📘 মহানবির শেষ ভাষণ > 📄 কাবা প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় ভাষণ

📄 কাবা প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় ভাষণ


আমি মহাপবিত্র আল্লাহর প্রশংসা করছি। তাঁর মাগফেরাত চাই।
মাবুদ বরহক যাকে হেদায়েতের শক্তি দান করেন তাকে কেউ গোমরাহ
করতে পারে না; যাকে তিনি বিপথগামী করেন তাকে কেউ সঠিক পথে
নিয়ে আসতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, মহাপবিত্র আল্লাহ, এক ও
অদ্বিতীয়, তাঁর কেউ শরিক নেই। আমি তাঁর বান্দা ও রসুল।
অতঃপর হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে হেদায়েত করছি, দাসদের
সাথে ভাল ব্যবহার কর। তাদেরকে কষ্ট দিও না। তোমরা কি অবগত
নও যে, তাদের কাছেও এমন এক দিল রয়েছে, যা কষ্ট পেলে ব্যথিত
হয় এবং আরামে খুশী হয়? তোমাদের কি হল যে, তোমরা তাদের
দিলের সন্তুষ্টি বিধান কর না? আমি লক্ষ্য করছি, তোমরা তাদেরকে হীন
মনে কর এবং তাদের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন কর না। এটা
কি? এটা কি যাহেলিয়াতের অহংকার নয়? নিঃসন্দেহে এটা যুলুম
ও বে-ইনসাফি। আমি জানি, যাহেলিয়াতের যুগে তাদের কোন মর্যাদা
ছিল না। পশুর চেয়েও তাদেরকে অধম মনে করা হতো। সর্বত্র
আমীর এবং গোত্র-সরদাররা সম্মান ও কর্তৃত্বের মালিক সেজে বসেছিল।
আল্লাহর বান্দারা এ কথা ভুলে গিয়েছিল যে মানুষ হিসেবে সবাই
সমান এবং খেদমতকারীরাও ইনসাফের অধিকারী। সেটা ছিল এমন
এক যুগ যখন আমীর-ওমরাহ, এবং শাসকবর্গ' তাদেরকে মানবীয়
শুরের ঊর্ধে মনে করতো। নিজেদেরকে নিংপাপ ঘোষণা করতো।
তাদের দৃষ্টিতে খাদিমদের জিন্দেগীর উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র মনিব-
দের খেদমত করা এবং তাদের যুলুম বরদাশত করা। মনিবদের
সাথে গোলামদের বসা নিষিদ্ধ ছিল। তাদের সামনে গোলামদের কথা
বলা পাপ ছিল। মনিবদের কোন কাজের সামান্যতম বির-দ্ধাচরণ
হত্যার যোগ্য অপরাধ ছিল। ইসলাম এ ধরনের রসুম-রেওয়াজের
অবসান ঘটিয়েছে এবং যাহেলী অহংকারকে ধূলিস্মাৎ করে দিয়েছে।
হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে অবহিত করছি যে, তোমাদের
রবের ফরমান হচ্ছেঃ তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে আল্লাহ-ভীর, আল্লাহর
কাছে সে সবচেয়ে বেশী সম্মানের পাত্র। তোমরা জান যে, সকল
মানুষই আদমের সন্তান এবং আদম মাটির তৈরী। তাহলে অহংকারের
হেতু কি? মনে রাখবে, ইসলামের দৃষ্টিতে মানবতার উর্ধে কোন
মর্যাদা নেই এবং মনিব-গোলাম, উচ্চ-নীচ, আমীর-ফকীর সবাই সমান।
ইসলামের দৃষ্টিতে যে জিনিস বৈশিষ্ট্যের দাবী করতে পারে তা হচ্ছে
তাকওয়া ও সৎকর্ম'। এটাই যখন বাস্তব তখন কেন তোমরা তোমাদের
খাদিমদের নীচ মনে কর? আমি লক্ষ্য করেছি যে, মনিবের সাথে
কোন গোলাম কথা বলতে চাইলে রাগে মনিবের চেহারা হিংস্র প্রাণীর
ন্যায় রক্তলোলুপ হয়ে যায় এবং সে কোনভাবেই তার ক্রোধ দমন
