📄 যমযমের পানির ফজীলেত
আযরাকী লিখেছেন, ওহাব বিন মোনাব্বিহ যমযম সম্পর্কে বলেন: আল্লাহর কসম, এটি আল্লাহর কিতাবে উত্তম কল্যাণকর, নেককারদের পানীয়, ক্ষুধা নিবৃত্তি এবং রোগের চিকিৎসা হিসেবে লিখিত আছে।
আযরাকী যানজী থেকে এবং তিনি ইবনে খায়সাম থেকে বর্ণনা করেছেন, একবার ওহাব বিন মোনাব্বিহ আমাদের কাছে এসে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তাঁর সাথে ছিল কিছু যমযমের পানি। আমরা বললাম, আপনি কিছু মিষ্টি পানি (স্বাভাবিক পানি) কেন পান করছেন না? যমযমের পানি তো যথেষ্ট লবণাক্ত। তখন তিনি জবাব দেন, আমার অসুখ ভাল হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি অন্য কোন পানি পান করবো না। যার হাতে ওহাবের প্রাণ, তাঁর শপথ করে বলছি, আল্লাহর কিতাবে এটি যমযম হিসেবে লিখিত; এটি কখনও শুকাবে না এবং ক্ষতিকর হবে না; এটি আল্লাহর কিতাবে উপকারী এবং নেককার লোকদের পানীয় হিসেবে লিখিত আছে; এটি আল্লাহর কিতাবে উত্তম বলে বিবেচিত; এটি আল্লাহর কিতাবে ক্ষুধা নিবারণ এবং রোগের চিকিৎসা হিসেবে লিপিবদ্ধ আছে। ওহাবের প্রাণ যে সত্তার হাতে, তাঁর শপথ করে বলছি, কেউ যদি পেট ভর্তি করে এবং সুনির্দিষ্ট নিয়ত করে তা পান করে অবশ্যই তার রোগের চিকিৎসা হবে এবং সে রোগমুক্ত হবে। মুজাহিদ বলেন,
مَاءُ زَمْزَمَ لِمَا شُرِبَ لَهُ - إِنْ شَرِبْتَهُ تُرِيدُ شِفَاءً شَفَاكَ اللهُ وَإِنْ شَرِبْتَهُ لِظَمَا أَرْوَاكَ اللهُ - وَإِنْ شَرِبْتَهُ لِجُوعِ أَشْبَعَكَ اللهُ - وَهِيَ هَزْمَةٌ جِبْرِيلَ بِعَقِبِهِ وَسُقْيَا اللهِ إِسْمَاعِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ .
অর্থ: যমযমের পানি যে যে নিয়তে পান করবে তার সেই নিয়ত পূরণ হবে; তুমি যদি রোগমুক্তির জন্য তা পান কর তাহলে, আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করবেন। যদি তুমি পিপাসা মিটানোর জন্য পান কর, তাহলে, আল্লাহ তোমার পিপাসা পূরণ করবেন। যদি তুমি ক্ষুধা দূর করার উদ্দেশ্যে তা পান কর তাহলে, আল্লাহ তোমার ক্ষুধা দূর করে তৃপ্তি দান করবেন। এটি জিবরীলের পায়ের গোড়ালীর আঘাতে হযরত ইসমাঈল (আ) এর পানীয় হিসেবে তৈরি হয়েছে।
সুফিয়ান ইবরাহীম থেকে এবং তিনি ইবনে আবী হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) সোহাইল বিন আমরের কাছে যমযমের পানি উপহার পাঠিয়েছিলেন। (আযরাকী)
ইকরামা বিন খালেদ বলেন, একদিন গভীর রাত্রে আমি যমযমের পার্শ্বে বসা ছিলাম। তখন একদল সাদা কাপড় পরিহিত লোক কাবার তওয়াফ করছিলেন। এমন ধবধবে সাদা কাপড় আমি আর কখনও দেখিনি। তওয়াফ শেষে তাঁরা আমার কাছে নামায পড়লেন এবং একজন তাঁর অন্য সাথীদেরকে লক্ষ্য করে বলেন, চল আমরা নেক লোকদের পানীয় পান করি। তাঁরা যমযমে প্রবেশ করলেন। আমি ভাবলাম, আমি তো তাঁদেরকে তাঁদের পরিচয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে পারি। তারপর আমি তাঁদের কাছে গেলাম, দেখলাম সেখানে কোন মানুষের নাম-গন্ধও নেই। (আযরাকী)
হযরত আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, জাহেলিয়াতের সময় লোকেরা একবার ভীষণ অভাবের সম্মুখীন হয়। ফলে খাবার সংগ্রহ করা তাদের পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তখন লোকেরা যমযমের পানির জন্য ছুটে আসে, পরিবারসমূহ শিশুদেরকে নিয়ে ভোরে যমযমে হাজির হত। তখন শিশুদের বাঁচানোর জন্য যমযমকে একটি হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হত।
হযরত জাবের (রা) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেনঃ مَاءُ زَمْزَمَ لِمَا شُرِبَ لَهُ .
