📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 ৯ম সম্প্রসারণ : বাদশাহ আবদুল আযীয আল সৌদ

📄 ৯ম সম্প্রসারণ : বাদশাহ আবদুল আযীয আল সৌদ


আজ আমরা যে মসজিদে হারাম দেখছি, তা বহু পরিবর্তন ও সংস্কারের সিঁড়ি অতিক্রম করে বর্তমান পর্যায়ে পৌছেছে। বর্তমান হারাম শরীফে তুর্কী সুলতান সেলিমের নির্মাণ কাজ ব্যতীত অতীতের অন্য কারো কর্ম ও স্মৃতি অবশিষ্ট নেই।

মসজিদে হারামের বর্তমান ইমারতে, মাতাফ সংলগ্ন গম্বুজ বিশিষ্ট ৪ দিকের এক তলা বিল্ডিংটিই সুলতান সেলিম খানের নির্মাণস্মৃতি বহন করছে। পরবর্তী তিন তলা মসজিদ বাদশাহ আবদুল আযীযের সংস্কার ও সম্প্রসারণ।

১৩৪৪ হিজরীতে, হেজাযের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা লাভ করার পর বাদশাহ আবদুল আযীয মসজিদে হারামের প্রয়োজনীয় সংস্কার করেন। দেয়াল ও স্তম্ভের ত্রুটি বিচ্যুতিগুলো দূর করেন। ১৩৪৬ হিজরীতে, তিনি নিজের ব্যক্তিগত অর্থে, মসজিদে হারামের অবশিষ্ট সংস্কার কাজও সম্পন্ন করেন। ঐ সময় হাজীদের ছায়াতে নামায পড়ার জন্য কিছু ছায়াদার ছাতা নির্মাণ করেন। এতে ১০ হাজার লোকের নামায পড়ার ব্যবস্থা হয়। কিন্তু ক্রমবর্ধমান হাজীদের প্রয়োজনের তুলনায় তা অতি নগণ্য ব্যাপার। মসজিদে হারামে তখন মোট ৫০ হাজারের বেশী লোকের নামায পড়ার সংকুলান হত না। সবকিছু মিলিয়ে মসজিদে হারামের সম্প্রসারণ এবং ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজন অনুভূত হয়।

তাই ১৩৬৮ হিজরীতে, বাদশাহ আবদুল আযীয মুসলিম বিশ্বের প্রতি মসজিদে হারাম সম্প্রসারণ করার ব্যাপারে তাঁর আগ্রহ প্রকাশ করেন। সে অনুযায়ী কাজ অগ্রসর হতে থাকে। কিন্তু, সম্প্রসারণের কাজ শুরুর আগেই, ১৩৭৩ হিঃ মোতাবেক ১৯৫৩ সালে, বাদশাহ আবদুল আযীয ইন্তেকাল করেন। তাঁর ছেলে সউদ বিন আবদুল আযীয সৌদী আরবের বাদশাহ নিযুক্ত হন এবং তাঁর পিতা কর্তৃক মসজিদে হারামের প্রস্তাবিত সম্প্রসারণের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যান।

১৩৭৫ হিজরী মোতাবেক ১৯৫৫ খৃষ্টাব্দে, মসজিদে হারামের সম্প্রসারণ ও নির্মাণ কাজ তদারক করার উদ্দেশ্যে একটি উচ্চ কমিটি গঠন করা হয়। বাদশাহ সউদ নিজে সেই কমিটির প্রথম বৈঠকে উপস্থিত হন। বৈঠকে সম্প্রসারণ কাজ শুরুর বিস্তারিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৩৭৫ হিজরীতেই সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়।

মসজিদে হারামের পবিত্রতার উপযোগী ডিজাইন এবং ইসলামী আর্কিটেকচারের দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে এই নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সৌদী আরবের বিন লাদিন কোম্পানী এই দায়িত্ব গ্রহণ করে, এবং অন্যান্য কোম্পানী ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় সম্প্রসারণ কাজ সমাপ্ত করে। পাকিস্তানী কনসালটেন্ট ইনিঞ্জনিয়ারিং ইউনিয়ন এই নির্মাণ কাজের প্রকৌশলগত দিক দেখাশুনা করে।

