📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 মসজিদে হারামে নামাযের বর্ণনা

📄 মসজিদে হারামে নামাযের বর্ণনা


মসজিদে হারামের এক রাকাত নামায, অন্য জায়গায় ১ লাখ রাকাতের সমান। অন্যান্য এবাদতের সওয়াবও ১ লাখ গুণ বেশী। তাই মসজিদে হারামে নামায পড়ার জন্য বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মধ্যে বিরাট আগ্রহ। এই জন্যই দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলমানরা ছুটে আসে এই পবিত্র মসজিদে নামায পড়ার জন্য।

বর্তমানে, মসজিদে হারামের ৫ জন ইমাম ও খতীব আছেন। তারা ৫ ওয়াক্ত নামায, জুমআ ও ঈদের নামায পড়ান। একজন প্রধান ইমাম থাকেন। তিনি সাধারণত: দুই ঈদের নামায পড়ান ও খোতবা দেন।

মসজিদে হারামের ৫ ওয়াক্ত নামাযের জামাতে, এক-একজন ইমাম সাহেব নামায পড়ান। নামায আউয়াল ওয়াক্তেই পড়া হয়। নামাযের সময় মসজিদে হারামের বিভিন্ন কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকেন। ইমাম সাহেবদের অনেকেই নামাযের আগে তওয়াফ করেন, তারপর ইমামতী করেন। ইমাম সাহেবদের নামায পড়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বর্তব্যরত পুলিশরা ইমাম সাহেবের নিরাপত্তার জন্য ব্যস্ত থাকে।

নামাযের জামাতের সময় ইমাম সাহেব মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দাঁড়ান এবং সেই দিকে, ইমাম সাহেবের পেছনে প্রথম কাতার দাঁড়ায়। অবশিষ্ট তিনদিকে, কাবা শরীফের গা ঘেঁষে ১ম কাতার অনুষ্ঠিত হয়। ১ম কাতারে দাঁড়ানোর জন্য মুসল্লীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। এজন্য অনেকেই আগে জায়নামায বিছিয়ে স্থান দখল করে রাখে। যদিও আলেমদের দৃষ্টিতে এটা ঠিক নয়। কেননা, যে আগে আসবে সে-ই প্রথম কাতারে শামিল হবে এবং প্রয়োজনে সে বসে অপেক্ষা করবে। জায়নামায বিছিয়ে জায়গা দখল করে চলে গিয়ে পরে নিজে এসে সেই জায়গায় দাঁড়ালে অন্য জনের অগ্রাধিকার নষ্ট হয়।

মহিলারা মসজিদে হারামের ভেতরে পেছনের অংশে নামায পড়ে। কিন্তু বর্তমানে যমযমের সামনে থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে, সাফা পাহাড়ের আগ পর্যন্ত সবটুকু অংশেই মহিলারা নামায পড়ে। আযানের কিছু আগ থেকেই মহিলাদেরকে তওয়াফ থেকে বের করার চেষ্টা চলে। কিন্তু আযানের সাথে আর কোন মহিলাকে তওয়াফ করতে দেয়া হয় না। তারা পরে তাদের অসম্পূর্ণ তওয়াফ সম্পূর্ণ করে।

মহিলাদেরকে তওয়াফ থেকে সরানোর জন্য বেশ কয়েকজন হিজড়া নিয়োগ করা হয়েছে। এরা নপুংশক। আরবীতে তাদেরকে 'খুনসা' বলে। যে সমস্ত মহিলা আযানের পর তওয়াফ বন্ধ রাখার অনুরোধ মানে না, তারা তাদেরকে শক্তি প্রয়োগ করে মাতাফ থেকে বের করে দেয় এবং তারা মহিলাদের শরীর স্পর্শ করতে পারে। এতে কোন দোষ নেই। কারণ তারা তো আর পূর্ণাঙ্গ পুরুষ নয়।

