্ঠা করা অন্যতম। ওষুধের দোকান থেকে অনেক সময় ক্রেতারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওষুধ কিনতে বাধ্য হয়। পরে তারা উদ্বৃত্ত ওষুধ ফেলে দেয়। ফার্মেসীগুলো কোন কোন ওষুধ প্যাকেট ভেঙ্গে খুচরা বিক্রী করেনা। অনেক সময় ব্যবহারের জন্য ওষুধ সংগ্রহ করে ও তা ব্যবহার করা হয়না কিংবা আংশিক ব্যবহার করা হয়। মোটকথা, ঐ সকল উদ্বৃত্ত ওষুধ সংগ্রহ করে মক্কার গরীব লোকদের মধ্যে বিলি করার জন্য ফার্মেসী কায়েম করা হবে। উপরোক্ত সকল সেবা বিনামূল্যে দান করা হয়।

মক্কা কল্যাণ সংস্থা নিজস্ব ভবন তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রস্তাবিত ভবনে একই সময়ে ৪শ' লোকের খাবার তৈরির উপযোগী একটি রন্ধনশালা, ২শ' ফকীর-মিসকীনের থাকার জায়গা, শ্রমিকদের আবাসস্থল, গরীব লোকদের মধ্যে রেডিমেড পোষাক বিতরণের জন্য পুরুষদের জন্য একটি এবং মহিলাদের জন্য ১টি করে সেলাইঘর, বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের জন্য ফার্মেসী নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রখ্যাত দাতা হাসান আব্বাস শরবতলী মসজিদে হারামের নিকট একখণ্ড জমীন কল্যাণ সংস্থাকে দান করায় সংস্থা তাতে ফকীর গরীবদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

৭. অন্যান্য বিষয়
মসজিদে আসার পথে তওয়াফ এবং উমরাহর মাসআলা সম্বলিত বই পুস্তক বিক্রির জন্য কিছু লোক দাঁড়িয়ে থাকে। তারা পবিত্র কুরআন মজীদও বিক্রী করে। যারা মসজিদে কুরআন দান করতে চায় তারা অনেকে সেখান থেকেই তা ক্রয় করে।

মসজিদের বাইরে স্থায়ীভাবে কিছু টেলিফোন আছে। এগুলো, স্থানীয়, আন্তঃশহর ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য নির্ধারিত। এজন্য যে ধাতব মুদ্রার প্রয়োজন, টেলিফোন বিভাগ তা সরবরাহ করে।

ফকীর-মিসকীনদের মক্কা শহরে ভিক্ষা করা নিষিদ্ধ। তাদেরকে পেলে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। তারপরও ছদ্মবেশী ফকীরগণ, মসজিদের ভেতর মাতাফ ও অন্যান্য স্থানে ভিক্ষা করে। দাতারা ফকীর-মিসকীন পায় না। কিন্তু এদেরকে পেয়ে কিছু দান করার সুযোগ পায়।

৮. মসজিদে হারামের রক্ষণাবেক্ষন বা Maintenance
বর্তমানে মসজিদে হারামের রক্ষণাবেক্ষন বা Maintenance তিন ভাগে বিভক্ত। (১) মসজিদে হারামের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, কার্পেট বিছানো এবং যমযমের পানি পান করানো। এই উদ্দেশ্যে একটি কোম্পানীর সাথে ৩ বছর ব্যাপী ৫৪ মিলিয়ন রিয়াল ব্যয়ে চুক্তি করা হয়েছে। (২) বৈদ্যুতিক সংস্থাপনের জন্য ১ কোটি ৩৩ লক্ষ ৫৯ হাজার রিয়ালের চুক্তি এবং (৩) সাধারণ রক্ষণাবেক্ষনের জন্য তিন বছর মেয়াদী ২১ মিলিয়ন রিয়াল ব্যয়ে আরেকটি কোম্পানীর সাথে চুক্তি হয়েছে।

