📄 হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত যমযম কূপের উন্নয়ন
আযরাকী লিখেছেন, ইবনে আব্বাসের আমলে, যমযমের পানি পান করার জন্য দু'টো হাউজ ছিল। একটি ছিল, যমযম কূপ এবং হাজারে আসওয়াদের মাঝখানে, পানি পান করার হাউজ। অন্যটি ১ম টির পেছনে বাবুস সাফা বরাবর অজুর হাউজ। ১ম'টা থেকে ২য় টায় অজুর পানি সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল। কূপ থেকে চামড়ার মশকে করে পানি তুলে দুই হাউজে ঢালা হত। তখন দুইটি হাউজই কূপের কাছে ছিল এবং মাঝে কোন বেড়া ছিল না।
হযরত মুয়াওয়িয়াহ বিন আবু সুফিয়ান দারুন নাদওয়ায় একটি পানকেন্দ্র স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। তখন ইবনে আব্বাস তাঁকে না করেন। যমযম এবং হাজারে আসওয়াদের মাঝে, বাবুস-সাফার দিকে নাবীজ (খেজুর মিশ্রিত মিষ্টি পানি) পান করার হাউজ ছিল।
ইবনে আব্বাসের বসার স্থান ছিল যমযমের পার্শ্বে-সাফা এবং উপত্যকা অভিমুখী। অর্থাৎ যমযমে আসার সময় হাতের বামে। ইবনে আব্বাসের বৈঠকখানার উপর সর্বপ্রথম সোলায়মান বিন আবদুল মালেক গম্বুজ তৈরী করেন। তারপর খলিফা জাফর এর উপর একটি নতুন গম্বুজ তৈরি করেন এবং যমযমে জানালা নির্মাণ করেন। খলীফা আবু জাফরই সর্বপ্রথম যমযম কূপে মার্বেল পাথর লাগান। তিনি যমযমের জানালা এবং ভিটির উপর মার্বেল পাথর লাগান। তারপর খলীফা মাহদীও নতুন করে মার্বেল পাথর লাগান। তিনি যমযমের পার্শ্বে একটি কাঠের স্তম্ভের উপর ছোট একটি গম্বুজ নির্মাণ করেন। এতে তাওয়াফকারীদের সুবিধার্থে রাত্রে বাতি জ্বালানো হত। পরে উমর বিন ফারাজ রাখজী তা ভেঙ্গে ফেলেন।
আযরাকী ২২০ হিজরীতে খলীফা মুতাসিম বিল্লাহর আমলে, যমযম কূপে যে সকল নির্মাণ কাজ সংঘটিত হয়েছে তার বর্ণনা দিয়ে বলেন, যমযম কূপের উপর ছোট একটি গম্বুজ ব্যতীত এর বাকী সকল অংশ খোলা ছিল। উমর বিন ফারাজ রাখজী টিন দিয়ে যমযমের উপর ছাদ নির্মাণ করেন এবং ছাদের ভেতরের অংশ সোনা দ্বারা মোড়ান। হজ্জ মওসুমে বাতি জ্বালানোর উদ্দেশ্যে ছাদের চারদিকে শিকল ঝুলিয়ে তাতে তেলের বাতি লাগান। তিনি যমযম এবং পানকেন্দ্রের মাঝখানে অবস্থিত গম্বুজে মোজাইকের প্রলেপ দেন। এর আগে প্রতিবছর হজ্জের সময় এটিকে সাজানো হত।
আযরাকী যমযম পানকেন্দ্র এবং এর উপরে নির্মিত গম্বুজের বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, যমযম এবং পানকেন্দ্রের মধ্যে দূরত্ব ছিল সাড়ে ২১ হাত। মাঝখান থেকে এর প্রশস্ততার পরিমাণ হচ্ছে ১২.৯ হাত, ভেতর থেকে গোলাকার হাউজের মোট আয়তন হচ্ছে ৩৯ হাত এবং বাইরের দিক থেকে এর আয়তন হচ্ছে ৪০ হাত। এর ভিটি এবং দেয়াল মার্বেল পাথরের তৈরী।
পরে রাখজী তা পরিবর্তন করেন এবং তিনি এর দেয়ালে নকশাকৃত পাথর এবং ভিটিতে মার্বেল পাথর লাগান। তাঁর নির্মিত দেয়ালের উচ্চতা ছিল ১০ আঙ্গুল এবং প্রশস্ততা ছিল ৮ আঙ্গুল। এই পানকেন্দ্রের মাঝখানে ছিল নাবীজ বা খেজুর মিশ্রিত মিষ্টি পানির কেন্দ্র। সেখানে মার্বেল পাথরের তৈরী একটি ফোয়ারা ছিল। তাতে সীসা নির্মিত একটি পাইপের মাধ্যমে যমযমের পানি প্রবাহিত হত।
