📄 বিদায় হজ্ব
হে জনতা! এক নিবিষ্টভাবে আমার কথা শোন। সম্ভবতঃ এবারের
পর পুনরায় এ স্থানে তোমাদের সাথে মিলিত হতে পারব না। হে
জনমণ্ডলী! তোমাদের রবের সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের
একের ধন-সম্পদ ও রক্ত অন্যের কাছে আজকের দিন এবং এ মাসের
মতই সম্মানিত। শীঘ্র তোমরা তোমাদের রবের সাথে মিলিত হবে এবং
তিনি তোমাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। আমি তোমাদের
কাছে বাণী পৌঁছে দিয়েছি।' আমানতদার যেন আমানত তার
মালিককে ফিরিয়ে দেয়। সুদপ্রথা বাতিল করা হল। অবশ্য তোমরা
মূলধনের অধিকারী। তোমরা কাউকে ফুলুম করে। না। তোমাদেরও
যেন ফুলুম করা না হয়। আল্লাহ্তা'আলা ফয়সালা করেছেন যে,
সুদ চিরদিনের জন্য রহিত। সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী আললহর
প্রতিনিধি হিসেবে আমি এলান করছি যে, আবদুল মুত্তালিবের পুত্র
'আব্বাসের' যাবতীয় সুদ মওকুফ করা হলো। যাহেলী যুগের
যাবতীয় খুনের দাবী খতম করা হলো। সর্বপ্রথম খুনের যে দাবী
(নিকটবর্তী আত্মীয় হিসেবে) আমি প্রত্যাহার করছি তা হলো রাবেয়া
বিন হারিস বিন আবদুল মুত্তালিব-যাকে বনি সা'দ গোত্রের কাছে
শৈশবে দুধপানকালে হোযায়েল হত্যা করেছিল। এ ঘটনার মাধ্যমে
যাহেলী যুগের খুনের দাবীসমূহ প্রত্যাহারের সুচনা করছি।
ইচ্ছাকৃত হত্যার জন্য কেসাস (ক্ষতিপুরণ)। লাঠি বা পথিরের আঘাতে
হত্যা ইচ্ছাকৃত হত্যার অন্যরূপ এবং তার কেসাস একশত উট। সীমা
অতিক্রমকারী যাহেলিয়াতের অন্তর্ভুক্ত।
অতঃপর হে জনতা! শয়তান বিলকুল নিরাশ হয়ে গিয়েছে যে
তোমাদের এসব যমীনে ভবিষ্যতে কখনও তার ইবাদত করা হবে না।
কিন্তু এটা সম্ভব যে নিম্নতম স্তরে তার আনুগত্য করা হবে। তোমাদের
এসব আমল (গুনাহ) সম্পর্কে-যা তোমরা ছোটখাটো মনে কর-সে
নিশ্চিত। সুতরাং তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে সতর্ক থাক।
হে জনমণ্ডলী! বছরের মাসসমূহের যে ধারাবাহিকতা রয়েছে
(স্বার্থ প্রণোদিতভাবে) তা পরিবর্তন কর। কুফরীর ক্ষেত্রে অগ্রসর
হওয়া। এ পদক্ষেপের দরন কাফেরদের অধিকতর গোমরাহীর মধ্যে
ফেলে দেয়া হয়। কারণ তারা কোন কোন বছর তাকে হালাল এবং
কোন কোন বছর হারাম করে থাকে। (এ হেরফেরের মাধ্যমে) তাদের
উদ্দেশ্য হলে। আল্লাহ, যে সব মাসকে সম্মানিত ঘোষণা করেছেন তার
গণনা পূরণ করা।
বস্তুতঃ আল্লাহ, যাকে হারাম করেছেন তা তারা হালাল করে এবং
যা হালাল করেছেন তা তারা হারাম করে। সত্য কথা হলো,
আসমান-যমীন সৃষ্টিকালে আল্লাহ বার্ষিক গণনার যে নিয়ম দান
করেছিলেন, যামানা ঘুরে ফিরে এখন সেটা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে
এসেছে। আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারো। তার মধ্যে চারাট
পবিত্র এবং সম্মানিত। যাতে তিনটি ক্রমিক (জিলকদ, জিলহজ এবং
মহররম) এবং চতুর্থটি রজব মাস যা জমাদিগুল আখের ও মাহে
শাবানের মধ্যবর্তী।
অতঃপর হে জনমণ্ডলী! তোমাদের স্ত্রীদের উপর তোমাদের
অধিকার এবং তোমাদের উপর তোমাদের স্ত্রীদের অধিকার রয়েছে।
তাদের উপর তোমাদের অধিকার হলে। তোমাদের বিছানায় তার।
অন্য কাউকে শুতে দেবে না, যা তোমরা অপছন্দ কর। তাদের আরও
কর্তব্য হলো যে তারা জঘন্য নির্লজ্জ কাজে লিপ্ত হবে না।
অতঃপর তারা অনুরূপ করলে (শাসন করার জন্য) তাদের বিছান।
আলাদা করার অনুমতি আল্লাহ, তোমাদেরকে দিয়েছেন। এতেও
তারা সংশোধিত না হলে এ পরিমাণ দৈহিক শান্তি দাও যাতে তাদের
শরীরের উপর কোন চিহ্ন না হয়। অতঃপর সংশোধিত হয়ে গেলে
নিয়ম মুতাবেক তাদের ভরণ-পোষণের অধিকার রয়েছে।
স্ত্রীদের সম্পর্কে' আমি তোমাদেরকে অসিয়ত করাছ যে, তাদের
সাথে তোমরা উত্তম আচরণ কর। আল্লাহ্, তাদেরকে তোমাদের
অধীন করে দিয়েছেন। নিজেদের জন্য তারা কোন কিছু, করতে সক্ষম
নয়। আল্লাহর আমানত হিসেবে তোমর। তাদেরকে হাসিল করেছ এবং
আল্লাহর বাণীর মাধ্যমেই তাদেরকে তোমাদের জন্য বেধ করা হয়েছে।
'তোমাদের দাস। তোমাদের দাস। তাদেরকে তোমরা তা খেতে
দাও যা তোমরা খাও এবং তাদেরকে তা পরিধান করতে দাও যা
তোমরা পরিধান কর।
হে জনতা! আমার কথা অনুধাবন কর। আমি পয়গাম পৌঁছে
দিয়েছি। আমি তোমাদের কাছে এমন এক জিনিস রেখে যাচ্ছি যদি
তোমরা তাকে মজবুতির সাথে ধারণ কর তাহলে তোমরা অনন্তকাল
পর্যন্ত কখনও গোমরাহ হবে না। এ খুবই স্পষ্ট-ত। হচ্ছে আল্লাহর
কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নত। হে জনতা! আমার কথা শোন ও
উপলব্ধি কর। এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই এবং সকল
মুসলমান পরস্পর ভাই ভাই। ভাই-এর কাছ থেকে কোন কিছু, তার
অনুমতি ব্যতীত গ্রহণ করা কারো জন্য হালাল নয়। একে অপরের
উপর যুলুম করো না।
হে আল্লাহ। আমি কি তোমার বাণী পৌঁছে দিয়েছি?
জনমণ্ডলী জবাব দিলঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই (তোমার রসুল
'তামার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন)।
রসুল বললেনঃ হে আল্লাহ! তুমি স্বয়ং সাক্ষী থাকো।
রসুল বললেনঃ তোমরা কি জানো এটা কোন, মাস?
জনতা জবাব দিল: মাহে-হারাম (পবিত্র মাস)।
রসুল বললেনঃ তোমাদের রবের সাথে মুলাকাত না হওয়া
পর্যন্ত তোমাদের রক্ত ও ধন-সম্পদ এ পবিত্র মাসের সম্মানের মতো
সম্মানিত করা হয়েছে।
তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে জনতা, এটা কোন, মাস?
