📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 আদম (আ) থেকে ইবরাহীম (আ)

📄 আদম (আ) থেকে ইবরাহীম (আ)


আল্লাহ আদম ও হাওয়া (আ) কে বেহেশত থেকে দুনিয়ায় পাঠান। তাঁরা দুনিয়ার কোন্ জায়গায় অবতরণ করেন তা নিয়ে মতভেদ আছে। ইবনে জারীর আত্তাবারী লিখেছেন, এক বর্ণনা অনুযায়ী আদম (আ)-কে ভারতবর্ষে অবতরণ করানো হয়। বেহেশত থেকে ভারত ভূখণ্ডে অবতরণের কারণে ভারতের গাছপালা বেহেশতী সুঘ্রাণে মোহিত হয়।

হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) এর মতে, আদম (আ) কে ভারতে এবং হাওয়া (আ) কে জেদ্দায় অবতরণ করানো হয়। দুনিয়াতে একাকী অবতরণ করার পর পরই আদম (আ) তাঁর সঙ্গিনী হাওয়াকে খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে আদম (আ) আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হন এবং সেখানে হাওয়া (আ)-এর সাথে তাঁর সাক্ষাত হয়। হাওয়া (আ) মুযদালিফায় আদম (আ)-এর সাথে মিলিত হন। অভিধানে আরাফাহ শব্দের অর্থ হচ্ছে পরিচয় বা জানাশুনা এবং মুযদালেফা শব্দের অর্থ হচ্ছে মিলিত হওয়া। আল্লাহর ইচ্ছায় এ সকল ঘটনা সবই সম্ভব।

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে, আদম (আ) সরন্দীপ (বর্তমান শ্রীলংকার) চুজ নামক পাহাড়ে এবং হাওয়া (আ) জেদ্দায় অবতরণ করেন। ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ উলঙ্গ আদম ও হাওয়ার সতর ঢাকার উদ্দেশ্যে বেহেশত থেকে একটি দুম্বা পাঠিয়ে তা জবেহ করার নির্দেশ দেন। এরপর তাঁরা উভয়ে দুম্বার পশম দিয়ে নিজেদের কাপড় তৈরি করেন। আদম (আ) নিজের জন্য একটা জুব্বা এবং হাওয়া নিজের জন্য একটা লম্বা জামা ও ওড়না তৈরি করেন।

তাঁরা বেহেশতে থাকা অবস্থায় পোশাক পরেছেন। কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার কারণে তাদের বেহেশতী পোশাক খসে পড়ে। তাই তাঁরা বেহেশতের পাতা দিয়ে সতর ঢাকার চেষ্টা করেন। দুনিয়াতে অবতরণের পর পরই তাঁদের সেই বেহেশতী অভ্যাস বজায় রাখার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তাঁদের পোশাকের ব্যবস্থা করে দিলেন। তাই যে সকল ঐতিহাসিক মানব ইতিহাসের প্রথম অধ্যায়কে পুরাতন ও নতুন পাথর যুগ এই দুই ভাগে ভাগ করে বলেন, প্রাথমিক যুগের মানুষ অসভ্য ছিল, তারা পোশাক না পরে উলঙ্গ থাকত-তা নিতান্ত আন্দাজ-অনুমান ও ভিত্তিহীন বক্তব্য। আদম (আ) নবী ছিলেন। তাই প্রথম আদিম মানুষটি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সভ্য। কেননা, সভ্যতার জ্ঞানদানকারী স্বয়ং আল্লাহর নির্দেশের ভিত্তিতেই তিনি দুনিয়ায় মানব জীবন ও সভ্যতা সূচনা করেন। উপরোক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে একথাও পরিষ্কার হয়ে যায় যে, দুনিয়ায় মানুষের অভ্যুদয় আদম থেকেই হয়েছে, বানর বা অন্য কোন পশুর ক্রমবিকাশ থেকে নয়। তাই আদম (আ)-এর অস্তিত্বকে বাদ দিয়ে ভিন্নধর্মী কোন গবেষণার অর্থ নেই।

ইবনে জারীর উল্লেখ করেছেন, আল্লাহ আদম (আ) এর কাছে অহী পাঠিয়ে বলেন। আমার আরশ বরাবর নীচে একটি হারাম বা সম্মানিত জায়গা আছে। তুমি সেখানে গিয়ে আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একটি ঘর তৈরি কর এবং আমার আরশের চারপাশে তওয়াফকারী ফেরেশতাদের মত তুমিও এর তওয়াফ কর। সেখানে আমি তোমার ও তোমার সন্তানদের দোয়া কবুল করবো। হযরত আদম (আ) জবাবে বলেন, হে আল্লাহ! সে জায়গাটি তো আমি চিনিনা। তারপর একজন ফেরেশতা তাঁকে সেখানে নিয়ে যান। তিনি পাঁচ পাহাড়ের পাথর দিয়ে মক্কায় আল্লাহর ঘর কা'বা তৈরি করেন। পাহাড়গুলো হচ্ছে, ১. তুরে সিনাই ২. তুরে যাইতুন বা যাইতা ৩. লুবনান পাহাড় ৪. যুদী পাহাড় ও ৫. হেরা পাহাড়। তিনি প্রথমোক্ত ৪টি পাহাড়ের পাথর দিয়ে কাবার দেয়াল এবং হেরা পাহাড়ের পাথর দিয়ে এর ভিত্তি নির্মাণ করেন। তারপর ফেরেশতা তাঁকে আরাফাতে নিয়ে যান এবং হজ্জের সকল নিয়ম-কানুন শিক্ষা দেন। তিনি এক সপ্তাহ যাবত আল্লাহর ঘরের তওয়াফ করেন। সবশেষে তিনি ভারত ফিরে যান এবং বুজে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর স্থান সম্পর্কে মতভেদ আছে।

ইবনে জারীর আত্তাবারী আরেকটি বর্ণনার কথা উল্লেখ করে বলেন, আরাফাতে ফেরেশতারা আদম (আ) কে বলেনঃ হে আদম! আমরা আপনার ২ হাজার বছর আগে এই ঘরে হজ্জ আদায় করেছি।