২৫৬ হিজরীতে, খলীফা মাহদীর শাসনামলে, মসজিদে হারামের নির্মাণ কাজের তদারকের জন্য বিসির নামক একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা হয়। তিনি গম্বুজের নীচের ভিটির মার্বেল পাথর সরিয়ে ফেলেন এবং সেখানে মাটি ফেলে তা উঁচু করেন। তিনি সেখানে একটি কূয়া নির্মাণ করে মাঝখানে পানি বের হওয়ার জন্য ঝর্ণা তৈরি করেন। চারদিকে কাঠের জানালা এবং খোলা ও বন্ধ করার মত দরজা লাগান। ইতিপূর্বে, এ জায়গায় লোকেরা এবাদত করত এবং ঘুম যেত। তিনি ইবনে মুহাম্মদ বিন দাউদের আমলে বড় গম্বুজের চারকোণে অবস্থিত কাঠের স্তম্ভের উপর নির্মিত ছোট ৪টি গম্বুজও ভেঙ্গে ফেলেন।
গম্বুজ বিশিষ্ট পান কেন্দ্র থেকে গম্বুজহীন হাউজের দূরত্ব ছিল ৫ হাত। গম্বুজহীন হাউজ থেকে গম্বুজ বিশিষ্ট পানকেন্দ্রের মাঝখান থেকে দূরত্ব হচ্ছে ১২.১৮ হাত। ভেতর থেকে ঐ গোলাকার হাউজের আয়তন ১৩ হাত এবং এর দেয়ালের প্রশস্ততা ছিল ৮ আঙ্গুল। হাউজের চারদিকে ৫০টি পাথর এবং হাউজের ভেতর পাথরের উপর মার্বেল পাথর লাগানো হয়। এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ রয়েছে। কিন্তু আমরা এখানে তা সংক্ষেপে পেশ করলাম।
৫৭৮ হিজরীতে ইবনে জোবায়ের তার বইতে মক্কা সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেন, যমযমের গম্বুজটি হাজারে আসওয়াদ অভিমুখী ছিল। দুটোর মধ্যে দূরত্ব ছিল ২৪ কদম এবং মাকামে ইবরাহীম থেকে এর দূরত্ব ছিল ১০ কদম। ভেতরে ধবধবে সাদা মার্বেল পাথরের গাঁথুনী। তিনি এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
ইমাম তকী ফাসী যমযমের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, যমযমের উপর একটি বর্গাকৃতির ঘর। ঘরের দেয়ালে ৯টি ছোট হাউজ। একটি খারাপ এবং অবশিষ্টগুলো ভাল। অজু করার জন্য এগুলোতে যমযমের পানি ভর্তি করে রাখা হত। কা'বার দিকের দেয়ালে জানালা ছিল এবং টিন দিয়ে এর ছাদ তৈরী করা হয়। যমযমের কূপের উপর সাধারণ কাঠের একটি জানালা ছিল। তকী ফাসীর এই বর্ণনা আযরাকীর বর্ণনার চাইতে ভিন্ন ধরনের। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, তকী ফাসীর সময়ের আব্বাসী খলীফাগণ ঐ নির্মাণ কাজ করেছেন। তারা আব্বাসী বংশের লোক হিসেবে হযরত আব্বাসের উপর যমযমের পানি পান করানোর অর্পিত দায়িত্বের প্রতি পরবর্তীতে যথেষ্ট ভালবাসা ও গুরুত্ব প্রদান করে।
তকী ফাসী বলেন, যমযমের ছাদের উপর ছিল মুয়াজ্জিনের আজানের স্থান। উইপোকা ছাদের খুঁটি খেয়ে ফেলায় আজানখানাটি পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলে, ৮২১ হিজরীতে, অন্য কাঠ দিয়ে মজবুত খুঁটি তৈরি করে আজানখানাকে হেফাজত করা হয়। ৮২২ হিজরীতে, যমযমের উপর নির্মিত শেড এর নীচের অলংকারপূর্ণ কাঠামো মেরামতের উদ্দেশ্যে ভেঙ্গে ফেলা হয়। শেড এর চারদিকে রেলিং এর ছোট ছোট খুঁটিগুলোতেও উইপোকা ধরায় সেগুলোও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে কাঠের তৈরি খুঁটির পরিবর্তে দেয়ালের উপর ইট ও চুনা দিয়ে কাবার দিকের দেয়াল, শাফেঈ মাজহাবের নামাযের স্থানের দিকের দেয়াল এবং বাবুল খালওয়াহর দিকের দেয়ালে মজবুত খুঁটি তৈরি করা হয়। যাতে করে আর উইপোকা তা নষ্ট করতে না পারে।
