📄 চার মাজহাবের নামাযের স্থান
মসজিদে হারামে ৪ মাজহাবের লোকদের পৃথক নামাযের জামাত অনুষ্ঠিত হত। হানাফী, শাফেঈ, মালেকী এবং হাম্বলী মাজহাবের আলাদা আলাদা নামাযের জামাত ছাড়াও শিয়া যায়েদীয়া সম্প্রদায়ের পৃথক নামাযের জামাত অনুষ্ঠিত হত। হিজরী ৪র্থ কিংবা ৫ম শতাব্দীতে মাজহাব ভিত্তিক পৃথক নামাযের জামাত পদ্ধতি চালু হয়। আবুল হোসাইন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন যোবায়ের কানানী স্পেনী ৫৮৮ হিজরীতে তাঁর সফর-অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে পৃথক নামাযের জামাতের এই বর্ণনা দেন।
শাফেঈ মাজহাবের অনুসারীরা মাকামে ইবরাহীমের পেছনে নামায পড়তেন। মালেকী মাজহাবের অনুসারীরা রোকনে ইয়ামানী বরাবর নামায পড়তেন। হানাফী মাজহাবের অনুসারীরা মীযাব বরাবর হাতীমে কাবার দিকে নামায পড়তেন। এই মাজহাবের নামাযের জামাত সবচাইতে বড় এবং শানদার ছিল। কেননা, অনারব বিশ্বের বেশীর ভাগ দেশ হানাফী মাজহাবের অনুসারী। হাম্বলী মাজহাবের অনুসারীরা হাজারে আসওয়াদ এবং রোকনে ইয়ামানী বরাবর নামায পড়তেন। তারা মালেকী মাজহারের লোকদের সাথে একই সময় নামায শুরু করতেন। শিয়া যায়েদীয়া মাজহাবের অনুসারীরা আযানে 'হাইয়া আলাল ফালাহ'-এর পর 'হাইয়া আলা খাইরিল আমল' এই বাক্যটি যোগ করত। তারা জোহরের নামায ৪ রাকাত পড়ত এবং সব মাজহাবের নামায শেষ হয়ে গেলে মাগরেবের নামায পড়ত। বর্তমানে, একই জামাতে সবাই নামায পড়ে এবং মাজহাব ভিত্তিক পৃথক জামাত পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে।