📄 মক্কা শরীফের মর্যাদা
মক্কা শরীফের অনেক ফযীলত আছে। নাসায়ী, তিরমিযী ও ইবনে মাজা আবদুল্লাহ বিন আদী বিন হামরা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে মক্কায় সওয়ারীর উপর আরোহন করা অবস্থায় মক্কাকে লক্ষ্য করে বলতে শুনেছি, "আল্লাহর শপথ, তুমি আল্লাহর যমীনের মধ্যে আল্লাহর কাছে শ্রেষ্ঠ; যদি আমাকে তোমার কাছ থেকে বের করে দেয়া না হত, তাহলে আমি কিছুতেই বের হতাম না।” ইমাম তিরমিযী এই হাদীসকে হাসান বা উত্তম বলেছেন। হাদীসটি হচ্ছে এই:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَدِي بْنِ الْحَمْرَاءِ الزُّهْرِى أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ وَاقِفُ عَلَى رَاحِلَتِهِ بِمَكَّةَ يَقُولُ لِمَكَّةَ : وَاللَّهِ إِنَّكَ لَخَيْرُ أَرْضِ اللَّهِ إِلِى اللَّهِ وَلَوْلَا أَنِّي أَخْرَجْتُ مِنْكِ مَا خَرَجْتَ - قال الترمذى هذا حديث حسن صحيح .
নাসায়ী শরীফে হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে আরেকটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। হাদীসটি হল:
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِى سُوقِ الْحَزْوَرَةِ : يَا مَكَّةُ وَاللَّهِ إِنَّكِ لَخَيْرُ أَرْضِ اللَّهِ وَأَحَبُّ الْبِلَادِ إِلَى اللَّهِ وَلَوْ لَا قَوْمُكِ أَخْرَجُونِي مِنْكِ مَا سَكَنْتُ غَيْرَكَ .
অর্থ: রাসূলুল্লাহ (সা) হাযওয়ারা নামক বাজারে বলেছিলেন, 'হে মক্কা, আল্লাহর শপথ, তুমি আল্লাহর উত্তম যমীন এবং আল্লাহর প্রিয় শহর; যদি তোমার কওম আমাকে তোমার কাছ থেকে বিতাড়িত না করত, তাহলে আমি কখনও অন্যত্র বাস করতাম না।' ইবনে আসীর বলেছেন, হাযওয়ারা মক্কার একটি জায়গার নাম। এই জায়গাটি বাবে ইবরাহীমের পশ্চিমে, সাবেক সোকে সগীরে অবস্থিত। এটি বর্তমানে মসজিদে হারামের নতুন সম্প্রসারণের অন্তর্ভুক্ত।
ইমাম তিরমিযী হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি হল:
إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِمَكَّةَ : مَا أَطْيَبَكِ وَلَوْ لَا قَوْمُكِ أَخْرَجُونِي مِنْكِ مَا سَكَنْتُ غَيْرَكِ . وَأَحَبَّكِ لِي ، وَلَوْ لَا
অর্থ: 'তুমি, মক্কা, কতইনা ভাল এবং আমার নিকট কতইনা প্রিয়! যদি তোমার লোকেরা আমাকে বের করে না দিত, তাহলে আমি তোমার থেকে দূরে অন্য কোথাও বাস করতাম না।' বর্ণিত হাদীসসমূহের আলোচনা দ্বারা মক্কা শরীফের সম্মান ও মর্যাদা বুঝা গেল। তবে এই নিরাপদ নগরীর সবচাইতে বড় মর্যাদা মসজিদে হারামের অস্তিত্বের কারণেই হয়েছে। আল্লাহ পাক কুরআন মজীদে এরশাদ করেছেন,
جَعَلَ اللَّهُ الْكَعْبَةَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ قِيمًا لِّلنَّاس - (المائدة ٩٨)
অর্থ : 'আল্লাহ কাবা শরীফকে সম্মানিত ঘর এবং মানুষের টিকে থাকার কারণ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।'
বাইতুল হারামের এই সম্মানিত এলাকা বলতে হারাম সীমান্তের ভেতরের সকল এলাকাকে বুঝায়। হারাম এলাকার চারদিকের সীমান্তের মধ্যে স্তম্ভ নির্মাণ করে রাখা হয়েছে। আল্লাহ গোটা হারাম এলাকার মর্যাদা কাবা শরীফের মর্যাদার অনুরূপ করে দিয়েছেন। এতে করে কাবা শরীফের সম্মান বাড়ানোই আল্লাহর উদ্দেশ্য। শরীয়তের বিধি-নিষেধ উভয় জায়গার জন্যই সমান করে দেয়া হয়েছে।
ইমাম যুহরী বলেছেন, হারাম এলাকার সীমানা সর্বপ্রথম হযরত ইবরাহীম (আ) নিজেই নির্ধারণ করেন। হযরত জিবরাঈল (আ) এর নির্দেশক্রমেই তিনি সীমানা চিহ্নিতকরণের কাজ শেষ করেন। তারপর কুসাই বিন কিলাব তা পুনঃনির্মাণ করেন। এরপর মক্কা বিজয়ের বছর, রাসূলুল্লাহ (সা) তামীম বিন উসাইদ আল খোযায়ীকে তা পুনঃনির্মাণের জন্য পাঠান। তিনি সেগুলোর পুনঃসংস্কার করেন। এভাবেই শত বছর ধরে حُدُوْدُ حَرَمْ বা হারাম শরীফের সীমানার হেফাজত করা হচ্ছে।