জনমণ্ডলী জবাব দিল: এটা পবিত্র মাস।
নবী বললেন: তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ না করা
পর্যন্ত তোমাদের মকদ্দুস মাহিনার মতো তোমাদের রক্ত ও ধন-সম্পদ
সম্মানিত করা হয়েছে। অতঃপর জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে জনমণ্ডলী!
তোমর। কি বলতে পারো এটা কোন দিন? জনতা জবাব দিল:
এ হজের মহান দিন। নবী বললেনঃ তোমরা রবের সাথে মিলিত না
হওয়া পর্যন্ত এ দিনের সম্মানের মত আল্লাহ, তোমাদের রক্ত ও ধন-
সম্পদ সম্মানিত করেছেন।
হে জনতা, নিশ্চয়ই আমার পর আর কোন নবী নেই এবং
তোমাদের পেছনে কোন (নতুন) উম্মত নেই। অতএব ভালোভাবে
শোন। তোমাদের রবের ইবাদত করো, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কায়েম কর,
মাহে রমযানের সিয়াম পালন কর, দিলের পবিত্রতার সাথে মালের যাকাত
দাও, আল্লাহর ঘরের হজ করো, হংকুমত পরিচালনাকারীদের (ন্যায়-
ইনসাফ ও আল্লাহর আহকাম জারীকারীদের) অনুগত হও এবং
জান্নাতে স্থান লাভ কর। আমার অবর্তমানে তোমাদের কিছু, সংখ্যক
অন্যদের হত্যা করে যেন কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন না করে।
আমি কি বাণী পৌঁছে দিইনি? হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো।
হে জনমণ্ডলী! এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তোমাদের রব এক এবং
তোমাদের পিতা এক। তোমরা সবাই আদম থেকে এবং আদম মাটি
থেকে সৃষ্ট। আল্লাহ তা'আলার কাছে সে অধিক সম্মানিত যে অধিক
তাকওয়ার অধিকারী। মনে রেখো, কোন অনারবের উপর কোন আরবীর
শ্রেষ্ঠত্ব নেই, না কোন আরবীর উপর কোন অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব, না কোন
কালোর উপর সাদা, না কোন সাদার উপর কালো লোকের। শ্রেষ্ঠত্বের
বুনিয়াদ শুধুমাত্র তাকওয়া।
(কিয়ামতের দিন) তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা
হবে। তোমরা কি জবাব দেবে? জনতা জবাব দিলঃ আমরা সাক্ষ্য
দিচ্ছি, আপনি অবশ্যই পয়গাম পৌঁছে দিয়েছেন, উম্মতকে নসিহত
করেছেন, ধূলাবালি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন
যে ভাবে আমানত আদায় করার হক রয়েছে।
অতঃপর নবী করীম (সঃ) তিনবার বললেন:
اللهم اشهد - اللهم اشهد - اللهم اشهد *
হে আল্লাহ, তুমি সাক্ষি থাক, তুমি সাক্ষি থাক, তুমি সাক্ষি থাক।
উপস্থিত জনতা যেন আমার এ বাণী অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে
দেয়। হে জনতা! প্রত্যেক উত্তরাধিকারের জন্য আল্লাহ, মিরাসের
অংশ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং এক তৃতীয়াংশের বেশী অসিয়ত কর।
জায়েয নয়। সন্তান তার, যার বিছানায় সে জন্ম নিয়েছে এবং জিনা-
কারীর শাস্তি পাথর। যে কেউ নিজের বাপ ছাড়। অন্যের সাথে নিজেকে
এবং নিজের মালিক ব্যতীত অন্যের সাথে সম্পর্কিত করে তার উপর
লানত আল্লাহর, ফেরেশতার এবং যাবতীর মানুষের। (কিয়ামতের
দিন) এ অপরাধের কোন বিনিময় তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না।
