📄 মহান আল্লাহর কষ্ট পাওয়া
মহান আল্লাহ কষ্ট পান। হতভাগা আদম-সন্তান তাঁকে কষ্ট দেয়। হাদীসে কুদসীতে তিনি নিজে বলেছেন, "আদম-সন্তান আমাকে কষ্ট দেয়; বলে, 'হায়রে দুর্ভাগা যুগ!' সুতরাং তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই না বলে, 'হায়রে দুর্ভাগা যুগ!' কারণ, আমিই তো যুগ। তার রাত ও দিনকে আমিই আবর্তন ক'রে থাকি।"
অন্য এক বর্ণনায় আছে, (আল্লাহ বলেন,) "আদম-সন্তান আমাকে কষ্ট দিয়ে থাকে; সে কাল-কে গালি দেয়। অথচ আমিই তো কাল। আমিই দিবা-রাত্রিকে আবর্তন ক'রে থাকি।” সুতরাং তা কিভাবে সম্ভব, সে প্রশ্ন আমাদের মনে আসা উচিত নয়।
📄 মহান আল্লাহর অপছন্দনীয়তা
যে কাজের জন্য ঘৃণার উদ্রেক হয়, মহান আল্লাহ সেই কাজকে ঘৃণা ও অপছন্দ করেন। তিনি বলেন, যদি তারা ( wars) বের হওয়ার ইচ্ছা করত, তাহলে এর কিছু সরঞ্জাম তো প্রস্তুত করত, কিন্তু আল্লাহ তাদের যাত্রাকে অপছন্দ করেছেন, এ জন্য তাদেরকে বিরত রাখলেন।
তিনিই পৃথিবীতে তোমাদেরকে প্রতিনিধি করেছেন। সুতরাং কেউ অবিশ্বাস করলে তার অবিশ্বাসের জন্য সে নিজেই দায়ী হবে। অবিশ্বাসীদের অবিশ্বাস কেবল ওদের প্রতিপালকের ঘৃণা (বা ক্রোধ)ই বৃদ্ধি করে। তোমরা যা কর না, তোমাদের তা বলা আল্লাহর নিকট অতিশয় ঘৃণিত।
📄 মহান আল্লাহর খুশী
খুশীর কাজ দেখে মহান আল্লাহ খুশী হন। মহানবী ﷺ বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার তওবায় যখন সে তওবা করে তোমাদের সেই ব্যক্তির চেয়ে বেশী খুশী হন, যে তার বাহনের উপর চড়ে কোন মরুভূমি অতিক্রমকালে বাহনটি তার নিকট থেকে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে তা ফিরে পেলে খুশীর চোটে ভুল বকে বলে ওঠে, 'হে আল্লাহ! তুমি আমার দাস, আর আমি তোমার প্রভু!'” তাঁর খুশী কোন সৃষ্টির খুশীর মত নয়। সুতরাং তা তাঁর জন্য কোন ত্রুটিও নয়।
📄 মহান আল্লাহর হাসি
হাসির কাজ দেখে মহান আল্লাহ হাসেন। আল্লাহর রসূল ﷺ বলেন, "আল্লাহ সুবহানাহু অতাআলা ঐ দু'টি লোককে দেখে হাসেন, যাদের মধ্যে একজন অপরজনকে হত্যা করে এবং দু'জনই জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, এক ব্যক্তি হামাগুড়ি দিয়ে জাহান্নাম থেকে বের হবে। তখন আল্লাহ আয্যা অজাল্ বলবেন, 'যাও জান্নাতে প্রবেশ কর।' তখন সে বলবে, 'হে প্রভু! তুমি কি আমার সাথে ঠাট্টা করছ? অথবা আমার সাথে হাসি-মজাক করছ অথচ তুমি বাদশাহ।' ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তখন আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে এমনভাবে হাসতে দেখলাম যে, তাঁর চোয়ালের দাঁতগুলি প্রকাশিত হয়ে গেল। তিনি বললেন, "রব্বুল আলামীনের হাসির কারণে।"
একদা নবী ﷺ বললেন, "আমাদের প্রতিপালক নিজ বান্দার নিকটে তাঁর (মন্দ) অবস্থার পরিবর্তন করবেন তা সত্ত্বেও তার নিরাশ হওয়ার ব্যাপারে হাসেন।” আবু রাযীন বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! মহান প্রতিপালকও কি হাসেন?' তিনি বললেন, "হ্যা--!"
কিন্তু তাঁর হাসি কোন সৃষ্টির হাসির মত নয়। সে হাসির কোন উপমা নেই, সাদৃশ্য নেই। ওল্লাদের হাসি মনের আনন্দে। কিন্তু আল্লাহর হাসি তো আর মানুষের মত নয়। যদি আল্লাহর সত্তা সম্বন্ধে আমাদের পূর্ণ ধারণা না থাকে, তাহলে তার হাসি সম্বন্ধে ধারণা জন্মাবে কিভাবে? আর তা মানুষের হাসির সাথে তুলিত ক'রে হাদীসের স্পষ্ট উক্তিকে রদ করা যায় কিভাবে?