📄 মদীনায়ে তাইয়েবায় দ্বিতীয় ভাষণ
অতঃপর রসূলুল্লাহ (সঃ) দোস্ত্রা খুতবা প্রদান করেন: এতে
কোন সন্দেহ নেই যে, যাবতীয় তারিফ আল্লাহর জন্য। আমি তাঁর
তারিফ করছি এবং তাঁর মদদ প্রার্থী। আমরা নফসের গোলমাল এবং
আমলের মন্দ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থী। আল্লাহ, যাকে হেদায়েত
দান করেন তাকে কেউ গোমরাহ করতে পারে না। যাকে তিনি গোম-
রাহ করে দেন তাকে হেদায়েত দানকারী কেউ নেই। আমি এ কথার
সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ, ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তিনি অদ্বিতীয় ও
তাঁর কোন শরীক নেই।
শোন, উত্তম বাণী হল আল্লাহর কিতাব। এ কিতাবের সৌন্দর্য' যার
দিলে আল্লাহ, অংকিত করে দিয়েছেন এবং যাকে কুফরী থেকে ইসলামের
মধ্যে দাখিল করে দিয়েছেন এবং যে অন্য সকল মানুষের কথার উপর
এ কিতাবের প্রাধান্য দিয়েছে সে নিঃসন্দেহে সফলকাম হয়েছে এবং
উন্নতি লাভ করেছে। নিঃসন্দেহে এ কিতাব সর্বোত্তম এবং বাগ্মিতা-
সম্পন্ন।
আল্লাহ, যা ভালবাসেন তা তোমরাও ভালবাসো। সম্পূর্ণ দিল
দিয়ে আল্লাহকে কামনা কর; আল্লাহর কালাম ও তাঁর স্মরণ থেকে
কখনও বিমুখ হয়ো না। তোমাদের দিল যেন তাঁর প্রতি শক্ত না হয়
তিনি যে সব জিনিস সৃষ্টি করেছেন তার মধ্যে কিছু সংখ্যক তাঁর
বিশেষভাবে নির্বাচিত ও মনোনীত। তিনি ওগুলোকে 'সর্বোত্তম
আমল', 'মনোনীত বান্দা' ও 'শ্রেষ্ঠ কালাম' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এতে মানুষের জন্য হালাল-হারামের হেদায়েত রয়েছে। অতএব আল্লাহর
ইবাদত কর এবং তাঁর সাথে কাকেও শরীক করো না। তাঁকে সঠিক
ভাবে ভয় কর। আল্লাহ্, সম্পর্কে' সত্য বল। কেনন। তোমরা যা
কিছু, বল তার মধ্যে এটাই সর্বোত্তম। আল্লাহর রহমতের কারণে
তোমরা পরস্পর মহব্বত কর। ওয়াদা ভংগ করলে আল্লাহ, রাগান্বিত
হন। তোমাদের উপর সালাম ও আল্লাহর রহমত হোক।
📄 মদীনায়ে তাইয়েবার জুমার প্রথম ভাষণ
হামুদ, ওসানা আল্লাহর জন্য। আমি তাঁর প্রশংসা করি। তাঁরই
কাছে মদদ,, হেদায়েত ও ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমার ঈমান তাঁর উপর।
আর্মিতার নাফরমানি করি খাঁ। যারা নাফরমানি করে তাদের সাথে
আমি শত্রুতা পোষণ করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে. আল্লাহ, ব্যতীত
ইবাদতের যোগ্য আর কেউ নেই। তিনি অদ্বিতীয় এবং লা-শরীফ।
মুহম্মদ (সঃ) তাঁর বান্দা ও রসুল। তিনি মুহম্মদকে (সঃ) আলো.