করতে পারে না। এটা যাহেলিয়াত ছাড়া আর কি হতে পারে? এমন
হতে পারে, গোলাম তার মনিবের চেয়ে উত্তম এবং তার আমলও
আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য।
হে মানুষ। যখন হুকুমত ছিল যিহালতের এবং নফসের পুজা তার
চূড়ান্ত প্রভাব বিস্তার করেছিল মানুষের উপর তখন যে কি মর্মান্তিক
দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছিল তা মানবতার দৃষ্টি কখনও ভুলতে পারে না।
আমি সে যুগও দেখেছি, যখন গোলামদের সাথে বর্বর আচরণ ও
যুলুম করা হতে। এবং তাদেরকে জানোয়ারের চেয়েও নিকৃষ্ট মনে কর।
হতো। মহাপবিত্র আল্লাহ, তাদের উপর রহম করেছেন, তাদের
অধিকার প্রকাশ করে দিয়েছেন এবং তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার
হেদায়েত করেছেন। আমি আমার রবের ফরমান মুতাবেক বলছি যে,
তোমর। তাদেরকে নিজেদের ভাই মনে কর। তাদের কাছ থেকে
এতটুকু কাজ আদায় কর যতটুকু তারা সহজে করতে পারে। তোমরা যা
খাও তাদেরকে তা খেতে দাও। যা তোমরা পরে। তাই তাদেরকে পরতে
দাও। তাদের সাথে এরূপ ব্যবহার কর যেরূপ তোমরা আপন জনের
প্রতি করে থাক, তাদের জন্য তা' পছন্দ কর যা তোমরা নিজেদের
জন্য কর। তাদের জন্য তা অপছন্দ কর, যা তোমরা নিজেদের জন্য
অপছন্দ কর। তাদেরকে নীচ ও তুচ্ছ মনে করো না। তোমরা যখন
সফরে যাও আর তারাও তোমাদের সংগে থাকে তখন তাদের আরামের
প্রতিও খেয়াল রেখো। তোমাদের সাথে সোয়ারী থাকলে কিছুক্ষণ
তোমরা আরোহণ কর এবং কিছুক্ষণ তাদেরকেও আরোহণের অনুমতি
দিও। মানুষ হিসেবে তারা কোন অংশেই তোমাদের চেয়ে ছোট নয়।
যেরূপ হৃদয় তোমাদের রয়েছে সেরূপ তাদেরও রয়েছে। তোমরা কি
লক্ষ্য করনি যে আমি যায়েদকে আযাদ করে আমার ফুফাত বোনের
সাথে তার বিয়ে দিয়েছি এবং বেলালকে মুয়াজ্জিন নিযুক্ত করেছি
এজন্য যে তার। আমার ভাই। তোমরা দেখেছ যে, আনাস, আমার কাছে
থাকে, তাকে আমি ছোট মনে করি না। কোন কাজ না করলেও আমি
তাকে বলি না যে কেন তুমি তা করনি। ঘটনাক্রমে তার দ্বারা কোন
ক্ষতি হয়ে গেলেও আমি তাকে কোন শাসন করি না। আমি তোমা-
দেরকে নসিহত করছি যে, তোমাদের কোন খাদিম যখন খাবার নিয়ে
আসে তখন তাকেও তোমাদের সঙ্গে বসানো উচিত। তারা যদি একসঙ্গে
বসতে পছন্দ না করে তাহলে তাদেরকে কিছ, খাবার দিয়ে দেয়া উচিত।
তোমাদের কোন গোলাম অপরাধ করে থাকলে সত্তর বার তাকে মাফ
করবে। এজন্য যে, তুমি যাঁর গোলাম তিনি তোমার অপরাধ হাজার
বার মাফ করে দেন। মনে রেখো, কোন লোক তার গোলামের প্রতি
অন্যায় অপবাদ আরোপ করলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ, তাকে কঠিন
শাস্তি দেবেন। আমি পুনরায় তোমাদেরকে বলছি, তোমাদের খাদিম
তোমাদের ভাই, তারা বাধ্য হয়ে তোমাদের অধীন হয়েছে। তাই যার
ভাই তার নিজের অধীন তার উচিত, সে নিজে যা খায় তাই তাকে
খেতে দেয়, নিজে যা পরে তা তাকে পরতে দেয় এবং সাধ্যের বাইরে
তার কাছ থেকে কোন কাজ আদায় না করে।
আসসালাম, আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