দীর্ঘ বিশ বছর পর, ১৩৯৬ হিজরীতে এই সম্প্রসারণ শেষ হয়। বেজমেন্টসহ তিন তলা মসজিদের আয়তন হচ্ছে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৬৮ বর্গমিটার। এই সম্প্রসারণের আগে মসজিদে হারামের আয়তন ছিল ১৯ হাজার ১২৭ বর্গমিটার। এই সময় মসজিদে হারামের দেয়ালের ভেতর ও বাইরে মার্বেল পাথর লাগানো হয়। এতে ২ লাখ বর্গমিটার সাদা ও বিভিন্ন রং এর মার্বেল ও কৃত্রিম পাথর এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার বর্গমিটার টাইলস লাগানো হয়েছে। বিল্ডিং নির্মাণের সময় অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধের পূর্ণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই সম্প্রসারণে, মোট ৬২১ মিলিয়ন ৬ লাখ ৪২ হাজার রিয়াল ব্যয় হয়। সম্প্রসারণের পর এতে ৪ লাখ লোক একসাথে নামায পড়তে পারে। সাফা পাহাড়ের উপর ছোট একটি মিনারাসহ এতে ৯০ মিটার উঁচু ৭টি মিনারা তৈরি করা হয়েছে। মাতাফকে আগের চেয়ে ৩শ' গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং এতে তাপ নিয়ন্ত্রণকারী সাদা মার্বেল পাথর বসানো হয়েছে। ফলে, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তওয়াফের সময়ও মাতাফের পাথরগুলো ঠাণ্ডা থাকে। পূর্বে মাতাফে একসাথে সাড়ে তিন হাজার লোক তাওয়াফ করতে পারত। এই সম্প্রসারণের পর ৭ হাজার লোক একসাথে মাতাফে তওয়াফ করতে পারে।

মসজিদে হারাম নির্মাণের সময় সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাঈ করার জায়গাকেও মসজিদের ভেতর অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তাকে দোতালা করা হয়। ফলে, এখন দুই তলাতেই সাঈ করা যায়। ভিড়ের সময় তা বেশী উপকারী প্রমাণিত হয়েছে। দোতালায় উঠার জন্য দুটো সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে। মসজিদে হারামের দোতালা দিয়েও এতে আসা যায়। মসজিদ ও মাসআকে একত্রীভূত করা হয়েছে। বর্তমানে ছাদের উপরও সাঈ' করা যায়।

মসজিদে হারামের দক্ষিণ পার্শ্বে, একতলার উপর এবং দোতলার নীচে আযানের স্থান নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে রেডিও-টেলিভিশনের যন্ত্রপাতিও বসানো হয়েছে। সেখান থেকেই রেডিও এবং টিভিতে হারাম শরীফের নামায প্রচার করা হয়।

মসজিদে হারামের উত্তর পার্শ্বেও দক্ষিণ পার্শ্বের আযান খানার মত আরেকটি স্থান বানানো হয়েছে। সেটিও নীচতলার উপর এবং দোতলার নীচে। মসজিদে হারামের নীচতলা থেকে দোতলার উচ্চতা অনেক বেশী যা সাধারণ বিল্ডিংগুলোর উচ্চতা থেকে ব্যতিক্রমধর্মী। লক্ষ লক্ষ মুসল্লীর স্বাস্থ্যগত দিক এবং হাওয়া পরিবর্তনের প্রয়োজনকে সামনে রেখে দোতলাকে এত উঁচু করা হয়েছে।

