📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 সর্বশেষ যমযমের পানি বণ্টন নেটওয়ার্ক

📄 সর্বশেষ যমযমের পানি বণ্টন নেটওয়ার্ক


যমযমের উলেখিত পানি বন্টন নেটওয়ার্ক ক্রমবর্ধমান হাজীদের সংখ্যার তুলনায় অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়। সৌদী আরবসহ অন্যান্য তেল উৎপাদককারী দেশগুলো ১৯৮০ দশকে তেলমূল্য প্রায় ৪ গুণ বৃদ্ধি করায় তাদের রাজস্ব আয় কল্পনাতীতভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে সৌদী আরবের বিশাল তেল মওজুদের কারণে এবং অধিক তেলবিক্রির ফলে দেশটির আয় অবিশ্বাস্য রকম বৃদ্ধি পায়। তখন থেকেই সৌদী আরব দেশের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেয়। ফলে, বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ প্রয়োজনীয় জনশক্তি আমদানি শুরু হয়। এই সকল জনশক্তির বেশীর ভাগ মুসলমান বলে তারা হারামাইন শরীফাইনে নিয়মিত আসা-যাওয়া শুরু করায় সেখানে ব্যাপক ভিড় সৃষ্টি হয়। হজ্জের সময় সৌদী নাগরিক এবং সৌদী আরবে কর্মরত প্রবাসী হাজীদের সংখ্যা বিদেশ থেকে আগত হাজীদের সংখ্যার সমান কিংবা তাকেও ছাড়িয়ে যায়। ১৪০৩ হিজরী অর্থাৎ ১৯৮৩ সালে বিদেশ থেকে আগত হাজীদের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ লাখ ৩ হাজার ৯১১ জন। প্রতিবছর এই সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ফলে যমযমের সাবেক ব্যবস্থা, বর্তমান হাজীদের সংখ্যা ও প্রয়োজনের তুলনায় ১ ভাগ বিবেচিত হয়।

উপরোক্ত অবস্থার আলোকে, ১৩৯৮ হিজরীতে পুনরায় মাতাফ এবং যমযমের পানিসেবার সম্প্রসারণ কর্মসূচীর সূচনা হয়। এই সম্প্রসারণ কর্মসূচীর আওতায় মাতাফকে সম্প্রসারিত করে একসাথে ২৮ হাজার লোকের তওয়াফের ব্যবস্থা করা হয় এবং ভবিষ্যতে ২৫ লাখ হাজীর তওয়াফের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। এর ফলে মাতাফের আয়তন ৩ হাজার ২৯৮ বর্গমিটার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭ হাজার ১১৯ বর্গমিটারে দাঁড়ায়।

এ ছাড়াও মসজিদে হারামে ১ হাজার লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন ৩০০টি ব্যারেল আছে এবং প্রত্যেকটাতে ৪টি করে টেপ আছে। এই সকল টেপসহ সমজিদে হারামে মোট টেপের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০০ তে। ব্যারেলগুলোর সাথে এবং আরো কিছু টেপের সাথে স্টীলের মগ শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয় যেন লোকেরা পানি পান করতে পারে। মসিজদে হারামে দৈনিক একবার ব্যবহার উপযোগী ১ লাখ প্লাস্টিকের গ্লাস ব্যবহার হয়। রমজান ও হজ্ব মওসুমে ৫ লাখ গ্লাস লাগে। পরে সেগুলো ফেলে দেয়া হয়।