📘 মহানবির শেষ ভাষণ > 📄 মদীনায়ে তাইয়েবায়

📄 মদীনায়ে তাইয়েবায়


হাম্দ ও সানার পর:
হে মানুষ! নিজের ব্যক্তি সত্তার জন্য কিছু, ভাল কাজ কর।
তোমাদের জানা উচিত যে, একদিন তোমরা প্রত্যেকে মৃত্যুর শিকারে
পরিণত হবে এবং নিজের ছাগল-পাল রাখালবিহীনভাবে ছেড়ে চলে
যাবে। অতঃপর পরোয়ারদিগার তার সাথে সরাসরি আলাপ করবেন
যাতে কোন দোভাষী থাকবে না এবং নিজেকে গোপন করার জন্য সামনে
কোন পর্দা থাকবে না। আল্লাহ, বলবেন, তোমার কাছে কি আমার রসুল
আসেননি? তোমাকে দ্বীনের দাওয়াত দেন নি? আমি তোমাকে
সম্পদ দিয়েছিলাম, তোমাকে আমার করণ। প্রদর্শন করেছিলাম-তুমি
মৃত্যুর আগে তোমার জন্য কি করেছিলে? বান্দা ডানে ও বামে
দেখতে থাকবে কিন্তু কিছুই পাবে না। অতঃপর সামনের দিকে দেখবে।
তাই, প্রত্যেক ব্যক্তি যেন যথাসম্ভব নিজের চেহারা আগুন থেকে রক্ষা
করে। এক টুকরা খেজুর দিয়ে হলেও সে যেন তা করে। যে এক
টুকরা খেজুরও পাবে না সে যেন উত্তম কথার মাধ্যমে তা করে।
কেনন। তারও প্রতিদান দেওয়া হবে। এক নেকীর প্রতিদান দশ থেকে
সাতশ' গুণ হবে। তোমাদের ও আল্লাহর রসুলের উপর সালাম এবং
আল্লাহর রহমত ও বরকত হোক।

