📄 বনি ইসরাঈলের জ্ঞানী বৃদ্ধা
'আমার মনে হচ্ছে আমরা পথ ভুল করেছি।'
'এ কেমন করে হতে পারে হযরত? আপনি আল্লাহর নবী। আপনি পথ ভুল করবেন কেন?'
'মনে হচ্ছে আল্লাহ আমাদের পথ ভুল করিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের অথৈ দরিয়া পার করিয়ে দিলেন। জালেম ফেরাউনকে ও তার লোক-লস্করকে দরিয়ার পানিতে ডুবিয়ে মারলেন। কিন্তু এ পারে এসে তো কোনো পথের দিশা পাচ্ছি না।' বললেন আল্লাহর নবী হযরত মূসা আলাইহিস সালাম।
'কিন্তু দরিয়ার ওপারে যখন আমরা ছিলাম, পেছন থেকে ফেরাউন ও তার লোক লস্কররা যখন আমাদের তাড়া করে ফিরছিল তখন তো আপনাকে পথের জন্যে পেরেশান হতে দেখিনি।' বলল একজন ইসরাঈলী জোয়ান।
'কথাটা ঠিকই বলেছো। এটাতো পেরেশানীর কথা, চিন্তার কথা।' একজন বয়োবৃদ্ধ ইসরাঈলী বললো। 'তবে আমাদের আলেম ও লেখাপড়া জানা লোকেরা অনেক কথাই জানে, তারা এ ব্যাপারে কি বলে?'
একজন ইসরাঈলী আলেম বললো, 'হ্যাঁ, একটা কথা আমাদের বাপ-দাদাদের মুখ থেকে শুনেছিলাম। সেটাই হয়তো আমাদের এই পথ ভুলের কারণ হতে পারে।'
'কি সে কথা?'
'কেন? তোমাদের অনেকেই তা শুনেছো। তবে সেটাকে হয়তো এর সাথে মেলাতে পারছো না।'
'বলুন তো ব্যাপারটা কি? আমরা তো কিছুই ভাবতে পারছি না।
'কেন তোমরা শোনোনি? মিসরে বনি ইসরাঈলী মিল্লাতের প্রতিষ্ঠাতা আল্লাহর নবী হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম তাঁর ইন্তিকালের সময় আমাদের পরদাদাদের থেকে এই মর্মে ওয়াদা নিয়েছিলেন যে, তাঁর কবর থেকে তাঁর হাড্ডিগুলো উঠিয়ে সাথে না নিয়ে তারা এদেশ ত্যাগ করবে না।'
'হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমরা শুনেছি।' অনেক আলেম একসাথে বলে উঠলো। আমাদের পথ ভুল হওয়ার এটা একটা কারণ হতে পারে।'
হযরত মূসা বললেন, 'আমাদের পূর্ব পুরুষদের ওয়াদা অবশ্যই আমাদের পালন করতে হবে। তার ওপর আমাদের মহান নবী হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের দিলের খাহেশ পূরণ করা আমাদের জন্যে একটি অবশ্য করণীয় কাজ। আল্লাহ তাঁকে এদেশে এনেছিলেন। তিনি ছিলেন এদেশে আমাদের প্রথম পুরুষ। তাঁর দিনগুলো ছিল অত্যন্ত মর্যাদা ও গৌরবের। আমাদের পূর্ব পুরুষরা ছিল কৃষি ও পশু পালনে অভ্যস্ত। তিনি তাদেরকে মিসরের নগর জীবনের সাথে জড়িত না করে গ্রামে ও পাহাড়ে জঙ্গলে আবাদ করেন। তাই শত শত বছর পরে আজো আমরা নগরবাসীদের শিরকী জীবনে অভ্যস্ত হইনি। আমরা আজো আল্লাহ ও তাঁর নবীর দীন ও শরীয়ত মেনে চলছি।'
'হে আল্লাহর নবী, আপনি ঠিকই বলেছেন। আমাদের আজকের তওহিদী জীবন, আমাদের ইবাদত-বন্দেগী এবং আল্লাহর শরীয়ত মেনে চলার জন্যে আমাদের স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা এ সব কিছুর পেছনে আমাদের মহান পূর্ব পুরুষ এবং আল্লাহর প্রিয় নবী হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের সেদিনের সিদ্ধান্ত অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছে।' বললেন একজন বনি ইসরাঈলী আলেম।
