📘 মজার গল্প > 📄 কৃতজ্ঞ বান্দা

📄 কৃতজ্ঞ বান্দা


সে অনেক অনেক দিন আগের কথা। কতদিন তা ঠিকমত হিসেব কষে বলা সহজ নয়। তবে কয়েক হাজার বছর হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তখন দুনিয়ায় এত লোকবসতি ছিল না। পৃথিবীর নানা জায়গায় মানুষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে বাস করতো। সে সময় বনি ইসরাঈলের মধ্যে তিনজন লোকের দুঃখের কোন সীমা ছিল না। তারা অতি কষ্টে দিন কাটাতো। নিজেদের দুর্ভাগ্যের জন্য তারা সব সময় দুঃখ করতো আর কাঁদতো।

তাদের একজন ছিল কুষ্ঠরোগী। তার সারা শরীর ছিল ঘায়ে ভরা। তার দু'হাতের আঙ্গুল, পায়ের আঙ্গুল, নাক ও কান পচে খসে খসে পড়ছিল। সেগুলো থেকে উৎকট দুর্গন্ধ বের হতো। শত শত মাছি সব সময় তার পচা ঘাগুলোর ওপর ভন ভন করতো। মানুষ তাকে দেখে দূরে সরে যেতো। তাকে ঘৃণা করতো।

আর একজনের ছিল মাথাজোড়া টাক। তার মাথার কোথাও একগাছি চুল ছিল না। লোকেরা তাকে সব ভাল কাজের পথে বাধা মনে করতো। সকালে কেউ ঘুম থেকে উঠে প্রথমে তার মুখ দেখা পছন্দ করতো না। সবাই তার সংসর্গ থেকে দূরে সরে থাকতে চাইতো।

তৃতীয় জন ছিল অন্ধ। আল্লাহ তার দু চোখের সব আলো কেড়ে নিয়েছিলেন। দুনিয়ার বুকে সে চলে ফিরে বেড়াতো কিন্তু দুনিয়ার কিছুই দেখতে পেতো না। সবাই তার প্রতি সহানুভূতি দেখাতো। সে ছিল সবার করুণার পাত্র।

আল্লাহ তাদের পরীক্ষা করার জন্যে তাঁর এক ফেরেশতাকে পাঠালেন।

আল্লাহর ফেরেশতা গেলেন কুষ্ঠরোগীর বাড়ি। দেখলেন তার মুখটা বড়ই মলিন। সে বসে বসে নিরবে চোখের পানি ফেলছে।

"তুমি কাঁদছো কেন বাপু।” ফেরেশতা সহানুভূতির স্বরে জিজ্ঞেস করলো, "আল্লাহর এই বিশাল পৃথিবীতে তোমার কিসের দুঃখ?”

"নিজের দুর্ভাগ্যের কথা মনে করে আমার কাঁদা ছাড়া আর কোনো উপায় আছে কি?” কুষ্ঠরোগী মলিন মুখে জবাব দিল।

"আচ্ছা, তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করতে চাই।" ফেরেশতা আবার বললেন।

"কি কথা?”

“এই কুষ্ঠরোগের হাত থেকে মুক্তি ছাড়া আমি আর কি চাইতে পারি?”

"তাহলে তুমি চাও সুন্দর-সুস্থ সবল শরীর, তাই না?

“হ্যাঁ, এ ছাড়া আমার আর কি চাইবার আছে? এই রোগের জ্বালায় আমি শেষ হয়ে গেলাম। মানুষ আমাকে ঘৃণা করে, তাদের কাছে আমাকে বসতে দেয় না। আমাকে দেখলেই দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়।”

"তাহলে আল্লাহর কাছে আমি তোমার জন্য দোয়া করছি।” এই বলে ফেরেশতা তার গায়ে হাত বুলিয়ে দিলেন।

দেখতে দেখতে কুষ্ঠরোগী সেরে উঠলো। তার গায়ের রং পালটে গেল। তার কুৎসিত কদাকার দেহে নতুন লাবণ্য ফুটে উঠলো। কুৎসিত মানুষটির মধ্য থেকে একটি সুশ্রী, সুস্থ, সবল যুবক বের হয়ে এলো।

ফেরেশতা জিজ্ঞেস করলেনঃ “এবার বলো তুমি কোন সম্পদ বেশী ভালবাস?”

"উট” লোভাতুরের ন্যায় ফেরেশতার দিকে তাকিয়ে সে ঝটপট জবাব দিল।

"এই গর্ভবতী উটটি ধরো। আল্লাহ তোমাকে এর মধ্যেই বরকত দেবেন।” একথা বলেই ফেরেশতা গায়েব হয়ে গেলেন।

সেখান থেকে ফেরেশতা এলেন টাক মাথার কাছে। সে তখন একাকী বসে নিজের দুর্ভাগ্যের জন্যে হা-হুতাশ করছিল। অপরিচিত লোককে দেখে খেঁকিয়ে উঠলো, "মরার আর জায়গা পেলেনা? আমাকে জ্বালাতে এলে কেন?"

“একটা কথা জানতে এসেছিলাম।” ফেরেশতা সহানুভূতিমাখা কণ্ঠে বললেন।

"আমার কাছে জানবার মত এমন কি কথা আছে?"

“আমাকে তোমার একজন বন্ধু মনে করো।" ফেরেশতা বললেন। "আমি তোমার উপকার করতে চাই। আমি জানতে চাই তুমি কি চাও? কি পেলে তুমি খুশী হও?”

"আমি আমি কি --- চাই, এ্যাঁ--? মাথাভর্তি কালো চুল ছাড়া আর কি চাইব বল?"

"ও, তাহলে তুমি মাথা ভর্তি চুল পেলেই খুশী?”

সে খুশীতে ডগমগ।

"সত্যিই কি এটা সম্ভব? মাথায় চুল ভরে গেলে লোকেরা আর আমাকে বিদ্রূপ করবে না। তখন কতই না মজা হবে। সবাই আমাকে ভালবাসবে- সম্মান করবে। আমি বুক ফুলিয়ে পথ দিয়ে হাঁটতে পারবো। কিন্তু --- কিন্তু, এটা কি সম্ভব?”

“হ্যাঁ, আল্লাহর কাছে তোমার জন্য দোয়া করছি।” এই বলে ফেরেশতা তার টাক মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। মুহূর্তের মধ্যে তার সারা মাথা কালো কুচকুচে চুলে ভরে গেল। তার চেহারায়ও লাবণ্য ফুটে উঠলো।

ফেরেশতা জিজ্ঞেস করলেনঃ "বলো, তুমি কোন সম্পদ বেশী ভালবাস?"

