📄 যমযমের পানির বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ
যমযমের পানি অতি পবিত্র ও উপকারী। সূচনালগ্ন থেকেই এই পানির ব্যবহার ও মর্যাদার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। হাদীসেও এই পানির উপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। তাই সৌদী শাসনামলে এই পানির গুণাগুণ এবং তাকে অধিকতর পরিচ্ছন্ন করার উদ্দেশ্যে রাসায়নিক এবং রোগ জীবাণু সংক্রান্ত জীব বিজ্ঞানীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। ঐ সকল পরীক্ষাসমূহের লক্ষ্য হচ্ছে, পানি ও পানির উৎসের যথার্থতা ও কলুষতা নির্ণয়, পানিকে কলুষতামুক্ত করার জন্য উপযোগী পদক্ষেপ নেয়া এবং পৃথকভাবে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা।
বিশুদ্ধ পানি বলতে সেই পানিকে বুঝায় যাতে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোন খনিজ পদার্থ না থাকে এবং পানির রং, স্বাদ, ঘ্রাণ ও পরিচ্ছন্নতা বিদ্যমান থাকে। পক্ষান্তরে দূষিত কিন্তু ব্যবহারের অযোগ্য নয় এমন পানি হচ্ছে, প্রাকৃতিক কারণে যে পানির স্বাদ, ঘ্রাণ ও রং এর বিকৃতি হয়েছে। এটা পানির নিজস্ব উপাদান কিংবা বাইরের প্রভাব-দু'টোর যে কোনটার কারণে হতে পারে। কোন কোন সময় এ জাতীয় পানি পান করলে কোন রোগ হয় না কিংবা শরীরেরও কোন ক্ষতি হয় না।
অপরদিকে, যে পানিতে ক্ষুদ্র রোগ জীবাণু (ব্যাকটেরিয়া) কিংবা বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান থাকে তা পান করার অনুপযোগী বলে বিবেচিত হয়।
সাধারণতঃ পানি প্রকৃতিগতভাবে খুব কমই বিশুদ্ধ থাকে। কেননা, আকাশের জলীয় বাষ্প যখন পানির ফোটায় রূপান্তরিত হয় তখন বাতাসে মওজুদ কিছু বিষাক্ত গ্যাস, বালুকণা এবং ব্যাকটেরিয়া এর অন্তর্ভুক্ত হয়। উপর থেকে পানি যখন মাটিতে পড়ে তখন তা বালু, মাটি, রাসায়নিক উপাদান ও ব্যাকটেরিয়াকে সাথে বয়ে নিয়ে যায়। ঐ পানি মাটির নীচে চলে গেলে তখন তা মাটিতে মওজুদ লবণকেও অন্তর্ভুক্ত করে। এ ছাড়াও এতে ভূতাত্ত্বিক অন্যান্য উপাদান প্রভাব বিস্তার করে। পানিতে লোহার পরিমাণ বেশী থাকলে সেই পানি লালরূপ ধারণ করে। পানিতে ম্যাঙ্গানিজ বেশী থাকলে পানির রং কাল হয়ে যায়। এ ছাড়াও পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সোডিয়াম থাকে। পানিতে অক্সিজেন, অক্সাইড কার্বন এবং সালফার হাইড্রোজেন জাতীয় গ্যাসের অস্তিত্বও বিদ্যমান আছে।
দূষিত পানি পান করলে অনেক সময় টাইফয়েড, রক্ত আমাশয়, কলেরা, প্যারা টাইফয়েড, শিশুদের পঙ্গুত্ব এবং বলহারেসিয়াসসহ বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হয়, দাঁত ও পেটের জন্য ক্ষতিকর আরো অন্যান্য কিছু রোগও সৃষ্টি হতে পারে।
পানির বিশুদ্ধতা নির্ধারণের জন্য অনেকগুলো পরীক্ষা আছে। সেগুলো হচ্ছে ১. প্রাকৃতিক পরীক্ষা ২. রাসায়নিক পরীক্ষা ৩. ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষা ৪. অনুবীক্ষণ পরীক্ষা।
প্রাকৃতিক পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে তাপমাত্রা, স্বাদ, গন্ধ, কাদা এবং মিশ্রিত উপাদানের পরিমাণ জানা।
রাসায়নিক পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে জৈব ও অজৈব পরীক্ষা। জৈব পরীক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে, এতে করে পানিতে দূষিত পদার্থ ও জৈব পদার্থের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা এবং অজৈব পরীক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে, পানিতে খনিজ লবণের হার জানা।
আন্তর্জাতিকভাবে বিশুদ্ধ পানিতে রাসায়নিক দ্রব্যের নিম্নলিখিত সর্বোচ্চ হার স্বীকৃত : (মিলিয়ন গ্রাম/লিটার হারে)
| উপাদান | সর্বোচ্চ হার | উপাদান | সর্বোচ্চ হার |
|---|---|---|---|
| সীসা | ০০.০১ | জিংক | ১৫.০০ |
| তামা | ০.০৩ | ম্যাগনেসিয়াম | ১২৫.০০ |
| আর্সেনিক | ০০.০৫ | ক্লোরয়েড | ২৫০.০০ |
| সেলিনাম | ০০.০৫ | সালফার | ৫০.০০ |
| ফ্লোরিন | ১.০০ | মিশ্রিত লবণ | ১০০০.০০ |
| লোহা | ০.৩ | এলকালি | ৪০০.০০ |
| ম্যাঙ্গানিজ | ০.৩ | |
এছাড়াও পান করার উপযোগী পানিতে ৯০% অক্সিজেন, মিলিয়নে ৫০ ভাগ অক্সাইড কার্বন এবং ১ ভাগ সালফার হাইড্রোজেন গ্যাস থাকা জরুরী।
ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষা হচ্ছে পানিতে অবস্থিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণী যা সাধারণ অনুবীক্ষণ যন্ত্রেও ধরা পড়ে না। ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব নির্ভর করে তার প্রয়োজনীয় খাদ্য, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার উপর। অনুকূল পরিবেশ পেলে ব্যাকটেরিয়া অনেক বেশী বংশ বিস্তার করে।
ব্যাকটেরিয়া দুই ধরনের: উপকারী ও অপকারী।
উপকারী ব্যাকটেরিয়া হচ্ছে ভূপৃষ্ঠের উপরের স্তরে অবস্থানকারী যে সকল ব্যাকটেরিয়া জৈব পদার্থ প্রতিষ্ঠিত রাখে কিংবা তাকে অম্লজান পদার্থে (অক্সিজেনে) পরিণত করে অথবা মানুষ ও প্রাণীর হজমে সাহায্য করে, কিংবা দুধকে দইতে পরিণত করতে সাহায্য করে যার ফলে মাখন, পনির ও অন্যান্য দুগ্ধজাত দ্রব্য তৈরি করতে সহায়ক হয়।
ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া হচ্ছে যে সকল ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন পদার্থের মধ্যে সংখ্যা বৃদ্ধি করে তাকে দুর্গন্ধ যুক্ত ও বিষাক্ত করে তোলে। এর ফলে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়।
পান করার পানিতে নিম্নলিখিত মাপকাঠি ও বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন।
প্রথমতঃ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য: পানির রং ঠিক থাকতে হবে এবং মিলিয়নে ৫ ভাগ কাদা থাকতে পারে। পানির স্বাদ ও গন্ধ গ্রহণযোগ্য হতে হবে।
দ্বিতীয়তঃ রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য: পানি অবশ্যই বিষাক্ত উপাদানমুক্ত হতে হবে এবং ইতিপূর্বে বর্ণিত ছক অনুযায়ী বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদান এতে থাকতে হবে।
তৃতীয়তঃ আলফা তাপ বিকীরণ মিলিমিটারে ৯:১০ মাইক্রোকিরী এবং বিটা তাপ বিকীরণ মিলিমিটারে ৮:১০ মাইক্রোকিরী হতে হবে।
চতুর্থতঃ ব্যাকটেরিয়ার জন্য মাপকাঠি হচ্ছে, ১০০ মিলিমিটারে একাধিক কলন গ্রুপ থাকতে পারবে না।
সালেহ মুহাম্মদ জামাল 'আখবারে মক্কা'র ভূমিকায় লিখেছেন যে, যমযমের পানি ক্ষারজাতীয় (এলকালিন) এবং এতে সোডা, ক্লোর, চুন, সালফার এসিড, নাইট্রোজেনিক এসিড এবং পটাশ বেশী পরিমাণে থাকায় তা খনিজ পানির কাছাকাছি মর্যাদার অধিকারী।
যমযমের পানি নিয়ে অতীতে যথেষ্ট গবেষণা হয়েছে এবং সাম্প্রতিককালেও প্রচুর গবেষণা হয়েছে। আমরা নীচে এ জাতীয় কয়েকটি গবেষণার ফলাফল উল্লেখ করবো।
২১।১১। ১৩৯১ হিজরী মোতাবেক ১৭ই জানুয়ারী ১৯৭১ সালে, জেদ্দাস্থ কারানতিনা হাসপাতালে যমযমের পানির ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষা করা হয়। গবেষকদেরকে ঐ পানি যে যমযমের পানি তা আগে জানানো হয়নি। পরীক্ষার ফলাফল হচ্ছে, এতে ১০০ মিলিমিটারে মওজুদ ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ হচ্ছে ৮৫,০০০। ১০০ মিলিমিটারে কলিফরমের সংখ্যা হচ্ছে ২,৪০০।
যমযমের পানির ট্যাংক থেকে গৃহীত পানির নমুনায় দেখা গেছে যে, ১০০ মিলিমিটারে মোট ২ লাখ ৪০ হাজার ব্যাকটেরিয়া এবং ১০০ মিলিমিটারে মোট কলিফরমের সংখ্যা হচ্ছে ২ হাজার ৪ শত। রিপোর্টে সুপারিশ করা হয় যে, যমযমের পানি থেকে ব্যাকটেরিয়া নির্মূলের জন্য তাতে ক্লোর ব্যবহার করা হউক এবং পানি পান করার আগে তাতে ব্যাকটেরিয়া নির্মূল হল কিনা তা পুনরায় পরীক্ষার জন্য পানি নিয়ে আসা হউক।
