📄 আইয়ুব আনসারী (রা:) বাসভবনে দ্বিতীয় ভাষণ
আল্লাহর তসবীহ ও পবিত্রতা বর্ণনার পর:
হে মানুষ! তোমাদের রব বলেন: নিজের সম্পদ নেক কাজে
ব্যয় কর এবং নিজেদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না। অর্থাৎ দান-
খয়রাত করে অন্যের দয়া প্রদর্শন করা হয়েছে এ কথ। বলে দান বরবাদ
করো না। মনে রেখো, যে মংগলজনক কাজ তুমি করবে আল্লাহ-
তা'আল। তা' জানেন। যে তার বিষয়-সম্পত্তি আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে
তার জন্য তার রবের কাছে মহান প্রতিদান রয়েছে। সে নেকী থেকে
বঞ্চিত হবে না। তার জন্য কোন ভয়-ভীতি নেই এবং সে চিন্তিতও
হবে না।
হে উপস্থিত জনমণ্ডলী! তোমরা কি মনে কর আল্লাহ, তোমাদের
মুখাপেক্ষী? কখনও নয়। তিনি অভাবহীন এবং বেনিয়ায। তোমর
যা উপার্জন কর তা তোমাদের ফায়দার জন্য। যে নিজের মাল
অপরকে দেখানোর জন্য ব্যয় করে সে হতভাগ্য। সে কিয়ামতের দিনের
উপর বিশ্বাসী নয়। আমি তোমাদেরকে অবহিত করছি যে, দানশীল
এবং ত্যাগী মানুষ হক সুবহানাহুতা'আলার নিকটবর্তী, জান্নাতের
নিকটবর্তী ও জাহান্নাম থেকে দূরে অবস্থান করছে। স্বার্থপর ও
বখিল ব্যক্তি আল্লাহ্তা'আলা থেকে দূরে, জান্নাত থেকে দূরে ও
জাহান্নামের নিকটবর্তী।
হে উপস্থিত জনতা! আমি যা জানি এবং দেখি তোমরা তা দেখ না
এবং জান না। মনে রেখো, প্রত্যেক দিন ভোর বেলা দুজন ফেরেশত
নাযিল হন। একজন বলেন, হে আল্লাহ! দানশীল এবং ত্যাগী মানুষের
সম্পদে বরকত দান কর ও অপরজন বলেন, হে মহাপবিত্র আল্লাহ!
স্বার্থপর এবং বখিলের সম্পত্তি বিনষ্ট কর। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ
নেই যে, মানুষের জীবনের আমল এবং কর্তব্য কাজের মধ্যে (ত্যাগ ও
সৎপথে ব্যয় করা) উত্তম আমল। যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর নামে
শপথ করছি যে, ওহোদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ' আমার কাছে থাকলেও
তা তিন রাতের মধ্যে খরচ হয়ে গেলে আমি খুব খুশী হবে। এবং চাইব
যে আমার হাতে কিছুই যেন অবশিষ্ট না থাকে। আমি জানি, ধন-
সম্পত্তি ব্যয় করা মানুষের জন্য লাভজনক এবং সঞ্চিত করে রাখ।
অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিন্তু প্রয়োজন বোধে সঞ্চিত করে রাখা নিন্দনীয় নয়।
আল্লাহর রাস্তায় তাদের জন্য প্রথম ব্যয় করা শুর কর যাদের ভরণ-
পোষণ তোমাদের কর্তব্য। আমি সুস্পষ্ট ভাবে বলতে চাই, আল্লাহর
রাস্তায় তোমরা যে অর্থ সম্পদ ব্যয় কর তা কখনও বৃথা যায় না বরং
তা তোমাদের সম্পদ বৃদ্ধি করে যদিও তোমরা তা উপলব্ধি করতে
পার না। দুনিয়ার ফায়দা ব্যতীত আখেরাতের সওয়াবও তাতে
রয়েছে। আখেরাতে বিশ্বাসীদের জন্যই হেদায়েত।
হে মানুষ! এ দুনিয়া পরীক্ষা ক্ষেত্র এবং কর্ম'স্থলও বটে। তোমর।
যেরূপ কাজ করবে সেরূপ ফল লাভ করবে। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি
কামনা করে তাদের জন্য ইজ্জত ও শান্তি। যাদের আনুগত্যের মস্তক
আল্লাহর হাজরে অবনত, যাদের জীবনের অধিকাংশ সময় আল্লাহর
ইবাদতে নিয়োজিত এবং যারা নিজের প্রয়োজনের চেয়ে মুসলমান
ভাইদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দান করে তাদের মত নেক লোককে
