📄 মোসাল্লা রাসূল (সা)
কা'বার মেঝেতে দক্ষিণ দেয়ালের কাছে শ্বেত মার্বেল নির্মিত এক টুকরো জায়গা নিজ মহিমায় ভাস্বর। এটি বাবে কা'বার ঠিক বিপরীতে এবং রোকনে ইয়ামানীর কাছাকাছি। এটিই মহানবী (সা)-এর নামায পড়ার স্থান। মোসাল্লা বরাবর দেয়ালে কুফী অক্ষরে লেখা আছে- 'মোরাববাআতে মোহাম্মাদ (সা)।'
📄 কা’বার আভ্যন্তরীণ দেয়াল
বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আযীয ১৯৯৬ সন মোতাবেক ১৪১৬-১৭ হিজরীতে, কা'বার ব্যাপক সংস্কার করেন। তিনি কা'বা শরীফের মেঝে, ছাদ, তিনটি খুঁটি, আভ্যন্তরীণ ও বাইরের দেয়াল, এবং আভ্যন্তরীণ সিঁড়ি সংস্কার করেন। কা'বার আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সৌন্দর্য বিধান এবং মজবুতী অর্জনই ছিল এ সংস্কারের লক্ষ্য। সংস্কারের সময় বাইতুল্লাহর প্রধান পাথরগুলো ছাড়া আর সকল পাথর খুলে সেগুলোকে ধূয়ে পরিষ্কার করে সাবেক স্থানে পুর্নবহাল করা হয়। হযরত ইবরাহীমের ভিত্তির উপর এগুলো লাগানো হয়েছে। তারপর কা'বার দেয়ালে ৪ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত মার্বেল পাথর লাগানো হয়েছে।
দক্ষিণ দেয়ালের গায়ে ৪ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত গোলাপী রং এর মূল্যবান মার্বেল লাগানো হয়েছে। প্রত্যেক দেয়ালে ৩০ সেন্টিমিটার উঁচু কালো মার্বেল পাথরের দুটো ফ্রেম আছে। এগুলোর প্রতিবিম্ব দ্বারা ভেতরের অন্যান্য মার্বেলের সৌন্দর্য সুশোভিত হয়। দেয়ালের ৪ মিটার উপরে সিল্কের তৈরি নীল পর্দা ঝুলানো আছে। এর মধ্যে সমান্তরাল ও খাড়াখাড়িভাবে বহুবার 'লাইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' এবং আরবী সংখ্যা আট (۸) এর আকারে جَلَّ جَلَالَهُ اللَّهُ অংকিত আছে। এই ক্যালিগ্রাফী দেখতে খুবই সুন্দর।
📄 কা’বার বর্তমান দরজা
১৩৬৩ হিজরীতে, বাদশাহ আবদুল আযীয আল সৌদ কাবা শরীফে একটি সুন্দর কাঠের দরজা লাগান এবং সেটি তৈরি করতে তিন বছর সময় লেগেছিল। কাবা শরীফের পুরাতন দরজাটি ১৩৯৬ হিজরীতে বাদশাহ খালেদ পরিবর্তন করেন এবং সেই স্থানে একটি সোনার দরজা লাগান। এতে ৯৯,৯৯৯ ধরনের মোট ২৮৬ কিলোগ্রাম খাঁটি সোনা লেগেছে। এতে আল্লাহর নাম ও কুরআনের আয়াত লেখা আছে। কাবা শরীফের দরজাটি বর্তমানে দুই পাল্লা বিশিষ্ট। এর মাঝখানে তালা আছে।
আভ্যন্তরীণ দরজা
কা'বা শরীফের যে দরজাটি আমরা বাহ্যিকভাবে দেখতে পাই, এর ডান পাশে ভেতরে আরেকটি দরজা আছে। এটা হচ্ছে, কা'বার আভ্যন্তরীণ দরজা। ১৩৬৩ হিঃ মোতাবেক ১৯৪৩ খৃঃ বাদশাহ আবদুল আযীয কা'বার আভ্যন্তরীণ দরজাটি নির্মাণ করেন। আভ্যন্তরীণ দরজাটির নাম হচ্ছে 'বাবুত তাওবাহ' (তওবা দরজা)। তাতেই খাঁটি সোনার তৈরি একটি তালা আছে। এ দরজাটিও বাবে কাবার মতই মানবীয় ভাষ্কর্যের নিপুণ স্বাক্ষর। এর কারুকার্যের কাছে মানব কল্পনা হার মানে। বাবুত তাওবাহ ও বাবে কাবার ভেতরে খুবই মজবুত কাঠ ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর উপর সোনা লাগানো হয়েছে।
১৩৯৭ হিঃ জুমাদাল উলা মাস মোতাবেক ১৯৭৭ খৃঃ বাদশাহ খালেদ বিন আবদুল আযীয কা'বার অভ্যন্তরে নামাজ পড়ার সময় লক্ষ্য করেন যে, দরজাটি নষ্ট হওয়ার পথে। তখন তিনি দরজাটি পুনঃনির্মাণের আদেশ দেন। তাও সোনা দ্বারা তৈরি এবং বাইর থেকে দৃশ্যমান ১ম দরজাটির মতই। আভ্যন্তরীণ দরজায়ও কোরআনের আয়াত লেখা আছে。
📄 কা’বার সেবা ও চাবি
ইসলামে কাবা শরীফের খেদমত একটি বিশিষ্ট কাজ। এই কাজটি ইসলামের পূর্ব থেকেই একটি বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত ছিল। ইসলামও ঐ খেদমতকে সেই গোষ্ঠীর অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কাবা শরীফের খেদমতকে আরবীতে, হেজাবাহ্ اَلْحِجَابَةُ এবং যারা তা করে তাদেরকে خُدَامُ الْكَعْبَةِ কিংবা سَدَنَةُ الْكَعْبة বলা হয়। বনি শায়বা গোত্রই হচ্ছে কাবা শরীফের সেবক। তাদের কাছে কাবা শরীফের চাবি থাকে এবং তারাই এর হেফাজত করেন। নবী করীম (সা) তাদেরকে এ সেবার উত্তরাধিকারী হিসেবে বহাল রেখেছেন। মক্কা বিজয়ের দিন তিনি তাদের কাছ থেকে কাবা শরীফের চাবি নিয়ে আসেন এবং কাবা শরীফের দরজা খুলে মূর্তিগুলোকে বের করেন। তারপর তিনি বনি শায়বা গোত্রের কাছে চাবি ফেরত দেন এবং বলেন: خُذُوهَا يَا بَنِي عَبْدَ الدَّارِ خَالِدَةً تَالِدَةً إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا يَنْزِعُهَا مِنْكُمْ إِلا ظَالِمُ - অর্থ : 'হে বনি আবদুদ দার, কিয়ামত পর্যন্ত চিরদিনের জন্য এই চাবি গ্রহণ কর। জালেম ছাড়া কেউ তোমাদের কাছ থেকে এই চাবি ছিনিয়ে নেবে না।'
কাবা শরীফের গেলাফ কাবার চাবিরক্ষক বনি শায়বা গোত্রের কাছেই হস্তান্তর করা হয়। পরে তা কাবা শরীফে লাগানো হয়।
টিকাঃ
৪. প্রাগুক্ত।