"গরু, আমি গরু বেশী ভালবাসি" সে সোৎসাহে জবাব দিল।

"তাহলে এই গর্ভবতী গাভীটি রাখো। আল্লাহ তোমাকে এ থেকেই বরকত দেবেন।" একথা বলে ফেরেশতা চলে গেলেন।

এবার ফেরেশতা এলেন অন্ধের কাছে। অন্ধের কাছে সারা দুনিয়াটাই অন্ধকার। সে আল্লাহর এই বিশাল দুনিয়ার কিছুই দেখতে পায় না। তাই নিজের দুঃখের কথা চিন্তা করে বসে বসে চোখের পানি ফেলছিল। ফেরেশতার সাড়া পেয়ে জিজ্ঞেস করলোঃ "কে ভাই তুমি? অন্ধের কুঁড়েঘরে এলে কি উদ্দেশ্যে?"

"তোমার কাছে সবাই অপরিচিত আর আমিতো অনেক অনেক বেশী অপরিচিত।" ফেরেশতা বললেন, "তবে তুমি জেনে রাখ তোমার এক বন্ধু হিসেবে তোমার কিছু উপকার করার জন্যে আমি তোমার কাছে এসেছি।"

"তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করতে চাই।" ফেরেশতা আবার বললেন।

"কি কথা, আমার মতো এক নগণ্য অন্ধের কাছ থেকে আবার কি কথা জানতে চাও?”

"দুনিয়ার কোন জিনিসটি তুমি সবচাইতে বেশী ভালবাস?"

"আমার মতো অন্ধ দু'টি চোখ ছাড়া আর কি ভালবাসতে পারে?"

"যদি তোমার দু'টি চোখ ফিরিয়ে দেয়া হয়--।" ফেরেশতা তার মলিন মুখের দিকে চেয়ে বললেন।

"আহা, তাহলে কতই না ভালো হয়। আল্লাহর এই বিচিত্র দুনিয়ার কত কিছুই আমি দেখতে পাবো? তাহলে আমি আল্লাহর কাছে অসংখ্য শোকরগুজারী করবো।"

"মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে আমি তোমার চোখের জন্যে দোয়া করছি।” এই বলে ফেরেশতা তার চোখের উপর হাত বুলিয়ে দিলেন। তার চোখের জ্যোতি ফিরে এলো।

"ইয়া আল্লাহ! ইয়া আল্লাহ! তোমার কি অপার মহিমা! তোমার দয়ার শেষ নেই! তোমার রহমতের অন্ত নেই! আহা! আমি কি দেখছি! আমি সব কিছু দেখতে পাচ্ছি! আহা! কি সুন্দর এই পৃথিবী! গাছ-পালা, আকাশ, মানুষ! আহা সব-সব সুন্দর! আল্লাহ! তুমি কতইনা সুন্দর! কতই না ভালো!!"

"আমি আর একটা কথা জানতে চাই” ফেরেশতা আবার বললেন। “কি কথা?" কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে ফেরেশতার দিকে চেয়ে সে জিজ্ঞেস করলো।

"দুনিয়ার কোন সম্পদ তুমি বেশী ভালবাস?”

"ছাগল আমি সবচেয়ে বেশী ভালবাসি।” সে জবাব দিল।

“এই তোমাকে একটি গর্ভবতী ছাগী দিলাম। আল্লাহ এর মধ্যে তোমাকে বিপুল বরকত দান করবেন।"

"আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।" ফেরেশতা চলে গেলেন।

কুষ্ঠরোগী, টাকমাথা ও অন্ধ- তিনজনের মনের আনন্দে দিন কাটতে লাগলো। তারা পশুপালনে অত্যন্ত মনোযোগী হয়ে উঠলো। তাদের প্রতি যত্ন নিতে লাগলো। দিনভর পশুদের চারণ ক্ষেত্রে নিয়ে ফিরতো এবং সাঁঝের বেলা পেট ভরিয়ে পানি পান করিয়ে নিয়ে ঘরে ফিরে আসতো। এভাবে ধীরে ধীরে কয়েক বছর গড়িয়ে গেলো। উটের সংখ্যা বেড়ে গেল। গরুর সংখ্যা বেড়ে গেলো। ছাগলের সংখ্যা বেড়ে গেলো। তাদের তিনজনের অভাব ঘুচলো। এখন তাদের খাদ্য-পানীয়, অর্থ, সম্পদ-কোন কিছুর অভাব থাকলো না। তাদের ধনের খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো। মানুষের চোখে তাদের মান সম্মান-ইজ্জত বেড়ে গেলো।

কিন্তু তাদের পরীক্ষার এখনো বাকি ছিল।

ফেরেশতা আবার এলেন কুষ্ঠরোগীর বাড়িতে। তবে এবার তিনি এলেন দরিদ্রের বেশ ধরে। কুষ্ঠরোগী এখন তো আর রোগী নয়। সে এখন একজন সুন্দর সুশ্রী-সুঠামদেহী যুবক। ধনী যুবক। বহু টাকার মালিক। সে উটের দেখাশুনায় ব্যস্ত ছিল। ফেরেশতা তার সামনে হাজির হলেন।

"তুমি কে হে বাপু? এখানে কি দরকার?” কুষ্ঠরোগী ঝাঁঝালো কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো।

"আমি বড়ই গরীব বাবা। আমি সফর করছিলাম। কিন্তু পথে আমার টাকা-পয়সা সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আমার কাছে একটি কানাকড়িও নেই। কিভাবে দেশে ফিরবো সেই চিন্তায় আমি আকুল। আল্লাহ ছাড়া আমার আর কোন সহায় নেই।

"তোমার এ দুরবস্থার জন্যে আমি দায়ী নই। কাজেই এ ব্যাপারে আমি কি করতে পারি?” কুষ্ঠরোগী মুখ বিকৃত করে বললো।

"আমি তোমার কাছে সাহায্য চাইছি। সেই আল্লাহর নামে সাহায্য চাইছি যিনি তোমার দুরারোগ্য কুষ্ঠরোগ সারিয়ে দিয়েছেন। তোমাকে সুন্দর, সবল ও সুস্থ শরীর দান করেছেন। তোমাকে এই অসংখ্য উট ও বিপুল ধন-সম্পদ দিয়েছেন। আল্লাহর নামে আমাকে একটি উট দাও। এই উটে চড়ে আমি নিজের দেশে যাবো। আল্লাহ তোমাকে এর বদলায় আরো অনেক দিয়ে দেবেন।"

"দূর হ, দূর হ, দূর হ, এখান থেকে! তোর মতো অনেক ভিখারী দেখেছি! ভিখারী সাহেব আবার উটে চড়ে দেশে যাবে। ভড়ং দেখাবার জায়গা পায়নি আর। যা যা। দূর হয়ে যা, এখান থেকে দূর হয়ে যা! আমার এখন অনেক কাজ বাকি। অনেকের হক আদায় করতে হবে। তোর মতো ভিনদেশী ভিখারীকে দেবার মত আমার কাছে কিছুই নেই।” কুষ্ঠরোগী রাগে ফেটে পড়লো।

"আমার মনে পড়ছে” ফেরেশতা বলতে লাগলেন, "আগে তুমি কুষ্ঠরোগী ছিলে। মানুষ তোমাকে ঘৃণা করতো। কেউ তোমাকে কাছে বসতে দিতো না। তুমি ছিলে অত্যন্ত গরীব। পরের কাছে চেয়ে-চিন্তে যা পেতে তাতেই তোমার দিন গুজরান হতো। তোমার কোনো সম্মান ছিল না। কেউ তোমাকে ভালবাসতো না। তারপর আল্লাহ তোমার রোগ সারিয়ে দিলেন। তোমাকে ধন-সম্পদ দান করলেন। আর এই পরম করুণাময় আল্লাহর পথে তুমি একটি উটও দান করতে পারছো না?"