📘 মহানবির শেষ ভাষণ > 📄 মদীনায়ে তাইয়েবায় দ্বিতীয় ভাষণ

📄 মদীনায়ে তাইয়েবায় দ্বিতীয় ভাষণ


অতঃপর রসূলুল্লাহ (সঃ) দোস্ত্রা খুতবা প্রদান করেন: এতে
কোন সন্দেহ নেই যে, যাবতীয় তারিফ আল্লাহর জন্য। আমি তাঁর
তারিফ করছি এবং তাঁর মদদ প্রার্থী। আমরা নফসের গোলমাল এবং
আমলের মন্দ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থী। আল্লাহ, যাকে হেদায়েত
দান করেন তাকে কেউ গোমরাহ করতে পারে না। যাকে তিনি গোম-
রাহ করে দেন তাকে হেদায়েত দানকারী কেউ নেই। আমি এ কথার
সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ, ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তিনি অদ্বিতীয় ও
তাঁর কোন শরীক নেই।
শোন, উত্তম বাণী হল আল্লাহর কিতাব। এ কিতাবের সৌন্দর্য' যার
দিলে আল্লাহ, অংকিত করে দিয়েছেন এবং যাকে কুফরী থেকে ইসলামের
মধ্যে দাখিল করে দিয়েছেন এবং যে অন্য সকল মানুষের কথার উপর
এ কিতাবের প্রাধান্য দিয়েছে সে নিঃসন্দেহে সফলকাম হয়েছে এবং
উন্নতি লাভ করেছে। নিঃসন্দেহে এ কিতাব সর্বোত্তম এবং বাগ্মিতা-
সম্পন্ন।
আল্লাহ, যা ভালবাসেন তা তোমরাও ভালবাসো। সম্পূর্ণ দিল
দিয়ে আল্লাহকে কামনা কর; আল্লাহর কালাম ও তাঁর স্মরণ থেকে
কখনও বিমুখ হয়ো না। তোমাদের দিল যেন তাঁর প্রতি শক্ত না হয়
তিনি যে সব জিনিস সৃষ্টি করেছেন তার মধ্যে কিছু সংখ্যক তাঁর
বিশেষভাবে নির্বাচিত ও মনোনীত। তিনি ওগুলোকে 'সর্বোত্তম
আমল', 'মনোনীত বান্দা' ও 'শ্রেষ্ঠ কালাম' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এতে মানুষের জন্য হালাল-হারামের হেদায়েত রয়েছে। অতএব আল্লাহর
ইবাদত কর এবং তাঁর সাথে কাকেও শরীক করো না। তাঁকে সঠিক
ভাবে ভয় কর। আল্লাহ্, সম্পর্কে' সত্য বল। কেনন। তোমরা যা
কিছু, বল তার মধ্যে এটাই সর্বোত্তম। আল্লাহর রহমতের কারণে
তোমরা পরস্পর মহব্বত কর। ওয়াদা ভংগ করলে আল্লাহ, রাগান্বিত
হন। তোমাদের উপর সালাম ও আল্লাহর রহমত হোক।