অর্থ: 'যমযমের পানি যে, যে নিয়তে পান করবে তার সেই নিয়ত পূরণ হবে।' (ইবনে মাজাহ)
হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন:
مَاءُ زَمْزَمَ لِمَا شُرِبَ لَهُ إِنْ شَرِبْتَهُ تَسْتَشْفِي بِهِ شَفَاكَ اللَّهُ وَإِنْ شَرِيْتَهُ لِقَطَّعَ ظَمْئِكَ قَطَعَهُ اللهُ - هِيَ هَزْمَةٌ جِبْرِيلَ وَسُقْيَا اللَّهِ اسْمَاعِيلَ ـ (زمزم يحيى كوشك)
অর্থ: যমযমের পানি যে যে মকসুদে পান করবে, তার সেই মকসুদ পূরণ হবে; যদি তুমি এই পানি রোগমুক্তির জন্য পান কর তাহলে আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করবেন; যদি তুমি পিপাসা মিটানোর জন্য এই পানি পান কর তাহলে আল্লাহ তোমার পিপাসা দূর করবেন; এটি জিবরীলের পায়ের আঘাতে ইসমাঈলের পানীয় হিসেবে সৃষ্টি হয়েছে।
ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন,
التَّضَلُّعُ مِنْ مَّاءِ زَمْزَمَ بَرَاءَةٌ مِّنَ النَّفَاقِ - (الازرقى)
অর্থ: 'পেট ভর্তি করে যমযমের পানি পান করা মুনাফেকী থেকে মুক্তির কারণ।
সাঈদ উসমান থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে তিনি একজন আনসার থেকে এবং ঐ আনসার তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন: আমাদের সাথে মুনাফেকদের পার্থক্য হচ্ছে, তারা পেট ভর্তি করে যমযমের পানি পান করে না।
হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন, তোমরা নেক লোকদের নামাযের স্থানে নামায আদায় কর এবং দ্বীনদার লোকদের পানীয় পান কর।
صَلُّوا فِي مُصَلَّى الْأَخْيَارَ وَاشْرَبُوا مِنْ شَرَابِ الْأَبْرَارِ .
তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, নেককারদের মোসাল্লা এবং দ্বীনদারের পানীয় বলতে কি বুঝায়? তিনি জবাব দেন, নেককারদের মোসাল্লা হচ্ছে মীযাবের নীচে নামায পড়া এবং দ্বীনদারের পানীয় হচ্ছে যমযমের পানি। (আযরাকী)
হযরত আবুজর গিফারী (রা) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নবুওতের খবর জানতে পেরে তাঁর সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে নিজ গোত্র থেকে মক্কায় রওনা হন। মক্কায় এসে তিনি রাসূলুল্লাহ (সা) এর সাথে সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করলে কাফেররা তাঁকে পাথর মেরে বেহুঁশ করে ফেলে এবং তাঁর সারা শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। তিনি বলেন, আমি যমযমের কাছে গিয়ে পানি দিয়ে রক্ত ধুয়ে ফেললাম এবং যমযমের পানি পান করলাম। হে ভাতিজা (আবদুল্লাহ বিন সামিত) শোন! আমি সেখানে রাসূলুল্লাহর অপেক্ষায় ৩০ দিন বা রাত (অন্য রেওয়ায়েতে ১৪ দিন) অবস্থান করি। কিন্তু সেখানে যমযম ছাড়া আমার আর অন্য কোন খাবার ছিল না। অথচ, আমি মোটাসোটা হয়ে গেলাম এবং পেটের চামড়ায় ভাঁজ পড়ে গেল। এমনকি আমি পেটে সামান্য ক্ষুধাও অনুভব করলাম না। দীর্ঘ একমাস কা'বার পার্শ্বে ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করার পর হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা) তাঁকে বুঝতে পেরে রাসূলুল্লাহর (সা) কাছে নিয়ে যান। রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এতদিন এখানে কি খেয়েছিলে? তিনি জবাব দিলেন, আমি যমযমের পানি পান করা ছাড়া আর কিছুই খাইনি। এতে আমি মোটা হয়ে গেছি এবং আমার পেটের চামড়ার উপর ভাঁজ পড়ে গেছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন- إِنَّهَا طَعَامُ طَعْمِ এটি ক্ষুধার সময় খাবারের কাজ করে।