৭।৪।১৩৯১ হিজরীতে কৃষি ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে যমযমের বিশুদ্ধকৃত পানি রিয়াদের কেন্দ্রীয় হাসপাতালের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয় এবং অনুরূপভাবে কৃষি ও পানি মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষাগারেও পাঠানো হয়। সেই দুই স্থানের গবেষণার ফলাফল হচ্ছে নিম্নরূপ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণাগারের রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল হচ্ছে:-
হাইড্রোজেনের ঘনত্ব ৭.৯
বিদ্যুৎ পৌঁছানো: ৩.৫৬
ক্যালসিয়াম: মিলিলিটার ১১.১২
ম্যাগনেসিয়াম: " ৩.৭৩
সোডিয়াম: " ১৫.০০
পটাসিয়াম: " ৭.৯০
কার্বন: " নেই
বাই-কার্বন: " ৫.৫০
ক্লোরয়েড: " ১৪.৬০
সালফার: " ১৭.৬৫
মিশ্রিত লবণঃ (মিলিয়ন লিটারে) ২২৭৮
রিয়াদের কেন্দ্রীয় হাসপাতালের পরীক্ষাগারের ফলাফল হচ্ছে:-
১০০ মিলিমিটারে মোট ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা ৩৮ হাজার
" " কলিফরমের সংখ্যা ২৪০
" " অন্যান্য কলিফরম নেই।
তাদের মন্তব্য হল, বর্তমানে এই অবস্থায় যমযমের পানি পান করা যায় না।
কিন্তু সৌদী অর্থ মন্ত্রণালয় যখন ওয়ার্টসন কনসালটিং কোম্পানীকে মসজিদে হারামের পানি ও যমযমের ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশন, মাতাফ সম্প্রসারণ এবং যমযমের পানিকে Sterialization (বিশুদ্ধকরণ) করার দায়িত্ব অর্পণ করে তখন উক্ত কোম্পানী যমযমের পানি, নহরে যুবায়দা এবং দাউদিয়া কূপের পানি পরীক্ষা করে। তারা তিনটি স্থানের পানি পরীক্ষা করে তুলনামূলক ফলাফল প্রদান করে। ১৯৭৩ সালে সমাপ্ত উক্ত পরীক্ষার ফলাফল হচ্ছে নিম্নরূপ:
| পরীক্ষাসমূহ | দাউদিয়া কূপ | যমযম | নহরে যুবায়দা |
|---|---|---|---|
| বাহ্যিক অবস্থা | পরিষ্কার | পরিষ্কার | পরিষ্কার |
| মাইক্রো উম দ্বারা বিদ্যুত পৌছানো হয় | ২৮৭৫ | ৩০৭৫ | ৯২৫ |
| মোট শক্ত গলিত পদার্থ (মিলিয়নে) | ১৭২৫ | ১৮৪৫ | ৫৫৫ |
| হাইড্রোজেনের ঘনত্ব | ৭.৯ | ৮.৩ | ৮.৩ |
| হাইড্রোঅক্সাইডসোডিয়াম (মিলিলিটার) | ১০ | ১০ | ১০ |
| কার্বন-ক্যালসিয়ামের আকারে লবণ-(মিলিগ্রাম-লিটার) | ৩৫০ | ২৬০ | ১৫০ |
| ক্লোরের আকারে ক্লোরয়েড " | ৪০০ | ৪৮৫ | ১৩০ |
| সালফার " " | ৩১০ | ৩৫০ | ১১০ |
| ক্যালসিয়াম " | ১৮৫ | ২১৫ | ৯০ |
| ম্যাগনেসিয়াম " " | ৫১ | ৫৫ | ৩৫ |
| লোহা " " | ০.০৪ | ০.০৪ | ০.০৪ |
| তামা " | ০.০৫ | ১০ | ১০ |
| নাইট্রোজেনিক নাইট্রেড " " | ১.১০ | ১.৩০ | ৩০ |
| নাইট্রোজেনিক নিট্রিট " | ০.১৬ | ০.৫২৬ | ০.০৮ |
| সিলিকা " " | ৮০ | ৮০ | ২৫ |
| ফসফেট " " | নেই | নেই | নেই |
লিবিয়ার ত্রিপোলীতে অবস্থিত 'ফাতেহ বিশ্ববিদ্যালয়ের' তেল ও খনিজ প্রকৌশল বিভাগের রাসায়নিক ও পেট্রো রাসায়নিক শিল্পের শিক্ষক ডঃ রাজা হোসাইন আবুস সেমান যমযমের পানির উপর গবেষণা চালান। তিনি যমযম থেকে এমনভাবে নমুনা পানি গ্রহণ করেন যাতে করে তা সত্যিকার অর্থে যমযমের প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি ১৯৭৬ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যমযম থেকে ৩ লিটার পানি নেন। তারপর ১৯৭৭ সালে যমযম থেকে ১ লিটার পানি এবং সর্বশেষ ১৯৭৭ সালের ২রা ডিসেম্বর আরো ১ লিটার পানি নেন। অনুরূপভাবে তিনি ২৩/৪/৭৬ তারিখে আরাফাতের নহরে যুবায়দা থেকে দুই লিটার নেন এবং ২১।৪। ১৯৭৬ তারিখে দাউদিয়া এবং মেসফালা থেকে ৩ লিটার পানি সংগ্রহ করেন এবং এগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষা চালান। নিম্নে তার যমযমের পানির পরীক্ষার ফলাফল পেশ করা হল।
যমযমের পানির রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল:
| | হাইড্রোজেন | মিশ্র লবণ | ক্লোরয়েড | কার্বন | সালফার | ক্যালসিয়াম | ম্যাগনেশিয়াম | লোহা |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| (মিলিয়নে) | ৬০৯ | ১৬২০ | ২৩৪ | ২০৮ | ৩৬৫ | আছে | আছে | আছে |
যমযমের পানি অতি পবিত্র ও উপকারী। সূচনালগ্ন থেকেই এই পানির ব্যবহার ও মর্যাদার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। হাদীসেও এই পানির উপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। তাই সৌদী শাসনামলে এই পানির গুণাগুণ এবং তাকে অধিকতর পরিচ্ছন্ন করার উদ্দেশ্যে রাসায়নিক এবং রোগ জীবাণু সংক্রান্ত জীব বিজ্ঞানীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। ঐ সকল পরীক্ষাসমূহের লক্ষ্য হচ্ছে, পানি ও পানির উৎসের যথার্থতা ও কলুষতা নির্ণয়, পানিকে কলুষতামুক্ত করার জন্য উপযোগী পদক্ষেপ নেয়া এবং পৃথকভাবে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা।
বিশুদ্ধ পানি বলতে সেই পানিকে বুঝায় যাতে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোন খনিজ পদার্থ না থাকে এবং পানির রং, স্বাদ, ঘ্রাণ ও পরিচ্ছন্নতা বিদ্যমান থাকে। পক্ষান্তরে দূষিত কিন্তু ব্যবহারের অযোগ্য নয় এমন পানি হচ্ছে, প্রাকৃতিক কারণে যে পানির স্বাদ, ঘ্রাণ ও রং এর বিকৃতি হয়েছে। এটা পানির নিজস্ব উপাদান কিংবা বাইরের প্রভাব-দু'টোর যে কোনটার কারণে হতে পারে। কোন কোন সময় এ জাতীয় পানি পান করলে কোন রোগ হয় না কিংবা শরীরেরও কোন ক্ষতি হয় না।
অপরদিকে, যে পানিতে ক্ষুদ্র রোগ জীবাণু (ব্যাকটেরিয়া) কিংবা বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান থাকে তা পান করার অনুপযোগী বলে বিবেচিত হয়।
সাধারণতঃ পানি প্রকৃতিগতভাবে খুব কমই বিশুদ্ধ থাকে। কেননা, আকাশের জলীয় বাষ্প যখন পানির ফোটায় রূপান্তরিত হয় তখন বাতাসে মওজুদ কিছু বিষাক্ত গ্যাস, বালুকণা এবং ব্যাকটেরিয়া এর অন্তর্ভুক্ত হয়। উপর থেকে পানি যখন মাটিতে পড়ে তখন তা বালু, মাটি, রাসায়নিক উপাদান ও ব্যাকটেরিয়াকে সাথে বয়ে নিয়ে যায়। ঐ পানি মাটির নীচে চলে গেলে তখন তা মাটিতে মওজুদ লবণকেও অন্তর্ভুক্ত করে। এ ছাড়াও এতে ভূতাত্ত্বিক অন্যান্য উপাদান প্রভাব বিস্তার করে। পানিতে লোহার পরিমাণ বেশী থাকলে সেই পানি লালরূপ ধারণ করে। পানিতে ম্যাঙ্গানিজ বেশী থাকলে পানির রং কাল হয়ে যায়। এ ছাড়াও পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সোডিয়াম থাকে। পানিতে অক্সিজেন, অক্সাইড কার্বন এবং সালফার হাইড্রোজেন জাতীয় গ্যাসের অস্তিত্বও বিদ্যমান আছে।
দূষিত পানি পান করলে অনেক সময় টাইফয়েড, রক্ত আমাশয়, কলেরা, প্যারা টাইফয়েড, শিশুদের পঙ্গুত্ব এবং বলহারেসিয়াসসহ বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হয়, দাঁত ও পেটের জন্য ক্ষতিকর আরো অন্যান্য কিছু রোগও সৃষ্টি হতে পারে।
পানির বিশুদ্ধতা নির্ধারণের জন্য অনেকগুলো পরীক্ষা আছে। সেগুলো হচ্ছে ১. প্রাকৃতিক পরীক্ষা ২. রাসায়নিক পরীক্ষা ৩. ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষা ৪. অনুবীক্ষণ পরীক্ষা।
প্রাকৃতিক পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে তাপমাত্রা, স্বাদ, গন্ধ, কাদা এবং মিশ্রিত উপাদানের পরিমাণ জানা।
রাসায়নিক পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে জৈব ও অজৈব পরীক্ষা। জৈব পরীক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে, এতে করে পানিতে দূষিত পদার্থ ও জৈব পদার্থের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা এবং অজৈব পরীক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে, পানিতে খনিজ লবণের হার জানা।
আন্তর্জাতিকভাবে বিশুদ্ধ পানিতে রাসায়নিক দ্রব্যের নিম্নলিখিত সর্বোচ্চ হার স্বীকৃত : (মিলিয়ন গ্রাম/লিটার হারে)
| উপাদান | সর্বোচ্চ হার | উপাদান | সর্বোচ্চ হার |
