📄 যমযমের পানি উৎপাদন ক্ষমতা
১৩৯১ হিজরীতে, সৌদী কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যমযমের পানি উৎপাদন ক্ষমতা নির্ধারণের জন্য একটি উদ্যোগ নেয়া হয়। এই উদ্যোগের আওতায় যমযমের মুখে বিদ্যুত চালিত দু'টো পাম্প মেশিন বসানো হয়। বড় পাম্প মেশিনটি ৫০ অশ্বশক্তি সম্পন্ন এবং ঘন্টায় ৩০ ঘন মিটার পানি উত্তোলন করতে সক্ষম। ছোট পাম্প মেশিনটি ঘন্টায় ১১.৬ ঘনমিটার পানি তুলতে সক্ষম।
ছোট পাম্প মেশিন দ্বারা পানি তোলার ফলে, শুরু করার ৭ মিনিটের মধ্যে কূপের পানির স্থায়ী স্তর ২.১৬ মিটার থেকে ১.৭৪ মিটারে নেমে আসে। ১৮ মিনিট পর ২.১০ মিটার এবং ৪৭ মিনিট পর ২.১২ মিটারে নেমে আসে।
এরপর ছোট পাম্প মেশিনটি বন্ধ করে বড় পাম্প মেশিন চালু করা হয়। শুরুর ৭৭ মিনিট পর পানির স্তর ২.২৭ মিটার, ৯৬ মিনিট পর ২.৩২ মিটার, ১১৭ মিনিট পর ২.৩১ মিটার এবং ১২৩ মিনিট পর ২.৩২ মিটারে অবস্থান করে। তারপর দু'টো মেশিনকে এক সাথে চালু করলে ৪ ঘন্টায় পানির স্তর ২.৬৪ মিটারে নেমে আসে। ৩ দিন পর্যন্ত একই পরীক্ষা চালানো হয়।
দু'টো পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে যমযমের পানি উৎপাদনের ব্যাপারে যে তথ্য পাওয়া যায় তা হচ্ছে, প্রতি মিনিটে ১৬৪.৫ থেকে ২১৭.৩ গ্যালন পানি অর্থাৎ প্রতি সেকেণ্ডে ১.০৪ লিটার থেকে ১.৩৭ লিটার পানি তোলা সম্ভব হয়েছে। পানি উৎপাদন ক্ষমতা নির্ধারণে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ওয়াটসন কনসালটিং কোম্পানী, পাকিস্তানী কনসালটেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিয়ন এবং পশ্চিম জার্মানীর W.F ক্রোনার কনসালটিং ফার্ম পাম্প মেশিন দ্বারা উত্তোলিত পানির অনুপাত দ্বারা যমযমের উৎপাদন ক্ষমতা ঘন্টায় ৬০ ঘন মিটার নির্ধারণ করে এবং তা নিম্নের পরিমাপের আগ পর্যন্ত বহাল থাকে।
১৪০০ হিজরীতে, মসজিদে হারামে জোহায়মান বেগ ও তার সাথী-সঙ্গীরা আক্রমণ করার পর ঐ দুর্ঘটনা শেষে যমযম কূপ পরিষ্কার করার সময় যমযমের উৎপাদন ক্ষমতা সম্পর্কে পুনরায় পরিমাপ করা হয়।
এই পরিমাপে ৪টি FLYGT মডেল বি ২১৫১ এইচ টি সাবমার্জড পাম্প ব্যবহার করা হয়। প্রথমটি কূপের ভেতর ২৫ মিটার গভীরে, ২য় টি ২২ মিটার, ৩য় টি ১৯ মিটার এবং ৪র্থ টি ১৭ মিটার গভীরে বসানো হয়। ৪ টা মেশিন একসাথে চালু করা হয়। ২৫ মিটার গভীরে বসানো প্রথম পাম্প মেশিনটি বেশী চাপের কারণে এর বৈদ্যুতিক কয়েলে পানি ঢুকায় তা বন্ধ হয়ে যায়। অবশিষ্ট তিনটি পাম্প চলতে থাকে। এই পাম্পগুলো বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ড্রেনে পানি ফেলে। একই সাথে যমযমের পার্শ্বে দুটো গর্ত থেকে ভূগর্ভস্থ পানিও একই ড্রেনে তুলে ফেলার জন্য আরো দু'টো পাম্প মেশিন বন্ধ করে দেয়া হয়।
প্রথমে পানির স্তর ছিল ৩.২৩ মিটার গভীরে এবং পানির স্তর ১২.৭২ মিটার গভীরে পৌঁছা পর্যন্ত প্রতি আধা মিনিটে একবার Reading নেয়া হত। একটি মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং তখন গর্তে পানির স্তর ৬৫ সেন্টিমিটারে পৌছে। পানির স্তর ১২.৮৩ মিটারে পৌঁছা পর্যন্ত প্রতি আধা মিনিটে Reading নেয়া হয়। পানির স্তর ১৩.৩৯ মিটারে পৌঁছা পর্যন্ত প্রতি ১ মিনিট অন্তর Reading নেয়া হয়। এই স্তরে পৌঁছার পর কূপে পানি পড়া বন্ধ হয়ে যায় এবং তখন পর্যন্ত গর্তে একটি মেশিন চালু রাখা হয়। তখন সেখানে পানির স্তর দাঁড়ায় ৬৫.৫ মিটারে। কূপের প্রধান উৎসসমূহ থেকে নমুনা পানি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ৬ মিনিট যাবত রিডিং নেয়া বন্ধ রাখা হয়। কূপের অপ্রধান উৎসসমূহ থেকেও নমুনা পানি সংগ্রহ করা হয়।
তারপর একটি মেশিন বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে, কূপের পানির স্তর বাড়তে থাকে এবং তা কূপের মুখ থেকে নীচে ৯.০৫ মিটারে এসে দাঁড়ায়। তারপর দ্বিতীয় মেশিনটিও বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়ে মুখ থেকে নীচের দিকে ৬.০৬ মিটারে উঠে। তারপর ৩য় মেশিনটিও বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন ১১ মিনিটের মধ্যে পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়ে মুখ থেকে নীচে ৩.৯০ মিটারে দাঁড়ায়। যমযম থেকে প্রতি সেকেণ্ডে ১১-১৮.৫ লিটার পানি উৎপাদন হয়। উৎপাদন সম্পর্কে এটিই সর্বশেষ তথ্য।
এই চিত্র দ্বারা যমযমের পানি উৎপাদন ক্ষমতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
টিকাঃ
৩২. প্রাগুক্ত।
১৩৯১ হিজরীতে, সৌদী কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যমযমের পানি উৎপাদন ক্ষমতা নির্ধারণের জন্য একটি উদ্যোগ নেয়া হয়। এই উদ্যোগের আওতায় যমযমের মুখে বিদ্যুত চালিত দু'টো পাম্প মেশিন বসানো হয়। বড় পাম্প মেশিনটি ৫০ অশ্বশক্তি সম্পন্ন এবং ঘন্টায় ৩০ ঘন মিটার পানি উত্তোলন করতে সক্ষম। ছোট পাম্প মেশিনটি ঘন্টায় ১১.৬ ঘনমিটার পানি তুলতে সক্ষম।
ছোট পাম্প মেশিন দ্বারা পানি তোলার ফলে, শুরু করার ৭ মিনিটের মধ্যে কূপের পানির স্থায়ী স্তর ২.১৬ মিটার থেকে ১.৭৪ মিটারে নেমে আসে। ১৮ মিনিট পর ২.১০ মিটার এবং ৪৭ মিনিট পর ২.১২ মিটারে নেমে আসে।
এরপর ছোট পাম্প মেশিনটি বন্ধ করে বড় পাম্প মেশিন চালু করা হয়। শুরুর ৭৭ মিনিট পর পানির স্তর ২.২৭ মিটার, ৯৬ মিনিট পর ২.৩২ মিটার, ১১৭ মিনিট পর ২.৩১ মিটার এবং ১২৩ মিনিট পর ২.৩২ মিটারে অবস্থান করে। তারপর দু'টো মেশিনকে এক সাথে চালু করলে ৪ ঘন্টায় পানির স্তর ২.৬৪ মিটারে নেমে আসে। ৩ দিন পর্যন্ত একই পরীক্ষা চালানো হয়।
দু'টো পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে যমযমের পানি উৎপাদনের ব্যাপারে যে তথ্য পাওয়া যায় তা হচ্ছে, প্রতি মিনিটে ১৬৪.৫ থেকে ২১৭.৩ গ্যালন পানি অর্থাৎ প্রতি সেকেণ্ডে ১.০৪ লিটার থেকে ১.৩৭ লিটার পানি তোলা সম্ভব হয়েছে। পানি উৎপাদন ক্ষমতা নির্ধারণে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ওয়াটসন কনসালটিং কোম্পানী, পাকিস্তানী কনসালটেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিয়ন এবং পশ্চিম জার্মানীর W.F ক্রোনার কনসালটিং ফার্ম পাম্প মেশিন দ্বারা উত্তোলিত পানির অনুপাত দ্বারা যমযমের উৎপাদন ক্ষমতা ঘন্টায় ৬০ ঘন মিটার নির্ধারণ করে এবং তা নিম্নের পরিমাপের আগ পর্যন্ত বহাল থাকে।
১৪০০ হিজরীতে, মসজিদে হারামে জোহায়মান বেগ ও তার সাথী-সঙ্গীরা আক্রমণ করার পর ঐ দুর্ঘটনা শেষে যমযম কূপ পরিষ্কার করার সময় যমযমের উৎপাদন ক্ষমতা সম্পর্কে পুনরায় পরিমাপ করা হয়।
এই পরিমাপে ৪টি FLYGT মডেল বি ২১৫১ এইচ টি সাবমার্জড পাম্প ব্যবহার করা হয়। প্রথমটি কূপের ভেতর ২৫ মিটার গভীরে, ২য় টি ২২ মিটার, ৩য় টি ১৯ মিটার এবং ৪র্থ টি ১৭ মিটার গভীরে বসানো হয়। ৪ টা মেশিন একসাথে চালু করা হয়। ২৫ মিটার গভীরে বসানো প্রথম পাম্প মেশিনটি বেশী চাপের কারণে এর বৈদ্যুতিক কয়েলে পানি ঢুকায় তা বন্ধ হয়ে যায়। অবশিষ্ট তিনটি পাম্প চলতে থাকে। এই পাম্পগুলো বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ড্রেনে পানি ফেলে। একই সাথে যমযমের পার্শ্বে দুটো গর্ত থেকে ভূগর্ভস্থ পানিও একই ড্রেনে তুলে ফেলার জন্য আরো দু'টো পাম্প মেশিন বন্ধ করে দেয়া হয়।
প্রথমে পানির স্তর ছিল ৩.২৩ মিটার গভীরে এবং পানির স্তর ১২.৭২ মিটার গভীরে পৌঁছা পর্যন্ত প্রতি আধা মিনিটে একবার Reading নেয়া হত। একটি মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং তখন গর্তে পানির স্তর ৬৫ সেন্টিমিটারে পৌছে। পানির স্তর ১২.৮৩ মিটারে পৌঁছা পর্যন্ত প্রতি আধা মিনিটে Reading নেয়া হয়। পানির স্তর ১৩.৩৯ মিটারে পৌঁছা পর্যন্ত প্রতি ১ মিনিট অন্তর Reading নেয়া হয়। এই স্তরে পৌঁছার পর কূপে পানি পড়া বন্ধ হয়ে যায় এবং তখন পর্যন্ত গর্তে একটি মেশিন চালু রাখা হয়। তখন সেখানে পানির স্তর দাঁড়ায় ৬৫.৫ মিটারে। কূপের প্রধান উৎসসমূহ থেকে নমুনা পানি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ৬ মিনিট যাবত রিডিং নেয়া বন্ধ রাখা হয়। কূপের অপ্রধান উৎসসমূহ থেকেও নমুনা পানি সংগ্রহ করা হয়।