একই সম্প্রসারণ কর্মসূচীর আওতায় যমযমের বেজমেন্টের আয়তন ১৩৫ বর্গমিটার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৪৫০ বর্গমিটারে দাঁড়ায়। মাতাফের নীচে অবস্থিত যমযম ভবনটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং দর্শকদের জন্য অতি নিকটে দাঁড়িয়েই যমযম কূপ দেখার সুযোগ হয়েছে। হজ্জের ভিড়ের সময় এতে আড়াই হাজার মানুষের অবস্থান সম্ভব। যমযম ভবনটি দুই ভাগে বিভক্ত। একটি পুরুষদের জন্য এবং অন্যটি মহিলাদের জন্য। এছাড়াও এতে ৩৫০টি কল (টেপ) লাগানো হয়। এর ফলে, প্রতি মিনিটে ৩৫০ ব্যক্তি এবং প্রতিদিন ৫ লাখ লোক হজ্জ মওসুমে ঐ কলগুলো থেকে সহজেই পানি পান করতে পারে। মসজিদ ভবনের একতলা এবং দোতলায় বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট স্থানে ৩৮৪টি কল লাগানো হয়েছে। ফলে, মসজিদে হারামে মোট কলের সংখ্যা হচ্ছে ৭৩৪টি। যমযম ভবন এবং মসজিদে পানির কলগুলোকে এতটুকু উঁচু করা হয়েছে যেন, যমযমের পানি দিয়ে অজু ও গোসল করা না যায়। বর্তমানে, মাটির নীচতলায় মসজিদ ভবনে যামাযেমা বা পানি পান কেন্দ্র থাকলেও ভবিষ্যতে সেখান থেকে পানির কল হ্রাস করা হবে। বর্তমানে, মাতাফ এবং মসজিদে হারামের বিভিন্ন তলায় মোট ৫ হাজার থার্মসে করে যমযমের ঠাণ্ডা পানি সরবরাহ করা হয়। যমযমের পানির তৈরি বরফ দিয়ে তা ঠাণ্ডা করা হয়। এই উদ্দেশ্যে, যমযমের পানিকে বরফ করার জন্য এক কোম্পানীর সাথে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী কোম্পানী যমযমের পানিকে বরফ করে প্রতিদিন তা মসজিদে হারামে সরবরাহ করে। মসজিদের ভেতর মোট ১৩টি স্থানে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মসজিদের পরিচ্ছন্নতা এবং অগ্নি প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে কতগুলো মোটা পানির পাইপ বসানো হয়েছে এবং এগুলোকে দাউদিয়া কূপের পানির ট্যাঙ্কের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। দাউদিয়া কূপ থেকে ঐ সকল ট্যাংকে পানি সরবরাহ করা হয় এবং সেই পানি দিয়ে মসজিদ ধোয়া হয়।

মাতাফের নীচে যমযম ভবনটিকে আধুনিক এয়ারকন্ডিশন ও ভেন্টিলেশন দ্বারা এমনভাবে তৈরী করা হয়েছে যেন এর তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশী না হয়। এতে ফ্লাড লাইটের মাধ্যমে পরোক্ষ আলো বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিবিম্ব সৃষ্টিকারী বাতিগুলো ঘুরে ঘুরে আলো দেয়। এগুলো সাধারণ মওসুমে ৭৫ লক্স এবং হজ্জ ও রমযান মওসুমে ১৫০ লক্স আলো দান করে।

নতুন সম্প্রসারিত কর্মসূচীর আওতায় মসজিদে হারামে নতুন পাম্পিং পদ্ধতির মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। পাম্প মেশিন, পানি সংরক্ষণ, হিমায়িতকরণ ও বন্টন নেটওয়ার্কের উন্নয়ন করা হয়। এই প্রকল্পের আলোকে, পানি সংরক্ষণ ট্যাংকে পানি সরবরাহ এবং পানি হিমায়িতকরণের উদ্দেশ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়। বাবুস সালামের উপর অবস্থিত বর্তমান পানির সংরক্ষণ ট্যাংককে হজ্জের মওসুমের জন্য অতিরিক্ত মওজুদ হিসেবে বিদ্যমান রাখা হয়েছে। অপরদিকে, সাধারণ মওসুমে পানি সেবাকেন্দ্রে অবস্থিত পানিই চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট। বাইরের আবহাওয়া থেকে যমযমকে মুক্ত রাখার জন্য মাতাফের উপরিভাগের মুখের উপর পরিবর্তনযোগ্য একটি ঢাকনি দেয়া হয় এবং এর উপর আরবীতে বড় অক্ষরে 'যমযম' শব্দটি লেখা হয়।

রমযান ও হজ্জ মওসুমে ভিড়ের সময় যমযমের অতিরিক্ত পানি সরবরাহ করার প্রয়োজন পড়ে। সেজন্য মসজিদে হারামের বাবুস সালামের ছাদের উপর নির্মিত পানির ট্যাংকটি পর্যাপ্ত নয় বলে কুদায়ে যমযমের অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণের জন্য এক বিরাট রিজার্ভার তৈরি করা হয় এবং ১৯৮৭ সালের রমজান মাসে তা চালু করা হয়। ১০ হাজার মিটার দূরে অবস্থিত উক্ত রিজার্ভারে, জিয়াদের পাহাড়ী সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে পাইপের মাধ্যমে পানি পাম্প করে তাকে সংরক্ষণ করা হয়। রিজার্ভারটি বিশেষ কম্পিউটার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

