📄 কোরাইশ আমলে মক্কার গান বাজনা
পারস্য ও রোমের পরে, গান-বাজনার ক্ষেত্রে আরবরাই ছিল সবার আগে। এক্ষেত্রে কোরাইশরা আরবদের সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ঐ সময় মক্কার ঘরে ঘরে নর্তকী ছিল। মহিলাদের কোন পর্দা ছিল না। বরং তারা জাহেলিয়াতের রং-ঢং ও সাজগোজে প্রকাশ্যে বের হত। জাহেলিয়াতের মত সেজেগুজে প্রকাশ্যে বের না হওয়ার জন্য আল্লাহ কুরআনে মুসলিম মহিলাদেরকে নির্দেশ করেছেন। যাই হোক, ঐ সকল মহিলা পুরুষদের সাথে আনন্দ অনুষ্ঠানে খোলামেলা যোগ দিত এবং ঢোল ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গান গাইত। বিয়ের রাত্রে সেই গান বাজনার আর কোন শেষ ছিল না। তাদের মধ্যে দেবতার উদ্দেশ্যে রচিত نصب নামক ধর্মীয় গানের বহুল প্রচার ছিল। আবু সুফিয়ান বদর যুদ্ধে কোরাইশদের ফিরে আসার উপদেশ পাঠালে এর জবাবে আবু জাহল বলেছিল, 'আল্লাহর শপথ, আমরা বদর প্রান্তর না দেখে ফিরব না, যুদ্ধের পর আমরা সেখানে ৩ দিন অবস্থান করবো, উট জবেহ করবো, খানা-পিনা, মদ, গান বাজনা ও নর্তকীর নাচ দেখবো এতে গোটা আরবে আমাদের সুনাম ছড়িয়ে পড়বে।' এই উক্তি দ্বারাও সেই সমাজে গান-বাজনা ও নাচের অস্তিত্বের প্রমাণ মিলে।
مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيْثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ
অর্থ: 'আল্লাহর পথ থেকে ফিরানোর জন্য যে গান কিনে আনে।' (লোকমান: ৬)
এ আয়াতের তাফসীরে বলা হয়েছে যে, নাদর বিন হারেস নতুন মুসলমানদেরকে তার ঘরে ডাকতেন এবং ঘরের একজন গায়িকাকে হুকুম দিতেন, সে যেন নও মুসলিমকে খাদ্য-পানীয় ও গান দ্বারা আপ্যায়িত করে। তার বিশ্বাস, এর ফলে নও মুসলিম ব্যক্তি নবীর দাওয়াত ভুলে যাবে এবং ইসলাম ত্যাগ করবে। তিনি এই উদ্দেশ্যে ঘরে বেশ কিছু গায়িকা পালন করতেন।
মূলকথা, কোরাইশদের ঘর-মজলিশ, পার্ক, বিশ্রামাগার এবং ধনীদের বাড়ীতে নর্তকী ও গায়িকার ব্যাপক পদচারণা ছিল।