📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 কা’বার বর্তমান দরজা

📄 কা’বার বর্তমান দরজা


১৩৬৩ হিজরীতে, বাদশাহ আবদুল আযীয আল সৌদ কাবা শরীফে একটি সুন্দর কাঠের দরজা লাগান এবং সেটি তৈরি করতে তিন বছর সময় লেগেছিল। কাবা শরীফের পুরাতন দরজাটি ১৩৯৬ হিজরীতে বাদশাহ খালেদ পরিবর্তন করেন এবং সেই স্থানে একটি সোনার দরজা লাগান। এতে ৯৯,৯৯৯ ধরনের মোট ২৮৬ কিলোগ্রাম খাঁটি সোনা লেগেছে। এতে আল্লাহর নাম ও কুরআনের আয়াত লেখা আছে। কাবা শরীফের দরজাটি বর্তমানে দুই পাল্লা বিশিষ্ট। এর মাঝখানে তালা আছে।

আভ্যন্তরীণ দরজা
কা'বা শরীফের যে দরজাটি আমরা বাহ্যিকভাবে দেখতে পাই, এর ডান পাশে ভেতরে আরেকটি দরজা আছে। এটা হচ্ছে, কা'বার আভ্যন্তরীণ দরজা। ১৩৬৩ হিঃ মোতাবেক ১৯৪৩ খৃঃ বাদশাহ আবদুল আযীয কা'বার আভ্যন্তরীণ দরজাটি নির্মাণ করেন। আভ্যন্তরীণ দরজাটির নাম হচ্ছে 'বাবুত তাওবাহ' (তওবা দরজা)। তাতেই খাঁটি সোনার তৈরি একটি তালা আছে। এ দরজাটিও বাবে কাবার মতই মানবীয় ভাষ্কর্যের নিপুণ স্বাক্ষর। এর কারুকার্যের কাছে মানব কল্পনা হার মানে। বাবুত তাওবাহ ও বাবে কাবার ভেতরে খুবই মজবুত কাঠ ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর উপর সোনা লাগানো হয়েছে।

১৩৯৭ হিঃ জুমাদাল উলা মাস মোতাবেক ১৯৭৭ খৃঃ বাদশাহ খালেদ বিন আবদুল আযীয কা'বার অভ্যন্তরে নামাজ পড়ার সময় লক্ষ্য করেন যে, দরজাটি নষ্ট হওয়ার পথে। তখন তিনি দরজাটি পুনঃনির্মাণের আদেশ দেন। তাও সোনা দ্বারা তৈরি এবং বাইর থেকে দৃশ্যমান ১ম দরজাটির মতই। আভ্যন্তরীণ দরজায়ও কোরআনের আয়াত লেখা আছে。

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 কা’বার সেবা ও চাবি

📄 কা’বার সেবা ও চাবি


ইসলামে কাবা শরীফের খেদমত একটি বিশিষ্ট কাজ। এই কাজটি ইসলামের পূর্ব থেকেই একটি বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত ছিল। ইসলামও ঐ খেদমতকে সেই গোষ্ঠীর অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কাবা শরীফের খেদমতকে আরবীতে, হেজাবাহ্ اَلْحِجَابَةُ এবং যারা তা করে তাদেরকে خُدَامُ الْكَعْبَةِ কিংবা سَدَنَةُ الْكَعْبة বলা হয়। বনি শায়বা গোত্রই হচ্ছে কাবা শরীফের সেবক। তাদের কাছে কাবা শরীফের চাবি থাকে এবং তারাই এর হেফাজত করেন। নবী করীম (সা) তাদেরকে এ সেবার উত্তরাধিকারী হিসেবে বহাল রেখেছেন। মক্কা বিজয়ের দিন তিনি তাদের কাছ থেকে কাবা শরীফের চাবি নিয়ে আসেন এবং কাবা শরীফের দরজা খুলে মূর্তিগুলোকে বের করেন। তারপর তিনি বনি শায়বা গোত্রের কাছে চাবি ফেরত দেন এবং বলেন: خُذُوهَا يَا بَنِي عَبْدَ الدَّارِ خَالِدَةً تَالِدَةً إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا يَنْزِعُهَا مِنْكُمْ إِلا ظَالِمُ - অর্থ : 'হে বনি আবদুদ দার, কিয়ামত পর্যন্ত চিরদিনের জন্য এই চাবি গ্রহণ কর। জালেম ছাড়া কেউ তোমাদের কাছ থেকে এই চাবি ছিনিয়ে নেবে না।'

কাবা শরীফের গেলাফ কাবার চাবিরক্ষক বনি শায়বা গোত্রের কাছেই হস্তান্তর করা হয়। পরে তা কাবা শরীফে লাগানো হয়।

টিকাঃ
৪. প্রাগুক্ত।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 কা’বায় পাপমুক্তির স্থান