“বেশ বাজে বকতে পারোতো তুমি," কুষ্ঠরোগী রাগে দিশেহারা হয়ে পড়লো, "আমার এ ধন সম্পত্তি আমার বাপ-দাদার আমল থেকে চলে আসছে।"

"ভালো কথা, তাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে মনে রেখো, তুমি মিথ্যেবাদী হলে আল্লাহ তোমাকে তোমার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেবেন।" এই কথা বলে ফেরেশতা সেখান থেকে টাকমাথার কাছে চলে এলেন।

টাকমাথা তখন গরু দেখাশুনায় ভীষণ ব্যস্ত। তার কারো দিকে ফিরে তাকাবার ফুরসত নেই।

"ওহে আল্লাহর বান্দা! আমার একটি কথাতো শোনো" ফেরেশতা চীৎকার করে বললেন।

"তোমরা আজকাল বড্ড জ্বালাতন করছো, কি বলতে চাও শিগগির বলে ফেলো, আমার সময় কম।” টাকমাথা বিরক্তিমাখা স্বরে বললো।

"আমি বড় গরীব। সফরে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমার হাতে একটি পয়সাও নেই। কেমন করে দেশে ফিরবো ভেবে পাইনে। আল্লাহ ছাড়া আমার আর কোন সম্বল নেই।”

"আমি কি করতে পারি? তোমার এ অবস্থার জন্যে আমি দায়ী নই।” টাকমাথা মুখ ফিরিয়ে নিল।

"আল্লাহর নামে একটা গরু আমাকে দাও। আল্লাহ তোমার প্রতি বড়ই অনুগ্রহ করেছেন। তোমার মাথায় সুন্দর কালো কালো চুল দিয়েছেন। তোমাকে ধন দৌলত দিয়েছেন, অসংখ্য গরু দিয়েছেন। সমাজে মান-সম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি সবই দিয়েছেন।"

"যা যা, তোর মতো অনেক ভিখারী আমার দেখা আছে। আমার দান করার দরকার নেই। এগুলো আমার অনেক মেহনতের ধন। ভাগ ভাগ, তোকে দেবার মত আমার কিছুই নেই।” টাকমাথার কণ্ঠে ক্রোধ ঝরে পড়ছিল।

"আমি জানি তোমার মাথাজোড়া টাক ছিল। লোকেরা তোমাকে ঘৃণা করতো। তুমি ছিলে বড়ই গরীব। আল্লাহ তোমার ওপর মেহেরবাণী করলেন। তোমার মাথায় কালো কুচকুচে চুল দিলেন। তোমাকে অসংখ্য গরু ও বিপুল ধন-সম্পত্তি দিলেন। সমাজে তোমার মান-সম্মান ও প্রতিপত্তি দিলেন। এত বড় করুণাময় আল্লাহর পথে তুমি একটি গরুও দান করতে পারছো না!"

"কি কথা বলো তুমি ভিনদেশী ভিখারী? আমি জানি, ভালো করেই জানি, এই বিপুল সংখ্যক গরু, টাকা-পয়সা সব আমার বাপ-দাদার নিকট থেকেই আমি পেয়েছি।”

"ভালো কথা, তোমার কথা যদি মিথ্যা হয় তাহলে আল্লাহ তোমাকে তোমার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেবেন।"

এই কথা বলে ফেরেশতা সেখান থেকে অন্ধের বাড়ির দিকে চললেন। অন্ধ তখন তার ছাগলের পাল নিয়ে ব্যস্ত।

"একটা কথা শুনে যাও ভাই।" ফেরেশতা অন্ধকে ডেকে বললেন।

"কি কথা বল ভাই।"

"আমি একজন গরীব মুসাফির। আমার সফরের শেষ সম্বলটুকুও ফুরিয়ে গেছে। এখন আল্লাহ ছাড়া আমার কোন সহায় নেই। আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে একটা ছাগল দাও। সেটা বিক্রি করে আমি কিছু অর্থ সংগ্রহ করবো এবং তার সাহায্যে আমার সফরের কাজ শেষ করবো।"

"আল্লাহ আমার প্রতি বড়ই অনুগ্রহ করেছেন। আমাকে এই বিপুল সম্পদ দান করেছেন। এর মধ্যে তোমারও হক আছে। আমার ভাই, আমি আনন্দের সাথে বলছি, তুমি নিজের ইচ্ছেমতো ছাগল নিয়ে যাও, একটা কেন, দুটো তিনটে, চারটে, যেক'টা তোমার প্রয়োজন নিয়ে যাও। বরং আমার ভাই, এসবগুলোই তুমি নিয়ে যাও।”

অন্ধ আবেগ ভরে বলে যাচ্ছিলঃ আমার ভাই! আল্লাহ আমার প্রতি বড়ই অনুগ্রহ করেছেন। আমি অন্ধ ছিলাম আমাকে চোখ দিয়েছেন। আমি গরীব ছিলাম- আমাকে এই বিপুল সংখ্যক ছাগল দিয়েছেন। আমি তুচ্ছ ও নগণ্য ছিলাম, আমাকে সমাজে সম্মান ও প্রতিপত্তি দান করেছেন। এই বিপুল নেয়ামত-এ সব তাঁরই দান। তাঁর নামে ও তাঁর পথে এসব দান করলে তিনি আবার এর চাইতে বেশী সম্পদ আমাকে দান করবেন। আমার ভাই! যে কটা ছাগল তোমার প্রয়োজন এখান থেকে নিয়ে যাও।"

এভাবে আল্লাহর দানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য ফেরেশতা বড়ই আনন্দিত হলেন।