আদম (আ) বেহেশত থেকে দুনিয়ায় আসার সময় সাথে করে হাজারে আসওয়াদ নিয়ে আসেন। এটি তখন ধবধবে সাদা ছিল। তিনি তা কা'বায় লাগান। এক বর্ণনায় এসেছে, আদম (আ) বেহেশত থেকে আসার সময় সাথে করে এক কলসী গম নিয়ে এসেছেন। অন্য আরেক বর্ণনায় এসেছে, আদম (আ) ক্ষুধার্ত হওয়ায় জিবরীল (আ) ৭টি গম নিয়ে আসেন এবং আদমকে বলেন, এগুলো যমীনে চাষ করুন। সাথে সাথে আল্লাহ তাতে ফসল দিয়ে দেন। তারপর জিবরীল (আ) তাঁকে ফসল কাটা ও ফসল সংগ্রহ করার পদ্ধতি শিক্ষা দেন। জিবরীল (আ) তাঁকে এক পাথরের উপর গম রেখে অন্য পাথর দিয়ে তা পিষে গুঁড়া করে রুটি তৈরির নির্দেশ দেন। পরে জিবরীল (আ) লোহা ও পাথরের ঘর্ষণে আগুন জ্বালিয়ে রুটি তৈরির পদ্ধতি শিক্ষা দেন। এটাই বনি আদমের প্রথম রুটি ছিল।

ইবনে কাসীর বলেছেন, দুনিয়ার আবাদীর জন্য আদম (আ) এর ঘরে জোড়ায় জোড়ায় সন্তান হয় এবং তাদের মধ্যে পরস্পরে বিয়ে-শাদী অনুষ্ঠিত হয়। আদম (আ) যখন হজ্জ করার জন্য মক্কায় আসেন তখন তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর পরিবারের যত্ন নেয়ার জন্য প্রথমে আসমান ও পরে যমীনকে অনুরোধ করায় তারা উক্ত দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানায়। পরে কাবিল ঐ দায়িত্ব গ্রহণ করে। ঐ সময় হাবিল নিজ যমজ সুন্দরী বোনকে কাবিলের কাছে বিয়ে না দেয়ায় কাবিল হাবিলকে হত্যা করে। কোরআনের সূরা বাকারায় উক্ত ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। হাবিলকে হত্যা করার পর কাবিল ইয়েমেনের দিকে পালিয়ে যায়। শয়তান সেখানে তার কাছে উপস্থিত হয়ে বলে যে, তোমাদের দুইজনের পেশকৃত কোরবানীর মধ্যে আগুন এসে হাবিলের কোরবানী গ্রহণ করার কারণ হল, হাবিল আগুনের পূজা করত। তুমিও তাই কর। তখন কাবিল একটি ঘর তৈরি করে তাতে সর্বপ্রথম আগুনের পূজা শুরু করে।

হাবিলের পরিবর্তে আল্লাহ আদম (আ)-কে শীষ নামক এক নেক সন্তান দান করেন। মৃত্যুর সময় আদম (আ) তাঁকে রাত ও দিনের ঘন্টাসমূহ এবং সেগুলোর নির্দিষ্ট এবাদতের ব্যাপারে উপদেশ দেন ও নিজ দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। আবু জার (রা) রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ মোট ১০৪টি আসমানী কিতাব নাযিল করেছেন। এর মধ্যে একমাত্র শীষ (আ) এর উপরই ৫০টি কিতাব নাযিল হয়। মোহাম্মদ বিন এসহাকের মতে, বনি আদমের সকল বংশ শীষ (আ) পর্যন্ত গিয়ে মিশেছে এবং আদম (আ) এর অন্যান্য ছেলেদের বংশ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। শীষ (আ) এর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে আনুস তাঁর দায়িত্ব পান। পরে তার ছেলে কীনান ও কীনানের ছেলে মাহলাইল উক্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে মাহলাইলের ছেলে ইয়ারদ এবং ইয়ারদের ছেলে খানুক বা ইদরিস (আ) উক্ত দায়িত্ব আঞ্জাম দেন। আদম, শীষ (আ) এবং ইদরিস (আ) আল্লাহর কাছ থেকে নবুওত পান। কলম দিয়ে ইদরিস (আ) প্রথম লেখার সূচনা করেন। মে'রাজের রাত্রে ৪র্থ আসমানে তাঁর সাথে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সাক্ষাত হয়।

এরপর নবুওত লাভ করেন হযরত নূহ (আ)। তাঁর বংশধারা হচ্ছে, নূহ বিন লামেক বিন মোতাওয়াস সালখ বিন খানুক (ইদরিস) বিন ইয়ারদ বিন মাহলাইল বিন কীনান বিন আনুস বিন শীষ বিন আদম।

আল্লাহ নূহ (আ) কে তাঁর গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট জাতির হেদায়েতের জন্য পাঠান। তারা মূর্তিপূজাসহ আরো বহু পাপকাজে লিপ্ত ছিল। তিনি ৯৫০ বছর যাবত তাঁর জাতিকে সংশোধনের চেষ্টা করে সামান্য কিছু সংখ্যক লোককে মাত্র সংশোধন করতে সক্ষম হন। আল্লাহ নূহের নৌকায় আরোহী সীমিত সংখ্যক মোমেনকে বাদ দিয়ে নূহ (আ) এর কাওমের অবশিষ্ট সবাইকে বন্যার পানিতে ডুবিয়ে মারেন। বন্যার পানি শুকিয়ে নূহ (আ) এর নৌকা জুদী পাহাড়ে এসে থামে। জুদী পাহাড় কুর্দিস্তান এলাকায় ইবনে ওমার দ্বীপের উত্তর-পূর্বদিকে অবস্থিত। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে, জুদী পাহাড় কুফার পার্শ্বে অবস্থিত। এ সকল এলাকা বর্তমানে ইরাকে অবস্থিত। এরিস্টটলের শিষ্য আবীডেনাস নিজ ইতিহাসে ঐ সময়ের অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন যে, ইরাকের অসংখ্য মানুষের কাছে ঐ জাহাজের চূর্ণ টুকরা সুরক্ষিত ছিল। তারা সেগুলো ধুয়ে বা গুঁড়া করে রোগীকে ওষুধ হিসেবে সেবন করাত।

তিরমিযী শরীফে হযরত সামুরা (রা) রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নূহ (আ) এর তিন ছেলের মধ্যে সাম থেকে আরব, হাম থেকে হাবশা (আফ্রিকান নিগ্রো) এবং ইয়াফেস থেকে রোম (ইউরোপীয়) শেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর উদ্ভব হয়েছে।

নূহ (আ) মক্কায় এসেছেন এবং হজ্জ করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা) রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির সনদ দুর্বল। হাদীসটিতে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বিদায় হজ্জের সময় ওসফানে পৌঁছে আবু বকর (রা) কে জিজ্ঞেস করেন, এটি কোন্ উপত্যকা? আবু বকর (রা) বলেন, 'উসফান উপত্যকা'। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, এই উপত্যকা দিয়ে লাল যুবক উটের উপর আরোহন করে নূহ, হুদ ও ইবরাহীম (আ) হজ্জ করেছেন।