তারপর একটি মেশিন বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে, কূপের পানির স্তর বাড়তে থাকে এবং তা কূপের মুখ থেকে নীচে ৯.০৫ মিটারে এসে দাঁড়ায়। তারপর দ্বিতীয় মেশিনটিও বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়ে মুখ থেকে নীচের দিকে ৬.০৬ মিটারে উঠে। তারপর ৩য় মেশিনটিও বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন ১১ মিনিটের মধ্যে পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়ে মুখ থেকে নীচে ৩.৯০ মিটারে দাঁড়ায়। যমযম থেকে প্রতি সেকেণ্ডে ১১-১৮.৫ লিটার পানি উৎপাদন হয়। উৎপাদন সম্পর্কে এটিই সর্বশেষ তথ্য।
এই চিত্র দ্বারা যমযমের পানি উৎপাদন ক্ষমতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
টিকাঃ
৩২. প্রাগুক্ত।
১৩৯১ হিজরীতে, সৌদী কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যমযমের পানি উৎপাদন ক্ষমতা নির্ধারণের জন্য একটি উদ্যোগ নেয়া হয়। এই উদ্যোগের আওতায় যমযমের মুখে বিদ্যুত চালিত দু'টো পাম্প মেশিন বসানো হয়। বড় পাম্প মেশিনটি ৫০ অশ্বশক্তি সম্পন্ন এবং ঘন্টায় ৩০ ঘন মিটার পানি উত্তোলন করতে সক্ষম। ছোট পাম্প মেশিনটি ঘন্টায় ১১.৬ ঘনমিটার পানি তুলতে সক্ষম।
ছোট পাম্প মেশিন দ্বারা পানি তোলার ফলে, শুরু করার ৭ মিনিটের মধ্যে কূপের পানির স্থায়ী স্তর ২.১৬ মিটার থেকে ১.৭৪ মিটারে নেমে আসে। ১৮ মিনিট পর ২.১০ মিটার এবং ৪৭ মিনিট পর ২.১২ মিটারে নেমে আসে।
এরপর ছোট পাম্প মেশিনটি বন্ধ করে বড় পাম্প মেশিন চালু করা হয়। শুরুর ৭৭ মিনিট পর পানির স্তর ২.২৭ মিটার, ৯৬ মিনিট পর ২.৩২ মিটার, ১১৭ মিনিট পর ২.৩১ মিটার এবং ১২৩ মিনিট পর ২.৩২ মিটারে অবস্থান করে। তারপর দু'টো মেশিনকে এক সাথে চালু করলে ৪ ঘন্টায় পানির স্তর ২.৬৪ মিটারে নেমে আসে। ৩ দিন পর্যন্ত একই পরীক্ষা চালানো হয়।
দু'টো পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে যমযমের পানি উৎপাদনের ব্যাপারে যে তথ্য পাওয়া যায় তা হচ্ছে, প্রতি মিনিটে ১৬৪.৫ থেকে ২১৭.৩ গ্যালন পানি অর্থাৎ প্রতি সেকেণ্ডে ১.০৪ লিটার থেকে ১.৩৭ লিটার পানি তোলা সম্ভব হয়েছে। পানি উৎপাদন ক্ষমতা নির্ধারণে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ওয়াটসন কনসালটিং কোম্পানী, পাকিস্তানী কনসালটেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিয়ন এবং পশ্চিম জার্মানীর W.F ক্রোনার কনসালটিং ফার্ম পাম্প মেশিন দ্বারা উত্তোলিত পানির অনুপাত দ্বারা যমযমের উৎপাদন ক্ষমতা ঘন্টায় ৬০ ঘন মিটার নির্ধারণ করে এবং তা নিম্নের পরিমাপের আগ পর্যন্ত বহাল থাকে।
১৪০০ হিজরীতে, মসজিদে হারামে জোহায়মান বেগ ও তার সাথী-সঙ্গীরা আক্রমণ করার পর ঐ দুর্ঘটনা শেষে যমযম কূপ পরিষ্কার করার সময় যমযমের উৎপাদন ক্ষমতা সম্পর্কে পুনরায় পরিমাপ করা হয়।
এই পরিমাপে ৪টি FLYGT মডেল বি ২১৫১ এইচ টি সাবমার্জড পাম্প ব্যবহার করা হয়। প্রথমটি কূপের ভেতর ২৫ মিটার গভীরে, ২য় টি ২২ মিটার, ৩য় টি ১৯ মিটার এবং ৪র্থ টি ১৭ মিটার গভীরে বসানো হয়। ৪ টা মেশিন একসাথে চালু করা হয়। ২৫ মিটার গভীরে বসানো প্রথম পাম্প মেশিনটি বেশী চাপের কারণে এর বৈদ্যুতিক কয়েলে পানি ঢুকায় তা বন্ধ হয়ে যায়। অবশিষ্ট তিনটি পাম্প চলতে থাকে। এই পাম্পগুলো বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ড্রেনে পানি ফেলে। একই সাথে যমযমের পার্শ্বে দুটো গর্ত থেকে ভূগর্ভস্থ পানিও একই ড্রেনে তুলে ফেলার জন্য আরো দু'টো পাম্প মেশিন বন্ধ করে দেয়া হয়।
প্রথমে পানির স্তর ছিল ৩.২৩ মিটার গভীরে এবং পানির স্তর ১২.৭২ মিটার গভীরে পৌঁছা পর্যন্ত প্রতি আধা মিনিটে একবার Reading নেয়া হত। একটি মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং তখন গর্তে পানির স্তর ৬৫ সেন্টিমিটারে পৌছে। পানির স্তর ১২.৮৩ মিটারে পৌঁছা পর্যন্ত প্রতি আধা মিনিটে Reading নেয়া হয়। পানির স্তর ১৩.৩৯ মিটারে পৌঁছা পর্যন্ত প্রতি ১ মিনিট অন্তর Reading নেয়া হয়। এই স্তরে পৌঁছার পর কূপে পানি পড়া বন্ধ হয়ে যায় এবং তখন পর্যন্ত গর্তে একটি মেশিন চালু রাখা হয়। তখন সেখানে পানির স্তর দাঁড়ায় ৬৫.৫ মিটারে। কূপের প্রধান উৎসসমূহ থেকে নমুনা পানি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ৬ মিনিট যাবত রিডিং নেয়া বন্ধ রাখা হয়। কূপের অপ্রধান উৎসসমূহ থেকেও নমুনা পানি সংগ্রহ করা হয়।
তারপর একটি মেশিন বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে, কূপের পানির স্তর বাড়তে থাকে এবং তা কূপের মুখ থেকে নীচে ৯.০৫ মিটারে এসে দাঁড়ায়। তারপর দ্বিতীয় মেশিনটিও বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়ে মুখ থেকে নীচের দিকে ৬.০৬ মিটারে উঠে। তারপর ৩য় মেশিনটিও বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন ১১ মিনিটের মধ্যে পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়ে মুখ থেকে নীচে ৩.৯০ মিটারে দাঁড়ায়। যমযম থেকে প্রতি সেকেণ্ডে ১১-১৮.৫ লিটার পানি উৎপাদন হয়। উৎপাদন সম্পর্কে এটিই সর্বশেষ তথ্য।
এই চিত্র দ্বারা যমযমের পানি উৎপাদন ক্ষমতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
টিকাঃ
৩২. প্রাগুক্ত।
📄 যমযমের প্রাসঙ্গিক সমস্যা
যমযম কূপের গভীরতা হচ্ছে ৩০.৫ মিটার। এর মধ্যে ১৭.৫ মিটার হচ্ছে কঠিন পাথরের স্তরের মধ্যে। কূপের পানি ব্যবহার না করলে মুখ থেকে ৩ মিটার নীচে পানির স্তর বিদ্যমান থাকে। এই স্তরে পানি অবস্থান করলে, যমযম থেকে পানি অন্যদিকে চলে যায় এবং বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দু'টো মওজুদ গর্তে গিয়ে জমা হয়। কূপ থেকে পাম্প করে পানি বের না করা পর্যন্ত পানি বের হওয়া অব্যাহত থাকে। হিজরী ১৪০০ সালে যমযমের পানি ব্যবহার কয়েকদিন পর্যন্ত বন্ধ থাকায় কূপের মুখ থেকে ২ মিটার নীচ পর্যন্ত পানির স্তর বৃদ্ধি পায়। ইবরাহীম উপত্যকার ভূগর্ভস্থ সর্বোচ্চ পানির স্তরের সাথে এই স্তর সামঞ্জস্যপূর্ণ। ঐ সময় আরো একটি বিষয় জানা যায়। সেটি হচ্ছে, যমযম এলাকায় সাধারণ পানির আরো ৩টি উৎস রয়েছে। সে সকল উৎসের পানি যমযমের পার্শ্বে অবস্থিত দু'টো কূপ বা গর্তের মধ্যে জমা করে তা উল্লেখিত সময়ে হারাম সীমানার বাইরে নিক্ষেপ করা হয়। সাফা পাহাড়ের কাছে অবস্থিত গর্ত বা কূপে যমযমের পাশ থেকে এবং সাফা পাহাড়ের দিক থেকে আগত পানি এসে জমা হয়। এই পানি বাইরে নিক্ষেপ করা হয়।
যমযমের সামান্য কিছু পানি কংক্রিটের দেয়ালের নীচ দিয়ে বের হয়ে যায়। নির্গত পানিকে জমা করার জন্য মারওয়া পাহাড়ের নিকটে আরেকটি কূপ বা গর্ত করা হয় এবং তাতে গিয়ে উক্ত পানি জমা হয়। সেখান থেকে দুটো পাইপের মাধ্যমে তা বাইরে নিক্ষেপ করা হয়।
দাউদিয়া কূপ যমযমের নিম্নভূমির দিকে অবস্থিত। হারাম এলাকার সকল পানি মেসফালার দিকে প্রবাহিত হয়। যমযম এবং দাউদিয়া কূপের পানির মধ্যে, পানি বিজ্ঞ, নূর পাহাড় এবং জোরানা উপত্যকা থেকে নেমে আসে। ঐ এলাকাগুলো ইবরাহীম উপত্যকা থেকে উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত। প্রায় ৭ হাজার হেক্টর যমীন তথা ২৭ বর্গমাইল এলাকা থেকে মক্কার উপর ঐ বন্যা প্রবাহিত হয়। শিশশা নামক স্থান দিয়েই মিনা থেকে ইবরাহীম উপত্যকায় পানি প্রবেশ করে। অপরদিকে নূর পাহাড় এবং জোরানার পানি প্রবেশ করে পুরাতন রাজপ্রাসাদের নিকট দিয়ে। সোজা উত্তর দিক থেকেও কোন কোন সময় বন্যার পানি মসজিদে হারামে প্রবেশ করে। এই সকল এলাকা থেকে বন্যার সকল স্রোত মসজিদে হারামের নিকট কাসাসিয়া গাজ্জা, হুজুন এবং মোআল্লায় এসে মিলিত হয়। মক্কার অন্যান্য উঁচু ভূমির তুলনায় ইবরাহীম উপত্যকার মুখে অবস্থিত এ সকল নিম্ন জায়গায় এসে সকল স্রোত একাকার হয়ে তা গোটা উপত্যকাকে প্লাবিত করে। এর ব্যতিক্রম হচ্ছে শুধু আবু কোবায়েস পাহাড় এবং জিয়াদে বর্ষিত পানি। কেননা, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব এলাকার এই পানি বাদশাহ আবদুল আযীয দরজার সামনে দিয়ে মেসফালার দিকে গড়ায়।