"তোমার ছাগল তোমার থাক। আমার আর প্রয়োজন নেই, ফেরেশতা বলতে লাগলেন, আল্লাহ তোমার সম্পদ আরো বাড়িয়ে দেবেন। তুমি আল্লাহর শোকর আদায় কর কিনা আমি শুধু এতটুকুই দেখতে এসেছিলাম। তোমার পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে। আল্লাহ তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। তুমি আল্লাহর নেয়ামতের আরো শোকর করতে থাক। আল্লাহ তোমার প্রতি তাঁর করুণা অজস্র ধারায় বর্ষণ করবেন। তোমার অন্য দুই বন্ধু, টাকমাথা ও কুষ্ঠরোগী ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা আল্লাহর নেয়ামতের কদর করেনি। তারা শোকর আদায় করেনি। তাই তারা নিজেদের আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। আমার ভাই! আল্লাহ তোমাকে তাঁর করুনার ছায়াতলে আশ্রয় দান করুন। এবার তাহলে চলি। ফেরেশতা চলে গেলেন।

বুখারী ও মুসলিম শরীফের হাদীসের ভিত্তিতে গল্পটি রচিত।

প্রশ্নের জবাব দাও
১. আল্লাহ কাদের পরীক্ষা করার জন্যে তাঁর ফেরেশতা পাঠালেন?
২. তারা কে কি সম্পদ চাইলো?
৩. কুষ্ঠরোগী ও টাকমাথা কি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পেরেছিল? না পারলে কেন পারেনি?
৪. অন্ধ কিভাবে পরীক্ষায় সফলকাম হলো?
৫. আল্লাহর শোকর কিভাবে আদায় করতে হয়?

📘 মজার গল্প > 📄 চাষী আল্লাহর অনুগত

📄 চাষী আল্লাহর অনুগত


এক ছিল চাষী। তার ছিল জমি। এক চিলতে নয়, বেশ খানিকটা। আর সেই জমিতে সে করতো চাষ-আবাদ। চাষী ছিল যেমন সৎ তেমনি চরিত্রবান। সে কারোর জমির আইল ঠেলতো না। প্রতিবেশীর সাথে ঝগড়া-ঝাঁটি করতো না। সব কাজে আল্লাহর হুকুম মেনে চলতো।

চাষী চাষ করতো নিজের জমি। সকাল হলেই ফজরের নামায সেরে গরুর কাঁধে লাঙ্গল দিয়ে মাঠে নামতো। ক্ষেতে লাঙ্গল দিতো, সার দিতো, বীজ বুনতো, সব কিছু করতো কিন্তু ভরসা রাখতো আল্লাহর রহমতের ওপর। আল্লাহও তেমনি তার মেহনতের ফল দিতেন। তার ক্ষেতে শস্য ঢেলে দিতেন অজস্র। আশে-পাশের সব ক্ষেতের তুলনায় তার ক্ষেতে শস্য হতো অনেক বেশী। আর সব ক্ষেত শুকিয়ে গেলেও বা কোন প্রকার দুর্যোগে ফসল নষ্ট হয়ে গেলেও তার ক্ষেত সব সময় শস্য-শ্যামল থাকতো।

কিন্তু তার ক্ষেতে এই অজস্র ফসলের রহস্য খুব কম লোকই জানতো। সবাই মনে করতো এ সব বুঝি তার বেশী মেহনতের ফল।

একবার ভীষণ গরম পড়লো। রোদের তাপে ক্ষেতের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেলো। পুকুরের পানিও শুকিয়ে যেতে লাগলো। গাছ পালায়, ঘরের চালে কাকেরা কা কা চীৎকার করতে লাগলো। সারাটা দুনিয়া যেন শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেলো। হায় আল্লাহ, একি হলো! মানুষ সব সময় আকাশের দিকে চেয়ে থাকতো মেঘের আশায়। কালো মেঘে আকাশ ছেয়ে যেতো। কিন্তু আবার পরক্ষণেই প্রবল বাতাস সেগুলোকে তাড়িয়ে নিয়ে যেতো দেশ থেকে দেশান্তরে। একটু আগেই যেখানে বিপুল আশায় মানুষের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। সেখানে আবার নিমেষেই সব আশা উবে যেতো। মানুষের দুর্ভাবনা বেড়ে গেল। সবাই চিন্তা করতে লাগলো, এবার কি হবে। বৃষ্টির অভাবে এবার ক্ষেতে ফসল হবেই বা কেমন করে!

কিন্তু ওই সৎ চাষীর কোন চিন্তাই ছিল না। তার মনে কোন দুঃখ বা খেদও ছিল না। লোকেরা মনে করলো, এ বছর বৃষ্টি হচ্ছে না। কাজেই ক্ষেতে ফসল হবে না। ক্ষেতে মেহনত করেই বা কি হবে? আর সৎ চাষীর ক্ষেতে বা ফসল হবে কেমন করে? সে ক্ষেতে মেহনত করলেও তার সব মেহনত বিফলে যাবে। পানির অভাবে একদানাও শস্য পাবে না সে।

এভাবে কিছু দিন কেটে গেলো। একদিন আকাশে কালো মেঘ দেখা গেলো। দেখতে দেখতে সারা আকাশ মেঘে ছেয়ে গেলো। মানুষের মনে আশা জাগলো এবার বুঝি বৃষ্টি হবে। বৃষ্টি হলো, সত্যি বৃষ্টি হলো। কিন্তু কোথায় যেখানে মাটি নেই, ক্ষেত নেই, পাথর শুধু পাথর। মেঘ তার সব সম্পদ পাথরের ওপর পাহাড়ের বুকে ঢেলে দিয়ে চলে গেলো। মানুষ আবার নিরাশায় ডুবে গেলো।

আল্লাহর মহিমা বোঝা কার সাধ্যি! যে পাহাড়ে বৃষ্টি হচ্ছিল তার ওপর থেকে একটি নালা নীচে ক্ষেতের দিকে নেমে এসেছিল। নালাটি ওই সৎ চাষীর ক্ষেতের পাশ দিয়ে চলে গিয়েছিল। বৃষ্টি নামতে দেখে ওই ব্যক্তি নিজের ক্ষেতে পৌঁছে গেলো। সে আল্লাহর শোকর গুজারী করলো। কোদাল দিয়ে নালার মুখটি কেটে নিজের ক্ষেতের দিকে ঘুরিয়ে দিল। কিছুক্ষণের মধ্যে তার ক্ষেত পানিতে ভরে গেলো। ফলে অন্যান্য ক্ষেতে কোনো ফসল হলো না। কিন্তু তার ক্ষেতে শস্য ভরে গেলো।

তার ক্ষেতের অবস্থা দেখে, মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগলো। কারোর ক্ষেতে ফসল হলো না, তার ক্ষেতে ফসল হলো কেমন করে?

"এবার তার সব পরিশ্রম মেহনতই তো অর্থহীন ছিল?"

"তা ঠিক, তবে তার জমির মাটি উর্বর।”

"না কখখনো না, আর সব জমির মতো তার জমিও সমান উর্বর।”

"তাহলে কি ব্যাপার? তার জমিতে ফসল হলো কেন?"

