📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী 📄 মহান আল্লাহর লুঙ্গী ও চাদর

📄 মহান আল্লাহর লুঙ্গী ও চাদর


রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "আল্লাহ তাআলা বলেন, 'সম্মান আমার লুঙ্গি এবং গর্ব আমার চাদর। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার কাছ থেকে এর মধ্য থেকে যে কোন একটি টেনে নিতে চাইবে আমি তাকে শাস্তি দেব।”

তাঁর লুঙ্গি ও চাদরের ব্যাপারে আমাদেরকে সেইভাবেই ঈমান রাখতে হবে, যেভাবে মহানবী ﷺ-এর মুখে এসেছে। তা কেমন, কিরূপ ইত্যাদি প্রশ্ন আমাদের মনে উঁকি দেওয়া উচিত নয়। অবশ্য এ কথা নিশ্চিতভাবে জানতে হবে যে, সে লুঙ্গি ও চাদর নিশ্চয় মানুষের তৈরি নয়। মহান আল্লাহ যেমন আমাদের নিকট অদৃশ্য, তেমনি তাঁর গুণাবলীও অদৃশ্য। তা কিসের ও কেমন কে বলতে পারে?

📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী 📄 মহান আল্লাহর নেতিবাচক গুণাবলী

📄 মহান আল্লাহর নেতিবাচক গুণাবলী


মহান আল্লাহর কিছু নেতিবাচক গুণ আছে, যা তাঁর পরিপূর্ণ জ্ঞান, মহত্ত্ব ও মাহাত্ম্য, অসীম ক্ষমতা ও প্রশংসারই দলীল। মহান আল্লাহ বলেন, আল্লাহ মশা কিংবা তার থেকে উচ্চ পর্যায়ের কোন বস্তুর উদাহরণ দিতে লজ্জাবোধ করেন না। আল্লাহ সত্য বলতে সংকোচবোধ করেন না। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। তাঁর কুরসী আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী পরিব্যাপ্ত। আর সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। আমি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছি ছয় দিনে; আমাকে কোন ক্লান্তি স্পর্শ করেনি। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে অণু পরিমাণ কিছু তাঁর অগোচর নয়। দৃষ্টিসমূহ তাঁকে আয়ত্ব করতে পারে না। তাঁর কোন সন্তান নেই এবং তিনিও কারো সন্তান নন এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।

মহানবী ﷺ বলেন, "তোমরা সাধ্যমত আমল কর। আল্লাহর কসম! আল্লাহ ক্লান্ত হন না যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হয়ে পড়।”

📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী 📄 মহান আল্লাহ মানুষের অঙ্গ হন?

📄 মহান আল্লাহ মানুষের অঙ্গ হন?


মহানবী ﷺ বলেন, "নিশ্চয় আল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার অলীর বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করবে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব। পরিশেষে আমি তাকে ভালোবাসি। অতঃপর আমি তার শোনার কান হয়ে যাই, তার দেখার চোখ হয়ে যাই, তার ধরার হাত হয়ে যাই, তার চলার পা হয়ে যাই!"

উক্ত হাদীসে প্রকাশ্য শব্দাবলী যে অর্থ বুঝাতে চায়, তা কিন্তু উদ্দিষ্ট নয়। উদ্দিষ্ট হল, 'আমি তার শোনার কান হয়ে যাই' অর্থাৎ, আমি তাকে ভাল জিনিস শোনার তওফীক দান করি। 'তার দেখার চোখ হয়ে যাই' অর্থাৎ, আমি তাকে ভাল জিনিস দেখার তওফীক দান করি। 'তার ধরার হাত হয়ে যাই, তার চলার পা হয়ে যাই' অর্থাৎ, আমি তাকে ভাল পথে চলার তওফীক দান করি।

আর এ অর্থ এক শ্রেণীর 'তা'বীল' হলেও অন্য দলীল দ্বারা তা বৈধ। তাছাড়া মহান স্রষ্টা তো আর সৃষ্ট মানুষের কোন অংশ হতে পারেন না। সুতরাং এমন অর্থ বুঝাটাই ভুল। যেহেতু এমন অর্থ উদ্দেশ্য নয়।

📘 মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলী 📄 আল্লাহর চাওয়া

📄 আল্লাহর চাওয়া


মহানবী ﷺ বলেন, "আল্লাহ আয্যা অজাল্ল কিয়ামতের দিন বলবেন, 'হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমাকে দেখতে আসনি।' সে বলবে, 'হে প্রভু! কিভাবে আমি আপনাকে দেখতে যাব?' তিনি বলবেন, 'তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল? তুমি যদি তাকে দেখতে যেতে তাহলে অবশ্যই তুমি আমাকে তার কাছে পেতে?'"

যেমন মানুষকে দান করলে, আল্লাহকে ঋণ দেওয়া হয়। রসূলের আনুগত্য করলে, আল্লাহর আনুগত্য হয়। এই অর্থেই কবির কথা মানা যেতে পারে, যিনি বলেছেন, 'জীবে প্রেম করে যে জন সেজন সেবিছে ঈশ্বর।' নচেৎ জীবই ঈশ্বর উদ্দেশ্য হলে, তা মান্য নয়। যে মানে, সে ভ্রষ্ট সর্বেশ্বরবাদী। মানুষের বেশে আল্লাহ প্রকাশ পান না। তবে মানুষকে খেতে দিলে তা আল্লাহর কাছে পাওয়া যায়।

বলা বাহুল্য, উক্ত হাদীস এ কথার দলীল যে, বাক্যের বাহ্যিক অর্থ উদ্দিষ্ট নয় বলে যদি আল্লাহ বা তাঁর রসূল কর্তৃক বিবৃতি থাকে, তাহলে তাকে নিষিদ্ধ 'তা'বীল' বলা হয় না। নিষিদ্ধ তা'বীল তখনই হবে, যখন আল্লাহ বা তাঁর রসুল কর্তৃক বাক্যের কোন ব্যাখ্যা থাকবে না এবং মনগড়াভাবে নিজের তরফ থেকে ধারণাবশতঃ কোন দূর বা কূট অর্থ করা হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px