📘 মহানবির শেষ ভাষণ > 📄 মদীনায়ে তাইয়েবার জুমার প্রথম ভাষণ

📄 মদীনায়ে তাইয়েবার জুমার প্রথম ভাষণ


হামুদ, ওসানা আল্লাহর জন্য। আমি তাঁর প্রশংসা করি। তাঁরই
কাছে মদদ,, হেদায়েত ও ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমার ঈমান তাঁর উপর।
আর্মিতার নাফরমানি করি খাঁ। যারা নাফরমানি করে তাদের সাথে
আমি শত্রুতা পোষণ করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে. আল্লাহ, ব্যতীত
ইবাদতের যোগ্য আর কেউ নেই। তিনি অদ্বিতীয় এবং লা-শরীফ।
মুহম্মদ (সঃ) তাঁর বান্দা ও রসুল। তিনি মুহম্মদকে (সঃ) আলো.
হেদায়েত ও নসিহত সহকারে এমন এক যুগে পাঠিয়েছেন যখন অনেক
কাল থেকে দুনিয়াতে কোন নবী আসেননি। যখন জ্ঞান হ্রাস পেয়েছিল
ও গোমরাহী বেড়ে গিয়েছিল। আমাকে আখেরী যামানায় পাঠানে।
হয়েছে, যখন কিয়ামতও নিকটবর্তী এবং দুনিয়ার মৃত্যু আসন্ন। যে
আল্লাহ, ও তাঁর রসুলের অনুসরণ করে সেই সঠিক পথে; যে তাঁর
হুকুম মানেনি সে পথভ্রষ্ট, মর্যাদা থেকে বিচ্যূত এবং কঠিন গোম-
রাহীর মধ্যে লিপ্ত।
হে মুসলমান! আমি তোমাদেরকে তাকওয়ার অসিয়ত করছি।
এক মুসলমানের প্রতি অপর মুসলমানের উত্তম অসিয়ত হল তাকে
আখেরাতের জন্য উদ্বুদ্ধ করা এবং আল্লাহকে ভয় করার কথা বলা।
হে মানুষ! আল্লাহ, যে সব বিষয় নিষেধ করেছেন তা পরিহার কর।
এর চেয়ে বড় কোন নসিয়ত নেই এবং কোন জিকিরও নেই। স্মরণ
রেখো, আল্লাহকে ভয় করে যে কাজ করে, আখেরাতে তাকওয়া তার
জন্য উৎকৃষ্ট সাহায্যকারী। যখন কোন ব্যক্তি আল্লাহর সাথে তার
সম্পর্ক' প্রকাশ্যে ও গোপনে সঠিক করবে এবং এ ব্যাপারে তার নিয়ত
পবিত্র থাকবে তখন তার এ কাজ দুনিয়াতে প্রশংসিত হবে এবং মৃত্যুর
পর (যখন মানুষের আমলের গুর-স্ব ও প্রয়োজন অনুভূত হবে) এক
ভান্ডারে পরিণত হবে। যদি কেউ এরূপ না করে তাহলে তার
যে পরিণতি হবে তার উল্লেখ রয়েছে নিম্নোক্ত আয়াতের মধ্যে: মানুষ
চাইবে তার আমল যেন তার থেকে দূরে রাখা হয়। আল্লাহ, তাঁর সত্ত।
সম্পর্কে' তোমাদেরকে ভয় প্রদর্শন করবেন এবং তিনি তাঁর বান্দাদের
প্রতি অতি মেহেরবান।
যে ব্যক্তি খোদার হুকুম সত্য মনে করে এবং তার ওয়াদা পূরণ
করে তার জন্য এই ইরশাদে-ইলাহী রয়েছে যে, আমাদের কাছে কথার
পরিবর্তন হয় না এবং আমরা বান্দাদের উপর যুলুম করি না।
হে মুসলমান, তোমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রকাশ্য ও গোপন
কাজে আল্লাহর ভয়কে সামনে রেখো। কেননা আল্লাহকে ভয়কারীদের
ছেড়ে দেয়া হয় এবং তাদের প্রতিদান বাড়িয়ে দেয়া হয়। তাকওয়ার
অধিকারীরা বিরাট সাফল্য লাভ করবে।
একমাত্র তাকওয়া আল্লাহর অসন্তুষ্টি, আজাব এবং ক্রোধ দূর করে
দেয়। একমাত্র তাকওয়া চেহারাকে উজ্জল, প্রতিপালক আল্লাহ কে সন্তুষ্ট
ও নিজের মর্যাদাকে উন্নীত করে। হে মুসলমান! উপভোগ কর কিন্তু
হক আদায়ের ব্যাপারে গাফিল হয়ো না। আল্লাহ, তোমাদেরকে
তাঁর কিতাব দিয়েছেন এবং রাস্তা প্রদর্শন করেছেন যাতে মিথ্যাপন্থী
ও সত্যপন্থীদের মধ্যে পার্থক্য সূচিত হয়। হে মানুষ, আল্লাহ,
তোমাদের সাথে উত্তম আচরণ করেন, তোমরাও মানুষের সাথে অনুরূপ
আচরণ কর। আল্লাহর দুশমনকে তোমরা দুশমন মনে কর এবং
আল্লাহর রাস্তায় পূর্ণ সাহস ও একাগ্রতার সাথে কোশেশ, কর।
তিনিই তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন এবং তোমাদের নাম মুসলমান
রেখেছেন। এজন্য যে, যারা ধ্বংস হবে তাদের কাছে তাদের ধ্বংসের
এবং যারা কামিয়াব হবে তাদের কাছে তাদের কামিয়াবীর কারণ ও
যুক্তি-প্রমাণ যেন সুস্পষ্ট হয় এবং সকল পুণ্য কাজ আল্লাহর সাহায্যে
সংঘটিত হয়।
হে মানুষ! আল্লাহর জিকির কর। ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য
আমল কর। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে নিজের সম্পর্ক' সংশোধন করে
আল্লাহ, মানুষের সাথে তার সম্পর্ক সঠিক করে দেন। অবশ্যই
আল্লাহ, বান্দাদের উপর কর্তৃত্বের অধিকারী। কিন্তু তাঁর উপর কারও
কর্তৃত্ব চলে না। আল্লাহ, বান্দাদের মালিক এবং তাঁর উপর বান্দাদের
কোন ইখতিয়ার নেই। আল্লাহ, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং আমরা এ মহান
সত্তার নিকট থেকেই নেকীর শক্তি লাভ করি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00