মসজিদে হারামের পরিচ্ছন্নতা, কার্পেট এবং যমযমের পানি সরবরাহ বিভাগ, মসজিদের ভেতর বাবুস সাফার কাছে, সংশ্লিষ্ট কাজের ময়দানী তৎপরতা তদারকীর জন্য একটি অফিস খুলেছে। খোলা জায়গায় অবস্থিত ঐ অফিসটি খুবই সাদামাটা ধরনের। এতে, সামান্য কিছু আসবাবপত্র আছে। কোম্পানীর সংশ্লিষ্ট তদারককারীরা সেখানে বসে তাদের কাজ পরিচালনা করেন।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 মসজিদে হারামের ওজু, টয়লেট ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা

📄 মসজিদে হারামের ওজু, টয়লেট ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা


মসজিদে হারামের অগণিত মুসল্লী এবং হজ্জের সময়ে লক্ষ লক্ষ হাজীর অজুর জায়গা এবং পেশাব পায়খানার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা এক অচিন্তনীয় ব্যাপার। একেতো মরুভূমি, কোন নদী-নালা নেই। অপরদিকে মসজিদে হারামের পার্শ্বে জায়গার অভাবের কারণেও এগুলো বড় কঠিন ব্যাপার।

কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানীতে, ঐসব অসম্ভব কাজ সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে, মসজিদে হারামে ৭টা বড় বড় অজুখানা এবং পায়খানা আছে। এগুলোর প্রত্যেকটিতে, নারী-পুরুষের পৃথক পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রত্যেক টয়লেটের মধ্যেই সাথে অজুর জায়গা আছে। মোট টয়লেটের সংখ্যা হচ্ছে, ১৭০০। টয়লেট এবং অজুখানার পানি শহরের বাইরের উপত্যকাগুলো থেকে আনা হয়। একমাত্র মালকান উপত্যকা থেকেই বার্ষিক ১৬ কোটি ৭৫ লাখ রিয়াল ব্যয়ে ৫ হাজার টয়লেটে দৈনিক ৩৩ হাজার ঘন মিটার পানি সরবরাহ করা হয়।

উন্নত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হারামের টয়লেটের পানি নাক্কাসার অদূরে ফেলা হয়। এতে করে হারাম শরীফের পরিচ্ছন্নতা বহাল থাকে।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 নহরে যোবায়দা

📄 নহরে যোবায়দা


মক্কায় যমযম ছাড়া আর পান করার মত কোন পানি ছিল না। পরে খলীফা হারুনুর রশিদের স্ত্রী যোবায়দা মক্কার অদূরে অবস্থিত নোমান ও হোনাইন উপত্যকার কূপের মিষ্টি পানি মক্কায় সরবরাহের জন্য একটা সরু নালা প্রবাহিত করেন ও পানি সরবরাহ করেন। এর পেছনে একটি ঘটনা কাজ করে।

একদিন যোবায়দা এক ভয়াবহ স্বপ্ন দেখেন। তিনি দেখেন, তার সাথে অজস্র লোক সঙ্গম করছে। তিনি এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চান। তিনি নিজ দাসীকে পাঠিয়ে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চান এভাবে যে, দাসী নিজেই ঐ স্বপ্ন দেখেছে। কিন্তু ব্যাখ্যাকারী শুনে বলেন, 'এ স্বপ্ন কে দেখেছে ঠিক করে বল, এটা অবশ্যই তুমি দেখনি'। তখন দাসী সত্য প্রকাশ করে বলে, 'যোবেদাই তা দেখেছে।' একজন স্বপ্নের ব্যাখ্যা করেন, 'যোবায়দা এমন এক মহান কাজ করবেন যার দ্বারা অজস্র লোক উপকৃত হবে'। কিন্তু সেটি কি কাজ ছিল তা বুঝা যাচ্ছিল না।

৮১০ খৃষ্টাব্দে তিনি মক্কায় হজ্জে আসেন এবং মক্কাবাসীর পানির সমস্যা দেখতে পান। তখন তিনি ঐ নালা খনন করার পরিল্পনা আঞ্জাম দিয়ে স্বপ্নের সার্থক বাস্তবায়ন করেন।