তকী ফাসীর শেফাউল গারাম বই এর নোটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৯৩৩ হিজরীতে, যমযমের উপর নির্মিত কক্ষের আভ্যন্তরীণ দিকের সোনালী কাঠামোতে তুর্কী সুলতান সোলায়মানের নাম লেখা ছিল। ৯৪৮ হিজরীতে, ঐ কক্ষটি সংস্কার করা হয়।
কাজী বিন জুহাইরাহ আল-মাখযুমী তাঁর বইতে লিখেছেন, শাহজাদা খোশকালদী ঐ সংস্কার করেন। তিনি কক্ষটির ভিটি নতুন মার্বেল পাথর দ্বারা এবং শেড নতুন নকশা করা কাঠ দ্বারা তৈরী করেন।
কুর্দী তাঁর বইতে লিখেছেন, ৯৭৩ হিজরীতে সুলতান সোলায়মানের আমলে যমযম কক্ষের সংস্কার করা হয়। তারপর সুলতান আবদুল হামীদ এবং সুলতান আবদুল মজীদ খানের আমলেও অনুরূপ সংস্কার করা হয়। কুর্দী আরো বলেন, সুলতান আহমদ আউয়াল বিন সুলতান মুহাম্মাদ যমযম কূপে একটি লোহার জানালা লাগানোর নির্দেশ দেন যেন কেউ কূপে পড়ে ডুবে না মরে। ১০২৫ হিজরীতে, যমযমের ভেতর ঐ জানালাটি লাগানো হয়। ১০২৭ হিজরীতে যমযমের উক্ত লৌহ জানালার সংস্কার করা হয়। কেননা, ঐ সালেই লোহা ও তাতে শিকল লাগানো জানালাটি যমযমের ভেতর ভেঙ্গে পড়ে এর গভীর তলদেশে নিমজ্জিত হয়। ফলে একদিকে লোহা ও তামার সংমিশ্রণে পানির স্বাদ বিকৃত হয় এবং অন্যদিকে, বালতি দিয়ে পানি উঠানো মুশকিল হয়ে পড়ে। কেননা বালতি তলদেশে ভেঙ্গে পড়া জানালার সাথে আটকে যায়।
এক রাত আফিন্দি শরীফ মুহাম্মদ বিন সাইয়েদ মোস্তফা গিনাওয়ী হঠাৎ করে যমযমের পানি পান করার জন্য মসজিদে হারামে উপস্থিত হন। তিনি পানির স্বাদ বিকৃত হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁকে কারণ জানানো হয়। তিনি পরের দিন সকালে, উক্ত জানালা উঠানোর নির্দেশ দেন। সকালে তা উঠিয়ে আব্বাসী গম্বুজের কাছে রাখা হয়। এর ফলে, পানির স্বাদ পূর্বের মত ফিরে আসে এবং বালতি দিয়ে পানি উঠাতে আর কোন কষ্ট রইল না।
কুর্দী বলেন, ১১১২ হিজরীতে, ইবরাহীম বেগ যমযম কূপের গোলাকৃতির দেয়াল, ভেতর ও বাইরের দিক থেকে প্লাস্টার করে, তাতে সাদা রং লাগান। ১২০০ হিজরীতে ১ম সুলতান আবদুল হামীদ যমযম কূপের কক্ষের কিছু সংস্কার করেন। ১২৭৯ হিজরীতে, সুলতান আবদুল আযীয খানের আমলে, শরীফ আবদুল্লাহ বিন শরীফ এবং আলহাজ্জ ইজ্জত পাশা যমযমের জানালা, কক্ষের ভিটির মার্বেল পাথর, যমযমের মুখ এবং মুখের সাথে সংলগ্ন সিঁড়ির ছোট পিলারগুলোর সংস্কার করেন। তখন যমযমের মুখ ছিল গোলাকার এবং তা মার্বেল পাথরের তৈরি ছিল। ভিটি থেকে উপরের দিকে উচ্চতার পরিমাণ ছিল প্রায় ১২০ সিন্টিমিটার। ভিটিতে সাদা মার্বেল পাথর লাগানো হয়। কূপের মুখে লোহার মোটা রডের ঘেরাও দেয়া হয়।
১৩৩২ হিজরীতে, উক্ত ঘেরাও এর উপর লোহার একটি জানালা দেয়া হয়। কেননা, একজন আফগানী নিজেকে যমযমে নিক্ষেপ করায়, তার লাশ কূপ থেকে উঠানোর পর তুর্কী সরকার উক্ত মজবুত প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করে যাতে অনুরূপ দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
ঐ সময়ে যমযমের শেডে, নামাযের সময় ঘোষণাকারী প্রধান কর্মকর্তার অফিস ছিল। ঐ অফিসের কর্মকর্তারা মসজিদে হারামের ৭ মিম্বারের উপর অবস্থানকারী মুযাজ্জিনদেরকে নামাযের সময় জানিয়ে দিতেন এবং সে অনুযায়ী মুয়াজ্জিনরা আজান দিতেন। তাঁরা সাধারণতঃ জুমা, দুই ঈদের সময় এবং মাকামে ইবরাহীমের পেছনে নামায আদায়কারী ইমামদেরকেও নামাযের সময় অবহিত করতেন। শেডের ছাদে উঠার জন্য একটি সিঁড়ি ছিল।