লোকেরা অনেক চিন্তা করলো, অনেক বাদানুবাদ করলো কিন্তু এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারলো না। অবশেষে সবাই একবাক্যে বললোঃ "চলো তার কাছ থেকেই এর কারণ জানা যাক।" চলো তার কাছে চলো। তারা সবাই তার কাছে এলো। তাকে জিজ্ঞেস করলোঃ "ভাই, একটা ব্যাপারের কোনো রহস্যই আমরা বুঝতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়ে তোমার কাছে এসেছি। তুমি নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে অনেক কিছু জানো। যদি তুমি অসন্তুষ্ট না হও তাহলে তোমাকে একটা প্রশ্ন করতে চাই।"

"নিশ্চয়ই প্রশ্ন করবে। অসন্তুষ্ট হবো কেন?”

"এই কাঠফাটা রোদ্দুরে সবার ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।----।”

"হ্যাঁ, তা জানি।”

"কিন্তু তোমার ক্ষেত শস্য-শ্যামল হয়ে উঠেছে।"

"হ্যাঁ তাতো সবাই জানে।"

“এই প্রচণ্ড গ্রীষ্মে সবার ক্ষেতের মাটিগুলোই শুধু আছে। বৃষ্টি না হবার কারণে কেউ শস্যের একটি দানাও পায়নি।"

"তা অবশ্য আমি জানি।"

"কিন্ত তোমার ক্ষেতে সবুজের সমারোহ, শস্যে সমগ্র ক্ষেত ভরে গেছে।"

"এতে কোন সন্দেহ নেই।"

"আমরা মনে করেছিলাম সবার ক্ষেতের যা অবস্থা তোমার তাই হবে। তবে যেহেতু তুমি বেশী মেহনত করো, ক্ষেতের ও ফসলের বেশী যত্ন নাও, তাই আগে তুমি বেশী ফসল পেতে এবং এবারও কিছুটা পাবে। কিন্তু এত বড় পার্থক্য কেমন করে হলো? কেউ একটি দানাও পেলো না অথচ তুমি পুরো ফসল পেলে, এর কারণ কি?"

“এটাই তো আসল কথা। অথচ এটা তোমরা বুঝতে পারো না।” সে বলতে শুরু করলো। "তোমরা যতটুকু মেহনত করো আমিও ঠিক ততটুকুই করি। তোমাদের চাইতে বেশী মেহনত করার শক্তি আমার কোথায়? বরং তোমাদের মধ্যে আমার চাইতে বেশী শক্তিমান লোক আছে। তারা আমার চাইতে অনেক বেশী মেহনত করে। তাদের তুলনায় আমার মেহনত কিছুই নয়।”

"তোমার কথা এক বর্ণও মিথ্যা নয়। তাহলে এর কারণ কি?” তারা বিস্ময় প্রকাশ করলো।

“এর একটি মাত্র কারণ, আল্লাহর রহমত আমার ওপর বিশেষভাবে বর্ষিত হয়। এই সেদিনকার কথাই ধরো। আল্লাহ সেদিন এমনভাবে বৃষ্টি দিলেন যে, তা পাহাড়ের ওপর দিয়ে গড়িয়ে নালার সাহায্যে আমার ক্ষেতের মধ্যে এসে পৌঁছলো। যার ফলে আমার ক্ষেত শস্য-শ্যামল হয়ে উঠলো। অথচ অন্য ক্ষেত এক বিন্দুও পানি পেলো না। ফলে সেখানে সব শুকিয়ে গেছে। এর মধ্যে আমার মেহনতের কোন বিশেষ ভূমিকা নেই।”

"হ্যাঁ, ঠিক কথা, তাঁর রহমত ছাড়া এটা কিছুতেই সম্ভব নয়। কিন্তু তোমার ওপর আল্লাহর এই বিশেষ রহমতের কারণ কি? আমরা সবাই তাঁর এই রহমত থেকে বঞ্চিত কেন?"

সে বলতে শুরু করলোঃ "ঠিক কথা, আল্লাহ যেমন আমার তেমনি তোমাদেরও। কিন্তু আমার ও তোমাদের মধ্যে একটা পার্থক্য রয়েছে। আমি তাঁর প্রত্যেকটি হুকুম মেনে চলি। প্রতি পদে পদে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করি। আমার কোনো কাজের কারণে আমার আল্লাহ আমার প্রতি বিরূপ হয়ে গেলেন কিনা সব সময় আমার মনে এ ভয় জাগরূক থাকে। যেমন ধরো আমার ক্ষেতে যে ফসল উৎপন্ন হয়, ফসল ওঠার সাথে সাথেই আমি তার তিন ভাগের এক ভাগ আল্লাহর পথে খয়রাত করে দেই। বাকী দু'ভাগের এক ভাগ পুনরায় বীজ হিসেবে ক্ষেতে বপন করি এবং অবশিষ্ট এক ভাগ নিজের গৃহে রাখি। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমি এ ব্যাপারে কখনও কোনো প্রকার লোভ করি না। আল্লাহ যা দেন তাই তাঁর নেয়ামত মনে করে গ্রহণ করি। তাতেই সন্তুষ্ট থাকি। তাঁর ওপর সবর করি এবং আল্লাহর শোকর গুজারী করি--- কিন্তু তোমরা --- তাঁর একটি হুকুমও মেনে চলো না। তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য একটুও চেষ্টা করো না। তাঁর পথে এক দানা শস্যও দান করা পছন্দ করো না। তোমরাই বলো, এ অবস্থায় আল্লাহর দৃষ্টিতে আমার ও তোমাদের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য অবশ্যই হওয়া উচিত কিনা? তোমরাই চিন্তা করো, যাদের চোখ আছে আর যাদের চোখ নেই তারা কি সমান হতে পারে? যারা অন্যের দান গ্রহণ করে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আর যারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, তারা কি কখনো সমান হতে পারে? এই পার্থক্যটাকেই আমি আল্লাহর রহমত বলে মনে করি। আমি জানি না তোমরা একে কি মনে করবে?"

একথা বলেই সে চুপ করে গেলো। আল্লাহর অনুগত চাষীর কথায় সবার টনক নড়লো। সবাই এক সাথে বলে উঠলোঃ ঠিক বলেছো ভাই। আমরা তো আসলে আল্লাহর বান্দা, তাঁর দাস। তাঁর মেহেরবানী হয় বলেই আমরা জমিতে ফসল পাই। কাজেই এ ফসলে অন্যদের হক আদায় করতে হবে। আমাদের হতে হবে আল্লাহর অনুগত চাষী।

একটি হাদীসের আলোকে গল্পটি রচিত।

প্রশ্নের জবাব দাও
১. সৎ চাষীর ক্ষেতে বৃষ্টির পানি নেমে এলো কিভাবে?
২. সৎ চাষীর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয় কেন?
৩. যাদের চোখ আছে আর যাদের চোখ নেই তারা কি সমান হতে পারে? এ কথাটি কে বলেছিল এবং কেন বলেছিল?
৪. চাষীর ফসলে আর কাদের হক আছে এবং সে হক কিভাবে আদায় করতে হবে?

