📄 মসজিদে হারামের বর্তমান দরজা
মসজিদে হারামে বর্তমানে ৩৬টি দরজা আছে। ৩৬টি দরজার মধ্যে ৫টি দরজা প্রায়ই বন্ধ থাকে এবং সেগুলো দিয়ে মসজিদে হারামে কোন লোক প্রবেশ কিংবা বের হয় না। এর মধ্যে তিনটা দরজা খুবই বড়। সেগুলো মসজিদে হারামের প্রধান দরজা। দরজাগুলোর নাম ও বর্ণনা নিম্নরূপ:
পূর্ব-দক্ষিণ দিক: ১। আযইয়াদ ২। বিলাল ৩। হোনাইন ৪। ইসমাঈল ৫। সাফা। এদিকে কোন দরজা নেই।
উত্তর-পূর্ব দিক: ১। দারুল আরকাম ২। বনি হাশেম ৩। আলী ৪। আব্বাস ৫। আন-নবী ৬। আস সালাম ৭। বনি শায়বা ৮। হুজুন ৯। মোয়াল্লাহ ১০। মোদ্দাআ ১১। মারওয়া। এদিকেও কোন প্রধান দরজা নেই।
মারওয়া থেকে বাবুল ফাতহ এর মাঝে ৫টি দরজা পড়ে। এগুলো সর্বদা বন্ধ থাকে। শুধু বাবে কোরাইশ মাঝে মাঝে খোলা থাকে। এদিকের দরজাগুলোর নাম হচ্ছেঃ ১। মুরাদ ২। মোহাসসাব ৩। আরাফাহ ৪। মিনা ৫। কোরাইশ।
পশ্চিম-উত্তর দিক: ১। আল-ফাতহ, প্রধান দরজা। এটি উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থিত। ২। উমর ফারুক ৩। নাদওয়াহ ৪। শামীয়াহ ৫। আল কুদস ৬। মদীনা মোনাওয়ারা ৭। হোদায়বিয়া ৮। উমরাহ। এটি একটি প্রধান দরজা এবং তা উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত।
দক্ষিণ-পশ্চিম দিক: ১। শোবেকা ২। ইবরাহীম ৩। আবু বকর সিদ্দিক ৪। হিজরত ৫। আল-ওয়াদা ৬। উম্মেহানী ৭। বাবে আবদুল আযীয। এটি একটি প্রধান দরজা; এটি মসজিদে হারামের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত। তিনটি প্রধান দরজার মধ্যে এটি প্রধান সড়কের সাথে জড়িত হওয়ায় এর গুরুত্ব অনেক বেশী। এই দরজা দিয়ে সরকারী মেহমান ও বেশী সংখ্যক লোক প্রবেশ করে। নতুন সম্প্রসারণের ৯টি দরজাসহ মসজিদে হারামের মোট দরজার সংখ্যা হচ্ছে ৪৫টি।
মসজিদে হারামের দোতলায় আরো ৪টি দরজা আছে। একটি হচ্ছে, মারওয়া পাহাড়ের উপর। বাইরের পাহাড়ের উপর দিয়ে তৈরি উঁচু রাস্তার সাথে এই দরজাটি সংযুক্ত। ফলে বাইরে থেকে ঐ রাস্তা ও দরজা দিয়ে মুসল্লীরা সরাসরি দোতলায় প্রবেশ করতে পারে। অন্য একটি দরজা হচ্ছে উত্তর-পশ্চিম দিকের দোতলার সাথে জড়িত। সেটিও পশ্চিম-উত্তর দিক থেকে আসা পাহাড়ী রাস্তার সাথে সংযুক্ত। আরেকটি দরজা হচ্ছে, উত্তর-পশ্চিম দিকে বাবে উমরাহর সাথে। সেটিও বাইরের উঁচু পাহাড়ী রাস্তার সাথে সংযুক্ত। মুসল্লীরা এই দরজা দিয়েও সরাসরি দোতলায় প্রবেশ করে।
এছাড়াও নীচতলা থেকে দোতলায় উঠার জন্য মোট ৭টা সিঁড়ি আছে। পূর্বে দরজাগুলোর বিভিন্ন নাম ছিল এবং দরজার সংখ্যাও কম ছিল। কিন্তু মসজিদ সম্প্রসারণের সাথে সাথে ক্রমান্বয়ে দরজা বেড়েছে এবং সেগুলোর নতুন নতুন নামকরণ করা হয়েছে। অনেক দরজার নামও পরিবর্তন করা হয়েছে।
📄 মসজিদের স্তম্ভ ও ভিটি
মসজিদে হারামে অনেক স্তম্ভ আছে। এগুলোর উপর প্রথম তলাও দোতলার ছাদ দাঁড়িয়ে আছে। সেগুলো মার্বেল পাথরের তৈরি কিংবা মোজাইক করা। সেগুলোর গোড়া এবং মাথায় আশ্চর্য ধরনের কারুকার্য করা হয়েছে। মসজিদে হারামের ভিটি বেশ উঁচু-নীচু। মাতাফ হচ্ছে সর্বনিম্ন এবং মাতাফের উপরে ক্রমান্বয়ে স্তরে স্তরে উঁচু যমীন কেটে, সমান না করে, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে।
