📄 মহান আল্লাহর কৌশল, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র
শত্রুর নিকট থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য গোপন উপায় প্রয়োগ করলে কৌশল, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি বলা হয়। এ কাজ সাধারণভাবে মহান আল্লাহর সুন্দর গুণাবলী নয়। বরং দুশমনের মুকাবিলায় এর প্রয়োগ প্রশংসনীয়। যেহেতু তাতে তাঁর ইল্ম, কুদরত ও অসীম ক্ষমতার বিকাশ ঘটে। মহান আল্লাহ বলেন, তারা ষড়যন্ত্র করে এবং আল্লাহও ষড়যন্ত্র করেন। আর ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে আল্লাহ শ্রেষ্ঠ। ওরা চক্রান্ত করেছিল এবং আমিও চক্রান্ত করলাম, কিন্তু ওরা বুঝতে পারেনি। নিশ্চয় তারা ভীষণ চক্রান্ত করে এবং আমিও ভীষণ কৌশল করি। ওরা আল্লাহ সম্বন্ধে বিতন্ডা করে; আর তিনি মহা চক্রান্তকারী (মহাশক্তিশালী)।
📄 মহান আল্লাহর লজ্জাশীলতা
মহানবী ﷺ বলেন, "নিশ্চয় তোমাদের মহান প্রভু লজ্জাশীল অনুগ্রহপরায়ণ, বান্দা যখন তাঁর দিকে দুই হাত তোলে, তখন তা শূন্য ও নিরাশভাবে ফিরিয়ে দিতে বান্দা থেকে লজ্জা করেন।" তা কি সম্ভব? অবশ্যই তাঁর রসূল যখন বলেছেন, তখন অসম্ভব কিসের? তবে নিশ্চয় তাঁর লজ্জাবোধ মানুষের মত নয়। তাঁর লজ্জাশীলতা যেমন তাঁর জন্য শোভনীয়।
📄 মহান আল্লাহর ঈর্ষা বা আত্মমর্যাদা
মহান আল্লাহর ঈর্ষা আছে। সে ঈর্ষা কোন সৃষ্টির মত নয়। তার কোন উপমা নেই, উদাহরণ নেই। মহানবী ﷺ বলেন, হে মুহাম্মাদের উম্মত! আল্লাহ অপেক্ষা বেশি ঈর্ষাবান কেউ নেই যে, তার ক্রীতদাস অথবা দাসী ব্যভিচার করবে। হে মুহাম্মাদের উম্মত! আল্লাহর কসম! আমি যা জানি যদি তোমরা তা জানতে, তাহলে অল্প হাসতে এবং বেশি কাঁদতে।
একদা সা'দ বিন উবাদাহ বললেন, 'যদি কোন ব্যক্তিকে আমার স্ত্রীর সাথে দেখি, তাহলে তরবারির ধারালো দিকটা দিয়ে তাকে আঘাত করব।' এ কথা নবী ﷺ-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, "তোমরা কি সা'দের ঈর্ষায় আশ্চর্যান্বিত হও? নিশ্চয় আমি ওর থেকে বেশি ঈর্ষান্বিত এবং আল্লাহর আমার চেয়েও বেশি ঈর্ষান্বিত।"
📄 মহান আল্লাহর ধারণ করা
মহান আল্লাহ ধরেন, ধারণ করেন, গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে (ধরে) স্থির রাখেন, যাতে ওরা কক্ষচ্যুত না হয়। ভূপৃষ্ঠে যত বিচরণকারী জীব রয়েছে, তাদের প্রত্যেকেরই চুলের ঝুঁটি তিনি ধারণ ক'রে আছেন (সবাই তাঁর করায়ত্তে)।
তিনি হাতে গ্রহণ করেন। "সে ব্যক্তির ঐ দানকে আল্লাহ ডান হাতে গ্রহণ করেন। পরিশেষে তা রহমানের করতলে বৃদ্ধিলাভ ক'রে পাহাড় থেকেও বড় হয়ে যায়।" এ ধারণ ও গ্রহণ নিশ্চয় মানুষের মত নয়। তাঁর জন্য যেভাবে শোভনীয় সেইভাবে ধারণ ও গ্রহণ করেন। তা মানুষের কল্পনার বাইরে।