📘 মজার গল্প > 📄 রুজির মালিক আল্লাহ জেনো

📄 রুজির মালিক আল্লাহ জেনো


এক শহরে ছিল এক সৎ যুবক। সারাদিন খাটা-খাটনি করে যা কিছু পেতো তা দিয়ে গুড়-মুড়ি কিনে কোন রকমে কায়ক্লেশে দিন গুজরান করতো। আর আল্লাহর শোকর গুজারী করতো। আল্লাহর প্রতি ঈমান তার কখনো টলমল করেনি। সে বিশ্বাস করতো, আল্লাহ যখন তাকে সৃষ্টি করেছেন তখন তার আহারও যোগাবেন। আল্লাহ তাকে অনাহারে মারবেন না। তাই কোনদিন কিছু উপার্জন করতে না পারলেও সে কারো কাছে হাত পাততো না। মানুষের কাছে ভিক্ষা চাওয়াকে সে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় অপমান মনে করতো।

একবার সে বড়ই কষ্টে পড়লো। কোথাও কোন কাজ পেলো না। পরপর ক'দিন অনাহারে কাটালো। ক্ষুধায় কাতর হয়েও সে কাজের সন্ধানে ফিরতে লাগলো। অবশেষে দুর্বলতার কারণে তার পক্ষে পথ চলা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ালো। এখন কি করবে সে ভেবে কোন কুল-কিনারা করতে পারছিল না। তবুও সে চলতে লাগলো। মনে মনে ভাবলো, আল্লাহ হয়তো কোন একটা উপায় করে দেবেন।

কিছুদূর চলার পর নির্জন পথে হঠাৎ সে একটা কাপড়ের থলি দেখতে পেল। থলিটি বড়ই সুন্দর। কি জানি কার থলি এটা নিয়ে আবার কোন ফ্যাসাদে পড়বো। এ কথা চিন্তা করে সে এগিয়ে গেল। কিন্তু কিছুদূর গিয়ে আবার মনে হলো, থলিটা আমি না নিলেই বা কি অন্য কেউ তো তুলে নিয়ে যাবে। তার চেয়ে বরং আমি ওর আসল মালিকের হাতে পৌঁছিয়ে দেই। একথা চিন্তা করে সে আবার ফিরে এসে থলিটা উঠিয়ে নিল। সে থলিটা উঠিয়ে নিয়ে উলটে পালটে দেখলো। মনে হলো এর মধ্যে কিছু মূল্যবান জিনিস আছে। সে থলির মুখটা খুলে ফেললো। তার মধ্যে দেখলো একটা মূল্যবান সোনার হার ও কিছু স্বর্ণমুদ্রা। এমনিতো সে অনাহারে ছিল কয়েকদিন থেকে। ক্ষুধায় নাড়ি চোঁ চোঁ করছিল। তার পা পিছলে যেতে লাগলো। চিন্তা হলোঃ এটা পরের জিনিস। আর পরের জিনিস না বলে নেয়া হারাম। কিন্তু তিন দিনের অনাহারের পর এখন তার ক্ষুধায় মারা পড়ার অবস্থা। এ অবস্থায় হারামও হালাল হয়ে যায়। কাজেই এ থেকে তার প্রয়োজন পরিমাণ একটা মুদ্রা গ্রহণ করলে ক্ষতি কি? কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তার ভেতরের বিবেক জেগে উঠলো।

বিবেক তাড়া দিলঃ এ হতে পারে না। তিন দিনের অনাহারের পর তুমি কি আল্লাহর ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেললে? আল্লাহ কি তোমাকে নিজের মেহনতের উপার্জন থেকে অন্ন দান করতে পারেন না? তুমি পরের দ্রব্য গ্রহণ করতে যাবে কেন? হাজার হোক এ স্বর্ণমুদ্রা তো পরের। তুমি ভিখ মেগে নয়, তার অগোচরে তার জিনিস গ্রহণ করতে চাও। অথচ আল্লাহর নিকট থেকে গ্রহণ করতে চাও না। তোমার কাছে ঈমানের সম্পদ আছে। এই তুচ্ছ পার্থিব সম্পদের বিনিময়ে তোমার সেই ঈমানের সম্পদ হারিয়ে ফেলোনা। এটা পরের ধন এবং পরের ধন হারাম এতে সন্দেহ নেই। কাজেই থলির ধনে হাত দিয়ো না। সে বিবেকের ডাকে সাড়া দিল। আল্লাহর কাছে তওবা করল। তারপর থলিটা ঘরে রেখে তার মালিকের খোঁজে বেরিয়ে পড়লো। মনে করল, মালিকের খোঁজ করতে করতে হয়তো একটা কাজের খোঁজও পেয়ে যাবে।

শহরের পথে কিছু দূর চলার পর সে একটা ঘোষণা শুনতে পেলো! এক বৃদ্ধ ঘোষণা করছেঃ "আমার একটা মূল্যবান থলি হারিয়ে গেছে। তার মধ্যে সোনার হার ও স্বর্ণমুদ্রা আছে। যদি কেউ পেয়ে থাকে তাহলে তা ফিরিয়ে দিলে তাকে পাঁচশো টাকা পুরস্কার দেয়া হবে।"

গরীব লোকটি বুঝতে পারলো, সে যে থলিটি পেয়েছে সেটি নিঃসন্দেহে এই বৃদ্ধের। সে দৌড়ে বৃদ্ধের কাছে গিয়ে বললোঃ "আসুন আমার সাথে। আপনার থলির সন্ধান আমি দিচ্ছি।” বৃদ্ধ তার সঙ্গে চললো। ঘরে গিয়ে সে থলিটি বৃদ্ধের সামনে রাখলো। আনন্দে বৃদ্ধের দু' চোখের তারা চক চক করে উঠলো। সে তাকে পুরস্কার দিতে চাইলো। পাঁচশো টাকা তার সামনে রাখলো। "আমি এ পুরস্কার নিতে পারি না,” সে বললো। “কেন?” বৃদ্ধের কণ্ঠে বিস্ময়। "থলি মালিকের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়া আমার কর্তব্য ছিল। আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি। এজন্য পুরস্কার আল্লাহর নিকট থেকে গ্রহণ করবো।” বৃদ্ধ তার জন্য দোয়া করে চলে গেলো।

