📄 হাজারে আসওয়াদে চুমু বা স্পর্শ করার দোয়া
ফাকেহী উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা) তওয়াফের প্রথম তিন চক্করে হাজারে আসওয়াদ থেকে হাজারে আসওয়াদ পর্যন্ত রমল করেছেন অর্থাৎ দ্রুতবেগে হেঁটেছেন। তারপর যখন হাজারে আসওয়াদে চুমু দেন বা স্পর্শ করেন কখন এই দোয়াটি পড়েন:
بِسْمِ اللهِ وَاللَّهُ أَكْبَرْ ، إِيْمَانًا بِاللَّهِ ، وَتَصْدِيقًا بِمَا جَاءَ بِهِ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ .
অর্থ : 'আল্লাহর নামে শুরু করছি, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং মুহাম্মদ (সা) যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি বিশ্বাস করি।'
তারপর তিনি রোকনে ইয়ামানী এবং হাজারে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছে পড়েছেন,
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارَ .
অর্থ: 'হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়া এবং আখেরাতে নেক ও কল্যাণ দাও এবং দোযখের আগুন থেকে বাঁচাও। (সূরা বাকারা- ২০১)
ফাকেহী আরো উল্লেখ করেছেন, হযরত উমর বিন খাত্তাব (রা) হাজারে আসওয়াদকে চুমু বা স্পর্শ করার সময় বলতেন,
امَنْتُ بِاللَّهِ وَكَفَرْتُ بِالطَّاغُوتِ .
অর্থ: 'আমি আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম এবং তাগুতের প্রতি অবিশ্বাস করলাম'।
হযরত আলী বিন আবু তালিব (রা) হাজারে আসওয়াদকে স্পর্শ করার সময় বলতেন:
اللَّهُمَّ تَصْدِيقًا بِكِتَابِكَ وَسُنَّةَ نَبِيِّكَ .
অর্থ : 'হে আল্লাহ তোমার কিতাব ও নবীর সুন্নতের প্রতি বিশ্বাস সহকারে (শুরু করছি)।'
হযরত আবদুর রহমান বিন আউফ বলতেন:
ربَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارَ . (البقرة : ۲۰۱)
হযরত ইবনে আব্বাস বলেছেন, হাজারে আসওয়াদে ভিড় থাকলে কাউকে কষ্ট দেবে না, নিজেও কষ্ট পাবে না এবং এমনিতেই চলে যাও।
ফাকেহী উল্লেখ করেছেন যে, হযরত উমরের প্রখ্যাত বক্তব্যের মত হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা)ও বলেছিলেন:
إِنِّي لَأَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ لَا تَضُرُّ وَلَا تَنْفَعُ وَلَوْلَا أَنِّي ، رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبَّلَكَ مَا قَبَّلْتُكَ .
অর্থঃ "আমি জানি যে, তুমি একটি পাথর। তুমি কারো উপকার ও অপকার করতে পারনা। আমি যদি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে তোমাকে চুমু দিতে না দেখতাম, তাহলে আমিও তোমাকে চুমু দিতাম না।"
ফাকেহী আরো উল্লেখ করেছেন যে, আবদুল্লাহ বিন যোবায়ের (রা) হাজারে আসওয়াদকে স্পর্শ করার পর নিজের হাত চেহারার উপর মসেহ করতেন। হযরত ওমর বিন আবদুল আযীযও (রা) নিজের চেহারা এবং দাড়ির উপর হাত মুছতেন।
রাসূলুল্লাহ (সা) হযরত উমর (রা) কে বলেছেন: 'হে উমর, তুমি একজন শক্তিশালী ব্যক্তি, দুর্বলকে কষ্ট দিও না। যখন হাজারে আসওয়াদকে ভিড়মুক্ত পাবে তখন স্পর্শ করবে এবং হাতে চুমু খাবে। অন্যথায় তাকবীর বলে অতিক্রম করে চলে যাবে।
হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, 'হাজারে আসওয়াদের কাছে, আসমান যমীন সৃষ্টির প্রথম দিন থেকে একজন ফেরেশতা আমীন, আমীন বলছে। তাই তোমরা-
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابُ النَّارِ .
