📄 মহান আল্লাহর অবতরণ
মহানবী ﷺ বলেন, "আল্লাহ তাআলা প্রত্যহ রাত্রের শেষ তৃতীয়াংশে নীচের আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, "কে আমাকে ডাকে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার নিকট প্রার্থনা করে? আমি তাকে দান করব। এবং কে আমার নিকট ক্ষমা চায়? আমি তাকে ক্ষমা করব।”
মহান আল্লাহর সত্তার জন্য যেমন শোভনীয়, তেমনি তিনি অবতরণ করেন। তাঁর অবতরণ কোন সৃষ্টির অবতরণের মত নয়। অতএব তিনি কিভাবে অবতরণ করেন?---এসব নানাবিধ প্রশ্নের উত্তর কেবল তিনিই জানেন। মুসলিম এসব প্রশ্ন মনেই আনে না।
এখানে এ অপব্যাখ্যা করা বৈধ নয় যে, তাঁর নির্দেশ অবতরণ করে, অথবা তাঁর রহমত বা কুদরত নামে অথবা তাঁর ফিরিশতা নামেন। ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) কে মহান আল্লাহর অবতরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, 'তিনি অবতরণ করেন, তার কোন রকমত্ব নেই।' মুহাম্মাদ বিন হাসান শাইবানী বলেন, 'মহান আল্লাহর নীচের আসমানে অবতরণ করার হাদীস শুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে। আমরা তা বর্ণনা করব, বিশ্বাস রাখব এবং অপব্যাখ্যা করব না।'
ইসহাক বললেন, 'আল্লাহ আমীরকে সম্মান দান করুন। প্রতিপালকের কোন ব্যাপারে 'কিভাবে?' বলতে হয় না। তিনি কোন কেমনত্ব ছাড়াই অবতরণ করেন।' পরিশেষে তদ্রূপ বলি, অবতরণ করার অর্থ বিদিত, তার কেমনত্ব অবিদিত, তার প্রতি ঈমান ওয়াজেব এবং সে ব্যাপারে প্রশ্ন করা বিদআত।
📄 মহান আল্লাহর কথা
আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সম্বোধন করেন, বলেন, আদেশ করেন, উপদেশ দেন। তাঁর বাণী অহীর মাধ্যমে বা পর্দার অন্তরাল থেকে কিংবা দূত মারফৎ মানুষের কাছে পৌঁছে থাকে। তিনি বলেন, কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় যে, আল্লাহ তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন ওহীর মাধ্যম ব্যতিরেকে, অন্তরাল ব্যতিরেকে অথবা কোন দূত প্রেরণ ব্যতিরেকে; নিঃসন্দেহে তিনি সমুন্নত, প্রজ্ঞাময়। তিনি মুসা কালীমুল্লাহ -এর সাথে তুর পাহাড়ে কথা বলেছেন।
মুসা যখন আমার নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হল এবং তার প্রতিপালক তার সঙ্গে কথা বললেন, তখন সে বলল, 'হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দর্শন দাও।' তিনি বললেন, 'হে মুসা! আমি তোমাকে আমার রিসালাত ও বাক্য দ্বারা লোকের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি, সুতরাং আমি যা দিলাম, তা গ্রহণ কর।'
আদম-সহ নবীদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। তিনি মি'রাজের রাতে শেষনবী ﷺ-এর সাথে কথা বলেছেন। কিয়ামতের দিনে তিনি বান্দার সাথে কথা বলবেন। যখন ইচ্ছা তিনি বলেন, যা ইচ্ছা বলেন। আর সে বলার কোন দৃষ্টান্ত নেই। কোন সৃষ্টির বলার মত তাঁর বলা নয়। কুরআন মাজীদ তাঁরই বলা 'কালাম' (বাণী)। তা কোন সৃষ্টি নয়, বরং তা তাঁর একটি গুণ।
📄 মহান আল্লাহর কৌশল, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র
শত্রুর নিকট থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য গোপন উপায় প্রয়োগ করলে কৌশল, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি বলা হয়। এ কাজ সাধারণভাবে মহান আল্লাহর সুন্দর গুণাবলী নয়। বরং দুশমনের মুকাবিলায় এর প্রয়োগ প্রশংসনীয়। যেহেতু তাতে তাঁর ইল্ম, কুদরত ও অসীম ক্ষমতার বিকাশ ঘটে। মহান আল্লাহ বলেন, তারা ষড়যন্ত্র করে এবং আল্লাহও ষড়যন্ত্র করেন। আর ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে আল্লাহ শ্রেষ্ঠ। ওরা চক্রান্ত করেছিল এবং আমিও চক্রান্ত করলাম, কিন্তু ওরা বুঝতে পারেনি। নিশ্চয় তারা ভীষণ চক্রান্ত করে এবং আমিও ভীষণ কৌশল করি। ওরা আল্লাহ সম্বন্ধে বিতন্ডা করে; আর তিনি মহা চক্রান্তকারী (মহাশক্তিশালী)।
📄 মহান আল্লাহর লজ্জাশীলতা
মহানবী ﷺ বলেন, "নিশ্চয় তোমাদের মহান প্রভু লজ্জাশীল অনুগ্রহপরায়ণ, বান্দা যখন তাঁর দিকে দুই হাত তোলে, তখন তা শূন্য ও নিরাশভাবে ফিরিয়ে দিতে বান্দা থেকে লজ্জা করেন।" তা কি সম্ভব? অবশ্যই তাঁর রসূল যখন বলেছেন, তখন অসম্ভব কিসের? তবে নিশ্চয় তাঁর লজ্জাবোধ মানুষের মত নয়। তাঁর লজ্জাশীলতা যেমন তাঁর জন্য শোভনীয়।