📄 মহান আল্লাহর রূহীদান
মহান সৃষ্টিকর্তা মহা রুযীদাতাও। রুযী হল সৃষ্টির জীবিকা, যার দ্বারা জীবন ধারণ করা যায়। এ হল আম রুযী, যা তিনি সকলকে দিয়ে থাকেন। মহান আল্লাহ বলেন, ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী কোন এমন প্রাণী নেই যে, তার রুযী আল্লাহর দায়িত্বে নেই। আর খাস রুযী তাঁর খাস বান্দাগণকে দিয়ে থাকেন। আর তা হল সেই রুযী যার দ্বারা তাদের হৃদয় জীবন ধারণ করতে পারে। যেমন হিদায়াতের আলো, ঈমান, ইল্ম ও নেক আমল।
📄 মহান আল্লাহর চাওয়া
মহান আল্লাহ যা চান, তাই হয়। যা চেয়েছেন, তাই হয়েছে। যা চাইবেন, তাই হবে। তিনি না চাইলে কিছু হয় না ও হবে না। যা চাননি, তা হয়নি। তাঁর (ইরাদা) চাওয়া দুই প্রকার: কওনী (সৃষ্টিগত চাওয়া) ও শরয়ী (বিধানগত চাওয়া)।
তিনি কওনী চাওয়া দ্বারা কিছু চাইলে, তা ঘটতে বাধ্য; চাহে তা তাঁর প্রিয় হোক অথবা অপ্রিয়। আর শরয়ী চাওয়া দ্বারা কিছু চাইলে, তা ঘটতে বাধ্য নয়; অবশ্য সেটা তাঁর প্রিয়।
উদাহরণস্বরূপ শরয়ী ইরাদায় চেয়েছিলেন ফিরআউন ঈমান আনুক, কিন্তু কওনী ইরাদায় চাননি সে ঈমান আনুক; নচেৎ সে ঈমান আনত। মহান আল্লাহর অপ্রিয় যত কিছু ঘটে তা তাঁর কওনী ইরাদা দ্বারা ঘটে। পক্ষান্তরে তাঁর প্রিয় সকল কিছু কওনী ও শরয়ী উভয় ইরাদা দ্বারা ঘটে। অবশ্য কওনী ইরাদায় চান না বলে শরয়ী ইরাদার অনেক কিছু ঘটে না।
📄 মহান আল্লাহর ইচ্ছা
আল্লাহর মাশীআত বা ইচ্ছা আসলে তাঁর কওনী ইরাদার নামান্তর। যেমন তিনি বলেন, আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে সৎপথে পরিচালিত করতাম। কিন্তু আমার এ কথা যথার্থ সত্য, আমি নিশ্চয়ই মানব ও দানব উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা এ করত না। সুতরাং তাদের মিথ্যা নিয়ে তাদেরকে থাকতে দাও।
আল্লাহর ইচ্ছা থাকলে সারা বিশ্বের মানুষ ঈমান আনত। আল্লাহ ইচ্ছা করলে কোন পাপ ঘটতে দিতেন না। আল্লাহর ইচ্ছা না থাকলে অন্য কারো ইচ্ছাতে ভাল-মন্দ কিছুই ঘটত না।
📄 মহান আল্লাহর রহমত (দয়াশীলতা)
মহান আল্লাহ সৃষ্টির প্রতি করুণাময় ও দয়াশীল। এ গুণের কারণে তিনি সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহ করেন, প্রয়োজনীয় নিয়ামত দান করেন। তাঁর এই রহমত দুই প্রকার; আম ও খাস।
আম রহমত সারা সৃষ্টির জন্য। মহান আল্লাহ বলেন, আমার দয়া তা তো প্রত্যেক বস্তুতে পরিব্যাপ্ত। যারা আরশ ধারণ ক'রে আছে এবং যারা এর চারিপাশ ঘিরে আছে, তারা তাদের প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং বলে, 'হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার দয়া ও জ্ঞান সর্বব্যাপী।'
আর খাস রহমত কেবল তাঁর খাস বান্দাগণের জন্য। তিনি বলেন, তিনি তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাঁর ফিরিশতাগণও তোমাদের জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করে; যাতে তিনি অন্ধকার হতে তোমাদেরকে আলোকে আনয়ন করেন।
সলফগণ আল্লাহর দয়াশীলতায় বিশ্বাস করেন। কিন্তু খলফগণ বলে, 'না, না। দয়া তো হৃদয়ের এক শ্রেণীর দুর্বলতা এবং দয়াযোগ্য মানুষের প্রতি এক প্রকার ব্যথার অনুভূতি। আর তা তো আল্লাহর জন্য বৈধ নয়!' আসলে এরা মহান সৃষ্টিকর্তাকেও সৃষ্টির মত মনে করে। তাই তাদের কুরআন-হাদীসের স্পষ্ট উক্তির ঐ অপব্যাখ্যা। আর নিঃসন্দেহে তারা আহলে সুন্নাহ থেকে খারিজ।