মহাপবিত্র আল্লাহ, কঠিন অবস্থা ও ব্যর্থতার মধ্যেও খুশী ও আনন্দিত
রাখেন; ধ্বংস ও দুর্যোগের মধ্যেও চিন্তিত ও নিরাশ হতে দেন না।
যে স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক সে আসমানী বরকত থেকে বঞ্চিত। তার
সুনিশ্চিত হওয়া দরকার যে তার ঈমান অসম্পূর্ণ এবং সে অনন্ত
সৌভাগ্যের অধিকারী নয়।
হে উপস্থিত জনতা। যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় নিজের মাল খরচ
করে বা নিজের প্রাণ উৎসর্গ করে সে কোন অবস্থাতেই লোকসানের
মধ্যে থাকে না। সে প্রেমিকের স্থান হাসিল করে এবং তার মর্যাদা
উন্নীত হয়। কেননা আল্লাহর মহব্বতে নিজেকে বিলীন করে দেয়।
বা তাঁর কালেমা সমুন্নত করার জন্য নিজের প্রাণকে মৃত্যুর হাতে
সপে দেয়া সবচেয়ে উত্তম কাজ। এসব কিছ, কঠিন কাজ নয়।
দুনিয়াতে এমন লোক রয়েছে যারা প্রমাণ করেছে, মানুষ হিম্মত
করলে কি না করতে পারে! আত্মত্যাগ ও কোরবানী করার মধ্যে
অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট কষ্ট স্বীকার করতে হয়। কিন্তু এ কষ্টের মধ্যে
আরাম নিহিত। বিপদে পতিত হলে বা যে কোন রকম দুর্যোগের
সম্মুখীন হলে ঈমানদারদের ধৈর্য ধারণ করা উচিত। এটাও ত্যাগ।
অতীতের সকল উম্মতকেই পরীক্ষা করা হয়েছে। আল্লাহর কানুন
হল তিনি ঈমানদারদের বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেন। কখনও ভয়-
ভীতি, কখনও উপবাস, কখনও মালের লোকসান, কখনও বা প্রাণের
ক্ষতির দ্বারা পরীক্ষা করে থাকেন। যখন বান্দা এসব পরীক্ষায় পুরা-
পুরি উত্তীর্ণ হয় তখন তার মর্যাদা উন্নীত হয়। এট। সম্পূর্ণ সত্য
যে, পরীক্ষায় তারাই কৃতকার্য হয় যারা ত্যাগী এবং ব্যর্থ তারা হয় যারা
স্বার্থবাদী এবং আল্লাহ্ তাদের জন্য আযাব তৈরী করে রেখেছেন।
মুসাফিরদের সাহায্য করা, মিসকিন, এতিম ও অক্ষমদের সাহায্য কর।
এবং প্রয়োজনে প্রতিবেশীদের সাহায্য করাও ইসার (আত্মত্যাগ)
ও ইনফাকের (সৎকর্মে ব্যয়) অন্তর্গত।
হে মুসলমানগণ! আমি তোমাদেরকে হেদায়েত করছি যে, তোমর।
ত্যাগের মনোভাব ইখতিয়ার কর এবং স্বার্থপরতা থেকে নিজেদেরকে
মুক্ত রাখ। স্বার্থপরতা পূর্ববর্তী কওমদের বরবাদ করেছে। একথা
স্মরণ রাখ যে, ঈমান ও আত্মত্যাগ এ কওমের সর্বপ্রথম মংগল এবং
স্বার্থপরত। ও দয়াহীনতা সর্বপ্রথম অমংগল।
আস্সালাম, আলাইকুম।
📄 মদীনা মুনাওয়ারায়
আল্লাহর হাম্দ ও সানার পয়:
হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে হেদায়েত করছি যে নিজের
আমলকে ধোঁকা, প্রবঞ্চনা ও রিয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখ। মনে রেখো,
হক সুবহানাহুতা'আলা এমন আমল কবুল করে থাকেন যার মধ্যে
সততা নিহিত থাকে। যে কাজ ধোঁকা ও শঠতার দ্বারা কর। হয় তা
কবুল করা হয় না। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে, হক সুবহানাহ
তা'আলা তোমাদের চেহারা ও বিষয়-সম্পত্তির দিকে নজর দেন না।
তিনি তোমাদের দিল এবং তোমাদের কাজ দেখে থাকেন। অতএব রিয়া
থেকে বাঁচো। যার। দিলের সতত। ও ইখলাসের সাথে কাজ করে তারা
সত্যবাদী ও খাঁটি। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে কিয়ামতের দিন নবী,