'হ্যাঁ, ঠিকই। যদি আমরা নগরবাসী হতাম। নাগরিক জীবনের আরাম আয়েশে অভ্যস্ত হয়ে পড়তাম। মিসরীয়দের মতো আল্লাহর ইবাদত না করে হয়তো পুতুল পূজাই করতাম।' বললেন আর একজন আলেম।
'আল্লাহর বড় মেহেরবাণী। তিনি আমাদের তাঁর সঠিক দীনের অনুসারী রেখেছেন।' বললেন হযরত মূসা আলাইহিস সালাম। 'আর এটি সম্ভব হয়েছে হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে।'
হযরত মূসা আবার বললেন, 'কাজেই আমাদের এদেশ ছেড়ে চলে যাবার সময় তাঁর হাড়-গোড়গুলো আমাদের সাথে নিয়ে গিয়ে আমাদের পিতৃভূমিতে কবরস্থ করার যে দাবি তিনি করেন তা আমার কাছে ন্যায়সঙ্গত বলে মনে হয়। কিন্তু তাঁর কবর কোথায়? কে বলতে পারে একথা?
সবাই মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগলো। তারপর কিছু লোক বলে উঠলো, 'হাঁ, একথা বলতে পারে মাত্র একজনই।'
'কে সে? তার নাম বলো। কোথায় থাকে?'
'সে এক বৃদ্ধা। অতিরিক্ত বয়সের ভারে ন্যুব্জ পৃষ্ঠ এক বনি ইসরাঈলী বৃদ্ধা।'
তার কাছে একজনকে পাঠালেন হযরত মূসা আলাইহিস সালাম। তাকে ডেকে আনলেন। তাকে নিজের কাছে বসালেন। বললেন, 'বুড়িমা, আপনি কি আল্লাহর প্রিয় নবী এবং আমাদের মহান পূর্ব পুরুষ হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের কবরটি কোথায় তা আমাদের দেখিয়ে দেবেন?'
'আল্লাহর কসম আমি দেখাবো না। তবে একটি শর্ত আছে যদি শর্তটি পূরণ করেন তাহলে অবশ্যই দেখিয়ে দেবো।'
'শর্তটি কি বলুন।'
'শর্তটি হচ্ছে আপনাকে ওয়াদা করতে হবে জান্নাতে আমি আপনার সাথে থাকবো।'
আল্লাহর নবী মূসা বনি ইসরাঈলের এই বৃদ্ধার শর্তটি পছন্দ করতে পারলেন না। কারণ এটা সম্পূর্ণ আল্লাহর ব্যাপার। কেবলমাত্র নেকীর জোরে বা কারোর সুপারিশে কেউ জান্নাতে যাবে না। আল্লাহ কাকে জান্নাতে নেবেন আর কাকে নেবেন না এটা তাঁর এখতিয়ার।
মূসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ জানিয়ে দিলেন বৃদ্ধার শর্ত মেনে নাও। কাজেই হযরত মূসা বললেন, 'বুড়িমা আমি আপনার শর্ত মেনে নিলাম।' আনন্দে বনি ইসরাঈলের বৃদ্ধার দুটি চোখ চকচক করে উঠলো। যেন সেখানে ঝাড় লণ্ঠন জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। যেন সাত রাজার ধনের চেয়ে অনেক বেশি কিছু তার হাতে এসে গেছে।
'আমার সাথে এসো' বলে বৃদ্ধা হাঁটা দিল একদিকে। বৃদ্ধার পেছনে পেছনে চললো সবাই। একসময় সবাই এসে পৌঁছুলো একটি পানি ভরা ডোবার কাছে। 'পানি ছেঁচে ডোবাটা খালি করো।' সবাই পানি ছেঁচার কাজে লেগে পড়লো। এক সময় ডোবাটি পানি শূন্য হলো।
'এবার কোদাল আনো'। ডোবার মাঝখানের মাটি কেটে উপরে ওঠাও। ঠকঠক আওয়াজ শুরু হলো। মাটির নিচ থেকে বের হয়ে এলো একটি শরীরের হাড়গোড়।
হযরত মূসা হাড়গুলো জমা করলেন। সেগুলো নিয়ে আবার রওয়ানা হলেন। এবার পথ তাঁর কাছে উজ্জ্বল হয়ে উঠলো দিনের আলোর মতো।
মুসতাদরাক হাকেম বর্ণিত একটি হাদীসের ভিত্তিতে গল্পটি রচিত।
প্রশ্নের জবাব দাও
১. আল্লাহর নবী হযরত মূসা (আ) কখন এবং কোথায় পথ ভুল করেছিলেন?