হেদায়েত ও নসিহত সহকারে এমন এক যুগে পাঠিয়েছেন যখন অনেক
কাল থেকে দুনিয়াতে কোন নবী আসেননি। যখন জ্ঞান হ্রাস পেয়েছিল
ও গোমরাহী বেড়ে গিয়েছিল। আমাকে আখেরী যামানায় পাঠানে।
হয়েছে, যখন কিয়ামতও নিকটবর্তী এবং দুনিয়ার মৃত্যু আসন্ন। যে
আল্লাহ, ও তাঁর রসুলের অনুসরণ করে সেই সঠিক পথে; যে তাঁর
হুকুম মানেনি সে পথভ্রষ্ট, মর্যাদা থেকে বিচ্যূত এবং কঠিন গোম-
রাহীর মধ্যে লিপ্ত।
হে মুসলমান! আমি তোমাদেরকে তাকওয়ার অসিয়ত করছি।
এক মুসলমানের প্রতি অপর মুসলমানের উত্তম অসিয়ত হল তাকে
আখেরাতের জন্য উদ্বুদ্ধ করা এবং আল্লাহকে ভয় করার কথা বলা।
হে মানুষ! আল্লাহ, যে সব বিষয় নিষেধ করেছেন তা পরিহার কর।
এর চেয়ে বড় কোন নসিয়ত নেই এবং কোন জিকিরও নেই। স্মরণ
রেখো, আল্লাহকে ভয় করে যে কাজ করে, আখেরাতে তাকওয়া তার
জন্য উৎকৃষ্ট সাহায্যকারী। যখন কোন ব্যক্তি আল্লাহর সাথে তার
সম্পর্ক' প্রকাশ্যে ও গোপনে সঠিক করবে এবং এ ব্যাপারে তার নিয়ত
পবিত্র থাকবে তখন তার এ কাজ দুনিয়াতে প্রশংসিত হবে এবং মৃত্যুর
পর (যখন মানুষের আমলের গুর-স্ব ও প্রয়োজন অনুভূত হবে) এক
ভান্ডারে পরিণত হবে। যদি কেউ এরূপ না করে তাহলে তার
যে পরিণতি হবে তার উল্লেখ রয়েছে নিম্নোক্ত আয়াতের মধ্যে: মানুষ
চাইবে তার আমল যেন তার থেকে দূরে রাখা হয়। আল্লাহ, তাঁর সত্ত।
সম্পর্কে' তোমাদেরকে ভয় প্রদর্শন করবেন এবং তিনি তাঁর বান্দাদের
প্রতি অতি মেহেরবান।
যে ব্যক্তি খোদার হুকুম সত্য মনে করে এবং তার ওয়াদা পূরণ
করে তার জন্য এই ইরশাদে-ইলাহী রয়েছে যে, আমাদের কাছে কথার
পরিবর্তন হয় না এবং আমরা বান্দাদের উপর যুলুম করি না।
হে মুসলমান, তোমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রকাশ্য ও গোপন
কাজে আল্লাহর ভয়কে সামনে রেখো। কেননা আল্লাহকে ভয়কারীদের
ছেড়ে দেয়া হয় এবং তাদের প্রতিদান বাড়িয়ে দেয়া হয়। তাকওয়ার
অধিকারীরা বিরাট সাফল্য লাভ করবে।
একমাত্র তাকওয়া আল্লাহর অসন্তুষ্টি, আজাব এবং ক্রোধ দূর করে
দেয়। একমাত্র তাকওয়া চেহারাকে উজ্জল, প্রতিপালক আল্লাহ কে সন্তুষ্ট
ও নিজের মর্যাদাকে উন্নীত করে। হে মুসলমান! উপভোগ কর কিন্তু
হক আদায়ের ব্যাপারে গাফিল হয়ো না। আল্লাহ, তোমাদেরকে
তাঁর কিতাব দিয়েছেন এবং রাস্তা প্রদর্শন করেছেন যাতে মিথ্যাপন্থী
ও সত্যপন্থীদের মধ্যে পার্থক্য সূচিত হয়। হে মানুষ, আল্লাহ,
তোমাদের সাথে উত্তম আচরণ করেন, তোমরাও মানুষের সাথে অনুরূপ
আচরণ কর। আল্লাহর দুশমনকে তোমরা দুশমন মনে কর এবং
আল্লাহর রাস্তায় পূর্ণ সাহস ও একাগ্রতার সাথে কোশেশ, কর।
তিনিই তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন এবং তোমাদের নাম মুসলমান
রেখেছেন। এজন্য যে, যারা ধ্বংস হবে তাদের কাছে তাদের ধ্বংসের
এবং যারা কামিয়াব হবে তাদের কাছে তাদের কামিয়াবীর কারণ ও