সিদ্দীক ও শহীদদের সাথে উঠাবেন। তারা কামীয়াব হবে, দুনিয়াতে
তাঁদের বেঁচে থাকাটা রহমতের কারণ হবে এবং তারা হবে হেদায়েতের
চেরাগ স্বরূপ। তাদের কারণে অনেক ফেৎনা দূর হয় এবং আল্লাহর
ফেরেশত। তাদের তাযিম ও তকরিম করে থাকেন।
হে উপস্থিত জনতা! তোমরা যদি আখেরাতের প্রতি বিশ্বাসী
হও, তাহলে আমি তোমাদেরকে হেদায়েত করছি যে, রিয়ার দ্বারা
তোমাদের আমলকে বরবাদ করো না। তোমাদের শর্বশক্তি সহকারে
আল্লাহর হুযুরে আত্মসমর্পণ কর। মহাপবিত্র, দানশীল আল্লাহ,
তোমাদেরকে দুনিয়া এবং আখেরাত উভয় স্থানের মংগল দান করতে
সক্ষম। আমি তোমাদেরকে হংশিয়ার করছি যে, তোমাদের রব বলেন:
যার। নিজের ধন-সম্পত্তি অন্যকে দেখানোর জন্য ব্যয় করে এবং আল্লাহ
ও আখেরাতে বিশ্বাস করে না তাদের পরিণতি হল অবমাননা ও লাঞ্ছনা,
লজ্জা ও ব্যর্থতার শিকার হওয়া। সকল দিক থেকে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সফলতা তাদের ভাগ্যে কখনও আসবে না। রিয়াকারী মুমিন নয়।
তাদের পরিচয়-যখন তাদেরকে প্রাণ দানের জন্য, জীবন ও তার
স্বাদ ত্যাগের জন্য আহহ্বান করা হয় তখন তারা আত্মগোপন করে এবং
সত্যের সমর্থন করে না। সত্য ও ইখলাসের প্রতি তারা ঘৃণা পোষণ-
কারী, তারা প্রতিটি মুহূর্ত শত্রুতা ও আল্লাহ-দ্রোহিতায় মগ্ন থাকে
এবং অপরকেও পাপের পরামর্শ' দেয়।
আমি স্পষ্টভাবে বলছি যে, হক সুবহানাহুতা'আলার সাথে কাকেও
অংশীদার করা শির্ক। ধোঁকা, প্রবঞ্চনা এবং রিয়ার সাথে ইবাদত করা
ছোট শিরক। যখন হক সুবহানাহুতা'আলা কিয়ামতের দিন কর্মে'র
প্রতিদান স্বরূপ পুরস্কার ও আযাব দান করবেন তখন যারা রিয়ার
সাথে ইবাদত করেছে তাদেরকে বলা হবেঃ যাদের দেখানোর জন্য
ইবাদত করতে, তাদের কাছ থেকে পুণ্য ও প্রতিদান লাভ কর।
অতঃপর আমল তার মুখের উপর নিক্ষেপ করা হবে। যার হাতে আমার
জীবন তার নামে কসম করছি, যারা রিয়াকারী তারা কখনও দুনিয়াতে
কামিয়াব হবে না এবং আখেরাতেও তাদের জন্য কোন অংশ থাকবে না।
যে খাঁটি সে আল্লাহর রহমতের নিকটবর্তী ও আল্লাহর মখলুকের কাছে
সম্মানিত এবং সে আখেরাতেও কামিয়াব হবে। এ সব পবিত্র সত্তার পরি-
চয় হল যে আল্লাহতা'আলার জন্য তারা অন্যসব সম্পর্ক' ছিন্ন করে এবং
নিজের সার্বিক শক্তি স্রষ্টার সন্তুষ্টির কাজে ব্যয় করে। প্রত্যেক মুহূর্ত
তারা তাদের পারোয়ারদিগারের আনুগত্য করার জন্য তৈরী থাকে।
তাদের যাবতীয় কাজ যথা-ক্ষুধার্ত'দের খাদ্যদান, গরীব-মিসকিনদের
সাহায্য করা এবং সংগ্রাম সাধনা করা প্রভৃতির বুনিয়াদ হল ইখলাস।
তারা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যে আল্লাহর অনুগত। যাবতীয় শক্তির দ্বারা
আল্লাহর বাণী সমুন্নত করা এবং তাঁর দিকে মানুষকে আহহ্বান করার
কাজে যাবতীয় শক্তি ব্যয় করা তাদের স্বভাব। হকের তবলীগ এবং
প্রচার তাদের লক্ষ্য। তার। তাদের রবের হুকুম বর্ণনাকারী এবং তাঁর
মহাপবিত্র আদেশাবলীর প্রচারকারী। তাদের দাওয়াত ও তবলীগ
দুনিয়ার সংশোধন ও কল্যাণের উৎস। সর্বাবস্থায় তারা সত্যের সাহায্য-
কারী। এপথে কষ্ট স্বীকার করতে হলেও তারা ভগ্নহৃদয় হয় না বরং
ধৈর্য ধারণ করে। কেননা তারা আল্লাহর দোস্ত ও তাঁর তাবেদার।