ইসলামের আগমনের পর, মক্কায় এ যাবত ৮৬টি বন্যার কথা ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। ঐ সকল বন্যার কোন কোনটিতে কা'বা শরীফের ভিটির সমান, হাজারে আসওয়াদের সমান, কা'বার দরজার সমান কিংবা দরজার তালার সমান পানি উঠেছে। এগুলোকে ইতিহাসে নীল নদের পানির সাথেও তুলনা করা হয়েছে। ঐ সকল পানি শুকাতে ২ দিন পর্যন্ত সময়ও লেগেছে।
ইতিহাসে, ঐ সকল বৃষ্টি ও বন্যার সাথে যমযমের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন আযরাকী বলেন, হিজরী ২২৩ ও ২২৪ সালে যমযম কূপ শুকিয়ে গিয়েছিল, তারপর নীচের দিকে আরো ৯ হাত খনন করা হয় এবং এর পাশ কেটে সামান্য প্রশস্ত করা হয়। তারপর ২২৫ হিজরীতে বৃষ্টি হওয়ায় যমযমের পানি বৃদ্ধি পায়।
আযরাকী তাঁর বই এর অন্য জায়গায় উল্লেখ করেছেন যে, এমন এক সময় আসবে যখন যমযমের পানি নীল নদ এবং ফোরাত নদীর পানির চাইতেও বেশী মিষ্টি হবে। আবু মুহাম্মদ আল-খোযাঈ বলেন, আমরা ২৮১ হিজরীতে তা দেখেছি। ২৭৯ এবং ২৮০ হিজরীতে মক্কায় প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত হয়। তখন যমযমের পানি বেড়ে যায় এমনকি যমযমের মুখ থেকে মাত্র ৭ হাত নীচে পানি দেখতে পাওয়া যায়। আমি নিজে এরূপ কোনদিন দেখিনি এবং কেউ দেখেছে বলেও শুনিনি, শুধু তাই নয়, এর পানি এত বেশী মিষ্টি হয় যে, মক্কার অন্য কোন কূপের পানি এত মিষ্টি নয়। এই পানি বেশী মিষ্টি হওয়ায় আমি নিজে এবং মক্কাবাসীরা এই যমযমের পানি পান করাই বেশী পসন্দ করতাম। কিন্তু হিজরী ২৮৩ সালে, এর পানি ভারী ও লবণাক্ত হয়ে যায়। তবে তাতে পানির প্রাচুর্য অব্যাহত ছিল।
১৩৮৮ হিজরীর বন্যার সময় দেখা গেছে যে, বন্যার পানি কা'বা শরীফের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে। তখন পরীক্ষা করে দেখা হয় যে, যমযমের ভেতর থেকেও জোরে পানি বের হচ্ছে। একটি ২ মিটার বিশিষ্ট পাইপ কূপের মাঝামাঝি রেখে দেখা গেছে যে, পাইপের অপর মুখ দিয়ে পানি বের হচ্ছে। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, যমযমের নীচে পানির চাপ আছে। সে কারণে পানি উপরের দিকে উথলে উঠে। এছাড়াও একখণ্ড টিস্যু পেপার কূপের মুখে ফেলে দেখা গেছে যে, ভেতর থেকে আসা স্রোত ঐ টিস্যু পেপারটিকে ভাসিয়ে অন্য দিকে নিয়ে গেছে।
এই সকল পর্যবেক্ষণ দ্বারা প্রমাণ হয় যে, বৃষ্টির পর যমযম কূপ আর্টেজীয় কূপের আকৃতি ধারণ করে অর্থাৎ যে কূপের পানি আভ্যন্তরীণ চাপে বের হয়ে আসে-সে রকম হয়। বৃষ্টির পর কূপের পানি অধিকতর মিষ্টি হয়। কূপের পানির এই জোর প্রবাহগতি বেশ কিছুদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে এবং পরে তা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। তখন কূপের পানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং মুখ থেকে মাত্র ৩ মিটার নীচে পানি মওজুদ থাকে। পরবর্তীতে কূপের পানির এই স্তর দীর্ঘদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
এর দ্বারা প্রমাণ হয় যে, ভূগর্ভস্থ পানি যমযমের পানির উৎস ও উপাদান নয়, বরং অন্য কিছুই এর মূল উৎস। কেননা, দাউদিয়া কূপে যমযমের মত অবস্থা সৃষ্টি হয়নি। যদি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বৃদ্ধির কারণে যমযমের পানির স্তর বেড়ে থাকে, তাহলে মসজিদে হারামের পার্শ্ববর্তী দাউদিয়া কূপসহ অন্যান্য কূপগুলোর পানির স্তরও বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। কিন্তু সেগুলোতে পানির স্তর বাড়েনি। এই তথ্য দ্বারা একথার সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায় যে, মূলতঃ যমযম কূপের পৃথক ও স্বতন্ত্র পানি সরবরাহ উৎস রয়েছে।
১৪০০ হিজরীতে, জোহায়মান বেগ ও তার দল-বল কর্তৃক মসজিদে হারাম আক্রমণের পর কূপ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সময় যমযমের মূল ঝর্ণাধারার পানির নমুনা ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, ভূগর্ভস্থ পানির মত তা দূষিত নয়, বরং তা জীবাণুমুক্ত ও বিশুদ্ধ পানি যা কূপের অন্য উৎসগুলো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের।
টিকাঃ
৩০. প্রাগুক্ত।
৩১. প্রাগুক্ত।
যমযম কূপের গভীরতা হচ্ছে ৩০.৫ মিটার। এর মধ্যে ১৭.৫ মিটার হচ্ছে কঠিন পাথরের স্তরের মধ্যে। কূপের পানি ব্যবহার না করলে মুখ থেকে ৩ মিটার নীচে পানির স্তর বিদ্যমান থাকে। এই স্তরে পানি অবস্থান করলে, যমযম থেকে পানি অন্যদিকে চলে যায় এবং বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দু'টো মওজুদ গর্তে গিয়ে জমা হয়। কূপ থেকে পাম্প করে পানি বের না করা পর্যন্ত পানি বের হওয়া অব্যাহত থাকে। হিজরী ১৪০০ সালে যমযমের পানি ব্যবহার কয়েকদিন পর্যন্ত বন্ধ থাকায় কূপের মুখ থেকে ২ মিটার নীচ পর্যন্ত পানির স্তর বৃদ্ধি পায়। ইবরাহীম উপত্যকার ভূগর্ভস্থ সর্বোচ্চ পানির স্তরের সাথে এই স্তর সামঞ্জস্যপূর্ণ। ঐ সময় আরো একটি বিষয় জানা যায়। সেটি হচ্ছে, যমযম এলাকায় সাধারণ পানির আরো ৩টি উৎস রয়েছে। সে সকল উৎসের পানি যমযমের পার্শ্বে অবস্থিত দু'টো কূপ বা গর্তের মধ্যে জমা করে তা উল্লেখিত সময়ে হারাম সীমানার বাইরে নিক্ষেপ করা হয়। সাফা পাহাড়ের কাছে অবস্থিত গর্ত বা কূপে যমযমের পাশ থেকে এবং সাফা পাহাড়ের দিক থেকে আগত পানি এসে জমা হয়। এই পানি বাইরে নিক্ষেপ করা হয়।
যমযমের সামান্য কিছু পানি কংক্রিটের দেয়ালের নীচ দিয়ে বের হয়ে যায়। নির্গত পানিকে জমা করার জন্য মারওয়া পাহাড়ের নিকটে আরেকটি কূপ বা গর্ত করা হয় এবং তাতে গিয়ে উক্ত পানি জমা হয়। সেখান থেকে দুটো পাইপের মাধ্যমে তা বাইরে নিক্ষেপ করা হয়।
দাউদিয়া কূপ যমযমের নিম্নভূমির দিকে অবস্থিত। হারাম এলাকার সকল পানি মেসফালার দিকে প্রবাহিত হয়। যমযম এবং দাউদিয়া কূপের পানির মধ্যে, পানি বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কিছু মিল আছে। দাউদিয়া কূপেরও একাধিক উৎস রয়েছে। সম্ভবতঃ কোন কোন সময় যমযম থেকে দাউদিয়া কূপে পানি গিয়ে মিলিত হয়।
দুই কূপের পানির বৈশিষ্ট্য প্রায় কাছাকাছি। যমযমের পানি উত্তোলন করা হলে, দাউদিয়া কূপের পানি কিছুটা কমে আসে। উভয় কূপ যদি পাথরের ছিদ্রের মাধ্যমে একই উৎস থেকে উৎসারিত হত, তাহলে একটির প্রভাব সরাসরি অন্যটিতে গিয়ে পড়ত। কিন্তু, ব্যাপারটি এরকম নয় বলে একটা আরেকটা দ্বারা প্রভাবিত হয় না। এমনকি দাউদিয়া কূপ এবং যমযম কূপের মধ্যে পানি বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ব্যাপক অমিল রয়েছে। তবে উভয়ের পানির মধ্যে কিছু সমান বৈশিষ্ট্য দ্বারা মনে হয় যে, যমযম থেকে ঐ কূপে কিছু পানি গিয়ে মিলিত হয়।
পক্ষান্তরে, বন্যা ও বৃষ্টির পানি যমযমের উপর কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। তবে পাকিস্তানী কনসালটেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়েছে যে, তাদের রেকর্ডকৃত তথ্য অনুযায়ী, তায়েফে বৃষ্টি হলে যমযমের পানির স্তরে হঠাৎ করে বিরাট পরিবর্তন দেখা দেয়।