যুক্তি-প্রমাণ যেন সুস্পষ্ট হয় এবং সকল পুণ্য কাজ আল্লাহর সাহায্যে
সংঘটিত হয়।
হে মানুষ! আল্লাহর জিকির কর। ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য
আমল কর। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে নিজের সম্পর্ক' সংশোধন করে
আল্লাহ, মানুষের সাথে তার সম্পর্ক সঠিক করে দেন। অবশ্যই
আল্লাহ, বান্দাদের উপর কর্তৃত্বের অধিকারী। কিন্তু তাঁর উপর কারও
কর্তৃত্ব চলে না। আল্লাহ, বান্দাদের মালিক এবং তাঁর উপর বান্দাদের
কোন ইখতিয়ার নেই। আল্লাহ, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং আমরা এ মহান
সত্তার নিকট থেকেই নেকীর শক্তি লাভ করি।
📄 কাশানায়ে নবুয়তে
আল্লাহ তা'আলার ছামদ ও সাদায় পয়:
হে মানুষ! আমি 'তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি, জীবিকা হাসিল
করার জন্য সম্ভাব্য সকল উপায়ে চেষ্টা কর এবং তোমাদের প্রচেষ্টার পরি-
পূর্ণতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া কর। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই
যে, কোন মুসলমানের সত্তাকে দুনিয়ায় বেকার এবং অনর্থক সৃষ্টি
করা হয়নি। বরং তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কর্ম ও কর্তব্যের
সংগে সংযুক্ত। কর্ম' ও প্রচেষ্টার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। অল্পে
সন্তুষ্টি এবং আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতার অর্থ এ নয় যে হাত
পা গুটিয়ে বসে থাকা এবং নিজের বোঝা অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়া।
নিশ্চয়ই আল্লাহর উপর ভরসা কর। আমাদের প্রধান কর্তব্য। কিন্তু
রিযিক হাসিল করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা নিতান্তই জরুরী বিষয়।
আমি বন-সায়াদ গোত্রের এক স্ত্রীলোককে 'চাক্কী' পিষতে দেখেছি
এবং সাথে সাথে এই দোয়া করতে শুনেছি, "আল্লাহুম্মা আরজ কনা।”
"হে আল্লাহ, আমাদেরকে রিযিক দাও।” আমি এ তাওয়াক্কুল ও
প্রচেষ্টা দেখে নিতান্তই খুশী হয়েছি।
হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমাদের রব ইরশাদ করেন: 'হে বনি
আদম, আমি তোমাদেরকে দুনিয়াতে ক্ষমতা প্রদান করেছি। এতে
তোমাদের জন্য জীবিকাও দিয়েছি। কিন্তু তোমর। খুব অল্পই শোকর
আদায়কারী। এতে এ ইশারা রয়েছে যে সম্ভাব্য উপায়ে রিযিক হাসিল
করার জন্য প্রচেষ্টার সাথে সাথে তার পরিপূর্ণতার জন্য আল্লাহর
কাছে দোয়া করা বান্দার উচিত।
আমি তোমাদেরকে অবহিত করছি যে, দুনিয়ায় যত পয়গম্বর এসে-
ছেন তাঁদের সবাই রিষিক হাসিলের জন্য চেষ্টা-সাধনা করতেন এবং
নিজেদের বোঝা অন্যের উপর চাপিয়ে দিতেন না। অতএব তোমরাও
র-যী হাসিলের জন্য কোশেশ কর। মেহনত-মজদুরী করা এবং লাকড়ীর
বোঝা নিজের মাথায় উঠানো অন্যের কাছে সওয়াল করার চেয়ে উত্তম।