১৩৪৫ ও '৪৬ হিজরীতে বাদশাহ আবদুল আযীয পানি সরবরাহের জন্য দুটো সুন্দর পানকেন্দ্র নির্মাণ করেন। একটি কেন্দ্র হচ্ছে যমযমের গম্বুজের কাছে। সুন্দর মার্বেল পাথরের তৈরী এই পানকেন্দ্রে ৬টি টেপ লাগান এবং অপরটি নির্মাণ করেন মসজিদে হারামের সংরক্ষণকারী কর্মকর্তাদের কক্ষের কাছে। এতে তিনটি টেপ লাগান। এর ফলে হাজীদের যমযমের পানি পান কেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩টিতে। এগুলো থেকে হাজীরা রাত-দিন পানি পান করতে থাকে।
১৩৭৪ হিজরীতে যমযম কূপের সামনের দুই অংশে একটি ছোট কক্ষ নির্মাণ করা হয়। দেয়ালের উপর ছাদ দেয়ায়, পানি পানকারীরা কিছুটা ছায়া পায়। এতে কিছু জানালা ছিল। এর পার্শ্বে কিছু পানির টেপ লাগানো হয় এবং হাজীরা সেগুলো থেকে পানি পান করে। এছাড়াও যমযম কক্ষের বাইরে একটা সিঁড়ি নির্মাণ করা হয় এবং তা দিয়ে শেডের উপরে উঠার ব্যবস্থা করা হয়। আগে কক্ষের ভেতর দিয়ে ঐ সিঁড়ি বিদ্যমান ছিল।
টিকাঃ
২৩. প্রাগুক্ত।
২৪. প্রাগুক্ত।
📄 যমযম কূপে বৈদ্যুতিক পাম্পের ব্যবহার
আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে যমযম কূপ থেকে যান্ত্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে পানি তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। পূর্বে বালতি দিয়ে যমযম থেকে পানি তোলা হত। ১৩৭৩ হিজরীতে যমযমের সামনে একটি শেড নির্মাণ করে তাতে পানির দুটো হাউজ তৈরি করার পরিকল্পনা নেয়া হয় এবং প্রত্যেক হাউজে ১২টি করে টেপ লাগানো হয়। সাথে পাম্পের মাধ্যমে যমযম থেকে পানি উত্তোলন করে তা হাউজে সরবরাহ করার ব্যবস্থা করা হয়। পাম্পের মাধ্যমে উত্তোলিত পানির স্বাদ আরো বেড়ে যায়। কেননা, বালতির মাধ্যমে কূপের উপরিভাগের পানি তোলা হত। কিন্তু পাম্পের মাধ্যমে পানির স্তর থেকে ২ মিটার নীচ হতে পানি উত্তোলন করায় এর স্বাদ বেড়ে যায়। বিদ্যুতচালিত পাম্পে কোন শব্দ না হওয়ায় তাতে তাওয়াফকারী ও মুসল্লীদের অসুবিধে অনুপস্থিত থাকায় তা সফল প্রমাণিত হয় এবং সতর্কতামূলকভাবে অতিরিক্ত আরো একটি পাম্প মেশিন মওজুদ রাখা হয়। অবশ্য বালতিতে করে পানি তুলে তা পানকারী আগ্রহী লোকদের জন্য পাশাপাশি বালতির ব্যবস্থাও রাখা হয়।
এই সফল অভিজ্ঞতার কারণে, যমযমের পানি উত্তোলন, সরবরাহ ও বন্টন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের চিন্তা ভাবনার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
বিশ্বে মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি, ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর কিছু সংখ্যক স্বাধীন মুসলিম দেশের অভ্যুদয়, তুলনামূলকভাবে মুসলমানদের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি এবং ১৩৫৫ হিজরী থেকে হাজীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যার কারণে, যমযমসহ, মসজিদে হারাম এবং মক্কার অন্যান্য সকল সুযোগ সুবিধা অপ্রতুল প্রমাণিত হয় এবং তা হাজীদের প্রয়োজন পূরণে কোন অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছিলনা। তাই ১৩৫৫ হিজরীতে, বাদশাহ আবদুল আযীয মসজিদে হারামের