ইবনে জারীর আত-তাবারী এবং আযরাকী আবদুর রহমান বিন সাবেত সহ অন্যান্য তাবেঈদের বরাত দিয়ে এক মোরসাল হাদীসের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন যে, মসজিদে হারামে নূহ (আ) এর কবর অবস্থিত। এই মতটিই বেশী শক্তিশালী। পক্ষান্তরে, বেকা (বর্তমানে কারক নূহ) শহরের জামে মসজিদে তাঁর কবরের বর্ণনাটি দুর্বল।

এরপর আদ জাতির কাছে আল্লাহ হুদ (আ)-কে নবী করে পাঠান। তারা আহকাফ নামক স্থানে বাস করত। এটি বর্তমানে সৌদী আরবের নাজরান ও ইয়েমেনের হাদরামাউত এলাকায় অবস্থিত। এই গোত্রটি বিভিন্ন সময় সিরিয়া, ইয়েমেন ও হেজায সহ বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়াত। আল্লাহর অবাধ্য হওয়ায় আল্লাহ তাদেরকে প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেন। উপরোক্ত হাদীসে উল্লেখ আছে যে, হযরত হুদ (আ) ও মক্কায় এসেছেন এবং হজ্জ করেছেন। হযরত আলী থেকে ইয়েমেনে হযরত হুদের কবরের অবস্থার বর্ণনা উল্লেখ আছে। অন্য এক বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর কবর সিরিয়ায়।

সামুদ জাতির কাছে আল্লাহ হযরত সালেহ (আ) কে নবী করে পাঠান। সামুদ বিন আবের বিন এরাম বিন সাম বিন নূহের নামানুসারে সামুদ গোত্রের নামকরণ করা হয়েছে। সালেহ বিন আবদ বিন মাসেহ বিন ওবায়েদ বিন হাজের বিন সামুদ বিন আবের বিন এরাম বিন সাম বিন নূহ হচ্ছে হযরত সালেহ (আ) এর বংশধারা। এই গোত্রটি হেজায ও তাবুকের মধ্যে হিজর নামক জায়গায় বাস করত। রাসূলুল্লাহ (সা) তাবুক যুদ্ধে যাওয়ার পথে হিজর অতিক্রম করেন। সামুদ গোত্র মূর্তিপূজারী ছিল। তারা পাহাড় কেটে ঘর বানিয়ে তাতে বাস করত। সে ঘরগুলো ছিল খুবই মজবুত। বর্তমানে, মাদায়েনে সালেহ নামক জায়গায় তাদের সেই সকল স্মৃতিচিহ্ন আজও রয়ে গেছে। সামুদ গোত্রের পাপী লোকেরা নিষিদ্ধ উটকে জবেহ করার অপরাধে আল্লাহ তাদেরকে বিকট শব্দের মাধ্যমে ধ্বংস করে দিয়েছেন। ওসফানে রাসূলুল্লাহ (সা) এর বিদায় হজ্জ্বকালীন সময়ে বর্ণিত হাদীসে হযরত সালেহ (আ) এর মক্কায় আগমন ও হজ্জ করার কথা উল্লেখ আছে।

উপরোক্ত বর্ণনা থেকে দেখা যায় যে, হযরত আদম (আ) প্রথমে মক্কায় আসেন, কা'বা ঘর নির্মাণ করেন, এর তওয়াফ করেন ও হজ্জের নিয়ম-কানুন শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি বেহেশত থেকে যেখানেই অবতরণ করেন না কেন, তাঁর বংশধর কাবিল সহ অনেকেই আরব ভূখণ্ডে বাস করেন। হযরত নূহ (আ), হুদ (আ) ও সামুদ (আ) আরব ভূখণ্ডেই বাস করেছেন এবং সকলে মক্কায় আগমন করেন। তাই মক্কার ইতিহাসের সাথে সবাই সম্পৃক্ত।

এরপর মক্কার ইতিহাসের সাথে যিনি সর্বাপেক্ষা বেশী জড়িত তিনি হচ্ছে হযরত ইবরাহীম (আ)। তাঁর বংশধারা হচ্ছে ইবরাহীম বিন তাসারুখ বিন নাহুর বিন সারুগ বিন রাউ' বিন ফালেগ বিন আ'রের বিন সালাহ বিন আরফাখাশাজ বিন সাম বিন নূহ (আ)। তাঁর বংশধারা সম্পর্কে ভিন্নধর্মী বর্ণনাও রয়েছে।

টিকাঃ
১০. প্রাগুক্ত (তারিখ আর-রুসুল ওয়াল মুলুক, ইবনে জারীর আত-তাবারী, ১ম খন্ড)।
১১. প্রাগুক্ত।
১২. আল বেদায়াহ ওয়ান নেহায়াহ, ইবনে কাসীর, প্রথম খন্ড।
১৩. প্রাগুক্ত।
১৪. তাফহীমুল কুরআন, সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী, সূরা হুদ- ৪৪।
১৫. আল বেদায়াহ ওয়ান নেহায়াহ, ইবনে কাসীর, প্রথম খন্ড।
১৬. ঐ।

📘 মক্কা শরিফের ইতিকথা > 📄 মক্কার সূচনা ও ইবরাহীম (আ)

📄 মক্কার সূচনা ও ইবরাহীম (আ)


মক্কায় হযরত ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আ) এর আগমনের পূর্বে আমালিক সম্প্রদায়ের লোকেরা বাস করত বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। তারা 'মক্কা উপত্যকা' বা 'ইবরাহীম উপত্যকায়' বাস করত না; মক্কার অন্য অংশে বাস করত। কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে, হযরত ইসমাঈল (আ) এর আগমনের আগেই তারা মক্কা ছেড়ে চলে যায় এবং বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য অন্যান্য ঐতিহাসিকদের মতে, ইসমাঈল (আ) এর মা হাজারের অনুমতিক্রমে জোরহোম গোত্র মক্কায় বসবাস শুরু করে এবং মক্কায় তাদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। তারাই আমালিক সম্প্রদায়ের লোকদের মক্কা থেকে বিতাড়িত করে এবং মক্কায় তাদের একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহর ঘরের স্থানটি একটি লাল পাহাড়ের মত উঁচু ছিল। তখন মক্কা উপত্যকায় কেউ বাস করত না। তারপর থেকেই সেখানে অবিচ্ছিন্ন জীবনধারা শুরু হয়।