অপরদিকে, পানি নিষ্কাশন ড্রেন এবং বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ড্রেন থেকে শিলা দ্বারা গঠিত প্রস্তরময় ভূখণ্ডের পাথরের ফাঁক দিয়ে পানি এসে যমযমের পানির উৎসের সাথে মিলিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
১৫০০ খৃষ্টাব্দে, এক পানি বন্টন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নহরে যুবায়দার পানি মক্কায় সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। ঐ নেটওয়ার্কের একটি শাখা সাফা পাহাড়ের রাস্তা বরাবর হয়ে যায়। ঐ নেটওয়ার্ক থেকে কিছু পানি যমযমের কাছে একটি কূপে এসে জমা হয়। নহরে যুবায়দার পানি শুধু পূর্বদিকের পাহাড়ী এলাকায় ব্যবহার করা হয়।
নহরে যুবায়দা থেকে দৈনিক মাত্র ৫ হাজার ঘনমিটার পানি সরবরাহ করা হত। কিন্তু পরবর্তীতে মক্কায় সাধারণ মৌসুমে দৈনিক ৭২ হাজার ঘনমিটার এবং হজ্জের মৌসুমে দৈনিক ১ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার পানি সরবরাহের প্রয়োজন দেখা দেয়। বর্তমানে লোহিত সাগরের শোয়াইবিয়া থেকে মক্কা ও তায়েফে লবণাক্ত পানিকে মিষ্টি পানিতে পরিণত করে মক্কায় দৈনিক ২৫ মিলিয়ন গ্যালন এবং তায়েফে ১৫ মিলিয়ন গ্যালন সরবরাহ করা হচ্ছে। যমযমে যাতে অন্যান্য নেটওয়ার্কের পানি প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য গভীর গর্ত খনন করা জরুরী।
📄 যমযমের পানির বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ
যমযমের পানি অতি পবিত্র ও উপকারী। সূচনালগ্ন থেকেই এই পানির ব্যবহার ও মর্যাদার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। হাদীসেও এই পানির উপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। তাই সৌদী শাসনামলে এই পানির গুণাগুণ এবং তাকে অধিকতর পরিচ্ছন্ন করার উদ্দেশ্যে রাসায়নিক এবং রোগ জীবাণু সংক্রান্ত জীব বিজ্ঞানীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। ঐ সকল পরীক্ষাসমূহের লক্ষ্য হচ্ছে, পানি ও পানির উৎসের যথার্থতা ও কলুষতা নির্ণয়, পানিকে কলুষতামুক্ত করার জন্য উপযোগী পদক্ষেপ নেয়া এবং পৃথকভাবে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা।
বিশুদ্ধ পানি বলতে সেই পানিকে বুঝায় যাতে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোন খনিজ পদার্থ না থাকে এবং পানির রং, স্বাদ, ঘ্রাণ ও পরিচ্ছন্নতা বিদ্যমান থাকে। পক্ষান্তরে দূষিত কিন্তু ব্যবহারের অযোগ্য নয় এমন পানি হচ্ছে, প্রাকৃতিক কারণে যে পানির স্বাদ, ঘ্রাণ ও রং এর বিকৃতি হয়েছে। এটা পানির নিজস্ব উপাদান কিংবা বাইরের প্রভাব-দু'টোর যে কোনটার কারণে হতে পারে। কোন কোন সময় এ জাতীয় পানি পান করলে কোন রোগ হয় না কিংবা শরীরেরও কোন ক্ষতি হয় না।
অপরদিকে, যে পানিতে ক্ষুদ্র রোগ জীবাণু (ব্যাকটেরিয়া) কিংবা বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান থাকে তা পান করার অনুপযোগী বলে বিবেচিত হয়।
সাধারণতঃ পানি প্রকৃতিগতভাবে খুব কমই বিশুদ্ধ থাকে। কেননা, আকাশের জলীয় বাষ্প যখন পানির ফোটায় রূপান্তরিত হয় তখন বাতাসে মওজুদ কিছু বিষাক্ত গ্যাস, বালুকণা এবং ব্যাকটেরিয়া এর অন্তর্ভুক্ত হয়। উপর থেকে পানি যখন মাটিতে পড়ে তখন তা বালু, মাটি, রাসায়নিক উপাদান ও ব্যাকটেরিয়াকে সাথে বয়ে নিয়ে যায়। ঐ পানি মাটির নীচে চলে গেলে তখন তা মাটিতে মওজুদ লবণকেও অন্তর্ভুক্ত করে। এ ছাড়াও এতে ভূতাত্ত্বিক অন্যান্য উপাদান প্রভাব বিস্তার করে। পানিতে লোহার পরিমাণ বেশী থাকলে সেই পানি লালরূপ ধারণ করে। পানিতে ম্যাঙ্গানিজ বেশী থাকলে পানির রং কাল হয়ে যায়। এ ছাড়াও পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সোডিয়াম থাকে। পানিতে অক্সিজেন, অক্সাইড কার্বন এবং সালফার হাইড্রোজেন জাতীয় গ্যাসের অস্তিত্বও বিদ্যমান আছে।
দূষিত পানি পান করলে অনেক সময় টাইফয়েড, রক্ত আমাশয়, কলেরা, প্যারা টাইফয়েড, শিশুদের পঙ্গুত্ব এবং বলহারেসিয়াসসহ বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হয়, দাঁত ও পেটের জন্য ক্ষতিকর আরো অন্যান্য কিছু রোগও সৃষ্টি হতে পারে।
পানির বিশুদ্ধতা নির্ধারণের জন্য অনেকগুলো পরীক্ষা আছে। সেগুলো হচ্ছে ১. প্রাকৃতিক পরীক্ষা ২. রাসায়নিক পরীক্ষা ৩. ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষা ৪. অনুবীক্ষণ পরীক্ষা।
প্রাকৃতিক পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে তাপমাত্রা, স্বাদ, গন্ধ, কাদা এবং মিশ্রিত উপাদানের পরিমাণ জানা।
রাসায়নিক পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে জৈব ও অজৈব পরীক্ষা। জৈব পরীক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে, এতে করে পানিতে দূষিত পদার্থ ও জৈব পদার্থের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা এবং অজৈব পরীক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে, পানিতে খনিজ লবণের হার জানা।
আন্তর্জাতিকভাবে বিশুদ্ধ পানিতে রাসায়নিক দ্রব্যের নিম্নলিখিত সর্বোচ্চ হার স্বীকৃত : (মিলিয়ন গ্রাম/লিটার হারে)
| উপাদান | সর্বোচ্চ হার | উপাদান | সর্বোচ্চ হার |
|---|---|---|---|
| সীসা | ০০.০১ | জিংক | ১৫.০০ |
| তামা | ০.০৩ | ম্যাগনেসিয়াম | ১২৫.০০ |
| আর্সেনিক | ০০.০৫ | ক্লোরয়েড | ২৫০.০০ |
| সেলিনাম | ০০.০৫ | সালফার | ৫০.০০ |
| ফ্লোরিন | ১.০০ | মিশ্রিত লবণ | ১০০০.০০ |
| লোহা | ০.৩ | এলকালি | ৪০০.০০ |
| ম্যাঙ্গানিজ | ০.৩ | |
এছাড়াও পান করার উপযোগী পানিতে ৯০% অক্সিজেন, মিলিয়নে ৫০ ভাগ অক্সাইড কার্বন এবং ১ ভাগ সালফার হাইড্রোজেন গ্যাস থাকা জরুরী।
ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষা হচ্ছে পানিতে অবস্থিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণী যা সাধারণ অনুবীক্ষণ যন্ত্রেও ধরা পড়ে না। ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব নির্ভর করে তার প্রয়োজনীয় খাদ্য, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার উপর। অনুকূল পরিবেশ পেলে ব্যাকটেরিয়া অনেক বেশী বংশ বিস্তার করে।
ব্যাকটেরিয়া দুই ধরনের: উপকারী ও অপকারী।
উপকারী ব্যাকটেরিয়া হচ্ছে ভূপৃষ্ঠের উপরের স্তরে অবস্থানকারী যে সকল ব্যাকটেরিয়া জৈব পদার্থ প্রতিষ্ঠিত রাখে কিংবা তাকে অম্লজান পদার্থে (অক্সিজেনে) পরিণত করে অথবা মানুষ ও প্রাণীর হজমে সাহায্য করে, কিংবা দুধকে দইতে পরিণত করতে সাহায্য করে যার ফলে মাখন, পনির ও অন্যান্য দুগ্ধজাত দ্রব্য তৈরি করতে সহায়ক হয়।
ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া হচ্ছে যে সকল ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন পদার্থের মধ্যে সংখ্যা বৃদ্ধি করে তাকে দুর্গন্ধ যুক্ত ও বিষাক্ত করে তোলে। এর ফলে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়।
পান করার পানিতে নিম্নলিখিত মাপকাঠি ও বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন।
প্রথমতঃ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য: পানির রং ঠিক থাকতে হবে এবং মিলিয়নে ৫ ভাগ কাদা থাকতে পারে। পানির স্বাদ ও গন্ধ গ্রহণযোগ্য হতে হবে।
দ্বিতীয়তঃ রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য: পানি অবশ্যই বিষাক্ত উপাদানমুক্ত হতে হবে এবং ইতিপূর্বে বর্ণিত ছক অনুযায়ী বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদান এতে থাকতে হবে।
তৃতীয়তঃ আলফা তাপ বিকীরণ মিলিমিটারে ৯:১০ মাইক্রোকিরী এবং বিটা তাপ বিকীরণ মিলিমিটারে ৮:১০ মাইক্রোকিরী হতে হবে।
চতুর্থতঃ ব্যাকটেরিয়ার জন্য মাপকাঠি হচ্ছে, ১০০ মিলিমিটারে একাধিক কলন গ্রুপ থাকতে পারবে না।
সালেহ মুহাম্মদ জামাল 'আখবারে মক্কা'র ভূমিকায় লিখেছেন যে, যমযমের পানি ক্ষারজাতীয় (এলকালিন) এবং এতে সোডা, ক্লোর, চুন, সালফার এসিড, নাইট্রোজেনিক এসিড এবং পটাশ বেশী পরিমাণে থাকায় তা খনিজ পানির কাছাকাছি মর্যাদার অধিকারী।