মসজিদে হারামে তারাবীহর নামাযের দৃশ্য বড়ই মনোরম। এতে দুইজন ইমামের ইমামতিতে ১০, ১০ রাকাত করে বিশ রাকাত নামায পড়া হয় এবং খতমে কুরআন করা হয়। রমযানে, সেহরী খাওয়ার আগ পর্যন্ত সবাই জেগে থাকে এবং হাট বাজার ও দোকান-পাটসমূহ খোলা থাকে। রমযান মাসের রাতকে দিনের মত মনে হয়। সেহরীর পর ফজরের নামায শেষে সবাই ঘুমায় এবং দিনের প্রথম প্রহর পর্যন্ত গোটা সৌদী আরব ঘুমিয়ে থাকে। তারপর অফিস আদালতের কাজ চলে। ২১শে রমযান থেকে শেষ ১০ দিন তারাবীহ শেষে প্রায় ২ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পর শুরু হয় জামাতে তাহাজ্জুদের ১০ রাকাত নামায। এই নামাযের কেরাত, রুকু ও সেজদা অতি দীর্ঘ হয়ে থাকে। তারাবীহ ও তাহাজ্জুদের নামায দুটো শুরুর আগে মুয়াজ্জিন উভয় নামাযের জন্য 'সালাতুল কেয়াম' পড়ার ঘোষণা দেয়। হাদীসের পরিভাষায় এই দুটো নামাযকেই সালাতুল কেয়াম বলে। হাম্বলী মাজহাব অনুযায়ী বিতরের তিন রাকাত নামায ২ নিয়ত ও দুই সালামে পড়া হয়। ইফতারের সময় সোলাইমানিয়া, শিশশা, যাহের ও যমুমে তোপধ্বনি করা হয়।

রমযানের অতিরিক্ত সওয়াব পাওয়ার উদ্দেশ্যে মসজিদে হারামে ভীষণ ভিড় হয় বিশেষ করে কদরের রাত্রের মর্যাদা লাভের জন্য শেষ ১০ রাত প্রচণ্ড ভীড় হয় এবং ২৭শে রমযান এই ভিড় চূড়ান্তে পৌছে। ২৯ শে রমযান তারাবীর খতমে কুরআন অনুষ্ঠিত হয়। অগণিত লোক শেষ দশকের দিনগুলোতে এতেকাফ করে। রমযানে মসজিদে হারামের দৃশ্য বড়ই মনোরম।

বিভিন্ন নামাযের জামাত শেষে প্রায়ই জানাযার নামাযের ঘোষণা আসে। মুয়াজ্জিন আরবীতে বলেন, الصَّلاةُ عَلَى الأموات অথবা الصَّلاةُ عَلى الميت يَرْحَمْكُمُ اللَّهُ অর্থাৎ এখন মৃত ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমূহের জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হবে, আল্লাহ আপনাদের উপর রহম করুন। লাশ মহিলা হলে মুআজ্জিন বলেন যে, الصَّلَاةُ عَلَى الْمَيِّتَةِ يَرْحَمْكُمُ اللَّهُ
কোন কোন সময়, জুমআর নামাযের পর, অসংখ্য মানুষের উপস্থিতিতে মসজিদে হারামের বাবে আবদুল আযীযের সামনের রাস্তায়, শরীয়াহ কোর্টের রায় অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত লোকদের কেসাস বা গর্দান কাটা হয়। শরীয়তের এই বিধানটি মানুষ বড় ঔৎসুক্যের সাথে অবলোকন করে।

রমযান ও হজ্জ মওসুম, উমরাহ এবং হজ্জ আদায়কারীদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু সংখ্যক নারী ও পুরুষ পর্যবেক্ষক, বক্তা এবং উপদেশদানকারী নিযুক্ত করা হয়।

তারা মসজিদে হারামে বক্তৃতা করেন এবং লোকদের কাছে হজ্জের মাসলা-মাসায়েল বর্ণনা করেন। হিজরে ইসমাঈল, মসজিদে হারামের বিভিন্ন দরজা, মোলতাযাম, বাবে কা'বা এবং যমযম ও সাফা মারওয়া পাহাড়ে তারা অবস্থান করে। মহিলা গাইডগণ নারীদের পথ প্রদর্শন করে।

এ ছাড়াও সারা বছর মসজিদে হারামের ভেতর আসর থেকে এশা পর্যন্ত কিছু ওয়ায-নসীহত এবং বক্তৃতার ব্যবস্থা রয়েছে।

এশার নামাযের পর মসজিদে হারামের বড় তিনটি দরজা ব্যতীত বাকী দরজাগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