সহীহ ইবনে হিব্বানে হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে বর্ণনা করেন خَيْرٌ مَاءٍ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ مَاءُ زَمْزَمَ অর্থ : যমীনের উপর সর্বোত্তম পানি হচ্ছে যমযমের পানি।
হযরত আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, হযরত জিবরীল (রা) রাসূলুল্লাহ (সা) এর বুক চিরে হৃদয় বের করে এনে সোনার প্লেটে রাখেন। সেখান থেকে একটি রক্তের চাকা ফেলে দিয়ে বলেন, এটি তোমার মধ্যে শয়তানের একটি অংশ ছিল। তারপর যমযমের পানি দিয়ে ধুয়ে তিনি তা যথাস্থানে রেখে দেন। ঐ সময় রাসূলুল্লাহ (সা) মাঠে তাঁর অন্য খেলার সাথীদের সাথে খেলাধুলা করছিলেন।
হাফেজ ইরাকী বলেছেন, যমযমের পানি দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা) এর বক্ষদেশ ধোয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে তিনি যেন আসমান-যমীন এবং বেহেশত-দোযখ দেখার মত শক্তি লাভ করেন। কেননা, যমযমের পানির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তা অন্তরকে শক্তিশালী করে এবং ভয় দূর করে।
যমযমের পানির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, রাসূলুল্লাহ (সা) এর নির্দেশে যমযমের পানি দ্বারা জ্বর দূর হয়েছে। নাসাঈ শরীফে হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে এই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। দাহ্হাক বিন মোযাহেম বলেন, মাথা-ব্যথার সময় যমযমের পানি পান করলে মাথা-ব্যথা দূর হয় এবং যমযমের দিকে তাকালে দৃষ্টিশক্তি প্রখর হয়।
ইমাম বদরুদ্দিন বিন সাহেব মিসরী বলেছেন, শরীয়াহ এবং চিকিৎসার দৃষ্টিতে, যমযমের পানি পৃথিবীর অন্য যে কোন পানির চাইতে উত্তম। তিনি বলেন, আমি যমযমের পানি এবং মক্কার অন্য কূপের সমপরিমাণ পানি ওজন করে দেখেছি, যমযমের পানির ওজন এক চতুর্থাংশ বেশী।
কথিত আছে যে, শাবানের মাসের রাত্রে যমযমের পানি মিষ্টি হয়ে যায় এবং তা নেককার লোক ছাড়া অন্য কেউ টের পায় না। শেখ আবুল হাসান কারবাজ একবার তা দেখতে পেয়েছেন।
ফাকেহী রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে এক মোরসাল রেওয়ায়েতে (মোরসাল হচ্ছে তাবেঈ রাসূলুল্লাহ (রা) থেকে হাদীস বর্ণনা করা) বলেন, মাকহুল বলেছেন, - النَّظُرُ فِي زَمْزَمَ عِبَادَةُ وَهِيَ تَحُطُ الْخَطَايَا অর্থ: যমযমের প্রতি নজর করা এবাদত। এর ফলে, গুনাহ মাফ হয়।
সাঈদ বিন সালেম উসমান বিন সাজ থেকে, তিনি মোকাতেল থেকে, তিনি দাহ্হাক থেকে এবং তিনি মোযাহেম থেকে বর্ণনা করেন, এমন একদিন আসবে যখন যমযমের পানি নীলনদ এবং ফোরাত নদীর পানি থেকেও অধিকতর মিষ্টি হবে। ২৮১ হিজরীতে আজকের মত যমযমের পানি সেরা মিষ্টি পানিতে পরিণত হয়েছিল।
আল-জামে আল-লতীফে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওয়াহেদী তাঁর তাফসীরে হযরত জাবের থেকে রাসূলুল্লাহ (সা) এর একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি কা'বা শরীফে সাত চক্কর তওয়াফ করবে, মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দু'রাকাত নামায পড়বে এবং যমযম কূপের পানি পান করবে, তার গুনাহ যত বেশীই হউকনা কেন তা মাফ হয়ে যাবে।