📄 বেজমেন্ট বা মাটির নীচের তলা
মাটির নীচতলার মসজিদের আয়তন ১ম তলা থেকে কম। ১ম তলার সৌদী সম্প্রসারণ বরাবর নীচে একতলা নির্মাণ করা হয়েছে। তাও মসজিদের তিন দিকে মাত্র। উত্তর-পূর্ব দিকে নয়। বর্তমানে নীচতলা বন্ধ, এতে কেউ নামায পড়ে না। রমযান ও হজ্জের সময় নামাযের জন্য তা খুলে দেয়া হয়।
📄 ১০ম সম্প্রসারণ : বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আযীয
বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আযীয, ১৪০৯ হিজরীর ২রা সফর মোতাবেক ১৩ই সেপ্টেম্বর ১৯৮৮, রোজ মঙ্গলবার মসজিদে হারামের ১০ম সম্প্রসারণ উদ্বোধন করেন। ক্রমবর্ধমান সংখ্যক হাজীর আগমন এবং মসজিদে হারামে সংকুলানের অভাবে এই নতুন সম্প্রসারণের প্রয়োজন সৃষ্টি হয়।
আগেই মসজিদে হারামের দক্ষিণ-পশ্চিমে ‘সোকে সগীর’ নামক একটি বাজার ও পার্শ্ববর্তী ঘর ভেঙ্গে ২১ হাজার ৭৩০ বর্গমিটার জায়গা, ৬শ’ মিলিয়ন রিয়াল ক্ষতিপূরণ দানের মাধ্যমে হুকুমদখল করা হয়। এই জায়গাটি বাবুল মালেক আবদুল আযীয এবং বাবে উমরার মাঝে অবস্থিত। এই পরিকল্পনার আওতায়, মাটির নীচে একতলা এবং প্রথম ও দোতলা ইমারত নির্মাণের সাথে, মসজিদের ছাদকেও নামাযের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। মসজিদে হারামের বর্তমান ইমারতের সাথে হুবহু মিল রেখে এই নতুন ইমারত তৈরি করা হয় এবং এতেও ইসলামী কারুকার্যের মান রক্ষা করা হয়। এই সম্প্রসারিত অংশের মোট আয়তন হচ্ছে, ৭৬ হাজার বর্গমিটার। সম্প্রসারিত অংশের প্রতি তলায় ৪৯২টি স্তম্ভ আছে। এগুলোতে অন্যান্য স্তম্ভের মত মার্বেল পাথর লাগানো হয়েছে। নীচতলার স্তম্ভের উচ্চতা হচ্ছে, ৪.২০ মিটার এবং দোতলার স্তম্ভের উচ্চতা হচ্ছে ৪.৭০ মিটার। এতে অতিরিক্ত একলাখ চল্লিশ হাজার মুসল্লী নামায পড়তে পারে। মসজিদে হারামের ছাদের আয়তন হচ্ছে ১৭ হাজার বর্গমিটার। সোকে সগীরের অবশিষ্টাংশ এবং সাফা-মারওয়ার পূর্বে মোট ৪০ হাজার মিটার আঙ্গিনা নির্মাণ করা হয় এবং এতে অতিরিক্ত আরও ৬৫ হাজার মুসল্লী নামায পড়তে পারে।
বর্তমান সম্প্রসারণ শেষে মসজিদে হারামের পুরো আয়তন দাঁড়ায় ৩ লাখ ৯ হাজার বর্গমিটার এবং এতে মোট ৬ লাখ ৫ হাজার মুসল্লী একসাথে নামাজ পড়তে পারে। এই নতুন সম্প্রসারণে ১৪টি সাধারণ দরজা এবং একটি প্রধান দরজা আছে। মাটির নীচতলার জন্য ২টি নতুন প্রবেশ পথ নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে মাটির নীচতলার জন্য আরও ৪টি প্রবেশ পথ রয়েছে। নতুন সম্প্রসারিত অংশে দুটো মিনারা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটির উচ্চতা হচ্ছে ৮৯ মিটার। পূর্বের ৭টি মিনারাসহ মোট মিনারার সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৯। মসজিদের ছাদে উঠার জন্য ২টি স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। ১টি নতুন সম্প্রসারিত অংশের দক্ষিণে এবং অন্যটি উত্তরে নির্মিত হয়েছে। প্রতিটি সিঁড়ি ঘন্টায় ১৫ হাজার লোক পরিবহন করতে সক্ষম। এছাড়াও সাধারণ সিঁড়ি রয়েছে। নতুন অংশে রেডিও-টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাইক্রোফোন আছে।
এছাড়াও অন্যান্য সকল সেবা এবং সুযোগ সুবিধে পুরোপুরি বিদ্যমান আছে।