২. কেন পথ ভুল করেছিলেন?
৩. হযরত ইউসূফ (আ) এর কবরের সন্ধান কে জানতো?
৪. কবরটির অবস্থান কোথায় ছিল?
৫. বনি ইসরাঈলের বৃদ্ধা কবরটি দেখাবার জন্যে কি শর্ত আরোপ করেছিল?
৬. কে জান্নাতে যাবে?
📄 আল্লাহর নবী ও পিঁপড়ে
মহান আল্লাহ পৃথিবীতে জীব ও জড় যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তাদের প্রত্যেকের মধ্যে একটা অনুভূতি আছে। মানুষ ছাড়া তাদের প্রত্যেকে নিজের ইচ্ছায় এবং সচেতনভাবে আল্লাহর তাসবীহ পড়ছে, তাঁর গুণগান ও প্রশংসা করছে। মানুষ চাইলে আল্লাহর গুণগান করতে পারে আবার চাইলে নাও করতে পারে। এ স্বাধীনতা মানুষকে দেয়া হয়েছে। তবে আল্লাহর গুণগান করলে মানুষের লাভ। আর আল্লাহর গুণগান না করলে মানুষের ক্ষতি।
পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ, গাছ-পালা সবাই আল্লাহর তাসবীহ পড়ে, তাঁর গুণগান করে। কুরআন মজীদে বলা হয়েছে, 'কিন্তু তাদের তাসবীহ পড়া এবং তাদের আল্লাহর গুণগান করা তোমরা বুঝতে পারো না।'
ছোট্ট একটা পিঁপড়েও আল্লাহর তাসবীহ পড়ে। এ সম্পর্কে হাদীসের একটা ঘটনা আজ তোমাদের শুনাবো। দুটি প্রসিদ্ধ হাদীসগ্রন্থ বুখারী ও মুসলিমে এ ঘটনাটির কথা বলা হয়েছে।
কয়েক হাজার বছর আগের একটা ঘটনা। আল্লাহর এক নবী মনে হয় অনেক দূরের সফর থেকে আসছিলেন। সংগে ছিল তাঁর লোকজন। অনেক মালসামান সফর সামগ্রী। ছিলেন শ্রান্ত ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। চাইলেন একটু বিশ্রাম ও আরাম করতে। একটা বড় গাছ দেখলেন। তার ছায়ায় নেমে পড়লেন। মাল সামান গাছের নিচে রেখে বিছানা পেতে শুয়ে পড়লেন তার ছায়ায়। সবেমাত্র চোখ বুজেছেন এমন সময় কুট করে কামড় দিল একটা ডাঁশা পিঁপড়ে। তাঁর কাঁচা ঘুম ভেঙ্গে গেলো। তিনি বিরক্ত হলেন, রেগে গেলেন খুব। খুব মানে অনেক বেশি।
আল্লাহর নবী হলেও সবার মতো তিনিও মানুষ। অত্যন্ত পরিশ্রান্ত অবস্থায় ঘুমের ব্যাঘাত হওয়ায় তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে লোকদের হুকুম দিলেন, গাছের নিচে আমাদের যা মাল সামান জিনিসপত্র আছে সব বের করে নিয়ে এসো। জিনিসপত্র সব বের করে নিয়ে এসে বাইরে এক জায়গায় জড়ো করা হলো, তারপর হুকুম দিলেন, পিঁপড়ের সারিগুলোতে, ওদের ঢিবিগুলোতে এবং ওদের আবাসগুলোতে আগুন লাগিয়ে দাও।