জামে সগীরে আল্লামা মানাওয়ী مَاءُ زَمَزَمَ لِمَاشُرِبَ لَهُ অর্থ : যে যে নিয়তে যমযমের পানি পান করে তার সেই নিয়ত পূরণ হয়। এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, যমযমের উৎপত্তি হয়েছে হযরত ইবরাহীম (আ) এর ছেলে ইসমাঈলের সাহায্যের জন্য। আজও যদি কেউ ইখলাসের সাথে সেই পানি ব্যবহার করে তাহলে সেও আল্লাহর সাহায্য লাভ করবে।
হাকীম তিরমিযী বলেন, যমযমের পানি থেকে উপকার পাওয়া না পাওয়া নির্ভর করে নিয়তের গভীরতা ও পরিপক্কতার উপর। খালেস নিয়তে ঐ পানি ব্যবহার করলে তার উপকার অবশ্যম্ভাবী।
১৯৮৯ খৃঃ ১ লা মার্চ তারিখে জিদ্দা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ওকাজ পত্রিকা 'যমযমের পানি পান করায় পঙ্গুত্ব সেরে গেছে' এই শিরোনামে খবর দিয়েছে যে, একই সনের ফেব্রুয়ারী মাসে বৃটেনের এক পঙ্গু স্কুলের ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়ে ২ জন ডাক্তার ও ২ জন সুপারভাইজার মক্কা ও মদীনা যেয়ারতে আসেন। ছাত্র প্রতিনিধিদলে ভারত ও পাকিস্তান বংশোদ্ভূত ৪ জন বৃটিশ পঙ্গু ছাত্র-ছাত্রীও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তারা প্রথমে মদীনা সফর করেন এবং পরে মক্কায় ওমরাহ আদায় করেন। প্রতিনিধিদলে নয় বছর বয়স্কা রায়হানা আজম নামক এক বালিকার ডান হাতের আঙ্গুল স্থায়ীভাবে পঙ্গু ছিল। ফলে সে তা নাড়াচাড়া করতে পারতনা। হঠাৎ করে দেখা গেল, সে তার আঙ্গুল নাড়াচাড়া করতে পারে এবং তার আঙ্গুলের পঙ্গুত্ব সেরে গেছে। এটা দেখে সবাই আশ্চর্য হয়ে যায়। এর আগে তার পিতা তাকে লণ্ডনের বহু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা জানিয়ে দিয়েছিল এ রোগের চিকিৎসা-কিংবা আরোগ্য লাভ সম্ভব নয়। আল্লাহ যমযমের পানির মাধ্যমে তাকে সুস্থ করে দেন।
একই দিন প্রতিনিধিদলের আরও তিনজন অসুস্থ শিশুর মধ্যেও আরোগ্যের সুস্পষ্ট লক্ষণ দেখা দেয়। তাদের মধ্যে রাজিয়া নামক ১০ বছর বয়স্কা একটি মেয়ে বাম চোখে দেখেনা। কিন্তু ২৮শে ফেব্রুয়ারী '৮৯-এর সকাল বেলায় সে বাম চোখে দেখা শুরু করে। আহমদ্দীন নামক অন্য এক শিশুর পা স্থায়ীভাবে পঙ্গু। সে পায়ের উপর ভর দিয়ে চলতে পারেনা। কিন্তু এখন সে পায়ের উপর ভর দিয়ে চলতে পারে। ১২ বছর বয়স্ক ইকরাম ফারুক ছিল বোবা। সে এখন কথা বলতে পারে। এছাড়াও মরক্কোর এক মহিলার পুরো শরীর ক্যান্সারে ছেয়ে যায়। ডাক্তারদের মতে, তা ভাল হবার নয়। মহিলাটি যমযমের পানিকে সর্বশেষ চিকিৎসা বিবেচনা করে স্বামীকে মক্কা আসার জন্য অনুরোধ জানান। স্বামী তাতে সাড়া দেয় এবং তারা মক্কায় এসে ওমরাহ পালন করেন ও যমযমের পানি পান করেন। তাতে মহিলাটির ক্যান্সার ভাল হয়ে যায়।
তাদের আরোগ্য লাভের পর যারা তাদের সাথে সাক্ষাত করতে গিয়েছে, সবাই বলেছে, মজবুত ঈমানের সাথে যমযমের পানি পান করার কারণে আল্লাহ তাদের অসুখ ভাল করে দিয়েছেন।
টিকাঃ
১০. আখবারে মক্কা, আল্লামা আযরাকী।
১১. প্রাগুক্ত।
১২. প্রাগুক্ত।
১৩. প্রাগুক্ত।
১৪. প্রাগুক্ত।
১৫. প্রাগুক্ত।
১৬. প্রাগুক্ত।
১৭. প্রাগুক্ত।
১৮. যমযম, ইয়াহইয়া কোশাক।
১৯. আখবারে মক্কা, আযরাকী।
📄 যমযমের পানির বৈশিষ্ট্য
ইমাম বদরুদ্দিন বিন সাহেব মিসরী যমযমের পানিকে অন্য পানির সাথে তুলনামূলক ওজন করে দেখেছেন যে, যমযমের পানি অন্য পানির চাইতে এক চতুর্থাংশ বেশী ভারী। তারপর তিনি চিকিৎসা শাস্ত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে তুলনা করে বলেন, এটি অন্য যে কোন পানির চাইতে সেরা এবং শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকেও তিনি এটাকে অন্য সকল পানির চাইতে সর্বশ্রেষ্ঠ দেখতে পেয়েছেন।