বছরের খরা মওসুমে, বৃষ্টিপাতের অভাবের সময়, সৌদী বাদশাহর আহ্বানক্রমে, এস্তেঙ্কার নামায তথা 'বৃষ্টি প্রার্থনা'র নামায অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়াও চন্দ্রগ্রহণের সময় কিংবা সূর্য গ্রহণের সময়ও বিশেষ নামাযের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এ ছাড়াও মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা বিশেষ কোন ইসলামী ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে, লাশবিহীন গায়েবানা জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়।

জুমআর নামায পালাক্রমে, বিভিন্ন ইমাম সাহেবরা পড়ান। জুমআর খোতবায় সমসাময়িক মুসলিম বিশ্বের সমস্যা, মুসলমানদের ঈমান আকীদা, আমল, ইসলামের বিশেষ পর্বসমূহের উপর আলোকপাত করা হয় এবং বেদআত ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বক্তব্য পেশ করা হয়। মসজিদে হারামের সকল নামায ও আযান রেডিও এবং টিভিতে প্রচারিত হয়। রাষ্ট্রীয় মেহমানদের জন্য আযানের স্থানে কিংবা এর নীচে নামাযের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। এ আযানের স্থানে একটি রেডিও ষ্টুডিও আছে।

মসজিদে হারামের নামাযের সালাম ফিরনোর পর ইমাম সাহেব সবাইকে নিয়ে একসাথে দু'হাত তুলে দোয়া করেন না। কেননা নামাযের অধিকাংশ অংশই দোয়া। এ ছাড়াও নামাযের সালাম ফিরানোর পর সবাইকে নিয়ে দু'হাত তুলে নিয়মিত দোয়া করার পক্ষে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কোন হাদীস এবং আমল বর্ণিত নেই।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 মসজিদে হারামে খোতবা দানের পদ্ধতি

📄 মসজিদে হারামে খোতবা দানের পদ্ধতি


হিজরী ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে মসজিদে হারামের ইমাম জুমআর নামাযের খোতবা দেয়ার উদ্দেশ্যে কাল জামা ও পাগড়ী পরে আসতেন। মিসরের বাদশাহ নাসের এই সকল পোশাক ইমাম সাহেবের জন্য পাঠাতেন। ইমাম সাহেব দুটো ঝাণ্ডার মাঝখানে ধীরে ধীরে চলতেন এবং দু'জন মুয়াজ্জিন ঐ ঝাণ্ডা দুটো আঁকড়ে ধরতেন। সামনে একজন হাতে ফটকা নিয়ে এগিয়ে যেতেন। তিনি তা বাতাসে ফুটিয়ে আওয়ায দিলে, মুসল্লীরা বুঝতে পারত যে ইমাম সাহেব আসছেন। তিনি মিম্বারের কাছে আসার আগ পর্যন্ত এইভাবেই চলত। ইমাম সাহেব প্রথমে হাজারে আসওয়াদ চুমো দিতেন, সেখানে দোয়া করতেন এবং পরে মিম্বারের দিকে এগুতেন। প্রধান মোয়াজ্জিনও কাল পোশাক পরে কাঁধে তলোয়ার নিয়ে তা হাতে ধরে থাকতেন। তারপর ঝাণ্ডা দুটো মিম্বারের দুই পার্শ্বে দাঁড় করিয়ে রাখা হত। ইমাম সাহেব, মিম্বারের প্রথম সিঁড়িতে উঠার পর মুয়াজ্জিন তাঁর কাঁধে তলোয়ার ঝুলিয়ে দিতেন। ইমাম সাহেব তলোয়ারের গোড়া দিয়ে মিম্বারের সিঁড়িতে আওয়ায দিতে দিতে মিম্বারের উপরে গিয়ে বসতেন এবং সবাইকে সালাম জানাতেন। ইমাম সাহেব বসার পর মুয়াজ্জিন যমযমের গম্বুজ থেকে আযান দিতেন। খোতবা শেষে, তিনি আগের মত আওয়ায দিয়ে দিয়ে নীচে নেমে আসতেন। এরপর মিম্বারটি সরিয়ে ফেলা হত। কিন্তু ৯৬৬ হিজরীতে, সুলতান সোলায়মান খানের মিম্বারটি মাকামে ইবরাহীমের উত্তর পার্শ্বে স্থায়ীভাবে নির্ধারণ করার পর প্রায় ৫শ' বছর পর্যন্ত এইভাবে মিম্বার অনড় থাকে এবং ইমাম সেখানে বসেই খোতবা দেন। বর্তমান সৌদী আমলে শুধু এই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে।