|---|---|---|---|
| সীসা | ০০.০১ | জিংক | ১৫.০০ |
| তামা | ০.০৩ | ম্যাগনেসিয়াম | ১২৫.০০ |
| আর্সেনিক | ০০.০৫ | ক্লোরয়েড | ২৫০.০০ |
| সেলিনাম | ০০.০৫ | সালফার | ৫০.০০ |
| ফ্লোরিন | ১.০০ | মিশ্রিত লবণ | ১০০০.০০ |
| লোহা | ০.৩ | এলকালি | ৪০০.০০ |
| ম্যাঙ্গানিজ | ০.৩ | |
এছাড়াও পান করার উপযোগী পানিতে ৯০% অক্সিজেন, মিলিয়নে ৫০ ভাগ অক্সাইড কার্বন এবং ১ ভাগ সালফার হাইড্রোজেন গ্যাস থাকা জরুরী।
ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষা হচ্ছে পানিতে অবস্থিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণী যা সাধারণ অনুবীক্ষণ যন্ত্রেও ধরা পড়ে না। ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব নির্ভর করে তার প্রয়োজনীয় খাদ্য, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার উপর। অনুকূল পরিবেশ পেলে ব্যাকটেরিয়া অনেক বেশী বংশ বিস্তার করে।
ব্যাকটেরিয়া দুই ধরনের: উপকারী ও অপকারী।
উপকারী ব্যাকটেরিয়া হচ্ছে ভূপৃষ্ঠের উপরের স্তরে অবস্থানকারী যে সকল ব্যাকটেরিয়া জৈব পদার্থ প্রতিষ্ঠিত রাখে কিংবা তাকে অম্লজান পদার্থে (অক্সিজেনে) পরিণত করে অথবা মানুষ ও প্রাণীর হজমে সাহায্য করে, কিংবা দুধকে দইতে পরিণত করতে সাহায্য করে যার ফলে মাখন, পনির ও অন্যান্য দুগ্ধজাত দ্রব্য তৈরি করতে সহায়ক হয়।
ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া হচ্ছে যে সকল ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন পদার্থের মধ্যে সংখ্যা বৃদ্ধি করে তাকে দুর্গন্ধ যুক্ত ও বিষাক্ত করে তোলে। এর ফলে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়।
পান করার পানিতে নিম্নলিখিত মাপকাঠি ও বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন।
প্রথমতঃ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য: পানির রং ঠিক থাকতে হবে এবং মিলিয়নে ৫ ভাগ কাদা থাকতে পারে। পানির স্বাদ ও গন্ধ গ্রহণযোগ্য হতে হবে।
দ্বিতীয়তঃ রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য: পানি অবশ্যই বিষাক্ত উপাদানমুক্ত হতে হবে এবং ইতিপূর্বে বর্ণিত ছক অনুযায়ী বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদান এতে থাকতে হবে।
তৃতীয়তঃ আলফা তাপ বিকীরণ মিলিমিটারে ৯:১০ মাইক্রোকিরী এবং বিটা তাপ বিকীরণ মিলিমিটারে ৮:১০ মাইক্রোকিরী হতে হবে।
চতুর্থতঃ ব্যাকটেরিয়ার জন্য মাপকাঠি হচ্ছে, ১০০ মিলিমিটারে একাধিক কলন গ্রুপ থাকতে পারবে না।
সালেহ মুহাম্মদ জামাল 'আখবারে মক্কা'র ভূমিকায় লিখেছেন যে, যমযমের পানি ক্ষারজাতীয় (এলকালিন) এবং এতে সোডা, ক্লোর, চুন, সালফার এসিড, নাইট্রোজেনিক এসিড এবং পটাশ বেশী পরিমাণে থাকায় তা খনিজ পানির কাছাকাছি মর্যাদার অধিকারী।
যমযমের পানি নিয়ে অতীতে যথেষ্ট গবেষণা হয়েছে এবং সাম্প্রতিককালেও প্রচুর গবেষণা হয়েছে। আমরা নীচে এ জাতীয় কয়েকটি গবেষণার ফলাফল উল্লেখ করবো।
২১।১১। ১৩৯১ হিজরী মোতাবেক ১৭ই জানুয়ারী ১৯৭১ সালে, জেদ্দাস্থ কারানতিনা হাসপাতালে যমযমের পানির ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষা করা হয়। গবেষকদেরকে ঐ পানি যে যমযমের পানি তা আগে জানানো হয়নি। পরীক্ষার ফলাফল হচ্ছে, এতে ১০০ মিলিমিটারে মওজুদ ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ হচ্ছে ৮৫,০০০। ১০০ মিলিমিটারে কলিফরমের সংখ্যা হচ্ছে ২,৪০০।
যমযমের পানির ট্যাংক থেকে গৃহীত পানির নমুনায় দেখা গেছে যে, ১০০ মিলিমিটারে মোট ২ লাখ ৪০ হাজার ব্যাকটেরিয়া এবং ১০০ মিলিমিটারে মোট কলিফরমের সংখ্যা হচ্ছে ২ হাজার ৪ শত। রিপোর্টে সুপারিশ করা হয় যে, যমযমের পানি থেকে ব্যাকটেরিয়া নির্মূলের জন্য তাতে ক্লোর ব্যবহার করা হউক এবং পানি পান করার আগে তাতে ব্যাকটেরিয়া নির্মূল হল কিনা তা পুনরায় পরীক্ষার জন্য পানি নিয়ে আসা হউক।
৭।৪।১৩৯১ হিজরীতে কৃষি ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে যমযমের বিশুদ্ধকৃত পানি রিয়াদের কেন্দ্রীয় হাসপাতালের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয় এবং অনুরূপভাবে কৃষি ও পানি মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষাগারেও পাঠানো হয়। সেই দুই স্থানের গবেষণার ফলাফল হচ্ছে নিম্নরূপ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণাগারের রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল হচ্ছে:-
হাইড্রোজেনের ঘনত্ব ৭.৯
বিদ্যুৎ পৌঁছানো: ৩.৫৬
ক্যালসিয়াম: মিলিলিটার ১১.১২
ম্যাগনেসিয়াম: " ৩.৭৩
সোডিয়াম: " ১৫.০০
পটাসিয়াম: " ৭.৯০
কার্বন: " নেই
বাই-কার্বন: " ৫.৫০
ক্লোরয়েড: " ১৪.৬০
সালফার: " ১৭.৬৫
মিশ্রিত লবণঃ (মিলিয়ন লিটারে) ২২৭৮
রিয়াদের কেন্দ্রীয় হাসপাতালের পরীক্ষাগারের ফলাফল হচ্ছে:-
১০০ মিলিমিটারে মোট ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা ৩৮ হাজার
" " কলিফরমের সংখ্যা ২৪০
" " অন্যান্য কলিফরম নেই।
তাদের মন্তব্য হল, বর্তমানে এই অবস্থায় যমযমের পানি পান করা যায় না।
কিন্তু সৌদী অর্থ মন্ত্রণালয় যখন ওয়ার্টসন কনসালটিং কোম্পানীকে মসজিদে হারামের পানি ও যমযমের ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশন, মাতাফ সম্প্রসারণ এবং যমযমের পানিকে Sterialization (বিশুদ্ধকরণ) করার দায়িত্ব অর্পণ করে তখন উক্ত কোম্পানী যমযমের পানি, নহরে যুবায়দা এবং দাউদিয়া কূপের পানি পরীক্ষা করে। তারা তিনটি স্থানের পানি পরীক্ষা করে তুলনামূলক ফলাফল প্রদান করে। ১৯৭৩ সালে সমাপ্ত উক্ত পরীক্ষার ফলাফল হচ্ছে নিম্নরূপ:
পরীক্ষাসমূহ দাউদিয়া কূপ যমযম নহরে যুবায়দা
বাহ্যিক অবস্থা পরিষ্কার পরিষ্কার পরিষ্কার
মাইক্রো উম দ্বারা বিদ্যুত পৌছানো হয় ২৮৭৫ ৩০৭৫ ৯২৫
মোট শক্ত গলিত পদার্থ (মিলিয়নে) ১৭২৫ ১৮৪৫ ৫৫৫
হাইড্রোজেনের ঘনত্ব ৭.৯ ৮.৩ ৮.৩
হাইড্রোঅক্সাইডসোডিয়াম (মিলিলিটার) ১০ ১০ ১০
কার্বন-ক্যালসিয়ামের আকারে লবণ-(মিলিগ্রাম-লিটার) ৩৫০ ২৬০ ১৫০
ক্লোরের আকারে ক্লোরয়েড " ৪০০ ৪৮৫ ১৩০
সালফার " " ৩১০ ৩৫০ ১১০
ক্যালসিয়াম " ১৮৫ ২১৫ ৯০
ম্যাগনেসিয়াম " " ৫১ ৫৫ ৩৫
লোহা " " ০.০৪ ০.০৪ ০.০৪
তামা " ০.০৫ ১০ ১০
নাইট্রোজেনিক নাইট্রেড " " ১.১০ ১.৩০ ৩০
নাইট্রোজেনিক নিট্রিট " ০.১৬ ০.৫২৬ ০.০৮
সিলিকা " " ৮০ ৮০ ২৫
ফসফেট " " নেই নেই নেই
লিবিয়ার ত্রিপোলীতে অবস্থিত 'ফাতেহ বিশ্ববিদ্যালয়ের' তেল ও খনিজ প্রকৌশল বিভাগের রাসায়নিক ও পেট্রো রাসায়নিক শিল্পের শিক্ষক ডঃ রাজা হোসাইন আবুস সেমান যমযমের পানির উপর গবেষণা চালান। তিনি যমযম থেকে এমনভাবে নমুনা পানি গ্রহণ করেন যাতে করে তা সত্যিকার অর্থে যমযমের প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি ১৯৭৬ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যমযম থেকে ৩ লিটার পানি নেন। তারপর ১৯৭৭ সালে যমযম থেকে ১ লিটার পানি এবং সর্বশেষ ১৯৭৭ সালের ২রা ডিসেম্বর আরো ১ লিটার পানি নেন। অনুরূপভাবে তিনি ২৩/৪/৭৬ তারিখে আরাফাতের নহরে যুবায়দা থেকে দুই লিটার নেন এবং ২১।৪। ১৯৭৬ তারিখে দাউদিয়া এবং মেসফালা থেকে ৩ লিটার পানি সংগ্রহ করেন এবং এগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষা চালান। নিম্নে তার যমযমের পানির পরীক্ষার ফলাফল পেশ করা হল।
যমযমের পানির রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল:
| | হাইড্রোজেন | মিশ্র লবণ | ক্লোরয়েড | কার্বন | সালফার | ক্যালসিয়াম | ম্যাগনেশিয়াম | লোহা |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| (মিলিয়নে) | ৬০৯ | ১৬২০ | ২৩৪ | ২০৮ | ৩৬৫ | আছে | আছে | আছে |