'আর-রেহলাতুল হেজাযিয়াহ' বই এর লেখক মুহাম্মদ লবীব বিতুনী যমযমের পক্ষে ও বিপক্ষে কিছু উল্টা মন্তব্য করেছেন। তার মতে, যমযমের পানি এক হওয়া সত্বেও বিভিন্ন ভক্তের কাছে তাদের নিজস্ব ধারণা-বিশ্বাসের কারণে, তার স্বাদ বিভিন্ন রকম। কারুর কাছে তা দুধ ও মধুর মত স্বাদ এবং কারুর তাতে ক্ষুধা পর্যন্ত মিটে যায়। হাদীসের আলোকে, মক্কাবাসীরা এটাকে সকল কিছুর জন্য উপকারী মনে করে। তার মতে, এ জাতীয় ধারণা-বিশ্বাস শুধু মুসলমানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যেমন হিন্দুরা গঙ্গার পানিকে পবিত্র মনে করে তাতে স্নান করে এবং খৃষ্টানরা বাইতুল মাকদেসের ২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত জর্দান নদীর পানিকেও পবিত্র মনে করে।
যমযমের পানি রোগের চিকিৎসা এ মর্মে রাসূলুল্লাহ (সা) এর যে হাদীস রয়েছে, সে ব্যাপারে তার বক্তব্য হল, এই পানির প্রকৃতি অনুযায়ী তা যে সকল রোগের নিরাময় করে সে সকল রোগের জন্যই তা চিকিৎসা স্বরূপ। তিনি উপরোক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, মূলতঃ যমযমের পানি ক্ষার জাতীয় (এলকালিন)। এতে সোডিয়াম, ক্লোরিন, ক্যালসিয়াম, সালফার ও নাইট্রোজেন জাতীয় এসিড এবং পটাসিয়াম সল্ট রয়েছে যার ফলে এটি খনিজ জাতীয় স্বাস্থ্যকর পানির সমতুল্য। তাই যমযমের পানি অল্প পান করা উচিত। বেশী পরিমাণ পান করা ক্ষতিকর। বিশেষ করে হজ্জ মওসুমের পর অবশ্যই অল্প পরিমাণ পানি পান করা উচিত। কেননা, তখন যমযম কূপ অব্যবহৃত থাকে এবং মক্কার লোকেরা এর পানি সামান্যই পান করে। কেননা এই পানি লবণাক্ত। ফলে, এতে নাইট্রোজেন জাতীয় গ্যাস জমে বলে তা পান করার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
'তারীখ ইমারাতুল মসজিদিল হারাম' এর লেখক হুসাইন আবদুল্লাহ বাসালামাহ লবীব বিতুনীর উপরোক্ত বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন এবং বলেন, মিঃ লবীব বিতুনী তার চিন্তা ও গবেষণায় সংশয়যুক্ত। তিনি একদিকে যমযমের পানির রাসায়নিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বর্ণনা করে বলেন, এর পানি পান করা উপকারী। আবার বলেন, হজ্জ মওসুম ছাড়া অন্য মওসুমে তা কম পান করা উচিত। কেননা, বেশী পরিমাণ পান করলে তাতে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। মক্কাবাসীরা হজ্জ ছাড়া অন্য মওসুমে তা পরিত্যাগ করে এবং এর পানি পান করে না বলে তা পান করার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
তার এ সকল বিপরীতমুখী ও পরস্পর সংঘর্ষমুখর বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, তিনি তার গবেষণায় সন্দেহ-সংশয়ের মধ্যে ডুবে আছেন এবং সঠিক কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি না হাদীসের সাথে চলতে পারেন এবং না পারেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে চলতে। তার আকীদা-বিশ্বাসে না কোন দৃঢ়তা আছে এবং না তিনি অভিজ্ঞতা ও অভ্যাসের সাথে পরিচিত হতে পেরেছেন।