সকল সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করার চিন্তা শুরু করেন এবং সেই চিন্তার আলোকে, ১৩৭৫ হিজরীতে মসজিদে হারামের নতুন সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়। বিশাল এই প্রকল্প বিশ বছরে শেষ হয়। ১৩৭৫ হিজরীতে, মসজিদে হারাম ৯৮০ হিজরীতে তৈরী তুর্কী সুলতান সেলিমের একতলা গম্বুজ বিশিষ্ট একটি মসজিদ ছিল। যা আজও সৌদী সম্প্রসারিত দোতালা ইমারতের সম্মুখ ভাগে বিদ্যমান আছে। তারপর সৌদী সম্প্রসারণ শুরু হয় এবং এতে মাতাফ, যমযম, মাসআ' এবং মাটির নীচতলাসহ ৩ তলা বিশাল মসজিদ তৈরী হয়।
বাদশাহ আবদুল আযীযের ইন্তেকালের পর তাঁর ছেলে বাদশাহ সউদ মসজিদে হারামের সম্প্রসারণ কর্মসূচীর সূচনা করেন এবং ১৩৭৫ হিজরীতে যুবরাজ ফয়সল বিন আবদুল আযীযের নেতৃত্বে সর্বোচ্চ কমিটি গঠন করে উক্ত কমিটির উপর সকল দায়িত্ব অর্পণ করেন। এরপর একটি নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। কিছুদিন পর দুই কমিটিকে ভেঙ্গে এক কমিটি করা হয় এবং স্বয়ং বাদশাহ সউদ বিন আবদুল আযীয সেই কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। শেখ মুহাম্মাদ বিন লাদিনের কোম্পানীকে এই বিশাল প্রকল্পের কন্ট্রাক দেয়া হয়। ১৩৭৫ হিজরীর ২৩শে শাবান, বাদশাহ সউদ বিন আবদুল আযীয, বাবে উম্মে হানীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদে হারামের সম্প্রসারণ কর্মসূচীর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
১৩৮১ হিজরীর জুমাদাস সানী মাসে ২য় পর্যায়ের সম্প্রসারণ কর্মসূচীর সূচনা হয় এবং ১৩৮৮ হিজরীতে গিয়ে তা শেষ হয়। এই পর্যায়ে পুরাতন মাতাফ এবং যমযম কক্ষ ভেঙ্গে ফেলা হয়। যমযমের পানি পানকেন্দ্র ও টেপ মাটির নীচে তথা মাতাফের নীচে নির্মাণ করা হয়। তখন মিম্বার ও শেড পরিবর্তন করা হয় এবং মাকামে ইবরাহীমকে নতুন করে কাঁচের ভেতর বসানো হয়। ১৩৮৭ হিজরীর ১৮ই রজব, তদানীন্তন সৌদী বাদশাহ ফয়সল বিন আবদুল আযীয নতুন মাকামে ইবরাহীম ভবন উদ্বোধন করেন।
এই সম্প্রসারণের আওতায় কাবাকে মধ্যম স্থানে রেখে মাতাফ ৬৪.৮ মিটার বাড়ানো হয়। মাতাফে ২.৫ মিটার চওড়া ও ২০ সেন্টিমিটার উঁচু দুটো পথ পাশাপাশি তৈরী করা হয়। মাতাফে বিভিন্ন ধরনের মার্বেল পাথর লাগানো হয়। এগুলো ইটালীর কারারা থেকে আমদানি করা হয়েছে। কিছু ঐতিহাসিক স্থানের স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদা রক্ষার জন্য সেগুলোতে কাল মার্বেল পাথর লাগানো হয়। মাতাফের অবশিষ্ট খালি স্থানকে হাসওয়াহ বলা হত। হাসওয়াহ অর্থ হচ্ছে পাথরের টুকরা। সেখানে তখন শুধু পাথরের টুকরা ছিল। নামাযের সময় সেখানে জায়নামায বিছিয়ে নামায পড়া হত। হাজীরা সেই খালি স্থানে কবুতরের খাওয়ার জন্য গম ছিটিয়ে দিত। ফলে মাতাফের আয়তন দাঁড়ায় ৩০৫৮ বর্গমিটার।