তোমাদের উপর শান্ত ও আল্লাহর রহমত।
📄 মসজিদে খিফায়
আল্লাহ, তা'আলা তাঁর এসব বান্দাকে আনন্দিত ও প্রফুল্ল রাখুন
যারা আমার কথা শুনেছে ও ইয়াদ রেখেছে অতঃপর তাদের কাছে তা
পৌঁছে দিয়েছে যার। আমার মুখ থেকে সরাসরি শোনেনি। কেননা
হিকমত, জ্ঞান এবং দ্বীনের কথা প্রচারকারীদের কিছুসংখ্যক বুদ্ধি-
বিবেচনার অধিকারী নয়। আবার এমনও বহ, বিজ্ঞ লোক রয়েছে
যারা মুবাল্লিগের চেয়ে বেশী বুদ্ধি-বিবেচনার অধিকারী। তিনটি
জিনিস সম্পর্কে ঈমানদার ব্যক্তির দিলের মধ্যে কোন সন্দেহ পাওয়
যায় না:
(১) শুধু মাত্র আল্লাহর জন্য আমল করা।
(২) ক্ষমতার অধিকারীদের জন্য শুভেচ্ছা ও উপদেশ দান।
(c) জামায়াতের নিয়ম-শৃংখলা মজবুতভাবে মানা।
এ তিন দাবীর ভিত্তিতে তাদেরকে (হুকুম প্রদানকারীর) খেতাব
করা দরকার। যে আখেরাতের চিন্তায় মগ্ন, আল্লাহ, তার মনে শান্তি
প্রদান করেন এবং তার দিল থেকে মানুষের মুখাপেক্ষিতা দূর করে
দেন। দুনিয়ার সুখ তার কাছে চলে আসে। যার চিন্তা দুনিয়ার জন্য,
আল্লাহ, তার সমস্যা জটিল করে দেন। তার মুখাপেক্ষিতা তার সামনে
হাযির করেন। অথচ তার ভাগ্যে যা লিখা রয়েছে তা ছাড়া সে বেশী
কিছু, দুনিয়াতে লাভ করে না।
📄 শেষ ভাষণ
নবী করিম (সঃ) দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার দু'মাস পূর্বে 'সুরাহ,
নসর' নাযিল হয়।
اذا جاء نصر الله والفته - و رأيت الناس يدخلون في دين الله
افواجا - فسبح بحمد ربك واستغفره - انه كان توابا *
"আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় পৌঁছল এবং তুমি দেখলে দলে দলে
লোক আল্লাহর দ্বীনে দাখিল হলো। অতএব আল্লাহর তসবীহ, ও
তহমীদ কর এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই তিনি
তওবা কবুলকারী।'
নবী করিমের (সঃ) আখেরী রমজান মোবারক ছিল হিজরী দশম
সনে। সেবার তিনি বিশ দিন এতেকাফ করলেন। ইতিপূর্বে প্রতি
বছর মাত্র দশ দিনের এতেকাফ করতেন। প্রিয় কন্যা ফাতেমা বতুল
(রাঃ)-কে তার কারণ বললেন: আমার সময় নিকটবর্তী মনে হচ্ছে।
১২ই সফর নবী করিম (সঃ) ওহোদ উপতাকায় গেলেন। শহীদদের
কবরস্থানে সালাত আদায় করলেন। ফেরার পথে মিম্বরে আরোহণ করে
খেতাব করলেন:
হে জনতা, আমি তোমাদের পূর্বে গমনকারী এবং সাক্ষ্য প্রদান-
কারী। আল্লাহর শপথ আমি এখান থেকে হাউস দেখতে পাচ্ছি।
আমাকে রাজ্যসমূহের খাজাঞ্চী খানার চাবী দিয়ে দেয়া হয়েছে।
আমার অবর্তমানে তোমরা মুশরিক হয়ে যাবে এ ভয় করি না। কিন্তু
আশংকা করছি তোমরা একে অপরের বির-দ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুর
করবে।
অতঃপর তিনি জান্নাতুল বাকীতে গভীর রাত্রিতে গমন করলেন,
দোয়া করলেন এবং বললেন, نا بكم لا حقون। নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের
সাথে মিলিত হবো।
অতঃপর একদিন মুসলমানদের একত্রিত করার হুকুম দিলেন।
তিনি বললেন:
মারহাবা মুসলমান! আল্লাহ, আমাদের রহমতের মধ্যে রাখুন!