📄 যমযমের পানির জীবতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
১৪০০ হিজরীতে, মোতাবেক ১৯৮০ খৃঃ মসজিদে হারাম আক্রান্ত হওয়ার পর যমযমের পানি দূষিত হয়ে পড়ায় তা পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেয়া হয়। সে উদ্দেশ্যে দমকল দিয়ে যমযমের পানি সেচ করে বাইরে ফেলে দেয়া হয় এবং কূপের মুখ থেকে নীচের দিকে ১৩-১৭ মিটার দূরে অবস্থিত মূল উৎসমুখসমূহ থেকে এবং ২৬-৩০ মিটার দূরে অবস্থিত কূপের সর্বশেষ তলদেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তখন কূপের দূষিত পানি সেচ করে বের করে দেয়া হয়েছে এবং কূপের মৌলিক ও শাখা উৎসমুখসমূহ সুস্পষ্ট হওয়ার পরই সেখান থেকে পানি নেয়া হয়েছে।
১৩-১৭ মিটার নীচ থেকে গৃহীত পানির নমুনার মধ্যে মাইক্রোব বা রোগ জীবাণুর পরীক্ষায় দেখা যায় যে, এতে স্যালামোনেল্যা, সিগেল্যা এবং ইসেরিচিয়া কোলাই মাইক্রোবের হার অনেক বেশী।
১৪০০ হিজরীর ২০শে মুহররমে গৃহীত নমুনা থেকে দেখা যায় যে, এতে ১০০ ঘন সেন্টিমিটারে ১ লাখ ৮০ হাজার ইসেরিচিয়া কোলাই মওজুদ রয়েছে। এই হার ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে এবং ৪০০ হিজরীর ১২ই সফরের অপর এক পরীক্ষায় দেখা যায় যে, ১০০ ঘন সেন্টিমিটার পানিতে উক্ত মাইক্রোবের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮০০। কিন্তু কূপের তলদেশের পানির গৃহীত নমুনায় এই হার আরো অনেক বেশী। ২৬-৩০ মিটার নীচ থেকে একই তারিখে গৃহীত নমুনা পানিতে দেখা যায় যে, ১০০ ঘন সেন্টিমিটার পানিতে ইসেরিচিয়া কোলাই এর সংখ্যা হচ্ছে ১০ লাখ।
উপরোক্ত পরীক্ষায় রোগ জীবাণুর সংখ্যার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ২০শে মুহররমের নমুনা পানিতে এক ঘন সেন্টিমিটারে ২ লাখ ৯০ হাজার এবং ২৯শে মুহররমের নমুনা পানির পরীক্ষায় তিন ঘন সেন্টিমিটার পানিতে এর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৭ লাখ ৫ হাজারে দাঁড়ায়। সেখানে পানির তাপমাত্রা হচ্ছে ৩২% ভাগ। অথচ অনুরূপ মাইক্রোবের উপযোগী তাপমাত্রা হচ্ছে ৩৭% ভাগ। ফলে সেখানে এই মাইক্রোব বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে। গোটা কূপে পানি সেচের সাথে সাথে ক্লোর ব্যবহার করে কূপের দেয়াল এবং তলদেশ থেকে সকল মাইক্রোব নির্মূল করার চেষ্টা করা হয়। কূপ থেকে পানিসেচ করে বাইরে ফেলে তা পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে কয়েকটি পাম্প মেশিনের সাহায্যে প্রতি মিনিটে ৮ হাজার লিটার পানি তোলা হয় এবং কূপের পানির স্তর নীচে নামার কারণে, এর মূল উৎসমুখ সমূহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে উপরোক্ত পরীক্ষা চালানো হয়।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ১৪০০ হিজরীর মসজিদে হারামে দুঃখজনক আক্রমণের ৬ মাস পূর্বে মাত্র, সৌদী সরকারের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের পানি ও সুয়েরেজ কল্যাণ বিভাগের উদ্যোগে যমযম কূপ পরিষ্কার করা হয়। পাম্প মেশিনের সাহায্যে পানি সেচ করে কূপ থেকে অনেক বালু ও আবর্জনা পরিষ্কার করার পর সকল রোগ-জীবাণুমুক্ত করা হয়। তখন সেখানে স্যালামোনেল্যা, সিগেল্যা এবং ইসেরিচিয়া মাইক্রোবসহ অন্য রোগ জীবাণুর আর কোন অস্তিত্ব ছিল না।
পক্ষান্তরে, প্রকৃতিগতভাবে পানিতে মওজুদ অন্যান্য মাইক্রোবের গড় হার কূপের প্রধান উৎসের মধ্যে স্থিতিশীল থাকলেও, ছোট উৎসমূহের মধ্যে উক্ত হার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকে। এর দ্বারা নিঃসন্দেহে একথা প্রমাণিত হয় যে, যমযমের মূল উৎসগুলোর পানি রোগ বিস্তারকারী জীবাণু থেকে পুরো মুক্ত। যমযমের পানি রোগ জীবাণুমুক্ত কিনা এ বিষয়ে আরো বেশী সতর্কতামূলক তথ্য লাভের উদ্দেশ্যে মাতাফের নীচের পানি মিশ্রিত মাটির জীবতাত্ত্বিক গবেষণা চালানো হয়। কা'বার পার্শ্বের মাতাফের স্তর পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে খনন কাজ পরিচালনার পর দেখা যায় যে, মাত্র মার্বেল পাথরের নীচের মাটিটুকুও পানি মিশ্রিত এবং ভিজা। কাবার চতুর্দিকে এই একই অবস্থা। তখন হাজারে আসওয়াদের সামনে থেকে কা'বা হতে মাত্র ২ মিটার দূরে এবং ১ মিটার গভীর থেকে একটি নমুনা গ্রহণ করা হয়। আর ২য় নমুনাটি গ্রহণ করা হয় মাকামে ইবরাহীমের ৩ মিটার দূরে মারবেল পাথরের নীচ থেকে। পরীক্ষায় দেখা যায় যে, পানি মিশ্রিত উক্ত কাদামাটি যে কোন রোগ জীবাণু মুক্ত। এমনকি, প্রকৃতিগতভাবে মাটিতে বা ভিজা মাটিতে যে সকল মাইক্রোব থাকে, এতে তাও নেই। অর্থাৎ মাতাফের মার্বেল পাথরের নীচের মাটিতে ক্ষতিকর রোগ জীবাণু যেমন ফেকালিস স্যালামোনেল্যা, সিগেল্যা, ইসেরিচিয়া কোলাই এবং স্ট্রেপ্ট- এগুলোর কোনটাই মওজুদ নেই। ধারণা করা হয় যে, মাতাফের সিক্ত কাদামাটির পানির উৎস হচ্ছে যমযম অর্থাৎ এগুলো যমযমেরই পানি। মাতাফের নীচের মাটিতে পর্যন্ত যখন কোন রোগ জীবাণু নেই তখন যমযমে রোগ জীবাণু কিভাবে থাকতে পারে? আল্লাহ যমযম এবং মাতাফকে রোগমুক্ত করে লক্ষ কোটি মানুষের জন্য তাকে স্বাস্থ্যকর বানিয়েছেন।
যমযমের পানির রাসায়নিক পরীক্ষায় দেখা যায় যে, এতে সর্বোচ্চ পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। এ ছাড়াও এতে এলকালি, বায়োকার্বন এবং হাইড্রোজেনের মওজুদ উত্তম। এতে প্রয়োজনীয় সোডিয়াম, পটাসিয়াম এবং ক্লোরয়েড রয়েছে। এ ছাড়াও এতে সালফার এবং নাইট্রিক এসিডের তৈরি লবণের হার সন্তোষজনক। স্বাস্থ্যকর পানির যে সকল বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার তার সবগুলোই যমযমের পানিতে উত্তম ও সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।
যমযমের পানির পূর্ণাঙ্গ বৈশিষ্ট্যের কারণে তুলনামূলকভাবে অন্যান্য পানির চাইতে তা শ্রেষ্ঠ হওয়ায় এর ওজনও অপেক্ষাকৃত বেশী। সাবেক গবেষণা অনুযায়ী ওজনের ঐানের দৃষ্টিতে কিছু মিল আছে। দাউদিয়া কূপেরও একাধিক উৎস রয়েছে। সম্ভবতঃ কোন কোন সময় যমযম থেকে দাউদিয়া কূপে পানি গিয়ে মিলিত হয়।
দুই কূপের পানির বৈশিষ্ট্য প্রায় কাছাকাছি। যমযমের পানি উত্তোলন করা হলে, দাউদিয়া কূপের পানি কিছুটা কমে আসে। উভয় কূপ যদি পাথরের ছিদ্রের মাধ্যমে একই উৎস থেকে উৎসারিত হত, তাহলে একটির প্রভাব সরাসরি অন্যটিতে গিয়ে পড়ত। কিন্তু, ব্যাপারটি এরকম নয় বলে একটা আরেকটা দ্বারা প্রভাবিত হয় না। এমনকি দাউদিয়া কূপ এবং যমযম কূপের মধ্যে পানি বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ব্যাপক অমিল রয়েছে। তবে উভয়ের পানির মধ্যে কিছু সমান বৈশিষ্ট্য দ্বারা মনে হয় যে, যমযম থেকে ঐ কূপে কিছু পানি গিয়ে মিলিত হয়।
পক্ষান্তরে, বন্যা ও বৃষ্টির পানি যমযমের উপর কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। তবে পাকিস্তানী কনসালটেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়েছে যে, তাদের রেকর্ডকৃত তথ্য অনুযায়ী, তায়েফে বৃষ্টি হলে যমযমের পানির স্তরে হঠাৎ করে বিরাট পরিবর্তন দেখা দেয়।
অপরদিকে, পানি নিষ্কাশন ড্রেন এবং বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ড্রেন থেকে শিলা দ্বারা গঠিত প্রস্তরময় ভূখণ্ডের পাথরের ফাঁক দিয়ে পানি এসে যমযমের পানির উৎসের সাথে মিলিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
১৫০০ খৃষ্টাব্দে, এক পানি বন্টন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নহরে যুবায়দার পানি মক্কায় সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। ঐ নেটওয়ার্কের একটি শাখা সাফা পাহাড়ের রাস্তা বরাবর হয়ে যায়। ঐ নেটওয়ার্ক থেকে কিছু পানি যমযমের কাছে একটি কূপে এসে জমা হয়। নহরে যুবায়দার পানি শুধু পূর্বদিকের পাহাড়ী এলাকায় ব্যবহার করা হয়।