বর্তমানে, মসজিদে হারামের উত্তর পূর্বে, গাজ্জা ও শেবে আলীর মাঝে গাড়ীর মালিকদের সুবিধার্থে গ্যালন ও কেন ভর্তি করে পানি নেয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও আগে ইবরাহীম খলীল রোডের হিজলায় বাদশাহ আবদুল আযীয লিল্লাহ

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 ইউনিফাইড যামায়েমা দফতর

📄 ইউনিফাইড যামায়েমা দফতর


সাক্কেল যামাযেমা মক্কায় যমযমের পানি সরবরাহ কেন্দ্র। ১৪০২ হিজরী পর্যন্ত তা চালু ছিল। ১৪০৩ হিজরীতে, হজ্জ ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে, এর নাম পরিবর্তন করে এর নামকরণ করা হয় 'ইউনিফাইড যামায়েমা দফতর' (مَكْتَبُ الزَّمَازِمَةُ الْمُوَحِدِ)। তখন থেকে এই দফতর স্বতন্ত্রভাবে, জেদ্দায় এবং পবিত্র মক্কা নগরীতে আগত হাজীদের আবাসস্থলে যমযমের পানি সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে আসছে।

এই দফতরের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে নিম্নরূপ:
১. হাজীদেরকে মক্কায় তাদের আবাসস্থলে পানি পৌঁছে দেয়া।
২. হজ্জ মওসুমে মসজিদে হারামের প্রবেশ পথসমূহে পানি বিতরণ করা।
৩. জেদ্দার বিমান বন্দর ও সামুদ্রিক বন্দরে আগত এবং বহির্গামী হাজীদেরকে পানি পান করানো।
৪. মক্কা-জেদ্দা এক্সপ্রেস রোডের চেকপোস্টে হাজীদেরকে পানি পান করানো।
৫. মদীনা মুনাওয়ারা চেকপোস্টে হাজীদেরকে পানি পান করানো।

এই দফতর হজ্জ মওসুমে ২০ লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন কনটেইনার ভর্তি করে হাজীদের আবাসস্থলে পানি সরবরাহ করে। যাতে করে হাজীরা দিনরাত সবসময় পানি পান করতে পারে।

এই দফতর ১৪০৯ হিজরীর হজ্জ মওসুমে, ২০ লিটার পানি ধারণকারী ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮৩৮টি এবং ৪০ লিটার পানি ধারণক্ষম ২ হাজার ১২৪টি কনটেইনার ভর্তি করে হাজীদের ঘরে ঘরে পানি সরবরাহ করেছে। এছাড়াও ১৪০৩-১৪০৯ হিজরী পর্যন্ত এই ৬ বছরে প্লাস্টিকের গ্লাসে ২ কোটি ১৪ লক্ষ ১৪ হাজার ২২৩ গ্লাস পানি হাজীদেরকে পান করিয়েছে।

১৪০৯ হিজরীতে, এই দফতর প্লাস্টিকের গ্লাসে ৩৯ লক্ষ ৭০ হাজার গ্লাস পানি হাজীদেরকে পান করিয়েছে।

এই দফতর ১৪০৩ হিজরী থেকে ১৪০৯ হিজরী পর্যন্ত ১ কোটি ৬০ লক্ষ ২৪ হাজার ৫৯টি কনটেইনার পানি হাজীদের আবাসস্থলে সরবরাহ করেছে। ১৪০৯ হিজরীতে মক্কায় ২৫ লক্ষ ৪০ হাজার ৯০০ কনটেইনার পানি সরবরাহ করেছে।

উল্লেখ্য যে, মসজিদে হারামের ভেতরে যমযমের পানি সরবরাহের দায়িত্ব হারামাইন শরীফাইন প্রেসিডেন্সীর উপর ন্যস্ত। যামায়েমা দফতর মসজিদে হারামের বাইরে ও হাজীদের ঘরে ঘরে পানি সরবরাহের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত।