হযরত ইবরাহীম (আ) থেকেই মক্কা নগরীর মূল ইতিহাসের সূচনা হয়েছে। এর আগে ফেরেশতা, জিন, হযরত আদম (আ) এবং আমালিক সম্প্রদায়ের লোকেরা সহ অন্যরা মক্কায়, পবিত্র কা'বা শরীফকে কেন্দ্র করে আল্লাহর এবাদত করেছেন। সত্যিকার অর্থে, ঐ উপত্যকায় মানুষের বসবাস শুরু হয় হযরত ইসমাঈল ও তাঁর মা হাজারের আগমনের পর থেকেই। তারপর, ক্রমান্বয়ে তা মানব সভ্যতার লীলাভূমিতে পরিণত হয় এবং মক্কা গড়ে উঠে একটি নগররাষ্ট্র হিসেবে। কিভাবে পবিত্র মক্কা নগরীর গোড়াপত্তন হয়, এ ব্যাপারে ইমাম বুখারী (রহ) বুখারী শরীফে রাসূলুল্লাহ (সা) এর কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আমরা এখন সে সকল হাদীস সম্পর্কে আলোচনা করব। বুখারী শরীফের 'কিতাবুল আম্বিয়া' অধ্যায়ে, হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে একটি লম্বা হাদীস বর্ণিত হয়েছে। সেই হাদীসের শেষাংশে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: "একদিন হযরত ইবরাহীম (আ) ও তাঁর স্ত্রী সারা, (মিসরে) এক জালেম শাসকের (ফেরআউনের) এলাকায় এসে পৌছলেন। শাসনকর্তাকে জানানো হল যে, এই এলাকায় একজন বিদেশী লোক এসেছে এবং তাঁর সাথে রয়েছে এক শ্রেষ্ঠা সুন্দরী রমণী। রাজা তখন ইবরাহীম (আ) এর কাছে লোক পাঠায় এবং তাঁকে মহিলাটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যে, এই মহিলাটি কে? ইবরাহীম (আ) জবাব দিলেন, সে আমার (দ্বীনি) বোন। তারপর তিনি সারার কাছে আসলেন এবং বললেন, হে সারা, আমি এবং তুমি ছাড়া, যমীনের উপর আর কোন মোমেন নেই। এই রাজা আমাকে তোমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছে। আমি তাকে বলেছি, তুমি আমার (দ্বীনি) বোন। সুতরাং, তুমি আমাকে মিথ্য প্রতিপন্ন করোনা। রাজা সারাকে তার কাছে আনার জন্য লোক পাঠাল। সারা যখন রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করলেন, তখন রাজা তাঁর দিকে হাত বাড়াল এবং সাথে সাথে আল্লাহর গযবে আটকা পড়ল। জালেম রাজা (অবস্থা বেগতিক দেখে) সারাকে বলল, আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া কর, আমি তোমাকে কোন কষ্ট দেব না। সারা আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন। ফলে সে মুক্তি পেল। জালেম আবারও তাঁর প্রতি হাত বাড়াল এবং এবারও আগের মত কিংবা আরো ভয়াবহ গযবে পতিত হল। এবারও সে বলল, আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া কর, আমি তোমার কোন ক্ষতি করবো না। সারা আবারও দোয়া করলেন এবং রাজা পুনরায় মুক্তি পেল। পরে রাজা কোন একজন দারোয়ানকে ডাকল এবং বলল, তোমরা আমার কাছে কোন মানুষকে আননি, এনেছ একজন শয়তানকে। পরে রাজা সারার খেদমতের জন্য 'হাজার' নামক এক মহিলাকে দান করল। এরপর সারা হযরত ইবরাহীম (আ) এর কাছে আসলেন। তখন তিনি দাঁড়িয়ে নামায পড়ছিলেন এবং হাতের ইশারায় সারাকে জিজ্ঞেস করলেন, কি ঘটেছে? সারা বললেন, 'আল্লাহ জালেম কাফেরের চক্রান্ত তারই বুকে পাল্টা নিক্ষেপ করেছেন (অর্থাৎ তার অসদুদ্দেশ্য ব্যর্থ করে দিয়েছেন) এবং সে হাজারকে আমার খেদমতের জন্য দান করেছে।'"

এই হাদীসের বর্ণনাকারী হযরত আবু হুরাইরা (রা) বলেন, "হে আকাশের পানির সন্তানরা! এ হাজারই তোমাদের আদি মাতা।"

এই হাদীস থেকে আমরা মক্কার ইতিহাসের অন্যতম উৎস, হযরত ইসমাঈল (আ) এর মা হাজার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা লাভ করতে পারি। শিশু ইসমাঈল ও তাঁর মা হাজার মক্কায় বসবাস শুরু করার পর এই শহরের সূচনা হয়।

ইসমাঈল (আ) এর মায়ের নাম হচ্ছে هَاجَر 'হাজার'। আরবরা হা কে ا দ্বারা পরিবর্তন করে একে اَجَر আজারও বলে থাকে। যেমন আরবীতে هَراق الْمَاءَ শব্দটাকে اَرَقَ الْمَاءَ বলা হয়। আমাদের দেশে তাঁর নাম حَاضِرَة হাজেরা বলে পরিচিত। আসলে 'হাজেরা' একটি পৃথক আরবী শব্দ। এর অর্থও ভিন্ন। হযরত ইসমাঈলের মায়ের নাম হাজেরা নয়, হাজার ছিল। হযরত হাজার মিসরের বাসিন্দা ছিলেন।

সোহায়লী বলেছেন, "মহিলাদের মধ্যে হযরত হাজারই সর্বপ্রথম কান ছিদ্র করেছেন, খতনা করেছেন এবং পরনের কাপড়ের আঁচল পেঁচিয়েছেন। কেননা, হযরত সারা তাঁর উপর রাগ করেছিলেন এবং তাঁর শরীরের ৩টি অঙ্গ কেটে ফেলার শপথ করেছিলেন। তখন হযরত ইবরাহীম (আ) হাজারকে হযরত সারার শপথ পূরণ করার উদ্দেশ্যে নিজের কান ছিদ্র এবং খতনা করার নির্দেশ দেন। তখন থেকেই, এই কাজ দুটো, মহিলাদের মধ্যে প্রচলিত হয়ে পড়ে। এর আগে এগুলো মহিলাদের মধ্যে প্রচলিত ছিলনা। মাতাপিতাহারা হাজার মিসরের বাদশাহ ফেরআউনের কাছে রক্ষিতা ছিলেন। বাদশাহ সারার উদ্দেশ্যে হাজারকে উপহার দেয়। অপরদিকে, সারা ছিলেন ইবরাহীম (আ) এর চাচাতো কিংবা ফুফাতো বোন। পরে সারা হাজারকে ইবরাহীম (আ) এর নিকট উপহার দেন।