তারপর বহু দিন অতিবাহিত হয়েছে। দুনিয়ার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু দরিদ্র যুবকের জীবনে তেমন কোন পরিবর্তন আসেনি। একদা কাজের সন্ধানে তাকে নিজের দেশ ত্যাগ করতে হলো। সে একটি সামুদ্রিক জাহাজে সফর করছিল। আবহাওয়ার মধ্যে দুর্যোগের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। দেখতে দেখতে ভীষণ ঝড়-তুফান শুরু হয়ে গেলো। পাহাড়ের সমান উঁচু উঁচু ঢেউগুলো জাহাজটাকে মাথায় করে নিয়ে নাচতে লাগলো। হঠাৎ একটি বিরাট ঢেউয়ের আঘাতে জাহাজটি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো। জাহাজের একটি ভাঙ্গা তখতার সাহায্যে যুবকটি ভেসে চললো। ভাসতে ভাসতে অনেক দূরে চলে আসার পর সমুদ্র তীরে ঝুঁকে পড়া একটা গাছের ডালে তার তখতা আটকে গেলো। সে লাফিয়ে ডালটি ধরে গাছে চড়ে বসলো। তারপর সমুদ্র তীরে নেমে এলো। নিকটে একটি লোকালয়ের সন্ধান পেয়ে সেখানে চলে গেলো। সেখানে মসজিদে বসে আল্লাহকে স্মরণ করতে লাগলো।

সে অত্যন্ত সুন্দর করে কুরআন শরীফ পড়তে পারতো। তার গলার আওয়াজও ছিল বড় মিষ্টি। তার কুরআন পাঠে মুগ্ধ হয়ে লোকেরা তাকে বেশ আদর করতে লাগলো। সে দিনে ছেলেমেয়েদের ও রাতে বয়স্কদের কুরআন শিক্ষা দিতো। ধীরে ধীরে তার প্রতি এলাকার লোকদের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা বেড়ে গেলো। সে ছিল অবিবাহিত। তার বন্ধু ও ভক্তের দল তাকে সেই অঞ্চলে বিয়ে দেবার চেষ্টা করলো। সেখানকার জনৈক খোদাভীরু ধনী বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছিল। তার একটি অবিবাহিত কন্যা ছিল। তার সাথে ঐ যুবকের বিয়ে দেয়া হলো।

বিয়ের রাতে বর-কনের সাক্ষাত হলো। "এ কি!” কনের গলায় যে হার ঝুলছে তা যে তার নিজের দেশে সেই কুড়িয়ে পাওয়া হার। হারটি সে ভালো করেই চেনে। সে হার তো সেই পথিক ধনী বৃদ্ধকে ফিরিয়ে দিয়েছিল। তাহলে ------ তাহলে সেই বৃদ্ধের কন্যাই কি তার স্ত্রী?

সে ভাবতে লাগলো। স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলো সেই বৃদ্ধই তার পিতা। আল্লাহর অপার মহিমা ও করুণা দর্শনে যুবক বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়লো। তার মাথাটি আপনা আপনি আল্লাহর দরবারে নুয়ে পড়লো।

প্রশ্নের জবাব দাও
১. বৃদ্ধের থলিতে কি কি জিনিস ছিল?
২. সৎ যুবক থলিটি বৃদ্ধকে ফেরত দিল কেন?
৩. যুবক কিভাবে দুনিয়ায় তার সততার পুরস্কার পেলো?
৪. ভিখ মাগা, চুরি করা ও মেহনতের উপার্জন কোনটি মানুষের জন্য গ্রহণীয় এবং কেন?

📘 মজার গল্প > 📄 যারা পেলেন কবি

📄 যারা পেলেন কবি


মারা গেলেন কবি আজিম-উশ শান। নামে যেমন আজিম-উশ-শান তেমনি নামও করেছিলেন কবি আজিম উশ-শান। দেদার গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা, নাটক ও উপন্যাস লিখেছিলেন তিনি। অনেক হাসির কাহিনী লিখে তিনি মানুষকে প্রচুর আনন্দ দিয়েছিলেন। তাঁর ভক্তের সংখ্যা ছিল অগণিত। সারা দেশে কবি আজিম উশ-শানের নাম জানেনা এমন লোক হয়তো খুঁজেই পাওয়া যাবে না। যুব কিশোররা তাঁর আশে পাশে সব সময় ভিড় করে থাকতো। ছেলে-বুড়ো, নারী-পুরুষ সবাই তাঁকে চিনতো। তাঁর লেখা সবাই পড়তো। তাঁর মৃত্যুতে সারাদেশে শোকের ছায়া নামলো।

জানাজা কাঁধে কবরস্তানের দিকে চললো কবির পরিবার পরিজন, ভক্ত-অনুরক্তের দল। সবারই মুখ মলিন বিষণ্ণ। মুখে কালেমা পড়ছে সবাই আর মনে মনে কবির জন্য মাগফেরাত কামনা করছে আল্লাহর দরবারে। দেশ জুড়ে শোক সভা হলো। অনেক শোক গাথা রচিত হলো। ভক্তজনেরা কবির প্রশংসায় গদগদ হলো। যুব-কিশোর সমাজ কবিকে নতুন পথের দিশারী রূপে বরণ করলো। কবির নির্দেশিত পথে তারা পুরাতন রীতি নীতি ও ঘুণে ধরা সমাজ প্রথার বিরুদ্ধে তাদের বিদ্রোহ অভিযান চালিয়ে যাবে বলে ঘোষণা করলো। কবি মরে গিয়েও লাখো মানুষের মনে অমর হয়ে রইলেন।

সেদিন কবির কবরের পাশে আর একটি কবর দেয়া হলো। শহরের এক মস্ত বড় গুন্ডাও মারা গিয়েছিল সেদিন। নামজাদা কবির কবরের পাশে রচিত হলো নামজাদা গুন্ডার কবর। কবরস্তান থেকে সবাই চলে আসার সাথেই আল্লাহর হুকুমে আজাবের ফেরেশতারা নেমে এলেন। উভয়ের গোর আজাব শুরু হলো। কবি আর গুন্ডা উভয়ের ওপর সমানে আজাব চলতে থাকলো। যতই দিন যেতে থাকলো ততই আজাব বাড়তে থাকলো, আজাবের রূপ ভয়াবহ হতে লাগলো। অবশেষে একদিন আজাবের ফেরেশতারা গুন্ডার আজাব বন্ধ করে দিল। কিন্তু কবির আজাব তখনো সমানে চলছিল। বরং দিনের পর দিন বেড়েই চলছিল।

কবির ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করলো কবি আজিম-উশ-শান: হে আল্লাহ! আমার প্রতিবেশী গুন্ডার আজাব বন্ধ হয়ে গেলো। সে কত বদ লোক। শহরে একশত লোক খুন করেছে। কত লোকের মালমাত্তা লুট করেছে, কত গরীবকে কাঁদিয়েছে। তার অত্যাচারে শহরের লোকেরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। তার মৃত্যুতে লাখো লাখো মানুষ হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে। মানবতার এত বড় দুশমন যে গুন্ডা তার আজাব বন্ধ হয়ে গেলো। আর আমার আজাব এখনো বন্ধ হলো না। আমি কত গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা, উপন্যাস ও নাটক লিখেছি, কত লোককে আনন্দ দিয়েছি। আমার মৃত্যুতে নগরে শোকসভা হয়েছে। নওজোয়ানরা শোক মিছিল বের করেছে। আমার মৃত্যুতে মানবতার কতই না ক্ষতি হয়েছে। অথচ আমার এই আজাব এখনো বন্ধ হলো না। আর ওই গুন্ডাটার আজাব বন্ধ হয়ে গেলো। হে আল্লাহ! তোমার এই ইনসাফ তো আমি বুঝতে পারছি না। আমি কি ওই গুন্ডাটার চাইতেও খারাপ? ওর চাইতেও বেশী গুনাহগার?"