মসজিদে হারামে, কয়েক হাজার পাখা এবং ৪ হাজার মাইক্রোফোন আছে যেগুলো ৩৫ হাজার মিটার তার দ্বারা সংযুক্ত করা হয়েছে। মসজিদে বিদ্যুতায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে ৫৫ হাজার ৩২২টি বিদ্যুত বাতি আছে, এর প্রত্যেকটি ২৫০০ ওয়াট সম্পন্ন, ১৩৬৪টি ঝাড়বাতি এবং ২১ হাজার বাল্ব আছে। দৈনিক মসজিদে হারামে মোট ৮ মেগাওয়াট শক্তির প্রয়োজন হয়। কেননা, বিদ্যুতের মাধ্যমে, বাতি, পাখা, মাইক, স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক সিঁড়ি, যমযমের পানির হিমাগার এবং অন্যান্য কাজে এই পরিমাণ বিদ্যুত খরচ হয়। নিয়মিত বিদ্যুত সরবরাহের জন্য পৃথক বিদ্যুত জেনারেটর বসানো হয়েছে। মসজিদে হারামে সাধারণতঃ বিদ্যুত বিভ্রাট সংঘটিত হয় না। কচিৎ বিদ্যুত বিভ্রাট দেখা যায়। হজ্জ মওসুমে প্রচুর বিদ্যুত খরচ হয়। ১৪০৯ হিঃ মোতাবেক ১৯৮৮ খৃঃ থেকে প্রতিবছর মক্কায় প্রায় ৯ লাখ ৪৮ হাজার, মিনায় ৮৬ হাজার এবং আরাফাতে ১৯ হাজার কিলোওয়াট বিদ্যুত খরচ হয়।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আযীযের সংস্কার

📄 বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আযীযের সংস্কার


১৪০৪ হিজরীতে, বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আযীযের আমলে, মসজিদে হারামের ২য় দফা সংস্কার হয়। তিনি মাতাফকে সম্প্রসারিত করেন এবং মাতাফে অবস্থিত অন্য সবকিছু সরিয়ে ফেলেন। ফলে মাতাফে একযোগে ২৮ হাজার লোক তওয়াফ করতে পারে। হাজারে আসওয়াদের কোণ নির্ধারণের জন্য, বড় আলেমদের মতামত অনুযায়ী, মাতাফের শেষ সীমানা পর্যন্ত ২০ সেন্টিমিটার প্রস্থ বিশিষ্ট কাল রং এর পাথর বসানো হয়েছে। আগে এই কোণের চিহ্ন কিছুটা পশ্চিমে, অর্থাৎ রোকনে, ইয়ামানীর দিকে ছিল। পরবর্তীতে সেই চিহ্ন কিছুটা পূর্বদিকে সরিয়ে আনা হয় এবং হাজারে আসওয়াদের কোণ যথার্থভাবে নির্ণয় করা হয়। লোকেরা চিহ্নের উপর দাঁড়িয়ে ভিড় করায় তা নিশ্চিহ্ন করা হয়।

মসজিদে হারামে বর্তমানে ৬ হাজার ৫৫৮টি পাখা আছে। এর মধ্যে কতগুলো পাখা বেশী শক্তিশালী এবং সেগুলো বেশী ঠাণ্ডা বাতাস সরবরাহ করে। এছাড়াও মসজিদে হারামে ৪৫০টি ঘড়ি আছে। এর মধ্যে ২২৫টি ঘড়ি গ্রীনিচ মান অনুযায়ী সময় দেয়, আর অবশিষ্ট ২২৫টি ঘড়ি স্থানীয় আরবী সময় নির্দেশ করে। এগুলো একটা MASTER ঘড়ি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। MASTER ঘড়িটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত। মসজিদে হারামের বাইরে ৬০ মিটার উঁচু ৩টি বড় ঘড়ি আছে। সেগুলো তিনটি ভাষায় সময় ঘোষণা করে।

সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী মাসআর নীচতলায় ২৮টি এয়ারকুলার দ্বারা গরমের সময় ঠাণ্ডা বাতাস সরবরাহ করা হয় যেন সাঈকারীদের আরাম হয়। ভিড়ের সময়, মাসআর ওপর থেকে আগত লোকদের মসজিদে পারাপারের জন্য ৬টি ওভারব্রীজ তৈরি করা হয়েছে। হজ্জ মওসুমে এগুলো খোলা হয়। এতে সাঈকারীরা বিনা বাধায় ভিড়ের সময় তাদের সাঈ শেষ করতে পারে।

বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আযীয, ১৪০৬ হিজরীতে ২৫ মিটার উপরে অবস্থিত মসজিদে হারামের ছাদ নামাযের উপযোগী করে গড়ে তোলেন। এতে তাপ নিয়ন্ত্রণকারী সাদা মার্বেল পাথর বসানো হয়। যার ফলে, মাতাফের মত প্রচণ্ড গরমের সময়ও ছাদের পাথর ঠাণ্ডা থাকে এবং মুসল্লীদের নামায পড়তে কোন কষ্ট হয় না। ছাদে ও দোতালায় সহজে উঠার জন্য স্বয়ংক্রিয় ৪টি বৈদ্যুতিক সিঁড়ি চালু করা হয়েছে। প্রতিঘন্টায় একটি সিঁড়ির পরিবহন ক্ষমতা হচ্ছে ৮ হাজার মুসল্লী। হজ্জ এবং রমযানের ভীষণ ভিড়ের সময় ছাদ ও স্বয়ংক্রিয় সিঁড়িগুলো ব্যবহার করা হয়। এতে অতিরিক্ত ৮০ হাজার মুসল্লীর নামাযের ব্যবস্থা হয়েছে। নারীদেরও ছাদে নামায পড়ার ব্যবস্থা আছে। ছাদকে নামাযের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য ৩শ' মিলিয়ন রিয়াল ব্যয় হয়েছে। এছাড়াও বয়স্ক লোকদের দোতালায় উঠার জন্য বাবুস সাফায় ২টি, বাবে আবদুল আযীযে ১টি এবং অন্যদিকে আরো ৩টি বৈদ্যুতিক লিফট রয়েছে।

মসজিদে হারামের মাতাফ, হাজারে আসওয়াদ এবং রোকনে ইয়ামানী বরাবর দক্ষিণ দিকে বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে। কেননা, রমযান ও হজ্জের সময় ঐ দিকে প্রচণ্ড ভিড় হয় এবং তওয়াফকারীদের সংকুলান হয় না। অপর দিকে, গরমের সময় গোটা মসজিদে হারামে এয়ারকন্ডিশন চালু করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। দোতালায় উঠার জন্য মাসআর ২টি সিঁড়িসহ সর্বমোট ১৩টি সাধারণ সিঁড়ি রয়েছে।

মসজিদে হারামের সব তলায় মূল্যবান কার্পেট বিছানো হয়েছে এবং প্রতিদিন তা পরিষ্কার করা হয়।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 মসজিদে হারামের বর্তমান দরজা

📄 মসজিদে হারামের বর্তমান দরজা


মসজিদে হারামে বর্তমানে ৩৬টি দরজা আছে। ৩৬টি দরজার মধ্যে ৫টি দরজা প্রায়ই বন্ধ থাকে এবং সেগুলো দিয়ে মসজিদে হারামে কোন লোক প্রবেশ কিংবা বের হয় না। এর মধ্যে তিনটা দরজা খুবই বড়। সেগুলো মসজিদে হারামের প্রধান দরজা। দরজাগুলোর নাম ও বর্ণনা নিম্নরূপ:

পূর্ব-দক্ষিণ দিক: ১। আযইয়াদ ২। বিলাল ৩। হোনাইন ৪। ইসমাঈল ৫। সাফা। এদিকে কোন দরজা নেই।

উত্তর-পূর্ব দিক: ১। দারুল আরকাম ২। বনি হাশেম ৩। আলী ৪। আব্বাস ৫। আন-নবী ৬। আস সালাম ৭। বনি শায়বা ৮। হুজুন ৯। মোয়াল্লাহ ১০। মোদ্দাআ ১১। মারওয়া। এদিকেও কোন প্রধান দরজা নেই।