যার জীবিক। উপার্জনের সামর্থ' রয়েছে, অন্যের কাছে চাওয়া তার জন্য
খুবই অসম্মানজনক। সে দুনিয়াতেও লাঞ্ছিত এবং শেষ বিচারের দিনও
তাকে এমন অবস্থায় হাযির করা হবে যে তার চেহারায় গোশ্ত থাকবে
না। আমি পরিষ্কারভাবে তোমাদের বলছি, যার কাছে একদিনের
খাদ্যও মওজুদ রয়েছে তার জন্য সওয়াল করা অবশ্যই হারাম। আমি
জানি, কোন কোন সংসার ত্যাগী ভিক্ষাবৃত্তিকে জায়েজ বলে কিন্তু
ইসলাম হাত-পা গুটিয়ে বসা এবং ভিক্ষাবৃত্তি ইখতিয়ার করাকে কঠোর
ভাবে নিষিদ্ধ করেছে। ইসলাম আমাদের হুকুম করেছে যে, দুনিয়ায়
ছড়িয়ে যাও এবং আল্লাহর কর-ণা তালাশ কর। যে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে
বাঁচবে, নিজের পরিবার-পরিজনের পরওয়ারিশ করা ও প্রতিবেশীর
সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য হালাল উপায়ে জীবিকা হাসিল করবে
সে কিয়ামতের দিন পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল চেহারা নিয়ে
আল্লাহর দরবারে হাযির হবে। দুনিয়াতেও তার জন্য সম্মান ও
প্রতিপত্তি রয়েছে।
হে মুসলমান! এ কথা স্মরণ রাখ, তোমরা যদি রিষিকের সন্ধানে
মশগুল থাক এবং রোযগার হাসিলের জন্য চেষ্টা করতে থাক তা হলে
দুনিয়াতে তোমাদের শ্রেষ্ঠত্ব কায়েম হবে এবং আখেরাতেও তোমরা
মহান প্রতিদান লাভ করবে। কে বলে ইসলাম রিষিক হাসিলের
কোশেশকে উত্তম মনে করে না এবং পার্থিব উন্নতির সাথে কোন সম্পর্ক
রাখে না? এ এক অপবাদ। যাঁর হাতে আমার জীবন রয়েছে তাঁর
শপথ, সংসার ত্যাগ করাকে ইসলাম কখনও জায়েয বলে না এবং হাত-পা
গুটিয়ে বসার তালিম দেয় না বরং মানুষকে মেহনত করার জন্য উদ্বুদ্ধ
করে। ইসলামের শিক্ষা হল-দুনিয়ার জিন্দেগীর জন্য সংগ্রাম কর
এবং অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ো না।
হে মানুষ! অবৈধ উপায়ে একে অন্যের মাল হাসিল করো না।
নিজেদের প্রাণ ধ্বংসের মধ্যে ফেলো না। বরং নিজেদের জীবিকা
হাসিলের জন্য খুব বেশী কোশেশ কর এবং আল্লাহর গযবকে ভয়
কর। আমি মনে করি, রিযিক হাসিলের উপায়-উপকরণের মধ্যে
তিষারত সবচেয়ে উত্তম। তাই যার সামর্থ' রয়েছে সে যেন তা ইখতিয়ার
করে। কিয়ামতের দিন সৎ ও আমানতদার তাযির (ব্যবসায়ী)-কে
নবী-সিদ্দিক এবং শহীদদের সাথে উঠানো হবে। তাই প্রত্যেক
ব্যবসায়ীকে সত্যবাদী এবং আমানতদার হওয়া উচিত। মানুষের
আহারযোগ্য সর্বোত্তম হালাল রংখী হল তার পরিশ্রম-লব্ধ রোষগার
এবং সেই তিষারত যাতে মিথ্যা এবং ধোঁকাবাজী শামিল নেই। যতদুর
সম্ভব তিখারত কর এজন্য যে তাতে বরকত রয়েছে।
আল্লাহতা'আলা তার উপর রহম করেন, যে বেচা-কেনা এবং টাকা-
পয়সা আদায়ের ব্যাপারে নম্রতা অবলম্বন করে। তিযারতের জন্য
তোমরা যে ঋণ গ্রহণ কর যথাসম্ভব ওয়াদা মোতাবেক তা ফিরিয়ে দাও।
তাতে পারস্পরিক বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। মনে রেখো, আমানত রিষিক
