📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 মীযাবে কা’বা ও এর নীচে দোয়ার ফজীলেত

📄 মীযাবে কা’বা ও এর নীচে দোয়ার ফজীলেত


নবী করীম (সা) এর জন্মের ৩৫ বছর পর, কোরাইশরা যখন কা'বা শরীফ নির্মাণ করে, তখন তারা কা'বার ছাদ দেয় এবং ছাদের পানি সরার জন্য একটি নল লাগায়। এই নলকেই মীযাব বলা হয়। এর আগে কা'বার ছাদ ছিল না এবং মীযাবও ছিল না। তারপর হযরত আবদুল্লাহ বিন যোবায়ের (রা) কা'বা নির্মাণের সময় ছাদে একটি মীযাব লাগান এবং কোরাইশদের মত তিনিও মীযাবের পানি হিজরে ইসমাঈলে পড়ার ব্যবস্থা করেন। তারপর হাজ্জাজ বিন ইউসুফও অনুরূপ মীযাব লাগান।

দুই কারণে মীযাবের পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। (১) যখন এটি নষ্ট হয়ে যায় তখনই আরেকটি মীযাব লাগানো হয়। (২) বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান ও ধনী ব্যক্তিরা কা'বার জন্য মীযাব উপহার পাঠায়। তখন পুরাতনটি খুলে নতুন মীযাব লাগানো হয়। নতুন মীযাবগুলো পূর্বের মীযাবের নকশা এবং ডিজাইন থেকে উন্নত হত এবং অনেকগুলোতে সোনা ও রূপার কারুকার্য করা হত।

১২৭৬ হিজরীতে তুর্কী সুলতান আবদুল মজিদ খান, কনস্টান্টিনোপলে একটি সোনার মীযাব তৈরি করেন এবং সেই বছরই তা কা'বায় লাগান। এতে প্রায় ৫০ রতল সোনা লাগানো হয়েছে। সেটিই সর্বশেষ মীযাব। বর্তমান কাবায় মওজুদ মীযাবটিই সেই মীযাব। এরপরে আজ পর্যন্ত ঐ মীযাবের কোন পরিবর্তন করা হয়নি।

মীযাবের নীচে দোয়া করার ফজীলত সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেঈনদের পক্ষ থেকে অনেক বর্ণনা রয়েছে। আমরা এখানে সে সকল বর্ণনা সম্পর্কে আলোকপাত করবো: আল্লামা আযরাকী আতা থেকে এবং আতা হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, "তোমরা নেক লোকদের নামাযের জায়গায় নামায পড় এবং নেককারদের পানীয় পান কর।" ইবনে আব্বাস (রা) কে জিজ্ঞেস করা হল, নেক লোকদের নামাযের জায়গা বলতে কোনটাকে বুঝায়? তিনি জবাবে বলেন, 'সেটি হচ্ছে মীযাবের নীচে।' তারপর জিজ্ঞেস করা হল নেককারদের পানীয় কি? তিনি বলেন, 'সেটি হচ্ছে যমযম'।

আযরাকী আ'তার বরাত দিয়ে বলেছেন, মীযাবের নীচে দাঁড়িয়ে দোয়া করলে সেই দোয়া কবুল হয় এবং দোয়াকারী ব্যক্তি মায়ের পেট থেকে সদ্যপ্রসূত নবজাত শিশুর মত নিষ্পাপ হয়ে যায়।

সহীহ হাদীসগুলোতে তওয়াফের ফজীলত সম্পর্কে অনেক বর্ণনা এসেছে। মীযাব তওয়াফের বৃহত্তর পরিসরের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়, তওয়াফের ফজীলতগুলোও এই বিশেষ জায়গার জন্য প্রযোজ্য হওয়ার কথা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00