নহরে যুবায়দা থেকে দৈনিক মাত্র ৫ হাজার ঘনমিটার পানি সরবরাহ করা হত। কিন্তু পরবর্তীতে মক্কায় সাধারণ মৌসুমে দৈনিক ৭২ হাজার ঘনমিটার এবং হজ্জের মৌসুমে দৈনিক ১ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার পানি সরবরাহের প্রয়োজন দেখা দেয়। বর্তমানে লোহিত সাগরের শোয়াইবিয়া থেকে মক্কা ও তায়েফে লবণাক্ত পানিকে মিষ্টি পানিতে পরিণত করে মক্কায় দৈনিক ২৫ মিলিয়ন গ্যালন এবং তায়েফে ১৫ মিলিয়ন গ্যালন সরবরাহ করা হচ্ছে। যমযমে যাতে অন্যান্য নেটওয়ার্কের পানি প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য গভীর গর্ত খনন করা জরুরী।
১৪০০ হিজরীতে, মোতাবেক ১৯৮০ খৃঃ মসজিদে হারাম আক্রান্ত হওয়ার পর যমযমের পানি দূষিত হয়ে পড়ায় তা পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেয়া হয়। সে উদ্দেশ্যে দমকল দিয়ে যমযমের পানি সেচ করে বাইরে ফেলে দেয়া হয় এবং কূপের মুখ থেকে নীচের দিকে ১৩-১৭ মিটার দূরে অবস্থিত মূল উৎসমুখসমূহ থেকে এবং ২৬-৩০ মিটার দূরে অবস্থিত কূপের সর্বশেষ তলদেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তখন কূপের দূষিত পানি সেচ করে বের করে দেয়া হয়েছে এবং কূপের মৌলিক ও শাখা উৎসমুখসমূহ সুস্পষ্ট হওয়ার পরই সেখান থেকে পানি নেয়া হয়েছে।
১৩-১৭ মিটার নীচ থেকে গৃহীত পানির নমুনার মধ্যে মাইক্রোব বা রোগ জীবাণুর পরীক্ষায় দেখা যায় যে, এতে স্যালামোনেল্যা, সিগেল্যা এবং ইসেরিচিয়া কোলাই মাইক্রোবের হার অনেক বেশী।
১৪০০ হিজরীর ২০শে মুহররমে গৃহীত নমুনা থেকে দেখা যায় যে, এতে ১০০ ঘন সেন্টিমিটারে ১ লাখ ৮০ হাজার ইসেরিচিয়া কোলাই মওজুদ রয়েছে। এই হার ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে এবং ৪০০ হিজরীর ১২ই সফরের অপর এক পরীক্ষায় দেখা যায় যে, ১০০ ঘন সেন্টিমিটার পানিতে উক্ত মাইক্রোবের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮০০। কিন্তু কূপের তলদেশের পানির গৃহীত নমুনায় এই হার আরো অনেক বেশী। ২৬-৩০ মিটার নীচ থেকে একই তারিখে গৃহীত নমুনা পানিতে দেখা যায় যে, ১০০ ঘন সেন্টিমিটার পানিতে ইসেরিচিয়া কোলাই এর সংখ্যা হচ্ছে ১০ লাখ।
উপরোক্ত পরীক্ষায় রোগ জীবাণুর সংখ্যার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ২০শে মুহররমের নমুনা পানিতে এক ঘন সেন্টিমিটারে ২ লাখ ৯০ হাজার এবং ২৯শে মুহররমের নমুনা পানির পরীক্ষায় তিন ঘন সেন্টিমিটার পানিতে এর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৭ লাখ ৫ হাজারে দাঁড়ায়। সেখানে পানির তাপমাত্রা হচ্ছে ৩২% ভাগ। অথচ অনুরূপ মাইক্রোবের উপযোগী তাপমাত্রা হচ্ছে ৩৭% ভাগ। ফলে সেখানে এই মাইক্রোব বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে। গোটা কূপে পানি সেচের সাথে সাথে ক্লোর ব্যবহার করে কূপের দেয়াল এবং তলদেশ থেকে সকল মাইক্রোব নির্মূল করার চেষ্টা করা হয়। কূপ থেকে পানিসেচ করে বাইরে ফেলে তা পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে কয়েকটি পাম্প মেশিনের সাহায্যে প্রতি মিনিটে ৮ হাজার লিটার পানি তোলা হয় এবং কূপের পানির স্তর নীচে নামার কারণে, এর মূল উৎসমুখ সমূহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে উপরোক্ত পরীক্ষা চালানো হয়।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ১৪০০ হিজরীর মসজিদে হারামে দুঃখজনক আক্রমণের ৬ মাস পূর্বে মাত্র, সৌদী সরকারের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের পানি ও সুয়েরেজ কল্যাণ বিভাগের উদ্যোগে যমযম কূপ পরিষ্কার করা হয়। পাম্প মেশিনের সাহায্যে পানি সেচ করে কূপ থেকে অনেক বালু ও আবর্জনা পরিষ্কার করার পর সকল রোগ-জীবাণুমুক্ত করা হয়। তখন সেখানে স্যালামোনেল্যা, সিগেল্যা এবং ইসেরিচিয়া মাইক্রোবসহ অন্য রোগ জীবাণুর আর কোন অস্তিত্ব ছিল না।
পক্ষান্তরে, প্রকৃতিগতভাবে পানিতে মওজুদ অন্যান্য মাইক্রোবের গড় হার কূপের প্রধান উৎসের মধ্যে স্থিতিশীল থাকলেও, ছোট উৎসমূহের মধ্যে উক্ত হার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকে। এর দ্বারা নিঃসন্দেহে একথা প্রমাণিত হয় যে, যমযমের মূল উৎসগুলোর পানি রোগ বিস্তারকারী জীবাণু থেকে পুরো মুক্ত। যমযমের পানি রোগ জীবাণুমুক্ত কিনা এ বিষয়ে আরো বেশী সতর্কতামূলক তথ্য লাভের উদ্দেশ্যে মাতাফের নীচের পানি মিশ্রিত মাটির জীবতাত্ত্বিক গবেষণা চালানো হয়। কা'বার পার্শ্বের মাতাফের স্তর পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে খনন কাজ পরিচালনার পর দেখা যায় যে, মাত্র মার্বেল পাথরের নীচের মাটিটুকুও পানি মিশ্রিত এবং ভিজা। কাবার চতুর্দিকে এই একই অবস্থা। তখন হাজারে আসওয়াদের সামনে থেকে কা'বা হতে মাত্র ২ মিটার দূরে এবং ১ মিটার গভীর থেকে একটি নমুনা গ্রহণ করা হয়। আর ২য় নমুনাটি গ্রহণ করা হয় মাকামে ইবরাহীমের ৩ মিটার দূরে মারবেল পাথরের নীচ থেকে। পরীক্ষায় দেখা যায় যে, পানি মিশ্রিত উক্ত কাদামাটি যে কোন রোগ জীবাণু মুক্ত। এমনকি, প্রকৃতিগতভাবে মাটিতে বা ভিজা মাটিতে যে সকল মাইক্রোব থাকে, এতে তাও নেই। অর্থাৎ মাতাফের মার্বেল পাথরের নীচের মাটিতে ক্ষতিকর রোগ জীবাণু যেমন ফেকালিস স্যালামোনেল্যা, সিগেল্যা, ইসেরিচিয়া কোলাই এবং স্ট্রেপ্ট- এগুলোর কোনটাই মওজুদ নেই। ধারণা করা হয় যে, মাতাফের সিক্ত কাদামাটির পানির উৎস হচ্ছে যমযম অর্থাৎ এগুলো যমযমেরই পানি। মাতাফের নীচের মাটিতে পর্যন্ত যখন কোন রোগ জীবাণু নেই তখন যমযমে রোগ জীবাণু কিভাবে থাকতে পারে? আল্লাহ যমযম এবং মাতাফকে রোগমুক্ত করে লক্ষ কোটি মানুষের জন্য তাকে স্বাস্থ্যকর বানিয়েছেন।
যমযমের পানির রাসায়নিক পরীক্ষায় দেখা যায় যে, এতে সর্বোচ্চ পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। এ ছাড়াও এতে এলকালি, বায়োকার্বন এবং হাইড্রোজেনের মওজুদ উত্তম। এতে প্রয়োজনীয় সোডিয়াম, পটাসিয়াম এবং ক্লোরয়েড রয়েছে। এ ছাড়াও এতে সালফার এবং নাইট্রিক এসিডের তৈরি লবণের হার সন্তোষজনক। স্বাস্থ্যকর পানির যে সকল বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার তার সবগুলোই যমযমের পানিতে উত্তম ও সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।
যমযমের পানির পূর্ণাঙ্গ বৈশিষ্ট্যের কারণে তুলনামূলকভাবে অন্যান্য পানির চাইতে তা শ্রেষ্ঠ হওয়ায় এর ওজনও অপেক্ষাকৃত বেশী। সাবেক গবেষণা অনুযায়ী ওজনের ঐ পার্থক্য ১০% ভাগ পর্যন্ত সম্প্রসারিত।
যমযম পৃথিবীর সেরা ও শ্রেষ্ঠ পানি। এটা শুধু পানি নয় বরং তা একাধারে পানীয় খাদ্য ও ওষুধ হিসেবে কাজ করে বলে তা পৃথিবীর অন্য যে কোন পানির চাইতে সার্বিক দিক থেকে অতুলনীয়।
যমযমের পানির আরো ব্যাপক গবেষণা দরকার তাতে করে হাদীসে বর্ণিত এর অন্যান্য উপকারিতাগুলো সম্পর্কেও আরো বিস্তারিত জানা যাবে।
📄 অতিবেগুনী আলো দ্বারা যমযমের পানি জীবাণু-মুক্তকরণ
যমযমের পানি জীবাণুমুক্ত বলে ইতিপূর্বে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু বাইরের দূষিত পদার্থ দ্বারা তা প্রভাবিত হয়। যেমন বালতি দ্বারা পানি তোলা, কূপের পার্শ্বে হাজীদের অজু-গোসল এবং ভূগর্ভস্থ পানি প্রবেশ ইত্যাদি বহিরাগত উপাদানের কারণে যমযমের পানি দূষিত হয়ে পড়ে। অবশ্য এ অবস্থা পূর্বে বিদ্যমান ছিল। বর্তমানে বালতি দিয়ে পানি তোলা হয় না, কূপের পার্শ্বে হাজীদের অজু-গোসল নেই এবং কূপের পার্শ্বের গর্ত থেকে ভূগর্ভস্থ পানি বাইরে নিক্ষেপের কারণে তা যমযমে প্রবেশের কোন সমস্যা নেই। তারপরও বহিরাগত কোন কারণে যদি যমযমে রোগ জীবাণু প্রবেশ করে তাকে ধ্বংস করার জন্য ULTRA VIOLET RAY ব্যবহার করে পানিকে Sterialised বা জীবাণুমুক্ত করা হয়।