মারওয়া থেকে বাবুল ফাতহ এর মাঝে ৫টি দরজা পড়ে। এগুলো সর্বদা বন্ধ থাকে। শুধু বাবে কোরাইশ মাঝে মাঝে খোলা থাকে। এদিকের দরজাগুলোর নাম হচ্ছেঃ ১। মুরাদ ২। মোহাসসাব ৩। আরাফাহ ৪। মিনা ৫। কোরাইশ।

পশ্চিম-উত্তর দিক: ১। আল-ফাতহ, প্রধান দরজা। এটি উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থিত। ২। উমর ফারুক ৩। নাদওয়াহ ৪। শামীয়াহ ৫। আল কুদস ৬। মদীনা মোনাওয়ারা ৭। হোদায়বিয়া ৮। উমরাহ। এটি একটি প্রধান দরজা এবং তা উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত।

দক্ষিণ-পশ্চিম দিক: ১। শোবেকা ২। ইবরাহীম ৩। আবু বকর সিদ্দিক ৪। হিজরত ৫। আল-ওয়াদা ৬। উম্মেহানী ৭। বাবে আবদুল আযীয। এটি একটি প্রধান দরজা; এটি মসজিদে হারামের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত। তিনটি প্রধান দরজার মধ্যে এটি প্রধান সড়কের সাথে জড়িত হওয়ায় এর গুরুত্ব অনেক বেশী। এই দরজা দিয়ে সরকারী মেহমান ও বেশী সংখ্যক লোক প্রবেশ করে। নতুন সম্প্রসারণের ৯টি দরজাসহ মসজিদে হারামের মোট দরজার সংখ্যা হচ্ছে ৪৫টি।

মসজিদে হারামের দোতলায় আরো ৪টি দরজা আছে। একটি হচ্ছে, মারওয়া পাহাড়ের উপর। বাইরের পাহাড়ের উপর দিয়ে তৈরি উঁচু রাস্তার সাথে এই দরজাটি সংযুক্ত। ফলে বাইরে থেকে ঐ রাস্তা ও দরজা দিয়ে মুসল্লীরা সরাসরি দোতলায় প্রবেশ করতে পারে। অন্য একটি দরজা হচ্ছে উত্তর-পশ্চিম দিকের দোতলার সাথে জড়িত। সেটিও পশ্চিম-উত্তর দিক থেকে আসা পাহাড়ী রাস্তার সাথে সংযুক্ত। আরেকটি দরজা হচ্ছে, উত্তর-পশ্চিম দিকে বাবে উমরাহর সাথে। সেটিও বাইরের উঁচু পাহাড়ী রাস্তার সাথে সংযুক্ত। মুসল্লীরা এই দরজা দিয়েও সরাসরি দোতলায় প্রবেশ করে।

এছাড়াও নীচতলা থেকে দোতলায় উঠার জন্য মোট ৭টা সিঁড়ি আছে। পূর্বে দরজাগুলোর বিভিন্ন নাম ছিল এবং দরজার সংখ্যাও কম ছিল। কিন্তু মসজিদ সম্প্রসারণের সাথে সাথে ক্রমান্বয়ে দরজা বেড়েছে এবং সেগুলোর নতুন নতুন নামকরণ করা হয়েছে। অনেক দরজার নামও পরিবর্তন করা হয়েছে।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 মসজিদের স্তম্ভ ও ভিটি

📄 মসজিদের স্তম্ভ ও ভিটি


মসজিদে হারামে অনেক স্তম্ভ আছে। এগুলোর উপর প্রথম তলাও দোতলার ছাদ দাঁড়িয়ে আছে। সেগুলো মার্বেল পাথরের তৈরি কিংবা মোজাইক করা। সেগুলোর গোড়া এবং মাথায় আশ্চর্য ধরনের কারুকার্য করা হয়েছে। মসজিদে হারামের ভিটি বেশ উঁচু-নীচু। মাতাফ হচ্ছে সর্বনিম্ন এবং মাতাফের উপরে ক্রমান্বয়ে স্তরে স্তরে উঁচু যমীন কেটে, সমান না করে, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00