দান করে এবং খিয়ানত দারিদ্র্য সৃষ্টি করে। আমি তোমাদেরকে
হংশিয়ার করছি, যার আমানত নেই তার ঈমান নেই। যার প্রতিশ্রু-তি
মজবুত নয় তার দ্বীন নেই। যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ,
কোন মানুষের ঈমান সঠিক হতে পারবে না যতক্ষণ ন। সে সৎ ও
বিশ্বাসী হয়। আমি তোমাদেরকে হেদায়েত করছি যে, তোমর। কোন
বক্তির অধিক সালাত আদায় ও অধিক সীয়াম পালন করা দেখে ভুল
কর না বরং লক্ষ্য কর, সে যখন কথা বলে সত্য বলে কিনা এবং তার
কাছে রাখা আমানত বিশ্বস্ততার সাথে ফিরিয়ে দেয় কিনা এবং নিজের
পরিবার-পরিজনের জন্য হালাল উপায়ে রোষগার করে কিনা। যদি সে
আমানতদার ও সত্যবাদী হয় এবং হালাল উপায়ে রিযিক হাসিল করে
তা হলে নিশ্চয়ই সে কামেল মোমেন।
আস্সালাম, আলাইকুম।
📄 মসজিদে কুবায়
আল্লাহ তা'আলার তসবীহ ও তকদীসের পর:
হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে অবহিত করছি যে, হক সুবহানাহ
তা'আলা আমাকে উন্নত নৈতিক চরিত্রের পরিপূর্ণতা বিধানের জন্য
পাঠিয়েছেন। অর্থাৎ আমি এসেছি শুধুমাত্র উত্তম চরিত্র পরিপূর্ণ করার
জন্য। তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি, উত্তম নৈতিক চরিত্র অবলম্বন কর।
মনে রেখো, তোমাদের মধ্যে আমি তাকে বেশী মহব্বত করি যে উত্তঘ
চরিত্রের অধিকারী। আমার দৃষ্টিতে তোমাদের মধ্যে তার। উত্তম যার
পুতপবিত্র চরিত্রের মালিক। মন্দ চরিত্র আমলকে এমনভাবে বরবাদ করে
যেভাবে শিরক। মধুকে। যার চরিত্র পুতপত্তি তার মর্যাদা রাত জেগে
ইবাদতকারী ও দিনের বেল। সীয়াম পালনকারীর সমান। অর্থাৎ সে
ঐ সব সাধনাকারীর ন্যায় যারা রাত্রিকালে সালাতে মশগুল থাকে এবং
দিনের বেলা সাঁয়াম পালন করে। তোমরা কি জানো, উন্নত নৈতিক চরিত্র
কাকে বলে? স্মরণ রাখ, প্রত্যেকের সংগে মহব্বতের সাথে মেলামেশা
করা, অহংকার না করা, অধিক সময় চুপ থাকা, আল্লাহকে খুব বেশী
স্মরণ করা, বেহুদা কথাবার্তা অপছন্দ করা, ন্যায়-ইনসাফের ক্ষেত্রে
আপন-পর সাধারণ-অসাধারণ, উচ্চ নীচের ভেদাভেদ না করা গরীব-
মিহকিনকে তুচ্ছ জ্ঞান না করা, যাহেলদের কার্যকলাপে ধৈর্যধারণ করা।
খাদিমদের সাথে উত্তম ব্যবহার করা এবং গরীব আত্মীয় স্বজনের প্রতি
দয়া করা হচ্ছে উন্নত চরিত্র। আর এসব গুণে যে ভূষিত সে সম্মানের
যোগ্য এবং আমি দৃঢ়তার সাথে বলছি, আমলের নিক্তিতে উত্তম
নৈতিকতার চেয়ে বেশী ওজন অন্য কোন কিছুতে নেই। অতএব
তোমরা উত্তম নৈতিক চরিত্র অবলম্বন কর।
হে উপস্থিত জনমণ্ডলী! তোমাদের মধ্যে যে কেউ সৎ চরিত্রের
তালিম দেবে সে এ পরিমাণ সওয়াব হাসিল করবে যে পরিমাণ সওয়াব
হাসিল করবে তার কথায় হেদায়েত প্রাপ্ত ব্যক্তিরা। অসৎ চরিত্রের তালিম
যে দেবে সে এত পাপ করবে যত পাপ তার কথায় অসৎ ব্যক্তিদের হবে।
আমি তোমাদেরকে অবহিত করছি, যে দীর্ঘায়, এবং সৎ চরিত্রের