তোমাদের নিরৎসাহিত্য দূর করুন। তোমাদের রিযিক দান করন।
তোমাদের মদদ কর-ন। তোমাদের উন্নত করন। তোমাদেরকে নিরা-
পদ রাখুন। আমি তোমাদেরকে আল্লাহ-ভীতির অসিয়ত করছি।
আল্লাহর হাতে তোমাদের সোপর্দ করছি এবং তাঁরই ভয় তোমাদেরকে
দেখাচ্ছি। কেননা আমি সুস্পষ্ট ভয় প্রদর্শনকারী। সাবধান,
আল্লাহর বান্দা ও তাঁর জনপদের মধ্যে তোমর। কোনরূপ অহংকার ও
শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করো না। আল্লাহ্তা'আলা আমাকে ও তোমাদেরকে
تلک دار الآخرة تجعلها للذين لا يرون علوا في : OTCR7
الأرض ولا فسادا والعاقبة للمتقين *
এটা আখেরাতের গৃহ, আমি তাদেরকে দান করি যারা পৃথিবীতে
শ্রেষ্ঠত্ব আকাংখা করে না এবং ফাসাদও সৃষ্টি করে না। আর উৎকৃষ্ট
পরিণাম মুত্তাকিনদের জন্য।
অতঃপর নবী (সঃ) তেলাওয়াত করলেন এ আয়াত:
اليس في جهنم مشوالى المتكبرين *
অহংকারীদের স্থান কি জাহান্নাম নয়?
পরিশেষে বললেন: সালাম তোমাদের সকলের উপর এবং তাদের
উপরও যারা ইসলামের মাধ্যমে আমার বয়েতে শামিল হবে।
বিদায়ের পাঁচদিন পূর্বে তিনি সাত কুয়োর সাত মশক পানি
মাথায় দেয়ালেন। কিঞ্চিত সুস্থ হলে মসজিদে উপস্থিত হয়ে বললেন:
তোমাদের পূর্বে এক কওম আমিয়া এবং নেক ব্যক্তিগণের কবর-
স্থানকে সিযদার স্থান বানিয়েছিল। তোমরা অনুরূপ করো না।
এ সব ইয়াহুদী এবং খৃষ্টানদের উপর আল্লাহর অভিশাপ যারা
আমিনুয়ার কবরকে সিযদার স্থান বানিয়েছে। আমার পর আমার
কবরকে যেন এরূপ পুজার স্থান বানানো না হয়।
অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন এবং মিম্বরে আরোহণ করে
আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগানের পর বললেন:
আমি তোমাদেরকে আনসারদের হক সম্পর্কে অসিয়ত করছি।
তারা আমার শরীরের ভূষণ এবং আমার পথের পাথেয়। তারা তাদের
কর্তব্য পূর্ণ করেছে। এখন তাদের অধিকার বাকী রয়েছে। তাদের
মধ্যে যারা ভাল কাজ করে তাদেরকে সম্মান কর এবং যারা ভুল করবে
তাদেরকে মাফ কর এবং বললেন: এক বান্দার সামনে দুনিয়া
এবং 'মা-ফিহা' (দুনিয়ার যাবতীয় বস্তু) পেশ করা হয়েছে কিন্তু তিনি
আখেরাতকে বেছে নিয়েছেন।