সম্প্রসারিত মাতাফে ভিড়ের সময় এক সাথে ১৪ হাজার লোক তওয়াফ করতে পারে। যমযমে লোহার খাঁচার মত গোলাকার লৌহ ঘের তৈরী করা হয় এবং খাঁচার ভেতর দিয়ে সহজেই যমযম কূপ দেখা যায়। সেই খাঁচায় দরজা লাগানো হয় এবং সেই দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে যমযম কূপ দেখা যেত। কিন্তু দরজাটি প্রায়ই বন্ধ রাখা হত। নীচের পানকেন্দ্রকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। পুরুষদের ভাগে ২০টি টেপ এবং মহিলাদের ভাগে ১৯টি টেপ ছিল। এগুলো, যমযমের সিঁড়ির দুই পার্শ্বে অবস্থিত মাটির নীচের পানির রিজার্ভারের সাথে সংযুক্ত ছিল এবং সেখান থেকে এগুলোতে পানি সরবরাহ করা হত। তারপর এই টেপগুলোকে বাবুস সালামে অবস্থিত পানির ট্যাংকের সাথে যুক্ত করা হয়। এই ট্যাংকের পানি অতিবেগুনী আলো (আল্ট্রা ভায়োলেট রে) দ্বারা জীবাণুমুক্ত ও বিশুদ্ধ করা হয়। যমযমের ব্যবহৃত পানি মসজিদের দেয়ালের পার্শ্বে মওজুদ খোলা চ্যানেলের সাথে মহিলা বিভাগের ভেতর দিয়ে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়। তা পরে মসজিদে হারামের বাইরে শহরের ময়লা নিষ্কাশন ড্রেনে পাম্পিং করে বের করে দেয়া হয়।
টিকাঃ
২৫. যমযম, ইয়াহইয়া কোশাক।
📄 যমযমের পানি বণ্টন নেটওয়ার্ক
উল্লেখিত সম্প্রসারণের আওতায় যমযমের পানি বণ্টন নেটওয়ার্ক বাবুস সালামে অবস্থিত পানির ট্যাংকের সাথে সংযুক্ত করা হয়। এতে ২০ অশ্বশক্তিচালিত কেন্দ্রীয় পাইপ দ্বারা কূপ থেকে পানি সরবরাহ করা হয় এবং তাতে ৩ ইঞ্চি মোটা রাসায়নিক তড়িৎ দ্বারা তৈরী লোহার পাইপ ব্যবহার করা হয়। এতে করে দিনে ৫/৬ ঘন্টা যাবত, হজ্জ মওসুম ছাড়া অন্য সময়ে বিরতিহীনভাবে মিনিটে গড়ে ৭৫০ লিটার পানি উঠানো হত। হজ্জ মওসূমে, আরো দীর্ঘ সময় ধরে পাম্প চালিয়ে পানি তোলা হত। বেজমেন্টে ২ ইঞ্চি মোটা পাইপ দ্বারা 'যামাযেমা' পানি সরবরাহ কেন্দ্র এবং মসজিদের অন্যান্য স্থানে অবস্থিত পানকেন্দ্রসমূহে পানি সরবরাহ করা হত। তখন সকল সরবরাহ কেন্দ্রে মোট ১৯৪টি টেপ ছিল। তবে এর মধ্যে ১৫৫টিই ছিল যামাযেমা কক্ষ ও মসজিদের নির্দিষ্ট স্থানসমূহে এবং ৩৯টি টেপ ছিল যমযম এলাকায়। হজ্জ মন্ত্রণালয় বেজমেন্টের কিছু সংখ্যক কক্ষে বড় বড় পাত্রে সীমিত পরিমাণ পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে। এগুলোও যমযমের নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত ছিল। মন্ত্রণালয়ের পানি সংরক্ষণের ট্যাংকগুলো ধাতব পদার্থের তৈরী। যমযমের পানি পান করানোর দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা (যামাযেমা) জগে করে পানি নিয়ে হেঁটে হেঁটে লোকদেরকে পানি পান করাত কিংবা পানি নিয়ে তারা নির্দিষ্ট কোন জায়গায় বসে পানকারীদের অপেক্ষা করত। মাতাফের ফাঁকা জায়গা হাসওয়ায় তারা অসংখ্য মগ ভর্তি করে রেখে দিত এবং রমযান ও হজ্জ মওসুমে মসজিদে হারামে আগত লোকেরা তা পান করত। এই হচ্ছে যমযমের পানি পান ও সরবরাহের পুরাতন ইতিহাস।
📄 সর্বশেষ যমযমের পানি বণ্টন নেটওয়ার্ক
যমযমের উলেখিত পানি বন্টন নেটওয়ার্ক ক্রমবর্ধমান হাজীদের সংখ্যার তুলনায় অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়। সৌদী আরবসহ অন্যান্য তেল উৎপাদককারী দেশগুলো ১৯৮০ দশকে তেলমূল্য প্রায় ৪ গুণ বৃদ্ধি করায় তাদের রাজস্ব আয় কল্পনাতীতভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে সৌদী আরবের বিশাল তেল মওজুদের কারণে এবং অধিক তেলবিক্রির ফলে দেশটির আয় অবিশ্বাস্য রকম বৃদ্ধি পায়। তখন থেকেই সৌদী আরব