একদিকে, মক্কায় বহিরাগত হাজী ও যিয়ারতকারীদের ভীড় অপরদিকে, সেখানে রয়েছে পানির স্বল্পতা। নদী-নালা ও পুকুর না থাকায় পানির ক্রমবর্ধমান সমস্যা লেগেই আছে। তদুপরি কূপভিত্তিক পানি সরবরাহ পদ্ধতি ছিল সংকটজনক। কূপের পানি ভারী ও লবণাক্ত ছিল। তাই মক্কার স্থানীয় অধিবাসীরা প্রথম থেকেই উটের পিঠে বোঝাই করে ওয়াদী ফাতেমা (বর্তমান জুমুম) থেকে মিষ্টি পানি সংগ্রহ করত। কিন্তু এটা ছিল ব্যয়বহুল।

আল্লামা আযরাকীর 'আখবারে মক্কা' বই এর টীকা লেখক রুশদী সালেহ মালহাস ১৩৫৭ হিজরীর মুদ্রিত সংখ্যায় নহরে যোবায়দা সম্পর্কে একটি পরিশিষ্ট যোগ করেন। তিনি বলেন, হোনাইন ঝর্ণা কিংবা নহরে যোবায়দা তাদ পাহাড় থেকে উৎসারিত হয়েছে। এই পাহাড়টি পুরাতন মক্কা-তায়েফ রোডের নিকট বর্তমান শারায়ে' কৃষি খামারের নিকটবর্তী। তাদ পাহাড়ের পানি হোনাইনে এসে পড়ত। যোবায়দা হোনাইনের সেই পানির ধারাটি কিনে তা থেকে সরু খালের মাধ্যমে মক্কায় পানি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। আযরাকী নহরে যোবায়দা বলতে শুধু এটাকেই বুঝিয়েছেন। কিন্তু যোবায়দা ওয়াদী নোমান থেকে আরাফাতের উপর দিয়ে আরেকটি নালা প্রবাহিত করেছিলেন, আযরাকী সেটার কথা উল্লেখ করেননি। তিনি শুধু হোনাইনের নালার কথা উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন।

ওয়াদী নোমানের শেষ প্রান্তে অবস্থিত কারা পাহাড় থেকে নোমান ঝর্ণাধারাটি প্রবাহিত করা হয়। সেখান থেকে ওয়াদী নোমানের আওহার নামক জায়গায় উক্ত পানি এসে জমা হত। সেখান থেকে পানি দুই পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে আরাফাতে এসে কূপে মিলিত হয়। আরাফাতের ঐ পানিই হাজীরা পান করত। সেখান থেকে মোযদালেফা হয়ে মিনার পেছনে যোবায়দা কূপে এসে পানি পড়ত। এতে তার ১৭ লাখ দীনার খরচ হয়। যোবায়দা এই নহরটি মিনা পর্যন্ত নির্মাণ করেই ক্ষান্ত হন।

৯৬৯ হিজরীতে মক্কায় বৃষ্টিপাত কমে যায় এবং ঝর্ণা ও কূপগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় পানির তীব্র অভাব দেখা দেয়। শুধু আরাফাতের নহরের পানি বিদ্যমান থাকে। এতেও আবার পানি সরবরাহ কমে গিয়েছিল। তখন উসমানী খলীফা সুলতান সোলায়মানের কাছে মক্কার খরা ও কূপগুলো শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা পেশ করা হয়। এই সমস্যার কথা শুনে সুলতান সোলায়মানের মেয়ে ফাতেমা খানম নিজস্ব তহবিল থেকে উক্ত নহর সংস্কারের প্রস্তাব করেন। সুলতান তাতে রাজী হন। শাহজাদী ফাতেমা খানম উক্ত খাল সংস্কার করেন। এতে ১০ বছর সময় লেগে যায়। ৯৭৯ হিজরীতে উক্ত সংস্কার কাজ শেষ হয়। তিনি মিনা পর্যন্ত সংস্কার করে পরে তাকে মক্কা পর্যন্ত যোবায়দার নির্মিত হোনাইন ঝর্ণাধারার সাথে সংযুক্ত করেন। তখন দুটো ধারা একসাথে মক্কা পর্যন্ত প্রবাহিত হয় এবং এর ফলে মক্কার পানি সমস্যার সমাধান করা হয়। মক্কা অঞ্চলের ৬০টি এবং মিনা, মোযদালেফা ও আরাফাতের ৩০টি কূপে এসে এই পানি জমা হত।

