📄 মহান আল্লাহ মানুষের অঙ্গ হন?
মহানবী ﷺ বলেন, "নিশ্চয় আল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার অলীর বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করবে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব। পরিশেষে আমি তাকে ভালোবাসি। অতঃপর আমি তার শোনার কান হয়ে যাই, তার দেখার চোখ হয়ে যাই, তার ধরার হাত হয়ে যাই, তার চলার পা হয়ে যাই!"
উক্ত হাদীসে প্রকাশ্য শব্দাবলী যে অর্থ বুঝাতে চায়, তা কিন্তু উদ্দিষ্ট নয়। উদ্দিষ্ট হল, 'আমি তার শোনার কান হয়ে যাই' অর্থাৎ, আমি তাকে ভাল জিনিস শোনার তওফীক দান করি। 'তার দেখার চোখ হয়ে যাই' অর্থাৎ, আমি তাকে ভাল জিনিস দেখার তওফীক দান করি। 'তার ধরার হাত হয়ে যাই, তার চলার পা হয়ে যাই' অর্থাৎ, আমি তাকে ভাল পথে চলার তওফীক দান করি।
আর এ অর্থ এক শ্রেণীর 'তা'বীল' হলেও অন্য দলীল দ্বারা তা বৈধ। তাছাড়া মহান স্রষ্টা তো আর সৃষ্ট মানুষের কোন অংশ হতে পারেন না। সুতরাং এমন অর্থ বুঝাটাই ভুল। যেহেতু এমন অর্থ উদ্দেশ্য নয়।
📄 আল্লাহর চাওয়া
মহানবী ﷺ বলেন, "আল্লাহ আয্যা অজাল্ল কিয়ামতের দিন বলবেন, 'হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমাকে দেখতে আসনি।' সে বলবে, 'হে প্রভু! কিভাবে আমি আপনাকে দেখতে যাব?' তিনি বলবেন, 'তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল? তুমি যদি তাকে দেখতে যেতে তাহলে অবশ্যই তুমি আমাকে তার কাছে পেতে?'"
যেমন মানুষকে দান করলে, আল্লাহকে ঋণ দেওয়া হয়। রসূলের আনুগত্য করলে, আল্লাহর আনুগত্য হয়। এই অর্থেই কবির কথা মানা যেতে পারে, যিনি বলেছেন, 'জীবে প্রেম করে যে জন সেজন সেবিছে ঈশ্বর।' নচেৎ জীবই ঈশ্বর উদ্দেশ্য হলে, তা মান্য নয়। যে মানে, সে ভ্রষ্ট সর্বেশ্বরবাদী। মানুষের বেশে আল্লাহ প্রকাশ পান না। তবে মানুষকে খেতে দিলে তা আল্লাহর কাছে পাওয়া যায়।
বলা বাহুল্য, উক্ত হাদীস এ কথার দলীল যে, বাক্যের বাহ্যিক অর্থ উদ্দিষ্ট নয় বলে যদি আল্লাহ বা তাঁর রসূল কর্তৃক বিবৃতি থাকে, তাহলে তাকে নিষিদ্ধ 'তা'বীল' বলা হয় না। নিষিদ্ধ তা'বীল তখনই হবে, যখন আল্লাহ বা তাঁর রসুল কর্তৃক বাক্যের কোন ব্যাখ্যা থাকবে না এবং মনগড়াভাবে নিজের তরফ থেকে ধারণাবশতঃ কোন দূর বা কূট অর্থ করা হবে।