দেশের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেয়। ফলে, বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ প্রয়োজনীয় জনশক্তি আমদানি শুরু হয়। এই সকল জনশক্তির বেশীর ভাগ মুসলমান বলে তারা হারামাইন শরীফাইনে নিয়মিত আসা-যাওয়া শুরু করায় সেখানে ব্যাপক ভিড় সৃষ্টি হয়। হজ্জের সময় সৌদী নাগরিক এবং সৌদী আরবে কর্মরত প্রবাসী হাজীদের সংখ্যা বিদেশ থেকে আগত হাজীদের সংখ্যার সমান কিংবা তাকেও ছাড়িয়ে যায়। ১৪০৩ হিজরী অর্থাৎ ১৯৮৩ সালে বিদেশ থেকে আগত হাজীদের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ লাখ ৩ হাজার ৯১১ জন। প্রতিবছর এই সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ফলে যমযমের সাবেক ব্যবস্থা, বর্তমান হাজীদের সংখ্যা ও প্রয়োজনের তুলনায় ১ ভাগ বিবেচিত হয়।
উপরোক্ত অবস্থার আলোকে, ১৩৯৮ হিজরীতে পুনরায় মাতাফ এবং যমযমের পানিসেবার সম্প্রসারণ কর্মসূচীর সূচনা হয়। এই সম্প্রসারণ কর্মসূচীর আওতায় মাতাফকে সম্প্রসারিত করে একসাথে ২৮ হাজার লোকের তওয়াফের ব্যবস্থা করা হয় এবং ভবিষ্যতে ২৫ লাখ হাজীর তওয়াফের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। এর ফলে মাতাফের আয়তন ৩ হাজার ২৯৮ বর্গমিটার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭ হাজার ১১৯ বর্গমিটারে দাঁড়ায়।
এ ছাড়াও মসজিদে হারামে ১ হাজার লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন ৩০০টি ব্যারেল আছে এবং প্রত্যেকটাতে ৪টি করে টেপ আছে। এই সকল টেপসহ সমজিদে হারামে মোট টেপের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০০ তে। ব্যারেলগুলোর সাথে এবং আরো কিছু টেপের সাথে স্টীলের মগ শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয় যেন লোকেরা পানি পান করতে পারে। মসিজদে হারামে দৈনিক একবার ব্যবহার উপযোগী ১ লাখ প্লাস্টিকের গ্লাস ব্যবহার হয়। রমজান ও হজ্ব মওসুমে ৫ লাখ গ্লাস লাগে। পরে সেগুলো ফেলে দেয়া হয়।
একই সম্প্রসারণ কর্মসূচীর আওতায় যমযমের বেজমেন্টের আয়তন ১৩৫ বর্গমিটার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৪৫০ বর্গমিটারে দাঁড়ায়। মাতাফের নীচে অবস্থিত যমযম ভবনটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং দর্শকদের জন্য অতি নিকটে দাঁড়িয়েই যমযম কূপ দেখার সুযোগ হয়েছে। হজ্জের ভিড়ের সময় এতে আড়াই হাজার মানুষের অবস্থান সম্ভব। যমযম ভবনটি দুই ভাগে বিভক্ত। একটি পুরুষদের জন্য এবং অন্যটি মহিলাদের জন্য। এছাড়াও এতে ৩৫০টি কল (টেপ) লাগানো হয়। এর ফলে, প্রতি মিনিটে ৩৫০ ব্যক্তি এবং প্রতিদিন ৫ লাখ লোক হজ্জ মওসুমে ঐ কলগুলো থেকে সহজেই পানি পান করতে পারে। মসজিদ ভবনের একতলা এবং দোতলায় বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট স্থানে ৩৮৪টি কল লাগানো হয়েছে। ফলে, মসজিদে হারামে মোট কলের সংখ্যা হচ্ছে ৭৩৪টি। যমযম ভবন এবং মসজিদে পানির কলগুলোকে এতটুকু উঁচু করা হয়েছে যেন, যমযমের পানি দিয়ে অজু ও গোসল করা না যায়। বর্তমানে, মাটির নীচতলায় মসজিদ ভবনে যামাযেমা বা পানি পান কেন্দ্র থাকলেও ভবিষ্যতে সেখান থেকে পানির কল হ্রাস করা হবে। বর্তমানে, মাতাফ এবং মসজিদে হারামের