যমযমের পানি নিয়ে অতীতে যথেষ্ট গবেষণা হয়েছে এবং সাম্প্রতিককালেও প্রচুর গবেষণা হয়েছে। আমরা নীচে এ জাতীয় কয়েকটি গবেষণার ফলাফল উল্লেখ করবো।
২১।১১। ১৩৯১ হিজরী মোতাবেক ১৭ই জানুয়ারী ১৯৭১ সালে, জেদ্দাস্থ কারানতিনা হাসপাতালে যমযমের পানির ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষা করা হয়। গবেষকদেরকে ঐ পানি যে যমযমের পানি তা আগে জানানো হয়নি। পরীক্ষার ফলাফল হচ্ছে, এতে ১০০ মিলিমিটারে মওজুদ ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ হচ্ছে ৮৫,০০০। ১০০ মিলিমিটারে কলিফরমের সংখ্যা হচ্ছে ২,৪০০।
যমযমের পানির ট্যাংক থেকে গৃহীত পানির নমুনায় দেখা গেছে যে, ১০০ মিলিমিটারে মোট ২ লাখ ৪০ হাজার ব্যাকটেরিয়া এবং ১০০ মিলিমিটারে মোট কলিফরমের সংখ্যা হচ্ছে ২ হাজার ৪ শত। রিপোর্টে সুপারিশ করা হয় যে, যমযমের পানি থেকে ব্যাকটেরিয়া নির্মূলের জন্য তাতে ক্লোর ব্যবহার করা হউক এবং পানি পান করার আগে তাতে ব্যাকটেরিয়া নির্মূল হল কিনা তা পুনরায় পরীক্ষার জন্য পানি নিয়ে আসা হউক।
৭।৪।১৩৯১ হিজরীতে কৃষি ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে যমযমের বিশুদ্ধকৃত পানি রিয়াদের কেন্দ্রীয় হাসপাতালের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয় এবং অনুরূপভাবে কৃষি ও পানি মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষাগারেও পাঠানো হয়। সেই দুই স্থানের গবেষণার ফলাফল হচ্ছে নিম্নরূপ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণাগারের রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল হচ্ছে:-
হাইড্রোজেনের ঘনত্ব ৭.৯
বিদ্যুৎ পৌঁছানো: ৩.৫৬
ক্যালসিয়াম: মিলিলিটার ১১.১২
ম্যাগনেসিয়াম: " ৩.৭৩
সোডিয়াম: " ১৫.০০
পটাসিয়াম: " ৭.৯০
কার্বন: " নেই
বাই-কার্বন: " ৫.৫০
ক্লোরয়েড: " ১৪.৬০
সালফার: " ১৭.৬৫
মিশ্রিত লবণঃ (মিলিয়ন লিটারে) ২২৭৮
রিয়াদের কেন্দ্রীয় হাসপাতালের পরীক্ষাগারের ফলাফল হচ্ছে:-
১০০ মিলিমিটারে মোট ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা ৩৮ হাজার
" " কলিফরমের সংখ্যা ২৪০
" " অন্যান্য কলিফরম নেই।
তাদের মন্তব্য হল, বর্তমানে এই অবস্থায় যমযমের পানি পান করা যায় না।
কিন্তু সৌদী অর্থ মন্ত্রণালয় যখন ওয়ার্টসন কনসালটিং কোম্পানীকে মসজিদে হারামের পানি ও যমযমের ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশন, মাতাফ সম্প্রসারণ এবং যমযমের পানিকে Sterialization (বিশুদ্ধকরণ) করার দায়িত্ব অর্পণ করে তখন উক্ত কোম্পানী যমযমের পানি, নহরে যুবায়দা এবং দাউদিয়া কূপের পানি পরীক্ষা করে। তারা তিনটি স্থানের পানি পরীক্ষা করে তুলনামূলক ফলাফল প্রদান করে। ১৯৭৩ সালে সমাপ্ত উক্ত পরীক্ষার ফলাফল হচ্ছে নিম্নরূপ:
| পরীক্ষাসমূহ | দাউদিয়া কূপ | যমযম | নহরে যুবায়দা |
|---|---|---|---|
| বাহ্যিক অবস্থা | পরিষ্কার | পরিষ্কার | পরিষ্কার |
| মাইক্রো উম দ্বারা বিদ্যুত পৌছানো হয় | ২৮৭৫ | ৩০৭৫ | ৯২৫ |
| মোট শক্ত গলিত পদার্থ (মিলিয়নে) | ১৭২৫ | ১৮৪৫ | ৫৫৫ |
| হাইড্রোজেনের ঘনত্ব | ৭.৯ | ৮.৩ | ৮.৩ |
| হাইড্রোঅক্সাইডসোডিয়াম (মিলিলিটার) | ১০ | ১০ | ১০ |
| কার্বন-ক্যালসিয়ামের আকারে লবণ-(মিলিগ্রাম-লিটার) | ৩৫০ | ২৬০ | ১৫০ |
| ক্লোরের আকারে ক্লোরয়েড " | ৪০০ | ৪৮৫ | ১৩০ |
| সালফার " " | ৩১০ | ৩৫০ | ১১০ |
| ক্যালসিয়াম " | ১৮৫ | ২১৫ | ৯০ |
| ম্যাগনেসিয়াম " " | ৫১ | ৫৫ | ৩৫ |
| লোহা " " | ০.০৪ | ০.০৪ | ০.০৪ |
| তামা " | ০.০৫ | ১০ | ১০ |
| নাইট্রোজেনিক নাইট্রেড " " | ১.১০ | ১.৩০ | ৩০ |
| নাইট্রোজেনিক নিট্রিট " | ০.১৬ | ০.৫২৬ | ০.০৮ |
| সিলিকা " " | ৮০ | ৮০ | ২৫ |
| ফসফেট " " | নেই | নেই | নেই |
লিবিয়ার ত্রিপোলীতে অবস্থিত 'ফাতেহ বিশ্ববিদ্যালয়ের' তেল ও খনিজ প্রকৌশল বিভাগের রাসায়নিক ও পেট্রো রাসায়নিক শিল্পের শিক্ষক ডঃ রাজা হোসাইন আবুস সেমান যমযমের পানির উপর গবেষণা চালান। তিনি যমযম থেকে এমনভাবে নমুনা পানি গ্রহণ করেন যাতে করে তা সত্যিকার অর্থে যমযমের প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি ১৯৭৬ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যমযম থেকে ৩ লিটার পানি নেন। তারপর ১৯৭৭ সালে যমযম থেকে ১ লিটার পানি এবং সর্বশেষ ১৯৭৭ সালের ২রা ডিসেম্বর আরো ১ লিটার পানি নেন। অনুরূপভাবে তিনি ২৩/৪/৭৬ তারিখে আরাফাতের নহরে যুবায়দা থেকে দুই লিটার নেন এবং ২১।৪। ১৯৭৬ তারিখে দাউদিয়া এবং মেসফালা থেকে ৩ লিটার পানি সংগ্রহ করেন এবং এগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষা চালান। নিম্নে তার যমযমের পানির পরীক্ষার ফলাফল পেশ করা হল।
যমযমের পানির রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল:
| | হাইড্রোজেন | মিশ্র লবণ | ক্লোরয়েড | কার্বন | সালফার | ক্যালসিয়াম | ম্যাগনেশিয়াম | লোহা |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| (মিলিয়নে) | ৬০৯ | ১৬২০ | ২৩৪ | ২০৮ | ৩৬৫ | আছে | আছে | আছে |
যমযমের পানি অতি পবিত্র ও উপকারী। সূচনালগ্ন থেকেই এই পানির ব্যবহার ও মর্যাদার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। হাদীসেও এই পানির উপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। তাই সৌদী শাসনামলে এই পানির গুণাগুণ এবং তাকে অধিকতর পরিচ্ছন্ন করার উদ্দেশ্যে রাসায়নিক এবং রোগ জীবাণু সংক্রান্ত জীব বিজ্ঞানীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। ঐ সকল পরীক্ষাসমূহের লক্ষ্য হচ্ছে, পানি ও পানির উৎসের যথার্থতা ও কলুষতা নির্ণয়, পানিকে কলুষতামুক্ত করার জন্য উপযোগী পদক্ষেপ নেয়া এবং পৃথকভাবে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা।
বিশুদ্ধ পানি বলতে সেই পানিকে বুঝায় যাতে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোন খনিজ পদার্থ না থাকে এবং পানির রং, স্বাদ, ঘ্রাণ ও পরিচ্ছন্নতা বিদ্যমান থাকে। পক্ষান্তরে দূষিত কিন্তু ব্যবহারের অযোগ্য নয় এমন পানি হচ্ছে, প্রাকৃতিক কারণে যে পানির স্বাদ, ঘ্রাণ ও রং এর বিকৃতি হয়েছে। এটা পানির নিজস্ব উপাদান কিংবা বাইরের প্রভাব-দু'টোর যে কোনটার কারণে হতে পারে। কোন কোন সময় এ জাতীয় পানি পান করলে কোন রোগ হয় না কিংবা শরীরেরও কোন ক্ষতি হয় না।
অপরদিকে, যে পানিতে ক্ষুদ্র রোগ জীবাণু (ব্যাকটেরিয়া) কিংবা বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান থাকে তা পান করার অনুপযোগী বলে বিবেচিত হয়।
সাধারণতঃ পানি প্রকৃতিগতভাবে খুব কমই বিশুদ্ধ থাকে। কেননা, আকাশের জলীয় বাষ্প যখন পানির ফোটায় রূপান্তরিত হয় তখন বাতাসে মওজুদ কিছু বিষাক্ত গ্যাস, বালুকণা এবং ব্যাকটেরিয়া এর অন্তর্ভুক্ত হয়। উপর থেকে পানি যখন মাটিতে পড়ে তখন তা বালু, মাটি, রাসায়নিক উপাদান ও ব্যাকটেরিয়াকে সাথে বয়ে নিয়ে যায়। ঐ পানি মাটির নীচে চলে গেলে তখন তা মাটিতে মওজুদ লবণকেও অন্তর্ভুক্ত করে। এ ছাড়াও এতে ভূতাত্ত্বিক অন্যান্য উপাদান প্রভাব বিস্তার করে। পানিতে লোহার পরিমাণ বেশী থাকলে সেই পানি লালরূপ ধারণ করে। পানিতে ম্যাঙ্গানিজ বেশী থাকলে পানির রং কাল হয়ে যায়। এ ছাড়াও পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সোডিয়াম থাকে। পানিতে অক্সিজেন, অক্সাইড কার্বন এবং সালফার হাইড্রোজেন জাতীয় গ্যাসের অস্তিত্বও বিদ্যমান আছে।
দূষিত পানি পান করলে অনেক সময় টাইফয়েড, রক্ত আমাশয়, কলেরা, প্যারা টাইফয়েড, শিশুদের পঙ্গুত্ব এবং বলহারেসিয়াসসহ বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হয়, দাঁত ও পেটের জন্য ক্ষতিকর আরো অন্যান্য কিছু রোগও সৃষ্টি হতে পারে।
