📄 মহান আল্লাহর আশ্চর্যবোধ
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সওয়ারীর উপর সওয়ার হয়ে নির্দিষ্ট দুআ পড়ার পর হাসলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, 'হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি হাসলেন কেন?' তিনি বললেন, আমি নবী ﷺ-কে দেখলাম, তিনি তাই করলেন, যা আমি করলাম। অতঃপর তিনি হাসলেন। আমি প্রশ্ন করলাম, 'হে আল্লাহর রসূল! আপনি হাসলেন কেন?' তিনি বললেন, "তোমার মহান প্রতিপালক তাঁর সেই বান্দার প্রতি আশ্চর্যান্বিত হন, যখন সে বলে, 'ইগফিরলী যুনুবী' (অর্থাৎ, আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা ক'রে দাও।) সে জানে যে, আমি (আল্লাহ) ছাড়া পাপরাশি আর কেউ মাফ করতে পারে না।”
মহানবী ﷺ বলেন, "তোমার প্রতিপালক বিস্মিত হন পর্বত চূড়ায় সেই ছাগলের রাখালকে দেখে যে নামাযের জন্য আযান দিয়ে নামায আদায় করে; আল্লাহ আয্যা অজাল্ বলেন, "তোমরা আমার এই বান্দাকে লক্ষ্য কর, আযান দিয়ে নামায কায়েম করছে! আমি তাকে ক্ষমা ক'রে দিলাম।"
তিনি কোন কাজ ভাল দেখে ও ভালবেসে বিস্মিত হন। যেমন মহানবী ﷺ বলেন, "আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির প্রতি বিস্মিত হন, যাকে শিকলে বেঁধে বেহেশতে প্রবেশ করানো হবে।" "আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির প্রতি বিস্মিত হন, যে নিজের বিছানা ছেড়ে উঠে নামায পড়ে।"
পক্ষান্তরে কোন কাজ খারাপ দেখে ঘৃণা ক'রেও বিস্মিত হন। যেমন তিনি বলেন, তুমি তো বিস্ময়বোধ করছ, আর ওরা করছে বিদ্রূপ। তোমরা কি আল্লাহকে অস্বীকার কর? অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন, তিনি তোমাদেরকে প্রাণ দান করেছেন। কিরূপে তোমরা তা (মোহর) গ্রহণ করবে, যখন তোমরা পরস্পর সহবাস করেছ?! কোন বিষয়ের কারণ গুপ্ত থাকার কারণে যে বিস্ময় হয়, মহান আল্লাহ তা থেকে পবিত্র। কেন না, তাঁর নিকট গুপ্ত কিছুই নেই। কোন বিষয় তার প্রকৃতি ও স্বাভাবিকতার বাইরে গেলে যে আশ্চর্য হয়, তাই আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত।
📄 মহান আল্লাহর শোনা
মহান আল্লাহ সকল শব্দ শোনেন। শোনা তাঁর সত্তাগত গুণ। তিনি বলেন, তিনি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ। অবশ্য তাঁর শোনা দুই প্রকার।
প্রথম প্রকারের অর্থ কবুল করা, মঞ্জুর করা। যেমন তিনি ইব্রাহীম -এর উক্তি উদ্ধৃত ক'রে বলেন, আমার প্রতিপালক অবশ্যই দুআ শ্রবণকারী।
দ্বিতীয় প্রকারের অর্থ শুনতে পাওয়া। যেমন তিনি বলেন, অবশ্যই আল্লাহ শুনেছেন সেই নারীর কথা, যে তার স্বামীর বিষয়ে তোমার সাথে বাদানুবাদ করছে। আল্লাহ তোমাদের কথোপকথন শুনেন।
অবশ্য এই শোনার অর্থ কখনও সাহায্যের অর্থে আসে। যেমন তিনি মুসা ও হারূণ (আলাইহিমাস সালাম) কে বলেছিলেন, তোমরা ভয় করো না, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি; আমি শুনি ও দেখি। কখনও ধমকের অর্থে আসে। যেমন তিনি বলেছেন, আল্লাহ অবশ্যই তাদের কথা শুনেছেন যারা বলে, আল্লাহ অভাবগ্রস্ত ও আমরা অভাবমুক্ত। ওরা কি মনে করে যে, আমি ওদের গোপন বিষয় ও গোপন পরামর্শের খবর রাখি না? অবশ্যই (রাখি)। আমার দূতগণ তো ওদের কাছে থেকে সব লিপিবদ্ধ করে।
📄 মহান আল্লাহর দেখা
মহান আল্লাহ সবকিছু দেখেন। এটি তাঁর একটি সাত্ত্বিক গুণ। এ দেখার অর্থ দু'রকম হতে পারে। প্রথম: দেখতে পাওয়া। যেমন তিনি মুসা ও হারুন (আলাইহিমাস সালাম) কে বলেছিলেন, তোমরা ভয় করো না, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি; আমি শুনি ও দেখি। এ দেখা সাহায্য করার অর্থে। যেমন কখনও দেখা ধমকের অর্থেও হতে পারে। যেমন তিনি বলেন, সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখেন? নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। দ্বিতীয়: জানা। যেমন তিনি বলেন, নিশ্চয় তারা এ (শাস্তি) কে সুদূর মনে করছে। কিন্তু আমি এটাকে আসন্ন দেখছি।
📄 মহান আল্লাহর আসা
মহান আল্লাহর আসার কথা কুরআন মাজীদেই সাব্যস্ত। তিনি আসেন, যেমন তাঁর সত্তার সাথে শোভনীয়। কোন সৃষ্টির আসার মত তাঁর আসা নয়। সে আসার কোন উদাহরণও নেই। তিনি বলেন, তারা কেবল এ প্রতীক্ষায় আছে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ায় ফিরিস্তাগণসহ তাদের কাছে উপস্থিত হবেন। যখন তোমার প্রতিপালক আগমন করবেন আর সারিবদ্ধভাবে ফিরিস্তাগণও (সমুপস্থিত হবে)।
কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর আসার কথা হাদীসেও প্রসিদ্ধ। বলা বাহুল্য, তাঁর আসার ব্যাখ্যা 'তাঁর নির্দেশ আসা' করা বৈধ নয়। যেহেতু তা স্পষ্ট অর্থের পরিপন্থী ও সলফদের আকীদার বিরোধী। যেমন এ প্রশ্নও বৈধ নয় যে, তিনি আরশ-সহ আসবেন, নাকি আরশ ছেড়ে আসবেন? যেহেতু সে আসার প্রকৃতত্ব কেবল তিনিই জানেন।