বিভিন্ন তলায় মোট ৫ হাজার থার্মসে করে যমযমের ঠাণ্ডা পানি সরবরাহ করা হয়। যমযমের পানির তৈরি বরফ দিয়ে তা ঠাণ্ডা করা হয়। এই উদ্দেশ্যে, যমযমের পানিকে বরফ করার জন্য এক কোম্পানীর সাথে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী কোম্পানী যমযমের পানিকে বরফ করে প্রতিদিন তা মসজিদে হারামে সরবরাহ করে। মসজিদের ভেতর মোট ১৩টি স্থানে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মসজিদের পরিচ্ছন্নতা এবং অগ্নি প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে কতগুলো মোটা পানির পাইপ বসানো হয়েছে এবং এগুলোকে দাউদিয়া কূপের পানির ট্যাঙ্কের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। দাউদিয়া কূপ থেকে ঐ সকল ট্যাংকে পানি সরবরাহ করা হয় এবং সেই পানি দিয়ে মসজিদ ধোয়া হয়।
মাতাফের নীচে যমযম ভবনটিকে আধুনিক এয়ারকন্ডিশন ও ভেন্টিলেশন দ্বারা এমনভাবে তৈরী করা হয়েছে যেন এর তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশী না হয়। এতে ফ্লাড লাইটের মাধ্যমে পরোক্ষ আলো বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিবিম্ব সৃষ্টিকারী বাতিগুলো ঘুরে ঘুরে আলো দেয়। এগুলো সাধারণ মওসুমে ৭৫ লক্স এবং হজ্জ ও রমযান মওসুমে ১৫০ লক্স আলো দান করে।
নতুন সম্প্রসারিত কর্মসূচীর আওতায় মসজিদে হারামে নতুন পাম্পিং পদ্ধতির মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। পাম্প মেশিন, পানি সংরক্ষণ, হিমায়িতকরণ ও বন্টন নেটওয়ার্কের উন্নয়ন করা হয়। এই প্রকল্পের আলোকে, পানি সংরক্ষণ ট্যাংকে পানি সরবরাহ এবং পানি হিমায়িতকরণের উদ্দেশ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়। বাবুস সালামের উপর অবস্থিত বর্তমান পানির সংরক্ষণ ট্যাংককে হজ্জের মওসুমের জন্য অতিরিক্ত মওজুদ হিসেবে বিদ্যমান রাখা হয়েছে। অপরদিকে, সাধারণ মওসুমে পানি সেবাকেন্দ্রে অবস্থিত পানিই চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট। বাইরের আবহাওয়া থেকে যমযমকে মুক্ত রাখার জন্য মাতাফের উপরিভাগের মুখের উপর পরিবর্তনযোগ্য একটি ঢাকনি দেয়া হয় এবং এর উপর আরবীতে বড় অক্ষরে 'যমযম' শব্দটি লেখা হয়।
রমযান ও হজ্জ মওসুমে ভিড়ের সময় যমযমের অতিরিক্ত পানি সরবরাহ করার প্রয়োজন পড়ে। সেজন্য মসজিদে হারামের বাবুস সালামের ছাদের উপর নির্মিত পানির ট্যাংকটি পর্যাপ্ত নয় বলে কুদায়ে যমযমের অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণের জন্য এক বিরাট রিজার্ভার তৈরি করা হয় এবং ১৯৮৭ সালের রমজান মাসে তা চালু করা হয়। ১০ হাজার মিটার দূরে অবস্থিত উক্ত রিজার্ভারে, জিয়াদের পাহাড়ী সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে পাইপের মাধ্যমে পানি পাম্প করে তাকে সংরক্ষণ করা হয়। রিজার্ভারটি বিশেষ কম্পিউটার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
বর্তমানে, মসজিদে হারামের উত্তর পূর্বে, গাজ্জা ও শেবে আলীর মাঝে গাড়ীর মালিকদের সুবিধার্থে গ্যালন ও কেন ভর্তি করে পানি নেয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও আগে ইবরাহীম খলীল রোডের হিজলায় বাদশাহ আবদুল আযীয লিল্লাহ