পানির বিশুদ্ধতা নির্ধারণের জন্য অনেকগুলো পরীক্ষা আছে। সেগুলো হচ্ছে ১. প্রাকৃতিক পরীক্ষা ২. রাসায়নিক পরীক্ষা ৩. ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষা ৪. অনুবীক্ষণ পরীক্ষা।
প্রাকৃতিক পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে তাপমাত্রা, স্বাদ, গন্ধ, কাদা এবং মিশ্রিত উপাদানের পরিমাণ জানা।
রাসায়নিক পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে জৈব ও অজৈব পরীক্ষা। জৈব পরীক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে, এতে করে পানিতে দূষিত পদার্থ ও জৈব পদার্থের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা এবং অজৈব পরীক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে, পানিতে খনিজ লবণের হার জানা।
আন্তর্জাতিকভাবে বিশুদ্ধ পানিতে রাসায়নিক দ্রব্যের নিম্নলিখিত সর্বোচ্চ হার স্বীকৃত : (মিলিয়ন গ্রাম/লিটার হারে)
| উপাদান | সর্বোচ্চ হার | উপাদান | সর্বোচ্চ হার |
|---|---|---|---|
| সীসা | ০০.০১ | জিংক | ১৫.০০ |
| তামা | ০.০৩ | ম্যাগনেসিয়াম | ১২৫.০০ |
| আর্সেনিক | ০০.০৫ | ক্লোরয়েড | ২৫০.০০ |
| সেলিনাম | ০০.০৫ | সালফার | ৫০.০০ |
| ফ্লোরিন | ১.০০ | মিশ্রিত লবণ | ১০০০.০০ |
| লোহা | ০.৩ | এলকালি | ৪০০.০০ |
| ম্যাঙ্গানিজ | ০.৩ | |
এছাড়াও পান করার উপযোগী পানিতে ৯০% অক্সিজেন, মিলিয়নে ৫০ ভাগ অক্সাইড কার্বন এবং ১ ভাগ সালফার হাইড্রোজেন গ্যাস থাকা জরুরী।
ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষা হচ্ছে পানিতে অবস্থিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণী যা সাধারণ অনুবীক্ষণ যন্ত্রেও ধরা পড়ে না। ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব নির্ভর করে তার প্রয়োজনীয় খাদ্য, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার উপর। অনুকূল পরিবেশ পেলে ব্যাকটেরিয়া অনেক বেশী বংশ বিস্তার করে।
ব্যাকটেরিয়া দুই ধরনের: উপকারী ও অপকারী।
উপকারী ব্যাকটেরিয়া হচ্ছে ভূপৃষ্ঠের উপরের স্তরে অবস্থানকারী যে সকল ব্যাকটেরিয়া জৈব পদার্থ প্রতিষ্ঠিত রাখে কিংবা তাকে অম্লজান পদার্থে (অক্সিজেনে) পরিণত করে অথবা মানুষ ও প্রাণীর হজমে সাহায্য করে, কিংবা দুধকে দইতে পরিণত করতে সাহায্য করে যার ফলে মাখন, পনির ও অন্যান্য দুগ্ধজাত দ্রব্য তৈরি করতে সহায়ক হয়।
ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া হচ্ছে যে সকল ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন পদার্থের মধ্যে সংখ্যা বৃদ্ধি করে তাকে দুর্গন্ধ যুক্ত ও বিষাক্ত করে তোলে। এর ফলে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়।
পান করার পানিতে নিম্নলিখিত মাপকাঠি ও বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন।
প্রথমতঃ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য: পানির রং ঠিক থাকতে হবে এবং মিলিয়নে ৫ ভাগ কাদা থাকতে পারে। পানির স্বাদ ও গন্ধ গ্রহণযোগ্য হতে হবে।
দ্বিতীয়তঃ রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য: পানি অবশ্যই বিষাক্ত উপাদানমুক্ত হতে হবে এবং ইতিপূর্বে বর্ণিত ছক অনুযায়ী বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদান এতে থাকতে হবে।
তৃতীয়তঃ আলফা তাপ বিকীরণ মিলিমিটারে ৯:১০ মাইক্রোকিরী এবং বিটা তাপ বিকীরণ মিলিমিটারে ৮:১০ মাইক্রোকিরী হতে হবে।
চতুর্থতঃ ব্যাকটেরিয়ার জন্য মাপকাঠি হচ্ছে, ১০০ মিলিমিটারে একাধিক কলন গ্রুপ থাকতে পারবে না।
সালেহ মুহাম্মদ জামাল 'আখবারে মক্কা'র ভূমিকায় লিখেছেন যে, যমযমের পানি ক্ষারজাতীয় (এলকালিন) এবং এতে সোডা, ক্লোর, চুন, সালফার এসিড, নাইট্রোজেনিক এসিড এবং পটাশ বেশী পরিমাণে থাকায় তা খনিজ পানির কাছাকাছি মর্যাদার অধিকারী।
যমযমের পানি নিয়ে অতীতে যথেষ্ট গবেষণা হয়েছে এবং সাম্প্রতিককালেও প্রচুর গবেষণা হয়েছে। আমরা নীচে এ জাতীয় কয়েকটি গবেষণার ফলাফল উল্লেখ করবো।
২১।১১। ১৩৯১ হিজরী মোতাবেক ১৭ই জানুয়ারী ১৯৭১ সালে, জেদ্দাস্থ কারানতিনা হাসপাতালে যমযমের পানির ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষা করা হয়। গবেষকদেরকে ঐ পানি যে যমযমের পানি তা আগে জানানো হয়নি। পরীক্ষার ফলাফল হচ্ছে, এতে ১০০ মিলিমিটারে মওজুদ ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ হচ্ছে ৮৫,০০০। ১০০ মিলিমিটারে কলিফরমের সংখ্যা হচ্ছে ২,৪০০।
যমযমের পানির ট্যাংক থেকে গৃহীত পানির নমুনায় দেখা গেছে যে, ১০০ মিলিমিটারে মোট ২ লাখ ৪০ হাজার ব্যাকটেরিয়া এবং ১০০ মিলিমিটারে মোট কলিফরমের সংখ্যা হচ্ছে ২ হাজার ৪ শত। রিপোর্টে সুপারিশ করা হয় যে, যমযমের পানি থেকে ব্যাকটেরিয়া নির্মূলের জন্য তাতে ক্লোর ব্যবহার করা হউক এবং পানি পান করার আগে তাতে ব্যাকটেরিয়া নির্মূল হল কিনা তা পুনরায় পরীক্ষার জন্য পানি নিয়ে আসা হউক।
৭।৪।১৩৯১ হিজরীতে কৃষি ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে যমযমের বিশুদ্ধকৃত পানি রিয়াদের কেন্দ্রীয় হাসপাতালের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয় এবং অনুরূপভাবে কৃষি ও পানি মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষাগারেও পাঠানো হয়। সেই দুই স্থানের গবেষণার ফলাফল হচ্ছে নিম্নরূপ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণাগারের রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল হচ্ছে:-
হাইড্রোজেনের ঘনত্ব ৭.৯
বিদ্যুৎ পৌঁছানো: ৩.৫৬
ক্যালসিয়াম: মিলিলিটার ১১.১২
ম্যাগনেসিয়াম: " ৩.৭৩
সোডিয়াম: " ১৫.০০
পটাসিয়াম: " ৭.৯০
কার্বন: " নেই
বাই-কার্বন: " ৫.৫০
ক্লোরয়েড: " ১৪.৬০
সালফার: " ১৭.৬৫
মিশ্রিত লবণঃ (মিলিয়ন লিটারে) ২২৭৮
রিয়াদের কেন্দ্রীয় হাসপাতালের পরীক্ষাগারের ফলাফল হচ্ছে:-
১০০ মিলিমিটারে মোট ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা ৩৮ হাজার
" " কলিফরমের সংখ্যা ২৪০
" " অন্যান্য কলিফরম নেই।
তাদের মন্তব্য হল, বর্তমানে এই অবস্থায় যমযমের পানি পান করা যায় না।
কিন্তু সৌদী অর্থ মন্ত্রণালয় যখন ওয়ার্টসন কনসালটিং কোম্পানীকে মসজিদে হারামের পানি ও যমযমের ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশন, মাতাফ সম্প্রসারণ এবং যমযমের পানিকে Sterialization (বিশুদ্ধকরণ) করার দায়িত্ব অর্পণ করে তখন উক্ত কোম্পানী যমযমের পানি, নহরে যুবায়দা এবং দাউদিয়া কূপের পানি পরীক্ষা করে। তারা তিনটি স্থানের পানি পরীক্ষা করে তুলনামূলক ফলাফল প্রদান করে। ১৯৭৩ সালে সমাপ্ত উক্ত পরীক্ষার ফলাফল হচ্ছে নিম্নরূপ:
পরীক্ষাসমূহ দাউদিয়া কূপ যমযম নহরে যুবায়দা
বাহ্যিক অবস্থা পরিষ্কার পরিষ্কার পরিষ্কার
মাইক্রো উম দ্বারা বিদ্যুত পৌছানো হয় ২৮৭৫ ৩০৭৫ ৯২৫
মোট শক্ত গলিত পদার্থ (মিলিয়নে) ১৭২৫ ১৮৪৫ ৫৫৫
হাইড্রোজেনের ঘনত্ব ৭.৯ ৮.৩ ৮.৩
হাইড্রোঅক্সাইডসোডিয়াম (মিলিলিটার) ১০ ১০ ১০
কার্বন-ক্যালসিয়ামের আকারে লবণ-(মিলিগ্রাম-লিটার) ৩৫০ ২৬০ ১৫০
ক্লোরের আকারে ক্লোরয়েড " ৪০০ ৪৮৫ ১৩০
সালফার " " ৩১০ ৩৫০ ১১০
ক্যালসিয়াম " ১৮৫ ২১৫ ৯০
ম্যাগনেসিয়াম " " ৫১ ৫৫ ৩৫
লোহা " " ০.০৪ ০.০৪ ০.০৪
তামা " ০.০৫ ১০ ১০
নাইট্রোজেনিক নাইট্রেড " " ১.১০ ১.৩০ ৩০
নাইট্রোজেনিক নিট্রিট " ০.১৬ ০.৫২৬ ০.০৮
সিলিকা " " ৮০ ৮০ ২৫
ফসফেট " " নেই নেই নেই