আল্লাহ বললেন : "হে আজিম-উশ-শান! আমি ইনসাফ করেছি। আমার জাহানে কনামাত্রও বে-ইনসাফী নেই। সে গুন্ডা। কিছু লোককে সে খুন করেছিল। কয়েকজনের টাকা-কড়ি লুঠ করেছিল। মাত্র কয়েকজনের। সে মারা গেছে। তার কাজও শেষ হয়ে গেছে। তার কাজগুলো খুবই খারাপ। তার যা শাস্তি পাবার সে পেয়ে গেছে। তার শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তুমি? তুমি কবি। তুমি গল্প রচয়িতা। তুমি প্রবন্ধকার। তুমি নাট্যকার। তুমি লেখক। লেখার সাহায্যে তুমি মানুষকে পরিচালিত করেছো। আমি তোমাকে প্রতিভা দান করেছিলাম। কিন্তু তুমি তার সদ্ব্যবহার করোনি বরং তাকে অসৎ পথে ব্যয় করে মানুষের মহা ক্ষতি সাধন করেছো। কিয়ামত পর্যন্ত এ ক্ষতি পূরণের আর কোন সম্ভাবনা নেই। তুমি নিজের লেখার সাহায্যে মানুষকে সৎ পথে পরিচালিত না করে অসৎ পথে চালিয়েছো। তোমার লেখা পাঠ করে যুব সমাজ উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠেছে। তাদের মধ্যে ব্যভিচার, গুন্ডামী এমনকি কথায় কথায় নরহত্যার প্রবণতাও জাগছে। তারা সততা, ন্যায়-নীতি বিসর্জন দিয়েছে। ছোটদের প্রতি স্নেহ-মমতা ও বড়দের প্রতি সম্মানবোধ বিলুপ্ত হচ্ছে। এগুলোকে তারা সেকেলে রেওয়াজ বলে মনে করছে। শিক্ষকদের অসম্মান করতে পারলে তারা গর্ব অনুভব করে। আরো বহু অসৎ কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এসব অসৎ কাজের অংশ তুমিও লাভ করছো।”

“তবু এরও তো একটা শেষ আছে, হে আল্লাহ?” কবির কণ্ঠ থেকে নিরাশা ঝরে পড়ছিল।

"না এর শেষ এখনো দেখা যাচ্ছে না," আল্লাহ বলে যেতে লাগলেন। "তুমি মরে গেছো। কিন্তু তোমার লেখা বেঁচে আছে। তোমার গল্পের বই আবার ছাপা হচ্ছে। তোমার কবিতার বই আবার ছাপা হবে। তোমার লেখা নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। তোমার লেখা বহু লোক পড়েছে। আরো বহু লোক পড়বে। বহুদিন ধরে পড়বে। দুনিয়ার কয়েকটি ভাষায় তোমার লেখার অনুবাদও চলছে। কাজেই তোমার লেখার সাহায্যে তুমি দুনিয়ার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছো। তোমার লেখায় অনুপ্রাণিত হয়ে দুনিয়ার যেখানে যে অসৎ কাজটি হচ্ছে তার গোনাহর অংশ তোমার আমল নামায়ও লেখা হচ্ছে। আবার তোমার লেখার কথা একদিন মানুষ ভুলে গেলেও তোমার সাহিত্যর আদর্শ গ্রহণ করে অনেক নতুন লেখক এগিয়ে আসবে। তাদের মাধ্যমে মানুষের অসৎ কাজ থেকে তুমি নিজের অংশ পেতে থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত। তাই তোমার শাস্তিও চলতে থাকবে।"

"তাহলে কি আমার কোন আশা নেই?" কবি কাঁদতে লাগলো।

“কোনো আশা নেই। তবে যদি তুমি লেখার সাহায্যে মানুষকে সৎপথে চালাতে তাহলে তার সুফলও এমনিভাবে পেতে। তুমি যদি ভালো ভালো কবিতা লিখতে। ভালো ভালো উপন্যাস নাটক রচনা করতে। তোমার কবিতা, উপন্যাস, নাটকে প্রভাবিত হয়ে যদি সমাজে সুকৃতির প্রচলন হতো এবং দুষ্কৃতি নির্মূল হবার পথ তৈরি হতো তাহলে সুকৃতি প্রতিষ্ঠিত হতো এবং দুষ্কৃতি খতম হয়ে যেতো। তোমার রচনায় প্রভাবিত হয়ে যে সব যুবক সমাজ পুনর্গঠনের কাজে লিপ্ত হতো তারা যে পরিমাণ নেকী অর্জন করতো সেই পরিমাণ নেকী তোমার ভাগেও লেখা হতে থাকতো। তাহলে তোমার মর্যাদা আরো বেড়ে যেতে থাকতো। এটা কিয়ামত পর্যন্ত বাড়তেই থাকতো। তোমার প্রতিভা ও ক্ষমতা ছিল অনেক বেশী। কিন্তু তুমি তার সদ্ব্যবহার করোনি। নফসের তাবেদারী করে নিজের খেয়াল খুশী মতো চলেছো। খেয়াল খুশী মতো লিখেছো। আমার অনুগত হয়ে তোমার কলম পরিচালনা করোনি। তুমি মানুষকে খুব বেশী গোমরাহ করেছো। তার সমস্ত ফল তোমাকে ভোগ করতে হবে। নিজের দোষেই তুমি আজাব ভোগ করছো।” কবির ওপর শাস্তি চলতে থাকলো পুরোদমে।

প্রশ্নের জবাব দাও
১. কবি ও সাহিত্যিক কাকে বলে?
২. সৎ কবি, সৎ লেখক ও সৎ সাহিত্যিক কাকে বলে?
৩. অসৎ কবি ও অসৎ সাহিত্যিক কার তাবেদারী করে? কেমন করে?
৪. মানুষ শাস্তি ও আজাব ভোগ করে কার দোষে?
৫. সৎ সাহিত্যিক কিভাবে তার সৎকাজের পুরস্কার পাবে?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00