তারা তাদের নেক কাজের পরিবর্তে সাফল্য লাভ করবে এবং কখনও
ব্যর্থতার দুঃখ, পরাজয়ের গ্লানি এবং অকৃতকার্যতার লাঞ্ছনা স্পর্শ
করবে না, কখনও তাদের অবমাননা করা হবে না।
হে জনতা! আমি এ উম্মতের ঐ ধরনের লোক সম্পর্কে আশংকা
করি যার প্রকাশ্য বেশভূষা উত্তম হবে, মুখে হবে কুরআনের বাণী
এবং সে ধৈর্য, বিনয় রহম-করম, নিষ্কলংক-নিষ্পাপ, তাকওয়া ও
নির্লিপ্ততা, ভয়-ভীতি, সংকল্প ও দৃঢ়তা, ইবাদত ও সাধনার দাবীদার
হবে। কিন্তু তার আমল হবে তার দাওয়াতের বিপরীত। মনে রেখো,
এধরনের লোকই রিয়াকারী এবং আষাবের যোগ্য। তোমরা কি উপলব্ধি
করেছ যে, রিয়া কারীদের পরিণতি কি? মনে রেখো, যে ব্যক্তি মানুষের
কাছে প্রচার করার জন্য কোন আমল করবে আল্লাহ, তার আয়েব (দোষ-
এটি) মানুষের কাছে প্রকাশ করে দেবেন, তাকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত
করবেন। যে রিয়াকারী সে শয়তানের অনুগত। গোমরাহী তার উপর
প্রভাব বিস্তার করেছে। সে আল্লাহকে ত্যাগ করে শয়তানকে নিজের
অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং এসব সত্ত্বেও সে এমন ধারণায়
লিপ্ত রয়েছে যে, 'আমি সৎপথে চলছি।' স্মরণ রাখ যে, যে অল্লাহকে
ত্যাগ করে শয়তানকে নিজের দোস্ত বানিয়েছে সে অবশ্যই গোমরাহীর
মধ্যে রয়েছে। কিয়ামতের দিন লাঞ্ছনা ও ব্যর্থতার দরুন তার চেহারা
এমন কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করবে যেন রাতের আঁধারের এক টুকরা তার উপর
নিক্ষেপ করা হয়েছে। অতএব হে মুসলমানগণ! যতদূর সম্ভব শঠতা,
ধোঁকা ও রিয়া থেকে বাঁচে।।
আসসালাম, আলাইকুম।
📄 হোদায়বিয়ার সন্ধির আগে
হোদায়বিয়ার সন্ধি-উত্তরকালে কিঞ্চিত নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির
সাথে সাথে দুনিয়াবাসীর কাছে ইসলামের পয়গাম পৌঁছে দেয়ার
সুযোগ এল। নবী করীম (সঃ) সাহাবায়ে কেরামদের জমায়েত করে
ভাষণ দিলেন:
হে মানুষ! আল্লাহ, আমাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত এবং
পয়গম্বর হিসেবে পাঠিয়েছেন। সাবধান, ঈসা (আঃ)-এর হাওয়ারীদের
মত মতবিরোধ করো না। যাও, আমার পক্ষ থেকে পয়গামে-হক আদায়
কর।
অতঃপর তিনি রোমান সম্রাট সিজার, ইরানের শাহানশাহ, মিসর
অধিপতি এবং আরবের সর্দারদের কাছে পত্র প্রেরণ করেন।
📄 মক্কা বিজয়ের পর
আল্লাহর রসুল (সঃ) বায়তুল্লাহ, শরীফের অভ্যন্তর ভাগে ইবাদত
সেরে বাইরে আগমন করলেন। অতঃপর রাহমাতুল্লিল আ'লামীন
হত্যার যোগ্য অপরাধীদের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললেন:
হে কোরায়েশগণ! আজ আল্লাহ, তোমাদের যাহেলী গর্ব এবং
বংশ-গৌরবের অহংকার ধূলিস্মাৎ করে দিয়েছেন। সত্য হচ্ছে, সকল
মানুষ আদমের সন্তান এবং আদম মাটি থেকে সৃষ্ট। আল্লাহতা'আলা
বলেনঃ হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে এক নারী ও পুরুষ থেকে
পয়দা করেছি এবং পরিচয়ের জন্য গোত্র ও সম্প্রদায়ে বিভক্ত করেছি।
আল্লাহর কাছে সে অধিক সম্মানিত যে অধিক আল্লাহ ভীর। অতঃপর
বললেন, যাও, আজ তোমরা আযাদ, তোমাদের বিরদ্ধে আজ কোন
প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবে না।