লিবিয়ার ত্রিপোলীতে অবস্থিত 'ফাতেহ বিশ্ববিদ্যালয়ের' তেল ও খনিজ প্রকৌশল বিভাগের রাসায়নিক ও পেট্রো রাসায়নিক শিল্পের শিক্ষক ডঃ রাজা হোসাইন আবুস সেমান যমযমের পানির উপর গবেষণা চালান। তিনি যমযম থেকে এমনভাবে নমুনা পানি গ্রহণ করেন যাতে করে তা সত্যিকার অর্থে যমযমের প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি ১৯৭৬ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যমযম থেকে ৩ লিটার পানি নেন। তারপর ১৯৭৭ সালে যমযম থেকে ১ লিটার পানি এবং সর্বশেষ ১৯৭৭ সালের ২রা ডিসেম্বর আরো ১ লিটার পানি নেন। অনুরূপভাবে তিনি ২৩/৪/৭৬ তারিখে আরাফাতের নহরে যুবায়দা থেকে দুই লিটার নেন এবং ২১।৪। ১৯৭৬ তারিখে দাউদিয়া এবং মেসফালা থেকে ৩ লিটার পানি সংগ্রহ করেন এবং এগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষা চালান। নিম্নে তার যমযমের পানির পরীক্ষার ফলাফল পেশ করা হল।
যমযমের পানির রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল:
| | হাইড্রোজেন | মিশ্র লবণ | ক্লোরয়েড | কার্বন | সালফার | ক্যালসিয়াম | ম্যাগনেশিয়াম | লোহা |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| (মিলিয়নে) | ৬০৯ | ১৬২০ | ২৩৪ | ২০৮ | ৩৬৫ | আছে | আছে | আছে |
📄 যমযমের পানির জীবতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
১৪০০ হিজরীতে, মোতাবেক ১৯৮০ খৃঃ মসজিদে হারাম আক্রান্ত হওয়ার পর যমযমের পানি দূষিত হয়ে পড়ায় তা পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেয়া হয়। সে উদ্দেশ্যে দমকল দিয়ে যমযমের পানি সেচ করে বাইরে ফেলে দেয়া হয় এবং কূপের মুখ থেকে নীচের দিকে ১৩-১৭ মিটার দূরে অবস্থিত মূল উৎসমুখসমূহ থেকে এবং ২৬-৩০ মিটার দূরে অবস্থিত কূপের সর্বশেষ তলদেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তখন কূপের দূষিত পানি সেচ করে বের করে দেয়া হয়েছে এবং কূপের মৌলিক ও শাখা উৎসমুখসমূহ সুস্পষ্ট হওয়ার পরই সেখান থেকে পানি নেয়া হয়েছে।
১৩-১৭ মিটার নীচ থেকে গৃহীত পানির নমুনার মধ্যে মাইক্রোব বা রোগ জীবাণুর পরীক্ষায় দেখা যায় যে, এতে স্যালামোনেল্যা, সিগেল্যা এবং ইসেরিচিয়া কোলাই মাইক্রোবের হার অনেক বেশী।
১৪০০ হিজরীর ২০শে মুহররমে গৃহীত নমুনা থেকে দেখা যায় যে, এতে ১০০ ঘন সেন্টিমিটারে ১ লাখ ৮০ হাজার ইসেরিচিয়া কোলাই মওজুদ রয়েছে। এই হার ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে এবং ৪০০ হিজরীর ১২ই সফরের অপর এক পরীক্ষায় দেখা যায় যে, ১০০ ঘন সেন্টিমিটার পানিতে উক্ত মাইক্রোবের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮০০। কিন্তু কূপের তলদেশের পানির গৃহীত নমুনায় এই হার আরো অনেক বেশী। ২৬-৩০ মিটার নীচ থেকে একই তারিখে গৃহীত নমুনা পানিতে দেখা যায় যে, ১০০ ঘন সেন্টিমিটার পানিতে ইসেরিচিয়া কোলাই এর সংখ্যা হচ্ছে ১০ লাখ।
উপরোক্ত পরীক্ষায় রোগ জীবাণুর সংখ্যার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ২০শে মুহররমের নমুনা পানিতে এক ঘন সেন্টিমিটারে ২ লাখ ৯০ হাজার এবং ২৯শে মুহররমের নমুনা পানির পরীক্ষায় তিন ঘন সেন্টিমিটার পানিতে এর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৭ লাখ ৫ হাজারে দাঁড়ায়। সেখানে পানির তাপমাত্রা হচ্ছে ৩২% ভাগ। অথচ অনুরূপ মাইক্রোবের উপযোগী তাপমাত্রা হচ্ছে ৩৭% ভাগ। ফলে সেখানে এই মাইক্রোব বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে। গোটা কূপে পানি সেচের সাথে সাথে ক্লোর ব্যবহার করে কূপের দেয়াল এবং তলদেশ থেকে সকল মাইক্রোব নির্মূল করার চেষ্টা করা হয়। কূপ থেকে পানিসেচ করে বাইরে ফেলে তা পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে কয়েকটি পাম্প মেশিনের সাহায্যে প্রতি মিনিটে ৮ হাজার লিটার পানি তোলা হয় এবং কূপের পানির স্তর নীচে নামার কারণে, এর মূল উৎসমুখ সমূহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে উপরোক্ত পরীক্ষা চালানো হয়।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ১৪০০ হিজরীর মসজিদে হারামে দুঃখজনক আক্রমণের ৬ মাস পূর্বে মাত্র, সৌদী সরকারের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের পানি ও সুয়েরেজ কল্যাণ বিভাগের উদ্যোগে যমযম কূপ পরিষ্কার করা হয়। পাম্প মেশিনের সাহায্যে পানি সেচ করে কূপ থেকে অনেক বালু ও আবর্জনা পরিষ্কার করার পর সকল রোগ-জীবাণুমুক্ত করা হয়। তখন সেখানে স্যালামোনেল্যা, সিগেল্যা এবং ইসেরিচিয়া মাইক্রোবসহ অন্য রোগ জীবাণুর আর কোন অস্তিত্ব ছিল না।
পক্ষান্তরে, প্রকৃতিগতভাবে পানিতে মওজুদ অন্যান্য মাইক্রোবের গড় হার কূপের প্রধান উৎসের মধ্যে স্থিতিশীল থাকলেও, ছোট উৎসমূহের মধ্যে উক্ত হার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকে। এর দ্বারা নিঃসন্দেহে একথা প্রমাণিত হয় যে, যমযমের মূল উৎসগুলোর পানি রোগ বিস্তারকারী জীবাণু থেকে পুরো মুক্ত। যমযমের পানি রোগ জীবাণুমুক্ত কিনা এ বিষয়ে আরো বেশী সতর্কতামূলক তথ্য লাভের উদ্দেশ্যে মাতাফের নীচের পানি মিশ্রিত মাটির জীবতাত্ত্বিক গবেষণা চালানো হয়। কা'বার পার্শ্বের মাতাফের স্তর পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে খনন কাজ পরিচালনার পর দেখা যায় যে, মাত্র মার্বেল পাথরের নীচের মাটিটুকুও পানি মিশ্রিত এবং ভিজা। কাবার চতুর্দিকে এই একই অবস্থা। তখন হাজারে আসওয়াদের সামনে থেকে কা'বা হতে মাত্র ২ মিটার দূরে এবং ১ মিটার গভীর থেকে একটি নমুনা গ্রহণ করা হয়। আর ২য় নমুনাটি গ্রহণ করা হয় মাকামে ইবরাহীমের ৩ মিটার দূরে মারবেল পাথরের নীচ থেকে। পরীক্ষায় দেখা যায় যে, পানি মিশ্রিত উক্ত কাদামাটি যে কোন রোগ জীবাণু মুক্ত। এমনকি, প্রকৃতিগতভাবে মাটিতে বা ভিজা মাটিতে যে সকল মাইক্রোব থাকে, এতে তাও নেই। অর্থাৎ মাতাফের মার্বেল পাথরের নীচের মাটিতে ক্ষতিকর রোগ জীবাণু যেমন ফেকালিস স্যালামোনেল্যা, সিগেল্যা, ইসেরিচিয়া কোলাই এবং স্ট্রেপ্ট- এগুলোর কোনটাই মওজুদ নেই। ধারণা করা হয় যে, মাতাফের সিক্ত কাদামাটির পানির উৎস হচ্ছে যমযম অর্থাৎ এগুলো যমযমেরই পানি। মাতাফের নীচের মাটিতে পর্যন্ত যখন কোন রোগ জীবাণু নেই তখন যমযমে রোগ জীবাণু কিভাবে থাকতে পারে? আল্লাহ যমযম এবং মাতাফকে রোগমুক্ত করে লক্ষ কোটি মানুষের জন্য তাকে স্বাস্থ্যকর বানিয়েছেন।
যমযমের পানির রাসায়নিক পরীক্ষায় দেখা যায় যে, এতে সর্বোচ্চ পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। এ ছাড়াও এতে এলকালি, বায়োকার্বন এবং হাইড্রোজেনের মওজুদ উত্তম। এতে প্রয়োজনীয় সোডিয়াম, পটাসিয়াম এবং ক্লোরয়েড রয়েছে। এ ছাড়াও এতে সালফার এবং নাইট্রিক এসিডের তৈরি লবণের হার সন্তোষজনক। স্বাস্থ্যকর পানির যে সকল বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার তার সবগুলোই যমযমের পানিতে উত্তম ও সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।
যমযমের পানির পূর্ণাঙ্গ বৈশিষ্ট্যের কারণে তুলনামূলকভাবে অন্যান্য পানির চাইতে তা শ্রেষ্ঠ হওয়ায় এর ওজনও অপেক্ষাকৃত বেশী। সাবেক গবেষণা অনুযায়ী ওজনের ঐানের দৃষ্টিতে কিছু মিল আছে। দাউদিয়া কূপেরও একাধিক উৎস রয়েছে। সম্ভবতঃ কোন কোন সময় যমযম থেকে দাউদিয়া কূপে পানি গিয়ে মিলিত হয়।
দুই কূপের পানির বৈশিষ্ট্য প্রায় কাছাকাছি। যমযমের পানি উত্তোলন করা হলে, দাউদিয়া কূপের পানি কিছুটা কমে আসে। উভয় কূপ যদি পাথরের ছিদ্রের মাধ্যমে একই উৎস থেকে উৎসারিত হত, তাহলে একটির প্রভাব সরাসরি অন্যটিতে গিয়ে পড়ত। কিন্তু, ব্যাপারটি এরকম নয় বলে একটা আরেকটা দ্বারা প্রভাবিত হয় না। এমনকি দাউদিয়া কূপ এবং যমযম কূপের মধ্যে পানি বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ব্যাপক অমিল রয়েছে। তবে উভয়ের পানির মধ্যে কিছু সমান বৈশিষ্ট্য দ্বারা মনে হয় যে, যমযম থেকে ঐ কূপে কিছু পানি গিয়ে মিলিত হয়।
পক্ষান্তরে, বন্যা ও বৃষ্টির পানি যমযমের উপর কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। তবে পাকিস্তানী কনসালটেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়েছে যে, তাদের রেকর্ডকৃত তথ্য অনুযায়ী, তায়েফে বৃষ্টি হলে যমযমের পানির স্তরে হঠাৎ করে বিরাট পরিবর্তন দেখা দেয়।