হেজাযে, তুরস্কের উসমানী সুলতানের আমলে, ইমাম সাহেব বাবে বাযান এবং বাবে আলীর মাঝখানে অবস্থিত মাদ্রাসায় প্রবেশ করে প্রথমে দু'রাকাত নামায পড়ে নিতেন। তখন, সেখানে সময় নির্ধারণের জন্য দুটো বড় ঘড়ি ছিল। তখনকার অভ্যাস অনুযায়ী, ইমাম সাহেব ফরজিয়া নামক প্রশস্ত ঢিলা জুব্বা পরিধান করতেন এবং ভারতীয় পদ্ধতিতে সুতা ও সিল্ক মিশ্রিত সাদা পাগড়ী পেঁচিয়ে মাথায় বাঁধতেন। তারপর হাতে লাঠি নিয়ে মোবাল্লেগদের জন্য নির্ধারিত 'মোরাক্কায়' এসে পাগড়ীর উপর তাইলাসান নামক একটি টুপি পরতেন। হাতের লাঠির মাথা তীরের দাঁতের মত ধারাল ছিল। এটাকে গাদ্দারা বলা হত। তারপর সামনের দিকে রওনা হলে, অপেক্ষমান ৪ জন ব্যক্তি তাঁকে মিম্বারের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতেন এবং একজন ইমাম সাহেবের লাঠি বহন করতেন। তারপর মিম্বারের উপর থেকে সোনার প্রলেপযুক্ত রূপালী তারের নেট সরানো হত এবং ইমাম গিয়ে মিম্বারের উপর বসতেন। তারপর দ্বিতীয় আযান দেয়া হত। একজন মোবাল্লেগ, আযানের মুহাম্মদ শব্দ শুনলে জোরে দরুদ পড়তেন, খোতবায় সাহাবাদের নাম শুনলে তাদের উদ্দেশ্যে রাদিয়াল্লাহ আনহুম বলতেন এবং ইমাম কোন খলীফার নাম উচ্চারণ করলে তিনি তাদের জন্য দোয়া করতেন। তখন খলীফাদের নাম উল্লেখ করে খোতবায় তাদের জন্য দোয়া করা হত। এই অবস্থা বাদশাহ শরীফ হোসাইন বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল মুঈন বিন আ'ওন পর্যন্ত বর্তমান ছিল। মসজিদে হারামের ইমামগণ বিভিন্ন মাজহাবের অনুসারী ছিলেন। সুনির্দিষ্ট কোন মাজহাবের ইমাম নিতে হবে এমন কোন ব্যাপার ছিল না। মসজিদে হারামের সব ইমাম খতীব নয়। অর্থাৎ সবাই জুমআর নামায পড়ান না। ফলে, তাদের খোতবাও দিতে হয় না।

ঈদুল ফিতরের খোতবার পদ্ধতি একটু ভিন্ন ধরনের ছিল। ঈদের খোতবা দেয়ার পালা যার উপর আসত, তিনি নিজ ঘরে ফজরের নামাযের পর, তাঁর কাছে আগত মেহমানদের জন্য মিষ্টান্ন এবং পানীয় তৈরি করতেন। সকাল বেলা ফর্সা হয়ে গেলে তাঁর কাছে প্রথমে মসজিদে হারামের প্রধান খতীবসহ অন্যান্য খতীব, পরে প্রধান মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য মোয়াজ্জিন, তারপর হারাম শরীফের খাদেমগণসহ সবাই আসতেন এবং তারা সবাই খাওয়া দাওয়া সেরে খতীবের সাথে একসাথে রওনা হতেন। তিনি কাল পোশাক, পাগড়ী এবং তাইলাসান টুপী পরে জায়নামাযে আসা পর্যন্ত সবাই তাঁকে এগিয়ে দিতেন। মোসাল্লা জিবরাঈলেই সাধারণতঃ ইমাম দাঁড়াতেন। মোসাল্লা জিবরাঈল হচ্ছে, বাবুল কাবা এবং রোকনে ইরাকীর মধ্যে।