২০ কিলোমিটার দীর্ঘ নহরে যোবায়দা, একটি সরু ও সংকীর্ণ নালা বা খালের নাম, যার মাধ্যমে হোনাইন এবং ওয়াদী নোমানের পানি মক্কায় সরবরাহ করা হয়। এই নালাটি উপর নীচসহ চতুর্দিক থেকে পাথর দ্বারা তৈরি এবং এতে চুন দ্বারা প্লাস্টার করা হয়েছে। ফলে, ঝর্ণার পানি স্বচ্ছ ও পরিষ্কার। নহরে যোবায়দাকে উপর থেকে দেখলে বুঝা যায় না যে, এটি একটি সরু নালা। ঢেকে রাখার কারণে এটাকে সরু সুড়ঙ্গের সাথে তুলনা করা যায়। এটি আরাফাত, মোযদালেফা ও মিনার মধ্য দিয়ে মোয়াল্লা পর্যন্ত এসে শেষ হয়। বিভিন্ন সময় এই নালার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়।

১৫০০ খৃষ্টাব্দে, এক পানি বন্টন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মক্কায় নহরে যোবায়দার পানি সরবরাহ করা হয়। মোয়াল্লা থেকে সাফা পাহাড়ের পাশ ঘেঁষে এর একটি সরবরাহ লাইন নির্মাণ করা হয় এবং পূর্বদিকের পাহাড়ে সরবরাহ করা হয়। এর সর্বশেষ সংস্কার করা হয় ১৯৬৭ সালে।

অন্যান্য উৎস থেকে মক্কায় ক্রমবর্ধমান পানি সরবরাহের কারণে বর্তমানে নহরে যোবায়দার পানি অব্যবহৃত। তাই ভবিষ্যতে এই পানিকে কি কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। সম্ভবতঃ কৃষি কাজ, পশুর পানীয় ও গাছ উৎপাদনের কাজে তা ব্যবহার করা হতে পারে।

বর্তমানে, আযিযিয়া থেকে মোযদালেফা পর্যন্ত মক্কা শহর সম্প্রসারণের কারণে নহরে যোবায়দা হুমকীর সম্মুখীন। এটি উপত্যকার এক পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। মিনার উন্নয়ন তৎপরতার জন্য বিভিন্ন সময় উপত্যকায় বহু খননকার্য চালানো হয়েছে। এ পর্যন্ত তা অক্ষত থাকলেও ভবিষ্যতে তা আশংকামুক্ত নয়।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 শোয়াইবিয়া লবণমুক্ত পানি প্রকল্প

📄 শোয়াইবিয়া লবণমুক্ত পানি প্রকল্প


বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আযীয মক্কা থেকে ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে লোহিত সাগরের শোআইবিয়া উপকূলে ১৯৮৮ সালের ২২শে জুন নতুন একটি লবণমুক্ত পানির প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। এতে দৈনিক ৪০ মিলিয়ন গ্যালন পানি লবণমুক্ত করে পান করার উপযোগী করা হয়। ২৫ মিলিয়ন গ্যালন পানি মক্কায় এবং ১৫ মিলিয়ন গ্যালন পানি তায়েফে সরবরাহ করা হচ্ছে। সাগর থেকে মক্কা পর্যন্ত দু'টো স্থানে পাম্প কেন্দ্র স্থাপন করে নীচ থেকে পাম্পিং এর মাধ্যমে উপরে পানি উঠানো হচ্ছে। এ পানি মক্কায় সরবরাহ করা হচ্ছে এবং মক্কার লোকেরা তা ব্যবহার করছে।