অধিকারী সে উত্তম ব্যক্তি, যে দীর্ঘায়, অথচ অসৎ চরিত্রের অধিকারী সে
সবচেয়ে অধম। আমি তোমাদেরকে নসিহত করছি যে, তোমর। পরস্পর
উত্তম ব্যবহার কর। একে অন্যের সাথে শত্রুতা করো না, পরস্পর
হিংসা পোষণ করো না। কোন মুসলমানের জন্য উচিত নয় যে, অপর
মুসলমানের প্রতি তিন দিনের বেশী মনোকষ্ট পোষণ করবে। অর্থাৎ
ঘটনাক্রমে বিবাদ হলে তিন দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করে ফেলা উচিত।
যে মুসলমান ভাই-এর সাথে এক বছরের মধ্যে বিবাদ নিষ্পত্তি করেনি সে
যেন খুনের অপরাধে অপরাধী। যখন তোমার ভাই বিপদগ্রস্ত হয় তখন
তাকে সাহায্য কর। যখন পীড়িত হয় তখন তাকে দেখতে যাও এবং
তাকে সান্ত্বন। দান কর। কেউ অপরাধ করে থাকলে তাকে মাফ করে
দাও। কিন্তু আল্লাহর আইন যারি করার ক্ষেত্রে ন্যায়-ইনসাফ ত্যাগ
করো না। ধৈর্য ও সহনশীলতা উত্তম চরিত্র। গোমরাহী ও যুলুমের
মোকাবিলা করতে কখনও অক্ষমতা প্রকাশ করো না। বদান্যতা ও
আত্মত্যাগ অত্যাবশ্যক। অপব্যয় পরিহার কর। সাহসিকতা ও
বাহাদুরী উত্তম অলংকার। কিন্তু মযলুম ও বিজিতের জন্য সম্পূর্ণ
ভাবে মেহেরবান ও দয়াশীল হয়ে যাও। পরিবার-পরিজনের সাথে
উত্তম ব্যবহার কর। কেউ তোমার সাথে মুলাকাত করতে আসলে তার
সম্মান কর, তার সাথে অন্যায় ব্যবহার করো না। আল্লাহ, রব্বুল
আলামীন তোমাদের ধন-দওলত দিয়ে থাকলে তোমরা গর্বিত হয়ে।
না। এতিম, অসহায়, বিধবা, গরীব ও অক্ষম ব্যক্তিদের সাহায্য কর।
যার উপর যুলুম করা হয় তার সহায়তা কর।
হে উপস্থিত জনমণ্ডলী! তোমরা কি জান দুষ্কর্ম' ও মন্দ চরিত্র কি?
মনে রেখো, কারো সাথে মন্দ ব্যবহার করা, অহংকার করা, গরীবদের
তুচ্ছ মনে করা, খাদিমদের উপর অত্যাচার করা, প্রতিবেশীকে কষ্ট
দেয়া, পার্থিব কাজে নিজের সত্তার শ্রেষ্ঠত্ব দান করা, পরিবার-পরি-
জনের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করা, রোগীর দেখাশুনা না করা,
বন্ধুদের মধ্যে শত্রুতার সৃষ্টি করা, আমানতের খেয়ানত করা, মিথ্যা
বলা, ধোঁকা দেয়া, ছল-চাতুরী অবলম্বন করা, কারো অধিক প্রশংসা
করা, নির্লজ্জ কাজে মশগুল থাকা, ইনসাফের ক্ষেত্রে আপন-পর এবং
উচ্চ-নীচের ভেদাভেদ করা, অন্যের মুসিবতে খুশী হওয়া, মযলুমের
সাহায্য না করা, বড়দের সাথে কর্কশ ব্যবহার করা, ওয়াদা খেলাফ করা,
কারো অপবাদ দেয়া, মেহমানের বেইজ্জতি করা, কারো দোষ-ত্রুটি
বর্ণনা করা, অন্যের উন্নতিতে হিংসা পোষণ করা, এতিম, গরীব ও
অসহায়দের তুচ্ছ জ্ঞান করা এবং তাদের সাহায্য না করা, বাকহীন
পশ, থেকে তাদের শক্তির উর্ধে কাজ নেয়া, বেহুদা খরচ করা, অপ্রয়ো-
জনীয় কথা বলা, দিলের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করা-এসবই
দুশ্চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত। অতএব তোমরা এসব থেকে দূরে থাক।
আসসালাম, আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।