📄 কা’বায় পাপমুক্তির স্থান


রোকনে ইয়ামনী থেকে কাবা শরীফের পেছনে বিলুপ্ত দরজা পর্যন্ত ৪ হাত জায়গাকে )الْمُسْتَجَارُ( বা গুনাহ মুক্তির জায়গা বলা হয়। এটাকে 'বৃদ্ধ কোরাইশদের মোলতাযাম' নামেও আখ্যায়িত করা হয়। হযরত মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান (রা) বলেছেন, যে ব্যক্তি কাবা শরীফের পেছনে দাঁড়িয়ে দোয়া করে, তার দোয়া কবুল হয় এবং সে মায়ের পেট থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাত শিশুর মত নিষ্পাপ হয়ে যায়। নবী করীম (সা) থেকে শুনা ব্যতীত, সম্ভবতঃ হযরত মুয়াবিয়া (রা) এ জাতীয় বক্তব্য পেশ করতে পারেন না।

ইমাম শাবী (রা) বলেছেন, হযরত আবদুল্লাহ বিন যোবায়ের ও তাঁর ভাই মুসআব, আবদুল মালেক বিন মারওয়ান এবং হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর (রা) এই স্থানে দাঁড়িয়ে দোয়া করেছিলেন। ইমাম শাবী দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার আগে দেখে গেছেন যে, যারাই ঐ জায়গায় কোন কিছুর জন্য দোয়া করেছেন তারাই তা পেয়েছেন। হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর (রা) জান্নাতের জন্য দোয়া করে এর সুখবর লাভ করে গেছেন। এ ছাড়াও বড় বড় মুসলমানদের অনেকেই ঐ জায়গায় দোয়া করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলেন, হযরত উমর বিন আবদুল আযীয এবং হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) এর নাতী কাসেম বিন মুহাম্মদ (রা) প্রমুখ। 'আখবারে মক্কার' লেখক আল ফাকেহী উল্লেখ করেছেন যে, ওমর বিন আবদুল আযীয ইবনে আবি মোলায়কাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, হযরত আবদুল্লাহ বিন যোবায়ের (রা) কাবা শরীফের পেছনে দাঁড়িয়ে আল্লাহর আশ্রয় কামনা করেছিলেন কিনা? ইবনে আবি মোলায়কা বললেন, হ্যাঁ করেছিলেন। তিনি কাবার পেছনে দু'হাত বিছিয়ে আল্লাহর আশ্রয় কামনা করেছিলেন।

টিকাঃ
৫. প্রাগুক্ত।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 কা’বার ভিত্তিমূল

📄 কা’বার ভিত্তিমূল


এটি হচ্ছে কাবা শরীফের ভিত্তিমূল বা প্লিনথ লেবেল। অবশ্য এই প্লিনথ লেবেলের সমান সবটুকু অংশের উপর কাবা শরীফের দেয়াল নির্মাণ করা হয়নি। বরং প্লিনথ লেবেলের ২য় পর্যায়ের উপর দেয়াল নির্মিত হয়েছে। এর বর্ণনা হচ্ছে এরকম যে, কাবা ঘরের তিন দিকের ভিত্তিমূলের সাথে পাথরকে এমনভাবে বাঁকা করে বসানো হয়েছে যে, তা নীচের দিক থেকে উপরের দিকে সরু হয়ে উঠেছে এবং দেয়ালের সাথে লেগেছে। যমীন থেকে এর উচ্চতা ১১ সেন্টিমিটার এবং প্রশস্ততা ৪০ সেন্টিমিটার। তবে, হিজরে ইসমাঈলের দিকে ঐভাবে পাথর বসানো হয়নি, সেখানে এক স্তর সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এর উপর দাঁড়িয়ে, কাবা শরীফের সাথে বুক লাগিয়ে এবং দু' হাত উপরে তুলে দোয়া করা হয়।

কাবার বর্তমান প্লিনথ লেবেল কাবাঘরের ভেতরই আছে। ১০১৪ হিঃ সালে, তুর্কী সুলতান ৪র্থ মুরাদ যখন কাবা শরীফ মেরামত করেন তখন তিনি এই ভিত্তিমূলকে ভেতরে রাখেন। এটা তাঁর কোন নতুন আবিষ্কার ছিলনা। বরং পূর্ব থেকেই তা কাবাঘরের ভেতর ছিল।

এই ভিত্তিমূলটি কি কাবা ঘরের অংশ না কি এর বাইরের অংশ তা নিয়ে মতভেদ আছে। শাফেঈ ও মালেকী মাজহাবের আলেমরাসহ অন্যান্য উলামায়ে কেরাম এটাকে কাবা শরীফের অংশ বলে মনে করেন। ইমাম আবু হানীফা (রা) এটাকে কাবার অংশ মনে করেন না। তাঁর দলীল হচ্ছে, এর সমর্থনে কোন সহীহ হাদীস নেই। তাই এটাকে কাবা শরীফের অংশ মনে করা যায় না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00