মক্কায় ১২০ কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনতে হলে এক বিশাল পাইপ লাইনের প্রয়োজন। শোয়াইবিয়া থেকে তায়েফ পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার এবং সেখান থেকে আরাফাত পর্যন্ত আরো ৬৬ কিলোমিটার পর্যন্ত পাইপলাইন বসানো হয়েছে। শোয়াইবিয়া থেকে তায়েফে পানি নিতে ১৩ কিলোমিটার পাহাড় কেটে সুড়ঙ্গ পথ তৈরি করা হয়েছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যের সবচাইতে বড় সুড়ঙ্গপথ।

তায়েফ সমুদ্রের স্তর থেকে ১৭৪৫ মিটার উঁচু। সেখানে পানি তুলতে ৪টি পাম্প স্টেশন কায়েম করা হয়েছে। ৫ বিলিয়ন সৌদী রিয়াল ব্যয়ে নির্মিত উক্ত বিশাল প্রকল্পে পানি উৎপাদনের সাথে সাথে ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদিত হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল এমন একটি বিশাল প্রকল্পের আয়ু সর্বোচ্চ ২০ বছর। তারপর তা নষ্ট হয়ে যায় এবং বিকল্প আরেকটি নতুন প্রকল্প দাঁড় করাতে হয়।

সাধারণ মওসুমে মক্কায়, দৈনিক ৬০-৭২ হাজার ঘনমিটার পানি এবং হজ্জ মওসুমে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার পানির প্রয়োজন পড়ে। ১৪০৯ হিজরীর হজ্জ মওসুমে মক্কায় মোট ৩২ লাখ ঘনমিটার পানি এবং মিনা-মোযদালেফা ও আরাফাতে ৭৭৭ হাজার ঘনমিটার পানি ব্যবহৃত হয়।

মক্কার পানি চাহিদা পূরণের জন্য বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। সেজন্য মক্কার অদূরে ওয়াদী মালাকানে 'মালাকান উপত্যকা প্রকল্প' নামে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেই প্রকল্পের আওতায় ২২টি কূপ খনন করা হয়েছে এবং সেখান থেকে মক্কায় পানি সরবরাহ লাইন ও রিজার্ভার নির্মাণ করা হয়েছে। এই উপত্যকার পানি মক্কার প্রধান রিজার্ভার কাওয়াশেকে সংরক্ষণ করা হয় এবং সেখান থেকে মক্কার অধিকাংশ এলাকায় পানি সরবরাহ করা হয়। এই রিজার্ভার থেকে দৈনিক ৩৩ হাজার ঘনমিটার পানি সরবরাহ করা হয় যা মক্কার বর্তমান পানি চাহিদার অর্ধেক পূরণ করে।

তাছাড়াও পশ্চিমাঞ্চলীয় পানি সরবরাহ বিভাগ ওয়াদী ফাতেমার পানি হাদ্দার মধ্য দিয়ে কাওয়াশেক রিজার্ভারে সরবরাহ করার ব্যবস্থা করেছে। হজ্জের সময় পানি সরবরাহ বিভাগ পাহাড়ের উপর অবস্থিত মোট ১৭টি রিজার্ভার চালু করে এবং সেগুলোতে পানি উত্তোলনের জন্য মোট ৩২টি পাম্পিং স্টেশন কায়েম করে। পানি সরবরাহ বিভাগ মক্কায় পানি সরবাহের মাধ্যমে মসজিদে হারাম এবং হাজীদের পানি সেবার নিশ্চয়তা বিধান করার চেষ্টা চালায়। ওয়াদী ফাতেমায় বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য একটি বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে, ২ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। এই পানি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বৃদ্ধি ও কৃষি কাজে ব্যবহার হচ্ছে।

তাছাড়াও, মক্কার অদূরে ওসফান, জোরানা এবং নাখলাসহ অন্যান্য উপত্যকায় প্রচুর মিষ্টি পানির কূপ আছে। পানির অভাব দেখা দিলে মক্কার পানি ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে পানির পাত্র ভর্তি করে মক্কায় পানি বিক্রী করে। গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেগুলো থেকে পানি উঠানো হয় এবং সেখানে ভূগর্ভস্থ পানির প্রাচুর্যের কারণে গভীর নলকূপ দ্বারা পানি সেচ করে কৃষিকাজ করা হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00