অপরদিকে, পানি নিষ্কাশন ড্রেন এবং বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ড্রেন থেকে শিলা দ্বারা গঠিত প্রস্তরময় ভূখণ্ডের পাথরের ফাঁক দিয়ে পানি এসে যমযমের পানির উৎসের সাথে মিলিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
১৫০০ খৃষ্টাব্দে, এক পানি বন্টন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নহরে যুবায়দার পানি মক্কায় সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। ঐ নেটওয়ার্কের একটি শাখা সাফা পাহাড়ের রাস্তা বরাবর হয়ে যায়। ঐ নেটওয়ার্ক থেকে কিছু পানি যমযমের কাছে একটি কূপে এসে জমা হয়। নহরে যুবায়দার পানি শুধু পূর্বদিকের পাহাড়ী এলাকায় ব্যবহার করা হয়।
নহরে যুবায়দা থেকে দৈনিক মাত্র ৫ হাজার ঘনমিটার পানি সরবরাহ করা হত। কিন্তু পরবর্তীতে মক্কায় সাধারণ মৌসুমে দৈনিক ৭২ হাজার ঘনমিটার এবং হজ্জের মৌসুমে দৈনিক ১ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার পানি সরবরাহের প্রয়োজন দেখা দেয়। বর্তমানে লোহিত সাগরের শোয়াইবিয়া থেকে মক্কা ও তায়েফে লবণাক্ত পানিকে মিষ্টি পানিতে পরিণত করে মক্কায় দৈনিক ২৫ মিলিয়ন গ্যালন এবং তায়েফে ১৫ মিলিয়ন গ্যালন সরবরাহ করা হচ্ছে। যমযমে যাতে অন্যান্য নেটওয়ার্কের পানি প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য গভীর গর্ত খনন করা জরুরী।
১৪০০ হিজরীতে, মোতাবেক ১৯৮০ খৃঃ মসজিদে হারাম আক্রান্ত হওয়ার পর যমযমের পানি দূষিত হয়ে পড়ায় তা পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেয়া হয়। সে উদ্দেশ্যে দমকল দিয়ে যমযমের পানি সেচ করে বাইরে ফেলে দেয়া হয় এবং কূপের মুখ থেকে নীচের দিকে ১৩-১৭ মিটার দূরে অবস্থিত মূল উৎসমুখসমূহ থেকে এবং ২৬-৩০ মিটার দূরে অবস্থিত কূপের সর্বশেষ তলদেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তখন কূপের দূষিত পানি সেচ করে বের করে দেয়া হয়েছে এবং কূপের মৌলিক ও শাখা উৎসমুখসমূহ সুস্পষ্ট হওয়ার পরই সেখান থেকে পানি নেয়া হয়েছে।
১৩-১৭ মিটার নীচ থেকে গৃহীত পানির নমুনার মধ্যে মাইক্রোব বা রোগ জীবাণুর পরীক্ষায় দেখা যায় যে, এতে স্যালামোনেল্যা, সিগেল্যা এবং ইসেরিচিয়া কোলাই মাইক্রোবের হার অনেক বেশী।
১৪০০ হিজরীর ২০শে মুহররমে গৃহীত নমুনা থেকে দেখা যায় যে, এতে ১০০ ঘন সেন্টিমিটারে ১ লাখ ৮০ হাজার ইসেরিচিয়া কোলাই মওজুদ রয়েছে। এই হার ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে এবং ৪০০ হিজরীর ১২ই সফরের অপর এক পরীক্ষায় দেখা যায় যে, ১০০ ঘন সেন্টিমিটার পানিতে উক্ত মাইক্রোবের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮০০। কিন্তু কূপের তলদেশের পানির গৃহীত নমুনায় এই হার আরো অনেক বেশী। ২৬-৩০ মিটার নীচ থেকে একই তারিখে গৃহীত নমুনা পানিতে দেখা যায় যে, ১০০ ঘন সেন্টিমিটার পানিতে ইসেরিচিয়া কোলাই এর সংখ্যা হচ্ছে ১০ লাখ।
উপরোক্ত পরীক্ষায় রোগ জীবাণুর সংখ্যার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ২০শে মুহররমের নমুনা পানিতে এক ঘন সেন্টিমিটারে ২ লাখ ৯০ হাজার এবং ২৯শে মুহররমের নমুনা পানির পরীক্ষায় তিন ঘন সেন্টিমিটার পানিতে এর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৭ লাখ ৫ হাজারে দাঁড়ায়। সেখানে পানির তাপমাত্রা হচ্ছে ৩২% ভাগ। অথচ অনুরূপ মাইক্রোবের উপযোগী তাপমাত্রা হচ্ছে ৩৭% ভাগ। ফলে সেখানে এই মাইক্রোব বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে। গোটা কূপে পানি সেচের সাথে সাথে ক্লোর ব্যবহার করে কূপের দেয়াল এবং তলদেশ থেকে সকল মাইক্রোব নির্মূল করার চেষ্টা করা হয়। কূপ থেকে পানিসেচ করে বাইরে ফেলে তা পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে কয়েকটি পাম্প মেশিনের সাহায্যে প্রতি মিনিটে ৮ হাজার লিটার পানি তোলা হয় এবং কূপের পানির স্তর নীচে নামার কারণে, এর মূল উৎসমুখ সমূহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে উপরোক্ত পরীক্ষা চালানো হয়।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ১৪০০ হিজরীর মসজিদে হারামে দুঃখজনক আক্রমণের ৬ মাস পূর্বে মাত্র, সৌদী সরকারের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের পানি ও সুয়েরেজ কল্যাণ বিভাগের উদ্যোগে যমযম কূপ পরিষ্কার করা হয়। পাম্প মেশিনের সাহায্যে পানি সেচ করে কূপ থেকে অনেক বালু ও আবর্জনা পরিষ্কার করার পর সকল রোগ-জীবাণুমুক্ত করা হয়। তখন সেখানে স্যালামোনেল্যা, সিগেল্যা এবং ইসেরিচিয়া মাইক্রোবসহ অন্য রোগ জীবাণুর আর কোন অস্তিত্ব ছিল না।
পক্ষান্তরে, প্রকৃতিগতভাবে পানিতে মওজুদ অন্যান্য মাইক্রোবের গড় হার কূপের প্রধান উৎসের মধ্যে স্থিতিশীল থাকলেও, ছোট উৎসমূহের মধ্যে উক্ত হার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকে। এর দ্বারা নিঃসন্দেহে একথা প্রমাণিত হয় যে, যমযমের মূল উৎসগুলোর পানি রোগ বিস্তারকারী জীবাণু থেকে পুরো মুক্ত। যমযমের পানি রোগ জীবাণুমুক্ত কিনা এ বিষয়ে আরো বেশী সতর্কতামূলক তথ্য লাভের উদ্দেশ্যে মাতাফের নীচের পানি মিশ্রিত মাটির জীবতাত্ত্বিক গবেষণা চালানো হয়। কা'বার পার্শ্বের মাতাফের স্তর পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে খনন কাজ পরিচালনার পর দেখা যায় যে, মাত্র মার্বেল পাথরের নীচের মাটিটুকুও পানি মিশ্রিত এবং ভিজা। কাবার চতুর্দিকে এই একই অবস্থা। তখন হাজারে আসওয়াদের সামনে থেকে কা'বা হতে মাত্র ২ মিটার দূরে এবং ১ মিটার গভীর থেকে একটি নমুনা গ্রহণ করা হয়। আর ২য় নমুনাটি গ্রহণ করা হয় মাকামে ইবরাহীমের ৩ মিটার দূরে মারবেল পাথরের নীচ থেকে। পরীক্ষায় দেখা যায় যে, পানি মিশ্রিত উক্ত কাদামাটি যে কোন রোগ জীবাণু মুক্ত। এমনকি, প্রকৃতিগতভাবে মাটিতে বা ভিজা মাটিতে যে সকল মাইক্রোব থাকে, এতে তাও নেই। অর্থাৎ মাতাফের মার্বেল পাথরের নীচের মাটিতে ক্ষতিকর রোগ জীবাণু যেমন ফেকালিস স্যালামোনেল্যা, সিগেল্যা, ইসেরিচিয়া কোলাই এবং স্ট্রেপ্ট- এগুলোর কোনটাই মওজুদ নেই। ধারণা করা হয় যে, মাতাফের সিক্ত কাদামাটির পানির উৎস হচ্ছে যমযম অর্থাৎ এগুলো যমযমেরই পানি। মাতাফের নীচের মাটিতে পর্যন্ত যখন কোন রোগ জীবাণু নেই তখন যমযমে রোগ জীবাণু কিভাবে থাকতে পারে? আল্লাহ যমযম এবং মাতাফকে রোগমুক্ত করে লক্ষ কোটি মানুষের জন্য তাকে স্বাস্থ্যকর বানিয়েছেন।
যমযমের পানির রাসায়নিক পরীক্ষায় দেখা যায় যে, এতে সর্বোচ্চ পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। এ ছাড়াও এতে এলকালি, বায়োকার্বন এবং হাইড্রোজেনের মওজুদ উত্তম। এতে প্রয়োজনীয় সোডিয়াম, পটাসিয়াম এবং ক্লোরয়েড রয়েছে। এ ছাড়াও এতে সালফার এবং নাইট্রিক এসিডের তৈরি লবণের হার সন্তোষজনক। স্বাস্থ্যকর পানির যে সকল বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার তার সবগুলোই যমযমের পানিতে উত্তম ও সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।
যমযমের পানির পূর্ণাঙ্গ বৈশিষ্ট্যের কারণে তুলনামূলকভাবে অন্যান্য পানির চাইতে তা শ্রেষ্ঠ হওয়ায় এর ওজনও অপেক্ষাকৃত বেশী। সাবেক গবেষণা অনুযায়ী ওজনের ঐ পার্থক্য ১০% ভাগ পর্যন্ত সম্প্রসারিত।
যমযম পৃথিবীর সেরা ও শ্রেষ্ঠ পানি। এটা শুধু পানি নয় বরং তা একাধারে পানীয় খাদ্য ও ওষুধ হিসেবে কাজ করে বলে তা পৃথিবীর অন্য যে কোন পানির চাইতে সার্বিক দিক থেকে অতুলনীয়।
যমযমের পানির আরো ব্যাপক গবেষণা দরকার তাতে করে হাদীসে বর্ণিত এর অন্যান্য উপকারিতাগুলো সম্পর্কেও আরো বিস্তারিত জানা যাবে।