📄 কা’বায় পাপমুক্তির স্থান
রোকনে ইয়ামনী থেকে কাবা শরীফের পেছনে বিলুপ্ত দরজা পর্যন্ত ৪ হাত জায়গাকে )الْمُسْتَجَارُ( বা গুনাহ মুক্তির জায়গা বলা হয়। এটাকে 'বৃদ্ধ কোরাইশদের মোলতাযাম' নামেও আখ্যায়িত করা হয়। হযরত মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান (রা) বলেছেন, যে ব্যক্তি কাবা শরীফের পেছনে দাঁড়িয়ে দোয়া করে, তার দোয়া কবুল হয় এবং সে মায়ের পেট থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাত শিশুর মত নিষ্পাপ হয়ে যায়। নবী করীম (সা) থেকে শুনা ব্যতীত, সম্ভবতঃ হযরত মুয়াবিয়া (রা) এ জাতীয় বক্তব্য পেশ করতে পারেন না।
ইমাম শাবী (রা) বলেছেন, হযরত আবদুল্লাহ বিন যোবায়ের ও তাঁর ভাই মুসআব, আবদুল মালেক বিন মারওয়ান এবং হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর (রা) এই স্থানে দাঁড়িয়ে দোয়া করেছিলেন। ইমাম শাবী দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার আগে দেখে গেছেন যে, যারাই ঐ জায়গায় কোন কিছুর জন্য দোয়া করেছেন তারাই তা পেয়েছেন। হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর (রা) জান্নাতের জন্য দোয়া করে এর সুখবর লাভ করে গেছেন। এ ছাড়াও বড় বড় মুসলমানদের অনেকেই ঐ জায়গায় দোয়া করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলেন, হযরত উমর বিন আবদুল আযীয এবং হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) এর নাতী কাসেম বিন মুহাম্মদ (রা) প্রমুখ। 'আখবারে মক্কার' লেখক আল ফাকেহী উল্লেখ করেছেন যে, ওমর বিন আবদুল আযীয ইবনে আবি মোলায়কাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, হযরত আবদুল্লাহ বিন যোবায়ের (রা) কাবা শরীফের পেছনে দাঁড়িয়ে আল্লাহর আশ্রয় কামনা করেছিলেন কিনা? ইবনে আবি মোলায়কা বললেন, হ্যাঁ করেছিলেন। তিনি কাবার পেছনে দু'হাত বিছিয়ে আল্লাহর আশ্রয় কামনা করেছিলেন।
টিকাঃ
৫. প্রাগুক্ত।
📄 কা’বার ভিত্তিমূল
এটি হচ্ছে কাবা শরীফের ভিত্তিমূল বা প্লিনথ লেবেল। অবশ্য এই প্লিনথ লেবেলের সমান সবটুকু অংশের উপর কাবা শরীফের দেয়াল নির্মাণ করা হয়নি। বরং প্লিনথ লেবেলের ২য় পর্যায়ের উপর দেয়াল নির্মিত হয়েছে। এর বর্ণনা হচ্ছে এরকম যে, কাবা ঘরের তিন দিকের ভিত্তিমূলের সাথে পাথরকে এমনভাবে বাঁকা করে বসানো হয়েছে যে, তা নীচের দিক থেকে উপরের দিকে সরু হয়ে উঠেছে এবং দেয়ালের সাথে লেগেছে। যমীন থেকে এর উচ্চতা ১১ সেন্টিমিটার এবং প্রশস্ততা ৪০ সেন্টিমিটার। তবে, হিজরে ইসমাঈলের দিকে ঐভাবে পাথর বসানো হয়নি, সেখানে এক স্তর সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এর উপর দাঁড়িয়ে, কাবা শরীফের সাথে বুক লাগিয়ে এবং দু' হাত উপরে তুলে দোয়া করা হয়।
কাবার বর্তমান প্লিনথ লেবেল কাবাঘরের ভেতরই আছে। ১০১৪ হিঃ সালে, তুর্কী সুলতান ৪র্থ মুরাদ যখন কাবা শরীফ মেরামত করেন তখন তিনি এই ভিত্তিমূলকে ভেতরে রাখেন। এটা তাঁর কোন নতুন আবিষ্কার ছিলনা। বরং পূর্ব থেকেই তা কাবাঘরের ভেতর ছিল।
এই ভিত্তিমূলটি কি কাবা ঘরের অংশ না কি এর বাইরের অংশ তা নিয়ে মতভেদ আছে। শাফেঈ ও মালেকী মাজহাবের আলেমরাসহ অন্যান্য উলামায়ে কেরাম এটাকে কাবা শরীফের অংশ বলে মনে করেন। ইমাম আবু হানীফা (রা) এটাকে কাবার অংশ মনে করেন না। তাঁর দলীল হচ্ছে, এর সমর্থনে কোন সহীহ হাদীস নেই। তাই এটাকে কাবা শরীফের অংশ মনে করা যায় না।
📄 কা’বা ধৌতকরণ
আল্লাহ কোরআনে বলেছেন:
وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ -
'আমার ঘরকে তওয়াফকারী, এতেকাফকারী এবং রুকু-সাজদাকারী নামাজীদের জন্য পবিত্র কর।'
এ নির্দেশের ভিত্তিতে প্রত্যেক বছর কাবা শরীফ ধোয়ার পদ্ধতি চালু আছে। আল্লাহর এই পবিত্র ঘরকে অধিকতর পবিত্র করার উদ্দেশ্যেই প্রতিবছর এই ঘরের ভেতরাংশ ধোয়া হয়। বাইরের দেয়ালে গেলাফ থাকার কারণে তা ধোয়া হয় না।
মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (সা) যমযমের পানি দিয়ে কাবা শরীফের ভেতর পরিষ্কার করেন। আবু বকর বিন আল মোনজের হযরত উসামা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (সা) কাবার ভেতর কিছু ছবি দেখতে পান। আমি বালতিতে করে পানি এনে দিতাম, আর রাসূলুল্লাহ (সা) সেই সকল ছবির উপর পানি মেরে তা পরিষ্কার করেন।
বর্তমানে, বছরে দু'বার কাবা ধোয়া হয়। রমযান আসার পূর্বে একবার এবং হজ্জের আগে আরেকবার কাবার ভেতর ধোয়া হয়। যমযমের পানি দিয়ে কাবা ধোয়া হয়। এই পানির সাথে সুঘ্রাণযুক্ত আতর ঢালা হয় এবং কাপড়ের ন্যাকড়া দিয়ে ভেতরের দেয়াল ও ভিটি মোছা হয়।
সৌদী সরকারের একজন প্রতিনিধি, বিশেষ করে মক্কার গভর্নর এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি থাকেন। সৌদী আরবে নিযুক্ত মুসলিম বিশ্বের কূটনীতিবিদসহ প্রখ্যাত উলামা ও ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সবাই কাবা ধোয়ার কাজে অংশ নেয় এবং অনেকেই এই সুযোগে ভেতরে নামায পড়ে। পরে, অনেকেই সুঘ্রাণযুক্ত কাপড়ের ন্যাকড়া সাথে করে বাইরে নিয়ে আসে।