খতীব নামাযে দাঁড়ালে, যমযমের গম্বুজের উপর থেকে মুয়াজ্জিন ৩ বার বলতেন آثَابَكُمُ اللَّهُ এবং পরে বলতেন الصَّلَاةُ ، رَحِمْكُمُ اللَّهُ ইमाम नामায পড়ে খোতবা দিতেন।

সৌদী শাসনামলে, ইমাম সাহেবদের চালচলন অত্যন্ত সাদা-সিধে। ইমামগণ হাম্বলী মাজহাবের অনুসারী। যেহেতু হাম্বলী মাজহাব রাষ্ট্রীয় মাজহাব হিসেবে স্বীকৃত। তাঁরা মিম্বারে উঠার পর সালাম দেন। তারপর ২য় আযান দেয়া হয়। আযানের পর খোতবার আগে আর কোন সুন্নাত নামায পড়ার সুযোগ দেয়া হয় না।

ইমাম সাহেব খোতবা শুরু করেন। ইমাম সাহেবরা সাধারণভাবে, মুসলিম বিশ্বের সকল শাসকদের হেদায়েতের জন্য দোয়া করেন। তবে, সৌদী শাসকদের নামে খোতবা দেয়া হয় না। রাসূলুল্লাহ (সা) এবং খোলাফায়ে রাশেদীন নিজেদের নামে খোতবা দিতেন না। কিন্তু আব্বাসী শাসনামল থেকে খলীফাদের নামে খোতবা দেয়ার পদ্ধতি চালু হয় এবং তা প্রায় সৌদী শাসনামলের পূর্ব পর্যন্ত বহাল থাকে।

বর্তমানে মসজিদে হারামের জুমআর নামাযে দুই আযান এবং এক একামত দেয়া হয়। জুমআর নামাযে রাসূলুল্লাহ (সা) এবং হযরত আবু বকর ও উমরের সময় এক আযানের পদ্ধতিই চালু ছিল। কিন্তু ৩য় খলীফা হযরত উসমানের শাসনামলে, লোকদেরকে তাকিদ দেয়ার উদ্দেশ্যে, সূর্য হেলে যাওয়ার সাথে সাথে, সোকে মদীনার পার্শ্বে যাওরায় অবস্থিত তাঁর বাড়ীতে, আরেকটি আযান প্রবর্তন করেন। এই মিলে মোট আযান সংখ্যা দুই এবং একামত সংখ্যা ১-এ দাঁড়ায়। এটাই পরে সাহাবায়ে কেরামের সর্বসম্মত মত হিসেবে গৃহীত হয়। হযরত উসমানের সময় মুসল্লী বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ঐ আযানের ব্যবস্থা করা হয়। ইমাম শাফেঈ (রঃ) তাঁর الام। বইতে সায়েব বিন ইয়াযীদ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা), হযরত আবু বকর এবং উমর (রা) এর সময় ইমাম মিম্বারে বসার পর প্রথম আযান দেয়া হত। তারপর হযরত উসমান (রা) এর সময় মানুষ বেড়ে যাওয়ায়, হযরত উসমান দুই আযানের নির্দেশ দেন। তারপর থেকে দুই আযানের নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হয়।

ইমাম শাফেঈ (রঃ) তাঁর الام বইতে আরো উল্লেখ করেছেন যে, জুমআর দুই আযান হযরত উসমান প্রবর্তন করেছেন বলে আতা স্বীকার করেন না। তাঁর মতে, মুয়াওবিয়াই (রা) ঐ পদ্ধতি চালু করেন।

জুমআর খোতবায় লাঠির উপর ভর দিয়ে খোতবা দেয়া সুন্নত। ইবনে মাজাহ আম্মারাহ বিন সাদ থেকে বর্ণনা করেন যে,
إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا خَطَبَ فِي الْحَرْبِ خَطَبَ عَلَى قَوْسٍ وَإِذَا خَطَبَ فِي الْجُمْعَةِ خَطَبَ عَلَى عَصَاهُ .
অর্থ: 'রাসূলুল্লাহ (সা) যুদ্ধের ময়দানে খোতবা দেয়ার সময় ধনুকের উপর এবং জুমআর খোতবা দেয়ার সময় তাঁর লাঠির উপর ভর দিতেন।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00