পানিকে জীবাণুমুক্ত করার জন্য অনেক পদ্ধতি আছে। তারমধ্যে তাপ ব্যবহার করে পানিকে সিদ্ধ করা, অতিবেগুনী আলো দ্বারা জীবাণু মারা, রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা কিংবা রাসায়নিক এসিড দ্বারা পানিকে রোগজীবাণু মুক্ত করা হয়।
অতিবেগুনী আলো দ্বারা রোগ জীবাণু ধ্বংস করার পদ্ধতি হচ্ছে, এতে A-২৫৩৭ এঙ্গোস্ট্রোম ইউনিট ব্যবহার করা হয় এবং সে জন্য গ্লাসের তৈরি বিশেষ বাল্ব প্রয়োজন। সম্প্রতি এই পদ্ধতির ব্যাপক প্রচলন হয়েছে এবং এর মাধ্যমে পানিকে রোগ জীবাণুমুক্ত করার জন্য সেকেণ্ডে ১৬ হাজার মাইক্রোওয়াট আল্ট্রাডস ২ সেন্টি মিটারে A-২৫৩৭ অতিবেগুনী আলো ব্যবহার নির্ধারণ করেছে এবং এ জন্য ৩০ হাজার আল্ট্রাডস সংগ্রহের জন্য আল্ট্রা ডিনামিক তৈরি করেছে।
অতিবেগুনী আলো দ্বারা রোগ জীবাণু ধ্বংস হচ্ছে কিনা তা বুঝার জন্য স্বংয়ক্রিয় ও সংবেদনশীল যন্ত্র আবিষ্কার হয়েছে। এটা অতিবেগুনী আলোর কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য ঠিক মত আদায় হচ্ছে কিনা তা বলে দেয়। ২৫৩৭ তাপ নিয়ন্ত্রণকারী উক্ত মেশিনের নাম হচ্ছে, জি এল-৫০ আলট্রা ভায়লেট। আবার এই মেশিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য রয়েছে ইউ ডি সি-৫০ মালটি সেন্সর।
অতিবেগুনী আলো দ্বারা রোগজীবাণু মুক্ত করার পদ্ধতিটি কয়েকটি কারণে অগ্রাধিকার যোগ্য। সে কারণগুলো হচ্ছে : ১. এতে কোন রাসায়নিক পদার্থ মিশানোর ঝামেলা থাকে না। ২. পানি গরম ও ঠান্ডা করার প্রয়োজন হয় না। ৩. এর মাধ্যমে ৯৯.৯৭% ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাস মারা যায়। ৪. এতে খরচ কম। এক কিলোওয়াট বিদ্যুৎ দ্বারা ১২ হাজার গ্যালন পানি জীবাণুমুক্ত করা যায়। ৫. স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে বিদ্যুত সংযোগ দেয়া যায় এবং ৬. এতে স্বয়ংক্রিয় মেশিন ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়াও তার মাধ্যমে পানির স্বাদের মধ্যে কোন বিকৃতি ঘটে না।
ক্লোরামিন নামক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করলে স্বাদের মধ্যে বিকৃতি আসতে পারে।
অতিবেগুনী আলো ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাসের গায়ে লাগা মাত্র এর বাইরের আবরণ জ্বলে যায় এবং মাইক্রোবের অন্তর বা ডিএনএকে ধ্বংস করে দেয়।
অতিবেগুনী আলোর পদ্ধতিটি হচ্ছে, একটি সিলিন্ডারের ভেতর পানি ঢুকানো হয়। এর ভেতর অতিবেগুনী আলোর বাল্ব থাকে। বাল্ব ক্রিস্টাল গ্লাসের ভেতর থাকায় তা পানিকে স্পর্শ করতে পারে না। পানির পরিমাণের উপর নির্ভর করে সিলিন্ডারের ভেতর কি পরিমাণ বাল্ব থাকবে। সিলিন্ডারের নীচ দিয়ে পানি ঢুকে এবং উপর দিয়ে জীবাণুমুক্ত হয়ে বের হয়। ফলে সকল পানি এ পথ দিয়ে জীবাণুমুক্ত হতে বাধ্য।
আলোর বাল্ব যদি ৩০ হাজার ইউনিটের কম শক্তি সম্পন্ন না হয় তাহলে, ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের জন্য তাতে কমপক্ষে ৬ হাজার থেকে ১৩ হাজার অতিবেগুনী আলোর ইউনিট প্রয়োজন হয়।
১৯৭৫ খৃস্টাব্দে যমযমে অতিবেগুনী আলো দ্বারা রোগজীবাণুমুক্ত করার কর্মসূচী গৃহীত হয় এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে দু'জন প্রতিনিধি যায়। তারপর মেশিন বসানো হয়, পরে রোগ জীবাণুমুক্ত পানি একাধিকবার পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, তা পুরো জীবাণুমুক্ত। ১৪০২ হিজরীর পর যমযমের সকল পানি অতিবেগুনী আলো দ্বারা জীবাণুমুক্ত করার কাজ শেষ হয় এবং বিন লাদিন কোম্পানী তা আঞ্জাম দেয়।
📄 যমযম পরিষ্কার অভিযান
কুর্দী বলেন, যমযমের তলদেশ মাঝে মাঝে পরিষ্কার করা উত্তম। কেননা এতে বালু জমে। কূপ পরিষ্কার করার দু'টো ফায়দা আছে। একটি হল এতে কূপ পরিষ্কার হবে আর অন্যটি হচ্ছে পানির পরিচ্ছন্নতা বাড়বে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
আযরাকী বলেন, হিজরী ২২৩ ও ২২৪ সালে যমযম পরিষ্কার করা হয়। পানি খুব কমে গিয়ে এক পর্যায়ে তা শুকিয়ে যায়। তারপর নীচে ৯ হাত গভীর করা হয় এবং পরের বছর বৃষ্টি হওয়াতে এর পানি বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও খলীফা হারুনুর রশীদ এবং খলীফা মাহদীর আমলে দু'বার কূপ খনন করা হয় এবং তা পরিষ্কার করা হয়।
কুর্দী আরো উল্লেখ করেন যে, ১০২৮ হিজরীর রমযান মাসে, যমযমের পশ্চিম দিক এবং শামীয়ার দিক থেকে কূপে কিছু পাথর ধসে পড়ে। এর ফলে পানির স্বাদ পুরো পাল্টে যায় এবং এতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়। এমনকি পানির ওজন অপেক্ষাকৃত ভারী হয়ে যায়। তারপর তা শরীফ ইদরিস বিন হাসানের আমলে পরিষ্কার করা হয়। ১০৬৮ হিজরীর জিলকদ ও জিলহজ্জ মাসে যমযমের পানি অনেক কমে যায়। বালতিতে বালু ছাড়া তখন অন্য কিছু উঠত না। তারপর কূপ খনন করা হয় এবং তা পরিষ্কার করা হয় এবং অবস্থা এমন পর্যায়ে দাঁড়ায় যে, রাত্রে কূপ বন্ধ রাখতে হয় এবং দিনে তা হাজীদের জন্য খোলা রাখতে হয়।
ঐতিহাসিক তথ্য দ্বারা প্রমাণ পাওয়া যায় যে, অতীতে খুব অল্পই যমযম কূপ পরিষ্কার করা হয়েছে। কেননা, এটি অন্য কূপের মত নয়। হাজী ও উমরাহ আদায়কারীদের কারণে তা বেশী সময় ধরে বন্ধ রাখা সম্ভব নয়।
বর্তমান যুগে দু'বার যমযম কূপ পরিষ্কার করা হয়। একবার ১৩৯৯ হিজরীতে বিন লাদিন কোম্পানী কর্তৃক মাতাফ সম্প্রসারণ করার সময়। মাতাফ বাড়ানোর জন্য যমযমের প্রবেশ পথ ও পানকেন্দ্রকে যখন কূপ থেকে সরিয়ে কিছু দূরে মাটির নীচে তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয় তখন, খননকাজ পরিচালনার সময় যমযমের কাছে এবং নতুন কক্ষ তৈরির ভিত্তি স্থানের কয়েক জায়গা থেকে হঠাৎ করে ভূগর্ভস্থ পানি বেরিয়ে আসে। তখন যমযম কূপকে ভূগর্ভস্থ পানি থেকে রক্ষার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই উদ্দেশ্যে পৌঁছার লক্ষ্যে যমযমের পানির উৎসমুখ সম্পর্কে জানা এবং ভূগর্ভস্থ কোন পানি তাতে প্রবেশ করছে কিনা তা দেখার নির্দেশ দেয়া হয়।
এই কাজের জন্য ডুবুরীর প্রয়োজন। তাই জেদ্দা সামুদ্রিক বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দু'জন ডুবুরী ধার নেয়া হয় এবং সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে তাদেরকে যমযমে নামানো হয়। এই দু'জন ডুবুরীর একজন হচ্ছে পাকিস্তানী এবং অন্যজন হচ্ছে মিসরীয়। ডুবুরীরা তাদের পেশাদার পোশাক পরে কূপে নামেন এবং সাথে টর্চ লাইট নেন যাতে করে যমযমের ভেতরের দেয়াল, উৎস ও অন্যান্য জিনিসগুলো ঠিকমত দেখতে পান। তারা ১৭/৫/১৩৯৯ হিজরীর শনিবার রাত ৯ টায় কূপে নামেন, আধ ঘন্টা কূপের ভেতর অবস্থান করে উপরে উঠে আসেন এবং প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করেন। তারা বলেন, উপর থেকে ৯ মিটার নীচ পর্যন্ত কূপের দেয়াল প্লাস্টার করা এবং প্লাস্টারের নীচে পানির দুটো উৎসমুখ আছে। তবে তারা এগুলো কোন দিক থেকে এসেছে তা ঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারেননি। কেননা তাদের সাথের কম্পাসটি কাজ না করায় তারা দিক নির্ণয় করতে ব্যর্থ হন। কম্পাস পুরো ভাল। তারপরও কূপের ভেতর কেন কাজ করছে না তা একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার। তারপর তারা দ্বিতীয়বার আরেকটি ভাল কম্পাস নিয়ে নীচে নামেন। এবারও কম্পাস কাজ করেনা। তারপর তাদেরকে কূপের গভীর তলদেশে পৌছে সে সম্পর্কে তথ্য দান করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। তারা তলদেশ সম্পর্কে প্রদত্ত রিপোর্টে বলেন, নীচে লোহার কিছু পাইপ, বিভিন্ন ঘটি-বাটি ও পানপাত্র রয়েছে। কম্পাসের কাজ না করার পেছনে লোহার প্রভাবই এর উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। ফ্লাশ ক্যামেরা দিয়ে ফটো তোলার সময় ফ্লাশের সংযোগ তারটি কূপে পড়ে যায়। অনেক তালাশ করেও ডুবুরীরা তা আর উদ্ধার করতে পারেননি। ফলে, যমযমের পানির উৎস সম্পর্কে জানার আর কোন পথই অবশিষ্ট থাকল না। জেদ্দা শহরের সকল ক্যামেরা আমদানিকারীদের সাথে যোগাযোগ করেও আর ঐ বিশেষ ফ্লাশ সংযোগটি সংগ্রহ করা সম্ভব হল না। একেবারে হারিয়েই গেল এটি।