মক্কাবাসীরা যমযমের পানিকে উপকারী বলে মনে করে মর্মে তার বক্তব্য সম্পর্কে বলা যায় যে, এটা মক্কাবাসীদের মনে করার বিষয় নয় বরং এটা তাদের গভীর আকীদা-বিশ্বাস। হাদীসের উপর ভিত্তি করেই তাদের এই গভীর বিশ্বাস জন্মেছে। মক্কার লোকদের হজ্জ মওসুম ছাড়া অন্য মওসুমে যমযমের পানি পান না করার অভ্যাস ও অভিজ্ঞতা তিনি কোথা থেকে আবিষ্কার করলেন, সেটা তিনিই ভাল জানেন। মক্কায় বসবাসকারী প্রতিটি লোক সাক্ষী যে সত্য এর বিপরীত। রাত-দিন ২৪ ঘন্টা যমযম কূপের পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। পৃথিবীর সকল লোক মিলে পরীক্ষা করলেও এটাকেই সত্য বলে স্বীকার করবে। মিঃ বিতুনী খাম-খেয়ালীবশতঃ এ জাতীয় এলোপাথাড়ি মন্তব্য করেছেন। আইয়ামে জাহেলিয়াত থেকে আজ পর্যন্ত শীত ও গরম মওসুমে, সবসময় মানুষ পেট ভর্তি করে যমযমের পানি পান করছে এবং মুহূর্তের জন্যও তাকে ত্যাগ করেনি। যমযমের পানি সম্পর্কে যে সকল হাদীস রয়েছে তিনি সেগুলো সম্পর্কে জেনেও বিকৃত তথ্য পেশ করে যমযমের বিরুদ্ধে ঘৃণা সৃষ্টি করে কাফেরদেরকে সন্তুষ্ট করতে চান।
তিনি হিন্দুদের গঙ্গা ও খৃষ্টানদের জর্দান নদীর প্রতি পবিত্রতার মনোভাব তুলে ধরে যমযমের প্রতি মুসলমানদের মনোভাবকেও দুর্বল ও অর্থহীন করে তুলতে চান। কিন্তু তিনি ভুলে গেছেন যে, তার এই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হতে বাধ্য। হাজার হাজার বছর ধরে কোটি কোটি মানুষের অভিজ্ঞতা দ্বারা যমযমের পানির উপকারিতা সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত। পরবর্তীতে আরো বৈজ্ঞানিক গবেষণায় তার কল্যাণ ও উপকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এ ছাড়াও 'আত্-তারীখ আল কাদীম লি-মক্কাহ ওয়া বাইতিল্লাহিল কারীম' বইয়ের লেখক আল কুর্দী যমযমের পানিতে রোগ-জীবাণুর অস্তিত্বকে অস্বীকার করেন এবং বলেন, কিছুসংখ্যক ডাক্তার মন্তব্য করেছে যে তারা যমযমের পানি পরীক্ষা করে এতে জীবাণু দেখতে পেয়েছে। তাদের মতে, বন্যা, বৃষ্টি এবং পার্শ্ববর্তী বাড়ীসমূহের পয়ঃপ্রণালী থেকে ঐ সকল রোগ জীবাণু যমযমের পানির সাথে মিশায় তা পান করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কুর্দী বলেন, এই সকল বক্তব্যকে অস্বীকার করার জন্য আমাদের কাছে নিম্নোক্ত যুক্তিগুলো রয়েছে।
১. আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে এই উষর মরুভূমিতে আল্লাহর হুকুমে জিবরীল (আ) হযরত ইসমাইল (আ) এর জন্য এই কূপটি বের করেন।
২. এটি কাবা এবং মহান নিদর্শন সাফা-মারওয়াহর দিক থেকে উৎসারিত।
৩. রাসূলুল্লাহ (সা) মদীনায় হিজরত করার পর মক্কা থেকে যমযমের পানি মদীনায় পাঠানোর জন্য বলেছেন।
৪. রাসূলুল্লাহ (সা) এই পানি উদর ভর্তি করে পান করার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
৫. যমযমের পানি খাদ্য, পানীয়, চিকিৎসা এবং অন্য যে কোন নিয়তে পান করা হবে, তা পূরণ হবে এই মর্মে রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে একাধিক হাদীস বর্ণিত আছে।
৬. হযরত জিবরীল (আ) যমযমের পানি দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা) এর বুক চিরে তা ধুয়েছেন।
৭. বহু সংখ্যক নবী, নেক বান্দাহ, আলেম, ইমাম ও বুজুর্গানে দ্বীন এই পানি পান করেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত অগণিত মানুষ এই পানি পান করবে। যমযমের পানির রং অন্য পানির রং এর মত হওয়া সত্বেও এর স্বাদ অন্য যে কোন পানির চাইতে ভিন্ন। এ ছাড়াও রয়েছে এর অগণিত কল্যাণ ও উপকার। প্রশ্ন হচ্ছে, রোগ জীবাণু কি এই যুগেই এতে প্রবেশ করেছে না আগেও করেছিল? অতীতে যমযমের পানি পান করার কারণে কোন লোক অসুস্থ হয়েছে বলে কোন প্রমাণ নেই। বরং অতীতে, লোকেরা চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনকে সামনে রেখে যমযমের পানি পান করে উপকার পেয়েছে। শুধু তাই নয়, বর্তমান যুগেও