কাজেই শত শত হাজার হাজার পিঁপড়ে পুড়ে মারা গেলো। আল্লাহ তাঁর নবীর এ কাজটি অত্যন্ত অপছন্দ করলেন। সংগে সংগেই ওহীর মাধ্যমে নবীকে তাঁর অসন্তুষ্টি ও ক্রোধের কথা জানিয়ে দিয়ে বললেন, প্রতিশোধ নিতে হলে একটি পিঁপড়ে মারতে যে তোমাকে কামড়েছিল। কিন্তু একজনের দোষে পিঁপড়ের একটা দল এবং একটা উম্মতকে খতম করে দেয়া কোন ধরনের ইনসাফ? অথচ এরা আমার তাসবীহ ও গুণগান করে।
তাই বিনা কারণে কোনো পিঁপড়েকে মারা যাবে না। কেবল পিঁপড়ে কেন, কোনো নিরীহ প্রাণীকে বিনা কারণে হত্যা করা যাবে না। বিভিন্ন হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট করে চারটি প্রাণীর নাম নিয়ে তাদেরক মারতে নিষেধ করেছেন। সেই চারটি প্রাণীর একটি হচ্ছে পিঁপড়ে। দ্বিতীয়টি মৌমাছি, তৃতীয়টি হুদ হুদ পাখি। আর চতুর্থটি হচ্ছে, সুরদ নামক একটি বিশেষ পাখি। তবে সাপ, বিছা ইত্যাদি যেসব প্রাণী মানুষের ক্ষতি করে তাদেরকে হত্যা করা বৈধ ঘোষণা করেছেন।
পিঁপিড়ে সম্পর্কে আল্লাহর আর এক নবীর কথা তোমাদের বলবো। খ্রিষ্টপূর্ব ৯৬৫ থেকে নিয়ে ৯২৬ অব্দ পর্যন্ত ৪০ বছর আল্লাহর এই নবী সুলাইমান আলাইহিস সালাম ফিলিস্তীন, জর্দান ও সিরিয়া এলাকা শাসন করেন। আল্লাহ তাঁকে বিভিন্ন প্রাণীর ভাষা শিখিয়েছিলেন। তাঁকে পিঁপড়ের ভাষাও শিখিয়েছিলেন।
একদিন তিনি তাঁর বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে এমন একটি উপত্যকায় পৌঁছুলেন যেখানে ছিল পিঁপড়েদের আবাস। পিঁপড়েদের সর্দার বুঝতে পারলো সুলাইমান আলাইহিস সালাম ও তাঁর সেনাবাহিনী তাদের এই এলাকার ওপর দিয়ে যাবেন। সর্দার ছিল অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী। সে তার দলবলকে হুকুম দিল, তোমরা বাইরে ঘোরাফেরা করো না। তাড়াতাড়ি যার যার ঘরে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে যাও। সুলাইমান তাঁর সেনাবাহিনী নিয়ে এখনই এখান দিয়ে যাবেন। তাদের পায়ের তলায় তোমরা পিষ্ট হয়ে যাবে। অথচ তারা এর কিছুই জানতে পারবেনা।
হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম দূর থেকে পিঁপড়ের সর্দারের কথা শুনতে পেলেন। আল্লাহ তাঁকে এ ক্ষমতা দান করেছিলেন। এ জন্যে তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন। ফলে তাঁর ও তাঁর সেনাদলের চলাচলে পিঁপড়েদের কোনো ক্ষতি হলো না।