তারপর বিশেষ টেলিভিশন ক্যামেরার সাহায্য নেয়া হয়। ঐ ক্যামেরার মাধ্যমে পানির পাইপ ও ড্রেনের ভেতর থেকে ছবি তোলা যায়। এই ক্যামেরাটির অর্থ হচ্ছে, এটি রেকর্ডিং যন্ত্রপাতি দ্বারা সজ্জিত একটি গাড়ী। এর তার ৫০ মিটার লম্বা। পেছনে হচ্ছে ক্যামেরা। এর মাধ্যমে পানির ভেতরের ছবি নেয়া হয়। এই ক্যামেরা ব্যবহার করে পানির সকল উৎস ও ছিদ্রগুলো দেখা সম্ভব হয়। তবে এর মাধ্যমে বেগে নির্গত পানির পরিমাণ জানা সম্ভব হয়নি। কেননা, ক্যামেরাটি তখন পানিতে ছিল এবং এর ভেতর পানি ঢুকে পড়ে। আরেকটি ক্যামেরা আনার পর সেটিতেও পানি ঢুকায় তা জানা আর সম্ভব হয়নি। তারপর ক্যামেরাটি লণ্ডনে পাঠিয়ে পরিষ্কার করা হয় এবং এর ভেতর যাতে পুনরায় পানি না ঢুকতে পারে সে রকম কভার লাগানো হয়।
দু'জন ডুবুরী কূপের ভেতর মওজুদ বিভিন্ন ঘটি-বাটি, পানপাত্র, লোহা, বালতি ও অন্যান্য জিনিস উঠানো শুরু করেন। অর্ধ রাত্রি পর্যন্ত ডুবুরীরা কাজ করেন এবং পরে কাজ বন্ধ করে দেন।
পরের দিন ১৮।৫। ১৩৯৯ হিজরী রোববার কূপ পরিষ্কার করার কাজ পুনরায় শুরু হয়। তারা আরো কিছু বালতি, মগ, বাটি, মুদ্রা ও অন্যান্য জিনিস উত্তোলন করেন। তারা কূপ সম্পর্কে আরো পরিষ্কার ধারণা লাভ করেন। তারা বলেন, কূপ ৯ মিটার পর্যন্ত নীচের দিকে সোজাভাবে খাড়া। তারপর তা কাবার দিকে বেঁকে গেছে। কাবার দিকের উৎসমুখটি ৩০.৫০ সেন্টিমিটার এবং ২য়টি আজানখানার দিকে এবং সেটি অপেক্ষাকৃত ছোট। তারা আরো বলেন, কূপের প্লাস্টারকৃত অংশের মধ্যে কোন ফাটল বা ছিদ্র নেই। প্লাস্টারের নীচে রয়েছে কাহুত পাথরের দেয়াল এবং তাতে রয়েছে বিভিন্ন ছিদ্র।
এই সকল তথ্যের পর মসজিদে হারামের ভূগর্ভস্থ পানি মসজিদের বাইরে অবস্থিত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ড্রেনে ফেলার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ডুবুরীরা রিপোর্ট দেয় যে, উপর থেকে কূপের ১৪.৮০ মিটার নীচ পর্যন্ত মজবুত প্লাস্টার করা এবং এর নীচে পানির দুটো উৎস আছে। তাই কূপের ৪ দিকে প্রস্তাবিত ৫ মিটার গভীর দেয়াল নির্মাণ করে ভূগর্ভস্থ পানি প্রবেশ বন্ধ করার পরিকল্পনা বাদ দেয়া হয়। কেননা, উক্ত প্লাস্টারের ফলে কূপে ভূগর্ভস্থ পানি ঢুকতে পারে না।
কূপ পরিষ্কার করার সময় পাকিস্তানী ডুবুরী মুহাম্মদ ইউনুস এবং মিসরীয় ডুবুরী সহ দু'জনেই বাতাস ভর্তি সিলিন্ডার নিয়ে কূপের ভেতর নামেন যাতে করে পানির নীচে শ্বাস-প্রশ্বাসে কোন অসুবিধা না হয়। ছোট সিলিন্ডারটি ঘন্টা এবং বড় সিলিন্ডারটি আধা ঘন্টা পর্যন্ত ব্যবহার উপযোগী। এরপর বাতাস শেষ হয়ে যায়। ডুবুরীরা আস্তে উঠানামা করেন যাতে করে রক্তে এর কোন প্রভাব না পড়ে। ফলে নামতে ৫/৭ মিনিট সময় লাগে আবার উঠতেও ঐ পরিমাণ সময় লাগায় ডুবুরীরা কূপের ভেতর বেশীক্ষণ থাকতে পারেন না। বড় জোর দশ মিনিট থাকতে পারেন। কিন্তু ডুবুরীদের দীর্ঘ সময় ধরে কূপের ভেতর কাজ করা প্রয়োজন এবং সেজন্য দীর্ঘস্থায়ী বাতাস সরবরাহকারী ব্যবস্থা দরকার। এজন্য কম্প্রেসার আনা হয় যাতে করে ডুবুরীদেরকে কূপের ভেতরে কাজ করার সময় পাম্প করে বাতাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়। বাজারে বহু তালাশ করার পর ডুবুরীদের বাতাস পাম্প করার উপযোগী দুটো কম্প্রেসার সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। কিন্তু পাম্পের বাতাস বিশুদ্ধকরণের জন্য এক ধরনের ফিলটার এবং পাম্পে ব্যবহারের জন্য এক ধরনের বিশেষ তেল দরকার। যাতে করে ডুবুরীদের গলায় কোন জ্বালা সৃষ্টি না হয়। কেননা, ডুবুরীরা পানির নীচে মুখ দিয়ে বাতাস গ্রহণ করে, নাক দিয়ে নয়। পাম্পে সাধারণ তেল ব্যবহার করলে তার বাষ্প গলার জন্য ক্ষতিকর।
বহু চেষ্টার পর বাজারে বাতাস বিশুদ্ধকারী দু'টো ফিলটার পাওয়া গেলেও ঐ বিশেষ তেল কিন্তু পাওয়া যায়নি। তবুও ডুবুরীদ্বয় কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ২২০ ভল্ট বিদ্যুতের মাধ্যমে কূপের ভেতর আলো দান করার ব্যবস্থা করা আরেক সমস্যা। কেননা, তা পানির সাথে লেগে বিদ্যুত বিভ্রাট সৃষ্টি হলে, ডুবুরীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তারপর জেদ্দার সামুদ্রিক ওয়ার্কশপসহ অন্যান্য ওয়ার্কশপে তালাশ করার পর বিশেষ ধরনের টর্চ পাওয়া যায় যা কম্প্রেসারের ভেতর থেকে উর্ধগামী বাতাসের সাহায্যে জ্বালানো যায়। এর ভেতর দিনমু নামক একটি যন্ত্র আছে, তাতে কম্প্রেসারের বাতাস লাগলে বিদ্যুত তৈরি হয় এবং এর ফলে টর্চ জ্বলে ও আলো পাওয়া যায়। কিন্তু এর ফলে কূপের ভেতরের বালু নড়াচড়া শুরু করায় ডুবুরীরা ভেতরে কিছু দেখতে পায় না। পরে এই সমস্যার সমাধান করা হয় এবং ২২০ ভল্টকে ১২ ভল্টে রূপান্তরিত করে কূপে আলো দান করা হয়। পানির সাথে ১২ ভোল্ট লাগলেও তাতে ডুবুরীদের কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
কূপের ব্যাস সংকীর্ণ হওয়ায় ভেতরের আবর্জনা ও বিভিন্ন পাত্র তুলতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। একজন করে ডুবুরী কাজ করে এবং উপর থেকে বিদ্যুতের তার বাতাসের পাইপ এবং যোগাযোগের তার নীচ পর্যন্ত ঝুলানোর কারণে এই সংকীর্ণতা আরো প্রকট হয়।
ময়লা আবর্জনা তোলার জন্য প্লাস্টিকের ড্রামে রশি বেঁধে কপিকলে তা জুড়ে দেয়া হয় এবং উপর থেকে টেনে ময়লা আবর্জনাগুলো বাইরে নিয়ে আসা হয়। ভেতর থেকে ড্রাম ভর্তি হলে ডুবুরী মেশিনের মাধ্যমে তা বলে দিত এবং সে অনুযায়ী ড্রাম টেনে তোলা হত।
কিন্তু একবার ড্রামের সাথে বাতাস সরবরাহকারী পাইপ আটকে গিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করে। ড্রাম টেনে তোলার সময় ঐ সংকট দেখা দেয়। ভেতরে কোন বাতাস ভর্তি সিলিন্ডার না থাকায় শ্বাস-প্রশ্বাসের বিকল্প ব্যবস্থার অস্তিত্ব অনুপস্থিত। তাই ডুবুরীরা বিরাট সংকটের মধ্যে পড়ে। তারপর কোন প্রকারে ডুবুরী কূপ থেকে উঠে আসতে সক্ষম হয়। ডুবুরী উঠার আগে ড্রাম তোলা হয় এবং ড্রামের সাথে ডুবুরীর মুখোশও চলে আসে। এর তিন মিনিট পর ডুবুরী উঠে আসে। আল্লাহর মেহেরে বিনা দুর্যোগেই আল্লাহ তাকে উদ্ধার করেন।
কম্প্রেসারের উপযোগী বিশেষ তেলের অভাবে ডুবুরীর গলা জ্বালা শুরু হয়। কিন্তু পরে অভিজ্ঞতায় জানা যায় যে, কূপে উঠানামার আগে-পরে দুধ কিংবা দই পান করলে গলায় জ্বালা সৃষ্টি হয় না। রাত্রেই পরিষ্কার করার কাজ অব্যাহত রাখা হয়। ডুবুরীরা দৈনিক ২ থেকে ৩ ঘন্টা কাজ করেন।
কূপ থেকে শক্ত জিনিসপত্র যেমন মগ, বালতি, লোহার পাইপ ইত্যাদি পরিষ্কার করার পর দেখা যায় যে, কূপে আরো কিছু কাদা-বালু রয়েছে। তারপর ৪ ইঞ্চি কিংবা ৬ ইঞ্চি মোটা পাইপ কূপের তলদেশে লাগিয়ে এর ভেতর চিকন আরেকটি পাইপ ঢুকিয়ে তাতে কম্প্রেসারের মাধ্যমে বাতাস প্রবেশ করিয়ে চাপ দিলে কাদাগুলো সব উপরে উঠে আসে। প্রায় আধা ঘন্টা যাবত এভাবে কাজ করায় ছোট পাইপের মাধ্যমে বড় পাইপে এসে কাদা জমা হয় এবং তা পরে উপরে উঠে আসে। কিন্তু হঠাৎ করে দেখা যায় যে, পাইপে মগের মত শক্ত জিনিস ঢুকে তাকে বন্ধ করে দিয়েছে। পাইপ পরিষ্কার করে কয়েকবার ঐ রকম করায় কয়েকবারই তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুনরায় প্লাস্টিকের ড্রাম ব্যবহার করা হয় এবং কাদা উপরে তোলা হয়। কাদা তোলা বড়ই কষ্টকর। কেননা, তখন পানি ঘোলা হয়ে যায় এবং আলো থাকা সত্বেও ডুবুরী কিছুই দেখতে পায় না।