হযরত হাজার ও তাঁর শিশুপুত্র ইসমাঈল কেন ও কিভাবে জনমানবহীন মক্কা উপত্যকায় আসলেন, সে সম্পর্কে জানা দরকার। এখন আমরা সে ব্যাপারে আলোচনা করবো।

প্রখ্যাত মোফাসসের মোজাহিদ থেকে বর্ণিত। ইবরাহীম (আ) দুগ্ধপোষ্য শিশু (১/২ বছর) ইসমাঈলসহ সিরিয়ায় অবস্থান করছিলেন। তখন তিনি মক্কায় আল্লাহর ঘর কা'বার স্থান সম্পর্কে জানার নির্দেশ পান। নির্দেশ দেয়া হয়, আপনি সেই স্থানকে পাক-সাফ করে তওয়াফ ও নামাজ দ্বারা আবাদ করবেন। ঐ আদেশের প্রেক্ষিতে জিবরীল (আ) বোরাক নিয়ে আসেন এবং ইবরাহীম, ইসমাঈল ও হাজারকে নিয়ে রওনা হন। পথে কোন জনপদ দেখলেই ইবরাহীম (আ) জিবরীলকে জিজ্ঞেস করতেন: আমাদেরকে কি এখানেই অবস্থানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে? জিবরীল বলতেন: না, আপনার গন্তব্যস্থল আরও সামনে। অবশেষে তাঁরা মক্কা আসলেন। এখানে কাঁটাযুক্ত বন-জঙ্গল বাবলা গাছ ছাড়া কিছুই ছিলনা। এই ভূখণ্ডের আশেপাশে কিছু জনবসতি ছিল। তারা ছিল আমালিক সম্প্রদায়ের লোক। আল্লাহর ঘরটি তখন টিলার আকারে বিদ্যমান ছিল। ঐখানে পৌঁছে ইবরাহীম (আ) জিবরীলকে জিজ্ঞেস করেন, আমাদের কি এখানেই বাস করতে হবে? জিবরীল বলেন: হাঁ। ইবরাহীম (আ) শিশুপুত্র ও স্ত্রী হাজারসহ এখানে অবতরণ করেন। কা'বা গৃহের কাছে একটি ছোট কুঁড়েঘর তৈরি করে তাতে ইসমাঈল ও হাজারকে রেখে দেন। (তাফসীর ইবনে কাসীর)

আল্লাহর নির্দেশ পালন করার জন্যই ইবরাহীম (আ) হাজার ও ইসমাঈল (আ) কে মক্কায় রেখে যান। তিনি তাদের উপর জুলুম করেননি এবং কোন কঠোরতা ও নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করেননি। শুধুমাত্র আল্লাহর আদেশ পালন করেছেন।

এবার এ বিষয়ে হাদীস থেকে বিস্তারিত বর্ণনা শুনুন।
বুখারী শরীফের 'কিতাবুল আম্বিয়া' অধ্যায়ে হযরত আবদুল্লাহ বিন্ আব্বাস (রা) থেকে এ মর্মে একটি দীর্ঘ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এই হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, "নারী জাতি সর্বপ্রথম হযরত ইসমাঈল (আ) এর মা (হাজার) থেকেই কোমরবন্ধ বানানো শিখেছে। হাজার সারা থেকে নিজ নিদর্শনাবলী গোপন করার উদ্দেশ্যেই কোমরবন্ধ বা কোমরে রশি বাঁধতেন। তারপর হযরত ইবরাহীম (আ) হাজার ও তাঁর শিশুপুত্র ইসমাঈলকে সাথে নিয়ে (নির্বাসন দেয়ার উদ্দেশ্যে) বের হলেন। পথে হাজার শিশুকে দুধ পান করাতেন। শেষ পর্যন্ত ইবরাহীম (আ) তাঁদের উভয়কে নিয়ে কাবাঘরের কাছে উপস্থিত হলেন এবং মসজিদে হারামের উঁচু দিকে যমযম কূপের উপর এক বড় গাছের নীচে তাঁদেরকে রাখলেন। তখন মক্কায় কোন লোকজন ছিল না এবং পানিও ছিলনা। তিনি তাঁদেরকে সেখানেই রেখে গেলেন এবং একটি থলের মধ্যে কিছু খেজুর আর একটি মশকে অল্প পানি দিয়ে গেলেন। এরপর ইবরাহীম (আ) নিজ অবস্থানের দিকে ফিরে চললেন।

ইসমাঈলের মা (হাজার) তাঁর পিছু পিছু ছুটে আসলেন এবং (কাদা নামক স্থানে পৌঁছে) ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, হে ইবরাহীম কোথায় চলে যাচ্ছেন? অথচ আমাদেরকে রেখে যাচ্ছেন এমন এক ময়দানে, যেখানে না আছে কোন সাহায্যকারী, আর না আছে (পানাহারের) কোন বস্তু। তিনি বার বার তা বলতে লাগলেন কিন্তু ইবরাহীম (আ) সেদিকে ফিরে তাকালেন না। তখন হাজার তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন আল্লাহ কি আপনাকে এই (নির্বাসনের) নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ। জবাব শুনে হাজার বললেন, তাহলে (ঠিক আছে) আল্লাহ আমাদেরকে ধ্বংস করবেন না। তারপর তিনি ফিরে আসলেন। হযরত ইবরাহীমও (আ) (পেছনে না তাকিয়ে) সামনে চললেন। শেষ পর্যন্ত যখন তিনি গিরিপথের বাঁকে এসে পৌঁছলেন এবং স্ত্রী-পুত্র আর তাঁকে দেখতে পাচ্ছিল না, তখন তিনি কাবা শরীফের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন এবং দু'হাত তুলে এই দোয়া করলেন:
رَبَّنَا إِنِّي أَسْكُنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِنْدَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلوةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةَ مِّنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُمْ مِّنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ . (ابراهيم - (۳۷)
অর্থঃ হে আমাদের রব, তোমার পবিত্র ঘরের কাছে এমন এক উপত্যকায় আমার সন্তান ও পরিবারের বসতি স্থাপন করেছি যা কৃষির অনুপযোগী। হে রব, উদ্দেশ্য এই, নামায কায়েম করবে অতএব তুমি অন্যান্য লোকের মনকে তাদের দিকে আকৃষ্ট করে দাও এবং প্রচুর ফলফলাদি দিয়ে তাদের রিযকের ব্যবস্থা করে দাও। যাতে করে তারা (তোমার নিয়ামতের) শুকরিয়া আদায় করতে পারে।

