📄 মহান আল্লাহর শোনা
মহান আল্লাহ সকল শব্দ শোনেন। শোনা তাঁর সত্তাগত গুণ। তিনি বলেন, তিনি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ। অবশ্য তাঁর শোনা দুই প্রকার।
প্রথম প্রকারের অর্থ কবুল করা, মঞ্জুর করা। যেমন তিনি ইব্রাহীম -এর উক্তি উদ্ধৃত ক'রে বলেন, আমার প্রতিপালক অবশ্যই দুআ শ্রবণকারী।
দ্বিতীয় প্রকারের অর্থ শুনতে পাওয়া। যেমন তিনি বলেন, অবশ্যই আল্লাহ শুনেছেন সেই নারীর কথা, যে তার স্বামীর বিষয়ে তোমার সাথে বাদানুবাদ করছে। আল্লাহ তোমাদের কথোপকথন শুনেন।
অবশ্য এই শোনার অর্থ কখনও সাহায্যের অর্থে আসে। যেমন তিনি মুসা ও হারূণ (আলাইহিমাস সালাম) কে বলেছিলেন, তোমরা ভয় করো না, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি; আমি শুনি ও দেখি। কখনও ধমকের অর্থে আসে। যেমন তিনি বলেছেন, আল্লাহ অবশ্যই তাদের কথা শুনেছেন যারা বলে, আল্লাহ অভাবগ্রস্ত ও আমরা অভাবমুক্ত। ওরা কি মনে করে যে, আমি ওদের গোপন বিষয় ও গোপন পরামর্শের খবর রাখি না? অবশ্যই (রাখি)। আমার দূতগণ তো ওদের কাছে থেকে সব লিপিবদ্ধ করে।
📄 মহান আল্লাহর দেখা
মহান আল্লাহ সবকিছু দেখেন। এটি তাঁর একটি সাত্ত্বিক গুণ। এ দেখার অর্থ দু'রকম হতে পারে। প্রথম: দেখতে পাওয়া। যেমন তিনি মুসা ও হারুন (আলাইহিমাস সালাম) কে বলেছিলেন, তোমরা ভয় করো না, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি; আমি শুনি ও দেখি। এ দেখা সাহায্য করার অর্থে। যেমন কখনও দেখা ধমকের অর্থেও হতে পারে। যেমন তিনি বলেন, সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখেন? নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। দ্বিতীয়: জানা। যেমন তিনি বলেন, নিশ্চয় তারা এ (শাস্তি) কে সুদূর মনে করছে। কিন্তু আমি এটাকে আসন্ন দেখছি।
📄 মহান আল্লাহর আসা
মহান আল্লাহর আসার কথা কুরআন মাজীদেই সাব্যস্ত। তিনি আসেন, যেমন তাঁর সত্তার সাথে শোভনীয়। কোন সৃষ্টির আসার মত তাঁর আসা নয়। সে আসার কোন উদাহরণও নেই। তিনি বলেন, তারা কেবল এ প্রতীক্ষায় আছে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ায় ফিরিস্তাগণসহ তাদের কাছে উপস্থিত হবেন। যখন তোমার প্রতিপালক আগমন করবেন আর সারিবদ্ধভাবে ফিরিস্তাগণও (সমুপস্থিত হবে)।
কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর আসার কথা হাদীসেও প্রসিদ্ধ। বলা বাহুল্য, তাঁর আসার ব্যাখ্যা 'তাঁর নির্দেশ আসা' করা বৈধ নয়। যেহেতু তা স্পষ্ট অর্থের পরিপন্থী ও সলফদের আকীদার বিরোধী। যেমন এ প্রশ্নও বৈধ নয় যে, তিনি আরশ-সহ আসবেন, নাকি আরশ ছেড়ে আসবেন? যেহেতু সে আসার প্রকৃতত্ব কেবল তিনিই জানেন।
📄 মহান আল্লাহর দৌড়ে আসা
অনুরূপভাবে তাঁর ছুটে আসার কথা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আমরা তার কোন অপব্যাখ্যা না ক'রে আসল অর্থেই ব্যবহার করব। তবে এ বিশ্বাস রাখব যে, তাঁর সে দৌড়ে আসা কোন সৃষ্টির মত নয় এবং সে আসার কোন উপমাও নেই। তাঁর সত্তার মতই তাঁর সকল গুণকে গায়বীভাবেই বিশ্বাস করতে হবে।
মহানবী ﷺ বলেছেন, আল্লাহ আয্যা অজাল্ বলেন, যে ব্যক্তি একটি নেকী করবে তার জন্য দশ গুণ নেকী রয়েছে। আর যে ব্যক্তি আমার প্রতি এক বিঘত নিকটবর্তী হবে, আমি তার প্রতি এক হাত নিকটবর্তী হব। আর যে ব্যক্তি আমার প্রতি এক হাত নিকটবর্তী হবে আমি তার প্রতি দু'হাত নিকটবর্তী হব। যে আমার দিকে হেঁটে আসবে আমি তার দিকে দৌড়ে যাব। আর যে ব্যক্তি প্রায় পৃথিবী সমান পাপ করে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, অথচ সে আমার সাথে কাউকে শরীক করেনি, তার সাথে আমি তত পরিমাণই ক্ষমা নিয়ে সাক্ষাৎ করব।