বল।' অর্থাৎ ফেরেশতার আমীন বলার সাথে এই দোয়া একাকার হয়ে গেলে, তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী।
রাসূলুল্লাহ (সা) হাজারে আসওয়াদে চুমু দিয়েছেন এবং এর উপর দু'হাত বিছিয়ে দিয়েছিলেন। এক বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা) তওয়াফের প্রত্যেক চক্করে হাজারে আসওয়াদ ও রোকনে ইয়ামানীকে হাতে স্পর্শ করতেন এবং পরে সেই হাতে চুমু খেতেন।
হাজারে আসওয়াদে চুমু দেয়া কিংবা স্পর্শ করার সময় যে কোন দোয়াই করা যেতে পারে। দুনিয়া এবং আখেরাতের কল্যাণ যত বেশী পাওয়া যায় সেই উদ্দেশ্যেই ততবেশী দোয়া করা উচিত। এর জন্য বিশেষ কোন দোয়া নেই। আজকাল, অবশ্য অনেক দোয়ার বই বেরিয়েছে এবং সেগুলোতে বিভিন্ন ধরনের দোয়ার উল্লেখ রয়েছে। সেগুলো পড়া তেমন কোন জরুরী নয়। দোয়া যে কোন ভাষায় হতে পারে। তবে উত্তম হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ (সা) এবং সাহাবায়ে কেরামের অনুসরণে তাদের কাছ থেকে বর্ণিত দোয়াসমূহ পাঠ করা। হাজারে আসওয়াদে স্পর্শ কিংবা চুমু দেয়ার সময় যে সকল দোয়া পড়া সুন্নত ও মোস্তাহাব সেগুলো হচ্ছে:
ইমাম শাফেঈ তাঁর اَلْقرى কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, কিছু সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ (সা)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হাজারে আসওয়াদ স্পর্শ কিংবা চুমু দেয়ার সময় কি দোয়া পড়া যায়? রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, তোমরা তখন এই দোয়াটি পড়বে:
بيسمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ إِيْمَانَا بِاللهِ وَتَصْدِيقًا لِإِجَابَةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ .
আরেকজন সাহাবী হাজারে আসওয়াদ স্পর্শ কিংবা চুমু দেয়ার সময় এই দোয়াটি পড়তেন:
اللَّهُمَّ ايْمَانَابِكَ وَوَفَاءَ بِعَهْدِكَ وَتَصْدِيقًا بِكِتَابِكَ وَسُنَّة نَبِيِّكَ .
তারপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সা) এর উপর দরুদ পাঠ করতেন।
হযরত আলী (রা) অনুরূপ দোয়া পড়তেন। তবে তিনি আরো একটু বাড়িয়ে বলতেনঃ
وَاتَّبَاعًا لِسُنَّتِكَ وَسُنَّةِ نَبِيِّكَ .
হযরত উমর বিন খাত্তাব (রা) এই দোয়া পড়তেন:
بسْمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ عَلى مَا هَدَانَا اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا أَشْرِيْكَ لَهُ امَنْتُ بِاللَّهِ وَكَفَرْتُ بالطَّاغُوتِ وَاللَّاتِ وَالْعُزَّى وَمَا يُدْعَى مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْ وَلِيُّ اللَّهُ الَّذِي نَزَّلَ الْكِتَابَ وَهُوَ يَتَوَلَّى الصَّالِحِينَ .
আযরাকী তাঁর আখবারে মক্কা বইতে এই বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন।
টিকাঃ
১০. প্রাগুক্ত।
১১. প্রাগুক্ত।
১২. প্রাগুক্ত।