তারপর ইসমাঈলের মা, ইসমাঈলকে (নিজের বুকের) দুধ পান করাতেন আর নিজে এটা মশক থেকে পানি পান করতেন। (ঐ পানি পান করার সাথে সাথে শিশু পুত্রের জন্য তাঁর দুধে জোয়ার আসত)। শেষ পর্যন্ত মশকের পানি শেষ হয়ে গেল। তখন তিনি নিজেও পিপাসায় কাতর হলেন এবং (বুকের দুধ শুকিয়ে যাওয়ায়) তাঁর শিশু-পুত্রটিও পিপাসায় ছটফট করতে থাকে। তিনি শিশুর প্রতি দেখতে লাগলেন যে পিপাসায় শিশুর বুক ধড়ফড় করছে কিংবা বলেছেন, সে যমীনে ছটফট করছে। শিশুপুত্রের এই করুণ অবস্থার দিকে তাকানো তাঁর অসহ্য হয়ে উঠল। তিনি সরে পড়লেন এবং সাফা পাহাড়কেই একমাত্র নিকটতম পাহাড় হিসেবে পেলেন। তারপর তিনি এর উপর উঠলেন এবং ময়দানের দিকে মুখ করলেন। এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখলেন, কাউকে দেখা যায় কিনা। কিন্তু না, তিনি কাউকে দেখলেন না। তখন তাড়াতাড়ি সাফা পাহাড় থেকে নেমে পড়লেন। যখন তিনি নীচে ময়দানে নামলেন তখন আপন জামা এক দিক তুলে একজন ক্লান্ত ব্যক্তির মত দৌড়ে চললেন। তারপর উপত্যকা অতিক্রম করে মারওয়া পাহাড়ে আসলেন এবং উপরে উঠলেন। তারপর চারদিকে নজর করলেন, কাউকে দেখা যায় কিনা (লোকের খোঁজে)। তিনি (পাহাড় দু'টির মধ্যে) এভাবে ৭ বার দৌড়াদৌড়ি করলেন।

হযরত ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন যে নবী করীম (সা) বলেছেন, এ জন্যই (হজ্জের সময়) মানুষ এই পাহাড় দু'টির মধ্যে ৭ বার সায়ী করে (জোরে হাঁটে) এবং এটা হজ্জের একটি অংগ।

তারপর তিনি যখন (শেষবার) মারওয়া পাহাড়ের উপর উঠলেন, তখন একটি আওয়াজ শুনলেন। তখন নিজে নিজে বললেন, একটু অপেক্ষা কর, (মনোযোগ দিয়ে শুনি) তিনি মনোযোগের সাথে ঐ আওয়াজের দিকে কান দিলেন। আবারও আওয়াজ শুনলেন। তখন বললেন, তোমার আওয়াজ তো শুনিয়েছ। যদি তোমার কাছে কোন সাহায্যকারী থাকে, তাহলে আমাকে সাহায্য কর। হঠাৎ তিনি যমযমের জায়গায় একজন ফেরেশতাকে দেখতে পেলেন। সেই ফেরেশতা আপন পায়ের গোড়ালী দ্বারা আঘাত করলেন কিংবা (তিনি বলেছেন) আপন ডানা দ্বারা আঘাত হানলেন। ফলে (আঘাতের স্থান থেকে) পানি উপচে উঠতে লাগল। হযরত হাজার এর চারপার্শ্বে আপন হাতে বাঁধ দিয়ে তাকে কূপের আকার দান করলেন এবং অঞ্জলি ভরে তাঁর মশকটিতে পানি ভরতে লাগলেন। হযরত হাজারের অঞ্জলি ভরার পরে পানি উথলে উঠতে লাগল।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন, নবী করীম (সা) বলেছেন, আল্লাহ ইসমাঈলের মাকে রহম করুন, যদি তিনি যমযমকে (বাঁধ না দিয়ে ঐভাবে) ছেড়ে দিতেন কিংবা তিনি বলেছেন, যদি তিনি অঞ্জলি ভরে ভরে পানি মশকে জমা না করতেন, তাহলে যমযম (কূপ না হয়ে) একটি প্রবহমান ঝর্ণাধারায় পরিণত হত।

বর্ণনাকারী বলেন, তারপর হযরত হাজার পানি পান করলেন এবং শিশু পুত্রকেও দুধ পান করালেন। তখন ফেরেশতা তাঁকে বললেন, আপনি ধ্বংসের কোন ভয় করবেন না। কেননা, এখানেই আল্লাহর ঘর রয়েছে এই শিশু তার বাপের সাথে মিলে এই ঘরটি পুনঃনির্মাণ করবে। আল্লাহ তাঁর পরিজনকে কখনও ধ্বংস করেন না। তখন আল্লাহর ঘরের ভিটিটি যমীন থেকে বেশ উঁচু ছিল। বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট বন্যায় এর ডানে-বামে ভেঙ্গে যাচ্ছিল।

হযরত হাজার এভাবেই দিন কাটিয়ে যাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ইয়েমেনের জোরহোম গোত্রের একদল লোক তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে গেলেন, কিংবা তিনি বলেছেন, জোরহোম গোত্রের কিছু লোক কাবার পথে (এদিকে) আসছিলেন। তাঁরা মক্কার নীচু দিকে অবতরণ করলেন। তারা দেখলেন যে, কতগুলো পাখী চক্রাকারে উড়ছে। তাঁরা বললেন, নিশ্চয়ই এই পাখীগুলো পানির উপরেই ঘুরছে। অথচ আমরা এ ময়দানে বহুকাল কাটিয়েছি, কিন্তু কোন পানি এখানে ছিল না। তারপর তাঁরা একজন বা দু'জন লোক সেখানে পাঠালেন। তাঁরা গিয়েই পানি দেখতে পেলেন। তাঁরা ফিরে এসে অপেক্ষমান সবাইকে পানির খবর দিলেন। খবর শুনে সবাই সেদিকে অগ্রসর হলেন। বর্ণনাকারী বলেছেন, ইসমাঈলের মা পানির কাছে বসা ছিলেন। তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমরা আপনার নিকটবর্তী স্থানে বসবাস করতে চাই। আপনি আমাদেরকে অনুমতি দেবেন কি? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ, তবে এ পানির উপর তোমাদের কোন অধিকার থাকবে না। তাঁরা সবাই 'হ্যা' বলে রাজী হলেন।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, নবী (সা) এরশাদ করেছেন, এ ঘটনা ইসমাঈলের মায়ের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ এনে দিল। তিনিও মানুষের সাহচর্য কামনা করেছেন। তারপর তারা সেখানে বসতি স্থাপন করল এবং তাদের পরিবার-পরিজনের কাছেও খবর পাঠাল; তাঁরাও এসে এঁদের সাথে বসবাস করতে লাগল। শেষ পর্যন্ত সেখানে তাদের কয়েকটি বংশ জন্ম নিল। ইসমাঈলও আস্তে আস্তে বড় হলেন এবং তাদের কাছ থেকে তাদের ভাষা আরবী শিখলেন। যুবক হওয়ার পর তিনি তাদের কাছে অধিকতর প্রিয়পাত্রে পরিণত হন। তিনি যৌবনপ্রাপ্ত হওয়ার পর তারা তাদেরই এক মেয়েকে তাঁর কাছে বিয়ে দেন। বিয়ের পর ইসমাঈলের মা হাজার ইন্তেকাল করেন।

