📄 মহান আল্লাহর আসা
মহান আল্লাহর আসার কথা কুরআন মাজীদেই সাব্যস্ত। তিনি আসেন, যেমন তাঁর সত্তার সাথে শোভনীয়। কোন সৃষ্টির আসার মত তাঁর আসা নয়। সে আসার কোন উদাহরণও নেই। তিনি বলেন, তারা কেবল এ প্রতীক্ষায় আছে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ায় ফিরিস্তাগণসহ তাদের কাছে উপস্থিত হবেন। যখন তোমার প্রতিপালক আগমন করবেন আর সারিবদ্ধভাবে ফিরিস্তাগণও (সমুপস্থিত হবে)।
কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর আসার কথা হাদীসেও প্রসিদ্ধ। বলা বাহুল্য, তাঁর আসার ব্যাখ্যা 'তাঁর নির্দেশ আসা' করা বৈধ নয়। যেহেতু তা স্পষ্ট অর্থের পরিপন্থী ও সলফদের আকীদার বিরোধী। যেমন এ প্রশ্নও বৈধ নয় যে, তিনি আরশ-সহ আসবেন, নাকি আরশ ছেড়ে আসবেন? যেহেতু সে আসার প্রকৃতত্ব কেবল তিনিই জানেন।
📄 মহান আল্লাহর দৌড়ে আসা
অনুরূপভাবে তাঁর ছুটে আসার কথা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আমরা তার কোন অপব্যাখ্যা না ক'রে আসল অর্থেই ব্যবহার করব। তবে এ বিশ্বাস রাখব যে, তাঁর সে দৌড়ে আসা কোন সৃষ্টির মত নয় এবং সে আসার কোন উপমাও নেই। তাঁর সত্তার মতই তাঁর সকল গুণকে গায়বীভাবেই বিশ্বাস করতে হবে।
মহানবী ﷺ বলেছেন, আল্লাহ আয্যা অজাল্ বলেন, যে ব্যক্তি একটি নেকী করবে তার জন্য দশ গুণ নেকী রয়েছে। আর যে ব্যক্তি আমার প্রতি এক বিঘত নিকটবর্তী হবে, আমি তার প্রতি এক হাত নিকটবর্তী হব। আর যে ব্যক্তি আমার প্রতি এক হাত নিকটবর্তী হবে আমি তার প্রতি দু'হাত নিকটবর্তী হব। যে আমার দিকে হেঁটে আসবে আমি তার দিকে দৌড়ে যাব। আর যে ব্যক্তি প্রায় পৃথিবী সমান পাপ করে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, অথচ সে আমার সাথে কাউকে শরীক করেনি, তার সাথে আমি তত পরিমাণই ক্ষমা নিয়ে সাক্ষাৎ করব।
📄 মহান আল্লাহর অবতরণ
মহানবী ﷺ বলেন, "আল্লাহ তাআলা প্রত্যহ রাত্রের শেষ তৃতীয়াংশে নীচের আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, "কে আমাকে ডাকে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার নিকট প্রার্থনা করে? আমি তাকে দান করব। এবং কে আমার নিকট ক্ষমা চায়? আমি তাকে ক্ষমা করব।”
মহান আল্লাহর সত্তার জন্য যেমন শোভনীয়, তেমনি তিনি অবতরণ করেন। তাঁর অবতরণ কোন সৃষ্টির অবতরণের মত নয়। অতএব তিনি কিভাবে অবতরণ করেন?---এসব নানাবিধ প্রশ্নের উত্তর কেবল তিনিই জানেন। মুসলিম এসব প্রশ্ন মনেই আনে না।
এখানে এ অপব্যাখ্যা করা বৈধ নয় যে, তাঁর নির্দেশ অবতরণ করে, অথবা তাঁর রহমত বা কুদরত নামে অথবা তাঁর ফিরিশতা নামেন। ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) কে মহান আল্লাহর অবতরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, 'তিনি অবতরণ করেন, তার কোন রকমত্ব নেই।' মুহাম্মাদ বিন হাসান শাইবানী বলেন, 'মহান আল্লাহর নীচের আসমানে অবতরণ করার হাদীস শুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে। আমরা তা বর্ণনা করব, বিশ্বাস রাখব এবং অপব্যাখ্যা করব না।'
ইসহাক বললেন, 'আল্লাহ আমীরকে সম্মান দান করুন। প্রতিপালকের কোন ব্যাপারে 'কিভাবে?' বলতে হয় না। তিনি কোন কেমনত্ব ছাড়াই অবতরণ করেন।' পরিশেষে তদ্রূপ বলি, অবতরণ করার অর্থ বিদিত, তার কেমনত্ব অবিদিত, তার প্রতি ঈমান ওয়াজেব এবং সে ব্যাপারে প্রশ্ন করা বিদআত।
📄 মহান আল্লাহর কথা
আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সম্বোধন করেন, বলেন, আদেশ করেন, উপদেশ দেন। তাঁর বাণী অহীর মাধ্যমে বা পর্দার অন্তরাল থেকে কিংবা দূত মারফৎ মানুষের কাছে পৌঁছে থাকে। তিনি বলেন, কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় যে, আল্লাহ তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন ওহীর মাধ্যম ব্যতিরেকে, অন্তরাল ব্যতিরেকে অথবা কোন দূত প্রেরণ ব্যতিরেকে; নিঃসন্দেহে তিনি সমুন্নত, প্রজ্ঞাময়। তিনি মুসা কালীমুল্লাহ -এর সাথে তুর পাহাড়ে কথা বলেছেন।
মুসা যখন আমার নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হল এবং তার প্রতিপালক তার সঙ্গে কথা বললেন, তখন সে বলল, 'হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দর্শন দাও।' তিনি বললেন, 'হে মুসা! আমি তোমাকে আমার রিসালাত ও বাক্য দ্বারা লোকের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি, সুতরাং আমি যা দিলাম, তা গ্রহণ কর।'
আদম-সহ নবীদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। তিনি মি'রাজের রাতে শেষনবী ﷺ-এর সাথে কথা বলেছেন। কিয়ামতের দিনে তিনি বান্দার সাথে কথা বলবেন। যখন ইচ্ছা তিনি বলেন, যা ইচ্ছা বলেন। আর সে বলার কোন দৃষ্টান্ত নেই। কোন সৃষ্টির বলার মত তাঁর বলা নয়। কুরআন মাজীদ তাঁরই বলা 'কালাম' (বাণী)। তা কোন সৃষ্টি নয়, বরং তা তাঁর একটি গুণ।