যামায়েমা দফতর কুদাই নামক স্থানে পানি ভর্তি করার এক বিশাল স্বয়ংক্রিয় কারখানা স্থাপন করেছে। এখান থেকে বোতল ও কন্টেইনারে পানি ভর্তি করে হাজীদের কাছে সরবরাহ করা হয়।

টিকাঃ
২৬. 'মাতাফ' অর্থ তওয়াফের স্থান। সাফা ও মারওয়ার মাঝখানে সাঈর স্থানকে 'মাসআ' বলে।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 যমযমের হিমাগার

📄 যমযমের হিমাগার


বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আযীয ১৪০৬ হিজরীর ১০ই রমযান, মসজিদে হারামের যমযমের পানি সরবরাহের একটি নতুন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পের আওতায়, যমযমের পানিকে ঠান্ডা করে তা সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।

প্রকল্পটি মসজিদে হারামের দক্ষিণে এবং ছোট সুড়ঙ্গ পথের নিকটবর্তী সাবেক হাযওয়ারা নামক স্থানে অবস্থিত। এতে প্রতি ঘন্টায় ১২০ ঘনমিটার পানি ঠান্ডা করা হয়। যমযম থেকে দুটি শক্তিশালী পাম্পের মাধ্যমে পানি হিমাগারে আনা হয়। হিমাগার থেকে ঠান্ডা করে তা পুনরায় মসজিদে হারামে এবং যমযম সেবাকেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়।

এই হিমাগার তৈরি এবং এর সাথে মসজিদে হারামের সংযোগ স্থাপনের জন্য মোট ৫ কোটি রিয়াল খরচ হয়। হিমাগারে পানি ঠান্ডা করার জন্য ৩টি ইউনিট আছে।

যমযম থেকে হিমাগার পর্যন্ত পানি সরবরাহের জন্য যে পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে, তার ব্যাস ২০ সেন্টিমিটার এবং এটি স্টেইনলেস স্টীলের তৈরি। মসজিদে হারামের ভেতরে বিতরণের জন্য যে পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে, তাও স্টেইনলেস স্টীলের তৈরি। এই পাইপগুলো বিশেষ ইনসুলেশন দ্বারা আবৃত, যাতে পানির তাপমাত্রা বজায় থাকে।

হিমাগারে পানি ঠান্ডা করার পর তা পুনরায় যমযম এলাকায় অবস্থিত সরবরাহ কেন্দ্রে এবং মসজিদে হারামের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। সরবরাহ কেন্দ্র থেকে সাধারণ মানুষ ও হাজীরা ঠান্ডা পানি পান করতে পারে।

এছাড়াও মসজিদে হারামের বিভিন্ন স্থানে ৫ হাজারেরও বেশি থার্মস জগে ঠান্ডা পানি সরবরাহ করা হয়। এই পানি বরফ ও যমযমের পানি মিশিয়ে ঠান্ডা করা হয়।

এই প্রকল্পের ফলে, হাজীরা গরমের দিনেও ঠান্ডা যমযমের পানি পান করার সুযোগ পায়। এটি বাদশাহ ফাহাদের এক অনন্য অবদান।

টিকাঃ

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 যমযমের ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা

📄 যমযমের ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা


যমযম কূপের পানির স্তর বর্তমানে প্রাকৃতিক কারণে নীচে নেমে গেছে। এই স্তর নীচে নামার আগে যমযমের পানি ইয়াখুর নামক ড্রেন দিয়ে নিষ্কাশন করা হত। যমযমের পানিস্তর নীচে নেমে যাওয়ায় ঐ ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন অসম্ভব হয়ে পড়ে। 'ইয়াখুর' একটি তুর্কী শব্দ। ধারণা করা হয় যে, তুর্কী শাসনামলে যমযমের ব্যবহৃত ও মসজিদের বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য এই গভীর ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়। সম্ভবতঃ এই ড্রেনটি মসজিদ থেকে দূরে একটি গভীর কূপের সাথে সংযুক্ত। কিন্তু কূপটির অবস্থানস্থল অজানা। বেশী গভীরতার জন্যই এটিকে কূপ বলা হয়। মেসফালার বাড়ী-ঘরসমূহের নীচে কিছু ছোট ছোট নালাার সন্ধান পাওয়া যায়। সম্ভবতঃ তুর্কীরা ইয়াখুর কূপের পানি বের করার জন্যই ঐ সকল ছোট নালাগুলো নির্মাণ করে। হারাম এলাকার উন্নয়ন, বহুতল বিশিষ্ট বহু সংখ্যক ইমারত নির্মাণ এবং সেগুলো থেকে ময়লা পানি নিষ্কাশনের জন্য যে সকল নালা ইয়াখুর কূপে গিয়ে মিলিত হয়েছে তার ফলে ইয়াখুর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্ভবতঃ অচল হয়ে গেছে। ফলে, ইয়াখুর ড্রেন পদ্ধতি তার কাঙ্খিত পানি নিষ্কাশনের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। ইয়াখুর কূপ ও ড্রেন নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা না থাকায় তা আবিষ্কার করার পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। কেননা, এতে ব্যাপক খননকার্য পরিচালনা করতে হবে, অসংখ্য বাড়ী-ঘরের ভিত্তি নষ্ট হবে, ট্রাফিক ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়বে, এবং মোটা অংকের অর্থ ব্যয় হবে। অনুমানের ভিত্তিতে খনন কাজ হবে, তারপরও লক্ষ্যে পৌঁছার কোন নিশ্চিত সম্ভাবনা নেই।

পরে জাবালে আবু কোবায়েসের নীচ দিয়ে মসজিদে হারামের ধোয়া ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি ড্রেন নির্মাণ করা হয় যা কিলা পাহাড়ের তলদেশ দিয়ে প্রধান সড়ক বরাবর মেসফালায় বিদ্যমান শহরের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ড্রেনের সাথে গিয়ে সংযুক্ত হয়। পরে মসজিদে হারামের সর্বনিম্ন স্থানের লেবেল থেকে যমযমের ব্যবহৃত পানি এবং মসজিদে হারামের অন্যান্য স্থান থেকে, স্বাভাবিকভাবে গড়িয়ে আসার সুবিধার্থে, আরেকটি ড্রেন নির্মাণ করা হয়। এই দুটি ড্রেনের মাধ্যমে যমযম ও মসজিদে হারামের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়।

ইতিপূর্বে, মসজিদে হারাম থেকে মেসফালার দিকে হিজলা রোডে বিদ্যমান শহরের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ড্রেনের সাথে সংযোগ দিয়ে যমযম এবং মসজিদে হারামের পানি নিষ্কাশনের জন্য দুটো পৃথক ড্রেন নির্মাণ করার প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়।

মসজিদে হারামের সর্বনিম্ন স্থানের লেবেল থেকে যমযমের ব্যবহৃত পানি ও মসজিদে হারামের পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন কাটার পর যমযমের পানির স্তর নীচে নেমে যায়। ফলে, ড্রেনের কাজ বন্ধ রাখা হয় এবং বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য কয়েকটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিগুলো গঠনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, যমযমের পানির স্তর স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা এবং বাইরের দূষিত পানি যাতে কূপে প্রবেশ করতে না পারে তার নিশ্চয়তা বিধান করা।

শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে আসা হয় যে, অতীতে যমযমের পানি এত বেশী পরিমাণ ছিল না এবং যমযমের পানির স্তরও এত উঁচু ছিলনা। কোন কোন সময় যমযম কূপ শুকিয়ে পর্যন্ত গিয়েছিল। তাই পানির স্তর কমে যাওয়ার বিষয়টি সমস্যা হিসেবে বিবেচিত না হয়ে তাকে যমযমের জন্য কল্যাণকর মনে করা হয়। এতে করে আরো প্রমাণিত হয় যে, ড্রেনের ফলে, ভূগর্ভের পানি যমযমে এসে মিশতে পারে না। তাই যমযমের বর্তমান পানি শুধুমাত্র যমযমেরই পানি যা যমযমের মূল উৎস থেকে উৎসারিত। এর ফলে ড্রেনের স্থগিত কাজ পুনরায় শুরু করতে আর কোন সমস্যা নেই। পরে ড্রেন তৈরির কাজ সমাপ্ত করা হয়।

টিকাঃ
২৭. যমযম, ইয়াহইয়া কোশাক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00