তোমরা পিঁপড়েদের চলাচল করতে দেখেছো। তারা কেমন সুশৃঙ্খল ও সারিবদ্ধভাবে চলে। কোনো খাবার সংগ্রহ করলে খাবার নিয়ে তারা চলে একটা সুশিক্ষিত সেনাবাহিনীর মতো। তাদের একদল খাবারটাকে ঘিরে তাকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। আর একটা বিশাল বাহিনী সুশৃঙ্খলভাবে পথ তৈরি করে নিয়ে তাদের আবাস ও আস্তানার দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। পিঁপড়েরা একটা শৃঙ্খলাবদ্ধ নিয়মের অধীনে জীবন যাপন করে। আল্লাহ তাদের এ জীবন যাপনের ধারা শিখিয়ে দিয়েছেন।
কীট পতঙ্গের মধ্যে পিঁপড়েরা সবচেয়ে সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করে। মানুষের মতো তাদের মধ্যেও বংশধারা আছে। তারাও বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত। তাদের শাসক আছে। শাসকদের অধীনে তারা নিয়ম শৃঙ্খলার সাথে বিভিন্ন কাজ করে থাকে। যখন কোনো দুশমন কোনো এলাকায় পিঁপড়েদের আবাসস্থল আক্রমণ করতে আসে তখন সেই এলাকার সমস্ত পিঁপড়ে তাদের কাজকাম বন্ধ করে দেয়। তারা দুশমনের সাথে মোকাবিলা করার জন্যে বের হয়ে পড়ে। প্রথমে তাদের মধ্য থেকে একজন দ্রুত এগিয়ে যায়। দুশমনদের সম্পর্কে সমস্ত খবরাখবর সংগ্রহ করে। সে ফিরে এসে সবকিছু জানিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর তিন-চারটি পিঁপড়ে বের হয়। তাদের পেছনে এগিয়ে আসতে থাকে পিঁপড়েদের একটা বিরাট সেনাবাহিনী। তারপর শুরু হয় দুপক্ষের যুদ্ধ। যে এগিয়ে আসে তাকে কামড়ানো ও দংশন করা হয়।
আসলে পিঁপড়ে ক্ষুদ্র একটা কীট হলেও বেশ বুদ্ধিমান প্রাণী। তারা বুঝে শুনে পরিকল্পনা করে কাজ করে। তারা আল্লাহর সৃষ্টি, আল্লাহর বান্দা এবং একটি পৃথক উম্মত। কেবল পিঁপড়েই বা কেন, প্রাণী জগতের সকল সৃষ্টিই এক একটি পৃথক উম্মত রূপে বিরাজ করছে। তাই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে বলেছেন:
'জমিনে চলে বেড়ায় এমন কোনো প্রাণী এবং আকাশে দুই ডানা মেলে উড়ে বেড়ায় এমন কোনো পাখি নেই যারা নয় তোমাদের মতো একটা উম্মত।'
তাই সমস্ত জীবের প্রতি আমাদের সদয় ও দায়িত্বশীল ব্যবহার করা উচিত।
প্রশ্নের জবাব দাও
১. কারা আল্লাহর তাসবীহ পড়ে?
২. পিঁপড়ে আল্লাহর নবীকে কামড়ালে তিনি কি করলেন?
৩. নবীর এ কাজকে আল্লাহ কিভাবে গ্রহণ করলেন?
৪. আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশেষ করে কয়টি প্রাণীকে মারতে নিষেধ করেছেন? সেগুলো কি কি?
৫. আল্লাহর কোন নবী পিঁপড়ের ভাষা জানতেন?
৬. তিনি কত সালে কোন দেশ শাসন করতেন?
৭. পিঁপড়েদের সর্দার বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী ছিল কেন?
৮. পিঁপড়েরা কিভাবে তাদের শত্রুদের মোকাবিলা করে?