যারা অনুরূপ নিয়ত করে যমযমের পানি পান করেছে তারাও সমান উপকার পাচ্ছে। এখনও যে কোন লোক তা পরীক্ষা করে দেখতে পারে। কিন্তু অতীত থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত যমযমের পানি পান করার কারণে ক্ষতি হওয়ার কোন রেকর্ড নেই। যদি ধরেও নেয়া হয় যে, বন্যা বা বৃষ্টির পানিতে এতে রোগ জীবাণু প্রবেশ করেছে তথাপি সেটি আল্লাহর কুদরতী কূপে তাঁরই ইশারায় নষ্ট হয়ে যায়। এতে পানির উপর কোন ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না।
ইতিহাসে উল্লেখ আছে যে, বেদুঈনরা তাদের পশুকে নিয়ে এসে যমযমের পানি পান করাতো। সেই সকল পশুর গায়ে মারাত্মক রোগ পর্যন্ত ছিল। কিন্তু তার পরও যমযমের পানি দূষিত হয়নি বরং বিপরীত পক্ষে, তা সবার জন্য উপকারীই প্রমাণিত হয়েছে। এটা হচ্ছে আগের যুগের কথা যখন যমযম কূপের পরিচ্ছন্নতার মজবুত ব্যবস্থা ছিল না কিন্তু বর্তমান যুগে এর সুষ্ঠু পরিচ্ছন্নতা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কুর্দী তাঁর বই এর অন্য জায়গায় বলেছেন, ১৩৭৬ হিজরীতে যমযমের পানিতে কিছুটা লবণাক্ততা দেখা দেয় এবং পানি ভারী হয়ে যায়। এর কারণ অজানা ছিল। কিন্তু ১৩৭৫ হিজরীতে সৌদী সরকার মসজিদে হারামের সম্প্রসারণ কর্মসূচীর জন্য যখন মাসআর দিকের ঘর বাড়ীগুলো ভেঙ্গে ফেলে এবং ১৩৭৬ হিজরীতে মাসআ অর্থাৎ সাফা হতে মারওয়া এবং বাবুল অদাআ' পর্যন্ত ভিত্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে গভীর গর্ত খনন করে। তখন প্রাচীন বাড়ী-ঘরসমূহের সাথে মসজিদে হারামের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে যমযমের পানি পুনরায় স্বচ্ছ ও মিষ্টি হয়ে আসে। তাই কুর্দী বলেন, যমযমের পানিতে লবণাক্ততা আছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে, তাতে ঐ রকম বেশী লবণাক্ততা নেই, যা পান করার অনুপযোগী। বরং এতে সামান্য লবণাক্ততা আছে, যা পান করার উপযোগী। সম্ভবতঃ দুর্বল ও সন্দেহভাজন ঈমানদারের কাছে ত্রুটিপূর্ণ লবণাক্ত মনে হবে। যে কারণে, তারা যমযমের পানি পেট ভরে পান করতে পারে না। তাই রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, পেট ভরে পানি পান করার বিষয়টি আমাদের ও মুনাফিকদের মধ্যে একটি পার্থক্য সৃষ্টিকারী বিষয়।
📄 রাসূলুল্লাহর (সা) যমযমের পানি পান
আযরাকী হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) তওয়াফে এফাদা শেষে এক বালতি যমযমের পানি তোলার আদেশ দেন। তিনি সেই পানি দিয়ে অজু করেন এবং বলেন, হে বনি আবদুল মোত্তালিব! তোমরা পানি তোল, তোমরা পানি না তুললে অন্যরা তোমাদেরকে ঐ কাজ থেকে বঞ্চিত করবে।
আযরাকী আরো বলেন, তাউস বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) সাহাবায়ে কেরামকে দিনে তওয়াফে এফাদা করার নির্দেশ দেন এবং নিজে রাত্রে তওয়াফে এফাদা করেন। তিনি তাঁর উষ্ট্রীর উপর সাওয়ার হয়ে তওয়াফ করেন। তারপর যমযমের কাছে এসে বলেন, আমাকে এক বালতি পানি তুলে দাও। তিনি নিজে পানি পান করলেন এবং গড়গড়া সহকারে কুলি করলেন। তারপর বালতির অবশিষ্ট পানি কূপে ঢেলে দেয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন: তোমরা পানি তুলতে না পারলে তোমাদের কাছ থেকে অন্যরা এই অধিকার নিয়ে যাবে। তারপর তিনি খেজুর মিশ্রিত মিষ্টি পানীয় (নাবীজ) পান করার স্থানে গিয়ে তা পান করতে চান। হযরত আব্বাস (রা) বলেন, আজ সকাল থেকে লোকদের হাতে তা কিছুটা অপরিষ্কার