ইসমাঈলের বিয়ের পর ইবরাহীম (আ) তাঁর নির্বাসিত পরিবারকে দেখার জন্য মক্কায় আসেন। কিন্তু এসে ইসমাঈলকে পেলেন না। ফলে তাঁর স্ত্রীর কাছে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। স্ত্রী বললেন, তিনি আমাদের খাবার সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেছেন। পরে তিনি পুত্রবধূকে তাদের সংসার জীবনের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। পুত্রবধূ বললেন, আমরা খুবই দুরবস্থা, টানাটানি এবং ভীষণ কষ্টে আছি। তিনি হযরত ইবরাহীম (আ) এর কাছে তাঁদের অভাব সম্পর্কে অভিযোগ করলেন। তিনি পুত্রবধূকে বললেন, তোমার স্বামী ঘরে ফিরে আসলে তাঁকে আমার সালাম জানিয়ে বলবে যেন তার ঘরের দরজার চৌকাঠটি বদলিয়ে ফেলে।

ইসমাঈল (আ) যখন ঘরে ফিরলেন, তখন তিনি যেন হযরত ইবরাহীম (আ) এর আগমন সম্পর্কে কিছু একটা আভাষ পেলেন। স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কাছে কেউ এসেছিল কি? স্ত্রী বলল, হ্যাঁ, এমন আকৃতির একজন বুড়ো লোক এসেছিলেন এবং আপনার সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন। আমি তাকে আপনার খবর জানিয়েছি। তিনি আবার আমাকে আমাদের সংসার জীবনের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। আমি তাঁকে বললাম, আমরা বেশী দুঃখ-কষ্ট ও অভাবে আছি। ইসমাঈল জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কি তোমাকে আর কোন অসীয়ত করে গেছেন? স্ত্রী জবাব দিল, হ্যাঁ, তিনি আমাকে বলেছেন যেন আমি আপনাকে তাঁর সালাম পৌছাই এবং বলি যে, আপনি যেন আপনার ঘরের চৌকাঠ বদলিয়ে নেন।

ইসমাঈল (আ) বললেন, উনি আমার আব্বা। ঐ কথা দ্বারা তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন যেন তোমাকে আমি পৃথক করে দেই, অর্থাৎ তালাক দেই। সুতরাং তুমি তোমার বাপের বাড়ীতে আপন লোকদের কাছে চলে যাও। এই বলে ইসমাঈল (আ) তাকে তালাক দিয়ে দিলেন এবং ঐ বংশের অপর আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করলেন। তারপর আল্লাহ যতদিন চাইলেন, ইবরাহীম (আ) ততদিন তাঁদের থেকে দূরে রইলেন। পরে আবার এদেরকে দেখতে আসলেন কিন্তু ইসমাঈল (আ) কে পেলেন না। তিনি পুত্রবধূর ঘরে ঢুকলেন এবং ইসমাঈল (আ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। স্ত্রী জানালেন, তিনি আমাদের খাদ্যের সন্ধানে বেরিয়ে গেছেন। হযরত ইবরাহীম (আ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কেমন আছ? তিনি তার কাছে তাদের সাংসারিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। পুত্রবধূ জবাব দিলেন, আমরা ভাল আছি ও সুখে আছি এবং তিনি আল্লাহর প্রশংসাও করলেন। ইবরাহীম (আ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের প্রধান খাবার কি? বধূ জবাবে বললেন, 'গোশত।' তিনি আবারও জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের পানীয় কি? তিনি জবাব দিলেন, 'পানি'। ইবরাহীম (আ) দোয়া করলেন, 'হে আল্লাহ, তাদের গোশত ও পানিতে বরকত দান কর।'

হযরত মুহাম্মদ (সা) বলেছেন, ঐ সময় তাদের সেখানে খাদ্যশস্য উৎপাদন হত না। যদি হত, হযরত ইবরাহীম (আ) সে ব্যাপারেও তাঁদের জন্য দোয়া করতেন।

বর্ণনাকারী বলেছেন, কোন লোকই মক্কা ছাড়া অন্য কোথাও শুধু গোশত ও পানি দ্বারা জীবন যাপন করতে পারে না। কারণ, শুধু গোশত ও পানি সবসময় মেজাজের অনুকূল হতে পারে না। (তবে মক্কায় ইবরাহীম (আ) এর দোয়ার বরকতেই এটা সম্ভব হয়েছে)

ইবরাহীম (আ) আলাপ শেষে পুত্রবধূকে বললেন, তোমার স্বামী যখন আসবে, তখন তাকে আমার সালাম বলবে এবং আমার পক্ষ থেকে তাকে হুকুম করবে, সে যেন তার দরজার চৌকাঠ বহাল রাখে।

তারপর ইসমাঈল (আ) যখন বাড়ী আসলেন, স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কাছে কেউ কি এসেছিলেন? স্ত্রী বললেন, হ্যাঁ, একজন সুন্দর আকৃতির বুড়ো লোক এসেছিলেন। স্ত্রী তাঁর প্রশংসাও করলেন। তারপর বললেন, তিনি আমাকে আপনার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছেন, আমি তাঁকে আপনার খবর জানিয়েছি। তিনি আমাকে আমাদের সংসার সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করেছেন। আমি তাঁকে জানিয়ে দিয়েছি যে, আমরা সুখে-শান্তিকে আছি। ইসমাঈল জানতে চাইলেন তিনি কি তোমাকে আর কোন ব্যাপারে আদেশ দিয়ে গেছেন? স্ত্রী বললেন, হ্যাঁ, আপনার কাছে সালাম বলেছেন আর আপনাকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন, যেন আপনি আপনার ঘরের চৌকাঠ বহাল রাখেন। ইসমাঈল (আ) বললেন, উনিই আমার বাপ। আর তুমি হলে চৌকাঠ। তিনি তোমাকে স্ত্রী হিসেবে বহাল রাখার জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন।

