📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 তওয়াফের দোয়া

📄 তওয়াফের দোয়া


হযরত উমর বিন খাত্তাব (রা) তওয়াফের সময় এই দোয়াটি পড়তেনঃ
اللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً و قِنَا عَذَابَ النَّارِ .

হযরত উমর (রা) থেকে তওয়াফের সময় ভিন্ন দোয়া পড়ার প্রমাণও রয়েছে।

তওয়াফের সময় দাঁড়িয়ে থাকা ঠিক নয়। কেউ কেউ এটাকে তওয়াফের বেদআত বলেছেন। তবে হাজারে আসওয়াদে চুমু দেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকা অন্যায় নয়।

আ'তা বলেন, একবার হযরত আবদুর রহমান বিন আ'ওফ (রা) তওয়াফ করেন এবং তওয়াফ থেকে অবসর নেয়ার আগ পর্যন্ত কারো সাথে কোন কথা বলেননি। এক ব্যক্তি, তিনি তওয়াফে কি পড়েন তা জানার জন্য তাঁকে অনুসরণ করেন, তিনি তওয়াফে শুধু এই দোয়াটি পড়েন: رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ .
অনুসরণকারী ব্যক্তিটি বলল, আল্লাহ আপনাকে সংশোধন করুন। আমি আপনাকে অনুসরণ করছিলাম, কিন্তু আপনি উপরোক্ত দোয়াটি ছাড়া তওয়াফে আর কিছুই পড়েননি। তখন তিনি উত্তর দিলেন, এই দোয়াটি কি সকল কল্যাণের উৎস নয়? (ফাকেহী)

তওয়াফের চক্করগুলো হিসাব রাখা দরকার। একবার হযরত আবদুর রহমান বিন আউফ (রা) রাসূলুল্লাহ (সা) এর সাথে তওয়াফ করছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, কত চক্কর হয়েছে? তারপর তিনি বললেন, আমি তোমাকে কেন সংখ্যা জিজ্ঞেস করেছি তা কি তুমি জান? আমার জিজ্ঞাসার উদ্দেশ্য হল তুমি যেন তার হিসেব রাখ। (ফাকেহী)

হযরত আবু হুরাইরা (রা) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছেন, যে কা'বা শরীফের ৭ চক্কর তওয়াফ করবে এবং-
سُبْحَانَ الله وَالْحَمْدُ للهِ وَلَا اله الا اللهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلَا حَولَ وَلَا قُوَّةَ الا بالله .
-এই দোয়াটি পড়া ছাড়া অন্য কোন কথা না বলবে, তার ১০টি গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে, ১০টি নেক লেখা হবে এবং তার ১০টি মর্যাদা বাড়ানো হবে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি তওয়াফ করার সময় কথা বলবে সে ব্যক্তির উদাহরণ হল, সে রহমতকে পা দিয়ে এমনভাবে ঠেলে ফেলে দেয় যেমন করে পা দিয়ে পানি ঠেলে সরিয়ে দেয়া হয়। (ফাকেহী)

ফাকেহী আবি ইয়াযিদ বিন আজলান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত আদম (আ) এর তওয়াফের সময় ফেরেশতারা এসে তাঁকে বলল, হে আদম! আমরা আপনার দু'হাজার বছর আগে এই ঘরের তওয়াফ করতাম। হযরত আদম (আ) জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা তওয়াফে কি পড়তেন? তাঁরা বললেন, আমরা তওয়াফে এই দোয়াটি পড়তাম:
سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ .
তখন আদম (আ) বললেন, এর সাথে لاَحَولَ وَلَا قُوَّةَ الا بالله এইটুকুও যোগ করুন। তারপর হযরত ইবরাহীম (আ) এর কা'বা নির্মাণের সময় ফেরেশতারা আসলেন এবং বললেন, হে ইবরাহীম! আমরা আপনার পিতা আদম (আ) কে বললাম যে, আমরা আপনার দু'হাজার বছর আগে কা'বার তওয়াফ করতাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কি দোয়া পড়তেন? আমরা উপরোক্ত দোয়ার কথা উল্লেখ করলে তিনি আরো কিছু যোগ করার কথা বলেন। ইবরাহীম (আ) আরো সামান্য যোগ করে বললেন,
لا حَوْلاً وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيُّ الْعَظِيمِ .
এতটুকু পড়া দরকার। তখন থেকে তওয়াফে এই পূর্ণাঙ্গ দোয়াটি পড়ার সুন্নত চালু হয়ঃ
سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ للهِ وَلَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ - وَلَا حَولَ وَلَا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ الْعَلِيُّ الْعَظِيمِ .

হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) বলেছেন যে, তওয়াফ শেষে ফরজ নামায কায়েমের একামত হয়ে গেলে, তওয়াফের অতিরিক্ত দু'রাকাত নামায পড়ার দরকার নেই। ফরজ নামাযই সেই দু'রাকাতের বিকল্প এবং যথেষ্ট। আতা,

টিকাঃ
২৯. প্রাগুক্ত।
৩০. প্রাগুক্ত।
৩১. সাকার আল-জাযীরাহ, আহমদ আবদুল গফুর আত্তার।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00