১২ সদস্যবিশিষ্ট একটি টীম নীচ থেকে উপরে তোলা যমযমের জিনিসপত্রগুলো পরীক্ষা করে দেখে। তারা শক্ত জিনিসগুলোকে কাঠের বাক্সে, মুদ্রাগুলোকে প্যাকেটে এবং বালুকে প্লাস্টিকের বড় ব্যাগে ভর্তি করে হারামের যাদুঘরে রেখে দিয়েছে।
কূপের তলদেশ পরীক্ষা করার পর এর দেয়াল পরীক্ষা করা হয়। তারের তৈরি এক প্রকার জিনিস দিয়ে তা পরিষ্কার করা হয়। এই পরিষ্কার অভিযানে রঙিন ছবি তোলা সম্ভব হয়নি এবং উৎসমুখগুলো থেকে বেগে পানি বের হওয়ার পরিমাণ সম্পর্কেও বিশেষ কিছু জানা যায়নি। কেননা, নীচে পানি ঘোলা ছিল বলে তা বুঝা যায়নি।
এই অভিযান ২৮।৫।১৩৯৯ হিজরী, মোতাবেক ১৫।৪।১৯৭৯ তারিখে শুরু হয় এবং ২৫।৭।১৩৯৯ হিজরী মোতাবেক ২০। ৬। ১৯৭৯ তারিখে দীর্ঘ প্রায় দুই মাস পর শেষ হয়।
২য় পর্যায়ের পরিষ্কার অভিযান শুরু হয় ১৪০০ হিজরীর মুহররম মাসে। মসজিদে হারামে আক্রমণকারী জোহায়মান বেগ ও তার দলবল যখন মসজিদে হারামকে দখল করে নেয় তখন মসজিদে হারামের চারদিকের ভূগর্ভস্থ পানি সরানোর কাজে নিয়োজিত বিন লাদিন কোম্পানীর পাম্প মেশিনগুলো বিদ্যুত সংযোগের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়ে পাম্প মেশিনগুলো পর্যন্ত উপরে উঠে। ফলে, গোটা হারাম ঐ পানিতে ভরে যায় এবং যমযম কূপেও তা ঢুকে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ তাদের ডিজেল চালিত পাম্প মেশিন দিয়ে উক্ত পানি সরানোর কাজ শুরু করে। কিন্তু পানির আধিক্যের কারণে তাদের পক্ষে তা সম্ভব হয়ে উঠেনি। তখনও বিদ্রোহীরা মসজিদের মাটির নীচতলায় অবস্থান করছে। সেই সময়েই হারাম কর্তৃপক্ষ মসজিদে হারাম এবং যমযমের চারপাশ থেকে উক্ত পানি সরানোর নির্দেশ দেয় এবং বিদ্রোহীদের দমন শেষে যমযমের অবস্থা বিশ্লেষণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তখন যমযমের চারপার্শ্বে প্রায় দেড় মিটার উঁচু পানি বিরাজ করছে। পরে যমযমের পার্শ্বে তিনটি পাম্প মেশিন বসানো হয়। বাইরে থেকে যমযম পর্যন্ত বিদ্যুত সংযোগ দিয়ে উক্ত মেশিনগুলো চালু করা হয় এবং সেই পানি বাবুস সাফার নিকট অবস্থিত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ড্রেনের মুখে নিক্ষেপ করা হয়। যমযমের চারপার্শ্বে রাখা যন্ত্রপাতি এবং কূপ থেকে তোলা বিভিন্ন জিনিসপত্র কূপের চারপার্শ্বে এলোমেলো পড়ে থাকে। ঐ সময় কূপের পার্শ্বে কয়েকটি বোমা পাওয়া যায় যা বিস্ফোরিত হয়নি। পানি নিষ্কাশনের সময় তখনও গুলী এবং হাত বোমার আওয়ায মাটির নীচতলা থেকে শোনা যাচ্ছিল। তা সত্বেও পরিষ্কার অভিযান অব্যাহত ছিল।
বিদ্রোহীদের বিদ্রোহ দমনের পর যমযমের ভেতর পরিষ্কার করার জন্য (মক্কার) হজ্জ গবেষণা কেন্দ্র এবং জেদ্দার সামুদ্রিক বন্দরের দু'জন ডুবুরীর সাহায্য নেয়া হয়। এবারকার ডুবুরীদ্বয় হচ্ছেন, পাকিস্তানের মুহাম্মদ লতীফ এবং মিসরের শওকী আবদুল হামীদ। তারপর ডুবুরীদের সাহায্যে কূপের ১ মিটার এবং ৩ মিটার নীচের পানির নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করা হয়।
উক্ত জীবতাত্বিক পরীক্ষায় এর মধ্যে বহু রোগ জীবাণু এবং ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পাওয়া যায়। এতে দেখা যায় যে- ১ মিটার নীচের পানিতে স্যালামোনেল্যা এবং সিগিল্যা মাইক্রোব হচ্ছে, ১ সেন্টিমিটারে ২ লাখ ৮৬ হাজার। ৩ মিটার নীচের ১ সেন্টিমিটার পানিতে ১ লাখ ২৩ হাজার। ৩ মিটার নীচের ১ সেন্টিমিটার পানিতে ৩৭ ডিগ্রী তাপমাত্রায় রোগ বিস্তারকারী জীবাণুর সংখ্যা হচ্ছে ৬ কোটি ২০ লাখ। তবে রোগ বিস্তারকারী নয় এমন ব্যাকটেরিয়া ২০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় অবস্থানকারী ১ মিটার নীচের পানিতে ১ সেন্টিমিটারে হচ্ছে ১৫ লাখ ৩০ হাজার এবং ৫ মিটার নীচের ১ সেন্টিমিটার পানিতে এর সংখ্যা হচ্ছে ৬৩ লাখ।
এই পরীক্ষার ফলাফলের কারণে এটা সুনিশ্চিতভাবে জানা গেল যে, বাইরের পানিতে যমযমের পানি পুরো দূষিত হয়ে গিয়েছিল। তাই হাজী এবং জিয়ারতকারীদের সহ সবাইকে এই পানি পান করতে নিষেধ করা হল। এদিকে যমযমের ভেতরের সকল পানি তুলে বাইরে ফেলে দেয়া, এর দেয়াল পরিষ্কার করা এবং পুরো কূপের পরিচ্ছন্নতা জরুরী। দূষিত পানি থেকে হজ্জ গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সামী আনকাওয়ী এবং অন্য কর্মকর্তা ডঃ আবদুল হাফেজ সালামাহ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগেই পান করা সত্বেও তাদের কোন ক্ষতি হয়নি। এমনকি, তাদের সাথে আরো কিছু লোকও তা পান করে, তাদেরও কোন ক্ষতি না হওয়ায় সবাই আশ্চর্য হয়ে যায়। ইতিমধ্যে বাইরে থেকে বিদ্যুত সংযোগ দিয়ে কূপের ভেতরের পানি বের করার জন্য একটি পাম্প মেশিন লাগানো হয়। এর ফলে, পানি মাত্র ৫ মিটার নীচে নামে। ফলে এজন্য আরো বেশী পাম্প মেশিন ব্যবহার জরুরী। অপরদিকে কূপের ব্যাস সংকীর্ণ হওয়ায় এবং ডুবুরীদের নীচে অবতরণ, সংযোগ, ক্যামেরা, বিদ্যুত, কম্প্রেসারের পাইপসহ সকল প্রকার যন্ত্রপাতি ঢুকানো সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এজন্য এগুলোর সুষ্ঠু সমন্বয় না হলে যে কোন সময় তা বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাসত্বেও পরে আরো তিনটি পাম্প মেশিন বসিয়ে পানি তোলা শুরু হয়। ৪টি পাম্প মেশিন মিনিটে গড়ে ৮ হাজার লিটার পানি সেচ শুরু করে। তখন কূপের পানি কমে আসে এবং প্রধান উৎসগুলো দেখা যায়। পানি এতো জোরে কূপে এসে পড়া শুরু করে যে, সবাই আওয়াজ শুনে আশ্চর্য হয়ে যায়। আযানের শব্দের মতো মনে হতে থাকে। তখন পাম্প মেশিন বন্ধ করা হয়।
এবং এই দুর্লভ দৃশ্যের ছবি তোলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয়, ভেতরের উর্ধমুখী জলীয় বাষ্পের কারণে ক্যামেরার ফ্লাশ জ্বলে যায়। পরে পাখা সমন্বিত ফ্লাশ ক্রয় করা হয় যেন ফ্লাসের বাল্বে জমা জলীয় বাষ্পকে বাতাস করে সরিয়ে দেয়া যায়। তার ২/৩ দিন পর আবার পাম্প মেশিন ব্যবহার করে পানি কমানো হয় এবং পানির উৎসমুখের ছবি তোলা হয়। ইতিমধ্যে পানিতে বিদ্যুতের তার লাগায় যারা ১৩ মিটার নীচে নেমে ছবি তুলছিলেন তাদের সমস্যা দেখা দেয়। সাথে সাথে তারা উপরে চলে আসেন এবং ইতিমধ্যে সকল প্রকার ছবি তোলা শেষ হয়।
কা'বার দিক থেকে আগত উৎসের পানির মধ্যে কোন রোগ জীবাণু পরীক্ষায় ধরা পড়েনি। তারপর যমযমের পানির উৎসের গৃহীত ছবির রঙ্গীন সিনেমা ফিল্ম এবং এর উপর ভিডিও ক্যাসেট তৈরি করা হয়।
তারপর আবার কূপের সকল পানি তোলার চেষ্টা করা হয় যাতে কূপের পরিষ্কার অভিযান শেষ করা যায়। ২/৩ দিন যাবত অনবরত পানি তোলার পর ধারণা করা হয় যে, বিরাট পরিমাণ পানি বাইরে ফেলে দেয়া হয়েছে, তখন পাম্প মেশিনগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। ২৪ ঘন্টার জন্য পানিতে ক্লোর মিশানো হয়। কিন্তু ভেতরে পরিষ্কারকারী ডুবুরীদের ক্লোরের গন্ধে অসুবিধা সৃষ্টি হয়। যাই হোক, কূপের পরিষ্কার অভিযান শেষে ডুবুরীরা উপরে উঠে আসেন। কূপের পরিষ্কার অভিযান সফল হওয়ার পর এবং তা হাজীদের পান করার উপযোগী হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার কারণে ২য় পর্যায়ের পরিষ্কার অভিযান এখানেই শেষ হয়।
তারপর যমযমের এই পরিষ্কার অভিযানের উপর পত্র-পত্রিকায় ব্যাপকভাবে খবর ছাপা হতে থাকে এবং সৌদী টেলিভিশনে উক্ত অভিযানের উপর পূর্ণাঙ্গ ফিল্ম প্রদর্শন করা হয়।