আল্লাহর ইচ্ছায়, আবারও ইবরাহীম (আ) কিছুদিন তাদের কাছ থেকে দূরে রইলেন পরে আবার তাঁদের কাছে আসলেন। এসে দেখলেন, ইসমাঈল (আ) যমযমের কাছে একটি গাছের ছায়ার নীচে বসে নিজের তীর মেরামত করছেন। বাপকে আসতে দেখে দাঁড়িয়ে তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন তারপর পিতা পুত্রের সাথে এবং পুত্র পিতার সাথে সাক্ষাৎ হলে যা করে তাঁরা তা-ই করলেন। তারপর ইবরাহীম (আ) বললেন, হে ইসমাঈল! আল্লাহ আমাকে একটি কাজের হুকুম করেছেন। ইসমাঈল (আ) জবাব দিলেন, আপনার প্রভু আপনাকে যা আদেশ করেছেন, আপনি তা করে ফেলুন। ইবরাহীম (আ) বললেন, এতে তুমি আমাকে সাহায্য করবে কি? ইসমাঈল (আ) বললেন, হ্যাঁ, আমি নিশ্চয়ই আপনার সাহায্য করবো। ইবরাহীম (আ) বললেন, আল্লাহ আমাকে এখানে, এর চারপাশে ঘেরাও করে একটি ঘর তৈরী করতে নির্দেশ দিয়েছেন এ বলে তিনি উঁচু পাহাড়টির দিকে ইশারা করে তাঁকে স্থানটি দেখালেন। তারপর তাঁরা কা'বাঘরের দেয়াল উঠাতে শুরু করলেন। ইসমাঈল (আ) পাথর যোগান দিতেন এবং ইবরাহীম (আ) গাঁথুনী করতেন। যখন দেয়াল উঁচু হয়ে গেল, তখন ইসমাঈল (আ) 'মাকামে ইবরাহীম নামক মশহুর পাথরটি আনলেন এবং ইবরাহীম (আ) এর জন্য তা রাখলেন। ইবরাহীম (আ) এর উপর দাঁড়িয়ে এমারত তৈরী করতে লাগলেন এবং ইসমাঈল (আ) তাঁকে পাথর যোগান দিতে লাগলেন। তাঁরা উভয়ে এই দোয়া করতে লাগলেন,
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ - (البقرة - ١٤٧)
"হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের কাছ থেকে এটি কবুল করুন! নিশ্চয়ই আপনি বেশী শোনেন এবং জানেন।' আবার তাঁরা উভয়ে দেয়াল তৈরী করতে লাগলেন এবং কাবাঘরের চারদিকে ঘুরছিলেন। আর উভয়ে এই দোয়া করছিলেন, "হে আমাদের প্রভু! আমাদের এই পরিশ্রমটুকু কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি বেশী শোনেন ও জানেন।" বুখারী শরীফের দীর্ঘ হাদীসটি এখানেই শেষ হল।

এই সুদীর্ঘ হাদীসে কিভাবে পবিত্র মক্কা নগরীর গোড়াপত্তন হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ইসমাঈল (আ) এর মা হাজার ছিলেন সারার উপহারপ্রাপ্ত একজন যুবতী কন্যা। সারার কোন সন্তান না থাকায় তিনি তাকে হযরত ইবরাহীম (আ) এর সাথে বিয়ে দেন। পরে সারার সাথে হাজারের সতীন সুলভ মনোভাব সৃষ্টি হয় এবং তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। এরপর হাজার গর্ভবতী হন। কিন্তু সারা তা সহ্য করতে পারেননি। তাই সারা সর্বক্ষণ হাজারের পেটের অবস্থার দিকে লক্ষ্য রাখতেন। কেননা বার্ধক্য পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরও সারার ঘরে কোন সন্তান না হওয়ায় হঠাৎ করে সারার মনে প্রতিহিংসা জাগ্রত হয়। অবশ্য ইসমাঈলের জন্মের অনেক পরে সারার ঘরে হযরত ইসহাক (আ) জন্মগ্রহণ করে। হাজার নিজ পেটের নিদর্শন গোপন করার জন্য কোমরবন্ধ কষে পরতেন যেন পেট বড় না দেখা যায়। তারপর হযরত ইসমাঈল (আ) হাজারের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।

হযরত ইবরাহীম (আ) হাজার ও ইসমাঈলকে মক্কায় নির্বাসন দেয়ার পর ফিরে যান। ইতিমধ্যে ৯০ বছর বয়সে হাজার মারা যান। তিনি কোরবানীর ঘটনা, কাবা নির্মাণ এবং নির্বাসিত পরিবারের খোঁজ নেয়ার জন্য পরবর্তীতে চারবার মক্কায় আসেন। দু'বার ইসমাঈল (আ) কে না পেয়ে তাঁর দুই স্ত্রীর সাথে আলাপ করে তাদের পরিবারের খোঁজ খবর নেন। ইসমাঈল (আ) জোরহোম গোত্রে বিয়ে করার পর তাদের সাথেই তাঁর সামাজিক সম্পর্ক ও আত্মীয়তা গড়ে উঠে। এইভাবে, ইসমাঈল (আ) কে কেন্দ্র করে মক্কায় মানুষের পূর্ণাঙ্গ আবাদী শুরু হয় এবং যমযম কূপের পানিই তাদের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম অবলম্বন হিসেবে দাঁড়ায়। যমযম কূপ না হলে জোরহোম গোত্রের মক্কায় বসবাস করার কোন সম্ভাবনা ছিল না। কেননা, যমযমের পানির কারণেই তারা এখানে বাস করতে আকৃষ্ট হয় এবং এর ফলে মক্কায় বসতি গড়ে উঠে। হযরত ইবরাহীম (আ) ৪র্থ বার মক্কা সফরে এসে হযরত ইসমাঈল (আ) কে নিয়ে কা'বা শরীফ তৈরী করেন।

টিকাঃ
১৭. ফী রেহাবিল বাইতিল হারাম, ডঃ মুহাম্মদ আলাওয়ী বিন আব্বাস আল মালেকী, দারুল কেবলাহ প্রকাশনী, মক্কাআল মোকাররমা, ১৯৮৫।
১৮. আল একদুস সামীন ফী তারীখিল বালাদীন আমীন, তকী ফাসী।
১৯. প্রাগুক্ত।
২০. গিরিপথের বাঁক বলতে কেউ বলেছেন হাফায়ের। কেউ বলেছেন তা হচ্ছে কুদাই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00