হয়ে গেছে। ঘরে পরিষ্কার নাবীজ আছে, আপনি সেখান থেকে পান করুন। হযরত আব্বাস ৩ বার একথা বলেন, আর রাসূলুল্লাহ (সা) প্রত্যেকবারই তা অস্বীকার করে এখান থেকেই পানি পান করার উপর জোর দেন। পরে তিনি উপস্থিত স্থান থেকেই নাবীজ পান করেন। ইবনে জুরাইজ বলেন, তাউস তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) নাবীজ এবং যমযমের পানি পান করেন এবং বলেন, নাবীজ পান করা সুন্নত না হলে তা বাতিল করা হত। তিনি আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) নাবীজ পান করার পর মন্তব্য করেন, এটা বড় ভাল কাজ, তা অব্যাহত রাখ। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, নাবীজের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সা) কর্তৃক সন্তোষ প্রকাশ করায় তা আমাদের কাছে উপত্যকা ভর্তি দুধ ও মধুর চাইতেও অপেক্ষাকৃত উত্তম। তিনি আরো বলেন, সম্ভবতঃ এই সুন্নত পরে বাতিল হয়ে গেছে।
আতা বিন আবী রেবাহ বলেন, তওয়াফে এফাদার পর যমযমের পানি পান করতে আমার কখনও ভুল হবে না। রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর এই সুন্নত অনুসরণের উদ্দেশ্যে আগে আমি অন্য লোকদের সাথে মিলে পানি তুলে পান করতাম। কিন্তু পরে যখন আমি বুড়ো হয়ে গেলাম তখন অন্য লোকেরা পানি তুলে দিত এবং আমি তা পান করতাম। পিপাসা না থাকলেও শুধু সুন্নত পালনের উদ্দেশ্যেই আমি তা করতাম। কোন কোন সময় আমি খেজুর মিশ্রিত মিষ্টি পানি (নাবীজ) পান করতাম এবং কোন সময় করতাম না। যমযমের পানি পান করা যে সুন্নত এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই।
টিকাঃ
২০. প্রাগুক্ত।
📄 যমযমের পানি পানের আদব
আযরাকী ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন আমি নবী করীম (সা) এর জন্য এক বালতি যমযমের পানি তুলতে এবং তাঁকে তা দাঁড়িয়ে পান করতে দেখি। হযরত ইবনে আব্বাসের অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বিসমিল্লাহ বলে বালতি ধরেন এবং অনেকক্ষণ যাবত পানি পান করেন। তারপর মাথা উপরের দিকে তুলে 'আলহামদুলিল্লাহ' বলেন। এইভাবে তিনি তিনবার পানি পান করেন। ২য় বার আগের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম সময় এবং ৩য় বার আরো কম সময় ধরে তিনি পানি পান করেন।
ইমাম তকী ফাসী বলেন, যমযমের পানি পান করার মুস্তাহাব পদ্ধতি হচ্ছে: পানি পানকারী কেবলামুখী হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করবে। তিনবার শ্বাস নেবে, পেট ভরে পানি পান করবে, পান শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলবে এবং পানি পান করার সময় হযরত ইবনে আব্বাস (রা) যে দোয়া পড়েছিলেন সে দোয়া পড়বে। ইবনে আব্বাস (রা) যমযমের পানি পান করার সময় নিম্নোক্ত দোয়া পড়তেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَ لُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا وَاسِعًا وَشِفَاءٌ مِّنْ كُلِّ دَاء
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কল্যাণকর জ্ঞান, প্রশস্ত রিস্ক এবং সকল রোগ থেকে আরোগ্য প্রার্থনা করি।
এই দোয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং অন্যান্য কল্যাণকর দোয়াও পড়া যায়।
উলামায়ে কেরামের মতে, ডান হাতে গ্লাস নিয়ে কিবলামুখী হয়ে বিসমিল্লাহ বলে দাঁড়িয়ে পানি পান করতে হবে। তিনশ্বাসে পানি পান করবে। পান শেষে আল্লাহর হামদ প্রকাশ করবে এবং পেট ভরে পানি পান করবে。